সারাদেশ

‘ডাকাতির উদ্দেশ্যে’ যাচ্ছিলেন মা-ছেলেসহ ২ পরিবারের ৪ জন, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

মারিয়া রহমান মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন
পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার আমাইন্যারচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুজন সম্পর্কে মা ও ছেলে, অন্য দুজন স্বামী-স্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের। অভিযানে দুটি বন্দুকসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন ওই এলাকার আবদুল কাদেরের স্ত্রী ইসমত আরা (৪৫) ও তাঁর ছেলে ইমতিয়াজুল কাদের ওরফে রায়হান (২৫) এবং মৃত নুর হোসেনের ছেলে নাছির উদ্দিন (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী খুর্শিদা বেগম (৩৫)। অভিযানে ১টি একনলা বন্দুক, ১টি দোনলা বন্দুক, ১০টি গুলি, তালা কাটার ২টি যন্ত্র, ১টি হাতুড়ি, ১টি রামদা, কাঠের বাঁটযুক্ত ১টি চাকু এবং ১টি হাইয়েস গাড়ি ও ২টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আরকানুল ইসলাম। তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে স্থানীয় ডাকাতদের একটি দলের সঠিক অবস্থান নিশ্চিতের চেষ্টা করছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাতে পৌরসভার আমাইন্যারচর এলাকায় একটি হাইয়েস গাড়িকে থামতে বলা হয়। এ সময় গাড়ির ভেতরে একটি বন্দুক, গুলি ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়। গাড়িতে থাকা চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাইয়েস গাড়িটির পেছনেই একটি মোটরসাইকেলে ডাকাত দলটির আরও দুই সদস্য ছিলেন। তাঁরা মোটরসাইকেলটি রেখে পালিয়ে গেছেন। পরে গ্রেপ্তার নাছির উদ্দিনের বাড়ির ছাদ থেকে আরও একটি বন্দুক ও গুলি উদ্ধার এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

এসআই আরকানুল ইসলাম বলেন, যানবাহন থেকে শুরু করে বসতবাড়ি ও দোকান—সবখানেই নিমেষেই ডাকাতি করতে পারে এই দল। এ দলে আরও কারা রয়েছেন, সেটি বের করার চেষ্টা চলছে। ঈদে বড় ধরনের ডাকাতির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল ডাকাত দলটি।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় অস্ত্র আইনে ও ডাকাতির প্রস্তুতি আইনে দুটি মামলা করেছে। বিকেলে গ্রেপ্তার চারজনকে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। অন্য ডাকাতদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।
আবারও ইতিহাস গড়বে শোলাকিয়া, আধ্যাত্মিক মহাসমুদ্রে ভাসবে লাখো প্রাণ

বাংলাদেশের ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আবারও প্রস্তুত এক মহামিলনের জন্য। শতবর্ষের গৌরবময় ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত-যা দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত হিসেবে সুপরিচিত। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের দিন সকাল ১০টায় শুরু হবে এই ঐতিহাসিক জামাত। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসল্লির সমাগমে মুখরিত হবে পুরো এলাকা। আধ্যাত্মিক আবেগ, ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দেয় শোলাকিয়া, যা ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। এবারের জামাতে ইমামতি করবেন প্রখ্যাত আলেম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই। নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সূর্যবালা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। প্রায় সাত একর আয়তনের বিশাল ঈদগাহ ময়দানে তৈরি করা হয়েছে ২০৬টি কাতার, যেখানে প্রতিটি কাতারে ৭০০ থেকে ৮০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। মূল ময়দান ছাড়াও আশপাশের সড়ক, পুকুরপাড়, সেতু ও ভবনের ছাদেও অতিরিক্ত মুসল্লিদের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে পুরো এলাকা পরিণত হবে এক বিশাল নামাজের ময়দানে। জামাতকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মাঠে দাগ কাটা, মেহরাব নির্মাণ, দেয়ালে চুনকাম, অজুখানা স্থাপনসহ সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের অংশগ্রহণে পুরো প্রস্তুতি পরিণত হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের কড়া ব্যবস্থা। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ জানিয়েছেন, পোশাকি ও সাদা পোশাকের পুলিশ, র‍্যাব এবং এন্টি-টেররিজম ইউনিট মাঠজুড়ে দায়িত্ব পালন করবে। মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশ করতে একাধিক চেকপোস্ট ও নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম ও কুইক রেসপন্স ইউনিট। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, মাঠ ও আশপাশে বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৬টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। মোতায়েন থাকবে ১১০০ পুলিশ সদস্য, র‍্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন আনসার এবং ৪ প্লাটুন সেনাবাহিনী। পাশাপাশি থাকবে ড্রোন নজরদারি, মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ও একাধিক চেকপোস্ট। দায়িত্ব পালন করবেন ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে চালু করেছে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন। একটি ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে আসবে। পানির জন্য রাখা হয়েছে তিনটি ভ্যান, যেখানে প্রায় ৩ হাজার লিটার পানির ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ৬টি নলকূপ, ৫টি অস্থায়ী অজুখানা এবং ১৫টি অস্থায়ী টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। ঐতিহ্য অনুযায়ী, ঈদ জামাত শুরুর আগে বন্দুকের গুলির মাধ্যমে সংকেত প্রদান করা হবে। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং ৫ মিনিট আগে একটি গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের সতর্ক করা হবে-যা শোলাকিয়ার দীর্ঘদিনের বিশেষ রেওয়াজ। সব মিলিয়ে ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান আবারও প্রস্তুত দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত আয়োজনের জন্য। লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হবে পুরো এলাকা, একসঙ্গে ধ্বনিত হবে তাকবির-গড়ে উঠবে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য বন্ধন।

মারিয়া রহমান মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন

‘ডাকাতির উদ্দেশ্যে’ যাচ্ছিলেন মা-ছেলেসহ ২ পরিবারের ৪ জন, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

অটোরিকশাযোগে সরকারি বই নিয়ে যাচ্ছে।

গোপনে সরকারি বই বিক্রি

আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি : সংগৃহীত

সৌদিতে মিসাইল হামলায় বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত
যমুনা সেতুতে ৪৮ ঘণ্টায় রেকর্ড পারাপার, টোল আদায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা

ঈদকে সামনে রেখে যমুনা সেতুতে ৪৮ ঘণ্টায় ৮২ হাজার ৬০১টি গাড়ি থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকা টোল আদায় হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত এই টোল আদায় করা হয়।   এই সময়ে মোট ৮২ হাজার ৬০১টি গাড়ি পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা।   পুলিশ জানায়, সোমবার বিকাল থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। তবে বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সুবিধা থাকায় যাত্রীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো জট তৈরি হয়নি।   যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৪৪৫টি যানবাহন পারাপার হয়ে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি যানবাহন পারাপারে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা। একদিনেই মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা।   যমুনা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ৯ থেকে ১৮টি বুথ দিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া দুই পাড়ে মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক দুটি করে বুথ চালু রাখা হয়েছে।   উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকেই সেতুটি থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। বর্তমানে চায়না রোড ব্রিজ করপোরেশন এই টোল সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

চার দিন বন্ধ চট্টগ্রামমুখী লেন, ভোগান্তির শঙ্কা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে

ছবি : সংগৃহীত

দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌপথে স্বস্তির ঈদযাত্রা, চাপ বাড়লেও নির্বিঘ্ন পারাপার

সাভারে সড়ক অবরোধ। ছবি: সংগৃহীত

বেতন-বোনাসের দাবিতে সাভারে সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নাটোর শহরে এক ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ছবি : সংগৃহীত
দেশের সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা পাবেন সম্মানজনক ভাতা

জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, মসজিদের ইমামরা সমাজের নেতা এবং আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। অথচ এ দেশে তারাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে বাংলাদেশের সব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানজনক ভাতা পাবেন।   মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে নাটোর শহরের এন এস কলেজ সরকারি মাঠে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোসহ সব শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হুইপ দুলু বলেন, আমি শহীদ জিয়ার সঙ্গে বহু স্থানে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। ফারাক্কা ও তিস্তা ব্যারেজের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলে পানির সংকট তৈরি হওয়ায় তিনি খাল খননের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। গতকাল তারেক রহমান সাহেব পুনরায় সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন। জিয়াউর রহমানের আমলে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল, ইনশাআল্লাহ আগামীতেও দেশে খাদ্যের কোনো অভাব থাকবে না।   জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, নাটোর জেলা জামায়াতের আমির ড. মীর নূরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন ও সাইফুল ইসলাম আফতাব প্রমুখ।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দীপা দাস। ছবি : সংগৃহীত

স্বামীকে আটকে রেখে আত্মহত্যা করলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

ছবি : সংগৃহীত

ঈদযাত্রায় গাবতলীতে যাত্রী সংকট, ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : আইজিপি

0 Comments