জাতীয়

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের নিয়ে হাওরে এমপির আনন্দভ্রমণ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 

সুনামগঞ্জের চারটি উপজেলায় আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে নির্যাতিত বিএনপির প্রায় ৮০০ নেতা-কর্মীকে নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে আনন্দভ্রমণ করেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের (তাহিরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী এ আয়োজনে নেতা-কর্মীদের সম্মাননা স্মারক ও উপহার দেওয়া হয়।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৬ বছর তাহিরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর উপজেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে যাঁরা গায়েবি মামলার আসামি হয়ে কারাবরণ করেছেন, বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, তাঁদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ ও পুনর্মিলনীর আয়োজন করেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল। দুপুরে তাহিরপুর থেকে ১০টি নৌকায় করে টাঙ্গুয়ার হাওরে যান নেতা-কর্মীরা। তাঁদের সবার গায়ে ছিল একই রঙের টি-শার্ট।

 

 

প্রতিটি নৌকায় ছিল গানবাজনার আয়োজন। টাঙ্গুয়ার হাওরে নেতা-কর্মীরা সবাই একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান। এরপর বিকেলে টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে নৌকা নিয়ে সবাই পাশের মাটিয়ান হাওরে যান। সেখানে হাওরপারে বোয়ালমারা এলাকায় পুনর্মিলনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এখানে নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দেন। আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করেন। এখানে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে তাঁদের সম্মাননা স্মারক ও উপহার দেওয়া হয়।

 

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। বিগত নির্বাচনে এ আসনে প্রথমে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক। প্রতীক বরাদ্দের আগের দিন মনোনয়ন পরিবর্তন করে কামরুজ্জামান কামরুলকে দেওয়া হয়। আনিসুল হকও আনন্দভ্রমণে অংশ নেন এবং পুনর্মিলনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

 

সভাপতির বক্তব্যে আনিসুল হক বলেন, ‘১৬টি বছর আমরা সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হয়েছি। নেতা-কর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারেননি। স্বৈরাচারের বিদায় এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ যে নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে, এর পেছনে নেতা-কর্মীদের অনেক ত্যাগ আছে। তাঁদের সব সময় মূল্যায়ন করতে হবে, সম্মান জানাতে হবে। সংসদ সদস্যকে এই আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাই।’

 

তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জুনাব আলীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব খান, তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, মো. রাকাব উদ্দিন, মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবে হায়াত, ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হক, জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নূরুল হক আফিন্দী প্রমুখ।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বিগত দিনে যেভাবে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে মাঠে থেকেছি, একে অপরের পাশে থেকেছি, হাতে হাত রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি; এখনো সেভাবেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে হবে। আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ-বিভক্তি থাকবে না। আমরা সবাইকে সম্মান করব, সবাইকে মূল্যায়ন করব। সবাইকে নিয়ে কাজ করব। আনন্দ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য সেটাই।’

 

পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আনন্দভ্রমণ ও পুনর্মিলনী শেষে হাওর থেকে ফেরেন নেতা-কর্মীরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা সেবা থেকে আর বঞ্চিত হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের ৫০০ বেডের ভবন উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, অক্টোবর মাসে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল খুলে দেয়া হবে।   তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা সেবা থেকে আর বঞ্চিত হবে না। যাতে বিদেশে যেতে না হয় এমন একটা চিকিৎসা ব্যবস্থা আমরা গড়তে চাই ।   এর আগে, সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনটি উদ্বোধন করেন।   উদ্বোধনকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি মোনাজাতে অংশ নেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।   এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।   দেশে স্নায়ুরোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত করতে নতুন এই ৫০০ শয্যা যুক্ত হওয়ার ফলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১ হাজারে।   দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশে এত বড় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।   এর আগে ২০১২ সালে ১০ তলা ভবনে প্রথম ৩০০ বেডের হাসপাতাল চালু করা হয়। ব্যাপক হারে রোগী আসতে থাকায় সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরে আরো ২০০ বেড বাড়ানো হয়। এবার নবনির্মিত ১৫ তলা ভবনে আরো ৫০০ বেড বাড়ানো হলো।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুর শহরে তিন স্থানে ঝুলছিল বোমাসদৃশ বস্তু, আতঙ্ক

খোলাবাজারে নিত্যপণ্য বিক্রির পরিকল্পনা করছে টিসিবি

ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আলোচনা, যুক্ত হতে পারেন চার নতুন মুখ

ছবি: সংগৃহীত
দেশে আল-কায়েদার তৎপরতার খবরে মনিরুলের ফেসবুক প্যারোডি

বাংলাদেশে আল-কায়েদা নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে—এমন খবরের একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) সাবেক প্রধান ও সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম।   শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এখন তো নাই আমি, কী বলবি রে বোকা।’   সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর ৩৮তম প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টার কথা উঠে আসে।   ১০ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস) বাংলাদেশে সক্রিয় সেল গঠনের মাধ্যমে তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও বিচ্ছিন্ন সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সংগঠনটি লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মনিরুল ইসলামের দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান ও সন্ত্রাস দমন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছিল। তবে সে সময় জঙ্গিবাদ দমনের কার্যক্রম রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে মনিরুল ইসলামকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের কাছেও নিশ্চিত তথ্য নেই।   এর আগে ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর প্রবাসী বাংলাদেশি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, ভারতের নয়াদিল্লির একটি এলাকায় মনিরুল ইসলামকে দেখা গেছে। তবে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এ দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও উঠেছিল। সরকার পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।   ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি পলাতক অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে নিজের নামের প্রচারণায় বিরক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিক

ছবি: সংগৃহীত

এনআইডিতে পরিচয় বদলে দীর্ঘদিন পলাতক, শেষ পর্যন্ত র‌্যাবের হাতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত টিটু

ছবি: সংগৃহীত

র‌্যাবের উদ্ধার করা ‘কোকেন’ পরীক্ষায় মেলেনি মাদক, দুই আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ

ছবি : সংগৃহীত
বিনিয়োগে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ, মুখ খুললেন সাঈদ ইব্রাহিম

ভোলা–বরিশাল এবং শরীয়তপুর–চাঁদপুর সেতু নির্মাণ প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আনাকে কেন্দ্র করে স্বার্থের সংঘাতের (Conflict of Interest) যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে ও স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা সাঈদ ইব্রাহিম।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতিপিপিপি প্রজেক্টে জাপানি বিনিয়োগের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পার্সেন্টেজ সুবিধা পাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে এমন অভিযোগে বহু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখা যায়। সমালোচনার মুখে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। তিনি জানান, সেতু নির্মাণের ঠিকাদারি নয়, বরং পরামর্শক হিসেবে ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) দেশে আনতে সহায়তা করেছে তাঁর প্রতিষ্ঠান।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে হিসেবে কোনো সুবিধা নিয়েছেন কি না—এমন অভিযোগের জবাবে সাঈদ ইব্রাহিম বলেন, স্বার্থের সংঘাতের সংজ্ঞা বুঝতে হলে নূন্যতম পড়াশোনা ও তথ্যের প্রয়োজন।   তিনি স্পষ্ট করেন তাঁর বাবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন, আর এই মেগা প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণভাবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই বিনিয়োগ বা সেতু প্রকল্পের কোনো প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ নেই।   উদাহরণ টেনে তিনি সাবেক এলজিআরডি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “দায়িত্বে থাকাকালীন নিজের বাবাকে ঠিকাদারি লাইসেন্স দেওয়া হলো স্বার্থের সংঘাতের সরাসরি উদাহরণ; কিন্তু স্বাধীনভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আনার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো যোগসূত্র নেই।”   সাঈদ ইব্রাহিম জানান, ঋণনির্ভরতা কমিয়ে দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করতেই ‘স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।   জাপানি প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া কেনসেৎসু (Miyagawa Kensetsu)-এর মাধ্যমে ভোলা–বরিশাল এবং শরীয়তপুর–চাঁদপুর সেতুর জন্য ৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো পিপিপি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকার ও মনোনীত জাপানি প্রতিষ্ঠান সরাসরি বাস্তবায়ন করবে। সেতু নির্মাণের সঙ্গে স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটালের কোনো ঠিকাদারি বা নির্মাণ সম্পৃক্ততা নেই। বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসে (McKinsey) বা বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের (BCG) মতো স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল কেবল বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রকল্পের সংযোগকারী (facilitator) হিসেবে কাজ করেছে- এমন দাবি করেন সাঈদ ইব্রাহিম।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৫, ২০২৬

মাদকসহ নিজ গ্রামের ৪ বাসিন্দাকে পুলিশে দিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সংগৃহীত ছবি

আজ খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন

ছবি : সংগৃহীত

তেজগাঁওয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৭

0 Comments