জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও লাইনের দুই পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা কাটার কারণে আজ শনিবার (২৭ জুন) চট্টগ্রাম ও নাটোরের বেশ কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা চন্দনাইশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকবে মুনসেফ বাজার, বাদশা পাড়া, কেরানী বাড়ি, বৃষ্টি পুকুর পাড়, চৌধুরী মার্কেট, দেয়াং পাড়ার আংশিক অংশ, পেশকার বাড়ি, নিধিরামপুর, মিজ্জির দোকান, ছগিরের দোকান, বদুরপাড়ার আংশিক এলাকা, জিয়া খাল, দুল্লভ পাড়া, কাজিপাড়া, চন্দনাইশ পৌরসভা, চন্দনাইশ থানা, চন্দনাইশ মেডিকেল কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ, ফায়ার সার্ভিস, নোয়াপাড়া ও গাছবাড়িয়া এলাকা।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–২ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩৩ কেভি লাইনের জরুরি মেরামত কাজের জন্য শনিবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৫ ঘণ্টা জেলার কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে।
বনপাড়া ৩৩ কেভি ফিডার, বড়াইগ্রাম–১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্র এবং বড়াইগ্রাম–৩ (গড়মাটি) উপকেন্দ্রের আওতাধীন বনপাড়া পৌরসভা, জোয়াড়ি, মাঝগাঁও, গোপালপুর, চান্দাই, দুয়ারিয়া ইউনিয়নের আংশিক অংশ এবং নগর ইউনিয়নের কিছু এলাকায় এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটবে।
গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশে সারের কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, কৃষিকাজ অব্যাহত রাখতে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। তবে কৃষকদের মধ্যে সারের সুষ্ঠু ও যথাযথ বিতরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জামালপুর জেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ আলী সভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। সারের বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, সরকার কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও কৃষকের স্বার্থে পর্যাপ্ত সার মজুত রেখেছে। ফলে সারের সংকট নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় জনবল ও যানবাহন সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, মাদক সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এবং যেকোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন, এ.ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল হক, পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এবং ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণ বিশেষ করে সারের সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সহযোগী শুটার ডাবা হারুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, ডাবা হারুন ডেভিড ইমনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিতই আলোচনায় আসা ঢাকার মোহাম্মদপুরে এবার কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, “এই মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না, কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ মোহাম্মদপুরে থাকবে না।” শনিবার বছিলা পুলিশ লাইন্সে মোহাম্মদপুরের নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক ‘বিশেষ মতবিনিময় সভায়’ উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রধান। সন্ধ্যার আগমূহুর্তে ওই সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘উন্নতির দিকে’। তবে পরিসংখ্যান দিয়ে বিষয়টি সবসময় ‘বিচার করা ঠিক নয়’ বলেও স্বীকার করেন তিনি। সভায় মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকার নাগরিকরা এদিন তার এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এর প্রেক্ষিতে ডিএমপি কমিশনার কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইকে ‘প্রধান সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলেছেন। সভায় র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ডিএমপি কমিশনারও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এমন হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “আমরা একসাথে ঘোষণা করলাম। তার মানে এই নয় যে, এখনই কিশোর গ্যাং সব আমরা ধরে ফেলব। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা প্রতিদিন এই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান করব এবং অতি সত্ত্বর এই মোহাম্মদপুর কিশোর গ্যাং মুক্ত হবে। “কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ মোহাম্মদপুরে থাকবে না। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, “মাদক বিরোধী আমাদের যে অপারেশনগুলা প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে…আমাদের অভিযান চলবে।” ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সের’ ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “ছিনতাইকারী তার হাতে ছুরি, মানে অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র বলেন অথবা চাপাতি বলেন অথবা দেশি অস্ত্র বলেন, যেই ধরনের অস্ত্র যদি কোনো ছিনতাইকারীর কাছে থাকে এবং সেই অস্ত্র দিয়ে যদি সে কারো ওপর আক্রমণ করতে যায়, কারো ব্যাগ ছিনতাই করতে যায়, সেটা পুলিশ হোক, পাবলিক হোক তার বিরুদ্ধে আমরা আমাদের আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। “ঠিক যেখানে আমাদের অস্ত্র প্রয়োগ করার প্রয়োজন হবে, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে আমরা অস্ত্র প্রয়োগ করব।” ঢাকার প্রত্যেক বিভাগে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের সভা করার কথাও বলেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, “নাগরিকবৃন্দ চান যে, এই মোহাম্মদপুর এলাকায় একটা ছিনতাইও ঘটবে না। আপনারা চান এখানে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না। আপনারা চান এখানে কোনো মাদক থাকবে না। আপনাদের চাওয়ার সাথে পুলিশ কমিশনার হিসেবে আমি একমত।” কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন পুলিশের ‘একার পক্ষে সম্ভব সম্ভব নয়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করব। আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন এবং পর্যায়ক্রমে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছবো।” এজন্য তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশকে আরও ‘জোরালো ভূমিকা’ রাখার আহ্বান জানান। মোহাম্মদপুরের মাদকের স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা পুলিশের কাছে আছে জানিয়ে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, “আমরা সেই লিস্ট ধরে ধরে অপারেশন করছি। আমি আজ এই সভার মাধ্যমে আমাদের এখানে, মোহাম্মদপুরে যারা আমাদের পুলিশের আছেন, সকল ফোর্সকে এই নির্দেশনা দিচ্ছি, মোহাম্মদপুরের প্রত্যেকটি মাদক স্পটে আমাদের অভিযান আরও জোরালো করতে হবে।