জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং সেক্টরসহ আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা নিয়ে আসতে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব দেন। আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দিয়ে আর্থিক খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করল বিএনপি সরকার।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনতে অনেকটাই সফল হন তিনি। ব্যাংকিং খাতে বেশকিছু সংস্কার সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে আর্থিক খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে অত্যন্ত দৃঢ় পদক্ষেপ নেন আহসান এইচ মনসুর। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের মানুষের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার বন্ধের উদ্যোগও নেন এ অর্থনীতিবিদ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন আহসান এইচ মনসুর। যা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ব্যাংকিং সেক্টরে সরকার দলীয় ব্যবসায়ীদের নগ্ন হস্তক্ষেপ মোটা দাগে বন্ধ করা সম্ভব হতো। এসব সংস্কারের কারণে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর লুটপাটের পথ কিছুটা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের ওপর তারা ক্ষিপ্ত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দখল ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা শুরু করেন বিএনপি-আওয়ামী লিগপন্থি কর্মকর্তারা। ব্যাংকের বিধির তোয়াক্কা না করে হঠকারিতা শুরু করেন তারা। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিএনপি-আওয়ামী লিগপন্থি কর্মকর্তাদের নির্লজ্জ মবের সাক্ষী হয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নরের উপদেষ্টাকে রীতিমতো শারীরিক হেনস্তা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, এই ন্যাক্কারজনক হামলার নেতৃত্ব দেন নওশাদ মোস্তফা, সারোয়ার, মাসুম বিল্লাহ, গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ বেশকয়েকজন কর্মকর্তা। এরা ব্যাংকের অভ্যন্তরে বর্তমানে নতুন করে বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত। এদের মধ্যে মাসুম বিল্লাহ ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ আওয়ামীপন্থি নীল দল থেকে নির্বাচন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এসব অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে সরকার সফল গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী কায়দায় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। তাকে না জানিয়েই নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়, যা অত্যন্ত অপমানজনক। এর মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিনের ঘটনার সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সম্পৃক্ততাও স্পষ্ট হয়েছে।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এখানেই শেষ নয়, সরকার নজিরবিহীনভাবে একজন বিতর্কিত দলীয় ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেয়। নতুন এ গভর্নর একজন (সাবেক) ঋণ খেলাপি। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে তার ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার ঋণ খেলাপি ছিল। গত বছরের জুনে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় ১০ বছরের জন্য তার ঋণ পুনঃ তপশিল করা হয়েছে। এ ধরনের একজন অনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর হাতে দেশের সর্বোচ্চ ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিরাপদ থাকবে–তা বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট, সরকার ব্যাংকিং সেক্টর ও আর্থিক খাতে ফ্যাসিবাদী আমলের মতো নতুন করে লুটপাটের বন্দোবস্ত করতে ইচ্ছুক।
সবশেষ এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আহসান এইচ মনসুরের মতো অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদকে সরিয়ে দেওয়া আমাদের হতবাক করেছে। তাকে সরিয়ে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর বিদেশে অর্থ পাচারের পথ আবারও সুগম করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আমরা সরকারের এমন অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন। আমরা এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করতে সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল হাসেম ওরফে হাসুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় মাহফুজুল হক নামে এক ব্যাক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুই তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদাবর থানার এসআই ইয়ামিন সরকার। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) অভিযান চালিয়ে রাজধানীর আদাবর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ । মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় আদাবর থানা এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিল চলছিল। তখন মিছিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতারা গুলি করেন। এসময় আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে মাহফুজুল হক (২৮) আহত হন। এ ঘটনায় মাফুজুল হক বাদি হয়ে আদাবর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বগুড়ার আদমদীঘিতে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার গভীর শোক, দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সদরঘাটের দুর্ঘটনায় নিহত মো. সোহেল (২২)-এর মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং এমন মর্মান্তিক দৃশ্য সত্যিই সহ্য করা কঠিন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একইসঙ্গে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত সকল যাত্রীর আশু আরোগ্য কামনা করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এই দুটি ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং দেশের পরিবহন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দুর্বল তদারকির প্রতিফলন। দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অথচ নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একটি মৌলিক দায়িত্ব। পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্বানুমেয় ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, এই সময়ে পরিবহন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সতর্কতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সড়কে চাঁদাবাজি এবং যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি- এসব সমস্যার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ঈদযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একইসঙ্গে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদযাত্রার বাকি দিনগুলো এবং ঈদের পর ফেরার সময়কে সামনে রেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে। পরিশেষে তিনি মহান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে নিহতদের মাগফিরাত কামনা করেন, তাদের পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক প্রার্থনা করেন এবং আহতদের দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।
ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, গত কয়েকদিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কিছু আন্তরিক আলোচনা করার সুযোগ হয়েছিল। সবার কাছ থেকেই তিনি একই ধরনের পরামর্শ পেয়েছেন—ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া। তিনি জানান, এসব পরামর্শ তিনি বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছেন এবং সামনে আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করবেন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের কোনো বক্তব্য বা কাজে কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এই নেতা। পাশাপাশি সবার দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শকে নিজের পথচলার শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে এই আত্মিক যাত্রার একটি নীরব সূচনা করেছেন। মহান আল্লাহ যেন সবাইকে ক্ষমা করেন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করেন—এ কামনাও করেন তিনি।