২০২৬ সালের মার্চ মাসে পাবনা থেকে সরাসরি ঢাকায় ট্রেন চালু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার সড়ক, সেতু ও রেল যোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন।
আজ মঙ্গলবার সকালে পাবনার পাকশী বিভাগীয় রেল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
শেখ মইনউদ্দিন বলেন, বর্তমানে রেল বিভাগে কিছু কোচ সংকট রয়েছে। অল্পদিনেই তা নিরসনের মধ্য দিয়ে মার্চ মাস থেকে পাবনা থেকে ঢাকায় সরাসরি ট্রেন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে রেল বিভাগ।
এ সময় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মালামাল পরিবহনে উদ্দেশ্যে নির্মিত রেলস্টেশনটি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথাও জানান তিনি।
সারাদেশে নৌ, রেল ও সড়ক পথে সমন্বিত আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ার পরিকল্পনা জানিয়ে শেখ মইনউদ্দিন বলেন, দেশের জেলা পর্যায়ের সংযোগকারী মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ ও প্রধান সড়কগুলো প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। পুরোনো জেলা হিসেবে পাবনার প্রধান আব্দুল হামিদ সড়ক প্রশস্তকরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে সরকার।
পাশাপাশি, আরিচা খাসচর ফেরী সংযোগ প্রকল্প, পাকশী-বাধেরহাট সড়ক প্রশস্তকরণ, কাশীনাথপুর-উল্লাপাড়া সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। একইসঙ্গে ঈশ্বরদী রেলগেটে যানজট নিরসনে ওভারপাস নির্মাণের আশ্বাস দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী।
এর আগে, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী ও পাবনা সদর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, পাবনা ৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব শেখ মঈনুদ্দিনের কাছে পাবনাবাসীর পক্ষ থেকে যোগাযোগ উন্নয়নে দীর্ঘদিনের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন গতকাল সোমবার ঈশ্বরদী আসেন। মঙ্গলবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও উপদেষ্টার ছাত্রজীবনের স্মৃতি বিজড়িত নর্থ বেঙ্গল পেপারমিল স্কুল পরিদর্শন করেন তিনি।
এ সময় পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ খান মন্টু, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির মহাসচিব আবু আহসান খান রেয়ন ও পশ্চিমাঞ্চল বিভাগীয় রেলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পদযাত্রা শেষে সোনাগাজী পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার জন্য জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল যোবায়েরের নাম ঘোষণা করা হলে জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিকের সমর্থকরা আপত্তি জানান। এ নিয়ে মঞ্চেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যোবায়ের আর বক্তব্য দেননি। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে আবারও বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সড়কে জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়ের আল মুজাহিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অতিথিরা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর মঞ্চের সামনেও স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে আরও একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোনাগাজী উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বক্তব্য দেওয়া নিয়ে মতবিরোধ থেকেই প্রথম উত্তেজনার সূত্রপাত। এছাড়া অনুষ্ঠান চলাকালে সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন সজিব ও কেন্দ্রীয় নেতা নিজাম উদ্দিনের মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। পরে এ বিষয় নিয়েও বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, বিষয়গুলো দলীয়ভাবে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, বক্তব্যের তালিকা নিয়ে বিরোধের জেরেই প্রথমে মঞ্চে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরে অনুষ্ঠান শেষে আরও দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়ের আল মুজাহিদও হামলার শিকার হন। তার দাবি, হামলাকারীরা দলের কোনো পদধারী নন। ইতোমধ্যে ঘটনার ভিডিও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের কার্যক্রমের সূচনা উপলক্ষে এ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির আগে দলের নেতারা জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত দুই শহীদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
দেশে মদ্যপান, মদ্য জাতীয় পানীয় ও জুয়া খেলা নিষিদ্ধের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’-এর বিল উত্থাপনের প্রস্তাব করে পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট ২০২৬’ বিলটিও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিল দুটি উত্থাপন করেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিল দুটি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি বলেন, সংসদ সদস্য যে দুটি আইন এনেছেন সে দুটি আইন আছে। আমরা সংসদের এই অধিবেশনে ‘জুয়া আইন-২০২৬, বিল অলরেডি পাস করেছি। আরেকটি হল— ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন আছে। সে আইনের সেকশন-২ এর সাব-সেকশন পাঁচ, সেকশন দুইয়ের সাব-সেকশন ২৪, সেকশন দুইয়ের, সাব-সেকশন ২৯ এবং সেকশন ১১ পড়লে উনি যে উদ্দেশ্যে বিলটা আনছেন ওটা কাভার হয়ে যায়। এই বিলটি প্রত্যাহারের জন্য উনাকে অনুরোধ করছি। এরপর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিলটি প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদকে বলেন, সদস্যরা যেহেতু সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আইনমন্ত্রীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিলটি উত্থাপন না করার জন্য সম্মত হয়েছেন, সেহেতু বিলটি আমি আর ভোটে দিচ্ছি না। যে কারণে মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইনের বিলটি আনা হয়। বিলের শিরোনামে বলা হয়, বাংলাদেশের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং মদ ও জুয়ার প্রভাবে সৃষ্ট পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতি রোধ, তরুণ ও যুব সমাজকে মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব হতে দূরে রেখে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়নকল্পে আনা হয়।
তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চরাঞ্চলে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বসতভিটা রক্ষার শেষ চেষ্টা করতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালা। নিহত আব্দুস সালাম (৪৫) রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙনের মুখে পড়া বাড়িঘর সরানোর সময় নদীর ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তার মৃত্যু হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম তীরের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী প্রতিনিয়ত তীর ভেঙে নিচ্ছে, ফলে নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। নদীভাঙনে ইতোমধ্যে বহু বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা বিলীন হয়েছে। বাদাম, আমনের বীজতলা, পাট, ভুট্টা, মরিচ ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেতও নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের একাধিক চরাঞ্চলের নিম্নভূমি প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিনে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামে অন্তত আট থেকে দশটি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। আরও অনেক পরিবার এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, অনেক পরিবার একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। নিজেদের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে পূর্বচর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দুটি মসজিদও ঝুঁকির মুখে পড়বে। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম জানান, চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জেলার গুরুত্বপূর্ণ নদীতীর রক্ষায় প্রায় ৩০টি পয়েন্টে দুই লাখ জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলে কাজের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় সেখানে এখনো প্রতিরক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মোজাহিদ জানিয়েছেন, ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।