রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে একটি বেকারির সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীরা বেকারিতে যেতে চাইলে তাঁদের ওপর হামলা করেন হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এতে তিনজন আহত হয়েছেন। ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গত বুধবার সকালে হাসপাতালটিতে এক থেকে তিন দিন বয়সের ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর শনিবার বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনে শেষে হাসপাতালের কলেজ ভবনের আটতলায় একটি বেকারি কারখানা পাওয়ার কথা জানান তিনি। বেকারি কারখানা থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে নবজাতকদের ক্ষতি করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন ও বেকারির সন্ধান পাওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালটিতে যান গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পরপরই হাসপাতালটির সবগুলো প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান তাঁরা।
পরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, বেকারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলগালা করে দিয়ে গেছেন। এখন আর কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব ন।
এরপরও গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালটির নিচতলায় অবস্থান করছিলেন। বেকারিতে প্রবেশেরও চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা সেখানে আসেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তাঁরা ধাওয়া দিয়ে হাসপাতাল থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের বের করে দেন। কয়েকজনকে মারধরও করেন। মারধরে টাইমস অব বাংলাদেশ-এর নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী জাহিদ, দীপ্ত টিভির ক্যামেরা পারসনসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আর বৈশাখী টিভির ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে হাসপাতালটির পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাংবাদিকেরা হাসপাতালের নিচতলায় ভিড় করেছিলেন। এতে রোগীদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল। চারজন রোগী হাসপাতালে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যান। এ অবস্থায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সাংবাদিকদের সেখান থেকে সরে যেতে বললে একজন সাংবাদিক তাঁদের ঝাড়ুদার বলে অসম্মান করেন। এতে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের ধাওয়া দিয়েছেন। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি।’
এর আগে বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথমে হাসপাতালটির পাঁচতলায় নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) যান, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কলেজ ভবনের আটতলায় থাকা একটি বেকারি পরিদর্শন করেন। শেষে দ্বিতীয় তলায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে যান তিনি, যেখানে ছয় নবজাতক ভর্তি ছিল। ওয়ার্ডটি পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
গত বুধবার সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক থেকে তিন দিন বয়সের ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। কী কারণে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনা তদন্তের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শনিবার কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়ানো হয়েছে।
প্রাণ হারানো এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান গত বুধবার রাতে রাজধানীর রমনা থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেড ও রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের মালপত্র পরিবহনের জন্য প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ। উদ্বোধনের পর প্রায় সাড়ে তিন বছরে দু-একটা শান্টিং মালবাহী খালি বগি আর রেল কর্মকর্তাদের নিয়ে মোটরট্রলি ছাড়া এ রেলপথে চলেনি কোনো ট্রেন। ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন করা ‘রূপপুর স্টেশন’ বর্তমানে ‘ওয়াগন ইয়ার্ড’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটারের রেলপথটি কাশবন, ঘাস, লতাপাতা ও জঙ্গলে ঢেকে গেছে। ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাঁকজমক করে এমপি, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ এবং রূপপুর রেলস্টেশন ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী (বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত) শেখ হাসিনা। স্টেশনটি হার্ডিঞ্জ সেতুর কাছে ফাঁকা স্থানে হওয়ায় অনেকে সেখানে অবসর সময়ে বেড়াতে যান। কিন্তু স্টেশনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি গত সাড়ে তিন বছরে। জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী যন্ত্রপাতি প্রকল্পের অভ্যন্তরে পৌঁছাতে এবং লোড-আনলোডের জন্য তৈরি করা হয় রূপপুর রেলস্টেশন ও ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ। এ ছাড়া ঈশ্বরদী ইপিজেডের মালপত্র এই রেলপথে পরিবহনের কথাও ছিল। উদ্বোধনের প্রায় সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও এক ছটাক পণ্যও পরিবহন হয়নি এই রেলপথে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলপথ ও স্টেশন নির্মিত হলেও এখনও প্রকল্পের বিভিন্ন মালপত্র ও ভারী যন্ত্রাংশ নদী ও সড়কপথেই আনা হচ্ছে রূপপুর প্রকল্পে। রূপপুর প্রকল্প ও রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ করে রেল কর্তৃপক্ষ। ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন থেকে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন হয়ে রূপপুর পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার রেলপথ ও রূপপুর নামে একটি রেলস্টেশন নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ১৩টি লেভেল ক্রসিং, সাতটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য কম্পিউটার বেইজ কালার লাইট সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়। এসব কর্মযজ্ঞে ব্যয় হয় ৩৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এই রেলস্টেশন ও রেলপথ উদ্বোধনের সময় প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছিলেন, এখান থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালপত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ইপিজেডের মালপত্র পরিবহন করা হবে। সম্প্রতি রূপপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাকশীর পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে আধুনিক স্টেশনটি জনশূন্য। রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। প্ল্যাটফর্মে ময়লা জমে আছে। টিকিট কাউন্টার, মালপত্র বুকিং কক্ষ, অতিথিশালা, ভিআইপি কক্ষ, প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার, স্টেশন মাস্টার, সহকারী স্টেশন মাস্টারের কক্ষসহ সব কক্ষই তালাবন্ধ। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সদস্য বলেন, ‘স্টেশন থেকে যে রাস্তা রয়েছে, সেটি হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচ দিয়ে। এদিক দিয়ে মালপত্র আনা-নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। শুনেছি এজন্যই নাকি মালপত্র লোড-আনলোড করা হচ্ছে না।’ পাকশী বিভাগীয় রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই রেলপথে পাকশী বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনে মোটরট্রলি চালানো হয়ে থাকে। স্টেশন ইয়ার্ডে রেলের নতুন কিছু ওয়াগন ও কোচ রাখা হয়েছে, যেগুলো ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা। স্থান সংকুলান ও নিরাপত্তার অভাবে বর্তমানে রূপপুর স্টেশনে এসব কোচ এনে রাখা হয়েছে। নতুন রেলপথ দিয়ে রূপপুর প্রকল্পের জন্য কোনো মালপত্র এখনও আনা-নেওয়া হয়নি। পাকশী বিভাগীয় বাণ্যিজ্যিক কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এখনও এ রেলপথে বাণিজ্যিকভাবে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি। রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের জন্য এ রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। তারাই এটি ব্যবহার করবে। এখন হয়তো ব্যবহার হচ্ছে না, কিন্তু ভবিষ্যতে রূপপুর প্রকল্পের কাজে অনেক বেশি ব্যবহার হতে পারে।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ে অবস্থিত রয়েল এইড হাসপাতালে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খিলগাঁওয়ের রয়েল এইড হাসপাতালে রাত ১১টার দিকে আগুনের খবর আসে। তাৎক্ষণিকভাবে দুটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
চট্টগ্রামকে একটি পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বন্দর নগরীর বাকলিয়া এলাকায় কর্ণফুলী নদীর ৩ কিলোমিটার তীরে একটি পর্যটন জোন স্থাপন করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ‘কালুরঘাট সেতু থেকে চাকতাই খাল পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর তীরে সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পের অধীনে এই পর্যটন জোনের কাজটি করা হবে। সিডিএ’র উপ-প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আবু ঈসা আনছারী বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে জানান, এই প্রকল্পের অধীনে শাহ আমানত সেতু থেকে বলিরহাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও এখানে শিশুদের জন্য বিনোদন সুবিধাসহ পর্যটক-বান্ধব রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের তহবিল পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় করা হবে। পর্যটন কেন্দ্রটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা জাবেদ আহমেদ বলেন, পর্যটন অঞ্চল নির্মিত হলে এই এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে- যার মধ্যে মনোরম সমুদ্র দৃশ্য, পাহাড়, ম্যানগ্রোভ বন, জলপ্রপাত এবং হ্রদ অন্যতম। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি শাহীনুল ইসলাম খান বলেন, এখানে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র স্থাপন করা হলে বন্দর নগরীটি একটি সত্যিকারের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হবে। তবে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নদী পরিষ্কার রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটন উদ্যোক্তা এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) পরিচালক এ এস এম ইসমাইল খান বলেন, সরকার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়নে সক্ষম না হলে, বেসরকারি বা যৌথ উদ্যোগে এসব কেন্দ্রের উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া উচিত। সিডিএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ‘কালুরঘাট-চাক্তাই চার লেনের মেরিন ড্রাইভ সড়ক’ প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছিল। ২০১৯ সালের জুন মাসে চাকতাই খালের মোহনায় একটি স্লুইস গেট নির্মাণের মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাস বলেন, নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এই সড়কটি সিটি বাইপাস লুপ রোড ও অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে সংযুক্ত করবে এবং শহরের যানজট কমাবে। তিনি বলেন, কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলা থেকে শহরে আসা যানবাহনগুলো এই সড়কপথ দিয়ে শহর কেন্দ্রকে বাইপাস করে শহরের বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা এলাকা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামে যেতে পারবে। এছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপজেলাগুলো থেকে যানবাহনগুলো এর মাধ্যমে শহরের উত্তর দিকেও যেতে পারবে। তিনি জানান, ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের ৯২ শতাংশ নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়কটি পুরোদমে চালু হলে এর বহুমাত্রিক সুফল পাওয়া যাবে। এর ফলে নগরের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, নদীতীর সংরক্ষণ, নগর যোগাযোগ, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পর্যটন খাতের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জানান, এই প্রকল্পে সিডিএ মাস্টার প্ল্যান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তুলবে। বাকলিয়া চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম অনুন্নত এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এই এলাকার উন্নয়নে বেসরকারি বা যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, নগরীর বাকলিয়া একটি জনবহুল এলাকা হলেও এখানে বিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেই। এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এলাকাটির সামগ্রিক চিত্র বদলে যেতে পারে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। তাদের মতে, এই নতুন পর্যটন কেন্দ্রটি শুধু বাকলিয়ার মানুষকেই নয়, বরং পুরো চট্টগ্রাম নগরীর মানুষকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেবে।