আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেই আবারও কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা হলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে—যা পারমাণবিক সক্ষমতার দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল স্তর হিসেবে ধরা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘোষণা মূলত প্রতিরোধমূলক অবস্থানকে শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কারণ ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র-সক্ষমতার কাছাকাছি স্তর হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলেও বহিরাগত চাপ ও হামলার হুমকি অব্যাহত থাকলে তারা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহল এই বক্তব্যকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে সংযম বজায় রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে মতবিরোধ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ ব্যর্থ হবে বলে দাবি করলেও দেশে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে ইরান সরকার। দেশটির অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, ক্রমাগত মার্কিন চাপ সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যা আবারও জনগণকে রাজপথে নামাতে বাধ্য করবে। সোমবার ইরানের কট্টরপন্থি পুলিশ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ-রেজা রাদান তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে বলেন, শত্রুপক্ষ মানুষের জীবিকা, জ্বালানি, অর্থনীতি ও বেকারত্বকে কাজে লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ চালুর ঘোষণার পরই এই সতর্কবার্তা এলো। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো তেহরানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে ইরান। চলতি সপ্তাহে খোলা বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের দর সর্বকালের সর্বনিম্ন ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে সাধারণ মানুষ ওষুধ ও পেট্রোলের মতো জরুরি পণ্যের তীব্র সংকটে ভুগছে। আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি ৫.৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮.৯ শতাংশে। বিশেষ করে পেট্রোলের মূল্য ও সরবরাহের ঘাটতিকে সরকার অন্যতম বড় রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখছে। মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির জ্বালানি উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হয়েছে এবং তেহরান, মাশহাদ ও কারমানের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ২০১৯ সালে আকস্মিকভাবে পেট্রোলের দাম বাড়ানোর পর ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ইতিহাস স্মরণ করে সরকার এখন বেশ সতর্ক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারির রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি এখনও ইরানি সমাজে তাজা। ওই বিক্ষোভে কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৩ হাজার ১১৭ জন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসেবে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হন। এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের মনে শোক ও ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়ে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমান্ডার রাদান দ্রুত সাড়াদানকারী দল এবং আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজকে প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ও সমাজের ‘অন্ধকার স্তরগুলোতে’ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র: আল-মনিটর
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ গোপনে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফর করেছেন। সেখানে তিনি রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অঘোষিত বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে বিবিসির মার্কিন সংবাদ সহযোগী সিবিএস। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিনই রাশিয়া করছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) র্যাটক্লিফ মস্কোয় পৌঁছেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে তার সফরের উদ্দেশ্য কী কিংবা তিনি রাশিয়ার কোন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন বা মস্কো কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। উচ্চপর্যায়ের মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বিরল। সফরটি নিয়ে মন্তব্য জানতে সিআইএ, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি। এর আগে মঙ্গলবারই একটি বড় মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাশিয়ায় যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার উড়োজাহাজটি রিগা বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় ৫টা ৫০ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং প্রায় ৭টা ৪ মিনিটে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বিমানটিকে মস্কোর বিমানবন্দরের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। একই সঙ্গে মস্কোর রাস্তায় একটি কূটনৈতিক গাড়িবহর চলাচলের ভিডিওও ছড়িয়ে পড়ে। সিআইএ পরিচালক হিসেবে র্যাটক্লিফের এটি রাশিয়ায় প্রথম সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মস্কোয় তার গোয়েন্দা সংস্থার সমপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। রাশিয়ায় আটক রুশ-মার্কিন নাগরিক ক্সেনিয়া কারেলিনাকে মুক্ত করার আলোচনাতেও র্যাটক্লিফ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে জানা গেছে। ইউক্রেনকে সহায়তার অভিযোগে এক বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর তাকে মুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ২০২৪ সালে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তিতেও সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচ, সাবেক মার্কিন মেরিন পল হুইলান এবং রুশ-মার্কিন সাংবাদিক আলসু কুরমাশেভাসহ বেশ কয়েকজন মুক্তি পান। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি হয়েছে। রাশিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন এবং দেশটির ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর র্যাটক্লিফের এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার রাশিয়া সফরগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর আলাস্কায় ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। তবে সেই বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি। এরপর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনাও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে মঙ্গলবারই ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন নিষেধাজ্ঞায় প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ইরানের তেল বিক্রির আয় কমানো। ইরানের ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন কঠিন করা। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজ ও নেটওয়ার্ক বন্ধ করা। ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অর্থ ও প্রযুক্তির জোগান বন্ধ করা। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় পক্ষগুলোকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচল, সোনা, বিমান পরিবহন, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সম্পদ খাতেও বাড়ানো হয়েছে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা। বেসেন্ট বলেন, তেহরান সরকারকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। ইরানকে শেষ পর্যন্ত একা করে দিতে চান তারা। এ জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের নেতাদের ফোন করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের বিষয়ে নির্দিষ্ট অনুরোধ জানাচ্ছেন। তবে কোন কোন দেশকে তিনি এ বিষয়ে বলেছেন বা কোনো সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কি না, তা জানাননি বেসেন্ট। সূত্র : বিবিসি
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে একটি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য থেকে এ বিষয়টি জানা গেছে। খবর রয়টার্সের। বোয়িং গ্লোবমাস্টার উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে সরাসরি মস্কোর উদ্দেশে উড়ে যায়। মার্কিন নিবন্ধিত ০৭-৭১৮১ টেইল নম্বরের বিমানটি স্থানীয় সময় অনুযায়ী প্রায় সকাল ৭টায় মস্কোয় অবতরণ করে। তবে বিমানটিতে কোনো যাত্রী বা সামরিক সরঞ্জাম ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। বিমানটি ২৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কাছে ক্যাম্প স্প্রিংস বিমানঘাঁটি থেকে রিগায় পৌঁছেছিল বলে ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য থেকে জানা গেছে। মস্কোয় মার্কিন সামরিক বিমানের অবতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিন জানায়, এ বিষয়ে তাদের কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে থাকা অবস্থায় এই বিমান মস্কোয় পৌঁছানোয় ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউরোপ থেকে সরাসরি রাশিয়ায় একটি মার্কিন নিবন্ধিত উড়োজাহাজ গিয়েছিল। ওই বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য তারা মস্কো সফর করেছিলেন। গত সপ্তাহে ক্রেমলিন জানিয়েছিল, উইটকফ ও কুশনারের নতুন করে মস্কো সফর নিয়ে তাদের কাছে তখনো কোনো তথ্য নেই। ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মস্কোয় মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমানের এই আকস্মিক অবতরণ নতুন কোনো কূটনৈতিক বা সামরিক তৎপরতার অংশ কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি।