বিশ্ব

৫০ বছর পর আবারও চাঁদে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে নাসা

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও চাঁদে মানব অভিযানের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সব ঠিক থাকলে আগামী ৬ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশন। এই অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর প্রথমবারের মতো কোনো মানববাহী মহাকাশযান চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করতে যাচ্ছে।

 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার নাসার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লোরি গ্লেজ এই সম্ভাব্য তারিখটি নিশ্চিত করেন। তবে তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, উৎক্ষেপণ প্যাডের কাজ, ফ্লাইটের প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং মহড়া বিশ্লেষণের সফল সমাপ্তির ওপরই এই তারিখটি নির্ভর করছে।

গ্লেজ বলেন, আমাদের এই সব ধাপ সফলভাবে পার করতে হবে। যদি তা সম্ভব হয়, তবে ৬ মার্চ উৎক্ষেপণের জন্য আমরা খুব ভালো অবস্থানে থাকব।

উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি হিসেবে বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে নাসার বিশাল এসএলএস রকেটের মহড়া সম্পন্ন হয়েছে। রকেটের জ্বালানি ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে এবং সব কারিগরি পরীক্ষা চালিয়ে একেবারে বাস্তব উৎক্ষেপণের মতো করে এই মহড়া চালানো হয়।

নাসা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের এই মহড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং কাউন্টডাউন টি-২৯ সেকেন্ড পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে একই ধরনের মহড়ায় জ্বালানি ছিদ্রসহ বেশ কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সেই সমস্যার কারণে চলতি মাসেই মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের যে ক্ষীণ আশা ছিল, তা ভেস্তে যায়। তবে কারিগরি ত্রুটিগুলো কাটিয়ে উঠে মার্চ মাসকেই এখন লক্ষ্য হিসেবে দেখছে নাসা।

ঐতিহাসিক এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন মোট চারজন মহাকাশচারী। তাদের মধ্যে তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং একজন কানাডার। এই দলটি সরাসরি চাঁদে অবতরণ না করলেও চাঁদের চারপাশ দিয়ে উড়ে আসবে, যা ভবিষ্যতে মানবজাতির চাঁদে পুনরায় পদার্পণের পথ সুগম করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে নতুন অভিযান শুরুর ঘোষণা

সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। একই সঙ্গে দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে পৃথক দুই হামলার দায় স্বীকার করেছে তারা। আইএস তাদের নিজস্ব বার্তা মাধ্যমে জানায়, দেইর আল-জোর প্রদেশের মায়াদিন শহরে পিস্তল দিয়ে একজনকে গুলি করা হয়েছে। রাক্কা শহরে মেশিনগান দিয়ে আরও দুজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার এক সেনা ও এক বেসামরিক ব্যক্তি অজ্ঞাত হামলায় নিহত হয়েছেন। এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, নিহত সেনা ৪২তম ডিভিশনের সদস্য ছিলেন। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সরকারের বিরুদ্ধে আইএস হামলা বাড়িয়েছে। তার মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটল। আহমেদ আল শারা আগে আল কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি সেই সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পরে ইসলামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্ব দেন। তার নেতৃত্বে ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। আইএসের মুখপাত্র এক অডিও বার্তায় দাবি করেন, সিরিয়া এখন বিদেশি প্রভাবের অধীনে। তারা প্রেসিডেন্ট শারাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেছে। শারার পরিণতি আসাদের মতো হবে বলেও হুমকি দিয়েছে তারা। গত নভেম্বরে শারা যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সে সময় তিনি আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটে সিরিয়ার যোগদানের কথা নিশ্চিত করেন। ওয়াশিংটনে তিনি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই দিন আগে দেইর আল-জোরে আরেক হামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সদস্য নিহত ও একজন আহত হন। সেই হামলার দায়ও আইএস স্বীকার করেছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শারা ও তার দুই মন্ত্রীকে হত্যার জন্য পাঁচবার চেষ্টা চালিয়েছিল আইএস। তবে সবগুলো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১১ শিশুসহ ১৭ আফগান নিহত

ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের বিমান হামলায় ১১ শিশুসহ ১৭ আফগান নিহত

ছবি : সংগৃহীত

৫০ বছর পর আবারও চাঁদে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে নাসা

নিরাপত্তা জোরদারের পুরোনো ছবি
হামলার আশঙ্কায় দিল্লিতে রেড এলার্ট জারি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জঙ্গি হামলার বড় একটি পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করার পর এমন দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সমর্থন পেয়েছিলেন।   রোববার গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাবাত, উমর, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ শাহিদ ও মোহাম্মদ উজ্জ্বল। তাদের মধ্যে একজন প্রতিবেশী দেশের নাগরিক বলে পুলিশ জানিয়েছে। তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর জেলার একটি গার্মেন্টস কারখানা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে এদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিরুপ্পুর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই গোষ্ঠী ভারতের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিল। গ্রেপ্তারের খবর আসার পর দিল্লিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আইএসআই-সমর্থিতরা দেশজুড়ে স্থানীয় মডিউল গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। একটি গোয়েন্দা সতর্কবার্তায় লস্কর-ই-তৈয়বা লাল কেল্লার কাছে হামলার পরিকল্পনা করছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন মন্দিরও জঙ্গিদের নজরদারিতে ছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অভিযানে ৮টি মোবাইল ফোন ও ১৬টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সামাজিক মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনের সমর্থনে পোস্ট করতেন। তারা নকল আধার কার্ড ব্যবহার করে গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করছিলেন এবং পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। লাল কেল্লা, জামা মসজিদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

এত চাপের পরও ইরান কেন ‘নতি স্বীকার’ করেনি, জানতে চান ট্রাম্প

সহায়তা প্রদানের দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত

অসহায় শিশুদের খাবারের জন্য ১১৬ কোটি টাকা দিলেন অজ্ঞাত ব্যক্তি

শহিদ সায়াদ শিরাজি যুদ্ধজাহাজ থেকে সায়াদ-৩জি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

ছবি : সংগৃহীত
ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানি বাড়ছেই, লিবিয়া ও গ্রিসে ৮ মরদেহ উদ্ধার

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। লিবিয়ায় পাঁচজন আশ্রয়প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আলাদা ঘটনায় গ্রিসের উপকূলে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।   লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির কাছে কাসর আল-আখিয়ার উপকূলে শনিবার স্থানীয় বাসিন্দারা পাঁচটি মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে। কর্মকর্তারা জানান, মরদেহগুলোর মধ্যে দুজন নারী ছিলেন। এলাকাবাসী একটি শিশুর মরদেহও ভেসে আসতে দেখেছেন, তবে ঢেউয়ে সেটি আবার সাগরে চলে যায়। এর কয়েক সপ্তাহ আগে পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারা উপকূলে একটি রাবারের নৌকা ডুবে অন্তত ৫৩ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হন বলে জানিয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন। এদিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে একটি কাঠের নৌকা ডুবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের বেশিরভাগই মিসর ও সুদানের নাগরিক, তাদের মধ্যে চারজন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে। গ্রিক উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, উদ্ধার অভিযানের সময় যাত্রীরা নৌকা থেকে ওপরে ওঠার চেষ্টা করলে সেটি উল্টে যায়। নিখোঁজদের খোঁজে টহল নৌকা, একটি বিমান এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের জাহাজ অভিযান চালাচ্ছে। প্রতি বছর হাজারো মানুষ লিবিয়া থেকে ইউরোপে পৌঁছাতে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নেন। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়া সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালানো মানুষের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইউরোপে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ১৬ হাজার ৭৭০ জনের বেশি মানুষ ক্রিটে পৌঁছেছেন। একই বছরে গ্রিসের জলসীমায় ১০৭ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। সম্প্রতি এক জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীরা হত্যা, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। মানবাধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লিবিয়ায় অভিবাসী ফেরত পাঠানো বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
হামলায় বিধ্বস্ত একটি ভবন। পুরোনো ছবি

আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

রমজানে ওমরাহ পালনে নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের গুহায় চিতা মমির সন্ধান, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

0 Comments