জাতীয়

৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বই বাণিজ্যে বন্দী পাঠ্যবই বিতরণ

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১২, ২০২৬

প্রতি বছর পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণে দীর্ঘসূত্রতার নেপথ্যে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার অবৈধ গাইড বই বাণিজ্য—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। টানা ১৫ বছর ধরে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মার্চ-এপ্রিলের আগে সব পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও মার্চের আগে মাধ্যমিক স্তরের সব বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অথচ বছরের শুরুতেই বাজার ভরে গেছে গাইড ও নোট বইয়ে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের নোট-গাইড বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে লেকচার পাবলিকেশন। অবৈধ এই ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিষ্ঠানটিতে গোপনে মাসিক বেতনে কাজ করছেন শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা, যারা নোট ও গাইড বই লেখার সঙ্গে জড়িত। শুধু তাই নয়, গাইড বই বিক্রি বাড়াতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিশন ও ঘুষ বাবদ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও ১০ জন অভিভাবক ইত্তেফাককে জানান,
“শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই নির্দিষ্ট প্রকাশনার নোট, গাইড ও ব্যাকরণ বই কিনতে বলা হয়। না কিনলে উপায় থাকে না। এতে আমাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ পড়ে।”
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে হাইকোর্টের আদেশে নোট ও গাইড বই নিষিদ্ধ করা হয়। আইন অনুযায়ী এ অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই দীর্ঘদিন ধরে অবাধে চলছে এই বাণিজ্য। ‘গাইড’ শব্দটি বাদ দিয়ে বইগুলোকে এখন ‘সহায়ক বই’ বা ‘অনুশীলনমূলক বই’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গত ১৫ ডিসেম্বর এনসিটিবিতে গাইড বই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কিছু অসাধু কর্মকর্তার গোপন বৈঠক হয়। অভিযোগ রয়েছে, পাঠ্যবই যত দেরিতে ছাপা হয়, গাইড বইয়ের বিক্রি তত বাড়ে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—পাঠ্যবই বিতরণের আগেই বাজারে গাইড বই চলে আসে, যা নতুন পাঠ্যবইয়ের পাণ্ডুলিপি ফাঁসের ইঙ্গিত দেয়। প্রতি বছরের মতো এবারও এনসিটিবির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে বইয়ের সিডি, নম্বর বণ্টন ও সিলেবাসের আগাম তথ্য মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সংগ্রহ করেছে লেকচার পাবলিকেশন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লেকচার প্রকাশনীর সদ্য সাবেক এক পরিচালক জানান, প্রতিষ্ঠানটি বছর শুরুর আগেই প্রায় ৫০০ কোটি টাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে। রাজধানীর নামী কয়েকটি স্কুলে একেকটিতে বরাদ্দ রাখা হয় অর্ধ কোটি টাকা পর্যন্ত। তিনি আরও জানান, এসব অনিয়ম জানার পর তাকে হঠাৎ অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়, কাগজপত্র ও পাসপোর্ট আটকে রাখা হয় এবং মুখ খুললে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণের ইতিহাসও হতাশাজনক। ২০১০ সাল থেকে শুরু করে প্রায় প্রতি বছরই মার্চ-এপ্রিলের আগে বই বিতরণ শেষ করা যায়নি। করোনাকালে তো বই ছাপা শেষ করতেই লেগেছে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ২৭ মার্চ বই বিতরণ শেষ হয়। অথচ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেও মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৬০ লাখ শিক্ষার্থী কোনো বই পায়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপক বলেন,
“আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন পরীক্ষানির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে নোট ও গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও প্রকৃত মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
অন্যদিকে, রাজধানীর একটি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শুধু ঢাকা নয়—দেশের প্রতিটি জেলাতেই গাইড বই বাণিজ্য চলছে অবাধে। কিছু অসাধু শিক্ষকই এই বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি। বছরের শুরুতে গাইড প্রকাশনার প্রতিনিধিরা বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের হাতে টাকা দেন, যাতে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট গাইড কিনতে উৎসাহ দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বছরের পর বছর অবাধে চলছে গাইড বইয়ের এই বিশাল বাণিজ্য? আর কেনই বা বারবার দেরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই পৌঁছাতে?

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
বৈরী আবহাওয়ায় কারণে কক্সবাজারসহ ৩ জেলায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটি জেলায় আজ বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তের আলোকে বোর্ড কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে একই বোর্ডের আওতাধীন বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।   স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার গভীর রাতে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা আসায় শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, টানা ভারী বর্ষণের কারণে এই তিন জেলায় দিনের বেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে দিনের সিদ্ধান্ত রাতে হয়, কীভাবে?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৮, ২০২৬
সমুদ্রপথে ইতালির পথে অভিবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রপথে ইতালিগামীদের তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশিরা

সংসদে প্রশাসন, বিচার ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সরব সরকার-বিরোধী দল

এবার রাঙামাটির সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি

ছবি: সংগৃহীত
সংসদে আসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে অধিবেশনের বিরতির ফাঁকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।   এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন এবং তাদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নেন। সেই সঙ্গে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে নিজেদের দক্ষ করে তোলারও আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।   বিএনপি সরকারের সংসদ অধিবেশন দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।   এরই ধারাবাহিকতায় আজ সংসদ অধিবেশন দেখার সুযোগ পান চারজন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আজ দুপুরে তারা জাতীয় সংসদে আসেন। এসে তারা সংসদের নির্মাণশৈলী প্রত্যক্ষ করেন। ঘুরে দেখেন লাইব্রেরি।   বিভিন্ন স্থানে ফটোসেশনও করেন তারা। পরে সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর দেওয়া হয় নামাজের বিরতি। আর সেই বিরতিতে তারা সাক্ষাৎ পান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।   নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ মোট ৬৯ জন, নটর ডেম কলেজের মাধ্যমে ৪৩ জন শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষকসহ ৫৩ জন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে ৪ জন ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের বিদেশি শিক্ষার্থীসহ ৮ জন এবং সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের মাধ্যমে ১৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল সংসদ ভবন পরিদর্শন ও অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পান।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি- সংগৃহীত

প্রশাসনে ফ্যাসিবাদী সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন সাড়ে ৫ লাখের বেশি মামলা: সংসদে আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বাল্যবিবাহ ও নির্যাতনের উচ্চ ঝুঁকিতে পথশিশুরা: সমাজকল্যাণ সচিব

ছবি: সংগৃহীত
প্রশাসনে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

প্রশাসনে বিগত সরকারের পক্ষে প্রকাশ্যে ভূমিকা রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কাজ করছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মাঠ প্রশাসনে কোনো কর্মকর্তার নৈতিক বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার চাকরির নথিতে সংরক্ষণ করা হয়, যা ভবিষ্যতে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও বিবেচনায় আসে।   তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা ও সুশাসন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১৮০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং আরও কয়েকটি প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।   সংসদে প্রতিমন্ত্রী সরকারি জনবল সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরে জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রায় ১৪ লাখ ৬৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাডারে ৮ হাজার ৯৯টি পদ খালি রয়েছে।   বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিসিএসগুলোর ফল প্রকাশে সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ভবিষ্যতে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল এক বছরের মধ্যেই প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব নয়; মেধা, সততা ও দক্ষতাকেই প্রধান বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘বর্তমান সংসদকে দেশের ইতিহাসের সেরা দেখতে চাই’ — চিফ হুইপ

ছবি: সংগৃহীত

আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়, মৌলভীবাজারে যুবক গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

৯ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল, প্রস্তুতি সম্পন্ন

0 Comments