আন্তর্জাতিক

৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মিয়ানমার

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৩, ২০২৫

মিয়ানমার (বার্মা) ও থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকায় ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে এটি অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র বার্মার দাওয়ে এলাকায় ছিল। এটি বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৬৭ কিলোমিটার দূরে।

 

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় অধিদফতর এবং জরুরি সেবা সতর্ক রয়েছে।

গত শুক্রবার বাংলাদেশে আঘাত হানে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এক ভূমিকম্প। এতে অন্তত ১০ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনার পরদিনই (শনিবার) আরও তিনবার মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

ভারতের ভূকম্পনবিদ্যা সংস্থা (এনসিএস) জানিয়েছে, বাংলাদেশের মতো শনিবার মিয়ানমারেও অন্তত তিনটি ভূমিকম্প হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৪১ ও ৭টা ১৯ মিনিটে আঘাত হানে এসব ভূকম্পন। রিখটার স্কেলে এগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৫ ও ৩ দশমিক ৭।

 

এরপর রাত ১১টা ১ মিনিটে মিয়ানমারে অনুভূত হয় ৩ দশমিক ৪ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প। তবে এসব কম্পনে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিতের ঘটনায় ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালির আকাশে টহলরত একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেবে।   তিনি জানান, হেলিকপ্টারটিতে থাকা দুই পাইলটই নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন এবং তারা আহত হননি।   এর আগে সিএনএন এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, একটি ইরানি শাহেদ ড্রোন হেলিকপ্টারটিতে আঘাত হানে। তবে এটি ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল নাকি দুর্ঘটনাবশত হামলা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ইরান।   গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার হারানোর ঘটনা। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরানি দ্বীপ ও বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে ঘিরে একাধিক সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হেলিকপ্টার হারানোর জবাবে ইরানে আমেরিকার হামলা শুরু

ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিম তীরের সহিংসতায় বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ৬ দেশের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

জানতামই না উনি এত ভালো খেলেন’, বিজয়ের দাবার চালে মুগ্ধ চ্যাম্পিয়ন প্রজ্ঞানন্দ

ছবি: সংগৃহীত
চীনের ইভি কোম্পানি বিওয়াইডি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়

এবার বিওয়াইডির পেছনে লেগেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু বিওয়াইডি নয়, চীনের বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ও বাইদুকে চীনের সামরিক কার্যক্রমের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।   ফলে চীনের এই বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কালোতালিকায় যুক্ত হলো। এর আগে চীনের প্রযুক্তি খাতের প্রাণ হিসেবে খ্যাত হুয়াওয়েকে কালোতালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। খবর আল–জাজিরার পেন্টাগন সোমবার এ হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করার যে চেষ্টা চলছে, এ তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর তা আরও জটিল হয়ে উঠল বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস এ সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা নিয়ে অযথা টানাটানি করছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদেশে কাজ করা চীনা কোম্পানিগুলো সব সময়ই সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও নিয়ম মেনে চলে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের নীতি থেকে সরে এসে চীনা কোম্পানির জন্য ন্যায্য ও সমান সুযোগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে আলিবাবা জানায়, তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ভিত্তিহীন। কোম্পানিটির বক্তব্য, তারা কোনোভাবেই চীনের সামরিক খাতের অংশ নয় এবং মিলিটারি-সিভিল ফিউশন বা সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়নীতির সঙ্গে তাদের যোগ নেই। আলিবাবা আরও জানায়, তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিওয়াইডি ও বাইদু এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। পেন্টাগনের এ তালিকা প্রতিবছর হালনাগাদ করা হয়। সর্বশেষ তালিকায় এখন ১৮৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, গত বছরের তুলনায় যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও তাদের নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের চুক্তির জন্য বিবেচিত হবে না—এমন নিয়ম আগামী মাসের শেষ দিকে কার্যকর হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বা সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়নীতিতে সহায়তা করে, তাদের এ তালিকায় রাখা হয়। এ নীতির মাধ্যমে বেসামরিক গবেষণা ও সামরিক উন্নয়নের মিশেল ঘটানো হয়। হালনাগাদ তালিকায় বলা হয়েছে, আলিবাবা, বিওয়াইডি ও বাইদু চীনের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে সামরিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এ সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ পর্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠকের কিছু সময় পরই, যদিও দুই দেশ বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতের উত্তেজনা কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছিল। আলিবাবা, বাইদু ও বিওয়াইডি চীনের প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। যথাক্রমে ই-কমার্স, সার্চ ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর আগে টেনসেন্টকেও একই ধরনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের মূল প্রতিষ্ঠান এই টেনসেন্ট। নতুন তালিকায় আরও রয়েছে শেনজেনভিত্তিক রোবোটিকস, এআই প্রতিষ্ঠান রোবোসেন্স টেকনোলজি ও হাংঝুভিত্তিক ইউনিট্রি রোবোটিকস। বিশ্লেষকদের মতে, এমন বিস্তৃত তালিকা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এসব চীনা কোম্পানির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাদের মতে, বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের প্রতিটি দেশ পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন চীনের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। ফলে এ ধরনের পদক্ষেপ তেমন একটা ফলপ্রসূ হয় না।   হুয়াওয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে? হুয়াওয়ে একসময় অন্যতম জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ছিল। তবে ২০১৯ সালে মার্কিন সরকার হুয়াওয়েকে এনটিটি লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করার পর হুয়াওয়ের অফিশিয়াল স্মার্টফোন ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগে। এ বিধিনিষেধের কারণে গুগল হুয়াওয়েকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে হুয়াওয়ের ডিভাইসগুলো গুগল প্লে স্টোর ও বহুল ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি গুগল অ্যাপ্লিকেশনসহ গুগল মোবাইল সার্ভিসেস ব্যবহারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। গুগলের সেবা থাকায় বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে হুয়াওয়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। কেননা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গ্রাহকেরা গুগলের ইকোসিস্টেমের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে হুয়াওয়ে বড় ধাক্কা খেলেও ধীরে ধীরে ঘরোয়া প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। কোম্পানিটি নিজস্ব অ্যাপগ্যালারি প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী সফটওয়্যার ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। তার ভিত্তিতে কোম্পানিটি বাজারে ফিরে আসছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে হামলা চললে ইসরায়েলকে একা লড়তে হবে : ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা: জিম্মি সংকট মূল কারণ

ছবি: সংগৃহীত

জাপানের পর নেপালও ভারতীয় আমে নিষেধাজ্ঞা, জানাল কারণ

ছবি: সংগৃহীত
ভারত প্রথমবার ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করল

ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করেছে। এ সূত্র ধরে মঙ্গলবার সংবাদ প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।   ইনস্টিটিউটটির মতে, এত দিন ভারত তার পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য ডেলিভারি সিস্টেম আলাদা স্থানে সংরক্ষণ করত। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে শুধু মজুত নয়, বরং ‘অপারেশনালি ডিপ্লয়েড’ বা কার্যকরভাবে মোতায়েন অবস্থায় শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই ১২টি নতুন মোতায়েনকৃত ওয়ারহেড সম্ভবত সংশ্লিষ্ট ডেলিভারি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অথবা এমন সামরিক ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে, যেখানে সেগুলো প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে প্রস্তুত অবস্থায় অস্ত্র মোতায়েন করা ভারতের পারমাণবিক প্রস্তুতি বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে। ইনস্টিটিউটটি আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিন নিয়ে গঠিত ভারতের ক্রমবিকাশমান ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে টহল কার্যক্রমও পরিচালনা করেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সি চিন পিংয়ের সফরের আগে কিম জং-উনের বোনের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনড় বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

‘ধন্যবাদ ডার্লিং’ বলে মাইক্রোফোন খুলে সাক্ষাৎকার থেকে চলে গেলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

আদালত বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসনের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি

0 Comments