বিশ্ব

বিশ্বের বৃহত্তম ইসলামিক সংগঠনের শীর্ষ নেতার পদত্যাগ দাবি

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৩, ২০২৫

ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম ইসলামিক সংগঠন নাহদাতুল উলামা (এনইউ) এর চেয়ারম্যান ইয়াহিয়া চোলিল স্টাকুফের বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, গাজা যুদ্ধের সময় ইসরায়েল সমর্থনকারী এক মার্কিন গবেষককে তিনি একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নথিতে তিন দিনের মধ্যে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে; অন্যথায় তাকে পদচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে উল্লেখ রয়েছে।

 

ডেভিড বারকোভিটজ নামের ওই গবেষককে ‘জিওনিস্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন লেখায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন এবং এনইউর সেমিনারে অংশ নিয়ে বক্তব্যও দিয়েছেন। এছাড়া স্টাকুফের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

স্টাকুফ জানান, গবেষককে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি ভুলবশত ঘটেছে। তিনি ইসরায়েলের গাজায় বর্বর হামলা ও গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেন, তার অবস্থান স্পষ্টভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে।

১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এনইউ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইসলামিক সংগঠন, যার সদস্য সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ইন্দোনেশিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখে না এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরব অবস্থান ধরে রেখেছে।

 

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের আক্রমণে ৬৯ হাজার ৫৪৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৩৩ জন আহত হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত দিল ইউএই, সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা

মুক্ত করা সম্পদগুলি UAE-এর রয়্যাল জেট পরিচালিত A6-RJA রেজিস্ট্রেশন নম্বরের একটি বোয়িং ৭৩৭-৭KK বিমানে করে ইরানে পাঠানো হয়েছে।     আবুধাবি: আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ যখন অচলাবস্থায় পৌঁছেছে, তখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) তাদের ব্যাঙ্কে জমা থাকা ইরানের কয়েকশো কোটি ডলারের ‘ফ্রিজড’ সম্পদের একটি অংশ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ২৮৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুই টন সোনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরানের একাধিক সূত্র। প্রতিবেদনগুলিতে বলা হয়েছে, নতুন করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ভবিষ্যতে ইরানের হামলা থেকে UAE-কে রক্ষা করার জন্য তেহরানকে রাজি করাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।     আবু ধাবি থেকে ইরানে পাঠানো সম্পদ: বিমানটি ১১ এবং ১২ অগাস্ট আবু ধাবি থেকে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর এবং কারাজের পায়াম বিমানবন্দরে (Karaj’s Payam Airport) যায়। প্রতিবারই বিমানটি প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করার পর ফিরে আসে বলে জানা গিয়েছে।     একই বিমান এর আগে ৮ জুন আবু ধাবি থেকে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে গিয়েছিল এবং ৩ বিলিয়ন ডলার ট্রান্সফার করেছিল বলে জুন মাসে সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন একাধিক ইরানি কর্মকর্তা। এর মধ্যে UAE-র ব্যাঙ্কগুলিতে থাকা ইরানের ‘ফ্রিজড’ হওয়া সম্পদও রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার সময় নিজেদের যাতে ইরানের হামলার ‘টার্গেট’ হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই UAE এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের।     UAE ইরানকে বিমান বিক্রির অনুমতি দিয়েছে: ফ্রিজড থাকা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি, UAE সরকার ইরানি বিমান সংস্থাগুলির কাছে ১৫টি ব্যবহৃত যাত্রীবাহী বিমান বিক্রিরও অনুমতি দিয়েছে। সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের আগের বোয়িং ৭৭৭-২৬৮ER বিমানগুলি UAE-ভিত্তিক ECT Aviation Support-এর মাধ্যমে ইরানে ট্রান্সফার করা হয়েছে। এছাড়া, তিনটি বোয়িং ৭৩৭-৩০০/৫০০ বিমান এবং কনডরের দুটি এয়ারবাস A320-212 বিমান যথাক্রমে আমিরশাহীর সংস্থা Aerovision FZ এবং Skysource FZ ইরানি বিমান সংস্থাগুলির কাছে বিক্রি করেছে। দুটি এয়ারবাস A320 বিমান ইতিমধ্যেই ইরানে উড়ে গিয়েছে।     আরও বিমান আসার পথে: একটি স্যাটেলাইট ছবিতে রোমানিয়ার জর্জ এনেস্কু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (George Enescu International Airport) দুটি এয়ারবাস A320-212 বিমানকে দেখা গিয়েছে। বিমান দুটির পরিচিতি C9-ACE এবং C9-ACF। কয়েক দিন আগে UAE সরকারের সহায়তায় ইরানে পাঠানোর ঠিক আগে বিমান দুটিকে সেখানে দেখা যায়। ইরানের সূত্র অনুযায়ী, এমিরাতি সংস্থাগুলির সহায়তায় আরও ১৪টি যাত্রীবাহী বিমান ইরানে যাওয়ার কথা রয়েছে।     অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ এবং ‘লায়ন্স রোর’ চলাকালীন আমেরিকা ও ইজরায়েলের বোমা হামলায় ধ্বংস হওয়া ৩০টিরও বেশি যাত্রীবাহী বিমানের পরিবর্তে এই বিমানগুলি ব্যবহার করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।     ফ্রিজড থাকা সম্পদ (যার মধ্যে সোনাও রয়েছে) ছেড়ে দেওয়া এবং বিমান পাঠানোর সহায়তা করার মতো পদক্ষেপগুলিকে UAE-কে এই সংঘাতের বাইরে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৪, ২০২৬
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে নেতানিয়াহুর ব্যঙ্গ

মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন। ছবি : গেটি ইমেজ

ইরানের সাথে যুদ্ধে ৪৫টি এমকিউ-৯ ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের জিয়াংসু প্রদেশের নানতোং এলাকায় একটি উচ্চগতির ট্রেন। ছবি: এএফপি

৫ সেকেন্ডে ৮০০ কিলোমিটার গতিতে নতুন বিশ্বরেকর্ড চীনা ট্রেনের

ছবি: সংগৃহীত
ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি, ‘সঠিক পথে না এলে জবাব দেবে পাকিস্তান’

পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা হিসেবে ঘোষণা করে প্রতিবেশী ভারতকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান শান্তি চায়, তবে সেই অবস্থানকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। ভারতের পক্ষ থেকে পানির অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হলে পাকিস্তান তার সরাসরি জবাব দেবে।   বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানী ইসলামাবাদে নবনির্মিত ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ (বিজয় স্মৃতিস্তম্ভ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে সিন্ধু নদের পানি বণ্টন ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনার মধ্যেই তার এই বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।   বিজয় স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন দেশপ্রেম ও জাতীয় উদ্দীপনার পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যৌথভাবে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন। শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার প্রতীক। তিনি পাকিস্তানের সরকারি ভাষ্যে ‘মারকা-ই-হক’ নামে পরিচিত সামরিক অভিযানে ভূমিকার জন্য ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও তার নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। তিনি আরও জানান, মাত্র আট মাসের মধ্যে বিশেষ নকশায় স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।   ‘পানির প্রতিটি ফোঁটাই রেড লাইন’ ভারতের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে শেহবাজ বলেন, পাকিস্তান এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়। তবে সেই অবস্থানকে দুর্বলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাই আমাদের জন্য রেড লাইন। আমাদের পানির অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।” বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সিন্ধু নদের পানি বণ্টন এখন তাদের কাছে শুধু অর্থনৈতিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়েও পরিণত হয়েছে।   সামরিক সাফল্যের দাবি শেহবাজ শরিফ তার ভাষণে বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্যে পুরো জাতির মাথা উঁচু হয়েছে এবং প্রতিপক্ষকে “লজ্জাজনক পরাজয়” বরণ করতে হয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতে দেশটির বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাফল্য অর্জন করে। তবে ওই সংঘাতের প্রকৃতি, উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি এবং যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার মতো দাবিগুলোর বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে এবং এসব দাবির অনেকগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক কূটনীতি ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সংঘাত এড়াতে তার দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।   কাশ্মীর, ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তান প্রসঙ্গ মধ্যপ্রাচ্যের প্রসঙ্গে তিনি মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেন এবং কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন ইস্যুতেও পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে পাকিস্তানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং কাশ্মীরিদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আফগান ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত না হয়।   জাতীয় ঐক্যের আহ্বান দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রসঙ্গে শেহবাজ বলেন, “ঐক্যবদ্ধ জাতিকে কোনো পরাশক্তি পরাজিত করতে পারে না।” তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে শত্রুতায় রূপ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।   সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে উত্তেজনা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের পানি ব্যবস্থাপনার প্রধান কাঠামো হিসেবে কাজ করেছে। পাকিস্তানের দাবি, ভারত চুক্তিটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই ইসলামাবাদ পানির অধিকারকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে।   বিশ্লেষকদের মতে, শেহবাজ শরিফের সর্বশেষ বক্তব্যে পানিকে সরাসরি ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করা এবং ভারতকে “সঠিক পথে” ফেরার আহ্বান দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরও নতুন মাত্রা দিয়েছে। বর্তমানে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনে পানি শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং কৌশলগত রাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ১৪, ২০২৬

ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিলেন সোনম ওয়াংচুক

চাঁদে যাওয়ার প্রস্তুতি পাকিস্তানের, ‘জিন্নাহ-১’ নভোযান উৎক্ষেপণের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, পাঠানো হচ্ছে নতুন বিমানবাহী রণতরি

ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের দৌরাত্ম্য, ফিলিস্তিনিদের ঘর ছাড়ার নির্দেশ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি তাদের দেওয়া অবরোধের পর বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে নিজেদের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের কুসরা এলাকায় গত রোববার থেকে তিনটি বাড়ি ঘিরে রেখেছিলেন ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। এ সময় বাড়িগুলোর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।   কুসরার মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি বিবিসিকে জানান, পুরো গ্রামকে ‘বন্ধ সামরিক এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি যেসব ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে বলা হয়েছে, তাদের কয়েকটি বাড়ি ইসরায়েলি বাহিনী ব্যারাক হিসেবেও ব্যবহার করছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্যই এই অভিযান চালানো হয়েছে।   যদিও ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘দুঃখজনক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়ীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।   তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা তদন্ত করছি, দায়ীদের গ্রেপ্তার করব এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’   কুসরায় অবরুদ্ধ তিনটি বাড়ির বাসিন্দারা আবু রিদি ও হাসান পরিবারের সদস্য। বৃহস্পতিবার ওই তিন পরিবারের মধ্যে দুটি পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তারা তৃতীয় বাড়িটিতে গিয়ে আশ্রয় নেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন।   সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা পশ্চিম তীরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের আমলে বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বাড়ায় বসতিস্থাপনকারীরা আরও উৎসাহিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও বেড়েছে।   আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৪, ২০২৬
দুজনের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়েছিল। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিকার মৃত্যুর খবর পেয়ে আত্মহত্যা করলেন প্রেমিক

ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা জোরদারে সব পাইলটের ডোপ টেস্টের নির্দেশ এয়ার ইন্ডিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই ব্যক্তি, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ

0 Comments