৪৬তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তাদের আগামী ২৬ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে নির্ধারিত একটি গুগল ফরম আবশ্যিকভাবে পূরণ করতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরিনের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পিএসসি।
এতে বলা হয়, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব প্রার্থীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুগল ফরমটি পূরণ করতে হবে। ফরমটি পূরণ করা যাবে এই লিংকে: https://forms.gle/DwLirYBe7LQfKEpу6
এর আগে গত বছরের ২৭ নভেম্বর ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন। এতে মোট ৪ হাজার ৪২ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন।
৪৬তম বিসিএসে মোট ৩ হাজার ১৪০টি পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে। স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে ১ হাজার ৬৮২ জন এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ১৬ জন নিয়োগ পাবেন।
এরপর সবচেয়ে বেশি পদ রয়েছে শিক্ষা ক্যাডারে। বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হবে ৯২০ জনকে। এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২৭৪ জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৮০ জন, আনসার ক্যাডারে ১৪ জন, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে ৪৯ জন, মৎস্য ক্যাডারে ২৬ জন এবং গণপূর্ত ক্যাডারে ৬৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিজে দুর্নীতি করবেন না এবং কাউকে করতেও দেবেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষার ভিত্তি শক্ত করতে হবে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হবে।’ দুর্নীতি নিয়ে হুঁশিয়ার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না। এমনকি কাউকে দুর্নীতি করতেও দেওয়া হবে না।’ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা হলো রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি। ভিত্তি দুর্বল হলে উঁচু ভবন দাঁড় করে লাভ নেই। তাই শিক্ষার অবকাঠামো মজবুত করাই সবার দায়িত্ব।’ শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে। সেটি হচ্ছে—‘কারিকুলাম, ক্লাসরুম ও কনসিস্টেন্সি’। পাঠ্যক্রম ভালো হতে হবে, শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে এবং সারা দেশে শিক্ষার মানে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। বর্তমানে দেশে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি শিক্ষা ও বিভিন্ন ধারার মাদ্রাসাসহ বহু শিক্ষাধারা রয়েছে। এসব ধারার মধ্যে মানগত সমন্বয় জরুরি।’ ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্ঞান ভাষার মধ্যেই গঠিত ও প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক শিক্ষায় ভাষা ও গণিতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ভাষা ও গণিতে দুর্বলতা থাকলে শিক্ষার ভিত্তি শক্ত হয় না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে পাঠ্যক্রম পর্যালোচনায় টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।’ ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ধাপে ধাপে চালু করা হবে। তবে ইংরেজি শেখানোর আগে বাংলা ভাষায় দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক শিক্ষার্থী বাংলাতেই সঠিকভাবে শেখে না। এ বাস্তবতা পরিবর্তনে জোর দিতে হবে।’ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব দপ্তরে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। আমরা নিজেরা দুর্নীতিতে জড়াব না এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও কঠোর নজরদারি থাকব। দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ শুধু আন্দোলনে নয়, কর্মক্ষেত্রেও দিতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত, মানসম্মত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।’ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, আজ দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ভার্চুয়াল বৈঠকে নতুন এই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলগণ সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার (পুরুষ ও মহিলা) সদস্যবৃন্দ ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। জামায়াত আমির মজলিসে শূরার সঙ্গে পরামর্শ করে ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য নির্বাচিত কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের নাম ঘোষণা করেন এবং তাদের শপথ পরিচালনা করেন। ঘোষিত কমিটি অনুযায়ী নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন—এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি এবং মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম (সাবেক এমপি)। দলের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন—মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক এমপি), মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। আগামী দুই বছরের জন্য ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। পরিষদের সদস্যরা হলেন—এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এমপি, মিয়া গোলাম পরওয়ার (সাবেক এমপি), মাওলানা এ. টি.এম. মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক এমপি), মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, আবদুর রব, সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মো. মোবারক হোসাইন, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং ড. মোহাম্মাদ রেজাউল করিম। এছাড়া, বৈঠকে আগামী দুই বছরের জন্য ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১ জন নারী সদস্য রয়েছেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় জাতীয় পর্যায়ে ৫৯ জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (১৭ জন নারী)। বৈঠকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন এবং সারাদেশে ১৪টি অঞ্চলের জন্য দায়িত্বশীলগণকে অঞ্চল পরিচালক মনোনীত করা হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছান জামায়াত আমিরের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ১২টা ১০ মিনিটে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ডা. শফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন সংসদে বিরোধীদলের হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, এটিএম আজহারসহ জোটের অন্যান্য নেতারা। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর শহীদ মিনারে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। ১২টা ১২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা বেদিতে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু, তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। এছাড়া তারেক রহমানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা রহমান শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। একুশের প্রথম প্রহর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে।