মিশরের মরুভূমিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গিজার গ্রেট পিরামিড শুধু প্রাচীন সভ্যতার প্রতীকই নয়, প্রকৌশল বিস্ময়েরও এক অনন্য উদাহরণ। প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বছর ধরে অসংখ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবসৃষ্ট নানা প্রভাব মোকাবিলা করেও এটি আজও দৃঢ়ভাবে টিকে আছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আধুনিক অনেক স্থাপনা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গিজার পিরামিডের স্থায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের বিষয়। সম্প্রতি মিশর ও জাপানের গবেষকদের যৌথ এক গবেষণায় উঠে এসেছে এর পেছনের সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক কারণ।
গবেষণায় পিরামিডের বিভিন্ন অংশে উন্নত সেন্সর স্থাপন করে কম্পনের ধরন বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকদের মতে, পিরামিডের নিজস্ব কম্পনমাত্রা এবং এর নিচের মাটির কম্পনমাত্রা একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে ভূমিকম্পের শক্তিশালী কম্পন কাঠামোর ভেতরে প্রবেশ করলেও তা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, পিরামিডের অভ্যন্তরে থাকা একাধিক ‘রিলিভিং চেম্বার’ বা চাপ-নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ভূমিকম্পের সময় শক অ্যাবজরবারের মতো কাজ করে। এসব কক্ষ কম্পনের শক্তি শোষণ করে মূল কাঠামোকে সুরক্ষা দেয়।
১৯৯২ সালে কায়রোর কাছে আঘাত হানা ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে আশপাশের বহু ভবন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গিজার গ্রেট পিরামিড প্রায় অক্ষত ছিল। গবেষকদের দাবি, এটি প্রাচীন মিশরীয় স্থপতিদের অসাধারণ প্রকৌশল জ্ঞানেরই প্রমাণ।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পিরামিড নির্মাণে ব্যবহৃত বিশাল চুনাপাথর ও গ্রানাইট ব্লকগুলো এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল, যা কাঠামোটিকে অধিক স্থিতিশীল করে তোলে। এই ‘ইন্টারলকিং’ পদ্ধতি ভূমিকম্পের সময় পাথরগুলোকে বিচ্ছিন্ন হতে বাধা দেয়।
গবেষকদের মতে, খুফুর পিরামিডের সফলতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং উন্নত নির্মাণ কৌশলের ফল। আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও এই স্থাপত্য মানব ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময় হিসেবে বিজ্ঞানীদের মুগ্ধ করে চলেছে।
তাই গিজার গ্রেট পিরামিড শুধু একটি সমাধি স্থাপনা নয়; এটি প্রাচীন প্রকৌশল দক্ষতা, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা এবং মানব মেধার এক অমর নিদর্শন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফর ও নাগরিক সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা। বাবার এই সফর ঘিরে নিজের উচ্ছ্বাস ও অনুভূতির কথা প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় পদের চেয়েও তার কাছে বাবার পরিচয়ই সবার ওপরে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ড. শামারুহ মির্জা লেখেন, আজ আব্বু ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন নাগরিক সংবর্ধনায়। খুব মিস করছি আমি। ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা অন্তহীন। নিজের পরিবারের সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সম্প্রতি এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতিও শেয়ার করেন তিনি। তিনি লেখেন, কদিন আগে এক রিপোর্টার আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘হাউ ডু ইউ ফিল, অ্যাজ এ প্রেসিডেন্টস ডটার?’ আমি বললাম, ‘প্রেসিডেন্ট অর নট, হি ইজ অলওয়েজ মাই আব্বু, মাই হিরো!’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা নেটিজেনদের নজর কাড়ে এবং ব্যাপক সাড়া ফেলে। বাবা ও মেয়ের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধাবোধ নেটিজেনদের মন ছুঁয়ে গেছে।
দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসার পর দেশে ফেরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় আবেগঘন বক্তব্য রেখেছেন; দিয়েছেন দলের ‘ভেতরে ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের’ সতর্কবার্তা। শনিবার এ আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে বসে তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন বারবার তার গলা ধরে আসছিল। সাড়ে পাঁচ মাসের অনুপস্থিতির কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, এ সময়ে দেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার খোঁজখবর রেখেছেন। “একজন কর্মী দলের কাছ থেকে কী আশা করে, নেতারা খোঁজখবর রাখবেন, নেতারা ভালোবাসবেন, বিপদে পড়লে পাশে দাঁড়াবেন। অথবা সমবেদনা জানাবেন। সেটাই পেয়েছি।” তিনি বলেন, “আজকে একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এ দলের বিরুদ্ধে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে এই দলের বিরুদ্ধে। অনেক ষড়যন্ত্র হবে মাননীয় নেতা আপনার বিরুদ্ধে, আপনাদের বিরুদ্ধে। “আপনি দরকার হয় সাবধান থাকবেন এবং আপনি অনেক উদার আমি জানি, নিসন্দেহে। তবে সবসময় এমন হওয়া যাবে না। এটুকু আপনাকে আমি বলতে চাই। ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, “বহু কর্মী আছেন, নেতা আছেন, যারা আপনার সামনে অনেক ভালো ভালো কথা বলেন, বাইরে আসে কিন্তু ভালো কথা বলেন না।” জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রধানমন্ত্রী সেসব কথা বলবেন তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, “বিষয়গুলা সম্বন্ধে আপনার একটু সাবধান হওয়া উচিত। কারণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, উনি, বলতে পারি আমরা যে, স্বাভাবিক। না, খালেদা জিয়ার মৃত্যু অন্তত আমার কাছে স্বাভাবিক নয়।” সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বহুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ওনার মৃত্যু, নিসন্দেহে কেউ হত্যা করেনি, এটা ঠিক আছে। কিন্তু উনি যেভাবে মারা গেছেন, তা আমাদের কাম্য ছিল না।” প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনেক ভালো ভালো কাজ, খারাপ লোকের খারাপ কথায়, খারাপ কাজে নষ্টা হয়ে যাচ্ছে তুলে ধরে সে দিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা। জিয়াউর রহমানের হাতে রাজনীতির দীক্ষা পাওয়া এবং খালেদা জিয়ার কাছে লালিত হওয়ার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বিএনপির চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলেন, “আপনার সঙ্গে রাজনীতি করেই আমার রাজনৈতিক জীবন শেষ করতে চাই। এখানে আর কোনো কিছু সুযোগ নাই।… এখানে কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করবে না।” ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যেগুলো আমি জানব, দলের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো আপনাকে জানাবো ইনশাআল্লাহ।” বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠা করেন। ‘কিছু নেতা-কর্মীর জন্য বদনামি হচ্ছে’ মির্জা আব্বাস বলেন, “আমার অনেক নেতাকর্মী আছেন…কিছু মনে করবেন না আমি খোলাখুলি বলি… কিছু নেতা-কর্মীর জন্য বদনাম হচ্ছে। আপনাদের বয়সটা আমাদের ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি, রাজনীতি শিখেছি, দেশনেত্রী বেগম খালে জিয়ার সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি। কিন্তু আমাদের সময়ের দুই-একজন হাতে লোক ছাড়া এই দলের কোনো বদনাম আমাদের মাধ্যমে হয়নি।” দলের প্রতিষ্ঠাতাকে হত্যা, খালেদা জিয়ার কারাভোগ, নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা জেল খেটেছি… দলটা এখনো ঠিক আছে। দলটা আরও টিকে থাকবে। এ দলটা মরে যাওয়ার জন্য আসে নাই, ভেঙ্গে যাওয়ার জন্য আসে নাই। দুই-একজন লোকের জন্য দলটা বদনাম হতে পারে না, এটা একটু আপনারা খেয়াল রাখবেন। আমি মনে করি আমি কি বলেছি এটা আমার নেতা বুঝেছেন এবং আপনারা ভালো করে বুঝেছেন।” এ সময় তিনি বিএনপি ও দেশকে বাঁচানোর জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। দলের ভারপ্রাপ্ত মহসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান,এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী হয়েছেন ৫১ বছর বয়সি প্রকৌশলী জন টার্নাস। নতুন এ দায়িত্বের জন্য তিনি মূল বেতনের পাশাপাশি কোম্পানির শেয়ার পাবেন, যার বড় অংশই নির্ভর করবে কোম্পানিতে অর্জিত তার পারফরম্যান্সের ওপর। এদিকে, অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে পাওয়া ভাতা ও শেয়ার মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের পারিশ্রমিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন কোম্পানির নতুন পদে বসা টিম কুক। পদত্যাগ পরবর্তী টিম কুকের এ পারিশ্রমিক প্যাকেজ কোম্পানিটির নতুন প্রধান নির্বাহী টার্নাসের নির্ধারিত ভাতার প্রায় কাছাকাছি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। মঙ্গলবার জন টার্নাসের কাছে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন টিম কুক। নতুন চুক্তিতে তিনি ২০ লাখ ডলার মূল বেতন ও ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের শেয়ার পাবেন। এ শেয়ারের অর্ধেক টিম কুকের কর্মক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হবে, আর বাকি অর্ধেক চার বছর ধরে পরিশোধ হবে। অন্যদিকে, নতুন সিইও টার্নাস পাবেন ৩০ লাখ ডলার মূল বেতন ও ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের শেয়ার, যা তার পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে। প্রধান নির্বাহী হিসেবে ২০২৫ সালে টিম কুকের মোট পারিশ্রমিক ছিল ৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি। বর্তমানে অ্যাপলের ৩০ লাখেরও বেশি শেয়ারের মালিক টিম কুককে ‘মাল্টি-বিলিয়নেয়ার’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে ফোর্বস। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। তার পূর্বসূরী ও অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস বছরে প্রতীকী ১ ডলার বেতন নিতেন। তবে প্রয়াণকালে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭০০ কোটি ডলার, যার মধ্যে পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিও বিক্রির সূত্রে পাওয়া ডিজনি’র শেয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। অপারেশনস বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাফল্য দেখিয়ে ২০১১ সালে জবসের স্থলাভিষিক্ত হন কুক। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অ্যাপলের শেয়ারের দাম ২২০০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে টিম কুক যখন সিইও হন তখনকার ৩৫ হাজার কোটি ডলারের অ্যাপল আজ প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। অ্যাপলের জটিল ও আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন টিম কুক। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ৫১ বছর বয়সি প্রকৌশলী ও অ্যাপলের দীর্ঘদিনের কর্মী জন টার্নাস। এর আগে, হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে বিভিন্ন পণ্য নির্মাণে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। দায়িত্বের অংশ হিসেবে তাকে আইফোনসহ অ্যাপলের পুরো পণ্য সারির প্রকৌশল দলের নেতৃত্ব দিতে হয়েছে, যা কোম্পানিটির আয়ের প্রধান উৎস। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা এখন কেবল নতুন পণ্যের প্রত্যাশাই করছেন না, বরং অ্যাপল হার্ডওয়্যারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যোগ করার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছেন। ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের বার্ষিক আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠানে নতুন সিইও হিসেবে প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে আসবেন টার্নাস। এ অনুষ্ঠানে ফোল্ডএবল আইফোন উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডসের নতুন সংস্করণ আসার পূর্বাভাস থাকলেও গেল সপ্তাহে মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে ক্যামেরা সংবলিত এয়ারপডস দ্রুত বাজারে আসছে না। অ্যাপলের নতুন নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে টিম কুকের কাজের পরিধিতে থাকছে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মেলবন্ধন রক্ষা। এর মধ্যে অন্যতম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা ও অ্যাপলের অন্যতম প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ দেখভাল করা। সোমবার কর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক বিদায়ী স্মারকে অ্যাপলের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের ওপরই গুরুত্বারোপ করেছেন টিম কুক। তিনি লিখেছেন, “আপনাদের নেতৃত্ব দেওয়া ও প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে থাকার বিষয়টিকে আমি মিস করব। “তবে জনের মতো একজন দারুণ, মেধাবী ও দক্ষ মানুষের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে পেরে আমি আশ্বস্ত। বিশ্বকে বদলে দেওয়ার মতো প্রযুক্তি পণ্য তৈরির বিষয়টি জনের চেয়ে কম মানুষই ভালো বোঝেন।”