ভারতের পরিবেশ ও জলবায়ু আন্দোলনের পরিচিত মুখ সোনাম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচি শেষ করার পর তাকে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার শুভকামনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মোদি ওয়াংচুককে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার পোস্টে বলেন, ওয়াংচুক যেন নিয়মিত চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুসরণ করেন এবং যত দ্রুত সম্ভব আগের শারীরিক সুস্থতা ও ওজন ফিরে পান। একই সঙ্গে তার সুস্বাস্থ্য কামনা করেন তিনি।
গত ২৮ জুন রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের অংশ হিসেবে অনশন শুরু করেন সোনাম ওয়াংচুক। পরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সরকারের এমন আশ্বাসের পর গুরুগ্রামের একটি হাসপাতালে তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।
অনশন ভাঙার সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং, লেহ-লাদাখের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, চিকিৎসক এবং ওয়াংচুকের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মন্ত্রীরা তাকে পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙতে সহায়তা করছেন।
অনশন শেষে ওয়াংচুক উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং তার এই দীর্ঘ কর্মসূচিতে পাশে থাকার জন্য স্ত্রী গীতাঞ্জলির প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ এক প্রতিক্রিয়ায় ওয়াংচুকের অনশন সমাপ্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়াংচুকের এই আন্দোলন দেশের মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি জানান, তাদের দলের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সিরাজগঞ্জে সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ মোটরসাইকেল টিম গঠন করেছে ট্রাফিক পুলিশ। জেলার কোথাও যানজট বা সড়কে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নিচ্ছে এসব টিম। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ও অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ১ কোটি ৮০ লাখ ৩১ হাজার ৯৭৫ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে জেলা ট্রাফিক পুলিশ। জেলা ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ৩ হাজার ২১টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার জরিমানা থেকেই সরকারের এ রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা জেলার ট্রাফিক পুলিশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে জেলা ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ের সামনে দেখা যায়, প্রায় ২৬ সদস্যের একটি মোটরসাইকেল টিম একই পোশাকে সারিবদ্ধভাবে প্রস্তুত রয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের রেলগেট থেকে চান্দ আলী মোড় পর্যন্ত সড়কে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দায়িত্বে বের হওয়ার কথা ছিল। ট্রাফিক পুলিশ জানায়, জেলার কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে বিশেষ টিম পাঠানো হয়। মোটরসাইকেলে দ্রুত পৌঁছে তারা যানজট নিরসন, অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহন অপসারণ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। এ ছাড়া নিয়মিত ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা, মামলা ও জরিমানা করার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। জেলা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে পুরো জেলায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্য সংখ্যা ৭১ জন। এর মধ্যে জেলা সদরে দায়িত্ব পালন করছেন ৪৮ জন। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় সদস্যদের নিয়ে পৃথক টিম গঠন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা ট্রাফিক পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন ও প্রসিকিউশন) মো. মোফাকখারুল ইসলাম বলেন, “তীব্র গরমের মধ্যেও আমাদের সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। যানজট বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে একাধিক টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকে।” সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “পেট্রোল টিম পুলিশ বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর একটি। সড়কে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়। মানুষের নিরাপত্তা ও সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইংমিং ইয়াং বাংলাদেশে তার পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষ করেছেন। সফরের মধ্য দিয়ে সংস্থাটি আগামী কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস), নীতিগত সংস্কার, অগ্রাধিকারমূলক বিনিয়োগ এবং সমন্বিত বৃদ্ধি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বৃহস্পতিবার সফর শেষে এডিবির ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সফরকালে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইংমিং ইয়াং বলেন, বাংলাদেশ তার উন্নয়নযাত্রার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করছে। এ মুহূর্তে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, আমাদের আলোচনায় এডিবি-বাংলাদেশ অংশীদারত্বের দৃঢ়তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত অঙ্গীকারগুলোকে ধাপে ধাপে সংস্কার, লাভজনক বিনিয়োগ ও কার্যকর বাস্তবায়নে রূপান্তরের গুরুত্ব উঠে এসেছে। সরকার পরিচালিত উদ্যোগ হিসেবে আইজিএনডি সংস্কার, বিনিয়োগ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসূত্রে গেঁথে বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন সুযোগ সৃষ্টি, সংযোগ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। গত মে মাসে এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার বাংলাদেশ সফরের ধারাবাহিকতায় এ সফর অনুষ্ঠিত হয়। এ সফরের মাধ্যমে আগের সফরে অর্জিত অগ্রগতিকে আরও বেগবান করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও এডিবি যৌথভাবে আইজিএনডি উদ্যোগের আওতায় বছরে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বেশি বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করেছে। এ বিষয়ে বেসরকারি খাতের সঙ্গেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সফরকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক করেন এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আইজিএনডি-সংক্রান্ত একটি জাতীয় সেমিনারে মূল বক্তব্য দেন ইংমিং ইয়াং। পাঁচ দিনের সফরকালে ইংমিং ইয়াং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে চট্টগ্রামকে প্রধান সামুদ্রিক ও অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং জলবায়ুসহনশীল বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চট্টগ্রাম অবস্থানকালে তিনি এডিবির সহায়তায় পরিচালিত ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম’-এর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। সফরজুড়ে তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংসফেন ঝাং।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে এখন কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। বৃহস্পতিবার ( ১৩ আগস্ট) সকালে সাভার বাজার রোডের আমিন টাওয়ারে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ আনসার বাহিনীতে স্বচ্ছতার সংস্কৃতি বজায় রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, অতীতে যা কিছুই ঘটে থাকুক না কেন, বর্তমানে আনসার বাহিনী আর আগের অবস্থায় নেই। বাহিনীতে কোনো ধরনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই। দেশে প্রথমবারের মতো আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয় উদ্বোধনের বিষয়ে ডিজি বলেন, এই ব্যাংকের মাধ্যমে বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা সহজ শর্তে আর্থিক সুবিধা ও ঋণ সহায়তা পাবেন। এতে তাঁদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি চাকরির বাইরে নিজ পরিবারকে স্বাবলম্বী করার সুযোগ তৈরি হবে। অনুষ্ঠান শেষে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে তিনজন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যের হাতে ২ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকার ঋণের চেক তুলে দেয়া হয়। ঋণ পাওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মো. রায়হান বলেন, ‘এ নিয়ে আমি দ্বিতীয়বারের মতো এই ঋণ নিয়েছি। এবার ঋণের টাকা দিয়ে গ্রামের বাড়িতে ছোট পরিসরে গরুর খামার করব। চাকরির আয়ের পাশাপাশি বাড়তি আয় হলে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরবে।’ অনুষ্ঠানে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন, ঢাকা জেলা কমান্ড্যান্ট রাসেদুজ্জামান, সাভার উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান, সংশ্লিষ্ট শাখার ব্যাংক ব্যবস্থাপকসহ আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।