জাতীয়

২৫ ডিসেম্বর ঘিরে ঢাকাজুড়ে নিরাপত্তাবলয়

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ২২, ২০২৫

দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সপরিবারে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে বরণ করতে ওই দিন ঢাকায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি থাকতে পারে—এমন বাস্তবতা মাথায় রেখে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের আগমন ঘিরে একাধিক দফা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় বিমানবন্দর, ৩০০ ফুট সড়ক, গুলশান অ্যাভিনিউসহ সম্ভাব্য সব কর্মসূচি এলাকা ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি দলীয়ভাবেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর পর তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)। এ জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফ পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে।


এ বিষয়ে তিনি কালবেলাকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি সিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। তার আগমন ছাড়াও চলাফেরার সময় বিএনপির চাহিদা অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তারেক রহমানের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনি রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’ ওই বাড়ির পাশেই অবস্থিত।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো জানায়, বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ এস্কর্ট থাকবে। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখবেন। বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় দুই দিন আগেই অতিরিক্ত তল্লাশি চৌকি বসানো হচ্ছে।
এদিকে, ঢাকায় অবতরণের পর বিমানবন্দরের অদূরে ৩০০ ফুট সড়কে দলীয়ভাবে সংবর্ধনার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। এ ছাড়া তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখতে যেতে পারেন এবং শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে পারেন। এসব সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার প্রস্তুতি রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহরিয়ার আলী বলেন, ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন ঘিরে বিমানবন্দর এলাকায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গুলশান বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ওই দিন পুরো ঢাকাজুড়েই নিরাপত্তা জোরদার থাকবে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বাসভবন ঘিরেও থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়।


পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন,

তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল মোতায়েন করা হবে।
বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর বিমানবন্দরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রানওয়ে থেকে শুরু করে ভিভিআইপি ও ভিআইপি টার্মিনালসহ পুরো এলাকায় কড়া নজরদারি থাকবে। নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।


বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, “২৫ ডিসেম্বর ঘিরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই বিমানবন্দরে আসার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা
বিএনপি সূত্র জানায়, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সারা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকায় আসতে পারেন। এতে রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাগম ও যানজটের আশঙ্কা করছে ট্রাফিক পুলিশ। ২৪ ডিসেম্বর রাত থেকেই ঢাকায় প্রবেশপথগুলোতে চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীর বেশ কিছু সড়কে ডাইভারশন ও সাময়িকভাবে সড়ক বন্ধ থাকতে পারে। দুই-এক দিনের মধ্যেই ট্রাফিক ব্

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সংগৃহীত ছবি
জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার পূর্বাভাস এফএফডব্লিউসির

উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, ‘জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে সব সময়ই বন্যার ঝুঁকি থাকে।এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যা দেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’ তিনি বলেন, ‘সে কারণেই চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ বৃহস্পতিবার এফএফডব্লিউসি প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কমেছে। তবে আগামী চার দিনে পানির স্তর বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পঞ্চম দিনে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই (দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম দিন) পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচেই প্রবাহিত হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত থাকতে পারে। বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর তারাপুর পয়েন্ট, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। সারদার উদয় রায়হান বলেন, বর্তমানে এফএফডব্লিউসি দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে তিনদিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া যায়। দেশের নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তবে আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। তিনি বলেন, অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আগামী কয়েক দিন মেঘনা নদী অববাহিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। এফএফডব্লিউসির এই নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   প্রসঙ্গত, ঐতিহাসিকভাবে বর্ষা মৌসুমের এই মধ্যবর্তী সময়েই দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলো ঘটেছে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির ফলে দেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ ভূখণ্ড প্লাবিত হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক বন্যা জুলাই ও আগস্টজুড়ে দুই মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়। ওই বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত বা পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা—এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানির উচ্চপ্রবাহ দেখা দেওয়াই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ২০০৪ সালে জুলাইয়ের শেষ দিকে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পানির সর্বোচ্চ প্রবাহ একসঙ্গে মিলিত হওয়ায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয় এবং শুধু উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। এ ছাড়া ২০২২ সালের মেঘনা অববাহিকার বন্যা এবং ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন, যা উজানের অতিবৃষ্টির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২০ বছর পর নতুন ভিসা নীতি করছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত, গুজব ও অপপ্রচার এড়িয়ে চলার আহ্বান আইএসপিআরএর

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ছবি: সংগৃহীত
ঢাবির অনার্স প্রোগ্রাম বন্ধের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান মাহফুজ আলমের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স (স্নাতক) প্রোগ্রাম বন্ধের বিষয়ে ভাবতে হবে— বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বুধবার (১ জুলাই) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কথা’ শিরোনামে এক পোস্টের মাধ্যমে এ কথা বলেন তিনি।   মাহফুজ আলম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চার-পাঁচ প্রজন্ম মধ্যবিত্ত শ্রেণি উপহার দিয়েছে। এখন ফেইজ বাই ফেইজ কিভাবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অনার্স প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেয়া যায়, সে নিয়ে ভাবতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে। কেবল মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রাম থাকবে। দেশব্যাপী কন্সটিটুয়েন্ট কলেজগুলোতে পড়ে যেকেউ অনার্স করে ‘গর্বিত’ ঢাবিয়ান হতে পারবে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ থেকে অনার্স করে এসে মাস্টার্স বা পিএইচডি করেও ‘গর্বিত’ ঢাবিয়ান হওয়া যাবে।    তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও সেন্টারগুলো পুনর্গঠন করতে হবে। গবেষক শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পাবেন এবং রাষ্ট্রের চাহিদা-ভবিষ্যত পরিকল্পনা মোতাবেক গবেষণা পরিচালিত হবে। জাতীয়তাবাদের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ইতিহাস ও বাংলা ভাষার উপর বিশেষ নজর দিয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষ সেটা রাজনৈতিক দালালির পর্যায়ে চলে গেছে। ভাষা শিক্ষাকে বিশেষায়িত করতে হবে এবং ইতিহাস চর্চার সাথে সমাজবিদ্যার যোগ ঘটাতে হবে। আধুনিক সমাজবিদ্যা ও বিজ্ঞানের উপর জোর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ক্ষেত্রকে ঢেলে সাজাতে হবে।    শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি হবে ডাকসু নির্ভর। শিক্ষক ও গবেষণা সহকারী নিয়োগ করতে হবে মেধা ও পার্ফরমেন্সের ভিত্তিতে। বিদেশে ভালো ডিগ্রি-রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ না করার প্রচলন বন্ধ করতে হবে। অযোগ্য এবং দালাল শিক্ষকদের এ পবিত্র পেশা থেকে বিদায় করতে হবে।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, লালবাগ, হোসেনি দালান, কেন্দ্রীয় কারাগার সহ পুরান ঢাকার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোকে আলাদা প্রশাসনিক ইউনিটে- কাঠামোতে নিয়ে আসতে হবে। এটাকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হেরিটেজ সিটি ঘোষণা করতে হবে।    এখানে আলাদা মেয়র নির্বাচন ও সংসদীয় আসন আলাদা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ প্রস্তাবিত শহরে নতুন কোন ভবন হবে না। কোন গাছ কাটা যাবে না। কোন জলাশয় ভরাট করা যাবে না। এ শহর দীর্ঘমেয়াদে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে আহসান মঞ্জিল, ফরাশগঞ্জ, নর্থব্রুক হল সহ আরো হেরিটেজ সাইটগুলোকে সন্নিবেশ করবে। এখানে সন্নিবেশিত হবে কয়েকশ' মুগল -ব্রিটিশ আমলের মসজিদ, মন্দির, উপাসনালয়, ভবন।    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে এর প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সকল এলামনাই ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তিনি।  

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে চায় সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে মাহান এয়ারে ইরানে গেলেন স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত

বিস্ফোরক ও হত্যাচেষ্টা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

ছবি: সংগৃহীত
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর নিয়ে বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধে যানজট

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রশাসনিক সদর ভৌগোলিকভাবে উপযুক্ত ও জনসেবাবান্ধব স্থানে নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা ফেনী-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।   বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার হেয়াঁকো এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।   স্থানীয় সূত্র জানায়, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের হাতে দাবি-সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন ছিল। বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণ করতে হবে।   মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে ফেনী-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হেয়াঁকো এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন।   আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নবগঠিত উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত এবং বাস্তব পরিস্থিতিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।   ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নাগরিক ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রাসেল আহমদ ভূঁইয়া বলেন, অতীতেও উত্তরাঞ্চলের মানুষের দাবি উপেক্ষা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবারও যদি একইভাবে ভূজপুরে সদর দপ্তর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।   পরে নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে দিনের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।   এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির পক্ষে কর্মসূচি পালন করছেন। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন দিগন্ত, চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাকৃবির সমঝোতা

ছবি: সংগৃহীত

পটিয়ার কবরস্থান থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত

১০ জুলাই ঢাকা মেডিক্যাল পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0 Comments