জাতীয়

২৫ ডিসেম্বর ঘিরে ঢাকাজুড়ে নিরাপত্তাবলয়

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ২২, ২০২৫ 0
বাংলাদেশ পুলিশ। পুরোনো ছবি
বাংলাদেশ পুলিশ। পুরোনো ছবি

দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সপরিবারে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে বরণ করতে ওই দিন ঢাকায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি থাকতে পারে—এমন বাস্তবতা মাথায় রেখে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের আগমন ঘিরে একাধিক দফা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় বিমানবন্দর, ৩০০ ফুট সড়ক, গুলশান অ্যাভিনিউসহ সম্ভাব্য সব কর্মসূচি এলাকা ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি দলীয়ভাবেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর পর তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)। এ জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফ পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে।


এ বিষয়ে তিনি কালবেলাকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি সিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। তার আগমন ছাড়াও চলাফেরার সময় বিএনপির চাহিদা অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তারেক রহমানের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনি রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’ ওই বাড়ির পাশেই অবস্থিত।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো জানায়, বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ এস্কর্ট থাকবে। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখবেন। বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় দুই দিন আগেই অতিরিক্ত তল্লাশি চৌকি বসানো হচ্ছে।
এদিকে, ঢাকায় অবতরণের পর বিমানবন্দরের অদূরে ৩০০ ফুট সড়কে দলীয়ভাবে সংবর্ধনার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। এ ছাড়া তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখতে যেতে পারেন এবং শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে পারেন। এসব সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার প্রস্তুতি রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহরিয়ার আলী বলেন, ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন ঘিরে বিমানবন্দর এলাকায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গুলশান বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ওই দিন পুরো ঢাকাজুড়েই নিরাপত্তা জোরদার থাকবে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বাসভবন ঘিরেও থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়।


পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন,

তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল মোতায়েন করা হবে।
বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর বিমানবন্দরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রানওয়ে থেকে শুরু করে ভিভিআইপি ও ভিআইপি টার্মিনালসহ পুরো এলাকায় কড়া নজরদারি থাকবে। নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।


বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, “২৫ ডিসেম্বর ঘিরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই বিমানবন্দরে আসার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা
বিএনপি সূত্র জানায়, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সারা দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকায় আসতে পারেন। এতে রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাগম ও যানজটের আশঙ্কা করছে ট্রাফিক পুলিশ। ২৪ ডিসেম্বর রাত থেকেই ঢাকায় প্রবেশপথগুলোতে চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীর বেশ কিছু সড়কে ডাইভারশন ও সাময়িকভাবে সড়ক বন্ধ থাকতে পারে। দুই-এক দিনের মধ্যেই ট্রাফিক ব্

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে আরব দেশসমূহ

পারস্য সাগরের আরব দেশগুলো আরব দেশসমূহ যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়েছে, চলমান ইরান হামলা অব্যাহত রাখার জন্য। বার্তাসংস্থা রয়টার্স বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।   সূত্রগুলো বলছে, আরব দেশগুলোর শঙ্কা, যদি হামলা থেমে যায়, তাহলে যুদ্ধ শেষে ইরান শক্তিশালী অবস্থায় ফিরে আসবে। এতে তাদের তেল শিল্পের ওপর ইরানের হামলার ঝুঁকি রয়ে যাবে।   রয়টার্স জানায়, তিনটি সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র ও আরবের পাঁচ কূটনীতিক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আরব দেশগুলোর ওপর চাপ দিচ্ছে যেন তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়।   আরব নেতাদের মধ্যে আলোচনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা অব্যাহত রাখতে হবে যাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়। অন্যথায়, তারা ইরানের হামলার ঝুঁকির মধ্যেই থাকবেন।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা সুপার গ্রেপ্তার, শিশু আইসিইউতে

ছবি : সংগৃহীত

খাল খননে বাধা নয়, সবার সহযোগিতা চান পরিবেশমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

এক বছরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার

ছবি : সংগৃহীত
নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিচ্ছে না বাস মালিকরা: সড়কমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন রুটে বাস মালিকরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।   সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।   মন্ত্রী জানান, কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়া নেওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। অনেক পরিবহন যাত্রী কম থাকলে আগেও কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করত। সেই অভ্যাসের কারণে এখনো কেউ কেউ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কম নিচ্ছেন।   তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো রুটে যদি নির্ধারিত ভাড়া ৭০০ টাকা হয়, সেখানে অনেক পরিবহন ৬০০ থেকে ৬৮০ টাকায় যাত্রী পরিবহন করছে। গত সাত দিনে নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।   সড়কমন্ত্রী আরও বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট, ভিজিলেন্স টিম এবং পুলিশের কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। কোনো যাত্রী অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   তিনি বলেন, সম্প্রতি রংপুরে একজন যাত্রী ১০০ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে যাচাই করা হয়। পরে দেখা যায় নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়া হয়নি।   এদিকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ছে না এবং মালিকরা পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছেন। কোথাও জ্বালানি সংকটের অভিযোগ থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৬, ২০২৬ 0

খাল খননের মাধ্যমে দেশের কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে: শামা ওবায়েদ

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

ছবি: সংগৃহীত

ঈদে মাঠ প্রশাসনের অভিযোগ গ্রহণে কন্ট্রোল রুম চালু করেছে সরকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
দিনাজপুরে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দিনাজপুর অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। আজ দিনাজপুর সার্কিট হাউস মাঠে সুধী সমাবেশে ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর তাঁর কাছে বিশেষ আবেগের জায়গা। এই শহরের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ সাধারণত জিজ্ঞেস করে নানা বাড়ি কোথায়। কিন্তু দিনাজপুরের কথা মনে হলেই আমার কাছে নানি বাড়ির কথাটাই আগে মনে পড়ে। শহরের বালুবাড়ি ও ঘাসিপাড়ায় আমার নানা-নানির বাড়ির অনেক স্মৃতি রয়েছে।’ এলাকার প্রতি সেই টানেই, দায়িত্বের জায়গা থেকে দিনাজপুরের উন্নয়নে কাজ করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে জেলা প্রশাসক, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তাঁরা তুলে ধরেছেন এবং সরকার সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের পর থেকেই সেগুলোর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সরকার গঠন করার পর প্রায় এক মাসের মধ্যে মানুষের কাছে যে ওয়াদা করেছি, তার অনেকগুলোর কাজ শুরু করেছি।’ এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুরের কাহারোল এলাকা থেকে আজ এই কর্মসূচির কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেক বছর ধরে আমাদের নদী-নালা ও খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে, আবার বর্ষায় হঠাৎ পানি এলে তা আশপাশের ফসল ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’ সরকার আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান তিনি। এতে কৃষিকাজে পানি ব্যবহার সহজ হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আজ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগে যেখানে ১০০-১৫০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রে ৬০০-৭০০ ফুট নিচে যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘খাল ও নদী খননের মাধ্যমে যদি পানি ধরে রাখা যায়, তাহলে ভূগর্ভস্থ পানিও ধীরে ধীরে রিচার্জ হবে এবং আর্সেনিক সমস্যাও কমতে শুরু করবে।’ সমাবেশে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের প্রত্যেক নারী প্রধানদের জন্য একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীদের পেছনে রেখে আমরা এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারব না।’ তিনি জানান, এই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দেশের ১৫টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর-৬ আসনেও প্রকল্পটি চালু হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রকল্পটি সফল হলে ধীরে ধীরে সারা দেশে এর পরিসর বাড়ানো হবে। সমাজের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, যারা মসজিদে ইমাম, মোয়াজ্জেম, খতিব হিসেবে কাজ করেন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরু আছেন, তাদের জন্য একটা সম্মানীর ব্যবস্থা করব। আলহামদুলিল্লাহ, কয়েকদিন আগে আমরা সেই কাজটিও শুরু করেছি।’ প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সরকার সর্বাত্মক কাজ করে যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত সুধীজন ও এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিকভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে সরকার: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জেলেদের নির্বিঘ্নে মাছ ধরতে ইজারা প্রথা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: নুরুল হক নূর

আজ দুপুরে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকায় রাজখাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

দেশের ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি নদী ও খাল খনন করা হবে: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

0 Comments