জাতীয়

২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি

মারিয়া রহমান জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মালয়েশিয়ার যৌথ বিনিয়োগ আহ্বান করেছে। এছাড়া, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অব্যাহত নিরাপদ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অভিবাসন নিশ্চিত করতে যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ-জেডব্লিউজি) গঠনে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।


সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশের সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মালয়েশিয়া। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সমঝোতা ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। চলতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি পারস্পরিক লাভজনক ও দূরদর্শী চুক্তি বাস্তবায়নে দুই পক্ষই তাদের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।


অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথ সুগম করতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে কাঠামোগত সংলাপের জন্য ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ বিজনেস কাউন্সিল’ (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, হালাল শিল্প, শক্তি এবং অবকাঠামো খাতের মতো উচ্চ-মূল্যবান শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


বিবৃতিতে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় শক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। তরলীকরা প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যকার বিদ্যমান সমঝোতা স্মারককে পূর্ণ ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।


একইসঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরের মতো খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর খাতে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।


মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অব্যাহত, নিরাপদ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অভিবাসন নিশ্চিত করতে যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ-জেডব্লিউজি) গঠনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।


এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্রুপ শ্রমবাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করবে এবং কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে কাজ করবে।


জেডব্লিউজির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মূল্যায়ন করা। বর্তমান চুক্তির কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করবে গ্রুপটি।


এ ছাড়া, উভয় দেশের বর্তমান চাহিদা, শ্রমবাজারের বাস্তবতা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি নতুন ও হালনাগাদ এমওইউ প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করাও এই গ্রুপের অন্যতম লক্ষ্য।


বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে দুই দেশের নেতারা মানুষে মানুষে যোগাযোগের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেন এবং মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানকে স্বাগত জানান। তারা আরও উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিনিময় এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদারে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ভূমিকা পালন করে।


বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে দেশটি। তবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার বিদ্যমান নীতিমালা অনুসারে নতুন কর্মী কোটার অনুমোদন নিয়োগকর্তাদের যাচাই করা চাহিদা এবং খাতভিত্তিক নির্ধারিত সীমার ওপর ভিত্তি করে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনুমোদিত যেকোনো কর্মী কোটার ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন ও প্রতিযোগিতামূলক করতে উভয় দেশ কেবল বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্যতাসম্পন্ন নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। এ লক্ষ্যে একটি কাঠামোবদ্ধ প্রতিরক্ষা রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য দ্রুত ‘যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কমিটি’ (জেসিডিসি) গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এবং কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজগুলোর মধ্যে আসন বরাদ্দ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গ্লোবাল হালাল বাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের হালাল খাত উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরে সম্পন্ন হওয়া ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস অন কোঅপারেশন ইন দ্য ফিল্ড অব হালাল ইকোসিস্টেমের’ মাধ্যমে মালয়েশিয়ার হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারবে। এ সহযোগিতা মালয়েশিয়ার জাকিম এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।


বিবৃতিতে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফিনটেক এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও জ্ঞান বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, প্রযুক্তি পার্ক এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দুই দেশের এই নতুন উদ্যোগকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বাইরে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে।


রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, দুই শীর্ষ নেতা উচ্চ পর্যায়ের সফরসহ নিয়মিত সংলাপ ও আদান-প্রদানে একমত হয়েছে। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়গুলোতে সম্পৃক্ততা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। নেতারা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়মিত সংলাপের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন এবং এ প্রসঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত যৌথ কমিশন বৈঠক (জেসিএম) এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা (বিসি) পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছেন।


শিক্ষা খাত নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় নেতা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে (টিভিইটি) কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অংশীদারিত্ব এবং যৌথ গবেষণা কর্মসূচিসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন। উভয় পক্ষ পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত যোগ্যতা, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম এবং নমনীয় শিক্ষাপথ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন। নেতারা উভয় দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের সঙ্গে একাডেমিক প্রোগ্রামগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছেন।


এছাড়া, উভয় নেতা দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মালয়েশিয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছে এবং বাংলাদেশের প্রতি তার সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। মালয়েশিয়া এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যার মূল ভিত্তি হলো বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন।


বাংলাদেশ আসিয়ান, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), জাতিসংঘ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামসহ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থন এবং নীতিগত প্রতিনিধিত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জনের মাধ্যমে আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আসিয়ান কাঠামোর মধ্যে ঢাকার আকাঙ্ক্ষা পূরণে মালয়েশিয়ার গঠনমূলক সমর্থনের প্রস্তুতির কথা প্রকাশ করেছেন।


মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এই অঞ্চলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও কৌশলগত ভূমিকা স্বীকার করে, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি)-তে যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে।


উভয় নেতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া, এই অঞ্চলে একটি টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ শান্তির লক্ষ্যে চলমান সংলাপ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতিও সমর্থন ব্যক্ত করেন।


তারা জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, মানব পাচার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের মতো প্রচলিত ও অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। উভয় নেতা এই চ্যালেঞ্জগুলোকে একটি সামগ্রিক পদ্ধতিতে মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্পেনে অগ্নি দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি নিহত

স্পেনের মাদ্রিদে একটি সাইকেল গ্যারেজে অগ্নি দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ ইউসুফ হাসান আলিফ মারা গেছেন।     সোমবার (৩১ আগস্ট) এক বার্তায় মাদ্রিদের বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে।   ইউসুফ হাসান আলিফের অকালপ্রয়াণের বিয়োগান্তক ও শোকাবহ সংবাদে মাদ্রিদের বাংলাদেশ দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে।   দূতাবাস এ বিষয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং মাদ্রিদ পুলিশসহ স্পেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসায় নতুন যুগ, দেশে প্রথম পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক সার্জারি

থার্ড টার্মিনালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ফ্লাইওভারে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

থার্ড টার্মিনালে পিকআপ ভ্যান নিচে পড়ে বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন চিফ হুইফ নূরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে ‘মাইনাস’ করা হয়েছে: আইপিইউর কাছে আওয়ামী লীগের নালিশ

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। ছবি: সংগৃহীত
নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন চলতি সপ্তাহেই: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মন্ত্রিপরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে গেছে নবম পে-স্কেল। চলতি সপ্তাহেই এই পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তিনি আরও বলেছেন, প্রজ্ঞাপন একটি নয়, এ-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি প্রজ্ঞাপন জারি হবে। পাশাপাশি আইনগত ভেটিং শেষে কয়েকটি বিষয় এসআরও আকারেও জারি করা হবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন কবে নাগাদ জারি হতে পারে— সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই সপ্তাহেই হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। গেজেট একটা না, বেশ কয়েকটা হবে। তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালে জাতীয় বেতন স্কেল দেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রায় ১২ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেল হয়নি। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সময়োপযোগী করতে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ গঠন করা হয়। কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরও সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আটটি বৈঠক করা হয়েছে। নাসিমুল গণি আরও বলেন, ১২ বছর ধরে বেতন বৃদ্ধি ঘটেনি। ৫ বছর অন্তর যেখানে পে স্কেল চেঞ্জ হয়, সেখানে এটা ১২ বছরে হয়নি। তো তাদের জন্যও এটা খুব কষ্টকর এবং জীবনযাত্রার মানও কমে গেছে অনেক। সেটিকে বিবেচনায় রেখে একটা ব্যালান্স করে, এই উভয় দিকে ব্যালান্স করে যেটুকু করা যায় সেটাই করা হয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ ও আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে কার্যকর হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতাসমূহ একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিন ধাপের সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাহলে হয়তো ৬ মাসের একটা প্রথমের থেকে চলে যাবে, এই জুলাই থেকে ইফেক্টিভভাবে। ৬ মাস পরে যে আরেকটা ইফেক্টিভ হবে, আর লাস্টে যেয়ে আরেকটা ইফেক্টিভ হবে। নাসিমুল গণি আরও বলেন, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তিন ধাপে বেতন বাস্তবায়ন হয়ে যাবে এবং ২০২৮ সাল থেকে বেতন-ভাতাসহ পূর্ণ সুবিধা কার্যকর হবে। নিম্ন গ্রেডে বেতন বেশি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে। এতে কম আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি কিছুটা সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন বেতন স্কেলে পুরোনো পেনশনভোগীদের জন্যও স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৮ হাজার টাকা করা হবে। এছাড়া, ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া ব্যক্তিদের ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকা বা তার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৫৫ শতাংশ হারে পেনশন বাড়ানো হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ধীরে ধীরে ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি। নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। পুরো বেতন স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এ বিষয়ে নাসিমুল গণি জানান, এ অর্থ একসঙ্গে প্রয়োজন হবে না, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কারণে আগামী দুই বছরে পুরো অর্থের প্রয়োজন পড়বে না। বেতন বাড়ানোর ফলে বাজার ও মূল্যস্ফীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সে বিষয়টিও সরকার বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, সমস্ত কিছুই অ্যাকাউন্টে নেওয়া হয়েছে। তা না হলে তো একসাথেই টাকা দেওয়া হতো। বেতন বৃদ্ধির কারণে বাজারে যে প্রভাব পড়বে, সরকার কীভাবে তা মোকাবিলা করবে— এমন প্রশ্নের উত্তরে নাসিমুল গণি বলেন, দেখা যাক কীভাবে হ্যান্ডেল করে গভমেন্ট। সরকারি কর্মচারীদের হাতে অর্থ গেলে তারা অতিরিক্ত পণ্য ও সেবা কিনবেন এবং এর ফলে অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়বে। নতুন বেতন স্কেলে প্রায় পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত হবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। এরপর সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন পে স্কেল আসার পর এ বিষয়টির ‘গতিবেগ বাড়বে’। এটি আর আগের মতো পড়ে থাকতে পারবে না। এছাড়া, বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন-ভাতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টিও সরকারের আলোচনায় এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বেতন স্কেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বেতন বৃদ্ধি জরুরি। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সালমান এফ রহমান। ফাইল ছবি

সালমান এফ রহমানের মামলায় ব্রিটিশ আইনজীবী, অনুমতি চেয়ে আবেদন

সংগৃহীত ছবি

‘প্রশাসনিক প্রয়োজনে রদবদল’: ১১ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ

পে স্কেল-২০২৬ কীভাবে কার্যকর হবে? জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি

ছবি: সংগৃহীত
ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে অনিয়ম, ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের অভিযোগ পেয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। এ ঘটনায় দুই সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।   সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা। তিনি জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ৬ জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুজনকে শোকজ করা হয়েছে।   জেলা প্রশাসনের নোটিশে বলা হয়, সোমবার সকালে সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত দেখতে পান। তাদের মধ্যে কয়েকজন আবার ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই স্বাক্ষর করে রেখেছিলেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।   সরকারি কর্মচারীদের জন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতাধীন অপরাধের শামিল। এ ছাড়া যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা কিংবা নির্ধারিত সময়ের পর অফিসে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   শোকজ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নোটিশ পাওয়ার পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।   এদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকেও পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া।   জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের বিষয়টি সামনে আসায় সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। তাদের লিখিত জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   তিনি আরও বলেন, শোকজ পাওয়া সবাই যে একই ধরনের অনিয়ম করেছেন, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, সেটি স্পষ্ট হবে।   এর আগে সোমবার সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। একই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের পাশাপাশি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।   অফিসে প্রবেশের পর প্রতিমন্ত্রী হাজিরা খাতা দেখতে চান। সকাল ৯টা পেরিয়ে গেলেও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে না থাকায় বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি।   খবর পেয়ে প্রায় ২০ মিনিট পর সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া। পরে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাও কার্যালয়ে উপস্থিত হন।   শোকজ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), ইউনূস আলী, মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার রয়েছেন।   সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতকেও শোকজ করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের গান-কবিতাই প্রেরণার উৎস: ডিএসসিসি প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে আইপিইউ মহাসচিব

ছবি: সংগৃহীত

এডিপির প্রকল্প সময়মতো শেষ করার নির্দেশ জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

0 Comments