সকালের শুরুর ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। শান্তর দ্রুত বিদায়ের পর দলের হাল ধরেছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে দুইশ ছাড়াল বাংলাদেশের লিড।
৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৮৫ রান। এর ফলে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের রান বাদ দিয়ে বাংলাদেশের লিড এখন দাঁড়িয়েছে ২৩১ রানে। মুশফিক ২৬ এবং লিটন ৪৩ রান নিয়ে ক্রিজে অপরাজিত আছেন।
মুশফিক-লিটনের দায়িত্বশীল জুটি
শান্তর বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন প্রথম ইনিংসের শতকধারী লিটন দাস। অন্য প্রান্তে সকাল থেকে উইকেটে অবিচল থাকা মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। পাকিস্তানি বোলারদের আর কোনো সুযোগ না দিয়ে দারুণ এক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এই দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটার।
শান্তকে ফেরালেন খুররম
সকালের সেশনে শুরুটা স্বস্তিদায়ক হয়নি স্বাগতিকদের জন্য। দিনের চতুর্থ ওভারেই সাজঘরে ফিরতে হয় সিরিজের প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হোসেন শান্তকে। পাকিস্তানি পেসার খুররম শাহজাদের ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন টাইগার অধিনায়ক। ৪৬ বলে ১৫ রান করে শান্ত বিদায় নিলে ১১৫ রানে ৪র্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জেতা নিয়ে চ্যাম্পিয়ন স্পেনের রদ্রির প্রতি এখনও সমালোচনা থামেনি। অনেকের মতে, লিওনেল মেসিই ছিলেন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়। তবে বিশ্বকাপ শেষে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, মেসি কি আরও একবার ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন? এমন পরিস্থিতিতে সোমবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বার্ষিক ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন। মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের আয়োজকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই পুরস্কার জিততে ইউরোপের কোনো লিগে খেলার প্রয়োজন নেই। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে স্পেন জাতীয় দলের কোনো খেলোয়াড়কেই বেছে নিতে হবে, এমন ধারণা থেকে সরে এসেছে তারা। নিজেদের এই বক্তব্যের সঙ্গে ছবি হিসেবে ব্যবহার করেছে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের ছবিই। অন্যদিকে, রদ্রি ছাড়াও লামিন ইয়ামাল এবং পাউ কুবারসির মতো তরুণ তারকাদের নিয়েও এবার লড়াইয়ে আছে লা রোহা। এছাড়া উত্তর আমেরিকার এই বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো অন্য তারকাদের মধ্যে আবেদনের তালিকায় আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং হ্যারি কেনও। আজ প্রকাশিত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে ববি চার্লটন (ইংল্যান্ড, ১৯৬৬), পাওলো রসি (ইতালি, ১৯৮২) এবং লোথার ম্যাথিউসের (জার্মানি, ১৯৯০) প্রসঙ্গও, যারা বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে ব্যালন ডি’অরও জিতেছিলেন। একই কীর্তি গড়েছিলেন জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স, ১৯৯৮), রোনালদো (ব্রাজিল, ২০০২) এবং ফাবিও কানাভারো (ইতালি, ২০০৬), যখন এই পুরস্কার অ-ইউরোপীয় খেলোয়াড়দের জন্যও উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে এই প্রথা প্রথম ভেঙেছিলেন মেসি, ২০১০ সালে। সেবার বার্সেলোনায় নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের স্প্যানিশ সতীর্থ ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং জাভিকেও পেছনে ফেলেছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে একই কীর্তি গড়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও, জার্মানির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মানুয়েল নয়্যার এবং মেসিকে পেছনে ফেলে। আবার ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে হারলেও, নিজের ফরাসি প্রতিপক্ষ আঁতোয়ান গ্রিজমানকে পেছনে ফেলে একই কাজ করেছিলেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ। এরপর শুধু ২০২৩ সালেই দলগত ও ব্যক্তিগত, দুই মুকুট একসঙ্গে পুনরুদ্ধার করেছিলেন মেসি, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর। এবার কি এমন কোনো চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স ছাড়া স্প্যানিশদের বিপক্ষে আবারও এই কীর্তি গড়তে পারবেন তিনি? প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়, ‘হ্যাঁ, বিশ্বকাপ জেতাটা সহায়ক, তবে এটা ব্যালন ডি’অরের নিশ্চয়তা দেয় না। এই পুরস্কার জিততে হলে পুরো মৌসুমে সেরা খেলোয়াড় হতে হয়, শুধু বিশ্বকাপে নয়।’ আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানেই মিলবে এই প্রশ্নের উত্তর।মেসি কি আবারও ব্যালন ডি’অর জিততে পারবেন? মুখ খুলল ফ্রান্স ফুটবল
লিওনেল মেসির সঙ্গে প্রতারণা করেছে আর্জেন্টিনা। দেশটির কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সংবর্ধণা জানায়নি দলটি। যে দলকে তিনি গত বিশ্বকাপে শিরোপা উপহার দিয়েছেন। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে রানার্স আপ করেছেন। যে দলের জন্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকে উজার করে দিয়ে লড়াই করেছেন। সে দল তাকে বিদায় বেলায় বিশেষ সম্মান জানায়নি। গতরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে জড়ো হওয়া আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা যখন মেসির নাম ধরে গান গাইছিল, মেসি তখন গভীর দৃষ্টিতে তাদের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে ছিলেন। হয়তো তখন তার মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপে এমন ভালোবাসা পাওয়ার এটাই শেষ মুহূর্ত। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি, মেসির মতো টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের চেষ্টা করছিলেন, টুর্নামেন্টে কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড মেসির এটাই শেষ ম্যাচ কী না, সে প্রশ্নে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে ডিসেম্বর মাসে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবছিলেন তিনি। স্কালোনি বলেন, তিনি মেসির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি। এরপর তিনি নিজেই কাঁদতে শুরু করেন এবং সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে চলে যান। ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনায় অভিষেকের পর থেকে মেসি অন্তত পাঁচবার নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। আজকের আর্জেন্টিনা এবং ইন্টার মায়ামির মেসি সেই দীর্ঘ পরিবর্তনেরই ফসল। ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ খেলতে নেমে তিনি তার পায়ের জাদু দেখিয়ে মুগ্ধ করেছেন বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের। গতরাতে ফাইনালে মেসির অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ যুগের অবসান ঘটে। তার পক্ষে আগামী ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ খেলা অসম্ভব। সেই পর্যন্ত ফিটনেস ধরে রেখে পারফর্ম করে যাওয়া মোটেও সহজ নয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক মনোভাবের মাশুল গুনেছেন মেসি ও তার দল। ফল হিসেবে শিরোপা ছাড়াই বিশ্বমঞ্চে নিজের সম্ভাব্য শেষ ম্যাচটি খেলেছেন আর্জেন্টাইন মহানায়ক।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। এতে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা ছোঁয়া হলো আলবিসেলেস্তেদের। ফাইনাল হারের পর আর্জেন্টিনার দায়িত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্জেন্টিনার দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটিয়েছেন স্কালোনি। তার অধীনেই কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও ২০২২ বিশ্বকাপ জেতে আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে স্কালোনির চুক্তি শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে। সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষৎ নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমি সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। কী করতে চাই, সে বিষয়ে একটি ধারণা আমার আছে। চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করব, এরপর দেখা যাবে। সত্যি বলতে, আমার ভাবার প্রয়োজন আছে। কারণ, জানি না এর চেয়ে বড় কিছু আর অর্জন করতে পারব কি না।’ এ সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্কালোনি। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘এই জায়গায় থাকা আমার এবং সবার জন্যই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড় হিসেবে আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের সবটুকু দিয়েছি। তাই ভাবার জন্য কিছুটা সময় নেওয়া আমার প্রাপ্য।’ আগামী বিশ্বকাপে কোচিং করালেও মেসিসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড়কে না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যা নিয়ে চিন্তিত স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব চালিয়ে যেতে হলে অনেক কিছু প্রয়োজন। সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে, দলটিকেও পুনর্গঠন করতে হবে। এমন একটি দল আবার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। বিষয়টি আমাকে ভেতর থেকে কষ্ট দিচ্ছে।’