আন্তর্জাতিক

১৫ বিলিয়ন ডলারে তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যতের ‘ভাসমান শহর’

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

এমন এক শহরের কথা কল্পনা করুন যা কখনও এক জায়গায় স্থির থাকে না। ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল, পার্ক, শপিং সেন্টার থেকে শুরু করে যার নিজস্ব বিমানবন্দর পর্যন্ত রয়েছে! সাগরে ভাসমান এমন এক অবিশ্বাস্য মহানগরের স্বপ্ন নিয়েই তৈরি হয়েছে ফ্রিডম শিপ প্রজেক্ট। ১ হাজার ২০০ কোটি পাউন্ড বা প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো বিশ্বের প্রথম প্রকৃত ‘সমুদ্র নগরী’ তৈরি করা।

 

১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে প্রকৌশলী নরম্যান নিক্সন প্রথম এই উচ্চাভিলাষী ধারণাটি নিয়ে আসেন। বর্তমানে ফ্রিডম ক্রুজ লাইন ইন্টারন্যাশনাল-এর সিইও রজার গুচের নেতৃত্বে এই প্রকল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এটি নির্মিত হলে তা সামুদ্রিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় সৃষ্টি করবে, যা বর্তমানের যেকোনও বৃহৎ প্রমোদতরিকে অনায়াসে বামন বানিয়ে দেবে।

 

ঐতিহ্যবাহী ক্রুজ লাইনারগুলোর মতো নির্দিষ্ট রুটে চলার পরিবর্তে ফ্রিডম শিপ একটি স্থায়ী সমুদ্রগামী জনপদ হিসেবে কাজ করবে। জাহাজটি প্রতিনিয়ত বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করবে এবং প্রতি দুই থেকে তিন বছরে একবার পুরো পৃথিবী প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করবে। কোনও একক দেশের একচ্ছত্র এখতিয়ারের বাইরে এর বেশির ভাগ সময়ই কাটবে আন্তর্জাতিক জলসীমায়।

 

কোম্পানির সিইও রজার গুচ দ্য টেলিগ্রাফ-কে বলেছেন, আমরা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে এটি আমরা তৈরি করতে পারব, তবে এর জন্য মূল চাবিকাঠি হলো অর্থায়ন।

 

কী কী থাকছে এই দানবীয় জাহাজে?

জাহাজটির দৈর্ঘ্য হবে বর্তমানের সবচেয়ে বড় ক্রুজ শিপগুলোর (১.৮ কিলোমিটার বা ৫ হাজার ৯০০ ফুট) চেয়ে চার গুণেরও বেশি। এটি চওড়ায় হবে প্রায় ২৫০ মিটার (৮০০ ফুট) এবং জলরেখা থেকে ২৫ তলা ভবন সমান উঁচু হবে। এর আনুমানিক গ্রস টনেজ হবে ২৩ লাখ।

 

এই ভাসমান শহরে প্রায় ৫০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা বসবাস করতে পারবেন, যাদের সেবায় থাকবেন ২০ হাজার ক্রু সদস্য। এ ছাড়া যেকোনও সময় ১০ হাজার হোটেল অতিথি সেখানে থাকতে পারবেন এবং উপকূলের কাছাকাছি নোঙর করা অবস্থায় প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী এটি দেখার সুযোগ পাবেন।

 

জাহাজের ভেতরেই থাকবে আবাসিক এলাকা, স্কুল, ব্যাংক, অফিস স্পেস এবং একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা হাসপাতাল। বিশাল এই ডেকের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত যাতায়াতের জন্য থাকবে নিজস্ব দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী এতে থাকবে ১৫ হাজার আসনের একটি স্টেডিয়াম, কনভেনশন সেন্টার, শপিং ডিস্ট্রিক্ট, মিউজিয়াম, সিম্ফনি হল, একটি দোতলা ফুড কোর্ট এবং কয়েক একর আয়তনের চমৎকার ইকো-পার্ক। মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি স্বনির্ভর সমাজ তৈরি করা, যেখানে মানুষ স্থলভাগে না ফিরেই জীবনযাপন, পড়াশোনা ও চাকরি করতে পারবেন।

 

জাহাজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর ছাদের ওপরের রানওয়ে। ছোট আকৃতির উড়োজাহাজ ও ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ওঠানামার জন্য এই রানওয়ে ডিজাইন করা হয়েছে, পাশাপাশি থাকবে আটটি হেলিপ্যাড।

সামনে যত চ্যালেঞ্জ

এই আকর্ষণীয় প্রকল্পের সামনে রয়েছে বিশাল প্রকৌশল ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় একটি জাহাজ সচল রাখতে নজিরবিহীন জ্বালানির প্রয়োজন হবে, যার একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে পারমাণবিক চালিকাশক্তি।

 

আরেকটি বড় সমস্যা হলো এর আকার। ফ্রিডম শিপ এতটাই বিশাল হবে যে বিশ্বের কোনও বিদ্যমান বন্দরেই এটি প্রবেশ করতে পারবে না। তাই এটিকে সব সময় মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে সাগরে নোঙর করে রাখতে হবে। মানুষ ও মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য উচ্চগতির ফেরি এবং ছোট ছোট পরিবহন জাহাজের ওপর নির্ভর করতে হবে।

 

তবে সব মিলিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করার আগেই প্রয়োজন হবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, যা এই প্রজেক্টের সবচেয়ে বড় বাধা। বিগত কয়েক দশক ধরে এই প্রজেক্ট মানুষের কল্পনাকে আচ্ছন্ন করে রাখলেও, একে বাস্তবে রূপ দেওয়া হবে সামুদ্রিক ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল ও কঠিনতম এক পরীক্ষা।

সূত্র: এনডিটিভি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইজা রিবেইরো ভিওত্তি। সংগৃহীত ছবি
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়োগ দেওয়া রাষ্ট্রদূতের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন আটকে রাখা এবং কয়েকজন মার্কিন কূটনীতিকের ভিসা প্রত্যাখ্যান করার জেরে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় ওই কর্মকর্তা আরও জানান, পরিস্থিতির সমাধান হলে রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইজা রিবেইরো ভিওত্তির ভিসা আবারও বহাল করা হবে।   সাধারণত রাষ্ট্রদূত গ্রহণের বিষয়টি একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এখানে একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মানে এই নয় যে, তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এর অর্থ হলো, তিনি এখানে ভিসা ছাড়াই অবস্থান করছেন। যদি আমাদের মনোনীত রাষ্ট্রদূতকে অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা হয়, তবে তার ভিসাও পুনর্বহাল করা হবে।   ভিসা বাতিলের এই ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সরকারের মধ্যে ক্রমেই বাড়তে থাকা দূরত্বের সর্বশেষ নজির। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, লুলার সরকার রক্ষণশীলদের সেন্সর করছে বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটাচ্ছে। অন্যদিকে, লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে রক্ষণশীলদের পক্ষে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ তুলে এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছে ব্রাজিল।   যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ব্রাজিল সরকার।   গত মাসে ব্রাজিল জানিয়েছিল, তারা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রমবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্রাজিলের দাবি, আগামী অক্টোবরের নির্বাচনের আগে দেশটির নির্বাচনি ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই তারা এই সফর করতে চেয়েছিলেন। সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানে বড় অগ্রগতি, জানাল কাতার

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সংগৃহীত ছবি

হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজায় থাকবে ইসরাইলি সেনারা: নেতানিয়াহু

সংগৃহীত ছবি

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত
মান নিয়ে আপত্তি, ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

ভারত থেকে আমদানিকৃত চালের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা ফেরত পাঠানোর ঘটনায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় ১১,৫০০ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চালের একটি সম্পূর্ণ চালান মানসম্মত না হওয়ায় গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   নিয়ম অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর চালের এই চালানটি প্রাথমিক পরীক্ষায় খাওয়ার উপযোগী বলে ছাড়পত্র পেলেও, পরবর্তীতে বিস্তারিত পরীক্ষায় দেখা যায় যে চালের মান নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। ফলে চালানের মাত্র ৩,৫০০ মেট্রিক টন খালাস করার পর বাকি অংশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং পুরো চালানটিই ভারতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।    আন্তর্জাতিক একটি টেন্ডারের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানির স্টক থেকে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে এই চালগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। বাণিজ্য খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগত জটিলতা বা সিদ্ধান্তহীনতার কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: দ্য হিন্দু।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

ছবি: সংগৃহীত

ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসীবাহী নৌকায় আগুন, ১৫৭ জনকে উদ্ধার

যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটে বাড়ছে ইসরায়েলিদের দেশত্যাগ

ছবি : সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে দাবানলে ঘরছাড়া ৬৫ হাজার মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষকে ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। আগুনে ইতোমধ্যে প্রায় ৭০০টি বাড়িঘর পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান রেড ক্রস। খবর আনাদোলুর।   সোমবার সংস্থাটি জানায়, দাবানলের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে স্পোকেন কাউন্টিতে। সেখানে শত শত বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এদিকে, স্পোকেন কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, দাবানল লাগানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি ‘ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার’ নামে পরিচিত বড় একটি আগুনের ঘটনায় জড়িত। দাবানল নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী কাজ করছেন। কিছু এলাকায় আবহাওয়া অনুকূলে আসায় আগুন নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে জরুরি ব্যবস্থাপনা দল। তবে স্পোকেন ও স্টিভেন্স কাউন্টির দাবানল এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। শনিবার শুরু হওয়া এসব আগুনে এরই মধ্যে প্রায় ৮ হাজার একর (৩ হাজার ২০০ হেক্টরের বেশি) এলাকা পুড়ে গেছে। ওয়াশিংটনের অন্য এলাকাতেও বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। বজ্রপাত থেকে শুরু হওয়া সিনলাহেকিন দাবানলে প্রায় ৮৫ হাজার একর এলাকা পুড়ে গেছে। এটি নিয়ন্ত্রণে ৮২০ জনের বেশি কর্মী কাজ করছেন। এ ছাড়া লিটল জায়ান্ট ফায়ার নামে আরেকটি দাবানলে ওকানোগান-ওয়েনাচি জাতীয় বনের ৫১ হাজার একরের বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের খরা, তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ওয়াশিংটনে এবারের দাবানল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি

ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই: সাবেক সেনাপ্রধান জালুঝনি

ছবি : সংগৃহীত

আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

0 Comments