আন্তর্জাতিক

প্রতি বছরই উজ্জ্বল হচ্ছে রাতের আকাশ, হারাচ্ছে অন্ধকার

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

প্রতি রাতে ঘরের আলো নিভিয়ে দিলেও জানালার পর্দা গলে ঘরের ভেতরে এসে পড়ে বাইরের গলিপথ বা পার্কিং লটের কৃত্রিম আলোর তীব্র ঝলকানি। যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড শহরের মতো আধুনিক নগরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ আজ ভুলেই গেছেন সত্যি সত্যি অন্ধকারে ঘুমানোর অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে। রাস্তার বাতি, বারান্দার আলো কিংবা পার্কিং লটের তীব্র আলো প্রতিনিয়ত চারপাশকে এমনভাবে আলোকিত করে রাখছে যে, অন্ধকার রাতের স্বাভাবিক অনুভূতিটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। 

 

সম্প্রতি আমেরিকার সাউথ-ইস্ট ওরেগনের ইন্টারন্যাশনাল ডার্ক স্কাই প্লেস নেটওয়ার্কের অন্তর্ভূক্ত একটি আবাসন অঞ্চলে যাওয়া এক লেখকের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এই চরম বাস্তবতার ছবি। প্রায় আড়াই মিলিয়ন একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত দূষণমুক্ত এই অন্ধকার চত্বরে গিয়ে যেন কয়েক দশক পর মানুষ আবার সত্যিকারের রাতের আকাশের দেখা পাচ্ছে।

 

সেখানে সূর্যাস্তের মাত্র আধা ঘণ্টা পর শুকনো হ্রদের অববাহিকায় খোলা আকাশের নিচে লাল আলো জালিয়ে মানুষ যখন রাতের সৌন্দর্য দেখতে সমবেত হয়, তখন একে একে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে শুক্র গ্রহ, ভেগা নক্ষত্র থেকে শুরু করে মহাকাশে ঘুরতে থাকা একের পর এক কৃত্রিম উপগ্রহ। রাতের আঁধার যত গভীর হয়, আকাশে একে একে ফুটে ওঠে আর্সা মেজর, আর্সা মাইনর, সিগনাস ও ক্যাসিওপিয়ার মতো নক্ষত্রমণ্ডল। আর যখন ছায়াপথের বা মিল্কিওয়ের উজ্জ্বল আলোর রেখা ভেসে ওঠে, তখন পরম নীরবতায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে মানুষ তার নিজের অস্তিত্বের ক্ষুদ্রতা উপলব্ধি করে। কিন্তু এই অপরূপ দৃশ্য আজ ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর বিশ্বের রাতের আকাশ প্রায় ১০ শতাংশ হারে বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই এখন আলো-দূষিত আকাশের নিচে বসবাস করছেন। জাতিসংঘ যদিও পরিচ্ছন্ন বাতাস ও নিরাপদ পানিকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে সুস্থ জীবনের জন্য মানুষের অন্ধকার পাওয়ার অধিকার (রাইট টু ডার্কনেস) রক্ষা করাও এখন সমান জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

অন্ধকার রক্ষা করার এই আহ্বানের অর্থ এই নয় যে শহরের সব রাস্তার আলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিটি গ্যারেজের সামনে এত তীব্র সাদা ফ্ল্যাডলাইটের কি সত্যিই কোনো প্রয়োজন আছে? নিরাপত্তার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু আলো ব্যবহার করা গেলে আর শুধুমাত্র রাতের আকাশ দেখার জন্য শত শত মাইল গাড়ি চালিয়ে নির্জন প্রান্তরে যেতে হতো না। অন্ধকারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন আলোর উত্তাপ, দিক এবং পরিমাণের সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনি প্রয়োগ। অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক আলো ব্যবহারের জায়গায় পরিমিত আলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে মানুষ আবার অন্ধকারের গুরুত্ব অনুধাবন করতে শিখবে। কিছু শহর ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফ্ল্যাগস্টাফ শহর ১৯৫৮ সালেই সর্বপ্রথম বহিরঙ্গণ আলোকসজ্জার ওপর নিয়ম আরোপ করেছিল এবং ২০০১ সালে এটি বিশ্বের প্রথম স্বীকৃত 'ডার্ক স্কাই সিটি' হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সেখানে আলোর পরিমাণ, ধরন এবং তা কোন দিকে প্রতিফলিত হবে তা নির্দিষ্ট নিয়মে সুনিয়ন্ত্রিত।

 

ফ্ল্যাগস্টাফের ধারাবাহিকতায় এখন বিশ্বের বহু শহর ও অঞ্চল নতুন করে ভাবছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য বর্তমানে ডার্ক স্কাইস প্রটেকশন অ্যাক্ট প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করছে, যা কার্যকর হলে কখনো না ঘুমানো বিখ্যাত নিউ ইয়র্ক শহরের বহিরঙ্গণ আলোকসজ্জাতেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ যুক্ত হবে। আলো দূষণ কমানোর জন্য কেবল স্থানভিত্তিক নতুন জোন আইন প্রণয়ন কিংবা গাড়ির হেডলাইটের উজ্জ্বলতা নির্ধারণের মতো সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মই যথেষ্ট হতে পারে। রাতের অন্ধকারের গুরুত্ব কেবল নক্ষত্র দেখার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; অন্ধকার নিজেই প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাসস্থান। কৃত্রিম আলোর অতিপ্রয়োগের ফলে চাঁদের আলো দেখে পথ চলা প্রাণী ও পতঙ্গ চরম বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। ডিম ফুটে বের হওয়া ক্ষুদ্র সামুদ্রিক কচ্ছপ সাগরের দিকে না গিয়ে পার্কিং লটের আলোর দিকে ছুটছে, কিংবা আলোর চারপাশে অনবরত ঘুরতে ঘুরতে প্রদীপপোকার জীবন শেষ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, জোনাকি ও ব্যাঙের মতো প্রাণীর প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্ধকারের প্রয়োজন হলেও তারা সেই পরিবেশ পাচ্ছে না, আবার বড় বড় শহরের তীব্র আলোর কারণে পথ হারিয়ে ফেলছে পরিযায়ী পাখির দল।

 

দিনের আলো ফোটার পরও আলো দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব প্রকৃতির মাঝে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম আলো উদ্ভিদ ও পরাগায়নকারীদের মধ্যকার স্বাভাবিক সম্পর্ক ভেঙে দিচ্ছে, গাছের অসময়ে ফুল ফোটার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং পৃথিবীর সকল জীবকুলের দৈনন্দিন অভ্যন্তরীণ শারীরিক ঘড়ি বা সার্কেডিয়ান রিদম মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। মানুষের ক্ষেত্রেও এই প্রভাব বেশ প্রকট। ঘরের ভেতরের আলো হোক কিংবা জানালার বাইরে থেকে আসা কৃত্রিম আলো, গবেষণায় দেখা গেছে যে সুস্থ থাকা, শারীরিক নিরাময় এবং পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামের জন্য মানুষের পর্যাপ্ত অন্ধকার পরিবেশ অত্যন্ত প্রয়োজন। সাধারণত রাস্তার বাতি, বাণিজ্যিক ভবন, পার্কিং লট এবং রাতভর জ্বালিয়ে রাখা খেলার মাঠ থেকে অধিকাংশ আলো দূষণ ছড়ায়। কিন্তু ইদানীং শুধু মাটি থেকেই নয়, আলো দূষণের বড় এক হুমকি তৈরি হচ্ছে সরাসরি মহাকাশ বা আকাশ থেকেও।

 

এমনকি সংরক্ষিত ডার্ক স্কাই অঞ্চলে দাঁড়িয়ে যখন খোলা চোখে ছায়াপথ দেখা যায়, তখনও কৃত্রিম উপগ্রহের অবিরাম যাতায়াত রাতের আকাশের প্রাকৃতির রূপ নষ্ট করে দেয়। লক্ষ্যভিত্তিক বা সুরক্ষিত আলোর ব্যবহার মাটির আলো দূষণ কিছুটা কমাতে পারলেও মহাকাশে ঘুরতে থাকা স্পেসএক্সের ১১ হাজারের বেশি স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইটের উজ্জ্বলতা কমাতে কোনো কাজে আসছে না। তদুপরি, কিছু প্রতিষ্ঠান মহাকাশে স্যাটেলাইটের সাহায্যে কৃত্রিম সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে পৃথিবীর প্রায় তিন মাইল এলাকা আলোকিত করার মতো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, মহাকাশে পাঠানো এসব বস্তু বা কৃত্রিম উপগ্রহের কারণে পৃথিবীতে জীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়লেও সেগুলোর কোনো পরিবেশগত প্রভাব পর্যালোচনা করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

 

ইতিহাসের শুরু থেকেই নক্ষত্রভরা আকাশ মানুষের ইতিহাস ও সভ্যতার ধারক হয়ে আছে। তারার আলো মানুষকে পথ দেখিয়েছে, মানচিত্র, ক্যালেন্ডার এবং দিকনির্ণয়ের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। অথচ আধুনিক নগরায়নের যুগে রাতের আকাশ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, আর রাতের অন্ধকার দেখার সুযোগটি একটি বিশেষ বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে। 

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতায় উদ্বেগ, নিন্দা সুইজারল্যান্ডের

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জালুদ গ্রামে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার মাত্রা ‘নজিরবিহীন’ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রায় ১০০ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী জালুদ গ্রামে হামলা চালায়। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও চলাচলের ওপর বিধিনিষেধও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছে তারা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলকে অবশ্যই ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।   মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার এমন মাত্রা গ্রহণযোগ্য নয় এবং পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।   সূত্র: আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মোদি-ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা, সামনে এলো যেসব তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

আর্কটিক অভিযান শেষে শাংহাইয়ে ফিরল চীনের দুই গবেষণা জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত

গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫

ছবি: সংগৃহীত
ইরাক থেকে সর্বশেষ সেনাসদস্যও প্রত্যাহার করল ইতালি

ইরাক থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে ইতালি। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ইতালির ১২ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান হলো। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   এর আগে গত মার্চে ইরাক থেকে বেশিরভাগ সেনা ও সামরিক সদস্য প্রত্যাহার করে নেয় রোম। কুর্দিস্তান অঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে রাতভর বিমান হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   ইতালীয় সেনারা ইসলামিক স্টেট বা দায়েশবিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’-এ অংশ নিয়েছিল। পাশাপাশি তারা ন্যাটোর মিশন ইরাকের অধীনেও কাজ করেছে। ন্যাটোর এই মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ পরিচালনা নয়, বরং ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে পরামর্শ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।   ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতালি ও ন্যাটোর সেনারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।   ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকের নিজস্ব নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি ইরাকি কর্তৃপক্ষের হাতে যাওয়ার একটি নতুন পর্যায় শুরু হলো।   তবে ইরাকে ইতালির উপস্থিতি পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইইউএএম ইরাক’ মিশনের অধীনে ইতালির দুই কারাবিনিয়েরি কর্মকর্তা দেশটিতে থাকবেন। ইরাকি সরকারের অনুমোদনেই এই মিশন পরিচালিত হচ্ছে।   সূত্র : আরব নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সেনারা, বিজয় উদযাপন

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় পারমাণবিক সক্ষম বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৬ জনের

ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি পেল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মুসলমানদের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই আইনে স্বাক্ষর করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। খবর আনাদোলু এজেন্সির।   রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭-এর মাধ্যমে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির আনুষ্ঠানিক তালিকায় যুক্ত হয়েছে।   ইসলামি পঞ্জিকার রমজান মাসের রোজা শেষ হওয়ার পর উদযাপিত হয় ঈদুল ফিতর। আর প্রতি বছর পবিত্র হজ পালনের সময় উদযাপিত হয় ঈদুল আজহা।   নতুন আইনের আওতায় স্থানীয় পর্যায়ের বিদ্যমান নিয়ম অনুসরণ করে সরকারি স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলো এই দুই ঈদের দিন বন্ধ রাখতে পারবে। এছাড়া অঙ্গরাজ্য সরকারি কর্মচারীরা এসব ছুটির জন্য ছুটির ক্রেডিটও পেতে পারেন।   আইনে বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মূলত ক্যালেন্ডারভিত্তিক একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে এই দুই উৎসবের সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।   সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তান-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব কেন ক্রমেই জটিল হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

চাপে পড়লেই ট্রাম্পের মিথ্যাচার বাড়ে

সংগৃহীত ছবি

প্রতি বছরই উজ্জ্বল হচ্ছে রাতের আকাশ, হারাচ্ছে অন্ধকার

0 Comments