জয়ের জন্য দলের প্রয়োজন তখন দুই রান, সেঞ্চুরির জন্য ফিন অ্যালেনের দরকার ছক্কা। মুকেশ কুমারের ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারি ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে খেললেন অ্যালেন। বল উড়ে যেতে দেখেই উচ্ছ্বাসে হাত উঁচিয়ে ধরলেন উইকেটে তার সঙ্গী ক্যামেরন গ্রিন। ছক্কা হতেই ডাগআউটে লাফিয়ে উঠলেন রিঙ্কু সিং। অন্য ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফের সদস্যরাও তখন হাততালিতে মুখর। গ্রিন হাসিমুখে জড়িয়ে ধরলেন অ্যালেনকে। তখন পর্যন্ত নির্লিপ্ত অ্যালেন এবার হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে ধরলেন।
এই ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা শেষ হয়ে যায় অনেক আগেই। অ্যালেনের সেঞ্চুরি হয় কি না, সেটি নিয়েই সবার আগ্রহ ছিল বেশি। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছুঁতে পারলেন নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান। তার বিস্ফোরক ইনিংসে বিশাল জয় পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স।
দিল্লি ক্যাপিটালসকে শুক্রবার ৮ উইকেটে হারায় তিনবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। ১৪৩ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় তারা ২৮ বল বাকি থাকতে।
১০ ছক্কা ও ৫ চারে ৪৭ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলে ম্যান অব দা ম্যাচ অ্যালেন।
আইপিএলে তার প্রথম সেঞ্চুরি এটি, আর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম। এর তিনটিই করলেন তিনি এই বছরে। গত জানুয়ারিতে বিগ ব্যাশে ৫৩ বলে ১০১ ও মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইডেন গার্ডেন্সে ৩৩ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন অ্যালেন।
নিউ জিল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক পঞ্জিকাবর্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করলেন অ্যালেন। আইপিএলে শতক করা দেশটির দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। এর আগে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ২০০৮ সালে উদ্বোধনী আসরের প্রথম ম্যাচে কলকাতার হয়ে ও ২০১৫ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে এই স্বাদ পেয়েছিলেন।
ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে কলকাতার ব্যাটসম্যানদের চতুর্থ সেঞ্চুরি এটি। ম্যাককালামের দীর্ঘ সময় পর ২০২৩ আসরে ভেঙ্কাটেশ আইয়ার ও পরের বছর সুনিল নারাইন করেছিলেন শতক।
তবে আগের তিন জনের কেউ অ্যালেনের (৪৭) চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি ছুঁতে পারেননি। ভেঙ্কাটেশ ও নারাইনের লেগেছিল ৪৯ বল, ম্যাককালামের ৫৩।
অ্যালেন তাণ্ডব চালান মূলত দিল্লির স্পিনারদের ওপর। পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে যেখানে তিনি ১৬ বলে করেন ২৭ রান, সেখানে স্পিনের বিপক্ষে ৩১ বলে ৭৩!
এবারের আসরে নিজের আগের ছয় ম্যাচের সবকটিতেই পাওয়ার প্লের মধ্যে আউট হয়েছিলেন অ্যালেন। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল প্রথম ম্যাচের ৩৭, তিনটিতে যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।
এবার দিল্লির আরুন জেটলি স্টেডিয়ামে ‘ইম্প্যাক্ট বদলি’ হিসেবে দলের ইনিংস শুরু করতে নেমে তিনি পাওয়ার প্লে কাটিয়ে দেন ১৭ বলে ২০ রান করে। এরপরই শুরু হয় তার তাণ্ডব। লেগ স্পিনার ভিপরাজ নিগামকে মারেন পরপর চার ও ছক্কা। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদিপ ইয়াদাভের ওভারেও একটি করে চার ও ছক্কা হাঁকান তিনি।
ওই ওভারে একটি সুযোগও দিয়েছিলেন অ্যালেন, কিন্তু কঠিন ছিল বেশ, বল মুঠোয় জমাতে পারেননি ফিল্ডার ট্রিস্টান স্টাবস।
কলকাতার জয়ের জন্য যখন দরকার ৪৮ বলে ৩৯ রান, অ্যালেনও তখন সেঞ্চুরি থেকে ৩৯ রান দূরে। পরের ওভারে নিগামকে টানা তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। কুলদিপকে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে পৌঁছে যান নব্বইয়ের ঘরে।
১৬তম ওভারের প্রথম বলে গ্রিন এক রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন অ্যালেনকে। পরের বলে ৯৪ থেকে ছক্কা মেরে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যান ২৭ বছর বয়সী ওপেনার।
আইপিএলে এর আগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দলের সঙ্গে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ কখনও পাননি অ্যালেন। এবার কলকাতার হয়ে অভিষেক হয় তার। আগের ম্যাচগুলোতে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে না পারলেও এবার তিনিই জয়ের নায়ক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দ্বিতীয় নতুন বল এখনও বেশ তরতাজা। উইকেটে পেসারদের জন্য সহায়তা তো আছেই। দ্বিতীয় দিন সকালে তাই ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ছাড়ছেন না পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মাদ আব্বাস। বাংলাদেশ দলও তাকিয়ে ওই প্রথম ঘণ্টাতেই। মুমিনুল হকের ধারণা, প্রথম ঘণ্টা নিরাপদে কাটিয়ে দিতে পারলে ৫০০ রানও করতে পারে তাদের দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশ তুলেছে ৪ উইকেটে ৩০১ রান। সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, ৯১ রানের ইনিংস খেলেছেন মুমিনুল হক। তাদের দুজনের জুটি ছিল ১৭০ রানের। অথচ টস জিতে বোলিং নিয়েছিল পাকিস্তান। মিরপুরের সবুজ উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপে ছোবল দেবেন পাকিস্তানি পেসাররা, এমন আশাই ছিল অধিনায়ক শান মাসুদের। দুই ওপেনারকে দ্রুত ফিরিয়ে শুরুটাও ভালো ছিল তাদের। কিন্তু দিনের ওই প্রথম ঘণ্টা ছাড়া বাকি সময়টা ছিল কেবলই বাংলাদেশের। সারাদিনে কেবল চারটি উইকেট মিললেও দিনটিকে খুব খারাপ মনে করছেন না মোহাম্মাদ আব্বাস। পাকিস্তানের পেসার কিছুটা দায় দিলেন ভাগ্যকে। আশা নিয়ে তাকিয়ে তিনি দ্বিতীয় দিনের সকালে। আমার মনে হয় না দিনটা হতাশাজনক ছিল। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। হ্যাঁ, কিছু কিছু সময়ে আমরা ভালো বোলিং করতে পারিনি, কিন্তু অন্য সময়ে আমরা সত্যিই খুব ভালো বোলিং করেছি এবং কিছুটা দুর্ভাগা ছিলাম। অনেকবার ‘প্লে অ্যান্ড মিস’ (একটু জন্য ব্যাটের কানায় বল স্পর্শ না করা) হয়েছে দিনজুড়েই। খুব ভালো ক্রিকেটীয় পিচ এটি এবং এবং যেহেতু আমাদের হাতে এখন নতুন বল, আশা করি আগামীকাল ফিরে এসে শুরুতেই উইকেট তুলে নেব এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের ইনিংস শেষ করে দেব। মুমিনুলের চাওয়া স্বাভাবিকভাবেই এর উল্টো। তার আশা, ক্রিজে থাকা ব্যাটসমানরা প্রথম ঘণ্টা নিরাপদে পার করে দিতে পারবে। কালকে সকালের এক ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। উইকেট না হারিয়ে ওই সময়টা পার করতে পারলে ৪০০-৫০০ রান হতে পারে। বল নতুন আছে। উইকেটে এখনও অনেক কিছু হচ্ছে, তাই প্রথম এক ঘণ্টা ভালো খেলাটা জরুরি। বাংলাদেশের বড় ভরসা হয়ে ক্রিজে টিকে আছেন মুশফিকুর রহিম। ৪৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। তার সঙ্গী লিটন কুমার দাস। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই কিপার-ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং গড় ৬১, সেঞ্চুরি করেছেন দুটি।
চোট কাটিয়ে উঠলেও, এখনও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাননি রদ্রি। ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা জানিয়েছেন, এখনও স্বচ্ছন্দে অনুশীলন করতে পারছেন না স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে শনিবার ঘরের মাঠে ব্রেন্টফোর্ডের মুখোমুখি হবে সিটি। গত ১৯ এপ্রিল আর্সেনালের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচের শেষ দিকে রদ্রিকে তুলে নিতে বাধ্য হন গুয়ার্দিওলা। পরে পরীক্ষায় তার কুঁচকিতে চোট ধরা পড়ে। ফলে বার্নলির বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় ও এভারটনের বিপক্ষে ৩-৩ ড্র ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। এই দুই ম্যাচের মাঝে, সাউথ্যাম্পটনের বিপক্ষে এফএ কাপের সেমি-ফাইনালে ২-১ গোলে জেতা ম্যাচেও ২০২৪ সালের ব্যালন দ’র জয়ীকে পায়নি সিটি। লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে আর্সেনালকে চাপে রাখতে সামনের ম্যাচগুলোতে সিটির সামনে জয়ের বিকল্প নেই। তবুও রদ্রিকে নিয়ে তাড়াহুড়া করবেন না গুয়ার্দিওলা। ব্রেন্টফোর্ড ম্যাচের আগের দিন সেটাই বললেন তিনি। “সে (রদ্রি) এখনও পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না। তবে সে দ্রুতই প্রস্তুত হয়ে যাবে এবং পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরবে। আজ (শুক্রবার) বিকাল কিংবা আগামীকাল দেখব তার কী অবস্থা।” ২০২৪ সালে এন্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যাওয়ায় সাত মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল রদ্রিকে। এই মৌসুমেও হাঁটু ও হ্যামস্ট্রিংয়ে একাধিক চোটের শিকার হয়েছেন ২৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। ৩৫ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আর্সেনাল। এক ম্যাচ কম খেলা সিটি ৭১ পয়েন্ট নিয়ে আছে দুইয়ে।
ক্রীড়া সাংবাদিক পিয়ার্স মরগান আবারও বিতর্ক ছড়ালেন লিওনেল মেসিকে নিয়ে মন্তব্য করে। এবার তিনি দাবি করেছেন, মেসি সর্বকালের সেরা তো নন-ই, আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ও নন। নিজের সর্বকালের সেরা ফুটবল একাদশ প্রকাশ করে সেখানে জায়গা দেননি মেসিকে। এরপর সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়লেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন এই ব্রিটিশ সাংবাদিক। এক্সে দেওয়া পোস্টে মরগান লিখেছেন, ‘এটা মোটেও অবাক হওয়ার কিছু নয়। মেসি আর্জেন্টিনারও সেরা খেলোয়াড় নন। আমার সর্বকালের সেরা একাদশ তাকে ছাড়াই পরিপূর্ণ।’ মরগানের এই মন্তব্যে নতুন করে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বের চিরন্তন বিতর্ক। অনেকেই মনে করছেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর প্রতি সমর্থন দেখাতে গিয়ে মেসিকে ছোট করার চেষ্টা করেছেন। তার নির্বাচিত একাদশে জায়গা পেয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, দিয়েগো ম্যারাডোনা, জিনেদিন জিদান, রোনালদিনহো ও রোনালদো নাজারিওদের মতো তারকারা। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার সেরা হিসেবে মেসির বদলে দিয়েগো ম্যারাডোনাকে এগিয়ে রাখার বিষয়টি নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। যদিও ফুটবল বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করে, বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত অর্জনের কারণে লিওনেল মেসি ইতিমধ্যেই ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছেন। তবু, পিয়ার্স মরগানের এই মন্তব্য আবারও উসকে দিল মেসি-রোনালদো বিতর্ককে।