অন্যান্য

১ কেজি ফ্যাট ঝরাতে কতক্ষণ হাঁটতে হবে, জানালেন বিশেষজ্ঞ

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬

প্রতিদিন হাঁটছেন, তবুও ওজন বা ফ্যাট কমার স্পষ্ট ফল পাচ্ছেন না, এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা হাঁটার অভাবে নয়, বরং সঠিক পরিমাণ হাঁটা না হওয়াতেই মূলত ফল মিলছে না। ফ্যাট কমানোর ক্ষেত্রে হাঁটা যে একটি কার্যকর ও টেকসই উপায়, তা আবারও তুলে ধরেছেন ফ্যাট লস বিশেষজ্ঞ আঞ্জলি সচান।

 

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, হাঁটার মাধ্যমে ১ কেজি ফ্যাট ঝরাতে আসলে কতটা সময় ও পরিশ্রম প্রয়োজন।

হাঁটা ও ফ্যাট ঝরানোর বিজ্ঞান

আঞ্জলি সচানের মতে, শরীরের ১ কেজি ফ্যাটের সমান প্রায় ৭ হাজার ৭০০ ক্যালোরি। এই ক্যালোরিগুলো কোনো পানি বা সাময়িক ওজন নয়, বরং শরীরে জমে থাকা প্রকৃত ফ্যাট। তাই ফ্যাট ঝরাতে সময় লাগে। তবে একবার এই ফ্যাট কমলে তা স্থায়ীভাবেই কমে যায় বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, গড়ে প্রতি এক হাজার ধাপে হাঁটলে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ ক্যালোরি খরচ হয়। কারণ হাঁটার সময় শরীরের পেশি কাজ করে, ভারসাম্য বজায় থাকে এবং হৃদস্পন্দন সক্রিয় থাকে। এই হিসাবে কেবল হাঁটার মাধ্যমেই ১ কেজি ফ্যাট ঝরাতে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ধাপ হাঁটতে হয়।

প্রতিদিন কত হাঁটলে ফল মিলবে

শুনতে অনেক মনে হলেও বিষয়টি বাস্তবে সহজ করা যায়। আঞ্জলি সচানের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ যদি প্রতিদিন ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ধাপ হাঁটেন, তাহলে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই ১ কেজি ফ্যাট ঝরানো সম্ভব। তিনি জানান, এই হিসাবের মধ্যে ডায়েট, ব্যায়াম কিংবা শরীরের স্বাভাবিক ক্যালোরি খরচ ধরা হয়নি।

তার মতে, ফ্যাট কমানো কোনো একদিনের ম্যাজিক নয়। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুললেই ধীরে ধীরে স্থায়ী ফ্যাট লস সম্ভব।

কেন হাঁটাই সবচেয়ে কার্যকর

ফিটনেস বিশেষজ্ঞ আঞ্জলি সচান হাঁটার বেশ কয়েকটি উপকারিতার কথা তুলে ধরেন। হাঁটা ক্যালোরি খরচ করে, ধীরে ধীরে ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে এবং ভারী ব্যায়ামের মতো অতিরিক্ত ক্ষুধা তৈরি করে না। পাশাপাশি এটি হরমোন বা মাসিক চক্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না, শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তও করে না। বরং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও হাঁটার ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

আঞ্জলি সচানের মতে, ফ্যাট কমে ছোট ছোট দৈনিক অভ্যাসের মাধ্যমে। প্রতিদিন হাঁটাকে যদি নিয়মিত ক্যালোরি খরচের অংশ হিসেবে দেখা যায়, তাহলে ধীরে হলেও ফল নিশ্চিত।

সবশেষে তিনি বলেন, ফ্যাট কমানো কোনো জাদুর খেলা নয়। নিয়মিত হাঁটা অভ্যাসে পরিণত করলেই সুস্থ ও কার্যকর ফ্যাট লস সম্ভব।

সূত্র : এনডিটিভি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মব নৈরাজ্য নিয়ে ফেসবুক পোস্টে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজের হুঁশিয়ারি

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম উগ্র ডানপন্থী বা ‌‘ফার-রাইট’ গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।   সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘খেলা শেষ, খোদা হাফেজ!’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মাজার, পত্রিকা অফিস ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ফেসবুকে মাহফুজ আলম লিখেছেন, রাইট উইং এক্টর আর কুশীলবদের ফার-রাইট এলেমেন্টস ইউজ করার ভয়ঙ্কর খেলা এখন কোন পর্যায়ে আছে? মব সন্ত্রাস, মাজার, পত্রিকা অফিস ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলায় ওদের মার্সেনারি হিসেবে ব্যবহারের ভেতর দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার করা শেষ। এখন হাত ধুয়ে ফেলবে জাশি-রাইট উইং বলয়!    তিনি আরও বলেন, গত দুই বছর কীভাবে ফার-রাইট এলেমেন্টস কথিত রাইট-উইং কুশীলবদের দ্বারা সৃষ্ট-পুষ্ট হইল, সেকুলার-মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনে জুলাই নিয়ে বীতশ্রদ্ধা তৈরিতে ভূমিকা রাখলো এবং কাদের আশকারায়-‘শরিকানা’য় এসকল ফার-রাইট এলেমেন্টস জুলাইকে একটা ‘ইসলামি’-‘ঐতিহ্যবাদী’-‘পুনর্জাগরণবাদী’ বিপ্লব বানানোর স্বার্থে অনলাইনে-অফলাইনে বেমেসাল মব-নৈরাজ্য চালালো-সেসব আশা করি বিজ্ঞজন বলা শুরু করবেন।   অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আমি গত বছরের শুরু থেকেই এসব ফার-রাইট গুন্ডাতন্ত্র আর ডিজিটাল মবের বিরুদ্ধে বলেছি। সেজন্য কুশীলবদের চক্রান্ত এবং ফুটসোলজারদের দৌরাত্ম্য কম সহ্য করতে হয়নি। সামনের দিনগুলো সবার জন্য Reckoning-এর।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

কারা হেফাজতে ৬১ জনের মৃত্যু, শীর্ষে ঢাকা বিভাগ: আসক

সংগৃহীত ছবি

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ, প্রশাসনকে দায়ী করলেন নাহিদ

ছবি - সংগৃহীত

চলতি সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি

ছবি - সংগৃহীত
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে প্রকৃত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার আহ্বান

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে প্রকৃত অংশীদারিত্বে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা  ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে সাধারণ বন্ধুত্ব থেকে বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সমর্থনের ভিত্তিতে একটি প্রকৃত অংশীদারিত্বে রূপান্তর করার আমি দৃঢ় আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানাই   শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ককাস অব আমেরিকা’ এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।    তিনি বলেন, আমি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং দেশীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছি।   মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে (যার মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অন্তর্ভুক্ত) আমি স্বাগত জানাচ্ছি এবং সেখানে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।   তিনি ককাস অব আমেরিকাকে তাদের কাজের জন্য অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংসদীয় কূটনীতির মূল দায়িত্ব হলো শরণার্থী পরিবার, বন্যাদুর্গত এলাকা এবং কণ্ঠহীন মেহনতি মানুষের মতো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা।   আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও জনগণকে তাদের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার আশা ব্যক্ত করছি।”   ড. মো. ওসমান ফারুক এমপির সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই বিশেষ বার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।    ‘ককাস অব আমেরিকা’-এর কার্যনির্বাহী কমিটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুজন প্রতিনিধি রয়েছেন। তারা হলেন- ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান), এমপি এবং মিস. মারদিয়া মমতাজ, এমপি। এই ককাসে তাদের উপস্থিতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিলেমিশে গঠনমূলক সংসদীয় কূটনীতি পরিচালনা এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার প্রতি জামায়াতে ইসলামীর ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

আজ বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

ছবি : সংগৃহীত

ঢাবি নিয়ে মন্তব্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে ১০০ কোটি টাকার লিগ্যাল নোটিশ

বিএনপির লোগো
তৃণমূলে প্রার্থীরা মাঠে থাকলেও বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে অপেক্ষা, কারণ কী?

বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাষ্যমতে, আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। মন্ত্রী ও কমিশনের এমন সবুজ সংকেতের পর থেকেই সারা দেশে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা জোরদার হয়েছে। অনেকে নিজের ছবিযুক্ত পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেটের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। ঘন ঘন যাতায়াত করছেন নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায়। অনেক জায়গায় সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসকরাও নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন। তবে দলের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষভাবে এখনও কাউকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। কবে নাগাদ এ প্রক্রিয়া শুরু হবে—তা নিয়েও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিচ্ছে না দলের হাইকমান্ড। তবে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্র এ বিষয়ে আরও অপেক্ষা করতে চায়। এক্ষেত্রে তৃণমূলে প্রার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। মূলত, বিজয়ী হওয়ার মতো গণমুখী নেতাদেরই প্রার্থী হিসেবে বাছাই করতে চায় বিএনপি। এ ক্ষেত্রে  নজর রাখা হচ্ছে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী প্রার্থীর দিকেও। বিএনপি সূত্রে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে দলটি তিন পদ্ধতিতে তাদের প্রার্থী নির্বাচন করবে। নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে মাত্র চার মাস। এরই মধ্যে অনেক সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে। অনেক জায়গায় প্রশাসক দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই সময়ে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার মতো ঝুঁকি নেবে কিনা, এমন আলোচনাও চলছে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে সরকারের অবস্থান খোলাসা করেছেন এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ও নির্বাচন কমিশন। গত ১৬ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ফখরুল জানান, সরকার আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। সে অনুযায়ী ইসিকে প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই কথা জানান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, অক্টোবরকে টার্গেট করেই এগোচ্ছে কমিশন। মাঠ পর্যায়ের সব তথ্য কমিশনের হাতে। শিগগিরই রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সংলাপ করে তফসিলের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি। তৃণমূলে ছুটছেন সম্ভাব্যরা এখন পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও সারা দেশেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলীয় হাইকমান্ড ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নিজের ছবিযুক্ত ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টার সাঁটিয়েছেন। একই নির্বাচনি এলাকায় একাধিক প্রার্থী নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিচ্ছেন। যাতায়াত বাড়িয়ে দিচ্ছেন নির্বাচনি এলাকায়। সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদেও একই চিত্র। মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটছেন তৃণমূলে। সেখানে নানাভাবে ভোটার ও প্রার্থীদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি বিএনপির, অপেক্ষা কীসের? নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির চেয়ারম্যানের একজন উপদেষ্টা জানান, তফসিল ঘোষণার আগে তারা প্রার্থী ঘোষণা করবেন না। এছাড়া প্রতিপক্ষের শক্তিশালী প্রার্থী কারা, সেটাও বিবেচনায় রেখে দলটি সামনে এগোতে চায়। ভেতরে ভেতরে তারা প্রার্থী বাছাই করছেন। তিনি জানান, কোনও নির্বাচনি এলাকায় বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকুক তা চায় না দল। তাই কাকে কীভাবে বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা যায়, বর্তমানে সে দায়িত্ব পালন করছে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি টিম। সব কিছু অনুকূলে এলেই প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান। সিটির প্রশাসকরাও পিছিয়ে নেই স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে বড় শাখা সিটি করপোরেশন। তাই এই নির্বাচনের প্রতি নজর সব মহলের। কারা প্রার্থী হচ্ছেন—এ নিয়ে সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনেই একাধিক প্রার্থী তৎপরতা চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরাও। অর্ধ ডজনের বেশি প্রশাসক নিজেদের অবস্থান থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। ইতোমধ্যে ভোটারদের দোয়া চেয়ে ছাপানো তার পোস্টার নগরজুড়ে দৃশ্যমান। এছাড়া নির্বাচনের দৌড়ে আছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও যুবদল নেতা শফিকুল আলম আলম মিল্টন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, রাজশাহী সিটির প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, খুলনা সিটির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানও প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তারাও তৃণমূল এবং হাইকমান্ডে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। আবার সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা না দিলেও দল থেকে কয়েকজনকে কাজ করার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম জানান, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। সেই আলোকেই কাজ করছেন। অপরদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘‘আগামী সিটি নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে চান।’’ বলেন, ‘‘নির্বাচন করার জন্যই তো দিন-রাত পরিশ্রম করছি। প্রশাসক হওয়ার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়েছি।’’ তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করবেন বলে জানান। প্রার্থী বাছাই কোন পদ্ধতিতে? স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিন পদ্ধতিতে প্রার্থী বাছাই করতে চায় বিএনপি। এগুলো হলো—সাংগঠনিক প্রতিবেদন, জনমত জরিপ ও কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন। এ তথ্য জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকালে তিনি বলেন, ‘‘যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিবেদন করা হবে। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রার্থীদের ব্যাপারে নিজেদের মতামত দেবেন। আর এ ক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষেরে মতামত নেওয়া হবে। সর্বশেষ তাদের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক ধরনের মূল্যায়ন থাকবে।’’ নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত জনপ্রিয়, ত্যাগী এবং ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।  

মারিয়া রহমান জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটছে: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

বাল্যবিয়ের করাল গ্রাসে থেমে যাচ্ছে লাখো ছাত্রীর স্বপ্ন

ছবি: সংগৃহীত

এমপি মনির বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালেন ছাত্রদল সভাপতি

0 Comments