বিশ্ব

আন্তর্জাতিক আইনের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ : আইসিসি

আন্তর্জাতিক আইনের ওপর বর্তমান আক্রমণের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলে জানিয়েছেন আদালতটির প্রেসিডেন্ট।   দ্য হেগ থেকে এএফপি জানায়, শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা ও আইনের শাসন যখন গভীর চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।’   গাজায় সামরিক অভিযান পরিচালনার অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র আইসিসিকে ‘ইটের পর ইট খুলে’ ভেঙে ফেলার অঙ্গীকার করেছে।   ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে আইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি পুরো আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুমকি দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।   আকানে তার বিবৃতিতে বলেন, ‘স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এই পুরস্কার তারই তাৎপর্যপূর্ণ স্বীকৃতি।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৯, ২০২৬
নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার মানবাধিকারের গুরুত্বের স্বীকৃতি : জাতিসংঘ

দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বে মানবাধিকারের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি- এ বিষয়টিরই প্রতিফলন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।   পিল্লাই জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রুয়ান্ডার গণহত্যাবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের প্রধানের দায়িত্বও পালন করেন। সর্বজনীন আইনি নীতির প্রতি অঙ্গীকার এবং দৃঢ় নৈতিক অবস্থানের জন্য নোবেল কমিটি তাঁকে এ পুরস্কারে স্বীকৃতি দিয়েছে।   জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র শাবিয়া মানতু বলেন, ‘সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাইকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে দেখে খুব ভালো লাগছে। বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকারের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব যে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এটি তারই প্রমাণ।’   বর্তমান জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বলেন, এই পুরস্কার মানবাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির স্বীকৃতি এবং পুনর্নিশ্চিতকরণ। শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিসহ সবকিছুর জন্যই এসব মৌলিক বিষয়।   তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু পিল্লাই যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করেন, তারই অসাধারণ স্বীকৃতি নয়; বরং ব্যক্তি হিসেবেও তাঁর স্বীকৃতি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিক একজন মানুষ এবং আমার অনেক সহকর্মীর জীবনে গভীর প্রভাব রেখেছেন।’   জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের সব সহকর্মীর পক্ষ থেকে পিল্লাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে টুর্ক বলেন, ‘নাভি, আপনাকে জানাই উষ্ণ অভিনন্দন এবং জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ইস্তাম্বুলে ভবন ধসে শিশুসহ নিহত ৫

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে একটি ভবনের নিচের কয়েকটি তলা ধসে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজনই শিশু। শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।   নগর কর্তৃপক্ষের কার্যালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   নগর কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে উদ্ধার অভিযান চলার পর স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সর্বশেষ নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে।   পাঁচ ও ১০ বছর বয়সী দুই কন্যা এবং ১২ বছর বয়সী এক কিশোরসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।    ভবনটির নিচের তিনটি তলা ধসে পড়ে। তবে উপরের চারটি তলা ধ্বংসস্তূপের উপর ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।   ইস্তাম্বুলের উপমেয়র নুরি আসলান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভবনটি ১৯৮৭ সালে নির্মিত হয়েছিল। সে সময়ের নির্মাণবিধি অনুযায়ী এর বেসমেন্ট, নিচতলা এবং প্রথম ও দ্বিতীয় তলা তৈরি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে উপরের তলাগুলো নির্মাণ করা হয়।’   দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে বসবাসকারী ৫৫ জনকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   তুরস্কের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবনটির নিচতলায় অবস্থিত একটি দোকানের ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, গত এপ্রিল থেকেই তিনি ভবনটির কাঠামোয় ফাটল দেখতে পেয়েছিলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ বা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর কারণে ইস্তাম্বুলে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।   এর আগে গত আগস্টে শহরটিতে একটি খালি ভবন ধসে পড়েছিল। তবে ওই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৯, ২০২৬
অ্যান কারসনের নোবেলজয় কানাডার জন্য গর্বের মুহূর্ত : প্রধানমন্ত্রী কার্নি

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ায় কানাডীয় কবি অ্যান কারসনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি এ অর্জনকে কানাডার জন্য ‘গর্বের মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কার্নি বলেন, ৭৬ বছর বয়সী কারসনের সাহিত্যকর্মে রয়েছে ‘বুদ্ধিদীপ্ত রসবোধ, কল্পনাশক্তি এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব এক লেখনশৈলী’।   তিনি আরো বলেন, ‘তিনি প্রাচীন কালের গল্পগুলোকে নতুন প্রজন্মের পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং সাহিত্যকে দেখার ও বোঝার আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছেন।’   এ অর্জনকে ‘অসাধারণ সাফল্য এবং কানাডার জন্য গর্বের মুহূর্ত’ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।   এএফপি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে কানাডার প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক মার্গারেট অ্যাটউড বলেন, বিভিন্ন দেশের কবিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কারসনের সাহিত্যকর্ম সমাদৃত হয়ে আসছে।   নতুন পাঠকদের জন্য কারসনের ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড’ বইটি পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন অ্যাটউড। তাঁর মতে, বইটি সরাসরি ও আবেগঘন ভাষায় লেখা; এতে রয়েছে রসবোধ, ক্ষোভ ও বিষণ্নতার মিশেল। এ ছাড়া তিনি ‘মেন ইন দ্য অফ আওয়ার্স’ বইটির কথাও উল্লেখ করেন।   দীর্ঘদিন ধরে নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত অ্যাটউড ২০১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পাননি। সে বছর পুরস্কারটি পেয়েছিলেন তাঁরই স্বদেশি কানাডীয় লেখক অ্যালিস মুনরো।   প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সাহিত্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত কারসন কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।   ১৯৮৮ সালে তিনি ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ল্যাসিকস বিভাগে যোগ দেন এবং ২০০২ সালে সেখান থেকে চলে যান।   ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন লিসা শাপিরোকে উদ্ধৃত করে বিশ্ববিদ্যালয়টির সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ম্যাকগিল রিপোর্টার’ জানায়, কারসনের নোবেলপ্রাপ্তি অত্যন্ত যথার্থ সম্মাননা।   শাপিরো বলেন, ‘অতীতের সাহিত্যিক কণ্ঠস্বরকে বর্তমানের সঙ্গে সংলাপে যুক্ত করে অ্যান কারসন বিশ্বজুড়ে পাঠকদের মুগ্ধ করেছেন। এটি তাঁর প্রাপ্য এক অসাধারণ সম্মান।’   তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর অসাধারণ প্রতিভা, স্বকীয়তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা সমকালীন সাহিত্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে। বহু বছর ধরে ম্যাকগিল তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল বলে আমরা গর্বিত। বিশ্বমঞ্চে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিতে আমরা আনন্দিত।’   মন্ট্রিলে বিশ্ববিদ্যালয়টির বাইরে কারসনের নোবেলপ্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ২৪ বছর বয়সী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ভিকি হুয়াং।   তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমার বন্ধুরা এবং আমি তাঁর ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ বইটি খুব পছন্দ করি। তাই এ খবর আমাদের জন্য ভীষণ আনন্দের।’   তিনি আরও বলেন, ‘তিনি একজন কানাডীয় নারী এবং উচ্চাঙ্গ সাহিত্যে কাজ করছেন— এ বিষয়টি আমাদের সবাইকে সত্যিই গর্বিত করে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৯, ২০২৬
মিশরের সেনাবাহিনীর ট্যাংক। ফাইল ছবি: এএফপি
মিসর-ইউএই-কুয়েতকে ২০০ কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র বিক্রি

মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে ২০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন অস্ত্রব্যবস্থা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এ বিষয়ে অবহিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।     শুক্রবার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দফতর জানায়, কুয়েত তাদের পরিচালিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরামত সেবা ও যন্ত্রাংশ কিনবে, যার আনুমানিক মূল্য ৪০ কোটি ডলার।     পররাষ্ট্র দফতর মিসরের কাছে ২ হাজারের বেশি এফজিএম-১৪৮ জ্যাভেলিন ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং সর্বোচ্চ ২০০টি জ্যাভেলিন লঞ্চ ইউনিট বিক্রির অনুমোদনও দিয়েছে। এর সঙ্গে থাকবে সিমুলেশন রাউন্ড, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ ও মার্কিন সরকারের প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ সহায়ক সরঞ্জাম। এই বিক্রির আনুমানিক ব্যয় ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার।     তীব্র হচ্ছে সৌদি-হুথি যুদ্ধ, জড়াচ্ছে সিরিয়া-তুরস্ক-পাকিস্তানতীব্র হচ্ছে সৌদি-হুথি যুদ্ধ, জড়াচ্ছে সিরিয়া-তুরস্ক-পাকিস্তান     তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রয়ের অনুমোদন পেয়েছে ইউএই। দেশটি সর্বোচ্চ ১০ হাজার অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম-২ (এপিকেডব্লিউএস-২) কিনতে পারবে, যার আনুমানিক মূল্য ১ বিলিয়ন ৪ কোটি ডলার। লেজার-নির্দেশিত এই কিট আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার জন্য ব্যবহার করা যায়।       এপিকেডব্লিউএস-২ কিটের মাধ্যমে রকেটকে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তর করা যায়। এগুলো আক্রমণাত্মক হামলায় ব্যবহৃত হয়। তবে আকাশ থেকে আকাশে ব্যবহারযোগ্য সংস্করণ শত্রুর ড্রোন ভূপাতিত করার কম খরচের উপায় হিসেবেও কাজে লাগে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের জেরে ইরান থেকে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে ইউএই। আকাশ থেকে ভূমিতে ব্যবহারযোগ্য সংস্করণ দিয়ে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো যায়।     শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র এসব অস্ত্র বিক্রির কথা ঘোষণা করে। পররাষ্ট্র দফতর বিবৃতিতে বলেছে, এই সরঞ্জাম ও সহায়তা বিক্রির প্রস্তাব অঞ্চলের মৌলিক সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনবে না।       ফরেন মিলিটারি সেলস (এফএমএস) বলতে অন্য দেশের সার্বভৌম তহবিল দিয়ে মার্কিন অস্ত্রব্যবস্থা কেনা বোঝায়। মিসর ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিংয়ের (এফএমএফ) আওতায়ও প্রায় ১৩০ কোটি ডলার পায়, যা কায়রোর পক্ষে মার্কিন করদাতাদের অর্থে অস্ত্র কেনা। ইসরায়েলের সঙ্গে মিসরের চার দশকের পুরোনো শান্তিচুক্তি থেকেই এই ব্যবস্থার সূচনা।     ৭ অক্টোবরের পর যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিয়েছে ইসরায়েল৭ অক্টোবরের পর যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিয়েছে ইসরায়েল এফএমএফের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ইসরায়েল, দেশটি বছরে ৩৩০ কোটি ডলার পায়। ইসরায়েলকে দেওয়া সব সামরিক সহায়তা এ হিসাবে ধরা হয়নি। পৃথক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, তিনটি বিক্রিই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যকে সমর্থন করে। দেশগুলোকে তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শক্তি বলেও উল্লেখ করেছে।     পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, জ্যাভেলিন বিক্রির জন্য মিসরে মার্কিন ঠিকাদার বা কর্মী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না। ইউক্রেন রুশ ট্যাংকের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। একইভাবে, এই বিক্রির ফলে ইউএইতে স্থায়ীভাবে বাড়তি মার্কিন কর্মী নিয়োগ করা হবে না।     তবে পররাষ্ট্র দফতর জানায়, প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির সেবায় পরিচালনা ও নথিপত্র-সংক্রান্ত সহায়তা দিতে অতিরিক্ত পাঁচ জন মার্কিন ঠিকাদার প্রতিনিধি দুই বছরের জন্য কুয়েতে যাবেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের তীব্র হামলার মুখে পড়ার সময় এই নিয়োগ আসছে। কুয়েত ছিল অঞ্চলের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৯, ২০২৬
কারাকাসের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
কারাগারে অসুস্থ মাদুরোর স্ত্রী, আদালতে গৃহবন্দিত্বের আবেদন

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আদালতে হাজির হচ্ছেন। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখার দাবি জানাবেন আইনজীবীরা।     বৃহস্পতিবার তার নিউইয়র্কের আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।       এ বছরের শুরুতে এক গভীর রাতে কারাকাসের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সেই থেকে তারা নিউইয়র্কের কারাগারে রয়েছেন।     যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় বছর আগে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে মাদুরো ও সিলিয়াকে। আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন তারা। অপরাধ প্রমাণ হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।     মাদুরো-সিলিয়ার আইনজীবীরা মামলা খারিজের আবেদন জানিয়ে আদালতে বলেন, একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও ফার্স্ট লেডি হিসেবে তাদের কূটনৈতিক সুরক্ষার অধিকার রয়েছে।     ৬৯ বছর বয়সী সিলিয়া ফ্লোরেসের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। কারাগারে তার উপযুক্ত চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাই নিউইয়র্কের একটি বাসভবনে তাকে গৃহবন্দী হিসেবে থাকার অনুমতি দেওয়া হোক।       আইনজীবীরা জানান, মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় দেওয়াল বা ড্রয়ারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আঘাত পেয়েছেন সিলিয়া। ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী থাকা অবস্থায় তার ১১ কেজি ওজন কমে গেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার হৃদ্‌যন্ত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া তার মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে। গত জুলাইয়ে তার একটি মৃদু হার্ট অ্যাটাকও হয়।     তবে সরকারি আইনজীবীরা এই জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে তারা উল্লেখ করেন, সিলিয়া ফ্লোরেসকে মুক্তি দেওয়া হলে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং তিনি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারেন। প্রয়োজনে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তারা।     ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে ধরার অভিযানকে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে মাদুরো বলেছেন, তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে।     ২০১৩ সাল থেকে এ বছরের শুরুতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাদুরো।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৯, ২০২৬
পাকিস্তানি বাহিনী। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
বাহরাইনের নিরাপত্তা বাহিনীতে ১,৮৫০ পাকিস্তানি নিয়োগ

বাহরাইন পাকিস্তান থেকে ১ হাজার ৮৫০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার।     বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তান-বাহরাইন যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের কমিশনের তৃতীয় অধিবেশনে এ তথ্য জানান তিনি। বৈঠকে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানিও উপস্থিত ছিলেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।     বাহরাইনের ন্যাশনাল গার্ডে পাকিস্তান থেকে ১ হাজার ৮০০ সেনাসদস্য নিয়োগের জন্য বাহরাইনকে ধন্যবাদ জানান দার। তাদের মধ্যে ৩০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন বলেও জানান তিনি।     দার বলেন, পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মীরা বাহরাইনে ভালো কাজ করবেন এবং তাদের শৃঙ্খলাবোধের প্রশংসা করেন তিনি।       এ ছাড়া গত ২৪ জুন পাকিস্তান কোস্ট গার্ড ও বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির আওতায় আরও ১৩ কর্মকর্তা ও ৩৭ সেনাসদস্য বাহরাইনের কোস্ট গার্ডে যোগ দিয়েছেন বলে জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।     মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়েও আলোচনা   বৈঠকে দার ও আল জায়ানি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়েও আলোচনা করেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যকার সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্ব দেন।   আগামী বছর পাকিস্তান ও বাহরাইনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি হবে। একই সঙ্গে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৯, ২০২৬
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
হুতিদের বিরুদ্ধে সেনা পাঠাবে না তুরস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনা পাঠাবে না তুরস্ক। বৃহস্পতিবার এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।     হাকান ফিদান বলেন, এটি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি। এর মানে হলো, কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে তাদের প্রতিরক্ষায় সাহায্য করা। এটি কোনো আক্রমণাত্মক চুক্তি নয়। তাই অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ডে আক্রমণ চালানোর জন্য তুরস্ক নিজের সেনা পাঠাবে না।     প্রতিরক্ষার জন্য ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা মূল্যায়ন করতে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সামরিক প্রতিনিধিদল একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানান ফিদান। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি।     সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করতে তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে রিয়াদের সঙ্গে মিলে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর ব্যাপারে আঙ্কারা প্রথম থেকেই সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।       বর্তমানে ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান সমর্থিত হুতিরা। যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডার অ্যান কারসন

চলতি বছর (২০২৬) সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন কানাডার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও কবি অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডিশ অ্যাকাডেমি নতুন লরেট বা বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে আধুনিক রূপে নতুন ও অনন্য প্রকাশভঙ্গিতে তুলে ধরার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।     নোবেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, যখন অ্যান কারসনকে সাহিত্যের সবচেয়ে বড় এই পুরস্কার অর্জনের খবর জানাতে ফোন করা হয়, তখন তিনি নিজ রান্নাঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। ৭৬ বছর বয়সী এই সাহিত্যিক বর্তমানে আইসল্যান্ডে বসবাস করছেন এবং ২০০৮ সালে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন।     আইসল্যান্ডের পাবলিক ব্রডকাস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নোবেল কমিটি একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি। পরবর্তীতে স্বামীর কথায় তিনি কলব্যাক করলে জীবনের অন্যতম সেরা এই সংবাদটি জানতে পারেন। উল্লেখ্য, তিনি ২০২৪ সালে জানিয়েছিলেন যে তিনি স্মৃতিভ্রম রোগে ভুগছেন।       ১৯৫০ সালে কানাডার টরেন্টোতে জন্ম নেওয়া অ্যান কারসন ১৯৮১ সালে ক্লাসিকসের ওপর তার ডক্টরিয়াল থিসিস প্রকাশ করেন। তার সাহিত্যকর্মে শব্দের নিখুঁত গভীরতা এবং প্রাচীন গ্রিকের সঙ্গে আধুনিক ভাষার এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়।     অনুবাদ ও পুনর্নির্মাণ: প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের বিভিন্ন বইয়ের তার করা অনুবাদগুলো একেকটি স্বতন্ত্র শিল্পকর্ম হিসেবে সমাদৃত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাপফোর অসমাপ্ত কবিতার বই ‘ইফ নট, উইন্টার’ (২০০২) এবং ইউরিপিডিসের নাটক ‘বাক্খাই’ (২০১৫)।     বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ: ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত তাঁর সংকলন ‘গ্লাস আয়রনি অ্যান্ড গডের’ অন্তর্গত ‘দ্য গ্লাস অ্যাসে’ এবং ১৯৯৮ সালের পদ্যে লেখা উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড : এ নোবেল ইন ভার্স’ তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়।     নতুন ধারার সৃষ্টি: লেখার গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে তিনি ২২টি ছোট পুস্তিকার সংকলন ‘ফ্লোট’ (২০১৬) এবং মঞ্চে উপস্থাপনা উপযোগী ভিন্ন ধারার টেক্সট সংকলন ‘রং নর্মা’ (২০২৪) সৃষ্টি করেছেন। এছাড়াও অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গে যৌথ কাজের মাধ্যমে তিনি বৈশ্বিক সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছেন।   ১৯০১ সাল থেকে শুরু হওয়া নোবেল  ১১৮তম বারের মতো সাহিত্যে এই পুরস্কার প্রদান করা হলো। এ পর্যন্ত মোট ১২২ জন সাহিত্যিক নোবেল লাভ করেছেন, যার মধ্যে ১৮ জন নারী।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে হুথি হামলা, রিয়াদ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে আগুন

ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে হামলা আরও জোরদার করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়ার একটি উড়োজাহাজে হামলার শিকার হয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় চলতি সপ্তাহে সৌদির বিমানবন্দরগুলোতে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে।     রয়টার্সকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা সৌদিয়ার একটি উড়োজাহাজে হামলা বা তা প্রতিহত করার সময় ছুটে আসা ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানে। এরপর উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।       তাদের ধারণা, ওই সময় উড়োজাহাজটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না। তবে ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি-না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা ওঠার ভিডিও যাচাই করেছে রয়টার্স।   সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সৌদিয়া এয়ারলাইনস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।     এদিকে হুথিরা রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দাবি করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে কর্মীদের এসব স্থাপনা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে তারা।       সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিহত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ রিয়াদের একটি কিন্ডারগার্টেন ও চিকিৎসাকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে।     হুথিরা বলছে, ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর প্রতি সৌদি আরবের সমর্থনের কারণেই তারা দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জাতিসংঘ-স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখলের অভিযানে সহায়তা করছে।       বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৩টা পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে আরও ৩১টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কথা রয়েছে।     ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যেও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহু ফ্লাইটের বিলম্ব ও বাতিলের তথ্য পাওয়া গেছে। ভ্রমণকারীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করতে বলেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। হুথিদের হামলার পর লুফথানসা ও এয়ার ইন্ডিয়াও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে।     এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন যুদ্ধরত জোট জানিয়েছে, হুথিদের রিয়াদমুখী দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং খামিস মুশাইত শহরের দিকে ছোড়া আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৯, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নয়, জানালেন ট্রাম্প

আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।     বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আমরা কোনো সময়ই ইরানে হামলা চালাব না।’       চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরে কংগ্রেসের নির্বাচনে আইনসভায় নিজেদের সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চাওয়া রিপাবলিকানদের জন্যও এটি বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।     সম্প্রতি রয়টার্স-ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তার পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। এদিকে সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, এমন সময়ে যখন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ জীবনযাত্রার ব্যয়।       ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা জানাননি।       এদিকে যুদ্ধ বন্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।       ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না এবং নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও হস্তান্তর করবে না।        এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ‘অর্থবহভাবে’ কমাতে হবে।       যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।   সূত্র: রয়টার্স 

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এসআইআর আন্দোলন: দিল্লিতে ২৩ হাজার আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন

ভারতে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণকে (এসআইআর) কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।     আগামী ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানীতে ২২১ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ২৩ হাজার সদস্য থাকবেন বলে জানা গেছে।       জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড় থেকে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের দিল্লিতে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি দিল্লি পুলিশও বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করছে।       এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। তিনি আগে থেকেই জেড প্লাস নিরাপত্তা পেতেন। নতুন করে তার বাসভবন ও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।     বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের একাংশের সমর্থন পেয়েছে। অভিনেতা প্রকাশ রাজ, ইউটিউবার ও অধিকারকর্মী ধ্রুব রাঠিসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।     বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে আয়োজিত সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সেখানে প্রকাশ রাজ ও ধ্রুব রাঠিও বক্তব্য দেন।     ধ্রুব রাঠি ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। তিনি বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের তথ্য তুলে ধরে জীবিত ব্যক্তিদের মৃত বা অনুপস্থিত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি ‘ভোট চোর’ বললে সমবেত জনতা ‘গদি ছোড়’ স্লোগান দেন।     ধ্রুব রাঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান। প্রকাশ রাজও বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণের কারণে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।     বেঙ্গালুরুর সমাবেশ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানানো হয়।       এদিকে বিরোধী দলগুলোর নেতারাও টানা কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে বিক্ষোভ করছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধীসহ বিরোধী দলের একাধিক নেতা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে।       বৃহস্পতিবারও দিল্লিতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। রাজঘাটে জমায়েত ঠেকাতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে দিল্লি পুলিশ।     তৃতীয় দিনের বিক্ষোভ আটকাল পুলিশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে বিরোধী জোট। মঙ্গলবার সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিল, বুধবার যন্তর মন্তরের দিকে অভিযান এবং বৃহস্পতিবার রাজঘাট অভিমুখে যাত্রা করেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা।     বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজের পর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধীসহ বিরোধী সাংসদরা বাসে করে রাজঘাটের দিকে রওনা হন। রাজঘাটের কাছে পৌঁছানোর আগেই ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। পরে সেখানে কয়েকজন বিরোধী নেতা ও কর্মীকে আটক করা হয়।     আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন বিশিষ্ট নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীর সমর্থনের কথাও সামনে এসেছে। লেখিকা অরুন্ধতী রায় সম্প্রতি আন্দোলনটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া শিক্ষাবিদ জয়তী ঘোষ, তনিকা সরকার, নিবেদিতা মেনন, অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজ, চলচ্চিত্র নির্মাতা সঞ্জয় কাক, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ও রত্না পাঠক শাহসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আন্দোলনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।     লাদাখের পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকও আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন।     বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে ভোটার তালিকা, ভোটাধিকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করছে।     আগামী ১০ অক্টোবরের ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৭ অক্টোবর হামলা: আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন নেতানিয়াহু?

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি মাসের শেষ দিকে পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবরে হামাসের হামলা মোকাবিলায় অবহেলা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনছেন বিরোধী নেতারা।     তারা বলছেন, রাজনৈতিক ফায়দার জন্য নেতানিয়াহু এ হামলাটি সংগঠিত হতে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ইসরাইলেরই একটি গণমাধ্যম এ বিতর্কে ঘি ঢেলেছে।        হামলার কয়েক মাস আগে থেকেই গাজা সীমান্তের বিভিন্ন ঘাঁটিতে নজরদারির দায়িত্বে থাকা তরুণ নারী সেনাসদস্যরা সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিয়ে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন। তাদের একজন ছিলেন রনি এশেল।        ৭ অক্টোবর কফার আজার কাছে নাহাল ওজ সামরিক ঘাঁটিতে সশস্ত্র হামলাকারীরা হামলা চালায়। ওই হামলায় তিনি ও তার ইউনিটের আরও ১৪ জন নিহত হন।     রনির চাচা এলাদ লেভি বিবিসিকে বলেন, ‘অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার। মিশরীয়রা কি প্রধানমন্ত্রীকে (নেতানিয়াহু) সতর্ক করেছিল? সংযুক্ত আরব আমিরাত কি কোনো সতর্কবার্তা দিয়েছিল? নেতানিয়াহু কি আরও কোনো সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন? আমাদের জানতে হবে আসলে কী ঘটেছিল। শুধু হামলার দিন নয়, তার এক বছর আগে, এমনকি পাঁচ বছর আগেও কী ঘটেছিল, সেটাও জানতে হবে।’     গত মাসে ইসরাইলের সংবাদপত্র হারেৎজ এক নতুন বইয়ের কিছু অংশ প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, হামলার ১০ দিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতা নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলেন। হামাস বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে বলে তাকে সতর্ক করেছিলেন তিনি। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও জানিয়েছে।        মিসরের পক্ষ থেকেও নেতানিয়াহুকে হামলার বিষয়ে জানানো হয়েছিল বলে খবর এসেছে। অভিযোগ আছে, কট্টর ডানপন্থাকে চাঙ্গা করা এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের উদ্দেশে তিনি এ ঘটনাটি হতে দিয়েছিলেন। বিশ্বের সামনে গণহত্যার পরও গাজায় রয়ে গেছেন ফিলিস্তিনিরা।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ডব্লিউএইচও’র প্রধান পদে প্রার্থী ঘোষণা চীনের

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান পদে বৃহস্পতিবার একজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে চীন। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এ পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংস্থাটিতে বেইজিংয়ের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।   চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বেইজিং মাতৃস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সং লিকে ডব্লিউএইচও’র শীর্ষ পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।   বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   তিনি বলেন, এই মনোনয়ন ‘বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি চীনের দৃঢ় সমর্থনের প্রমাণ। এটি ‘সমগ্র মানবজাতির স্বাস্থ্য ও কল্যাণ উন্নয়নে সংস্থাটিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে সহায়তা করবে।’   বর্তমান মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিসুসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন সং লি। টেড্রোসের মেয়াদ ২০২৭ সালের আগস্টে শেষ হবে। দুই মেয়াদের সীমা থাকায় টেড্রোস আর প্রার্থী হতে পারবেন না।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সং লি চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের নারী ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান। তার কর্মজীবন ২১ বছরের।   নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন প্রণয়নের কাজে তিনি অংশ নিয়েছেন বা নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রসবপূর্ব রোগ নির্ণয় এবং সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি-সংক্রান্ত আইনও রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারিতে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রকে ডব্লিউএইচও থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এর পর সংস্থাটিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে বেইজিংয়ের জন্য এই মনোনয়ন একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নাইজেরিয়ায় পৃথক হামলায় শতাধিক নিহত, প্রাণ গেছে সেনাদেরও

নাইজেরিয়ায় পৃথক দুটি হামলায় ইসলামপন্থি যোদ্ধা, সেনাসদস্য ও স্বর্ণখনির শ্রমিকসহ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নো রাজ্যে সেনা অবস্থানে হামলা চালানো ইসলামিক স্টেট-ঘনিষ্ঠ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ২৫ জনের বেশি নিহত হয়েছে। এ সময় কয়েকজন সেনাসদস্যও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সামরিক সূত্র। তবে সেনাবাহিনীর হতাহতের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।   বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপর ঘটনায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীদের হামলায় ২৫ জনের বেশি সেনা এবং শতাধিক ক্ষুদ্র পরিসরের স্বর্ণখনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সামরিক সূত্র, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।   নাইজেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক অভিযানের পরও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হুমকি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সেখানে সক্রিয় রয়েছে সশস্ত্র দস্যু ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠী। আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় নাইজেরিয়ার নির্বাচনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুকাওয়া এলাকায় সেনাবাহিনীর ১০১ বিশেষ বাহিনী ব্যাটালিয়নের অবস্থানে চারদিক থেকে হামলা চালানো হয়। এলাকাটি লেক চাদের কাছে অবস্থিত। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিমান সহায়তা নিয়ে পাল্টা অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করা হয়।   অপারেশন হাদিন কাইয়ের ভারপ্রাপ্ত সামরিক তথ্য কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ গনি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২৫ জনের বেশি ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী অভিযানে ছয়টি একে-৪৭ রাইফেল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানায় সেনাবাহিনী।   সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংঘর্ষে কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে তাঁদের সঠিক সংখ্যা জানানো হয়নি। সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করা বেসামরিক যৌথ টাস্কফোর্সের এক সদস্য জানান, তাদের সংগঠনেরও তিনজনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন।   সেনাবাহিনী বলেছে, হামলাকারীরা যাতে পুনরায় সংগঠিত হয়ে নতুন হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।   অন্যদিকে জামফারা রাজ্যের হামলাটি দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির নতুন করে অবনতির চিত্র তুলে ধরেছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র দস্যুদের তৎপরতা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতিও ওই অঞ্চলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।   নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারামের বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সংগঠনটির একটি শাখা ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সও ওই অঞ্চলে সক্রিয়। সামরিক অভিযানের পরও তাদের হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
‘ভোট চুরি’র অভিযোগে বেঙ্গালুরু ও দিল্লিতে বিক্ষোভ, যোগ দিচ্ছেন ধ্রুব রাঠী-প্রকাশ রাজ

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠী এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজ ‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে বেঙ্গালুরু ও দিল্লিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দেবেন। গতকাল বুধবার ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে তরুণদের এ দলটি। ভিডিওটিতে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে ধ্রুব রাঠী ও প্রকাশ রাজকে দেখা গেছে।    অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেছেন, বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ‘আমাদের ভোট বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ (সেভ আওয়ার ভোটস, সেভ ডেমোক্রেসি) স্লোগানের অধীনে আয়োজিত বিক্ষোভে রাঠী এবং রাজ অংশগ্রহণ করবেন।   স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর মাধ্যমে ব্যাপক পরিসরে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং নাগরিকদের একটি জোট। সে জোটের অধীনেই আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বৃহত্তর সমাবেশেও এই দুজনের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।   বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভগুলো আবর্তিত। তারা এসআইআর-কেন্দ্রিক কার্যক্রমকে ‘ভোট চুরি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আয়োজকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন।   আজ বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে সমাজকর্মী ও নাগরিকদের ফ্রিডম পার্কে একত্রিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর ১০ অক্টোবর দিল্লির বিক্ষোভটিকে আয়োজকরা ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ৭৮ দেশের সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠক

২০২৭ সালের হজকে সামনে রেখে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর আগেই প্রস্তুতি, পরিচালন পরিকল্পনা ও সেবার বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করতেই প্রস্তুতি নিচ্ছে রিয়াদ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্বের ৭৮ দেশের হজবিষয়ক অফিসের সঙ্গে ধারাবাহিক প্রস্তুতি বৈঠক করেছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।     সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, বৈঠকগুলোতে হজের প্রস্তুতির বিভিন্ন ধাপের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদিত সময়সূচি বাস্তবায়ন, হজ প্যাকেজের প্রক্রিয়া এবং অনুমোদিত সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়। হজযাত্রীদের আবাসন, পরিবহন, খাবার সরবরাহ ও ভিড় ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।     এ ছাড়া হজযাত্রীদের সচেতনতা ও দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচি এবং হজ পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়মকানুন নিয়েও আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।     সৌদি হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের হজবিষয়ক অফিসগুলোর প্রস্তুতি ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা আগেভাগেই শনাক্ত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।      একই সঙ্গে প্রতিটি ধাপের জন্য দায়িত্ব ও সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের হজের প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হয় গত মে মাসে।     ওই সময় বিভিন্ন দেশের হজবিষয়ক অফিসে প্রস্তুতিসংক্রান্ত নথি ও পরিচালন সূচি পাঠানো হয়। একইসঙ্গে আগের হজ মৌসুমের কার্যক্রমেরও ব্যাপক মূল্যায়ন করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, আগাম ও সমন্বিত পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো হজযাত্রীদের জন্য আরো সুশৃঙ্খল, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা। সৌদি ভিশন ২০৩০-এর আওতায় পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রামের লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেও এ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।     এসপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হজের বিভিন্ন কার্যক্রমের আগাম সমন্বয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর হজবিষয়ক অফিস, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও সৌদি কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার করা হচ্ছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
একটি সামরিক ড্রোন। ফাইল ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
ইউক্রেনকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে ১৩৮ কোটি ডলার দিল ইইউ

ইউক্রেনকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১২৪ কোটি ইউরো বা প্রায় ১৩৮ কোটি ডলার দিয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) ইউরোপীয় কমিশন এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউর ৯ হাজার কোটি ইউরোর ‘ইউক্রেন সাপোর্ট লোন’-এর প্রতিরক্ষা খাত থেকে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি ড্রোন, ড্রোন প্রতিরোধে ব্যবহৃত যন্ত্র, ড্রোনের গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে অর্থটি ব্যবহার করা হবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অসহনীয় করে তুলতে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাচ্ছে। ইইউর এই ঋণ কর্মসূচিতে ২০২৬-২৭ সালের জন্য ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ৬ হাজার কোটি ইউরো এবং বাজেট সহায়তায় ৩ হাজার কোটি ইউরো বরাদ্দ রয়েছে। শুধু ২০২৬ সালেই ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার ৮৩০ কোটি ইউরো দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইইউ। আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রতিরক্ষা খাতের আওতায় আরও অর্থ ছাড় করা হবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইইউ ও এর সদস্য দেশগুলো দেশটিকে মোট ২২ হাজার ৮৭০ কোটি ইউরোর সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে স্থবির করে রাখা রুশ সম্পদ থেকে অর্জিত অর্থের ৩৮০ কোটি ইউরোও রয়েছে। ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য ইউক্রেনের কাছে আরও ৩ হাজার ২৫০ কোটি ইউরোর আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সুত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
রসায়নে নোবেল বিজয়ী জাপানের কেনসো সোয়াই ও ফ্রান্সের হেনরি বি কাগান। ইলাস্ট্রেশন: নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইট
‘মিরর ইমেজ’ ধাঁধার জট খুলে রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী

জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই ও ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি কাগান এ বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। রাসায়নিক অণুর ‘মিরর ইমেজ’ বা দর্পণ প্রতিবিম্ব নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার জন্য তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এই আবিষ্কার ওষুধ শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। নোবেল জুরি বোর্ড জানিয়েছে, ‘অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে নন-লিনিয়ার ইফেক্ট ও অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের’ স্বীকৃতি হিসেবে দুই গবেষককে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ওষুধ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যেসব রসায়নবিদ বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশা নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের কাছে এই আবিষ্কারের গুরুত্ব অপরিসীম। রসায়নে নোবেল কমিটির প্রধান হাইনার লিংকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, কীভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হোমোকাইরালিটির উদ্ভব হয়- তা শত বছর ধরে রহস্য হয়ে ছিল। হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই সেই রাসায়নিক রহস্যের সমাধান করেছেন। তাঁদের উদ্ভাবিত রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো অভাবনীয়। হেনরি কাগান বর্তমানে ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদ-এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। অন্যদিকে কেনসো সোয়াই টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সে কাজ করছেন। ১৯০১ সালের পর থেকে ১১৭ বার রসায়নে নোবেল দেওয়া হয়েছে, পেয়েছেন ১৯৮ ব্যক্তি। দুইবার পেয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি শার্পলেস।  আবিষ্কারটির অর্থ কী? দুই বিজ্ঞানীর আবিষ্কারটির বিষয়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে নোবেল কর্তৃপক্ষ। রসায়নবিদদের প্রায়ই জীবের মৌলিক অণুগুলো নিয়ে বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। ধরুন, আপনি একজন তালা-চাবি প্রস্তুতকারক। গ্রাহকের ফরমায়েশ অনুযায়ী চাবি বানান। সমস্যা হলো, একটি চাবির নকশা তৈরি ও সেটি কাঠামোতে রূপ দেওয়ার সময় একই রকম আরেকটি প্রতিবিম্ব বা রূপ তৈরি হয়। এটি হলো মিরর ইমেজ বা দর্পণ প্রতিবিম্ব। দুই চাবির মধ্যে কেবল আসলটিই তালার ভেতর ঠিকভাবে বসবে। কিন্তু একইরকম নকশা হওয়ায় কোনটি আসল চাবি তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। রসায়নবিদরা যখন নতুন ওষুধ তৈরি করেন, তখন তাদেরকে ঠিক একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। অনেক ওষুধের অণুর দুটি ভিন্ন রূপ থাকে। সেগুলো চাবি তৈরির মতোই মিরর ইমেজ সমস্যা তৈরি করে। ওষুধের দুই অণুর যেটি আসল বা মৌলিক সেটিই কেবল মানুষের রোগ সারায়। অন্যটি শরীরের ভেতর কোনো কাজে লাগে না এবং অনেক সময় ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এই দুই অণুর বিষয়টি জীবের মৌলিক রসায়নের সঙ্গে যুক্ত। রসায়নবিদদের ভাষায় জীবন হলো ‘হোমোকাইরাল’। গ্রিক এই পরিভাষাটির অর্থ ‘একই রকম’ বা ‘হাত’। মানুষের দুই হাতের মতো সব অ্যামিনো অ্যাসিডেরও দুটি রূপ আছে। কীভাবে ‘হোমোকাইরালিটি’ উদ্ভব হয়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছেন রসায়নবিদরা। নোবেলজয়ী দুই বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই ও হেনরি কাগান সেই জটিল ধাঁধার সমাধান বের করেছেন। হেনরি কাগান রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন উপায় আবিষ্কার করেন। এর মাধ্যমে কোনো অণুর দুই ধরনের রূপের মধ্যে একটি অন্যটির তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে তৈরি করা সম্ভব। যেসব রসায়নবিদ ওষুধ, সুগন্ধি, স্বাদবর্ধক (ফ্লেভার) ও নতুন উপকরণ উৎপাদনের জন্য রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের জন্য কাগানের আবিষ্কারটি এক যুগান্তকারী ঘটনা। অন্যদিকে, কেনসো সোয়াই প্রথমবারের মতো ভিন্ন ধরনের একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশা তৈরি করেছেন। সেখানে সম্ভাব্য দুটি রূপের মধ্যে কেবল একটি রূপ তৈরি করা যায়। এই বিক্রিয়াটি পরে ‘সোয়াই রিঅ্যাকশন’ নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে এটি রসায়নের সবচেয়ে চমকপ্রদ পরীক্ষাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। গত বছর যারা পেয়েছিলেন ‘মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস’ উন্নয়নের জন্য ২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল পান তিনজন। তারা হলেন, জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুসুম কিতাগাওয়া, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিচার্ড রবসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বার্কলি) ওমর এম ইয়াঘি।  বিজয়ীরা অণুগঠিত একটি কাঠামো তৈরি করেছিলেন। যেটির মধ্য দিয়ে গ্যাস ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ প্রবাহিত হতে পারে। এই কাঠামোগুলোকে বলা হয় ‘মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’। এর মাধ্যমে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ, কার্বন ডাই অক্সাইড ধারণ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ বা রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা যায়।  এ বছর ৫ অক্টোবর থেকে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়েছে। চিকিৎসায় পেয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ, জার্মানি পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ঘোষিত পদার্থবিজ্ঞানে বিজয়ী হলেন, বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে মহাবিশ্বের দূরবর্তী স্থান থেকে পৃথিবীতে আসা উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেছেন। এই নিউট্রিনো অনেকের কাছে ‘ভূতুড়ে কণা’ নামে পরিচিত।  কবে কোন পুরস্কার বৃহস্পতিবার সাহিত্যে ও শুক্রবার শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর। পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন। মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
চাপ দিয়ে লংমার্চ থামানো যাবে না, চাবিকাঠি ইমরান খানের হাতে: পিটিআই

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা শওকত ইউসুফজাই বলেছেন, কোনো চাপের মুখেই লংমার্চ বন্ধ হবে না। লংমার্চ শেষ করার চাবিকাঠি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি দলটির প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের হাতে। বুধবার দেশটির গণমাধ্যমগুলোর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুশিয়ারি দেন। খবর জিও নিউজ উর্দুর।  উল্লেখ্য, পাকিস্তানে ইমরান খানের মুক্তি, তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এবং দলটির অন্যান্য নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে লংমার্চ করছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এ কর্মসূচিকে ঘিরে পিটিআই ও সরকারের মধ্যে উত্তেজনা ও আলোচনা দুটোই অব্যাহত রয়েছে। শওকত ইউসুফজাই প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, গণমাধ্যমে আলোচনা-আলোচনা খেলা বন্ধ করুন। যদি আপনাদের ক্ষমতা থাকে, তাহলে আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিন।’ তিনি বলেন, ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে, তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে এবং তার মামলাগুলোর শুনানি করতে হবে। একই সঙ্গে ইমরান খানের বোনসহ কারাগারে বন্দি সব নারীকে মুক্তি দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। সোহাইল আফ্রিদিকে নিয়ে চলমান পরিস্থিতির বিষয়ে শওকত ইউসুফজাই বলেন, তার বিরুদ্ধে যে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। ম্যান্ডেট কেড়ে নিলে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হবে না। সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করতে হলে সব অংশীজনকে নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে হলে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে মিলে সব অংশীজনকে আলোচনায় বসাতে হবে এবং সমস্যার সমাধান করতে হবে। শওকত ইউসুফজাই আরও বলেন, সোহাইল আফ্রিদিকে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হবে। এটি কোনোভাবেই দেশের স্বার্থে হবে না এবং এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদও কমবে না। এদিকে আলোচনার বিষয়ে পিটিআই নেতা ব্যারিস্টার গওহর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শর্তসাপেক্ষে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার তাদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সাধারণত কোনো শর্ত ছাড়াই আলোচনায় বসেন। পিটিআই আলোচনায় বসতে অস্বীকার করেনি, তবে আলোচনা অবশ্যই শর্তহীন হতে হবে। তিনি বলেন, সরকার বাইরে এসে ভেতরের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে যতটা সময় ব্যয় করা হয়েছে, তার অর্ধেক সময়ও যদি আলোচনায় দেওয়া হতো, তাহলে সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। ব্যারিস্টার গওহর আরও বলেন, সরকারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা চলছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
জাপানে মার্কিন সেনাদের অবস্থানবিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স
জাপানে মার্কিন সেনাদের এক মাসের কারফিউ ও মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা

জাপানের ওকিনাওয়ায় দায়িত্ব পালনরত মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের কারফিউ ও মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় এক নারীকে হত্যার অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তার হওয়ার পর শৃঙ্খলাবিষয়ক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ বছর বয়সী ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে শনিবার ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা-এর একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আনা ইয়াগিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাকও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে।তবে পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ড অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনার পর ওকিনাওয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। এর আওতায় এক মাসের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘাঁটি বা নির্ধারিত অবস্থানস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে তাদের মদ্যপান থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ওকিনাওয়া জাপানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অবস্থানস্থল। অতীতে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন বিধিনিষেধের মাধ্যমে সেনাসদস্যদের আচরণ ও শৃঙ্খলা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর ও নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, জাপান সরকার এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগির কার্যালয় জানিয়েছে, জাপানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাসকে রোববার তলব করা হয়। তাকে মার্কিন সেনাদের শৃঙ্খলা আরও জোরদার করা এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ওকিনাওয়ার গভর্নর জেন্তা কোজাও জাপানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের মধ্যে কঠোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে জাপান সরকার ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে শক্ত অবস্থান নেওয়া হবে। মার্কিন তৃতীয় মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স জানিয়েছে, তাদের এক সেনার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে তারা জাপানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। নিহত নারীর পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে তারা। সূত্র: রয়টার্স

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক

ফ্লাইদুবাই ঘটনার পর মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানে হামলার হুমকি

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৪, ২০২৬