বিশ্ব

ইরানি ক্যাফেগুলো যেভাবে হলো মুম্বাইয়ের প্রাণ

  মুম্বাইয়ের পুরনো ধাঁচের বেশিরভাগ ইরানি ক্যাফেগুলোর অবস্থান রাস্তার ঠিক মোড়ে বা কোণায়। যেন তারা চারদিক থেকে ধেয়ে আসা শহরটির মুখোমুখি হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এটি কেবল একটি ভৌগোলিক অবস্থান নয়, বরং একটি চমৎকার রূপকও বটে। কারণ যে মানুষগুলো এই ক্যাফেগুলো তৈরি করেছিলেন, তারা একদিন নিজেদের মাতৃভূমি ইরানেও এভাবেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। আজ ভারতই তাদের ঘর, আর মুম্বাইয়ের আইল্যান্ড সিটি তাদের চেনা আঙিনা।   অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীতে পারস্যের কাজার রাজবংশের (১৭৮৯-১৯২৫) শাসনামলে তীব্র দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র্য ও ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে জরাথ্রুস্টবাদী ইরানিদের একটি দল মুম্বাইতে পাড়ি জমায়। অষ্টম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে ভারতে আসা পার্সিদের সাথে তাদের পারস্যের মূল ও ধর্মীয় মিল থাকলেও, এই ইরানিরা ছিল মুম্বাইয়ের একেবারেই ভিন্ন এবং সাম্প্রতিক এক অভিবাসী জনগোষ্ঠী।     আজ মুম্বাইয়ের আইল্যান্ড সিটির মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা তাদের এই আইকনিক ক্যাফেগুলোর পেছনের ইতিহাস অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক।     বাস্তুশাস্ত্র ও সস্তা জমির সমীকরণ   মুম্বাইয়ের আকাশচুম্বী আবাসন ব্যবসার রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই ইরানি ক্যাফেগুলো ত্রিকোণাকার প্লট বা রাস্তার মোড়ে গড়ে উঠেছে। মুম্বাইয়ের রন্ধনশিল্প নৃবিজ্ঞানী ও প্রত্নতাত্ত্বিক কুরুশ দালালের মতে, ঐতিহ্যবাহী বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী এই ধরণের জমির পার্সেল বা কোণাগুলোকে একসময় অপয়া বা অশুভ মনে করা হতো। ফলে প্রচলিত প্লটের চেয়ে এগুলোর দাম ছিল অনেক কম।   কুরুশ দালাল বলেন, খারাপ বাস্তুর কারণে হিন্দুরা ওই প্লটগুলো নিতে চাইতো না। ফলে যুক্তি অনুযায়ী যে জায়গাগুলোর দাম সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোই ইরানিরা নামমাত্র মূল্যে কিনে নেয়। মূলত বাস্তুশাস্ত্র নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার ও বিশ্বাসই অবলীলায় জন্ম দিয়েছিল মুম্বাইয়ের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী খাদ্য সংস্কৃতির।   সীমিত পুঁজি নিয়ে আসা নতুন ইরানি অভিবাসীদের জন্য পানির দরে পাওয়া এই কোণাগুলোই নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এই মোড়ের দোকানগুলোই একেকটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়।   সংস্কৃতি ও চেনা স্বাদের মেলবন্ধন   রাস্তার মোড়ে অবস্থিত হলেও দুটি ইরানি ক্যাফে দেখতে কখনোই একরকম নয়, তবে কিছু চিরচেনা সাদৃশ্য এদের এক সুতোয় বেঁধেছে। লাল-সাদা চারকোনা চেকের টেবিলক্লথ, সাদা-কালো লবণ ও গোলমরিচের দানি, দেওয়ালে টাঙানো জরাথ্রুস্টবাদের প্রতীক ফারভাহার এবং পুরনো বাসনকোসন। এছাড়া ক্যাফেগুলোতে রয়েছে ফেলে আসা স্বদেশের স্মৃতি, যেমন ইয়াজদ অগ্নি মন্দিরের ছবি কিংবা ২৬০ খ্রিস্টাব্দের এডেসার যুদ্ধের পর রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানকে বন্দী করার ঐতিহাসিক দৃশ্য সংবলিত নকশ-ই রোস্তমের ফ্রেম। মুম্বাইয়ের আর কোনও রেস্তোরাঁয় এত সংস্কৃতির ছোঁয়া পাওয়া যায় না।   এখানকার খাবারও অনন্য; যা পুরোপুরি পার্সিয়ান নয়, আবার পুরোপুরি মুম্বাইয়ের চেনা স্বাদও নয়, বরং দুইয়ের মাঝামাঝি। ব্রুন-মাস্কা, আকুরি, মিষ্টি ও দুধেল ইরানি চা, খীমা পাও, মাওয়া কেক, ক্যারামেল কাস্টার্ড এবং বেরি পোলাওয়ের মতো খাবারগুলো পারস্যের প্রভাবে তৈরি হলেও, স্থানীয় উপাদান এবং মুম্বাইয়ের কর্মজীবী মানুষের রুচির সাথে মিলিয়ে এর স্বাদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মারাঠি কবি দিলীপ চিত্রে এই ক্যাফেগুলোর একাকীত্ব ও শান্ত মানবিক আবহ নিয়ে ‘অ্যাট মিডনাইট ইন দ্য বেকারি অ্যাট দ্য কর্নার’ নামে একটি বিখ্যাত কবিতাও লিখেছেন।   হারিয়ে যাচ্ছে চেনা ঐতিহ্য   ১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকে কেবল মুম্বাইয়ের আইল্যান্ড সিটিতেই ৩৫০টিরও বেশি ইরানি ক্যাফে ছিল। কিন্তু আজ পুরো মুম্বাই ও তার শহরতলি মিলিয়ে মাত্র ৩৫টির মতো ক্যাফে টিকে আছে। এই বিলুপ্তি অবশ্য অনেক আগেই অনুমান করা হয়েছিল। ২০০৫ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐতিহাসিক জের মহল ভবনে অবস্থিত ক্যায়ানি অ্যান্ড কোং-এর দ্বিতীয় প্রজন্মের মালিক আফলাতুন শোকরিয়ে বলেছিলেন, আমাদের সন্তানরা উচ্চশিক্ষিত এবং তারা এই ব্যবসা চালিয়ে নিতে আগ্রহী নয়। ২০১৫ সালে তার মৃত্যুর পর আজ সেই কথাটিই নির্মম সত্যে পরিণত হয়েছে।   আজকের আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং কৃত্রিম আতিথেয়তার যুগেও স্যাসানিয়ান বোলাঞ্জেরি, ক্যাফে মিলিটারি, ক্যাফে এক্সেলসিয়র কিংবা ব্রিটানিয়া অ্যান্ড কোং-এর মতো টিকে থাকা ক্যাফেগুলো মানুষকে এক টুকরো চেনা অতীত ও মানবিকতার ছোঁয়া দেয়। কাঠের চেয়ার, মার্বেল টপ টেবিল আর দেয়ালের চটা ওঠা রঙের মাঝে ক্যাফেগুলোর সাইনবোর্ডে লেখা থাকে স্পষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা, যেমন কেবল নগদ টাকা নেওয়া হয়, বেশি সময় বসা নিষেধ, উচ্চস্বরে কথা বলা নিষেধ। প্রখ্যাত কবি নিসিম এজেকিয়েল এই বোর্ডগুলো দেখেই লিখেছিলেন তার বিখ্যাত কবিতা ‘ইরানি রেস্টুরেন্ট ইনস্ট্রাকশনস’।   তবে সব ক্যাফে অপরিবর্তিত থাকেনি। সময়ের সাথে সাথে ক্যাফে লিওপোল্ড এবং ক্যাফে মোনদেগার-এর মতো জায়গাগুলো বার-ক্যাফেতে রূপান্তরিত হয়েছে। আবার ভারত ও যুক্তরাজ্যে সোডাবোটলওপেনারওয়ালা বা ডিশুমের মতো চেইন রেস্টুরেন্টগুলো ১৯৬০-এর দশকের ইরানি ক্যাফের আবহ আধুনিক প্রজন্মের কাছে নতুন ব্র্যান্ডিংয়ে ফিরিয়ে এনেছে।   চলতি বছরের ১ জানুয়ারি যখন মুম্বাইয়ের কিংবদন্তি বি মারওয়ান অ্যান্ড কোং চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়, তখন প্রবেশদ্বারে কেবল একটি হাতে লেখা নোট ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল- আমরা বন্ধ। আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। গত বছর বন্ধ হয়ে গেছে জিমি বয়। কোনও ঢাকঢোল না পিটিয়ে নিরবেই বিদায় নিচ্ছে পুরনো মুম্বাইয়ের এই স্মৃতিগুলো। কবি ইমতিয়াজ ধারকার তার কবিতায় হারিয়ে যাওয়া নাজ ক্যাফের স্মৃতিচারণ করে যে হাহাকার প্রকাশ করেছিলেন, তা যেন আজ প্রতিটি ইরানি ক্যাফের ভাগ্যলিপি। তবে শেষ ট্র্যাজেডি এটাই যে, বাস্তুশাস্ত্রে একদা যে কোণগুলোকে অপয়া বলে অবহেলা করা হয়েছিল, আজ তাই মুম্বাইয়ের নস্টালজিয়া ও সবচেয়ে ভালোবাসার সাংস্কৃতিক স্থান হয়ে টিকে আছে।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬
বাংলাদেশ সীমান্তে এলাকার জনমিতিক পরিবর্তন খতিয়ে দেখবে ভারত

বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন জেলাসহ ভারতের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে সৃষ্ট জনমিতিক (ডেমোগ্রাফিক) পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে সব ধরনের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।   শনিবার (১৩ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। ভারতের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য মূলত বাংলাদেশ থেকে হওয়া কথিত অবৈধ অভিবাসন ও অনুপ্রবেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা।   প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণার প্রায় এক বছর পর, গত ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয় এবং গত ২ জুন কমিটি তাদের প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকারের নেতৃত্বে এই প্যানেলটি মূলত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা, বিভিন্ন মহানগর ও শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করবে। ভারতের সীমান্ত এলাকায় জনসংখ্যার ভারসাম্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে এবং এর পেছনে অবৈধ অনুপ্রবেশের ভূমিকা কতটুকু, তা সরজমিনে খতিয়ে দেখাই এই প্যানেলের মূল কাজ।   শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) প্রধান তপন কুমার ডেকা এবং ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেন্সাস কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিটির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এর কর্মপরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।   এর আগে গত ২ জুন অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে ভারতের ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিচালিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টিও তারা খতিয়ে দেখবেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে, কমিটির এই পদক্ষেপের সাথে তার সরাসরি সংযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে এই প্যানেল সরকারের বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করেছে।   কমিটির কার্যপরিধি বা টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী, তাদের মূল কাজ হলো অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে ভারতের সীমান্ত অঞ্চলে ঘটে যাওয়া জনমিতিক পরিবর্তনগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা এবং ‘জনসংখ্যা স্থিতিশীল’ করার জন্য উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সুপারিশ করা।    তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কমিটি ভারতে বসবাসকারী কথিত অবৈধ অভিবাসীদের আইনানুগ, সুষ্ঠু ও সময়োপযোগী উপায়ে শনাক্তকরণ, আটক (ডিটেনশন) এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) জন্য একটি সুসংগঠিত ও স্থায়ী পরিচালন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে চূড়ান্ত সুপারিশমালা পেশ করবে, যা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের ওপর পুশব্যাকের মতো ভূরাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।   বিচারপতি নাওলেকার ছাড়াও এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের সাবেক প্রধান সচিব ও অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা দুর্গা শঙ্কর মিশ্র, ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস কর্মকর্তা বালাজি শ্রীবাস্তব এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শমিকা রবি। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ সচিব (বিদেশী-১) এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   সূত্র: দ্য হিন্দু।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের কথা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি আজ সই হচ্ছে কি

  যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বহু প্রতীক্ষিত একটি চুক্তি আজ রোববারই স্বাক্ষরিত হবে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শনিবার জোর দিয়ে এ কথা বলেছেন। এ চুক্তির ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হবে। কিন্তু ট্রাম্পের এ বক্তব্যের সঙ্গে ইরানের বক্তব্য না মেলায় চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গতকাল ট্রাম্প লেখেন, ‘আগামীকাল (রোববার) চুক্তি স্বাক্ষর হবে এবং চুক্তি সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।’   ট্রাম্পের এ ঘোষণা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তেহরান আজ এ চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।   ট্রাম্পের ঘোষণার আগে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট তারিখ কবে, তা জানতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, তবে এটি আগামীকাল (রোববার) হবে না।’   মুখপাত্র বাঘাই আরও বলেন, ‘তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’   ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও (আইআরজিসি) আজ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়েছে বলে খবর দিয়েছে সিএনএন।   এ নিয়ে মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভার্চ্যুয়ালি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হতে পারে। তবে আগে থেকে প্রকাশিত ট্রাম্পের সরকারি কর্মসূচিতে রোববার (আজ) প্রেসিডেন্টের কোনো স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ নেই।   ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়েও পোস্টে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘উপযুক্ত সময়ে, যখন সবকিছু শান্ত হবে, আমরা সেখানে গিয়ে “নিউক্লিয়ার ডাস্ট” সংগ্রহ করব, যেগুলো শক্তিশালী গ্রানাইট পাহাড়ের গভীরে চাপা পড়ে রয়েছে। আমাদের সুন্দর বি-২ বোমারু বিমান ও এগুলোর দক্ষ পাইলটদের সহায়তায় তা প্রক্রিয়াজাত করে ধ্বংস করব—এটা ইরানেও হতে পারে বা যুক্তরাষ্ট্রেও।’   সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও কথা বলেছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে মূল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে পাকিস্তান।   গতকাল শনিবার শাহবাজ বলেন, ইসলামাবাদ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে (ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি)। এরপর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার আশা করা হচ্ছে।’   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহবাজ আরও লেখেন, ‘আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন একটি শান্তিচুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছি…আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এই ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্থায়ী শান্তির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬
নেপাল থেকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বাংলাদেশ

  বাংলাদেশে নেপাল থেকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। ভারতের অনুমোদন না পাওয়ায় আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশ আগের মতোই ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে।   নেপালের জ্বালানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতীয় কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (সিইএ) অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতি দেয়নি। তাদের দাবি, ভারত-বাংলাদেশ সংযোগকারী বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে বর্তমানে পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই।   এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত নেপাল-ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি ৪০ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ৬০ মেগাওয়াট করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এখনও সম্পন্ন হয়নি।   নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) জানিয়েছে, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য তারা ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগমের (এনভিভিএন) মাধ্যমে আবেদন করেছিল। কিন্তু ভারত জানিয়েছে, বিদ্যমান ট্রান্সমিশন লাইনে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরিবহনের সুযোগ নেই।   বর্তমানে নেপালের ত্রিশুলি ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে পৌঁছায়।   নেপাল ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করে। বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্ট দরে বাংলাদেশ কিনছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট রপ্তানির অনুমোদন মিললে একই দরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো।   এখন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নেপাল-ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হবে। ভারতের অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন চুক্তি সই হলে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত হতে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ২,৪০০ কোটি ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প

ইরানের জব্দকৃত ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড় করতে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করাকে এড়িয়ে গেছেন। গত শুক্রবার একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে ফার্স নিউজ এজেন্সি এ খবর দিয়েছে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মহসেন রেজাই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর দেজফুলে অনুষ্ঠিত একটি স্মরণসভায় এ মন্তব্য করেছেন।   ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের খবর অনুযায়ী, রেজাই বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাত তেহরানের বৈশ্বিক অবস্থানকে ‘শক্তিশালী’ করেছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ‘জুয়াড়ি ট্রাম্প’ এখন তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ভয় পান।   মহসেন রেজাই। বর্তমানে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন   রেজাইর এ মন্তব্যের আগে গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত একটি সমঝোতা স্মারক সব যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাতের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটাবে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। এ সমঝোতা স্মারক ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ নিয়ে আলোচনার পথও প্রশস্ত করবে।   অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এ চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিলুপ্ত করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডে এক রাজকুমারীর মৃত্যুতে উত্তরাধিকার নিয়ে প্রশ্ন

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কোমায় থাকার পর থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বজরাকিতিয়াভা ৪৭ বছর বয়সে মারা গেছেন।   এই রাজকুমারীর মৃত্যু উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   যদিও রাজা ভাজিরালংকর্ন এখনো কাউকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করেননি, তবে সম্ভাব্য তিন উত্তরাধিকারীর মধ্যে অনেকে এই রাজকুমারীকেই সবচেয়ে যোগ্য বলে মনে করতেন।   ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়াশোনা এবং থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এই রাজকন্যা।   এরপর যখন থেকে তিনি সরকারি কৌঁসুলি বা পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব নেন তখন থেকেই থাইল্যান্ডের 'প্রিন্সেস লইয়ার' বা 'আইনজীবী রাজকন্যা' হিসেবে তাকে অভিহিত করা হতো।   আধুনিক যুগের রাজকন্যা রাজকুমারীর বয়স তখন ৪৪ বছর। রাজধানী থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে দুই ঘণ্টার কিছু বেশি দূরত্বে অবস্থিত পাক চং এলাকায় এক রৌদ্রজ্জ্বল দিনে হঠাৎই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি।   ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণের পর সৃষ্ট প্রদাহ থেকে গুরুতর হার্ট অ্যারিদমিয়ার (হৃদস্পন্দনের অনিয়ম) কারণে তিনি জ্ঞান হারিয়েছিলেন।   রাজপরিবারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, চলতি বছরের মে মাস থেকেই তিনি পেটের সংক্রমণ, নিম্ন রক্তচাপ এবং রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতায় ভুগছিলেন।   অবশেষে ১১ই জুন চুলালংকর্ন হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এই রাজকুমারী।   বিশ্বের কঠোরতম আইন 'লেজে মাজেস্তে' (রাজপরিবারের প্রতি অবমাননা বিরোধী আইন) থাকায় থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্রের প্রতি অত্যন্ত বেশ ভক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হয়।   তবে সেই মানদণ্ডেও, রাজকুমারী বজরাকিতিয়াভার মৃত্যু গভীরভাবে অনুভূত হয়েছে।   পুরুষশাসিত সমাজে রাজা ভাজিরালংকর্নের জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে তিনি একজন আধুনিক থাই রাজকন্যার ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন এবং ২৪০ বছরের পুরোনো এই রাজবংশের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন।   রাজকন্যা সবসময়ই অসামান্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন এবং যেখানে তার অনেক পুরুষ সহকর্মী হিমশিম খাচ্ছিলেন, সেখানেও তিনি সফলতার পরিচয় দিয়েছিলেন।   পশ্চিমা শিক্ষার সহায়তায় তিনি এক অখ্যাত তরুণী রাজকন্যা থেকে বহুমুখী কর্মজীবনের অধিকারী একজন সফল নারীতে নিজেকে রূপান্তরিত করেছিলেন।   অকাল মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তার জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল বলেই সবার ধারণা ছিল।   প্রচারণার কৌশল বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।   রাজকুমারী বজরাকিতিয়াভার অনুরাগীদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে শান্ত স্বভাবের মনে হলেও, রাজপ্রাসাদের অলিখিত নিয়মকানুনগুলোকে পাশ কাটিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার মতো দৃঢ়তা তার ছিল।   ২০১৬ সালে নিক্কেই এশিয়া তাকে "জন্ম এবং জীবনের অভিজ্ঞতা — দুই দিক থেকেই থাইল্যান্ডে রাজকন্যার অবস্থান ছিল অনন্য" বলে উল্লেখ করে।   প্রতিবেদনটিতে ২০০৯ সালের একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছিল।   যিনি বলেছিলেন যে, "রাজকন্যা ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন এবং রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্ভবত তিনিই সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত"।   রাজকুমারী বজরাকিতিয়াভার মৃত্যুর পর, দেশ এখন গভীরভাবে লক্ষ্য রাখবে প্রিন্স দীপাঙ্কর্নের দিকে।   কারণ তিনিই রাজার একমাত্র পুত্র যাকে বিদেশে নির্বাসিত করা হয়নি, যদিও তার শাসনের সক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে অনেক প্রশ্নই রয়ে গেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে?

এই বছরের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক মুসলিম আলেম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে আটক করে। দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে এসব গ্রেফতারের খবর সীমিত আকারে প্রচার হয়, তবে অনলাইনে এ নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা সামনে আসে।   উগ্র-ডানপন্থি সংগঠন ও চ্যানেলগুলোর কাছে এসব গ্রেফতার ছিল ক্রেমলিন-সমর্থিত স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমস (ডিইউএম) ভেঙে দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত অভিযানের সূচনা।   রাশিয়ার বাইরে পরিচালিত গণমাধ্যমগুলোর মতে, এসব পদক্ষেপ দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে 'আবাসিক ভবনে' গণউপাসনা নিষিদ্ধের নতুন বিতর্কিত আইনকে অনেকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।   এসব গ্রেফতারের ঘটনা, স্থানীয় আলেমদের প্রতিক্রিয়া এবং রাশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করেছে বিবিসি মনিটরিং।   কারা আটক হয়েছেন? ২০২৬ সালের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী আটজন মুসলিম আলেম ও কমিউনিটি প্রতিনিধিকে আটক করেছে বলে জানা যায়। তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।   তাদের মধ্যে ছিলেন কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, ১৪ই মে শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে 'পুলিশের সঙ্গে অবাধ্যতা'র অভিযোগে তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফোরতাঙ্গার তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার এফএসবি সংস্থা ১২ই মে ধর্মযাজক ও বারর্দভিলের ডেপুটি আখমাদ তাঙ্গিয়েভকেও আটক করে।   রাশিয়ার জনপ্রিয় সংবাদ সাইট লেন্তা ডট রু জানায়, মর্দোভিয়া প্রজাতন্ত্রের মুফতি রয়াল আসেনভকে ১৯ই মে 'ঘুষ চাওয়ার' সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। প্রতিবেদনটিতে রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমসের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দেওয়া হয়।   ২৩ই মে ব্যবসাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দৈনিক কোমেরসান্ত বিচার বিভাগের প্রেস অফিস এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে আটক ব্যক্তিদের একটি দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করে।   কোমেরসান্তের তথ্য অনুযায়ী, 'মুসলিম কমিউনিটি অব দ্য নর্থওয়েস্ট' নামের কেন্দ্রীয় ধর্মীয় সংগঠনের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ খেনিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে তার এক আত্মীয় এবং রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের ডেপুটি মুফতি আল-খেইখ নিদাল আওয়াদুল্লাহ আহমদের সঙ্গে আটক করা হয়।   ওয়েবসাইটটি আরও চারজন আটক ব্যক্তির আদ্যক্ষর ও পদবী প্রকাশ করে, যাদের তাতারস্তান, মারমানস্ক ও পেট্রোজাভোদস্কের মুসলিম কমিউনিটি কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে শনাক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা এজেনস্তভো।   কেন তাদের আটক করা হয়েছিল? এদের বিরুদ্ধে 'ঘুষ' থেকে 'অবাধ্যতা' পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও কিছু ব্লগার ও কিছু গণমাধ্যম আরও গুরুতর অভিযোগও তুলেছে।   কোমেরসান্তের দাবি, ২৩শে মে তারা সংশ্লিষ্ট মামলার নথি দেখেছে, যেখানে কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।   রাশিয়া ২০০৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রভাবশালী প্রচারক রুসলান অস্তাশকোও এই অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করেন এবং আলেমদের নতুন "পঞ্চম স্তম্ভ" হিসেবে দেখান যারা "বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা" ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন।   তিনি হুমকির সুরে বলেন, "প্রশ্নটি বাড়ছে- এটি কি একটি ধর্মীয় কাঠামো, নাকি বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক?"   প্রত্যাশিতভাবেই, উগ্র-ডানপন্থি চ্যানেলগুলো এই গ্রেফতারকে স্বাগত জানায় এবং ডিইউএম-এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় দমন অভিযানের সম্ভাবনায় স্পষ্ট উত্তেজনা প্রকাশ করে।   ১৯শে মে উগ্র-ডানপন্থি চ্যানেল 'সন্স অব মনার্কি' লিখেছে, "সাহসী রুশ নিরাপত্তা বাহিনী অবশেষে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে, যারা রাশিয়ায় ভিন্ন ধর্মের মধ্যে বিভেদ উসকে দিচ্ছে।"   তারা যোগ করে, "আমি আশা করি এটি কেবল শুরু!"   ২১শে মে ব্লগার ইউরি বারানচুকের একটি বিশেষভাবে অবমাননাকর পোস্টে বলা হয়, "এই চরমপন্থিরা, যারা ধীরে ধীরে 'হালালাইজেশন' এবং অর্থোডক্স রাশিয়াকে 'আড়াল' করার পক্ষে, তারা অনেক দিন ধরেই জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল... মনে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের কেউ হঠাৎ এই হুমকির মাত্রা ও ব্যাপ্তি বুঝতে পেরেছে।"   দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত একটি মামলা সামনে আসে ২৯শে মে। এটি ছিল ডিইউএম চেয়ারম্যান মুফতি রাভিল গনুতদিনের প্রথম ডেপুটি দামির মুখেতদিনভের বিরুদ্ধে, যিনি 'ঘৃণা বা শত্রুতা উসকে দেওয়ার' অভিযোগে অভিযুক্ত হন বলে জানায় ব্যবসায়িক দৈনিক আরবিসি।   তিন দিন পর ব্যবসায়িক সংবাদপত্র ভেদোমোস্তি জানায়, 'মঙ্গোল-তাতার যুগ' শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনের কারণে তাকে এক লাখ ৫০ হাজার রুবল (প্রায় দুই হাজার ৪০ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত মেসেঞ্জার অ্যাপ ম্যাক্সে মস্কো সিটি কোর্টস অব জেনারেল জুরিসডিকশনের প্রকাশিত একটি পোস্ট উদ্ধৃত করা হয়।   চিত্রকর্মটি, যা গত বছর একটি সাক্ষাৎকারের সময় তার কার্যালয়ের দেয়ালে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়, এটি ১২২৩ সালের কালকা যুদ্ধকে চিত্রিত করে, যা পূর্ব ইউরোপে মঙ্গোলদের প্রথম আগ্রাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।   এটি ব্লগার, কট্টর জাতীয়তাবাদী এবং এমনকি কিছু সরকারি কর্মকর্তার সমালোচনা কুড়ায়। তাদের কেউ কেউ এই চিত্রকর্মকে 'রাশিয়া-বিরোধী' আখ্যা দিয়ে ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ ডিইউএম-কে 'চরমপন্থি' সংগঠন ঘোষণার দাবি তোলে।   মুখেতদিনভ প্রথমে নিজেকে 'রাশিয়া-বিরোধী' বলা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, ১৩শ শতকে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের উত্তরসূরি রাষ্ট্র 'গোল্ডেন হোর্ড' "ভূমি একত্রিত করা, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং বহুজাতিক ও বহু-ধর্মীয় রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়ার বিকাশে" গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   পরে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন। ২০২৫ সালে এই বিতর্ক প্রথম সামনে এলে তিনি ডিইউএম-এর ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলেন, "আমি এই চিত্রকর্মটি জনসমক্ষে থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন এর জায়গায় মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের (নাজি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধ) ঘটনাবলি তুলে ধরা একটি চিত্রকর্ম স্থাপন করা হবে।"   আধুনিক রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে মুখেতদিনভ রাষ্ট্রের ইতিহাস বর্ণনার একচেটিয়া ক্ষমতার নীতির বাইরে গিয়েছিলেন বলে মনে হয়।   ক্ষমতায় থাকার সময় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার পরিচয়কে একটি 'ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক পরিসর'-এ সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন, যা তার দৃষ্টিতে স্লাভ জনগণের অংশ, এবং এই প্রক্রিয়ায় রাশিয়ান, ইউক্রেনীয় ও বেলারুশিয়ানদের মধ্যে পার্থক্য ঝাপসা হয়েছে।   এই 'স্লাভিক' ঐতিহ্যভিত্তিক ধারণা বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য পরিসর সীমিত করে এবং ইসলামবিরোধী এজেন্ডাসম্পন্ন উগ্র জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে পারে।   মনে হয় প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রয়োজন অনুযায়ী এই জনতাত্ত্বিক বাস্তবতা ব্যবহার করেন, যেমন সৌদি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা বা ২০২৬ সালের সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে 'বিশিষ্ট অতিথি'দের অভ্যর্থনার সময়।   তবে ক্রেমলিন ও মুসলিম নাগরিকদের সম্পর্ক বরাবরই জটিল।   সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যে বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধগুলো শুরু হয়, তার পর পুতিন রাশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজাতন্ত্রগুলোতে শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেন। বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়ন এবং চেচনিয়ার নেতা রমজান কাদিরভের মতো অনুগত নেতৃত্ব নিয়োগের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় সম্প্রীতির ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চেয়েছিল।   রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, রাশিয়ার মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন ডিইউএম) ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় বস্তুগত ও মতাদর্শগত সমর্থন দিয়েছে। একই সময়ে, পুতিনের যুদ্ধের দৃঢ় সমর্থকেরা ক্রমে 'অর্থোডক্স রাশিয়া'র একক ধারণায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে উঠছে।   ২১শে মে স্বাধীন সংস্থা দক্সাকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসলামি বিশারদ বলেন, "ইসলামবিদ্বেষ ও অভিবাসীবিরোধী মনোভাব আগে থেকেই ছিল, কিন্তু যুদ্ধ একটি স্পষ্ট মোড় পরিবর্তন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।"   অতীতে রাশিয়ায় ধর্মীয় বৈচিত্র্যের মূল্য ছিল রাজনৈতিক আনুগত্য। নির্বাসিত নোভায়া গাজেতা ইউরোপার মতে, সাম্প্রতিক গ্রেফতারের ঢেউ এই প্রশ্ন উত্থাপন করছে - সেই আনুগত্য এখনো যথেষ্ট কি না।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর ইরানের নৌবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে: সাইয়্যারি

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘মান ইরানাম’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে আডমিরাল সাইয়্যারি বলেন, "অঞ্চলের সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে বিভক্ত। হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম অংশ, নিজস্ব প্রণালী এবং পারস্য উপসাগর ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীর পূর্বাংশ ও উত্তর ভারত মহাসাগর ইরানের সেনাবাহিনীর নৌবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে আছে। ইরানের অনুমতি ব্যতিরেকে কোনও নৌযান যাতায়াত করতে সক্ষম হবে না।”   তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই জলপথে চলাচল করতে পারবে না।”   বক্তব্যের এক পর্যায়ে আডমিরাল সাইয়্যারি ‘দেনা’ যুদ্ধজাহাজের শহীদ সদস্যদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার দাবি, তারা “মার্কিন সন্ত্রাসীদের” হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেনা’ একটি শান্তি ও বন্ধুত্ববিষয়ক মহড়া এবং প্রশিক্ষণমূলক মিশনে অংশ নিয়েছিল, যেখানে কোনো যুদ্ধাস্ত্র বহন করা হচ্ছিল না।   সাইয়্যারি নিহতদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অনুসরণের আহ্বান জানান।   ইরানের নৌ-সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে—এমন দাবির প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “তারা বলে ইরানের নৌবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যদি সাহস থাকে, সামনে এসে দেখুক।”   তিনি আরও বলেন, ইরান অতীতেও এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি ছিল এবং এখনও রয়েছে। তার ভাষায়, দূর থেকে এ ধরনের দাবি করা শক্তির নয়, বরং দুর্বলতার লক্ষণ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬
আদালতে ‘অবৈধ’ ঘোষণার পর কেনেডি সেন্টার থেকে সরানো হলো ট্রাম্পের নাম

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত বিখ্যাত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের ভবন থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলেছেন কর্মীরা। দেশটির একটি ফেডারেল আদালত এই নামকরণকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা পর শনিবার (১৩ জুন) এই কাজ শুরু হয়।   এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।    কেনেডি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ম্যাট ফ্লোকা আদালতে দাখিল করা এক নথিতে জানান, ভবন ও এর আশপাশে থাকা ট্রাম্পের নামসংবলিত সব সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে।   শনিবার দুপুর পর্যন্ত ভবনের বাইরের অংশে থাকা ট্রাম্পের নাম একটি সাদা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল। নাম অপসারণের কাজ চলাকালে ভেতর থেকে জোরে শব্দ শোনা যাচ্ছিল। অনেক পথচারী কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজটি পর্যবেক্ষণ করেন।   এর আগে কেন্দ্রের পরিচালনা পর্ষদ শেষ মুহূর্তে আদালতের মাধ্যমে নাম অপসারণ ঠেকানোর চেষ্টা করলেও বিচারক সেই আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে নিজের নাম ও পরিচিতি যুক্ত করার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, এই রায় তার বিপরীতে গেছে।   শুক্রবার রাতে কেনেডি সেন্টারের বাইরে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। কর্মীরা যখন সাইনবোর্ড খুলতে মাচা স্থাপন করছিলেন, তখন উপস্থিত অনেকে উল্লাস প্রকাশ করেন। এ ছাড়া হাজারো মানুষ অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার দেখে ঘটনাটি অনুসরণ করেন।   তবে বজ্রঝড় ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীদের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল বলে জানান নির্বাহী পরিচালক ম্যাট ফ্লোকা।   গত ২৯ মে দেওয়া এক রায়ে মার্কিন জেলা বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার বলেন, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্পের নামে করার সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে।   বিচারক প্রশাসনকে ১৪ দিনের মধ্যে ভবনের মার্বেল নির্মিত সামনের অংশ এবং প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট সব জায়গা থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে কেনেডি সেন্টার কয়েক দিন আগেই তাদের ওয়েবসাইট থেকেও ট্রাম্পের নাম মুছে ফেলেছিল।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৪, ২০২৬
প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান/ছবি: সৌদি প্রেস এজেন্সি
আমন্ত্রণের জন্য ম্যাক্রোকে ধন্যবাদ জানালেও অংশ নেবেন না সৌদি প্রিন্স

আগামী সপ্তাহে জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেলেও অংশগ্রহণ করবেন না সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রিন্স সালমান। তবে, সৌদি প্রিন্সের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির কারণে ওই বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকবেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ম্যাক্রোকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেওয়া চিঠিতে তিনি উপস্থিত না থাকার বিষয়টি জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে সৌদি প্রেস এজেন্সি।  এদিকে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পর্যটন খাতে সহযোগিতা জোরদারের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পর্যটন গন্তব্য প্রচারকে কেন্দ্র করে সহযোগিতা বাড়ানো। চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন সৌদি আরবের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-কাতাব এবং ফ্রান্সের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, বাণিজ্য, কারুশিল্প, পর্যটন ও ক্রয়ক্ষমতা বিষয়ক মন্ত্রী সার্গে পাপিন। জাতিসংঘ পর্যটন নির্বাহী পরিষদের ১২৬তম অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই চুক্তি হয় বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আরব নিউজ। ম্যাক্রো বুধবার (১০ জুন) বলেন, আগামী মঙ্গলবারের জি-৭ সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে হরমুজ প্রণালির বন্ধ হওয়ার বিষয়টি। এর মূল কারণ এই জলপথ বন্ধ থাকায় জ্বালানি দামের বৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে “বাস্তব প্রভাব” ফেলছে। এছাড়া ইরানের সমঝোতা সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে। ম্যাক্রোকে দেওয়া চিঠিতে ক্রাউন প্রিন্স সৌদি আরব ও ফ্রান্সের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত এবং সম্মেলনের সফলতা কামনা করেন।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসের উড়ল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পতাকা

পার্সটুডে- মেক্সিকো ও কানাডার স্টেডিয়ামগুলোতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পতাকা ওড়ানোর পর, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফা স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও ইরানের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ইরানি ব্রডকাস্টিং এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে পার্সটুডে জানিয়েছে, শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার খেলার আগে বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলোর পতাকা মাঠের মাঝখানে উত্তোলন করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফা স্টেডিয়ামে উত্তোলন করা পতাকাগুলোর মধ্যে ইরানের পতাকাও ছিল। প্রতিযোগিতায় বেলজিয়াম, মিশর এবং নিউজিল্যান্ডের সাথে ‘জি’ গ্রুপে রয়েছে ইরান এবং তাদের খেলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের দুটি ম্যাচই লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, শনিবার মেক্সিকোর টিহুয়ানা ক্যাম্পে প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এবং বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান জাতীয় ফুটবল দলের অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের জাতীয় ফুটবল দল আগামীকাল, রবিবার, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে তাদের শেষ অনুশীলন করবে। ইরানের প্রথম ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি: ইরানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন কিছু মানুষ। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) রাতে মার্কিনিদের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে টেলিভিশনে একটি সাক্ষাৎকার দেন আরাগচি। এরপরই মাসহাদে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়।   বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো চাদর পরা এক নারী স্লোগান দিচ্ছেন “অনুপ্রবেশকারী বেঈমান আরাগচির মৃত্যু হোক।” এ সময় তিনি কালো ও লাল পতাকা উড়াচ্ছিলেন। আরেক বিক্ষোভকারী “আপসকারীর মৃত্যু হোক” বলে স্লোগান দিয়েছে। আরাগচিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেছেন “আপসকারী পদত্যাগ কর পদত্যাগ কর।” এসব বিক্ষোভকারীর মতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে শর্তে চুক্তি হতে যাচ্ছে সেগুলো ইরানের স্বার্থ করবে না। এরসঙ্গে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য থাকা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণও ইরান হারাবে। তাদের অভিযোগ, চুক্তি করতে ইরানি আলোচকরা অনেক বেশি ছাড় দিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ফাইল ছবি
লোকসভায় মমতার দলের আরও এক সাংসদের দলবদল, বিধানসভায়ও বাড়ছে বিদ্রোহী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিদ্রোহের আগুন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় মমতাকে ছেড়ে গেলেন আরও এক সাংসদ। শনিবার ২০তম সদস্য হিসেবে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন দলের দাপুটে নেতা ও লোকসভার সাবেক সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।   এর ফলে লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র আটটিতে। অন্যদিকে রাজ্যের বিধানসভাতেও মমতার দলের বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা ৫৮ থেকে বেড়ে ৬৪ জনে গিয়ে ঠেকেছে। ভারতের লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের আসন ছিল ২৮টি; কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ নিয়ে একে একে ২০টি আসনের পতন হলো। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংসদীয় দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে প্রথমে কাকলী ঘোষ দস্তিদার এবং পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়ায় এই বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। কাকলী ঘোষের নেতৃত্বে ১৯ জন সাংসদ একজোট হয়ে আগেই নতুন ব্লক বা গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। এ পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজধানী দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহী তালিকায় স্বাক্ষর করেন। জানা গেছে, এই বিদ্রোহীরা রোববার বৈঠক করে সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে সংসদে আলাদা বসার আসন চাইবেন।   এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভাতেও তৃণমূল বড় ধাক্কা খেয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছে মাত্র ৮০টি। ২০৮টি আসনে জিতে প্রথমবারের মতো সেখানে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি।   বড় পরাজয়ের পর মমতা ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দলটি বিধায়কেরা আলাদা ব্লক তৈরি করেছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা এখন ৬৪। সুদীপের স্ত্রী বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এই গোষ্ঠীতে যোগ দিলে সংখ্যাটি ৬৫-তে পৌঁছাবে। এ ছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা থেকেও তৃণমূলের চারজন সাংসদ পদত্যাগ করেছেন।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার মমতার বাসভবনে ডাকা বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কুণাল ঘোষসহ মাত্র কয়েকজন নেতা অংশ নেন। অন্যদিকে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে শনিবার শ্রীরামপুরের বটতলায় বিজেপি নেতা-কর্মীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ভারত মহাসাগরে মিলল ৫৩ লাখ বছরের প্রাচীন তিমির জীবাশ্ম

ভারত মহাসাগরের (Indian Ocean) তলদেশে বিশাল এক খোঁজ করলেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্বের বৃহত্তম ‘তিমির সমাধিক্ষেত্র’ (Whale Graveyard) আবিষ্কৃত হয়েছে এখন। চীনা বিজ্ঞানীদের এই ঐতিহাসিক আবিষ্কার থেকে জানা গেছে যে, লক্ষ লক্ষ বছর পুরোনো তিমির কঙ্কালে ভরা এই বিস্তৃর্ণ এলাকাটি এখন গভীর সমুদ্রে প্রাণী ও নতুন প্রজাতির আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল, ‘নেচার’ (Nature)-এ প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, ভারত মহাসাগরের গভীরে আবিষ্কৃত তিমির সমাধিক্ষেত্রটি পৃথিবীর গভীরতম এবং এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাচীন। এর মধ্যে কিছু জীবাশ্মের বয়স প্রায় ৫৩ লক্ষ বছর। ভারত মহাসাগরের গভীরে বিজ্ঞানীদের অভিযান রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনা বৈজ্ঞানিকরা ‘ফেনদৌজে’ নামের একটি ছোট ডুবোজাহাজ ব্যবহার করে দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরে এই অভিযান চালিয়েছেন। এই সাবমেরিনটি গোটা ২০২৩ সালে জুড়ে মোট ৩২ বার গভীর সমুদ্রে ডুব দেয়। আর প্রতিটি অভিযান থেকে পাওয়া তথ্য এখন নেচার পত্রিকার মাধ্যমে সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তিমির এই অতিপ্রাচীন কঙ্কালগুলো পরিচিত অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমে ভারত মহাসাগরের ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। সমুদ্রের তলদেশের এই অঞ্চলটি ‘ডায়ামান্টিনা জোন’ (Diamantina Zone) নামে পরিচিত। রোবটিক হাতের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা সমুদ্রপৃষ্ঠের ৭ কিলোমিটার গভীর থেকে ৫০০ টিরও বেশি তিমির হাড়ের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এত পরিমাণ কঙ্কাল বিস্মিত করেছে বিজ্ঞানীদের। তারা মনে করছেন ওই অঞ্চল জুড়ে প্রায় ১ কোটিও বেশি তিমির জীবাশ্ম রয়েছে। হোয়েল ফল (Whale Fall) কী? যখন একটি তিমি মারা যায় তখন স্বাভাবিকভাবেই তার বিশাল দেহটি জলের নীচে ডুবে যায়। একেই বলে হোয়েল ফল। এই দেহগুলিই ঠান্ডা, অন্ধকার পরিবেশে থাকা সামুদ্রিক প্রাণীদের খাদ্যের উৎস হয়ে ওঠে। ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলটি তিমিদের শিকার ধরার একটি পছন্দের জায়গা হয়ে থাকতে পারে। তাছাড়া সমুদ্রের ওই অংশে একটি ‘ভি’ (V) আকৃতির খাদ রয়েছে, যার ফলে মৃতদেহগুলি সরাসরি তলদেশে গিয়ে একত্রিত হয়েছে। এই গবেষণাপত্রের সহ-লেখক পেং ঝোউ জানিয়েছেন যে, স্বচক্ষে এই বিশাল ও প্রাচীন তিমির সমাধিক্ষেত্র দেখাটা সত্যিই তার কাছে এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা ছিল। সমুদ্রের নিষ্প্রাণ, অন্ধকার ও ঠান্ডা তলদেশে এই তিমির কঙ্কালগুলোকে ঘিরে শ্বাস নিচ্ছিল একটি প্রাণবন্ত বাস্তুতন্ত্র। লক্ষ লক্ষ বছরের প্রাচীন এই কঙ্কালগুলোর মধ্যে বসবাসকারী অনেক বিচিত্র প্রাণীকে আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে কিছু প্রজাতি সম্ভবত বিজ্ঞানের কাছেও নতুন। তিমির সমাধিক্ষেত্রে দেখা গেছে অনন্য প্রজাতির জেলিফিশ, ব্রিটল স্টার। এছাড়াও দেখা মিলেছে হাড়খেকো কৃমি এবং বাইভালভ নামের এক মোলাস্কের। জীবাশ্মগুলির মধ্যে একটি বিলুপ্ত তিমির প্রজাতিকেও খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যার নিদর্শন আগে কখনও পাওয়া যায়নি।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ইলন মাস্ক
উল্কার গতিতে উত্থান: ৬ বছরে ৩৮ গুণ বাড়ল মাস্কের সম্পদ

শুক্রবার ইলন মাস্কের মহাকাশ ও এআইভিত্তিক কোম্পানি স্পেসএক্সের রেকর্ড-ভাঙা অভিষেক হয় শেয়ারবাজারে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা লাখ কোটি ডলারের মালিক হয়েছেন ইলন মাস্ক। ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলার। তিনি অনেক দিন ধরেই বিশ্বের শীর্ষ ধনী। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, অ্যামাজনের জেফ বেজোস ও ফরাসি বিলাসপণ্যের গ্রুপ এলভিএমএইচের প্রধান বার্নার্ড আর্নল্টের মতো ধনকুবেরদের আরও ছাড়িয়ে গেছেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে প্রযুক্তিজগতে প্রথম আলোড়ন সৃষ্টি করেন মাস্ক। তবে তিনি সব সময় ধনীদের তালিকার শীর্ষে ছিলেন না। তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, গত ছয় বছরে উল্কার গতিতে ইলন মাস্কের উত্থান হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বের ৩৫তম ধনী ব্যক্তি ছিলেন তিনি, তখন তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত সাড়ে ছয় বছরে তাঁর সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩৮ গুণ। কিন্তু ওই বছর থেকেই তাঁর সম্পদ লাফিয়ে বাড়তে থাকে। সে বছর মাস্কের দুটি বড় কোম্পানি—বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি টেসলা এবং মহাকাশ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারমূল্য দ্রুত বাড়তে শুরু করে। দুটি কোম্পানিতেই মাস্কের বড় অংশীদারত্ব আছে। টেসলার শেয়ারদরের ওঠানামা, স্পেসএক্সের বাড়তি মূল্য ও ট্রাম্প প্রশাসনে মাস্কের দায়িত্ব পালন—সব মিলিয়ে মাস্কের চলার পথ বেশ নাটকীয়। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির খেতাব পান ইলন মাস্ক। সেবার তিনি ক্ষণিকের জন্য জেফ বেজোসকে ছাড়িয়ে যান। এরপর সময়-সময় তাঁর উত্থান-পতন হয়েছে। মাস্ক যখন বেজোসকে ছাড়িয়ে প্রথম বিশ্বের শীর্ষ ধনী হন, তখন তাঁর সম্পদমূল্য ছিল ১৯৫ বিলিয়ন বা ১৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এরপর সে বছর টেসলার শেয়ারদর বাড়লে নভেম্বর মাসে তাঁর সম্পদমূল্য বেড়ে হয় ৩৪০ বিলিয়ন বা ৩৪ হাজার কোটি ডলার। এরপর মাস্কের সম্পদমূল্য কমে যায়। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে যখন টুইটার কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়, তখন তাঁর সম্পদমূল্য ২০৪ বিলিয়ন বা ২০ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর সম্পদমূল্য কমে হয় ১২৪ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এক বছরে মাস্কের সম্পদমূল্য ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি কমে যায়। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে মার্কিন নির্বাচনের সময় মাস্কের সম্পদমূল্য ছিল ২৬৪ বিলিয়ন বা ২৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের মে মাসে যখন তিনি ট্রাম্প প্রশাসন ছেড়ে আসেন, তখন তাঁর সম্পদমূল্য ৩৮৭ বিলিয়ন বা ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যখন স্পেসএক্সের আইপিও বাজারে আসার খবর বেরোয়, তখন মাস্কের সম্পদমূল্য ৬৩৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে স্পেসএক্স ও এক্সএআই একীভূত হওয়ার সময় মাস্কের সম্পদমূল্য ছিল ৬৭০ বিলিয়ন বা ৬৭ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ার পর মাস্কের সম্পদমূল্য উল্কার গতিতে বেড়েছে। মহামারির সময় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর যে বাড়বাড়ন্ত হয়, তার সুফল পেয়েছেন মাস্ক। তবে ২০২২ সালে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম পড়ে গেলে তাঁর সম্পদমূল্যে ভাটা পড়ে। আবার ২০২৫ সালের শুরুতেও মাস্কের সম্পদমূল্য অনেকটা কমে যায়। ট্রাম্প প্রশাসনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ থেকে টেসলার শেয়ারদর কমে যায়। কিন্তু প্রতিবারই মাস্ক আরও শক্তি নিয়ে ফিরেছেন। এখন ট্রিলিয়নিয়ার মাস্ক তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ল্যারি পেজের চেয়ে প্রায় চার গুণ এবং মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি ধনী। মনে রাখা জরুরি, মাস্কের সম্পদ মূলত শেয়ার সম্পদ। এই সম্পদের মূল্য বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ওপর ভিত্তি করে ওঠানামা করতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে নিজের এক্সে অ্যাকাউন্টে এই প্রযুক্তি মোগল বলেন, তাঁর নিট সম্পদের ‘শূন্য দশমিক ১ শতাংশেরও কম’ নগদে অর্থে আছে। বর্তমানে টেসলায় মাস্কের অংশীদারত্ব ১২ শতাংশ, স্পেসএক্সে ৪২ শতাংশ। তাঁর অনেক শেয়ার আবার ব্যক্তিগত ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা হয়েছে। নগদের বদলে কাগজের সম্পদের ওপর এমন নির্ভরতা একধরনের অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে এই প্রযুক্তি গুরুর ছোট ব্যবসায়ও অংশীদারত্ব আছে, এর মধ্যে টানেল নির্মাণকারী দ্য বোরিং কোম্পানি ও নিউরালিংক উল্লেখযোগ্য। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিরা আর্থিক ও শিল্পের মতো খাতে সম্পদ গড়েছেন। কিন্তু এখনকার ধনীদের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর মধ্যে মাত্র দুজন ছিলেন প্রযুক্তিজগতের। এখন সেই সংখ্যা সাত, আর শীর্ষ ছয়জনই প্রযুক্তি খাতের।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: এপি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিরাপত্তার জন্য হুমকি: ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। দেশটির চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে তারা দাবি করেছেন, উদীয়মান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি থেকে বোঝা যাচ্ছে ওয়াশিংটন তেহরানের মূল শর্তগুলো মেনে নিয়েছে। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।  ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেন, ইরানিরা বিনা কারণে এতে সম্মত হচ্ছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ইরান ইস্যু নিয়ে কাজ করা ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রবিবার সই হওয়ার কথা থাকা সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে’। তাদের মতে, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে, ইরানের সরকার নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করবে এবং এটি ইরানের জনগণের জন্যও একটি চপেটাঘাত হবে। কর্মকর্তারা এই চুক্তির রূপরেখাকে ইরানের জন্য ‘বাকিতে পরিশোধ’ বা সুবিধা নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। কারণ, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে কেবল তখনই রাজি হয়েছে, যখন যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে এবং ইরানের অবরুদ্ধ করা তহবিল ছেড়ে দেওয়াসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করা হবে। একজন কর্মকর্তা চ্যানেল ১২-কে বলেন, এটি গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর চুক্তির একই ধরনের কাঠামো। হামাসকে নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতির কী হয়েছে, সেটি নিজেই ভাবুন। ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর যদি ইরান তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ শুরু না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কার্যকর চাপ প্রয়োগের কী উপায় থাকবে? বিশ্বাসযোগ্য সামরিক হুমকি প্রায় পুরোপুরি ক্ষয়ে গেছে। কর্মকর্তারা আরও অভিযোগ করেন, ইউরেনিয়াম বিষয়টি এখন ইউরেনিয়াম লঘুকরণ বা হালকা করার বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বিষয়টি এই চুক্তির অংশই নয়। যুদ্ধ চলাকালীন ইসরায়েল যেসব মূল সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিল, তার কোনোটিই এই চুক্তিতে সমাধান করা হয়নি বলে তারা উল্লেখ করেন।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে বসবাসে যুক্ত হলো নতুন শর্ত

সৌদি আরবে বসবাসরত প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি (অনূর্ধ্ব বা স্থায়ী বিশেষ আবাসন সুবিধা) হোল্ডারদের জন্য এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।  দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিজিটাল শ্রম প্ল্যাটফর্ম ‘কিওয়া’ এই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। স্থানীয় দৈনিক ওকাজ পত্রিকার বরাতে জানা গেছে, এই বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটটি পাওয়ার জন্য প্রতি আবেদনকারীকে ১০০ সৌদি রিয়াল ফি প্রদান করতে হবে। সম্প্রতি কিওয়া প্ল্যাটফর্মটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন, প্রশিক্ষণ চুক্তি, কর্মীদের পদত্যাগ এবং ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার প্রক্রিয়া সহজ ও সুনির্দিষ্ট করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কিওয়া প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন ফি বা নিবন্ধন মাশুল এক রকম হবে না। প্রতিষ্ঠানের আকার এবং কোম্পানির ইউনিফাইড নম্বরের অধীনে নিবন্ধিত মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই ফি নির্ধারণ করা হবে। এই সেবামূল্য পরিশোধের জন্য গ্রাহকরা ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট নম্বর এবং কিওয়া ডিজিটাল ওয়ালেটের মতো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া, সৌদির জনপ্রিয় কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘তামহীর’-এর আওতাধীন চুক্তিগুলো এখন থেকে কিওয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে নথিভুক্ত করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই প্রশিক্ষণ চুক্তিগুলো সৌদিকরণ বা নির্দিষ্ট হারে স্থানীয় কর্মী নিয়োগের বাধ্যবাধকতার হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না। একই সাথে এটি কর্মসংস্থান চুক্তি ডকুমেন্টেশনের বর্তমান কমপ্লায়েন্স বা শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। কর্মীদের পদত্যাগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করার সুযোগ পাবেন।  তবে এই সুবিধাটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যদি উক্ত সাত দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি সেই পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করে থাকে কিংবা সিদ্ধান্ত স্থগিত না রাখে। পাশাপাশি, চাকরি ছাড়ার আগের নোটিশ পিরিয়ড বা সময়সীমা কেমন হবে, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মীর ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান চুক্তির শর্তাবলীর ওপর নির্ভর করবে এবং এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে কিওয়া স্পষ্ট করেছে যে একবার কোনো ভিসা ইস্যু হয়ে গেলে তার তথ্য আর সংশোধন বা পরিবর্তন করা যাবে না। যদি ভিসায় কোনো ভুল তথ্য ইনপুট দেওয়া হয়ে থাকে, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেই ভিসাটি বাতিল করতে হবে এবং সঠিক তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে আরেকটি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। সূত্র: গালফ নিউজ।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
কেনেডি সেন্টার থেকে সরানো হলো ট্রাম্পের নাম

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একটি ফেডারেল আদালতের নির্দেশের পর শনিবার এই কাজ সম্পন্ন করা হয়।   কেনেডি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ম্যাট ফ্লোকা জানিয়েছেন, ভবন ও এর আশপাশে থাকা ট্রাম্পের নামসংবলিত সব সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভবনের সামনের বড় অক্ষরে লেখা ট্রাম্পের নামও সরিয়ে ফেলা হয়।   গত মে মাসে বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার রায় দেন, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প কেনেডি সেন্টার’ করা আইনসম্মত হয়নি। তিনি বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল মার্কিন কংগ্রেসের রয়েছে। তাই ট্রাম্পের নাম সরাতে প্রশাসনকে ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল।   ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর নিজেকে কেনেডি সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। পরে তার সমর্থকদের নিয়ে গঠিত পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী ভবনের গায়ে ট্রাম্পের নামও যুক্ত করা হয়েছিল।   আদালতের রায়ের পর কেনেডি সেন্টারের ওয়েবসাইট থেকেও ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলা হয়। নাম অপসারণের কাজ দেখতে শুক্রবার রাত থেকেই ভবনের বাইরে অনেক মানুষ জড়ো হন।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও বিচারক তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, বেআইনি সরকারি সিদ্ধান্ত দীর্ঘায়িত করা জনস্বার্থের পরিপন্থী।   কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কয়েকজন শিল্পী তাদের নির্ধারিত অনুষ্ঠানও বাতিল করেছিলেন।  সূত্র : জিওনিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি উদ্যোগে থাকবে না ইসরাইল: নেতানিয়াহু

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে চললেও সেই প্রক্রিয়ার অংশ হবে না ইসরাইল। সম্ভাব্য সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার আগে এমন অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে চুক্তির পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে মতবিরোধও দেখা দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, সম্ভাব্য এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে লেবাননকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। পাশাপাশি দখলকৃত কিছু এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত করেছেন তিনি। তবে ইসরাইলের অবস্থান ভিন্ন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি ও লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। একইসঙ্গে এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেছেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখতে চায় ইসরাইল। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকে রোববার সই হচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছিলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাঈ বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে রোববার এটি হচ্ছে না। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য ই-স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে এবং এর পরবর্তী ধাপে আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। শাহবাজ শরিফ বলেন, শান্তি চুক্তির কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছানো গেছে এবং আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   সূত্র: রয়টার্স, এএফপি

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজের কাছে ১৪১টি জাহাজ ঘুরিয়ে দিয়েছে সেন্টকম

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৪১টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সময়ে নয়টি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।   গত ১১ জুন সেন্টকম জানিয়েছিল, ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল অব্যাহত রয়েছে।   অন্যদিকে ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, জরুরি বিধিনিষেধের কারণে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় শত শত জাহাজ রয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে চুক্তি সইয়ের সময় নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ১৪ জুন চুক্তি সই হবে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে আরও ২৪ ঘণ্টা লাগতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, রোববার কোনো চুক্তি সই হবে না।   প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ঠেকানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননে ৭০টির বেশি স্থাপনায় হামলার দাবি ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ৭০টির বেশি স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে সংগঠনটির সাত সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিখাই আদরাই বলেন, নিহত ব্যক্তিরা একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। সেখানে গোলাবারুদ, মর্টার শেল ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মজুত ছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।   শনিবার ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ লেবাননের কফারতেবনিত, কফারহুনেহ, আল-রাইহান ও সাজদসহ কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালায়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭১১ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৪৮৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু এবং ২৩ জনের বেশি লেবানিজ সেনাসদস্য রয়েছেন।   অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, কফারতেবনিত এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া রাশাফ এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ এবং সীমান্তবর্তী মারুন আল-রাস এলাকায় একটি সামরিক অবস্থানে ড্রোন হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে হিজবুল্লাহ।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

দাড়ি রেখে প্রশংসায় ভাসছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার

মারিয়া রহমান জুন ১১, ২০২৬