বিশ্ব

ছবি : সংগৃহীত
চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টি মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সোমবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ককে “অটুট, সর্বকালীন ও আয়রনক্ল্যাড (লোহার মতো শক্ত)” অংশীদারিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও চীন পাকিস্তানের পাশে থাকবে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করা হবে।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই বৈঠকে চীনকে পাকিস্তানের “আয়রন ব্রাদার” বা অটুট বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে চলমান চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) প্রকল্পের অগ্রগতি, শিল্পায়ন, কৃষি উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।   বৈঠকে দুই নেতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়েও আলোচনা করেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়।   এছাড়া এই সফরের অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও চীনের বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে প্রায় ১.২২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চীন–পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) ও CPEC প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপকে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, এই বৈঠক চীন–পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও গভীর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক হামলা ইসরাইলের

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও রোববার দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হিজবুল্লাহ প্রধান। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। রোববার ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট ইসলামিক হেলথ কমিটির এক প্যারামেডিকসহ দু’জন নিহত হয়েছেন বলে জানা যায়। এর আগের দিন দক্ষিণাঞ্চলীয় সির আল-গারবিয়েহ এলাকায় এক হামলায় ছয় নারী ও এক শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়। মন্ত্রণালয় এই হত্যাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। রোববার মন্ত্রণালয় জানায়, এর আগের দিন দক্ষিণাঞ্চলের সির আল-গারবিয়াহতে এক হামলায় ছয় নারী ও এক শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছে। মন্ত্রণালয় এই হত্যাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশকারী ইসরাইলি সেনাদের পাশাপাশি সীমান্তের ওপারের লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপরও হামলা অব্যাহত রেখেছে। রোববার রকেট, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে চালানো ২০টিরও বেশি হামলার কথা তারা স্বীকার করেছে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশপাশি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, রোববার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ৩০টিরও বেশি স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে, যার কয়েকটিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন এলাকায় হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিকরা।  ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার এক ডজনেরও বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রাতের ইসরাইলি হামলায় নাবাতিয়েহ অঞ্চলে তাদের একটি স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে।  এএফপির এক আলোকচিত্রী বলেন, সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করছেন। এএফপি’র জেরুজালেম ব্যুরোর প্রশ্নের জবাবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই হামলা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিতে পারে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত ও পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টিও ওই চুক্তির অংশ এবং এ নিয়ে আলোচনা বেশিরভাগই সম্পন্ন হয়েছে। ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মিত্র দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য চার দিনের ভারত সফরে থাকা রুবিও বলেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইতিবাচক খবর আসতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। তার মতে, আলোচনার সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, বিশ্বকে আর ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হবে না। ট্রাম্প শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আলাদাভাবে ইসরায়েলের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, চুক্তির চূড়ান্ত দিকগুলো এবং বিস্তারিত বিষয় বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে। খুব শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে। তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না। পাশাপাশি দেশটি তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদও পরিত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, কীভাবে ইরান এই ইউরেনিয়াম ত্যাগ করবে, তা নিয়ে আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হবে। তার মতে, মজুদের একটি অংশের সমৃদ্ধকরণ মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে; সম্ভবত রাশিয়ায় স্থানান্তর করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে। অস্ত্র-মানের ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণে পৌঁছাতে এটি প্রযুক্তিগতভাবে খুবই স্বল্প দূরত্বে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার শুরু করলে সমান্তরালভাবে হরমুজ প্রণালিও ধীরে ধীরে উন্মুক্ত করা হবে। অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মাধ্যমে ইরানকে তেল বিক্রির অনুমতি দেবে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের বিষয়গুলোও ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমার মধ্যে চূড়ান্ত হবে। এদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এখনও তাদের জন্য বড় হুমকি এবং লেবাননের পক্ষে সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করা কঠিন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, লেবাননসহ সব ক্ষেত্রে হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার স্বাধীনতা ইসরায়েল বজায় রাখবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ইরানকে পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে ফেলতে হবে এবং দেশের বাইরে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে হবে। এই শর্ত পূরণ ছাড়া তিনি কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না। ইসরায়েলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল, যিনি নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার অংশ, রোববার সেনাবাহিনীর রেডিওকে বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে অপেক্ষা করো, দেখো নীতি অনুসরণ করছে। সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও সিএনএন

মারিয়া রহমান মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।
যুদ্ধ সত্ত্বেও হজের জন্য সৌদি পৌঁছেছে রেকর্ড সংখ্যক মুসল্লি

এক সৌদি কর্মকর্তার মতে, এ বছর হজ পালনের জন্য ১৫ লাখেরও বেশি বিদেশি তীর্থযাত্রী সৌদি আরবে এসেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও উত্তেজনা চললেও এই সংখ্যা গত বছরের বিদেশি হজযাত্রীর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ইরান সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এতে বিমান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভ্রমণ ব্যয়ও বেড়ে যায়। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের বড় বিমান সংস্থাগুলো কয়েক সপ্তাহ আকাশপথ বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিলের পর আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে কাজ করছে। তবে এসব সমস্যার মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিরা হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে আসছেন। সৌদি আরবের হজ পাসপোর্ট বাহিনীর কমান্ডার সালেহ আল-মুরব্বা শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিদেশ থেকে আগত হজযাত্রীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১৫ লাখ ১৮ হাজার ১৫৩ জনে পৌঁছেছে।  যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ফাদেল বলেন, যুদ্ধ চললেও তিনি সিদ্ধান্ত বদলাননি এবং হজে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নিঃসন্দেহে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় আছি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি আবার খারাপ হলে হজযাত্রীদের যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং কিছু মানুষ আটকে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তবুও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিরা হজ পালনে সৌদি আরবে যাচ্ছেন। অনেকের কাছে এটি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, তাই তারা ভয় উপেক্ষা করে অংশ নিচ্ছেন।

মারিয়া রহমান মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ৯০০ ছাড়াল

আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯০০-এর বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত সন্দেহে শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০১ জনের শরীরে ইবোলা ভাইরাস নিশ্চিত হয়েছে। দেশটির তিনটি প্রদেশে এই রোগে অন্তত ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। ইবোলা খুবই ভয়ংকর একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। এ রোগে জ্বর, রক্তক্ষরণসহ গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এবার যে ধরনের ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়েছে, তার কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা এখনো নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ পেরিয়ে চীন ও পাকিস্তানের পথে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার

প্রায় তিন মাস পর আবারও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী বড় বড় জাহাজ চলাচল শুরু করেছে। আজ সোমবার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী দুটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পাকিস্তান ও চীনের পথে যাত্রা করেছে। খবর রয়টার্সের। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, একটি এলএনজি ট্যাংকার পাকিস্তানে যাচ্ছে এবং আরেকটি চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর আগে ইরাকের অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি বড় তেলবাহী জাহাজও এই প্রণালি পার হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন সীমিত আকারে আবার জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ইরান নির্দিষ্ট একটি রুট ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। গত কয়েক দিনে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে কয়েকটি বড় তেলবাহী জাহাজও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে এখনো উপসাগর এলাকায় শত শত জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৫, ২০২৬
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চুক্তি আজই হতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা চুক্তি ‘আজই’ হতে পারে। একই সঙ্গে ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে বলেও জানান তিনি।  বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমানে ভারত সফরে আছেন রুবিও।  সেখানে নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গত রাতে কিংবা আজ কোনো অগ্রগতির খবর আসতে পারে বলে আমরা ভেবেছিলাম। তবে এ নিয়ে এখনই বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না।‘ তিনি আরও বলেন, ‘ইসরাইলের নিজের নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার সবসময়ই আছে। যদি হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বা হামলা চালায়, তাহলে জবাব দেওয়ার অধিকার তেল আবিবের অবশ্যই রয়েছে।’ ভারত সফর শেষে দিল্লি ত্যাগের সময় তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে, ইরানের সঙ্গে নতুন কোনও চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্র তাড়াহুড়ো করবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২৪ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, চুক্তি চূড়ান্ত, প্রত্যয়িত ও স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সর্বশেষ এই বক্তব্য শনিবারের তুলনায় অনেক বেশি সংযত। শনিবার তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।   তথ্যসূত্র: দ্য ডন

মারিয়া রহমান মে ২৫, ২০২৬
সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকো। ছবি: সংগৃহীত
সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার পর বরখাস্ত সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী

সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে কয়েক মাসের রাজনৈতিক উত্তেজনার পর প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে বরখাস্ত করেছেন এবং সরকার ভেঙে দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সোনকোর পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি সমকামিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, এক আকস্মিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ খবর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি ইতোমধ্যে ব্যাপক ঋণের বোঝার মধ্যে থাকায় ঘটনাটি রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে। সোনকো সম্প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনার জবাবে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো অন্য দেশের ওপর সমকামিতার 'চাপ' তৈরি করার চেষ্টা করছে। সমকামিতার অপরাধের জন্য শাস্তি কঠোর করার একটি নতুন আইন সেনেগালে পাশ হওয়ায়, সোনকো এই মন্তব্য করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সমালোচনার কথা উল্লেখ করে বলেন, 'যদি তারা এই পথ বেছে নেয়, সেটা তাদের সমস্যা। এ বিষয়ে আমাদের শিক্ষার প্রয়োজন নেই।' প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ওমর সাম্বা অধ্যাদেশটি পড়ে শোনান এবং জানান, প্রেসিডেন্ট ফায়ে সোনকোকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, যার ফলে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীরাও পদত্যাগ করেছেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। বরখাস্ত হওয়ার পর সোনকো সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, 'আলহামদুলিল্লাহ। আজ রাতে আমি কুয়ের গরগুইয়ে শান্তিতে ঘুমাব।' কুয়ের গরগুই সোনকোর নিজ এলাকা, যা ডাকারের মধ্যে অবস্থিত। এ সময় তার শত শত সমর্থক তার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ফায়ে মূলত সোনকোর সমর্থনের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সোনকোই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে সম্ভাবনাশীল ব্যক্তি ছিলেন, তবে মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেননি। সোনকো এবং ফায়ে একসময় পাস্তেফ পার্টি গঠন করেছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে দুর্নীতি রোধ এবং অর্থনীতি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথম ধাপের ভোটেই তারা জয়লাভ করেন। সেনেগালের তরুণদের মধ্যে সোনকো ব্যাপক জনপ্রিয়, বিশেষ করে তাঁর প্যান-আফ্রিকান মনোভাব এবং সাবেক ঔপনিবেশিক ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তরুণদের আকৃষ্ট করে। তবে সব ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ফায়ের হাতে থাকায়, তিনি চাইলে অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সরাতে পারেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দুইজনের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। গত মে মাসে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ফায়ে প্রকাশ্যভাবে সোনকোর একক আধিপত্যের সমালোচনা করেন। সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নতুন প্রশাসন বিশাল ঋণের বোঝার মধ্যে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, সেনেগালের ঋণের পরিমাণ মোট জিডিপির ১৩২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাব-সাহারা আফ্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সম্প্রতি পার্লামেন্টে পাশ হওয়া একটি নতুন বিলের মাধ্যমে ২০২৯ সালের নির্বাচনে সোনকো অংশগ্রহণ করতে পারবে। এই আইনি সংস্কার পূর্বের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে, যা মানহানির মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে দাঁড়াতে বাধা দিত।

মারিয়া রহমান মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র হজ শুরু, মিনায় যাচ্ছেন হজযাত্রীরা

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে সৌদি আরবে। আজ সোমবার, ৮ জিলহজ থেকে হজের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হজযাত্রীরা মক্কা থেকে মিনার দিকে যাত্রা শুরু করেছেন। খবর সৌদি গেজেটের।   গতকাল রোববার রাত থেকেই হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান হিসেবে তালবিয়া পাঠ করতে করতে মিনার দিকে রওনা হন। মিনাকে তাঁবুর নগরী বলা হয়, যেখানে হজের প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।   সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হজযাত্রীরাও যুক্ত হয়েছেন।   মন্ত্রণালয় জানায়, হজযাত্রীদের মিনায় স্থানান্তর, থাকা-খাওয়া এবং পরিবহন ব্যবস্থা আগে থেকেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁবুতে প্রবেশ, নির্দেশনা প্রদান এবং সেবা ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ সমন্বিত ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   এছাড়া মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে হজযাত্রীদের কোনো ধরনের সমস্যা না হয় এবং সব সেবা নির্বিঘ্নে নিশ্চিত করা যায়। ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী, ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ দিন থেকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, যা পরবর্তী কয়েক দিনে হজের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধের মধ্যেও বেড়েছে হজযাত্রীর সংখ্যা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এবারের হজে অংশ নিতে সৌদি আরবে বিদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।   সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখ ১৮ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। গত বছরের তুলনায় এটি কিছুটা বেশি। খবর আরব নিউজের। ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী দিনগুলোতে আরও হজযাত্রী আসতে থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়বে। ইতিমধ্যে হাজিরা মক্কা থেকে মিনার তাঁবু শহরের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন, যেখানে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ বছর মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা থাকলেও অনেক মুসলিম ভ্রমণ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি উপেক্ষা করে হজে অংশ নিতে এসেছেন। অনেক হজযাত্রী জানিয়েছেন, ধর্মীয় কর্তব্য পালনের জন্য তারা ভয়কে গুরুত্ব দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ ও আকাশপথে কিছু বাধা থাকা সত্ত্বেও হজযাত্রার বড় অংশ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়াটা আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার পালন করা বাধ্যতামূলক।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় পেট্রোনাসের ভাসমান জাহাজে দুর্ঘটনা, নিহত ৩

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস পরিচালিত একটি ভাসমান সংরক্ষণ জাহাজে দুর্ঘটনায় তিন কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। খবর আরব নিউজের।   কোম্পানিটি জানিয়েছে, রোববার দেশটির পূর্ব উপকূলীয় তেরেঙ্গানু অঙ্গরাজ্যের কাছে থাকা একটি ভাসমান জাহাজে লাইফবোটের রক্ষণাবেক্ষণের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, কয়েকজন কর্মী লাইফবোটে করে সমুদ্রে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছিলেন। এ সময় লাইফবোটের সঙ্গে যুক্ত দড়ি বা হুক খুলে গেলে তারা সমুদ্রে পড়ে যান। পরে চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত আরেক কর্মী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পেট্রোনাস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত চলছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৫, ২০২৬
প্রতীকী ছবি
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার সম্ভাবনায় তেলের দামে বড় পতন

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।   সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারের তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। জ্বালানির দাম কমে আসায় স্বস্তি ফিরেছে এশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্যে। এর প্রভাবে জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক ‘নিক্কেই ২২৫’ প্রায় আড়াই শতাংশ বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল হওয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে ছিল। সম্ভাব্য এই চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নৌপথ পুনরায় সচল করা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে মার্চ থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করতে তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এছাড়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তার ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো চুক্তিতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার কঠোর শর্ত থাকবে। তবে আলোচনার অগ্রগতি হলেও ট্রাম্প তার আলোচক দলকে ধীরস্থিরভাবে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে একটি কার্যকর ও টেকসই চুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কিছু বিষয়ে দূরত্ব কমলেও এখনো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জ্বালানি ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি চুক্তির খবরে আপাতত তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তেল স্থাপনা পুনর্গঠন এবং বিশ্ববাজারে কমে যাওয়া জ্বালানি মজুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে। সূত্র : বিবিসি।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৫, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নয়, যুক্তরাষ্ট্র ধীরে এগোবে : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করতে নিজের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২৪ মে) তিনি বলেন, তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান নিয়ে আসন্ন কোনো বড় অগ্রগতির আশা তার প্রশাসন এখনই দেখছে না, যদিও একদিন আগেই সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, চুক্তি সম্পন্ন, অনুমোদিত এবং স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে। তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষকেই সময় নিতে হবে এবং বিষয়টি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির বেশ কিছু বিষয়ে এখনো বাধা সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ছাড়ের দাবি। একদিন আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান শান্তি চুক্তির জন্য একটি সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে বেশিরভাগ আলোচনা সম্পন্ন করেছে। ওই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথাও রয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতো। তবে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইসরায়েলের যুদ্ধ, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের তেল আয় ফেরত দেওয়ার দাবি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান নীতিগতভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে ফেলতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি চুক্তির সামগ্রিক কাঠামোর প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। নীতিগতভাবে সম্মতি বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা হলো প্রথমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। এরপর পারমাণবিক ইস্যুর কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা হবে। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণে দেশটি সম্মত হয়নি; এমন ধারণাও তিনি নাকচ করেন। তার ভাষায়, প্রশ্নটা সম্মতির নয়, বরং কীভাবে করা হবে সেটি। প্রশাসনের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচকদের ৬০ দিন সময় দেওয়া হবে। রয়টার্সকে দেওয়া ইরানি সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী ধাপে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে নিম্নমাত্রায় রূপান্তরের মতো বাস্তবসম্মত পদ্ধতি নিয়ে সমাধান খোঁজা হতে পারে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে। যদিও ইরান যে মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, তা বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। এদিকে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা চাপে পড়েছে। পাশাপাশি তার যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করতে কংগ্রেসেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুরু করা সংঘাতের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি বারবার সামনে আনছেন ট্রাম্প। গত এপ্রিলের শুরু থেকে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তির খবর সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমেছে। সপ্তাহের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমে আসে। মে মাসের শুরুর পর এই প্রথম তা ১০০ ডলারের নিচে নামলো। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ৪ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৩ ডলারে দাঁড়ায়। তবে সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা প্রকাশ পাওয়ার পর সমালোচনাও শুরু হয়েছে। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পোম্পেও এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের অনেকে বলেছেন, এই চুক্তি মূলত ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তি, যেখান থেকে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তির রূপরেখা মূলত যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার শামিল। তিনি বলেন, আমার মনে হয় এটি একটি ভুল পদক্ষেপ ছিল। যখন আপনি একটি গর্ত খুঁড়ছেন, তখন খনন বন্ধ করা উচিত। মনে হচ্ছে আমরা অবশেষে সেটাই করছি। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহ দেখানোর কারণে রক্ষণশীল মহল থেকেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। এর জবাবে তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, আমি যদি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করি, তাহলে সেটি ভালো ও যথাযথ চুক্তিই হবে। তাই এমন লোকদের কথা শুনবেন না, যারা কিছু না জেনেই সমালোচনা করে। সম্ভাব্য আরেকটি বাধা হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক সামরিক উপদেষ্টা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পরিচালনার আইনি অধিকার তেহরানের রয়েছে। তবে এর অর্থ ভবিষ্যতেও কোন জাহাজ চলাচল করবে তা ইরানই নির্ধারণ করবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তেহরানের অনুমতি নিয়ে ৩৩টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধের আগে যেখানে দৈনিক গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করতো। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নাজুক যুদ্ধবিরতিকে শক্তিশালী করতে পারে এমন যেকোনো চুক্তি বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দ্রুত শেষ হবে না। এই সংকট ইতোমধ্যে জ্বালানি, সার ও খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। গত সপ্তাহে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির প্রধান বলেন, যুদ্ধ এখনই শেষ হলেও ২০২৭ সালের প্রথম বা দ্বিতীয় প্রান্তিকের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি ফিরে আসবে না। সূত্র : রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলার পক্ষে ট্রাম্প : নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভবিষ্যতের যেকোনো চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। নেতানিয়াহু বলেন, আমি ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। সেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার দাবি, উভয় পক্ষ একমত হয়েছে যে ভবিষ্যতের যেকোনো চুক্তিতে পারমাণবিক হুমকি পুরোপুরি দূর করতে হবে। এর মধ্যে থাকবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা ভেঙে ফেলা এবং সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া। নেতানিয়াহু আরও বলেন, ট্রাম্প ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে লেবানন সীমান্তসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ চালানোর অধিকার থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর চাপ ও অবরোধ বহাল থাকবে। তিনি আলোচকদের তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। ট্রাম্প আরও বলেন, বর্তমান আলোচনা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ের চুক্তি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়েছিলেন। এদিকে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টিও রয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তির আগে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
খসড়া চুক্তিতে থাকছে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি খসড়া সমঝোতা চুক্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে।   সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী ৬০ দিনের একটি সময়সীমার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা করবে। অন্যদিকে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মৌখিক আশ্বাস দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরান চেয়েছে, তাদের জব্দ থাকা অর্থ দ্রুত ছাড় এবং স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক। খসড়া চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ শিথিল করতে পারে এবং দেশটিকে তেল রপ্তানির সুযোগ দিতে পারে। এর শর্ত হিসেবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ইরানের বিস্তৃত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আরও বড় আলোচনা শুরু হতে পারে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে, বাকি মাত্র ৫ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় একটি বড় ধরনের সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, চুক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশ বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে এবং এখন শুধু কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।   খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম মজুত এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বিষয়গুলো নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। তবে যেকোনো সময় চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচকদের তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনও সময় রয়েছে এবং ধীরে-সুস্থে চুক্তি চূড়ান্ত করা উচিত। অন্যদিকে, আলোচনায় ইরানের ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং ধাপে ধাপে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের নেতা মোজতবা খামেনি নীতিগতভাবে এই চুক্তির কাঠামোতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কয়েকদিন লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে এবং আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
টানা তিন বছর হজে যেতে পারছেন না গাজার মুসল্লিরা

টানা তিন বছর পবিত্র হজ পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো গাজার হাজারো মুসলিম। যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি এবং সীমান্ত বন্ধ থাকায় সৌদি আরবে যেতে পারছেন না নিবন্ধিত হজযাত্রীরা। ইতোমধ্যে হজের অপেক্ষায় থাকতেই ৭১ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে।   ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর গাজা থেকে নিবন্ধিত ২ হাজার ৪০২ জন হজযাত্রী এখনো সৌদি আরবে যেতে পারেননি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলা ও অবরোধের কারণে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে। গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ও ওমরাহ বিভাগের মহাপরিচালক রামি আবু বলেন, প্রতি বছর ফিলিস্তিনের জন্য বরাদ্দ ৬ হাজার ৬০০ হজ কোটার প্রায় ৩৮ শতাংশ গাজার মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত থাকত। কিন্তু গত তিন বছর ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গাজাবাসীরা হজে যেতে পারছেন না।   তিনি জানান, ২০১৩ সাল থেকে লটারিতে নির্বাচিত ২ হাজার ৪৭৩ জন গাজাবাসী এখনো হজ পালনের অপেক্ষায় আছেন। তাদের মধ্যে ৭১ জন ইসরায়েলি হামলা কিংবা স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন। প্রতিবেদনে গাজার এক নারী সৌদ হাজ্জাজের কথাও উঠে এসেছে। যুদ্ধের আগে স্বামী, ভাই ও ভাবিকে নিয়ে হজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইসরায়েলি হামলায় তার স্বামী নিহত হন, ভাই নিখোঁজ হন এবং বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যায়। বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।   হাজ্জাজ বলেন, হজের জন্য জমানো সব অর্থ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে প্রাণে বাঁচলেও জীবনের প্রায় সবকিছু হারিয়েছেন তিনি। এর আগে গাজার হজযাত্রীরা রাফা সীমান্ত হয়ে মিশরে প্রবেশ করতেন। সেখান থেকে কায়রো হয়ে সৌদি আরবে যেতেন তারা। তবে ২০২৪ সালের মে মাসে রাফা সীমান্তের ফিলিস্তিনি অংশ দখলে নিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। এরপর থেকেই গাজাবাসীর বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।   ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, হজে যেতে না পারা শুধু ভ্রমণসংক্রান্ত সংকট নয়; এটি যুদ্ধ ও অবরোধে বিপর্যস্ত মানুষের দীর্ঘস্থায়ী বেদনা এবং অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ইবোলা আতঙ্কে কঙ্গোয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগুন, উধাও ১৮ রোগী

ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) মংবওয়ালু শহরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে।   স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা চিকিৎসাকেন্দ্রের একটি তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দিলে সেখানে থাকা ১৮ জন সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী পালিয়ে গেছেন। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় হাসপাতাল পরিচালক ডা. রিচার্ড লোকুদি। খবর সিএনএনের ডা. রিচার্ড লোকুদি জানান, গত শুক্রবার রাতে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ পরিচালিত তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখানে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। হামলায় কেউ আহত না হলেও আতঙ্কে রোগীরা ছুটোছুটি শুরু করে এবং ১৮ জন সন্দেহভাজন রোগী পালিয়ে যান। এটি এক সপ্তাহের মধ্যে এই ধরনের দ্বিতীয় হামলা। এর আগেও রোয়ামপারা শহরের একটি ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে এক ব্যক্তির মৃত্যু ইবোলায় হয়েছে সন্দেহে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইবোলায় মৃত ব্যক্তির দেহ অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে দাফনের ব্যবস্থা করছে। তবে এ নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। গত শনিবার রোয়ামপারায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইবোলা আক্রান্তদের গণদাফন সম্পন্ন হয়। রেড ক্রসের টিম লিডার ডেভিড বাসিমা জানান, স্থানীয় যুবকদের বাধা ও প্রতিরোধের মুখে তাঁদের কাজ করতে হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সাদা সুরক্ষা পোশাক পরা স্বাস্থ্যকর্মীরা সিল করা কফিন মাটিতে নামিয়ে দাফন সম্পন্ন করেন, আর দূর থেকে স্বজনদের কান্না করতে দেখা যায়। ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে উত্তর-পূর্ব কঙ্গোতে ৫০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত ও রাতভর শোকসভা নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ডিআরসিতে এই প্রাদুর্ভাব এখন ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ তৈরি করেছে, যদিও বৈশ্বিক সংক্রমণের ঝুঁকি এখনো কম। ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানান, এখন পর্যন্ত ৮২টি নিশ্চিত সংক্রমণ ও সাতজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭৫০টি সন্দেহভাজন ইবোলা সংক্রমণ ও ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ১৭৭টি সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার ছড়িয়ে পড়া বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাসের কোনো কার্যকর টিকা এখনো নেই। আফ্রিকা সিডিসি বলছে, এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তথ্য সূত্র- সিএনএন।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চললেও পশ্চিমা দেশগুলো থেকে হজে মুসল্লিদের ঢল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা সত্ত্বেও পশ্চিমা দেশগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি এবারের হজ পালনে সৌদি আরবে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ৪৯ বছর বয়সী ফাদেল বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, যুদ্ধ চললেও তিনি হজে আসার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াতেন না। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। তিনি বলেন, ‘আমরা নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় আছি।’   কোরআনের একটি আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন।  ফাদেল বলেন, ‘যুদ্ধ চলতে থাকলেও আমি হজে আসা বাতিল করতাম না।’ পশ্চিমা দেশ থেকে আসা অনেক মুসল্লির মধ্যেই একই ধরনের অনুভূতি দেখা গেছে।  যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও, মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আয়োজন হজে অংশ নিতে তারা সৌদি আরবে আসছেন। এবারের হজ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। যদিও এপ্রিল থেকে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তারপরও উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে গত মাসে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের হজে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়।  দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও যাতায়াতে বিঘেœর কারণে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে হজযাত্রীদের যাতায়াত ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে, অনেক মুসল্লির কাছে ইসলামের এই পবিত্র ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের সুযোগ যুদ্ধজনিত অস্থিরতার আশঙ্কার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সপ্তমবারের মতো হজে অংশ নিতে আসা ৪৭ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক সাইয়েদ বলেন, এখানে আসা নিয়ে তার মনে কোনো ‘দ্বিধা’ ছিল না।  যদিও তার নিজের সরকার নাগরিকদের এ অঞ্চলে ভ্রমণের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে। সাদা পোশাক পরিহিত অবস্থায় মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি এএফপিকে বলেন, যখন কেউ হজে আসার নিয়ত করে, তখন সে আল্লাহর ওপর ভরসা করেই আসে। আর সে কারণেই তিনি এখানে এসেছেন এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখেন যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। হজ সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১০ লাখের বেশি মুসল্লি মক্কায় জড়ো হয়েছেন। তাদের পোশাক, ব্যাগ ও ছাতায় নিজ নিজ দেশের পরিচয়ও ফুটে উঠছে। জার্মানির নাগরিক ৬৩ বছর বয়সী ইব্রাহিম দিয়াব বলেন, ‘এ সুযোগ জীবনে একবারই আসে। তাই উপসাগরীয় অঞ্চলের অনিশ্চিত পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমি এটি হাতছাড়া করতে চাইনি।’ তবে অনেক মুসল্লি স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন।  ব্রিটিশ নাগরিক ইমাদ আহমদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম।’ তিনি জানান, জর্ডানের আকাশসীমায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় তার সৌদি আরব যাত্রা কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়েছিল।  তবে ইমাদ বলেন, মক্কার উদ্দেশে তার যাত্রা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ ছিল না। তিনি আরও বলেন, ইনশাআল্লাহ, আমি হজ পালন করবই।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেবেন মাচাদো

 ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। শনিবার পানামা সফরের সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি ভেনেজুয়েলার প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। পানামা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। মাচাদো বলেন, ‘আমি প্রার্থী হব।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।  তার বিশ্বাস, এসব উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের পথ তৈরি করবে। মাচাদো বলেন, এখানে একটি লক্ষ্যই রয়েছে। আর তা হলোÑ আমাদের দেশকে মুক্ত করা এবং স্বাধীন ও সুষ্ঠু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করা, যেখানে সব ভেনেজুয়েলাবাসী ভোট দিতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকার, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ওপর বিশ্বাস রাখি, আস্থা রাখি ও অর্জিত অগ্রগতির জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’ সোমবার এখনও পানামায় অবস্থানকালে মাচাদো দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো এবং জাতীয় পরিষদে সফর করবেন। ট্রাম্প এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে আটক করার পর নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনও কোনো নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বিস্ফোরণের ঝুঁকিতে রাসায়নিক ট্যাংক

 যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিষাক্ত রাসায়নিক ভর্তি একটি ট্যাংকের তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে বলে সতর্ক করেছেন অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা। এতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের আশঙ্কা বেড়েছে।  এরই মধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের দক্ষিণ-পূর্বে অরেঞ্জ কাউন্টির গার্ডেন গ্রোভ এলাকায় শুক্রবার প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।  ট্যাংকটি থেকে রাসায়নিক লিক হয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার পর, এ নির্দেশ দেওয়া হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ট্যাংকটিতে ৭ হাজার গ্যালন বা প্রায় ২৬ হাজার লিটার মিথাইল মেথাক্রাইলেট রয়েছে। এটি প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত অত্যন্ত দাহ্য ও অস্থিতিশীল তরল রাসায়নিক।  অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির ইনসিডেন্ট কমান্ডার ক্রেইগ কোভে শনিবার সকালে জানান, জরুরি সেবা দলের সদস্যরা রাতে ঘটনাস্থলে কাজ করেছেন।  ৭ হাজার গ্যালনের ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হলে পাশের আরও ১৫ হাজার গ্যালনের একটি ট্যাংক থেকেও বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেটি নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চালানো হয়।  এ সময় তারা ৭ হাজার গ্যালনের ট্যাংকটির তাপমাত্রাও পরীক্ষা করেন। কোভে জানান, দমকল কর্মীরা ট্যাংকটি ঠান্ডা করার উপায় খুঁজছেন।  শুক্রবার স্থানীয় টেলিভিশনের ধারণ করা আকাশপথের ভিডিওতে ট্যাংকের ওপর পানি ছিটাতে দেখা গেছে। ট্যাংকটির ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার গ্যালন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৪, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

দিলু মজুমদার। ছবি : সংগৃহীত
বিনোদন

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন অভিনেতা দিলু মজুমদার

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২১, ২০২৬