অস্বাভাবিক শৈবাল বিস্তারের কারণে তীব্র পানি সংকটের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। এর ফলে দেশটির বেশিরভাগ বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলি হামলায় গাজার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত বর্জ্য সমুদ্রে মিশে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের পরিবেশবাদী সংস্থা ‘জালুল এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন’ জানিয়েছে, দূষণ রাজনৈতিক সীমানা মানে না। গাজা উপত্যকা থেকে সমুদ্রে অপরিশোধিত বর্জ্য নিষ্কাশনের ফলে ইসরায়েলি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টগুলোতে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এই বর্জ্যে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের মতো পুষ্টি উপাদান থাকে, যা মাইক্রোঅ্যালগাল এবং সায়ানোব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সীমান্তের অপর প্রান্তে প্রায় ৬০ মাইল বা ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ মাইক্রোঅ্যালগাল বা শৈবালের বিশাল আস্তরণ ইসরায়েলের ছয়টি প্রধান বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের মধ্যে পাঁচটির ফিল্টার বন্ধ করে দিয়েছে। প্ল্যান্টগুলো কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর বর্তমানে সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় তিন বছরের যুদ্ধের পর গাজার ধ্বংসযজ্ঞের পরিবেশগত প্রভাব এখন ইসরায়েলেও ফিরে আসছে। বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জ্যাক গিলরন জানিয়েছেন, গাজার বর্জ্য ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত ইসরায়েলের পানি উৎপাদন পরিকাঠামোর ওপর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে গাজার ৯০ শতাংশ পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স। কূপ, জলাধার এবং ডিস্যালিনেশন ইউনিটগুলো সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গাজায় তীব্র পানি ও স্বাস্থ্য সংকট চলছে। অপরিশোধিত বর্জ্য ও সমুদ্রের লোনাপানিতে উপকূলীয় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দূষিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, শীতকাল ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা রয়েছে। গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ ও সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলি সম্প্রদায়গুলোও বর্জ্য ও ইঁদুরের উপদ্রবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে সাশ্রয়ীভাবে পানি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পানি সরবরাহ কমানো হয়েছে এবং কৃষকদের সেচ কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে, যার ফলে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ‘জালুল’ এবং ‘ইকোপিস মিডল ইস্ট’ গাজার নিকাশীব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করার জন্য কোয়াগাটকে আহ্বান জানালেও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি সংস্থাটি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিজ দেশে কঠিন পুনর্নির্বাচন প্রচারণার মুখে থাকা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যেসব শত্রু ও মিত্র তাঁর বিরোধিতা করেছে, ভাষণে তিনি তাদের সমালোচনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের একটি গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটারের ছেলে ও এক সেনা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাটিও নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণে তুলে ধরতে পারেন। জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান সমালোচক শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি। জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছিলেন মামদানি। হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালে বলেছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে নেতানিয়াহু কথিত যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ীÑএমন বিশ্বাস করার মতো যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে। তবে নেতানিয়াহু আইসিসির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরে মামদানি স্বীকার করেন, এ ধরণের পদক্ষেপ নেওয়ার আইনগত ক্ষমতা তাঁর নেই। এতে নেতানিয়াহু ও তাঁর সমর্থকেরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সপ্তাহে (হাইলেভেল উইক) ভাষণ দেওয়ার আগে নেতানিয়াহু মামদানিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি আপনাদের সম্পর্কে সত্য কথা বলব।’ তিনি মামদানির বিরুদ্ধে ‘হামাসের সন্ত্রাসী দানবদের সমর্থন করার’ অভিযোগ করেন। এ ছাড়া তিনি কোনো ভিত্তি ছাড়াই মামদানির বিরুদ্ধে ‘নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার’ অভিযোগ করেন। ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন করে আসা এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তোলা মামদানি মঙ্গলবার এর জবাবে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ওই ভিডিওতে যা বলেছেন, তা সত্য নয়Ñএটা আমরা সবাই জানি।’ নেতানিয়াহুর অন্যতম কঠোর সমালোচক ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘের অধিবেশনকক্ষে থাকবেন না। ওয়াশিংটন তাঁকে অংশগ্রহণের জন্য ভিসা দেয়নি। ইসরাইলের সাবেক মিত্র ব্রিটেন ও ফ্রান্সও বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ইসরাইলি পণ্য রপ্তানির ওপর ব্রিটেন সীমিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সম্প্রতি ফ্রান্সও একই ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে। পশ্চিম তীরে হামাস সক্রিয় নয় বলে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ মন্তব্য করায় ইসরাইল ক্ষুব্ধ হয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে গাজাই হামাসের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নেতানিয়াহুর কার্যালয় মাখোঁর ওই মন্তব্যকে ‘চরম হাস্যকর’ বলে আখ্যায়িত করে। কার্যালয়টি আরও বলেছে, হামাস ‘প্রায় প্রতিদিনই ইহুদিদের ওপর হামলা চালায়।’ কার্যালয়টি বলেছে, ‘তারা জুডিয়া ও সামারিয়ায় অসংখ্য ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।’ পশ্চিম তীরকে ইসরাইল বাইবেলের নাম জুডিয়া ও সামারিয়া বলে অভিহিত করে। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল অঞ্চলটি দখল করে। গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পশ্চিমা দেশগুলোকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ায় মাখোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক এমনিতেই ভালো ছিল না। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ চলছে। নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরান প্রায় নিশ্চিতভাবেই গুরুত্ব পাবে। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য দেশটিতে আরও ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ দিচ্ছে ইসরাইল। -জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা- তবে যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে জনপ্রিয় নয়। যুদ্ধের পর জ্বালানির দামও বেড়েছে। বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি দানন বলেন, তেহরান ‘লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে হুতিদের, গাজা ও জুডিয়া-সামারিয়ায় হামাস এবং ইরাকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র দেয়।’ তিনি ইরানকে এমন একটি ‘শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করেন, ‘যা নিজ দেশের নাগরিকেরা প্রতিবাদ করার সাহস করলে তাদের হত্যা করে।’ নেতানিয়াহু জাতিসংঘ এবং বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসেরও তীব্র সমালোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে তিনি গুতেরেসের ধারাবাহিক সমালোচক। অস্বাভাবিকভাবে, গুতেরেস এ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের পূর্ণ নাম উল্লেখ করেন। এসব পদক্ষেপে গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। নেতানিয়াহু সরকার বারবার জাতিসংঘের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে হামাসের যোদ্ধাদের আড়াল করার অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, সংস্থাটির কয়েকজন কর্মী ইসরাইলে হামাসের ওই হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। ওই হামলাই গাজায় যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরাইল গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, অঞ্চলটির পুনর্গঠন শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশেও বিধিনিষেধ আরোপ করছে দেশটি। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার ভারপ্রাপ্ত কমিশনার-জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স এ সপ্তাহে এএফপিকে বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য গাজায় ইঞ্জিনের তেলের মতো জরুরি সরবরাহ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরাইল ‘অত্যন্ত কঠিন’ আচরণ করছে। অথচ বিলাসবহুল বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সন্ডার্স বলেন, ‘আমার মনে হয়, ইসরাইলি সরকার তাদের জনগণকে বোঝাতে চাইছে, কেন তাদের আবার নির্বাচিত করা উচিত।’ আগের বছরগুলোর মতো এবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভ হতে পারে। তাঁর নীতির প্রতিবাদে কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। পাশাপাশি বাইরে বিক্ষোভকারীরাও জড়ো হতে পারেন। ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা অনুযায়ী সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকো-কে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিষিদ্ধ বা দূরে রাখা যেতে পারে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ফেডারেল আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে এমন দাবি করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। আইনজীবীদের যুক্তি, ইরান যুদ্ধ এবং হোয়াটস হাউসে বলরুম নির্মাণ নিয়ে এই সংবাদমাধ্যমগুলোর কভারেজ একটি জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা এই নিষেধাজ্ঞাকে যৌক্তিকতা দেয়। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের দাখিল করা নথিতে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, ’হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার হলো একটি সুযোগ, কোনো অধিকার নয়।’ এই নথিতে আরো যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা জাতীয় নিরাপত্তার তথ্য সুরক্ষার জন্য ট্রাম্প চাইলে হোয়াইট হাউসের ব্যক্তিগত বা গোপনীয় অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। বিচার বিভাগ আদালতের কাছে জমা দেওয়া নথিতে লিখেছে, ‘কমপক্ষে, সরকার দৃষ্টিভঙ্গিভিত্তিক বৈষম্যমূলক কারণেও ওভাল অফিসের মতো রাষ্ট্রপতির সংরক্ষিত এলাকাগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। নথিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট দেখতে পেয়েছেন যে বাদীরা এমন কিছু রিপোর্টিংয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যা জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। এ ধরনের রিপোর্টিং সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি করে।’ ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলির সামনে একটি জরুরি শুনানির আগের সন্ধ্যায় এই নথিপত্রগুলো জমা দেওয়া হয়। গত শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে। সোমবার গণমাধ্যম তিনটি আদালতের কাছে হোয়াইট হাউসে তাদের প্রবেশাধিকার অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মামলা করে। আজ এ মামলার শুনানি হতে পারে।
অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশে সহায়তা করার অভিযোগে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার দুই বাসিন্দা ও ভারতের সেনাবাহিনীর এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর-২৪ পরগণার স্বরূপনগরের বিথারি-হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দাহারকান্দ সীমান্ত দিয়ে এ দুই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেন। তারা গতকাল রাতে কাঁটাতারের সীমান্ত পার হওয়ার সময় বিএসএফ সদস্যরা হাতেনাতে আটক করেন। এরপর তাদের কলকাতা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা গৌতম অধিকারী নামে এক সেনা সদস্যের নাম বলেন। তার বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হুগলির মাগরা। তিনি রাজস্থানের যোদপুরে মোতায়েন ছিলেন। কিন্তু ছুটিতে বর্তমানে বাড়িতে ছিলেন। নাম আসার পর পুলিশ ওই সেনাসদস্যকে তার বাড়িতে গিয়ে গ্রেপ্তার করে। ওই দুই বাংলাদেশি কেন ভারতে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিলেন সেটি জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আদালত তাদের তিনজনের ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
আসামের ধুবড়ির চাপরে কয়েকবছর আগেও ছিল ঘরবাড়ি, উঠান, গবাদি পশু, মানুষের কোলাহল। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে একাধিকবার ঘর হারানো পরিবারগুলোর অনেকেই সেখানে তিন থেকে চার দশক ধরে বসবাস করছিলেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সেই ঘরগুলোই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয় আসাম সরকার। উচ্ছেদ হয় ১৪০০-র বেশি বাংলাভাষী মুসলিম পরিবার। সংখ্যায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ। আর এর এক বছর না পেরোতেই সেই জমিতে শুরু হল আদানি পাওয়ারের ৩২০০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। চাপরের চারুবাখরা, চিরাকুটা ১ ও ২ এবং সন্তোষপুর এলাকায় ২০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের ভিত্তি-প্রস্তর স্থাপন করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের এই প্রকল্পকে রাজ্যের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প বলে জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। প্রথম ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ২০৩০ সালের ডিসেম্বর থেকে। এই প্রকল্পের জমি ঘিরেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। উচ্ছেদ হওয়া বাংলাভাষী মুসলিম পরিবারগুলোর অভিযোগ, ঘর ভাঙার পরে তাদের পুনর্বাসন হয়নি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩৫০০ বিঘা সরকারি জমি খালি করা হয়। পাশাপাশি জমির কাগজ থাকা বাসিন্দাদের প্রায় ১৭০০ বিঘা জমিও প্রকল্পের কাজে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় মুসলিমদের দাবি। তাদের বক্তব্য, কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও প্রায় অর্ধেক জমির মালিক ক্ষতিপূরণ পাননি। অন্যদিকে পুনর্বাসনের জন্য বাইজার আলগা এলাকায় ৩০০ বিঘা জমি দেওয়া হয়েছিল। মালপত্র সরানোর জন্য পরিবারপিছু এককালীন ৫০ হাজার টাকার কথাও জানানো হয়। কিন্তু অনেকের আপত্তি, ওই এলাকা ব্রহ্মপুত্রের মাঝের নিচু জমি। বর্ষায় সেখানে জল ঢোকার আশঙ্কা থাকে। তাই সেখানে যেতে নারাজ তারা। এদিকে, পরিবেশগত ছাড়পত্রের নথিতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রকল্প এলাকায় কোনো বসতি নেই এবং পুনর্বাসন বা পুনর্বাসন সংক্রান্ত কোনো দাবি নেই। অথচ উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের ঘরবাড়ি ভেঙেই জমি খালি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি ১৪ জুলাই প্রকল্পটির পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করে। সরকারি নথিতেও প্রকল্পের জন্য ৫৮৫ হেক্টর জমির কথা রয়েছে। এই ঘটনা আসামে উচ্ছেদের পুরনো বিতর্কও আবার সামনে এনেছে। ২০১৬ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন জেলায় উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে। একাধিক ঘটনায় বাংলা- ভাষী মুসলিম পরিবারই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় উঠে এসেছে। বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযানে অন্তত ৮ জন মুসলিম নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে একটি মানবাধিকার সংগঠনের রিপোর্টে। ২০২১ সালের দরংয়ের উচ্ছেদে পুলিশি গুলিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালে কামরূপে উচ্ছেদ ঘিরে আরও দু’জন নিহত হন। এমনকি চলতি সেপ্টেম্বরেও গোলপাড়ায় ৭৩ টি বাংলাভাষী মুসলিম পরিবারের বাড়ি ভেঙে দেওয়া নিয়ে গৌহাটি হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছেন। আদালত জানিয়েছেন, নিজেদের কৃষি-জমিতে তৈরি বাড়ি ভাঙার আগে বাসিন্দাদের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি।
আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পা রাখলেই যেন নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তার পিছু ধাওয়া করছে। আর এই দোলাচলের কারণেই এবার সিদ্ধান্ত বদলেছে—নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামছে না তাকে বহনকারী রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ ‘উইং অব জায়ন’। ইসরায়েলি জনপ্রিয় দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চঞ্চলকর তথ্য। এতে বলা হয়, আগামীকাল বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর বহনকারী ভিআইপি বিমানটি নিউইয়র্কে অবতরণ না করে পাশের রাজ্য নিউজার্সির একটি বিমানবন্দরে নামতে পারে। কেন এই আকস্মিক পথবদল? এর নেপথ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানির কঠোর অবস্থান ও একরাশ শঙ্কা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আগেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে। মেয়র জোহরান মামদানি বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কের মাটিতে পা রাখলেই তাঁকে গ্রেফতারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, বিমানটি বিমানবন্দরে পার্কিং করে রাখার বিষয়ে নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নানা 'সমন্বয়হীনতা' দেখা দিয়েছে। ইসরাইলি গোয়েন্দা ও সফরসঙ্গীদের ভয়— মেয়র মামদানি হয়তো বিমানটিকে জেএফকে বিমানবন্দরে নামার পরপরই অতি দ্রুত রানওয়ে ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। এই টানাপোড়েন এড়াতেই এখন বিকল্প হিসেবে নিউজার্সির কোনো সামরিক ঘাঁটি কিংবা নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে 'উইং অব জায়ন' অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কে রাত কাটাবেন না নেতানিয়াহু, সংক্ষিপ্ত হচ্ছে সফর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, মার্কিন মুলুকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও বিশাল বিক্ষোভের শঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। নিউইয়র্কে অবস্থানের সময়সীমা তিনি অনেকটাই ছেঁটে ফেলেছেন। বিক্ষোভকারীদের তোপ থেকে বাঁচতে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নিউইয়র্কে কোনোভাবেই রাত কাটাবেন না। সফরসূচি এতটাই সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে যে, কাজ শেষ করেই তিনি দ্রুত প্রস্থান করবেন। বাতিল মাস্কের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক কেবল নিউইয়র্কের কর্মসূচিই নয়, ভেস্তে গেছে নেতানিয়াহুর বহুল আলোচিত টেক্সাস সফরও। সেখানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সঙ্গে তার একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেটিও বাতিল করা হয়েছে। এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ যাত্রাপথে বিমানে জ্বালানি নেওয়ার বিরতি এবং মার্কিন পক্ষের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের সমন্বয় জটিলতার কারণেই মাস্কের সঙ্গে বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে বিশ্বনেতারা তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন। গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা। দিন দিন বাড়তে থাকা এই সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মারাত্মক কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। অধিবেশনে অনেক নেতা গাজার পরিস্থিতিকে যুদ্ধাপরাধ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, গণহত্যা এমনকি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সঙ্গে তুলনা করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ধ্বংসযজ্ঞেরও সমালোচনা করেন তিনি। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা জাতিগত নির্মূলের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন গুতেরেস। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান গাজাকে ‘শিশুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় কবরস্থান’ এবং ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কাতার ও জর্ডানের নেতারা একে গণহত্যা এবং ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। কাতারের আমির অবিলম্বে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ ও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। শুধু আরব বা মুসলিম দেশগুলোই নয়, পশ্চিমা মিত্ররাও ইসরায়েলের নীতির সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজায় মানবিক করিডোর না খোলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নীতি নিরাপত্তা বাড়ানোর বদলে উল্টো হুমকি বাড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীও ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ হামলা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের চলমান কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই বৈধতা দেয় না। ব্রাজিল, সিরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও কঠোর ভাষায় ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনা করেছেন। বক্তৃতার মঞ্চের বাইরেও এই ক্ষোভ বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। কাতার, মিশর ও জর্ডানসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজার মানবিক সংকট নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। এর পাশাপাশি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডাসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ ইসরায়েলি বসতি এলাকা থেকে আসা পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে বসবাসরত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশে তার স্ত্রীর সন্দেহজনক মৃত্যুর তদন্তে প্রভাব বিস্তার এবং পুলিশি নথি থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) তাকে গ্রেপ্তার করে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন ৫১ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আওলাদ হোসেন। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের (এএফপি) অভিযোগ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে পরিচিত কয়েকজনের কাছে ৯০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পাঠান। এসব অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এএফপি জানিয়েছে, রেহানা পারভিন একজন অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশি নাগরিক ও পাঁচ সন্তানের মা ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের একটি গ্রামে তার মরদেহ পাওয়া যায়। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ফরেনসিক পরীক্ষায় মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যুর ঘটনাটি সন্দেহজনক বলে বিবেচিত হয়। একই সময় অস্ট্রেলিয়ান ও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ সার্ভিসের মাধ্যমে ওই নারীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এএফপি। বাংলাদেশে তার মরদেহ শনাক্ত এবং মৃত্যুর ধরন নিয়ে সন্দেহের তথ্য পাওয়ার পর তদন্তটি অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ক্রিমিনাল কোডের অধীনে বিদেশে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের মৃত্যুসংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের দিকে নেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে এএফপি সিডনি ও ব্রিসবেনের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের নথি ও ব্যাংক রেকর্ড জব্দ করে। পরে অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে তদন্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সামনে আসে। গত ২১ সেপ্টেম্বর এএফপি সদস্যরা কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাংক প্লেইন্স এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালান এবং আওলাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন। অভিযানে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের তথ্যমতে আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিমিনাল কোডের ৭০.২(১) ধারায় বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আইনে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে বেআইনি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি এই ধারার আওতায় পড়ে। এএফপি কমান্ডার স্টিফেন জে বলেন, গুরুতর কোনো অপরাধের তদন্তের ফলাফল প্রভাবিত করতে ঘুষ বা দুর্নীতির চেষ্টা করা হলে তা অস্ট্রেলিয়া ও বিদেশ উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আরও বলেন, তদন্তের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে যে কোনো ধরনের প্রচেষ্টা আইনের আওতায় আনা হবে এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এএফপি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তবে এএফপি স্পষ্ট করেছে, বাংলাদেশি কোনো সরকারি কর্মকর্তা ওই অর্থ গ্রহণ করেছেন বা কথিত ঘুষের অর্থ তদন্তে কোনো প্রভাব ফেলেছে এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে চলমান তদন্তকে প্রভাবিত করার কথিত প্রচেষ্টা সফল হয়নি। বাংলাদেশ পুলিশও পৃথকভাবে রেহানা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে। এদিকে আওলাদ হোসেনের আইনজীবী তোরিক ডিব জানিয়েছেন, তার মক্কেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়বেন। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এবিসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার জামিনের আবেদন আগামী মাসে শুনানির জন্য নির্ধারিত হতে পারে। রেহানা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের তদন্তের পাশাপাশি এএফপির তদন্তও চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হত্যার অভিযোগে কোনো দণ্ড বা অস্ট্রেলিয়ায় হত্যার অভিযোগের বিচার হয়নি। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এএফপির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার ক্ষেত্রে এটি সংস্থাটির প্রথম ঘটনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কোনো চুক্তি না হলে তিনি ইরানকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। তবে জাতিসংঘে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কি এমন একটি চুক্তি হবে, যা তাদের পুনর্গঠন করতে এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী একটি দেশ গড়ে তুলতে দেবে?... নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেব এবং তা দ্রুতই করব, যাতে তারা আর কখনও মানুষ ও দেশগুলোকে হত্যা ও ধ্বংস করার সুযোগ না পায়? মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জাতিসংঘে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘প্রচার’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘আরও ভয়াবহ, ধ্বংসাত্মক এবং অনির্দেশ্য আঘাত হানার পূর্ণ প্রস্তুতি’ রয়েছে। তবে উত্তপ্ত বক্তব্যের বাইরে, প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটানোর চেষ্টা হিসেবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, তেলের দাম বেড়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোও এতে জড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীরা ‘সারাদিন দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত করে’ আলোচনা চালিয়ে গেছেন। উইটকফ আরও বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মঙ্গলবারের আলোচনা ‘গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক’ প্রমাণিত হবে। ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এসব দেশ যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল পুনরায় চালু করতে আগ্রহী। তবে একই সঙ্গে তারা তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক। এসব দেশের অনেকগুলোতেই বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলো যুদ্ধ চলাকালে ইরানের বারবার হামলার শিকার হয়েছে। নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, আমরা মনে করি, ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি (৩ নভেম্বরের) মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই শেষ হতে পারে, হয়তো তার আগেও। আমি জানি না। কখন কী হয়, তা তো বলা যায় না।
২০১৯ সালের ভয়াবহ ইস্টার সানডে বোমা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ জনকে সন্ত্রাসবাদের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছেন শ্রীলঙ্কার একটি আদালত। তাদের প্রত্যেককে অন্তত ২২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তিন বিচারকের একটি হাইকোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতের চারপাশে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিচারের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায় ও বিদেশি পর্যটকদের সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর এই বোমা হামলায় ষড়যন্ত্র ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছিল। শ্রীলঙ্কাভিত্তিক দুটি ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে ধারণা করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই বিচারকাজ চলে। বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারগুলোকে হতাশ করেছিল। ২০২১ সালে কর্তৃপক্ষ এই হামলার পরিকল্পনা বা অনুপ্রেরণা দেওয়ার অভিযোগে ২৫ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ২৩ হাজার ২৭০টি অভিযোগ দাখিল করেছিল- যার মধ্যে গির্জায় তিনটি, পর্যটক হোটেলগুলোতে তিনটি, মোটেলে একটি যেখানে এক হামলাকারী নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছিল এবং চতুর্থ হোটেলে হামলা ব্যর্থ হওয়ার পর অপর দুটি ঘটনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে হত্যা, সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক অপরাধ অন্তর্ভুক্ত ছিল। মোট ১৫ জন আসামিকে, যারা সবাই শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের, তাদের প্রত্যেককে ২০০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে; তবে রায়ের শুরুতে মোট দণ্ডসীমা অন্তত ২২০ বছর উল্লেখ করা হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নয়জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। বিচার শুরুর আগেই মারা যান একজন আসামি। রাষ্ট্রপক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া হারিপ্রিয়া জয়াসুন্দরারা আরও দীর্ঘ কারাদণ্ডের দাবি জানান। তিনি বলেন, আসামিরা খ্রিষ্টান উপাসনাকারী ও পর্যটকদের হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। আত্মঘাতী বোমারুদের একজনের রেখে যাওয়া ভিডিওতে এর প্রমাণ রয়েছে বলেও জানান তিনি। হামলার আগের দিন ধারণ করা ওই ভিডিওতে মুখ ঢাকা হামলাকারীদের রাইফেল ও তলোয়ার হাতে দেখা যায়। তারা তৎকালীন আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির প্রতি আনুগত্যের শপথ নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে একটি ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং যুদ্ধ চালানোর কথা বলেছিল। ক্যাথলিক ধর্মযাজক জুড ফার্নান্দো বলেন, অবশেষে আমরা বিচার পেয়েছি। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। তবে বিচার শেষ হলেও সবার জন্য পুরোপুরি স্বস্তি আসার সম্ভাবনা নেই। শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, বিচারের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিরা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন না এবং এর পেছনে আরও বড় রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র ছিল। একটি সংসদীয় কমিটি জানিয়েছিল, হামলার বিষয়ে বারবার গোয়েন্দা সতর্কতা পাওয়ার পরও পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। উল্লেখ্য বিলাসবহুল হোটেল এবং ইস্টার প্রার্থনাকালে গির্জায় চালানো ওই সন্ত্রাসী হামলায় ২৬৭ জন নিহত এবং প্রায় ৬ হাজার মানুষ আহত হন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) দ্বারা অনুপ্রাণিত এই বোমা হামলাগুলো শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী হামলা ছিল এবং দেশজুড়ে মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল। হামলাগুলো চালিয়েছিল নয়জন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী, যারা বিস্ফোরণে মারা যান। সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের কেউ বেঁচে নেই।
জার্মানিতে একটি মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মার্কিন বিমানঘাঁটি স্প্যাংডালেম জানিয়েছে, বিমানটির পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিমানঘাঁটি কর্তৃপক্ষ। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৫২তম ফাইটার উইংয়ের অধীনে থাকা বিমানটি স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ২টার দিকে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের কাছে ধোঁয়া দেখা যায়। এদিকে এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ন্যাশনাল গার্ডের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মিশিগানে বিধ্বস্ত হয়েছিল। সূত্র: এবিসি নিউজ
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব শুরুতে সম্ভবত ঠিকভাবে বোঝা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বলেছেন, প্রণালিটি খুলে দেওয়া এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এবিসি নিউজের ডেভিড মুইরের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মাখোঁ এসব কথা বলেন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তার প্রধান লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। মাখোঁ বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান বুঝতে পারে যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ক্ষমতা তাদের হাতে রয়েছে। এই পরিস্থিতি সম্ভবত শুরুতে অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল। এখন দ্রুত এর সমাধান করা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ফ্রান্স সামরিক সহায়তা দেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাখোঁ জানান, তিনি কোনো দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চান না। তবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সুরক্ষায় ফ্রান্স আরও সক্রিয় হতে প্রস্তুত। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন মাখোঁ। তিনি বলেন, বোমা হামলা চালিয়ে কোনো দেশে সরকার পরিবর্তন করা কার্যকর পদ্ধতি নয়। অতীতে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। ট্রাম্পের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ইউরোপীয় মিত্ররা যথেষ্ট সহায়তা করছে না। এর জবাবে মাখোঁ বলেন, ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মান করে এবং নিজেদের ভালো মিত্র হিসেবে মনে করে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে মিত্রদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন মাখোঁ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউরোপের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব নেই—এমন বক্তব্য তিনি বিশ্বাস করেন না বলে জানান। মাখোঁ বলেন, নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তার ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তার মতে, ট্রাম্প এখন পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা পেয়েছেন এবং ইউক্রেনকে সহায়তা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন ইস্যুতে তিনি ও অন্য কয়েকজন নেতা কাজ করেছেন বলেও জানান মাখোঁ। তার মতে, তারা ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়েও প্রশ্ন করা হয় মাখোঁকে। ওই মানচিত্রে উত্তর আমেরিকার বড় একটি অংশে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা দেখানো হয়েছিল। মাখোঁ জানান, তিনি ট্রাম্পকে একাধিকবার বলেছেন যে বিষয়টি অদ্ভুত। তার মতে, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় রয়েছে। তাই নতুন করে সংঘাত ও উত্তেজনা তৈরি না করাই উচিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কাকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন মাখোঁ। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে আলোচনা ও নতুন নিয়মকানুন তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তথ্যসূত্র: এবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আগে তাইওয়ান, মানবাধিকারসহ কয়েকটি বিষয়ে নিজেদের অবস্থানকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং বলেছেন, এসব বিষয়ে চীনের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে বুধবার চীনা রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র পিপলস ডেইলিতে লেখা এক নিবন্ধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দুই দেশের মতপার্থক্য পরিচালনায় সদিচ্ছা দেখানোর আহ্বান জানান। শিয়ে ফেং বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা ও জোরপূর্বক শ্রমের মতো বিষয়কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে চীনকে চাপে রাখা বন্ধ করা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। তার মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করলে দুই দেশই লাভবান হবে। আর সংঘাতে জড়ালে দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চীনা রাষ্ট্রদূত চারটি বিষয়কে স্পষ্ট ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এগুলো হলো তাইওয়ান, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার পথ এবং উন্নয়নের অধিকার। এসব বিষয়ে চীনের অবস্থান চ্যালেঞ্জ করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
গাজায় কোনো মানবিক করিডর এখনো চালু হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার সমালোচনা করে তিনি এ আক্ষেপ করেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন তিনি। আগামী মে মাসে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার আগে এটিই জাতিসংঘে তার শেষ ভাষণ। মাখোঁ বলেন, এক বছর আগে একই মঞ্চে প্রায় এক ডজন দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তখন কেউ কেউ বলেছিলেন, স্বীকৃতি শুধু একটি কাগজ এবং বাস্তব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। গাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শান্তির দাবি করা হলেও এক মুহূর্তের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করা উচিত কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। মাখোঁর বক্তব্যের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ট্রাম্প ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করেছেন এবং জীবিত সব জিম্মিকে মুক্ত করেছেন। নিহত জিম্মিদের মরদেহও তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়ে। গাজার জন্য ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরও যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ায় ফ্রান্সে মাখোঁ সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটি কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। জাতিসংঘে ভাষণে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান মাখোঁ। তিনি বলেন, সেখানে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। অথচ পশ্চিম তীরে হামাস কখনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। মাখোঁ বলেন, পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, তা প্রতিদিন ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্বের বৈধ অধিকারকে সম্মান করে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। গত এক বছরে ইসরায়েলের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্কেও টানাপোড়েন বেড়েছে। মাখোঁ বলেন, ইসরায়েলের সব প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এমন ধারণা ভুল। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকেই দুর্বল করছে। ২০১৭ সালে প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন মাখোঁ। আগামী বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এবারের ভাষণটি ছিল জাতিসংঘে তার শেষ উপস্থিতি। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তবে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। এর আগে রোববার ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতায় পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য পেয়েছেন তারা। ওয়াশিংটন এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে কোনো বিবেচনা ছাড়াই পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। ইরানের ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে যে তারা কূটনৈতিকভাবে সংকটের সমাধান করতে চায়। এরপর আলোচনার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে দুইপক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ইরানের প্রতিনিধিদল বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতি আবারো শুরু করার বিষয়ে তাদের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। আজ সকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কের উদ্দেশে তেহরান ছাড়েন। তবে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। এ বিষয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাবও পাঠিয়েছে ইরান।’ ইরানের ওই কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এখন কূটনীতিতে ফিরে আসার একটি সুযোগ রয়েছে। ওয়াশিংটন বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিলে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী তেহরান।
ইউক্রেনের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াতে সদস্য দেশগুলো সমঝোতাচেষ্টার মধ্যেই সোমবার তিনি এ আহ্বান জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের কাজা কালাস বলেন, ‘রাশিয়ার যুদ্ধের বিরুদ্ধে আমাদের পদক্ষেপের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো নিষেধাজ্ঞা।’ এর মাধ্যমে মস্কোর অর্থের জোগান বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। কাজা কালাস বলেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর দ্রুতই এর মেয়াদ বাড়ানো হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কালাস বলেন, ‘আমাদের এই স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।’ তাই নিষেধাজ্ঞাগুলো আরো দীর্ঘ সময় বহাল রাখতে হবে। কালাস জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার বিষয়ে ইইউ’র অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা নতুন একটি নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ নিয়েও কাজ করছি।’ তবে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। কারণ, কয়েকটি সদস্য দেশ ইইউ’র কালো তালিকা থেকে কিছু ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর বসানো অতিরিক্ত লেভি প্রত্যাহারের দাবিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ আপাতত স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। দেশে ফেরার পর এই বিষয়ে কার্যকর ও অর্থবহ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর ট্রেন মার্চ মূলতান পৌঁছানোর পর দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। জেআইয়ের এক মুখপাত্র এই ফোনালাপের কথা নিশ্চিত করেছেন। মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তিনি সফর শেষ করে পাকিস্তানে না ফেরা পর্যন্ত এই মার্চ স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশে ফিরেই পেট্রোলিয়াম লেভির বিষয়ে জামায়াত নেতৃত্বের সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে বসার আশ্বাস দেন তিনি। ফোনালাপে জামায়াত আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাদের উদ্দেশ্য কোনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা সরকারের সঙ্গে সংঘাত নয়। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ ও ক্ষোভের কথা সরকারের কাছে পৌঁছে দিতেই আমরা রাজপথে নেমেছি। জনগণের এই গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে সরকারের সম্মান জানাতে হবে। লংমার্চ স্থগিতের বিষয়ে সরকারের প্রস্তাবটি দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদ (মজলিসে শূরা)-এর সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান জেআই আমির। তবে মার্চ স্থগিত হলেও তাদের আন্দোলন থেকে কোনোভাবেই সরে আসা হবে না বলে তিনি জোর দেন। সোমবার গভীর রাতে হাফিজ নাঈমুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের ট্রেন মার্চ মূলতানে পৌঁছায়। ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় চার ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছালেও বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক স্টেশনে দাঁড়িয়ে মিছিলকে স্বাগত জানান। সেখানে উপস্থিত জনসভার উদ্দেশ্যে হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, যারা এই আন্দোলন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, মূলতানের এই বিশাল জনস্রোত দেখে তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার মতো দুর্গম এলাকাগুলোতেও মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। দক্ষিণ পাঞ্জাব পেরিয়ে এই মার্চ এখন সেন্ট্রাল পাঞ্জাবে প্রবেশ করছে। সরকারকে হুঁশিয়ার করে জামায়াত প্রধান বলেন, রাস্তায় কনটেইনার বা ব্যারিকেড দিয়ে এই মার্চ থামানো যাবে না। পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর যে ‘জোরজুলুমের ট্যাক্স’ চাপানো হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে জনগণকে অবিলম্বে স্বস্তি দিন। মানুষ যদি সুফল পায়, তবে আমাদের অহংবোধের জায়গা থেকে লড়াই করার কিছু নেই। জামায়াত প্রধান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির দুর্ভোগের কথা তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। গমের আটা থেকে শুরু করে চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দামের কারণে মানুষ দিশেহারা। সরকারের দ্বিমুখী নীতি ও বিভিন্ন ‘মাফিয়া চক্র’-এর প্রভাবের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, চিনি ও আটার মাফিয়ারা রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেই ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে। এর আগে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) সঙ্গে করা ‘শোষণমূলক’ চুক্তির বিরুদ্ধেও একমাত্র জামায়াতে ইসলামীই রাজপথে অনড় অবস্থান নিয়েছিল। উল্লেখ্য, পেট্রোলিয়াম লেভি বাতিলের দাবিতে গত রোববার করাচি থেকে জামায়াতে ইসলামী এই দীর্ঘ পদযাত্রা শুরু করে। দেশজুড়ে ট্রেন ও সড়কপথে বিভিন্ন শহর ঘুরে মূলতানে পৌঁছানোর পর এখন লাহোর হয়ে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। আমরা এতে দেওয়া আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। অবশ্যই করব। এ সময় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও জটিল একটি সংঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ ও ভেটো ক্ষমতার দাবিকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক সমর্থন সামনে এসেছে। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য ইউরোপের চার দেশ—হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র—ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রথম ভারত-V4 বৈঠকে এই অবস্থান সামনে আসে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে সমর্থন হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্রের (India at UN X/ANI Video Grab) রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে সমর্থন হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্রের (India at UN X/ANI Video Grab) V4 বা ভিশেগ্রাদ গ্রুপের সদস্য হল হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র। বৈঠকের পর স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার জানান, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে ভারতের নিরাপত্তা পরিষদে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ইউরোপের এই দেশগুলির সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বর্তমানে মোট ১৫টি সদস্যদেশ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য—আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন। বাকি ১০টি দেশ সাধারণ পরিষদের ভোটে দুই বছরের জন্য অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়। পাঁচ স্থায়ী সদস্যের হাতেই ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। ভারত বহু বছর ধরে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। ভারতের বক্তব্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৈরি বর্তমান কাঠামোতে আজকের বিশ্বের বাস্তবতা পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না। তাই নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। ভারত বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশ ও গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও সামনে রাখে। নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের অভিজ্ঞতাও কম নয়। রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ভারত এখনও পর্যন্ত আটবার অস্থায়ী সদস্য হিসেবে পরিষদে দায়িত্ব পালন করেছে—১৯৫০-৫১, ১৯৬৭-৬৮, ১৯৭২-৭৩, ১৯৭৭-৭৮, ১৯৮৪-৮৫, ১৯৯১-৯২, ২০১১-১২ এবং ২০২১-২২ সালে। নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। ১৯৬৫ সালে রাষ্ট্রসংঘের সনদ সংশোধন করে অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা ছয় থেকে বাড়িয়ে ১০ করা হয়। ফলে পরিষদের মোট সদস্য ১১ থেকে বেড়ে ১৫ হয়। তবে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কাঠামো অপরিবর্তিত ছিল। ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পথ অবশ্য এখনও সহজ নয়। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য বাড়াতে রাষ্ট্রসংঘের সনদে পরিবর্তন প্রয়োজন, আর সেই প্রক্রিয়ায় সাধারণ পরিষদের পাশাপাশি বর্তমান স্থায়ী সদস্যদেরও ভূমিকা রয়েছে। ফলে V4-এর এই সমর্থন ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নতুন সমর্থন দিলেও, স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ঐকমত্য প্রয়োজন।
পাঁচ কর্মদিবসে টানা কমার পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহও বেড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের নভেম্বরের ফিউচার ১ দশমিক ১৪ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠেছে। অক্টোবরের ডেলিভারির জন্য ডব্লিউটিআই ফিউচার ৮৭ সেন্ট বা ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৯৬ দশমিক ৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা। বেশি লেনদেন হওয়া নভেম্বরের ডব্লিউটিআই ফিউচারও ৮৫ সেন্ট বা ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ২২ ডলারে উঠেছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরকে হুমকি দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পেজেশকিয়ান এ সপ্তাহে নিউইয়র্কে থাকতে পারেন। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সাম্প্রতিক দরপতনের পর তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি মূলত আগের দরপতনের পর বিনিয়োগকারীদের অবস্থান সাময়িকভাবে বদলানোর ফল বলে মনে হচ্ছে। এতে বাজারে মৌলিক কোনো বড় পরিবর্তন এসেছে- এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতার ফল কী হয়, তা দেখার জন্য বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন। আলোচনা এগোলে বা ব্যর্থ হলে তেলের দামে তার প্রভাব পড়তে পারে।
ভারতের বিজয়ওয়াড়ায় বিনায়ক চতুর্থী উৎসবের এক ‘অন্নদান’ কর্মসূচিতে রান্নার সময় ফুটন্ত সাম্বারের বড় পাত্রে পড়ে সুজাতা (৪৬) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুজাতা বিনায়ক চতুর্থী উৎসব উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির রান্নার কাজে সহায়তা করছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্বার বহন করার সময় সুজাতা দুর্ঘটনাক্রমে ফুটন্ত সাম্বারভর্তি বড় পাত্রটিতে পড়ে যান এবং গুরুতর দগ্ধ হন। আয়োজকরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি দেখতে পান এবং তাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে ব্যাপক দগ্ধ হওয়ার চিকিৎসা চলছিল সুজাতার। তবে পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কী পরিস্থিতিতে সুজাতা ওই পাত্রে পড়ে গেলেন এবং দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।