সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন ও ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রত্যাশাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামান এবং হাটহাজারী সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নবগঠিত কমিটির নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সাক্ষাৎকালে সমিতির নেতারা প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও গতিশীল করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির নেতারা কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। প্রবাসীদের কল্যাণ, বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেন। সাক্ষাতে সমিতির যাঁরা উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ এস আসাদ নূর, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল হক মনজু, সহসভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মাওলানা মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সাইফুল্লাহ চৌধুরী ও মোহাম্মদ মোরশেদ জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ জবরুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন খোকন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান রুবেল এবং অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হলে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং প্রবাসীদের সার্বিক কল্যাণে ইতিবাচক অগ্রগতি আসবে।
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছে যুক্তরাজ্য বিএনপি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে পূর্ব লন্ডনে সংগঠনটির কার্যালয়ে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনটির সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরু। জুলাই আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে বক্তব্য অনুষ্ঠানের শুরুতে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “আমরা জুলাই যুদ্ধ থেকে সরে আসি নাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধ থেকে সরে আসি নাই।” তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে জুলাই যুদ্ধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অর্থ দেশকে অস্বীকার করা। জুলাই সনদ ও চাঁদাবাজি নিয়ে মন্তব্য জুলাই সনদ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, বিএনপি যেসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। দেশে চাঁদাবাজির বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে বক্তব্যে তিনি জানান, আগে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে কেউ মামলা করতেন না। এখন সরকার বাদী হয়ে মামলা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ আইন প্রণয়ন করবে বলেও জানান তিনি। নেতাকর্মী ও কমিউনিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় যুক্তরাজ্য বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এবং লন্ডনে বসবাসরত কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ছুটি কাটিয়ে রোববার দুপুরে ফেরার কথা ছিল কুমিল্লার অধিবাসী সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের। বিমানের টিকিট কাটেন আগেই। রোববার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সময়মতো হাজির হন। এসেই শোনেন ফ্লাইট বাতিল। জানতে পারছেন না কবে ছাড়বে ফ্লাইট। দুপুরে বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা হয় রফিকুলের সঙ্গে। চোখেমুখে তার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছাপ। বলেন, ‘হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। আমাকে যে কোনো মূল্যে সৌদি আরব যেতে হবে। সময়মতো যেতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। পরবর্তী ফ্লাইটের সিদ্ধান্ত জানানো হলে ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমত।’ হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকায় ফেরার অপেক্ষায় সেখানে প্রায় চার হাজার যাত্রী। কখন চালু হবে বিমানবন্দর, কখন চালু হবে ফ্লাইট সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় কাটছে তাদের সময়। রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ বিপুল হতাহতের পর কুমিল্লার রফিকুলের মতো হাজারো প্রবাসীর যাত্রা আটকে গেছে। শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরা। অনেকেই বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করেও কিনারা করতে পারছেন না। ভারত হয়ে বিকল্প রুটের টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ইয়েমেন লড়াইরত হুথি বিদ্রোহীরা বিশ্বের এয়ারলাইন্সগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ যুগান্তরকে বলেন, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের এ বিষয়ে অবহিত করছে। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে বিমানবন্দরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। রিয়াদগামী বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার এবং শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ১০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিন হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে রিয়াদেও আটকা প্রায় চার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রী। ফলে দুদিকেই প্রবাসীদের যাতায়াত কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কিং খালিদ বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সময় ১২ অক্টোবর ভোর ৩টা পর্যন্ত সব ফ্লাইট পরিচালনা ও বিমান চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইটও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে টিকিট ও পাসপোর্ট হাতে নিয়ে রিয়াদগামী যাত্রীদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। সবশেষ তথ্য জানতে যাচ্ছেন এয়ারলাইন্সগুলোর কাউন্টারে। অনেককে ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে সবার চোখেমুখে ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছাপ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস-মাইক্রোবাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে চেপে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ছুটে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় টিকিটের তারিখ পরিবর্তন, অর্থ ফেরত কিংবা বিকল্প ফ্লাইট পাওয়া এবং এসবের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণা নিয়ে অনেককেই ছোটাছুটি করতে দেখা গেল। বিকল্প পথেও অনিশ্চয়তা: চাঁদপুরের রিয়াদ হোসেন ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটেছিলেন। ভারতের মুম্বাই হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই যাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারতের মুম্বাই হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখন শুনছি, মুম্বাইয়ে যাদের ট্রানজিট, তাদের বোর্ডিং দেওয়া হচ্ছে না। মুম্বাই থেকে নাকি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’ কথা হয় সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য বিমাবন্দরে আসা আরও কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে। তারা বলছিলেন, ভিসার মেয়াদ, নিয়োগকর্তার নির্ধারিত যোগদানের বেঁধে দেওয়া সময় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক শর্তের বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে অনেক প্রবাসী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা না করে বিকল্প রুটে টিকিট কাটছেন। অনেকেই ঢাকা-মদিনা ও ঢাকা-জেদ্দা রুটসহ বিভিন্ন বিকল্প রুটের টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। সেগুলোর দামও হু হু করে বাড়ছে। আর ওই সব রুট নিয়েও এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে টিকিট সংগ্রহের পরও উদ্বেগ কাটছে না। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনেকের মধ্যে ঢাকায় থাকা-খাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দূরবর্তী জেলা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন করে বাড়ি ফেরা কিংবা ঢাকায় অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের চাকরি থাকবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তার সঙ্গে এটি তাদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মো. নাসরুল্লাহ বদর (৩৫) নামের এক মাদরাসাশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দেশটির রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই হামলা চালায় ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে নিহত নাসরুল্লাহ বদর কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। তিনি রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদরাসার সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টায় নিহত মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদরের ভগ্নিপতি মাওলানা মো. নাসিরুদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাওলানা নাসিরুদ্দিন বলেন, নাসরুল্লাহ বদর শনিবার ওমরাহ পালনের উদ্দেশে রওনা হন। তিনিসহ মোট ৪৫ জনের একটি কাফেলা শনিবার সকালে রিয়াদের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। রিয়াদে দুই ঘণ্টার একটি ট্রানজিট ছিল। ট্রানজিট শেষ হয়ে মক্কার উদ্দেশে বিমানটি যখন রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সে সময় হামলায় নিহত হন নাসরুল্লাহ বদর। এ সময় মোট ১২ জন প্রাণ হারান ঘটনাস্থলেই। ওই কাফেলায় থাকা ৪৫ জনের মধ্যে ৩২ জন সুস্থ আছেন। বাকি ১৩ জন গুরুতর আহত অবস্থায় সৌদির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি আরো জানান, নাসরুল্লাহ বদর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। মাওলানা নাসিরুদ্দিন বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নাসরুল্লাহ বদর নিহত হওয়ার পর গোটা পরিবার শোকে স্তব্ধ। ছোট ছোট তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকে আমরা নাসরুল্লাহ বদরের মরদেহের অপেক্ষা করছি। সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। সরকারের কাছে আকুল আবেদন নাসরুল্লাহ বদরের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়। এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একাধিক কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য, ওষুধশিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাবাহ রাজ্যের রাজ্য সচিব, মুখ্যমন্ত্রীর সহকারী মন্ত্রী, কৃষি-মৎস্য ও খাদ্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপস্থায়ী সচিব এবং সাবাহ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রধানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উচ্চফলনশীল ধানের জাত, কৃষি প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, মৎস্যচাষ, অ্যাকুয়াকালচার, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ এবং ব্লু ইকোনমি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি ধান উৎপাদনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সাবাহতে কাজে লাগানো, যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সাবাহতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন অংশগ্রহণকারীরা। দুই অঞ্চলের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া ওষুধ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়। শিক্ষা, একাডেমিক বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদল সাবাহ এসএমই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এতে দুই অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের এসএমই সংগঠন ও সাবাহ এসএমই অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ স্থাপন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা ও উত্তম চর্চা বিনিময়, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হবে। উল্লেখ্য, গত আগস্টে সাবাহ রাজ্যের গভর্নর ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক এসব আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মালদ্বীপে মো. সজিব (২৭) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) মালদ্বীপ সময় দুপুরে নিজ ঘরের কক্ষ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার পুরাতন মকিমের বাড়ির আবদুল খালেকের ছেলে। তার এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে মালদ্বীপে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি সজিবের পরিবারকে মুঠোফোনে মৃত্যুর খবর জানান। তারা সজিব ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন। নিহতের চাচাতো ভাই সোহেল জানান, শনিবার তারা খবর পান সজিবের কক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে দেশটির পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। তবে ঘটনার পর থেকে সজিবের একই কক্ষে বসবাসরত দুজন বাংলাদেশিসহ তিনজন প্রবাসী পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় সজিবের মৃত্যু নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। নিহতের বাবা আবদুল খালেক জানান, তিন বছর আগে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় মালদ্বীপে যান সজিব। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। পারিবারিক কোনো বড় ধরনের বিরোধও ছিল না। তার এমন মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এদিকে সজিবের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. সোহেল বলেন, তার এমন মৃত্যুর খবর পরিবারের জন্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
অস্ট্রেলিয়ায় নারী রোগীদের সঙ্গে যৌন অপরাধের ১০টি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক শফিউল মিল্কি (৬২)। ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে এসব অপরাধের ঘটনা ঘটে। গত বছরের জুনে আদালতে দোষ স্বীকার করলেও আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় ঘটনাগুলো সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৪ জুন মেলবোর্নের কাউন্টি কোর্টে হাজির হয়ে ১০টি যৌন অপরাধের দোষ স্বীকার করেন মিল্কি। আদালতে উপস্থাপিত বিবরণ অনুযায়ী, চিকিৎসার সময় রোগীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করতেন মিল্কি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে যৌন আচরণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চিকিৎসকের ওপর আস্থা রেখে চিকিৎসা নিতে আসা নারীরা এসব ঘটনার শিকার হন। ভুক্তভোগীদের একজন ফ্রান মিলিংটন নিজের পরিচয় প্রকাশ করে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে ভিক্টোরিয়ার ওশান গ্রোভের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি যৌন আক্রমণের শিকার হন। আদালতে জানানো হয়, চিকিৎসার সময় মিল্কি তার অন্তর্বাস নামিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এদিকে পৃথক এক নারী রোগীর করা ধর্ষণের অভিযোগ থেকে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) মিল্কিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। পাঁচদিন ধরে চলা বিচার শেষে মেলবোর্নের কাউন্টি কোর্টের জুরিরা তাকে ওই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেননি। জানা যায়, ২০১৮ সালের মার্চে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে জরায়ুমুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলাকালে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন ওই নারী। তবে মিল্কির আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে বলেন, পরীক্ষায় ব্যবহৃত যন্ত্রের কারণে রোগী যে অনুভূতির কথা বলেছেন, সেটি হয়ে থাকতে পারে। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনার পর জুরিরা তাকে খালাস দেন। তবে পৃথক ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও অন্য চার নারী রোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি যৌন অপরাধে তার দোষ স্বীকার বহাল রয়েছে। ওই অপরাধগুলোর তথ্য এতদিন আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। শফিউল মিল্কির বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের মামলা চলছে কয়েক বছর ধরে। এর আগে ২০২৩ সালে ছয় নারী রোগীর সঙ্গে যৌন অপরাধের ১৫টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ওই বছরের এপ্রিলে আদালত তাকে সাড়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে অন্তত ১১ বছর কারাভোগের নির্দেশ ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুনে ভিক্টোরিয়ার আপিল আদালত আগের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি পাওয়ায় সেই দণ্ডাদেশ বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাক্ষ্যপ্রমাণ ব্যবহারের বিষয়ে জুরিদের যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের হাজির না করার বিষয়টিও বিচারে প্রভাব ফেলেছিল। পুনর্বিচারের প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই চার নারী রোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি অপরাধে দোষ স্বীকার করেন মিল্কি। অন্যদিকে পৃথক ধর্ষণের অভিযোগে বিচার শেষে তিনি খালাস পান। তথ্য মতে, শফিউল মিল্কি বাংলাদেশে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে নিউজিল্যান্ডে যান। সেখান থেকে ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও তিনি নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। দোষ স্বীকার করা ১০টি অপরাধের সাজা নির্ধারণের বিষয়ে আগামী ২৩ অক্টোবর আদালতে পরবর্তী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে পৃথক ধর্ষণ মামলায় খালাস পেলেও চার নারী রোগীর সঙ্গে যৌন অপরাধের ঘটনায় এখনো তাকে সাজা নির্ধারণের মুখোমুখি হতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিনাজপুরের আব্দুল গাফফার (৪২)। তবে প্রবাসজীবন শুরু করে উপার্জনের সুযোগ পাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, মালদ্বীপে পৌঁছানোর পর বুকে ব্যথা অনুভব করার পরদিন তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোকের কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আব্দুল গাফফারের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার কেত্রাহাট এলাকায়। তার বাবার নাম মো. আবু বক্কর মণ্ডল। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা হন গাফফার। সেখানে পৌঁছে রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বুকে ব্যথা অনুভব করেন গাফফার। তবে কক্ষে থাকা অন্যদের আশ্বস্ত করে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ৭ অক্টোবর সকাল ৬টার দিকে ডাকাডাকি করেও তার কোনো সাড়া না পেয়ে কক্ষে থাকা ব্যক্তিরা মালিককে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গাফফারের নিকটাত্মীয় মো. আল আমিন জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ধারদেনা করে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কর্মজীবন শুরুর আগেই তার মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এদিকে, স্বজনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার। হাইকমিশন জানিয়েছে, মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে আব্দুল গাফফারের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে হাইকমিশন।
বাংলাদেশ সরকার মানবপাচার দূরীকরণের ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি, তবে তা অর্জনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ট্রাফিকিং ইন পারসন্স (টিআইপি) রিপোর্ট’- এ তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়, মানবপাচার দূরীকরণ নিয়ে বিগত মূল্যায়নের সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ সরকার সার্বিকভাবে তাদের প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। তারপরও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকার ‘টিয়ার ২’ বা দ্বিতীয় স্তরেই রয়ে গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মানবপাচারের সর্বোচ্চ ঝুঁকি থাকা ‘টিয়ার ৩’ বা তৃতীয় ধাপে অবস্থান করা ১০ দেশে গত ২১ মাসে ৪১ হাজারের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। ‘টিয়ার ৩’ ভুক্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ওই দশ দেশ হল- কম্বোডিয়া, রাশিয়া, লাওস, কঙ্গো, বেলারুশ, সুদান, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, লিবিয়া ও ইয়েমেন। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই দশ দেশে মোট ৪১ হাজার ২৩১ জন বাংলাদেশি কর্মী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের অগ্রগতি মূল্যায়নে টিআইপি রিপোর্টকে অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মূল্যায়নে ‘টিয়ার ৩’ ক্যাটাগরি বলতে বোঝায়- সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার মানবপাচার নির্মূলে ন্যূনতম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করছে না এবং সে বিষয়ে পর্যাপ্ত পদক্ষেপও নিচ্ছে না। এমন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমবাজারে এত বিপুল সংখ্যক কর্মী পাঠানোর খবরে তাদের নিরাপত্তা, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সরকারের ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তালিকার শীর্ষে কম্বোডিয়া ও রাশিয়া বিএমইটির তথ্যানুযায়ী, গত ২১ মাসে বাংলাদেশ থেকে টিআইপি রিপোর্ট অনুযায়ী ‘টিয়ার ৩’ এ থাকা দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছে কম্বোডিয়ায় ১৫ হাজার ৯৬৩ জন। এছাড়া রাশিয়ায় ৭ হাজার ৭৫২ জন এবং লাওসে ৭ হাজার ৫৩২ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে কঙ্গোয় ৫ হাজার ৪৩৮ জন, বেলারুশে ৩ হাজার ৪৮৪ জন, সুদানে ৪২১ জন, সোমালিয়ায় ৩৪৩ জন, লিবিয়ায় ১৭২ জন, দক্ষিণ সুদানে ৬৯ জন এবং ইয়েমেনে ৫৭ জন বাংলাদেশি গেছেন। কী আছে প্রতিবেদনে টিআইপি প্রতিবেদন অনুযায়ী ‘টিয়ার-২’-তে থাকা বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়, মানবপাচার দূরীকরণ নিয়ে বিগত মূল্যায়নের সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ সরকার সার্বিকভাবে তাদের প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। গৃহীত এসব প্রচেষ্টার মধ্যে রয়েছে মানবপাচার রোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ ২০২৬’ জারি করা, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া বাড়ানো, মানবপাচার অপরাধ ও ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ নির্দেশিকা হালনাগাদ করা এবং সুরক্ষা সেবাগুলোতে স্থানান্তরের সমন্বয় ও গতি আনতে ডিজিটাল এনআরএম পাইলটিং করা। এছাড়া সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের পাচারের ঝুঁকি কমাতে তাদের সুরক্ষাও জোরদার করেছে। তবে বেশ কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্রে সরকার ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার আগের তুলনায় কম সংখ্যক পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং অভ্যন্তরীণ পাচার অপরাধ দমনে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি, যা ব্যাপক আকারেই রয়ে গেছে। আবার সরকার পাচারের শিকার কম সংখ্যক ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করতে পেরেছে। অপর্যাপ্ত রয়ে গেছে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন প্রচেষ্টাও; বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। এ ছাড়া সরকার শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়োগ ফি নেওয়ার অনুমতি বজায় রেখেছে, যা অনেক অভিবাসী শ্রমিককে ঋণগ্রস্ত করে পাচারের চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গন্তব্য দেশগুলোতে বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ায় প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ এবং দূতাবাসের কূটনৈতিক সুরক্ষার পরিধি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনে পর্যাপ্ত সুরক্ষার অভাব চিহ্নিত করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারকে অবৈধ নিয়োগ ফি বাতিল করা, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর কঠোর তদারকি চালানো, ভুক্তভোগীদের পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করে পর্যাপ্ত আইনি ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া এবং মানবপাচার ট্রাইব্যুনালগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন সাম্প্রতিক সময়ে কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডগুলোতে ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আটকে রেখে সাইবার অপরাধে বাধ্য করা, নির্যাতন ও মানবপাচারের একাধিক ঘটনা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে কর্মী নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মত ঘটনাও ঘটেছে। এর পরও কেন আন্তর্জাতিক সতর্কতা উপেক্ষা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়াই এসব দেশে কর্মী পাঠানো অব্যাহত রাখা হল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যক্তিপর্যায়ে শিক্ষার্থী বা পর্যটক ভিসায় গমনে সরকারের সরাসরি নজরদারি কঠিন হলেও, বিএমইটি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দায় পুরোপুরি সরকারের। গুণগত সুরক্ষার চেয়ে কেবল সংখ্যা বাড়ানোর প্রবণতার কারণেই এমন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। “কম্বোডিয়া বা রাশিয়ার মত দেশে ভুক্তভোগী কর্মীরা প্রতারিত হলে বা অঙ্গহানির মত ঘটনার শিকার হলেও কর্তৃপক্ষ দায় রিক্রুটিং এজেন্সির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অথচ বিতর্কিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া ও তাদের কার্যক্রম নজরদারির মূল দায়িত্ব বিএমইটির।” তথ্য যাচাইয়ে গাফেলতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, “যেসব দেশে বাংলাদেশ মিশন বা দূতাবাস নেই, সেসব দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি অনলাইন বা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাধ্যমে যাচাই না করে ঢালাওভাবে কর্মী ছাড়পত্র দেওয়া স্পষ্টত সরকারি গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়।” এ বিষয়ে জানতে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ও বিএমইটি মহাপরিচালক জামিল আহমেদকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্রেফ কর্মী পাঠানোর পরিসংখ্যান বৃদ্ধিই রাষ্ট্রের সাফল্য হতে পারে না। একই সঙ্গে তাদের কর্ম পরিবেশ, চুক্তি অনুযায়ী বেতন নিশ্চিত হওয়া এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার হিসাব রাখাও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্ব।” ঝুঁকিপূর্ণ এসব দেশে কর্মী পাঠানোর পর তাদের বর্তমান অবস্থা তদারকি করতে রাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে মূলত ৫টি প্রধান বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছেন তিনি। এগুলো হল- পূর্ববর্তী ঝুঁকি মূল্যায়ন: এসব দেশে কর্মী পাঠানোর আগে মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, প্রতারণা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট দেশভিত্তিক সমীক্ষা করা হয়েছিল কি না? নিয়োগকর্তার সত্যতা: ভুয়া চাকরির প্রস্তাব ও প্রতারণা বন্ধে গন্তব্য দেশগুলোর নিয়োগকর্তা ও কর্মপরিবেশ যাচাইয়ের কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? কর্মীদের হালনাগাদ তথ্য: পাঠানো ৪১ হাজার ২৩১ জনের মধ্যে কতজন চুক্তিমত কাজ পাচ্ছেন, কতজন শোষণ বা পাচারের শিকার হয়েছেন এবং কতজনের সঠিক তথ্য বর্তমানে সরকারের কাছে আছে? জরুরি সুরক্ষা ও উদ্ধার: বিপদে পড়া কর্মীদের দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কী ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে? নীতিগত পরিবর্তন: কম্বোডিয়া ও রাশিয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির জবাবদিহি এবং তদারকি ব্যবস্থায় কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না?
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রী সাথী আক্তার ও তার শিশুকন্যাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অটোরিকশাচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাথীর দেবর মো. গোলাম রসুল মানিক (৪৫) হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থানায় দেওয়া অভিযোগে মো. জিসান (২৬) নামের এক যুবককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সাথী আক্তার তার স্বামী তায়েব আলীর অনুপস্থিতিতে ওই যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জিসান তাকে ও তার শিশুকন্যাকে নিয়ে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাননি। সাথী আক্তার চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সোনাইমুড়ি গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মৃত আব্দুল কাদের পাটওয়ারীর বড় মেয়ে। তার স্বামী তায়েব আলী সৌদি আরবে প্রবাসী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাথী আক্তার তার স্বামীর বাড়ি উপজেলার বড়কূল দক্ষিণপাড়া মিয়াজী বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি সোনাইমুড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে রওনা হন। এরপর থেকে তার ও শিশুকন্যার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ব্যবহৃত মোবাইলও বন্ধ রয়েছে। এদিকে, তায়েব আলী নিজের ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, অটোরিকশাচালক জিসান তার স্ত্রীকে নিয়ে গেছেন। পরিবারের সদস্যরাও মা ও মেয়ের সন্ধান পেতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করছেন। এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ওসি কাউছার আলম ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ও বিদেশি শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন মজুরির হার ২০২৭ সালের জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সংসদে ২০২৭ সালের বাজেট উপস্থাপনের সময় এ ঘোষণা দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। নতুন মজুরি কাঠামোর ফলে ৪০ লাখের বেশি কর্মী উপকৃত হতে পারেন বলে আশা করছে সরকার। দেশটির ন্যূনতম মজুরি আইন বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরাও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি পাওয়ার অধিকারী হবেন। মালয়েশিয়ায় ২০১৩ সালে ন্যূনতম মজুরি নীতি চালু হয়। সে সময় মাসিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯০০ রিঙ্গিত। পরে ২০১৬ সালে তা বেড়ে ১ হাজার, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০, ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতে উন্নীত হয়। প্রস্তাবিত নতুন হার কার্যকর হলে ন্যূনতম মজুরি প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে। তবে নতুন মজুরি কাঠামোর আওতা থেকে কিছু ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৫ কোটি রিঙ্গিতের কম, তারা এই ছাড়ের আওতায় থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও মজুরির মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কমানো জরুরি। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সামগ্রিক মজুরি কাঠামো উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া আধা-দক্ষ কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জন্য মাসিক ন্যূনতম বেতন ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নির্ধারণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। আনোয়ার ইব্রাহিমের মতে, ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের আয়ের একটি সর্বনিম্ন সীমা নিশ্চিত করলেও দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী যথাযথ পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। অনিবন্ধিত বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে করবিধি আরও কঠোর করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে মজুরি ব্যয়ের ওপর করছাড় পেতে কর্মসংস্থান আইনে অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন পরিশোধ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন। নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হলে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের আয় বাড়তে পারে। তবে নতুন হার কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময় এবং কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ছাড় থাকায় সব শ্রমিক একই সময়ে এর সুবিধা পাবেন না।
মালয়েশিয়ার জোহর বারু এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সালমান সাদিক সাইফ (২৪) নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর রাতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাইফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ছয়বাড়িয়া গ্রামের মো. সাজন মিয়ার ছোট ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোক নেমে এসেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সাইফ ছিলেন সবার ছোট। পরিবারের হাল ধরতে তিনি মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে পণ্য ডেলিভারির কাজ করতেন। সাইফের একমাত্র বোন লিজা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় কাভার্ড ভ্যানে করে পণ্য ডেলিভারি দিতে যাচ্ছিলেন তার ভাই। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে তাদের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে চালক অক্ষত থাকলেও সাইফ গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। লিজা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ছোট ভাইটা এভাবে চলে যাবে ভাবতেও পারছি না। গত কোরবানির ঈদে ছুটিতে দেশে এসে ধুমধাম করে বিয়ে করেছিল সাইফ। বিয়ের এক মাস না যেতেই আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যায়। ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান লিজা। স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ সাইফের স্ত্রী। ছোট সন্তানকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বাবা-মা। সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে চান তারা।
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাটের দুই প্রবাসী আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদের মরদেহ আজ দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে (বিজি-২০৬) তাদের মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দুই সদস্যের কাছে হস্তান্তর করেন। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। নিহত ২ প্রবাসী হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) তাজউদ্দিন নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে নিহত দু’জনের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে আরও ৩ লাখ টাকা করে অনুদান দেয়া হবে। নিহত আব্দুল করিমের ভাতিজা বোরহান উদ্দিন বাসস’কে জানান, কফিনবাহী মরদেহ দু’টি গ্রহণ করে তারা এরই মধ্যে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। এই সময় স্থানীয় দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আজ বাদ আছর গ্রামের মসজিদে ২ জনের জানাজা শেষে পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।
সৌদি আরবে কর্মরত উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় কর্মীর নিজস্ব ওয়ার্ক ভিসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রবেশ ভিসার আবেদন ও প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। নতুন নিয়মের আওতায় উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলে এবং অবিবাহিত মেয়েকে সৌদি আরবে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কর্মীর ওয়ার্ক ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ ভিসা দেওয়া যেতে পারে। আগের ব্যবস্থায় কর্মীর ওয়ার্ক ভিসা সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজন হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই অপেক্ষার সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যদের ভিসার জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে পৌঁছানোর পর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী তাদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই ব্যবস্থা সৌদি আরবে কর্মরত উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে বসবাসের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করতে পারে। সূত্র: গালফ নিউজ
লাওসে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রম নিয়োগের কোটা অনুমোদন, শ্রমিক নিয়োগ এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শ্রম নিয়োগের কোটা অনুমোদন, শ্রমিক নিয়োগ এবং ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। এই স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ে লাওসে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ ও প্রেরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ওই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া স্থগিতাদেশ চলাকালে লাওসগামী বাংলাদেশি কর্মীদের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়া এবং এ-সংক্রান্ত কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বাস্তবতায় সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে লন্ডনে দিনব্যাপী ‘গণমাধ্যম প্রশিক্ষণ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্য ও উৎস যাচাই এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। রবিবার (৪ অক্টোবর) পূর্ব লন্ডনের আল-খায়ের হলে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চারটি পৃথক অধিবেশনে সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হোসাইন ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক আলাউর রহমান খান শাহিন। আয়োজনে প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিজ্ঞানী ও গ্রুপ লিডার ড. মো. মোস্তফা কামাল সরকার। তিনি এআই নিয়ে তার ১৪ বছরেরও বেশি গবেষণার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। অধিবেশনে ড. মো. মোস্তফা কামাল সরকার ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা, এর ব্যবহার এবং সাংবাদিকদের সামনে আসতে থাকা নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর আগে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাংবাদিকতা বন্ধু নাকি শত্রু?’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক মাসুদ হাসান খান। সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, তথ্য সংগ্রহ, সম্পাদনা, উপাত্তভিত্তিক সাংবাদিকতা ও দৃশ্যায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি তথ্য ও উৎস যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিকতার শক্তি’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন রানার মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা আ স ম মাসুম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো সংবাদ বা বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য ও উৎস যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। অন্যদিকে ‘সংবাদকক্ষ থেকে সংবাদপ্রবাহ : ডিজিটাল যুগে প্রতিবেদন’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রশিক্ষণ দেন ডেইলি স্টারের যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশেষ সংবাদদাতা বুলবুল হাসান। সংবাদ লেখায় শব্দচয়ন, প্রতিবেদনের বিন্যাস, তথ্য উপস্থাপন এবং ডিজিটাল যুগের পাঠকের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার কাউন্সিলর ব্যারিস্টার মোস্তাক আহমেদ এবং লন্ডন একাডেমি অব অ্যাপ্লায়েড টেকনোলজির পরিচালক তরিকুর রশিদ চৌধুরী শওকতসহ প্রেস ক্লাবের নেতারা। বক্তারা লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের এ ধরনের পেশাগত উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব প্রতিবছর সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। তবে এবারের আয়োজন ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এবারই প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আগামীর সাংবাদিকতা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকদের দক্ষতা ও কর্মপদ্ধতিতে যে পরিবর্তন আসছে, সেই বাস্তবতার সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের পরিচিত করিয়ে দেওয়াই ছিল এবারের প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মো. সজিব (২৬) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। গত রবিবার সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রবাসে কর্মরত তার বন্ধু আল আমিন স্বজনদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সজিব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে সৌদি আরবে যান সজিব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির জুবাইল শহরে কর্মরত ছিলেন। সজিব ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। নিহতের চাচা আবুল কাশেম জানান, সজিবের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিকভাবে দাফনের জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, সৌদি আরব সময় রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে এলাকার সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবার যোগাযোগ করলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এরই মধ্যে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পরিবারের সব তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
কুয়েতে মারা যাওয়া আকামাবিহীন বাংলাদেশি প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। রোববার (৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের এ ধরনের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে প্রয়োজন হলে সরাসরি দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুয়েতে আকামাবিহীন কোনো বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হলে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচের কথা বলে চাঁদা বা অর্থ সংগ্রহের জন্য বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কুয়েতের শ্রম আইন অনুযায়ী ‘১৮ নম্বর ভিসায়’ কর্মরত কোনো প্রবাসী শ্রমিক মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের বহন করার কথা। এ ছাড়া ‘২০ নম্বর ভিসায়’ গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ সংশ্লিষ্ট কফিল বা নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হয়। দূতাবাস জানিয়েছে, কোনো প্রবাসী কর্মীর কফিল না থাকলে অথবা আকামাবিহীন অবস্থায় কুয়েতে মৃত্যুবরণ করলে বাংলাদেশ দূতাবাস নিজস্ব আর্থিক সহায়তায় মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে থাকে। এ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মরদেহ দেশে পাঠানোর নামে অর্থ সংগ্রহ বা চাঁদা দেওয়ার কার্যক্রমে যুক্ত না হতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। কুয়েতে কোনো আকামাবিহীন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হলে তার পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ না করে সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিতভাবে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিসরে শ্রমবাজার খুলছে ইতালি। দেশটির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়া হবে। এর মধ্যে মৌসুমি, অমৌসুমি ও স্বনিয়োজিত-তিন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে। ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জনকে অমৌসুমি চাকরিতে, ৮৯ হাজার জনকে কৃষি ও পর্যটন খাতের মৌসুমি কাজে এবং ৬৫০ জনকে স্বনিয়োজিত কাজের জন্য নেওয়া হবে। পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য অমৌসুমি কোটার মধ্যে ১৪ হাজার স্থান রাখা হয়েছে। এই কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশও যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ইতালির সরকারি তালিকায় বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল-সংলগ্ন বিভিন্ন শ্রমবাজারের দেশ এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য কোটা রাখা হয়েছে। আবেদন করবেন যেভাবে ২০২৭ সালের কোটার জন্য আবেদনপত্র প্রাক-পূরণ বা ‘প্রিকম্পাইলেশন’ শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Portale Servizi ALI প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। তবে সাধারণভাবে বিদেশি কর্মী নিজে সরাসরি এই কোটার আবেদন করেন না। ইতালিতে থাকা নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য চাকরির অনুমোদন বা nulla osta চেয়ে আবেদন করেন। এরপর অনুমোদন পেলে কর্মী নিজ দেশে ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ২০২৭ সালের ‘ক্লিক ডে’ নির্ধারণ করা হয়েছে খাতভেদে আলাদা দিনে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের আবেদন জমা শুরু হবে ১২ জানুয়ারি ২০২৭, পর্যটন খাতে ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কাজের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আবেদন শুরু হবে ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়। কোটা অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে আবেদন জমা দেওয়া যাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত। ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮- এই তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেবল বৈধ নিয়োগকর্তা ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আবেদন এগোয়। তাই চাকরি বা ভিসার নামে কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তা এবং nulla osta–র সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বাসিন্দা আইটি ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. আরদি (২৪) নিহত হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন। আমেরিকার স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ মো. আরদি চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই শাহ মো. আসাদ মিয়ার বড় ছেলে। পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কাজ শেষ করে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন আরদি। এ সময় মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাটের প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কানাডা সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ভারত—৪ হাজার ২২৭ জন। এরপর মেক্সিকোর ২ হাজার ২৮২ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১ জন, কলম্বিয়ার ৫৮০ জন, হাইতির ৫৩৫ জন এবং রোমানিয়ার ৪৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩৪০ জন, যা জাতীয়তা অনুযায়ী তালিকায় সপ্তম সর্বোচ্চ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বহিষ্কারের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল শরণার্থী আবেদন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানা। এ কারণে আট মাসে ১২ হাজার ৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানার কারণে ১ হাজার ৭৯৪ জন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ৮৯৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন আবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণে ৮৮ জন এবং অন্যান্য কারণে ১১৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার আদেশ, ৩ হাজার ৩০৩ জনের ক্ষেত্রে প্রস্থান আদেশ এবং ৩ হাজার ১৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার-নিষেধাজ্ঞা আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২ হাজার ৬৫৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ২৭০ জন, মার্চে ১ হাজার ৪৩২ জন, এপ্রিলে ১ হাজার ৯১৭ জন, মে মাসে ২ হাজার ৩৬৯ জন, জুনে ১ হাজার ৭৯১ জন, জুলাইয়ে ১ হাজার ৮৩৭ জন এবং আগস্টে ১ হাজার ৬২৩ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলমান ছিল। একই সময়ে পুরো কানাডায় বহিষ্কার প্রক্রিয়াধীন ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন। এর মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ১০ হাজার ২৯৫ জন এবং মেক্সিকোর ৬ হাজার ১০২ জন। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, কানাডায় বৈধভাবে প্রবেশ বা অবস্থানের অধিকার নেই—এমন বিদেশি নাগরিকদের আইন অনুযায়ী দেশ থেকে অপসারণ করা তাদের দায়িত্ব। উল্লেখ্য, যাদের কানাডায় থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বহিষ্কার কার্যকর করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।