ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সুশাসন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং প্রবাসীদের মধ্য থেকে অন্তত একজন পরিচালক নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানা পুনর্বহাল ও ব্যাংক খাতের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও দাবি উঠেছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ‘ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদ’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সম্প্রতি লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক গোলাম মুর্তজা সিআইপি। কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি মাহমুদুর সুমনের পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক বদরুজ্জামান বাবু ও জোবায়ের আহমদ। বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে দেশের রেমিট্যান্স সংগ্রহে শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এই ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠান। ফলে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকসেবার মান প্রবাসীদের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিগত দিনে রাজনৈতিক ও করপোরেট প্রভাবের কারণে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকটির পরিচালনা ও মালিকানা নিয়ে অতীতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে এসব অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী গ্রাহক পরিষদের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— ১. সততা ও ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা। ২. ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ৩. অতীতের সকল অনিয়মের তদন্তে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৪. ব্যাংক থেকে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। ৫. প্রবাসীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও হয়রানিমুক্ত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা। ৬. ইসলামী ব্যাংককে সব ধরনের রাজনৈতিক ও করপোরেট প্রভাবমুক্ত রেখে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং নীতিমালার আলোকে পরিচালনা করা। ৭. পরিচালনা পর্ষদে প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অন্তত একজন যোগ্য প্রবাসী পরিচালক নিয়োগ দেওয়া। সংগঠনের নেতারা জোর দিয়ে বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা ও ব্যাংকের প্রতি সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই সংকট উত্তরণে তারা সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানান।
প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক ও চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশগামী যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। চেন্নাইয়ের পর বেঙ্গালুরু, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কুফু (চীন), মদিনাসহ একাধিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এয়ারলাইন্সটি। রোববার (১৯ জুলাই) কক্সবাজারের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ে ফ্লাইট চালুর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের ভোগান্তি কমানো। আগে অনেক যাত্রীকে ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে চেন্নাই যেতে হতো। সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে সেই দুর্ভোগ কমেছে। একই কারণে আগামীতে বেঙ্গালুরুতেও ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানান ইউএস-বাংলার এমডি। তিনি বলেন, শিশুদের চিকিৎসা, হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বেঙ্গালুরু যান। তাদের যাতায়াত সহজ করতেই এই রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মালদ্বীপে ফ্লাইট চালুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেই আমরা এই রুট চালুর সিদ্ধান্ত নেই। আগে উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক শ্রমিক দুই থেকে তিন বছরেও দেশে ফিরতে পারতেন না। ইউএস-বাংলা তুলনামূলক কম ভাড়ায় ফ্লাইট চালু করার পর তারা প্রায় প্রতি বছর দেশে আসার সুযোগ পাচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্তমানে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর ও কুয়ালালামপুরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। আগামী বছর এসব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও ব্রুনাইয়ে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। পূর্ব এশিয়ার বাজার নিয়েও আগ্রহের কথা জানান ইউএস-বাংলার এমডি। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় উড়োজাহাজ চুক্তি হলে আগামী বছরই দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে ফ্লাইট চালুর আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে প্রবাসীদের দীর্ঘ ট্রানজিটের ভোগান্তি কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান আবদুল্লাহ আল মামুন। বর্তমানে কাতার, ওমান, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা ও রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। আগামী বছর কুফু (চীন) এবং সৌদি আরবের মদিনায় ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য রয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, নতুন রুট চালুর ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি ও চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশগামী মানুষের প্রয়োজনকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে ইউএস-বাংলা। এসময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
কুয়েতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার বিভিন্ন ভবন থেকে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সরিয়ে নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদ হওয়া প্রবাসীদের জন্য হাসাবিয়া এলাকার একটি সরকারি বিদ্যালয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে খাবার, পানীয় ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল। দূতাবাসের কাউন্সেলর ও মিশন প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং শ্রম কল্যাণ শাখার কাউন্সেলর শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারের নেতৃত্বে দলটি প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেয়। একই সঙ্গে স্থানীয় কুয়েতি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করে প্রতিনিধি দলটি। কুয়েতি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ এবং অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র থাকা প্রবাসীদের যাচাই শেষে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে অবৈধ অবস্থানকারীদের ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এ ছাড়া সাময়িক আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখিয়ে সেখানে থাকতে পারলেও কর্মস্থলে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণে বাইরে বের হতে পারবেন না। পরিস্থিতি বিবেচনায় কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশিদের আবাসনসংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার এবং চলাচলের সময় সিভিল আইডি বা বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রবাদ-সংশ্লিষ্ট পোস্ট প্রকাশের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) বাতিল করেছে সিঙ্গাপুর। তদন্ত শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ওই দুই বাংলাদেশির নাম রিশাদ তায়ানী ও সাহেদুল ইসলাম। তদন্ত শেষে গত ৮ জুলাই তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (আইএসডি) এ তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ করেছে সিএনএ। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর একই দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানার পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আইএসডি জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয়েছে। তবে তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে বর্ণবাদী হামলায় নিহত বাংলাদেশি ইসহাক আলীর স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্ণবাদ ও ঘৃণাপ্রসূত সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। সম্প্রতি লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৪৮ বছর আগে হ্যাকনিতে বর্ণবাদী হামলায় নিহত ইসহাক আলীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূরুদ্দিন আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ড. আনসার আহমেদ উল্লাহ। সভায় ইসহাক আলীর পরিবারের সদস্য, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, সাবেক জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা ইসহাক আলীর জীবন, ত্যাগ এবং বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে তার ঘটনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানের কারণে যুক্তরাজ্যে আবারও বর্ণবাদী বিদ্বেষ ও সহিংসতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থী এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা এর শিকার হচ্ছেন। অনুষ্ঠান শেষে ইসহাক আলীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, বর্ণবাদ, বৈষম্য ও ঘৃণার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে তাদের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কাতারের আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম রূপকার এবং দেশটির সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির মৃত্যুতে অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম কমিউনিটি শোক প্রকাশ করেছে। ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আমির হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কাতারকে শিক্ষা, অবকাঠামো, জ্বালানি, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তার নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে তার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানাতে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় অবস্থিত কাতার দূতাবাস পরিদর্শন করেছে অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম কমিউনিটির একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলটি কাতারের রাষ্ট্রদূত আলী সাদ মোহাম্মদ হাবাব আল-হাজরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে সমবেদনা জানায়। এ সময় রাষ্ট্রদূত আল-হাজরি প্রতিনিধি দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, কাতার ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি স্মরণ করেন, ২০০৬ সালে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের পর দক্ষিণ লেবাননের বহু শহর ও গ্রাম পুনর্গঠনে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। প্রয়াত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির নেতৃত্বে পরিচালিত সেই মানবিক সহায়তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে। রাষ্ট্রদূত অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত লেবানিজ ও মুসলিম কমিউনিটির প্রতিও শুভেচ্ছা জানান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ রিয়াদ আল-রিফাই, লেবানিজ দারুল ইফতার প্রতিনিধি শাইখ মালিক জিদানে, শাইখ হাসান জিদানে, কায়সার তারাদ এবং ফাওয়াদ আল-আশৌহ। প্রতিনিধি দলের পক্ষে শাইখ রিয়াদ আল-রিফাই ও শাইখ মালিক জিদানে কাতার সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, লেবাননের সংকটময় সময়ে কাতারের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন কার্যক্রম দেশটির জনগণের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এদিকে একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূতও কাতার দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে পৃথকভাবে শোক ও সমবেদনা জানান। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মুসলিমদের শীর্ষ সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব ইসলামিক কাউন্সিলস (এএফআইসি) শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সংগঠনটির সভাপতি ড. রাতেব জোনাইদ এক শোকবার্তায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি, আল-থানি পরিবার, কাতার সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। ড. রাতেব বলেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি ছিলেন একজন দূরদর্শী ও রূপান্তরমূলক নেতা, যার নেতৃত্বে কাতার আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম কমিউনিটি দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম কাতারি কমিউনিটির শোকের এই সময়ে তাদের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মরহুমের মাগফিরাত, জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব এবং তার পরিবার ও কাতারের জনগণের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করেন। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্যানবেরায় কাতার দূতাবাসে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও মুসলিম কমিউনিটির নেতাদের উপস্থিতি শুধু একজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই নয়, বরং কাতার, লেবানন, তুরস্ক এবং অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সম্মান ও মানবিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন।
ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে দিনটির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত এবং তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রিস-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান জর্জিওস কোতসোস। তিনি বক্তব্যে গ্রিস ও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে এথেন্স স্কুল অব ফাইন আর্টসের রেক্টর অধ্যাপক এরাতো খাতজিসাভাও বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আত্মত্যাগ, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সার্বজনীন তাৎপর্যের কথা উল্লেখ করেন। এতে কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কুয়েতের জিলিব আল-শুয়ুখ এলাকায় অবৈধ ও অনিরাপদ আবাসিক ভবনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালিয়েছে দেশটির সরকার। অভিযানের ফলে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের বহু প্রবাসী আবাসন সংকটে পড়েছেন। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে কুয়েত সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, ফায়ার ফোর্স এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থা অংশ নেয়। অভিযানে অনিরাপদ ভবন, রাষ্ট্রীয় জমি দখল, অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন, আবাসিক আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ভবনগুলোর পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করে এবং জরিমানা আরোপ করে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রবাসীদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহ বলেন, জিলিব আল-শুয়ুখে শুরু হওয়া এ অভিযান পর্যায়ক্রমে কুয়েতের অন্যান্য এলাকাতেও পরিচালিত হবে। জননিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার কথাও উল্লেখ করেন। জানা গেছে, জিলিব আল-শুয়ুখ এলাকাকে নতুনভাবে পরিকল্পিত নগরীতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে নতুন আবাসিক ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেওয়া সীমিত রাখা হয়েছে। তুলনামূলক কম ভাড়া এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের সুবিধার কারণে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের কাছে এলাকাটি জনপ্রিয়। সর্বশেষ অভিযানে বহু ভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক প্রবাসী বাসস্থান হারিয়েছেন। আশপাশের এলাকায় বাসার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়াও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেকেই নতুন বাসা খুঁজে পাচ্ছেন না, কর্মস্থলে যাতায়াতেও সমস্যার মুখে পড়ছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আবাসনের অভাবে কিছু প্রবাসী খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মালদ্বীপে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উদ্যোগে এক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রবাসে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা, নেতৃত্বের বিকাশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানী মালের সি বিল্ডিং অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মালদ্বীপ বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপ বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা মো. ফারুক হোসেন, সহ-সভাপতি মো. হোসেন সুমন, মো. সহ আলম, মো. ফারুক হোসেন, মো. এরশাদ মেল্লা, মো. আলমগীর মজুমদার, মো. আলতাফ হোসাইন ও মো. মুক্তার হোসেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, প্রবাসভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, দলীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, প্রবাসে শক্তিশালী, আদর্শনিষ্ঠ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে ঐক্য, জবাবদিহিতা, নিষ্ঠা ও ধারাবাহিক কর্মতৎপরতার বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রবাসী নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সমাবেশে নতুন সদস্য সংগ্রহ, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন সম্প্রসারণ, দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি, আন্তঃসাংগঠনিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপ ও কর্মস্থল থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী পর্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল নেতৃত্ব কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
কুয়েতে ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভবন খালি করার সরকারি অভিযানে উচ্ছেদ হওয়া বাংলাদেশি প্রবাসীদের খোঁজখবর নিতে আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল। দূতাবাস জানায়, হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে বাংলাদেশিসহ ভারত, পাকিস্তান, মিসর, নেপাল ও ফিলিপিন্সের নাগরিকদের সরিয়ে একটি সরকারি স্কুলে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। দূতাবাসের কাউন্সেলর ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং কাউন্সেলর (শ্রম) শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেয়। পাশাপাশি কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তারা মতবিনিময় করেন। জানা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের জন্য কুয়েত সরকার খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় পানি এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশের ব্যবস্থা করেছে। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ এবং অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের আরও বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযান চালানো হতে পারে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে বৈধ নথিপত্র না থাকলে তাদের ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হবে। এদিকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি ও পরিবারগুলো বৈধ অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে পারলে সাময়িকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে পারবেন। তবে সেখানে অবস্থানকালে কর্মস্থল বা অন্য কোনো কারণে বাইরে যাওয়ার অনুমতি থাকবে না। চলমান অভিযানের প্রেক্ষাপটে কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবাসনের বৈধতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে বাইরে চলাচলের সময় সিভিল আইডি বা অন্য বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চীনের গুয়াংজুতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ‘স্টাডি সার্কেল চীন’-এর দুই দিনব্যাপী সদস্য ও সাধারণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে চীনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এবং সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ। সম্মেলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, সেগুলোর সম্ভাব্য সমাধান এবং বাংলাদেশ-চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিক্ষা, বাণিজ্য, চিকিৎসা, পর্যটন এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে আগামী দুই বছরের জন্য স্টাডি সার্কেল চীনের নতুন ডিরেক্টর, কো-অর্ডিনেটর এবং কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন করা হয়। সম্মেলনের আগে বাংলাদেশ থেকে সফররত অতিথিদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান সংগঠনের নবনির্বাচিত ডিরেক্টর মো. গোলাম কাদের সিদ্দিকী, ডেপুটি ডিরেক্টর আজিজ আহমদ, ড. মুজাম্মেল হক, পরামর্শ সভার সদস্য সাব্বির আহমদসহ অন্যান্য নেতারা। সমাপনী অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত ডিরেক্টর গোলাম কাদের সিদ্দিকী সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সকল সদস্য ও অতিথিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সংগঠনকে আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত করতেই এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
দুবাইয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি(ভিসা এক্সটেনশন) নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সপ্তাহখানেকের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে এবং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার(১৬ জুলাই) দুপুরে সিলেটের ইসকন মন্দিরে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দুবাইয়ের শ্রমবাজার নিয়ে কোনো ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে কি না, সেটিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করছে। পাশাপাশি বিশ্বের যেসব দেশে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতিতে বিশ্বাস করে। তাই চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এর আগে আলোচনা সভা শেষে প্রদীপ প্রজ্বলন ও ফিতা কেটে রথযাত্রা মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, ইসকন সিলেটের নেতা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় কানাডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ সতর্কতাও জারি করেছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৫ জুলাই) আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্তত ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে রিয়াদ ও জেদ্দাগামী চারটি করে, দুবাইগামী দুটি এবং শারজাহগামী একটি ফ্লাইট রয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সৌদিয়া এয়ারলাইনস, ফ্লাইআদেল, ফ্লাইদুবাই ও এয়ার অ্যারাবিয়ার সেবাও রয়েছে। এর আগের দিন মঙ্গলবারও একই বিমানবন্দর থেকে রিয়াদ, জেদ্দা, দুবাই ও শারজাহগামী অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় কানাডা সরকার সৌদি আরব ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনা হালনাগাদ করেছে। বিশেষ করে আসির প্রদেশের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চল এবং সৌদি আরবের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রও। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর ইয়েমেন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে এবং সরকারি পরামর্শ অমান্য করলে ভ্রমণবিমার সুবিধা বাতিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। এছাড়া সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের জন্য পূর্বঘোষিত ‘লেভেল-৩’ ভ্রমণ সতর্কতা বহাল রেখেছে এবং নাগরিকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কিছু অঞ্চলের জন্য ‘লেভেল-৪’ বা ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সরকারি লোগোযুক্ত কনস্যুলেটের বিজ্ঞপ্তি ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল বা বিভিন্ন গ্রুপে কপি করে প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, জেদ্দা। এক সতর্কবার্তায় কনস্যুলেট জানায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া রাষ্ট্রীয় লোগো ব্যবহার আইনসম্মত নয়। তাই সরকারি লোগোসংবলিত কোনো বিজ্ঞপ্তি ডাউনলোড করে ব্যক্তিগত বা বেসরকারি প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রকাশ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। কনস্যুলেটের ভাষ্য, প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে অনেকেই সেসব বিজ্ঞপ্তি হুবহু নিজেদের নামে বা ব্যক্তিগত প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করছেন, যা বিভ্রান্তির পাশাপাশি আইনি জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে সরকারি বিজ্ঞপ্তির ছবি বা কপি পুনঃপ্রকাশ না করে সংশ্লিষ্ট অফিসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করার পরামর্শ দিয়েছে কনস্যুলেট। কর্তৃপক্ষের মতে, অফিসিয়াল সূত্রের লিংক শেয়ার করলে প্রবাসীরা নির্ভুল ও হালনাগাদ তথ্য পাবেন, একই সঙ্গে গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঝুঁকিও কমবে।
সৌদি আরবের আল-কাসিম অঞ্চলের একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কর্মরত অবস্থায় মেশিন দুর্ঘটনায় মো. নাদিম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৮টার দিকে বুকারিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাদিম কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভার যদুপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সামাদ মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ১০ মাস আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান নাদিম। ঘটনার দিন তিনি একটি যন্ত্র পরিষ্কার করার জন্য মেশিনের ভেতরে কাজ করছিলেন। এ সময় বাইরে থাকা কয়েকজন সহকর্মী বিষয়টি বুঝতে না পেরে মেশিন চালু করে দিলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর সৌদি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন সহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নাদিমের মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছানোর পর কুমিল্লার যদুপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার স্বজনরা।
দীর্ঘ সাত বছর ইতালিতে কর্মজীবন শেষে পরিবারের কাছে ফেরার উদ্দেশ্যে দেশে রওনা দিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের ফখরুল ইসলাম। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। বাংলাদেশে আসার পথে বিমানে অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি অবতরণের পর জর্জিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ফখরুল ইসলাম মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর এলাকার মহুবন্দ গ্রামের বাসিন্দা এবং আবদুল অকিদের ছেলে। পারিবারিক সূত্র জানায়, টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ইতালি থেকে দেশে ফিরছিলেন ফখরুল। যাত্রাপথে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পাইলট জরুরি ভিত্তিতে জর্জিয়ায় বিমান অবতরণ করান। পরে দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। গত সোমবার (১৩ জুলাই) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ফখরুলের মামা লাল মিয়া জানান, সোমবার রাতেই তারা মৃত্যুর খবর পান। বর্তমানে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। ফখরুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর শোকের ছায়া নেমে আসে মহুবন্দ গ্রামে। স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন প্রবাসে পরিশ্রম করা এই তরুণের এমন আকস্মিক মৃত্যু স্থানীয়দেরও মর্মাহত করেছে।
সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের দুই সহোদর ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১) নিহত হয়েছেন। তাদের মৃত্যুর খবরে নিজ গ্রাম গণিপুরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টার দিকে রিয়াদ থেকে জেদ্দাগামী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই ভাই লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গণিপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের সন্তান। পারিবারিক সূত্র জানায়, সৌদি আরবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সজীব ও সুজন। ব্যবসায়িক মালামাল সংগ্রহের জন্য তারা রিয়াদে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই ভাই গুরুতর আহত হন। পরে তাদের মৃত্যু হয়। দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। বিশেষ করে তাদের মা ও স্বজনরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন। নিহতদের বাবা আব্দুল মালেক সবার কাছে তার দুই ছেলের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের হজ কোটায় হজে যেতে ইচ্ছুক প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) নাগরিকরা সরকারি অথবা বেসরকারি যে কোনো ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে পারবেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের হজে যাওয়ার নিয়ম জানিয়ে সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ই-হজ সিস্টেমে (www.hajj.gov.bd) প্রাক-নিবন্ধনের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, হোয়াটসঅ্যাপ-সক্রিয় মোবাইল ফোন নম্বর ও বাংলাদেশের ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে পারবেন। এতে আরও বলা হয়, প্রাক-নিবন্ধনের সময় ই-হজ সিস্টেমে নিজেকে এনআরবি (নন রেসিডেন্স বাংলাদেশি) হিসেবে উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি যে দেশে বসবাস করছেন সেই দেশের নাম উল্লেখ করে বৈধ বসবাসের প্রমাণপত্র (ডকুমেন্ট) আপলোড করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিগগির হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন-২০২৭ ঘোষণা করা হবে। এরপর ই-হজ সিস্টেমে ঘোষিত প্যাকেজ নির্বাচন করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধিত হজযাত্রীরা হজ পালনের সুযোগ পাবেন।
বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নতুন নীতিমালা চালু করেছে মালয়েশিয়া সরকার। নতুন ব্যবস্থার আওতায় ব্যক্তিগত সুপারিশ বা বিশেষ বিবেচনায় আর কোনো শ্রমিক কোটা অনুমোদন দেওয়া হবে না। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ উপমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মতান্ত্রিকতা নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর ‘ই-কোটা’ মডিউলের মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকের কোটা আবেদন ও অনুমোদনের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনার ‘ওয়ান-স্টপ সেন্টার’-এর দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণও এখন মন্ত্রণালয়ের হাতে। এ পর্যন্ত ৫৪৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২২ হাজার ৪৭৬টি কোটা আবেদন জমা পড়েছে বলে জানানো হয়েছে। নতুন নীতিমালায় নিয়োগকর্তাদের জন্য স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আগে ‘মাইফিউচারজবস’ পোর্টালে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং কর্মসংস্থান আইনের ৬০কে ধারা অনুযায়ী স্থানীয় কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করতে হবে। উপযুক্ত স্থানীয় কর্মী না পাওয়া গেলে তবেই বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া নতুন শ্রমিকদের আগমনের পর প্রাথমিক নিরাপত্তা ও আবাসন নিশ্চিত করতে একটি ট্রানজিট সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা। নিয়োগকর্তারা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত নতুন শ্রমিকরা এই কেন্দ্রেই অবস্থান করবেন। এর মাধ্যমে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর চাপও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিদেশি শ্রমিকের কোটা অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনা মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলেও, কাজের পারমিট বা কর্মসংস্থান পাস ইস্যুর চূড়ান্ত ক্ষমতা আগের মতোই মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেই থাকবে।
বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা-সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগ চালু করেছে সৌদি আরব। দেশটি জানিয়েছে, সদ্য চালু হওয়া সমন্বিত ভ্রমণ প্যাকেজের সুবিধা প্রাথমিক পর্যায়ে এসব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবে ভ্রমণ আরও সহজ হবে। শুক্রবার (১০ জুলাই) গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই কর্মসূচির আওতায় একটি সমন্বিত ভ্রমণ বুকিংয়ের অংশ হিসেবে ভ্রমণকারীরা ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে মিশর, জর্ডান, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মেক্সিকোর নাগরিকরা এ সুবিধা পাবেন। সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তীতে আরও বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এই প্যাকেজের আওতায় একটি বুকিংয়ের মাধ্যমেই পুরো ভ্রমণের ব্যবস্থা সম্পন্ন করা যাবে। এর মধ্যে রিটার্ন ফ্লাইট, অনুমোদিত পর্যটন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে আলাদাভাবে ভিসার আবেদন জমা দেওয়া বা সৌদি দূতাবাসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যাকেজ কেনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে ভিসা ইস্যু করা হবে। অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে বুকিং করার পর ভ্রমণকারীরা ই-মেইলে তাদের ভিসা, ভ্রমণ বীমা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। বর্তমানে রিজারভাল ও আলমোসাফ নামে দুটি ট্রাভেল এজেন্সি এ পরিষেবা দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। ভিসাটির মেয়াদ হবে তিন মাস। এ ভিসায় একবার প্রবেশ করা যাবে এবং দুই দিন থেকে ৮৮ দিন পর্যন্ত সৌদি আরবে থাকার অনুমতি থাকবে। গালফ নিউজ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রথম দুই দিনের সর্বনিম্ন প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার সৌদি রিয়াল। এরপর প্রতি অতিরিক্ত দিনের জন্য ১ হাজার সৌদি রিয়াল যোগ হবে। ভিসা প্রদান ও ভ্রমণ বীমাসহ মোট ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০২ দশমিক ২১ সৌদি রিয়াল। ভ্রমণকারীরা চাইলে বুকিংয়ের সঙ্গে ইভেন্টের টিকিট ও বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতার মতো ঐচ্ছিক পরিষেবাও যুক্ত করতে পারবেন। তবে প্যাকেজগুলোতে মক্কা ও মদিনায় উমরাহ-সম্পর্কিত কোনো পরিষেবা বা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত নয়। যদিও ভিসাধারীরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মক্কা ও মদিনাসহ দেশটির যেকোনো স্থানে ভ্রমণ করতে পারবেন। এ ছাড়া, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বা থাকার ব্যবস্থা বাতিল হলে অর্থ ফেরত এবং বুকিং পরিবর্তনের বিষয়টি অনুমোদিত ভ্রমণসেবা প্রদানকারীর নীতিমালা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ
মালয়েশিয়ার জোহর বাহরুতে নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় মো. শোয়েব বিশ্বাস (২৩) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) স্থানীয় সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শোয়েব বিশ্বাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের সুরুতিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি একটি নির্মাণ প্রকল্পে অগ্নিনির্বাপক পাইপ স্থাপনের কাজ করছিলেন। এ সময় একটি বুম ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। কোম্পানির বাংলাদেশি প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিবারের কাছে দুর্ঘটনার খবর পৌঁছানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠাতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় যান শোয়েব। চলতি বছরের এপ্রিলে দেশে এসে বিয়ে করেন। ছুটি শেষে গত ১ জুলাই আবার কর্মস্থলে ফিরে যান। তবে কাজে যোগ দেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। ফরিদপুর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের (প্রবাসী কল্যাণ কেন্দ্র) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আশিক সিদ্দিকী বলেন, শোয়েব বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় গিয়ে থাকলে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণসহ প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা পেতে পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।