ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নাগরিককে ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন নোয়াখালীর বসুরহাট এলাকার বাসিন্দা কামাল, তার স্ত্রী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সি কন্যাশিশু। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ১৮ বছর বয়সি ছেলে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই বাংলাদেশি পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নিহত হন কামাল, তার স্ত্রী এবং পাঁচ বছর বয়সি কন্যা। হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে বাসা থেকে বেরিয়ে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করেন পরিবারের ১৮ বছর বয়সি ছেলে। তবে হামলাকারী তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীদের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ইতালির বিশেষ পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরির সদস্যরা পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন। আহত তরুণকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে অভিযান শুরু করেছে রোম পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে চলছে ব্যাপক তল্লাশি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি পূর্বশত্রুতার জের, ডাকাতির চেষ্টা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে— সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। এদিকে ফরেনসিক ও পুলিশ দল (Polizia Scientifica) ঘটনাস্থলটি সিলগালা করে দিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করছে। ভবনের আশপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খুনিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। রোম পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘অত্যন্ত নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’
মালদ্বীপে মাত্র চার মাস আগে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা বাংলাদেশি মেজবাহ উদ্দিনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মেজবাহ উদ্দিনের বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মাহাদিয়া গ্রামে। তিনি মোজিবুল হকের (সুরুজ মিয়া) ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানী মালের সিট্রন বাই লেমনগ্রাস কোম্পানির স্টাফ কোয়ার্টার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কবির আহমেদ জানান, স্টাফ কোয়ার্টারের একটি কক্ষে চারজন একসঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার সময় দুইজন কর্মস্থলে এবং দুইজন ছুটিতে ছিলেন। রাতের খাবার খেতে বের হওয়ার পর ফিরে এসে এক সহকর্মী মেজবাহ উদ্দিনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করা হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মামা মো. জহিরুল ইসলাম (সুমন) জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জীবিকার সন্ধানে মেজবাহ উদ্দিন মালদ্বীপে আসেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন বলে পরিবারের ধারণা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন এবং মালদ্বীপ পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। বর্তমানে মরদেহ রাজধানী মালের একটি মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। নিহতের পরিবার মালদ্বীপে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে। এ বিষয়ে মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশির এই মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। বিষয়টি সম্পর্কে হাইকমিশন অবগত রয়েছে এবং ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানতে মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত সব প্রবাসীকে সাদা কাগজে সই কিংবা টিপসই দেওয়া থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বুধবার (২৪ জুন) কনস্যুলেটের কাউন্সেলর মো. মেহবুব জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবে অবস্থানরত সব প্রবাসী বাংলাদেশির অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুরোধে কিংবা নির্দেশনায় সাদা কাগজে কোনও ধরনের সই ও টিপসই দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এমনটা না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। এ ধরনের অসতর্কতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অসাধু ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক প্রতারণা, জাল দলিলপত্র প্রস্তুত, অবৈধ লেনদেন বা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফৌজদারি মামলা, আর্থিক ক্ষতি, জেল-জরিমানা কিংবা অন্যান্য আইনগত শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন। এই অবস্থায় কোনও লিখিত কাগজপত্র বা ডকুমেন্টে সই কিংবা টিপসই দেওয়ার আগে তার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণরূপে বুঝে ও যাচাই করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সব প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।
তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা উত্তপ্ত বায়ুপ্রবাহের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং রাজধানী প্যারিসে তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নিম শহরে তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এছাড়া মার্সেইয়ে ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি, লিওঁতে ৪১ ডিগ্রি এবং প্যারিসে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামছে না। অতিরিক্ত গরমের কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় কিছু এলাকায় ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই পানিতে ডুবে মারা গেছেন। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে জলাশয়ে নামার সময় গত কয়েক দিনে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিম শহরে একটি গাড়ির ভেতরে আটকে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং মার্সেই ও লিওঁ শহরে হিটস্ট্রোকে তিন প্রবীণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে নির্মাণশ্রমিক, রেস্তোরাঁ কর্মী এবং ফুড ডেলিভারি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তীব্র রোদ ও উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে কাজ করায় তাদের মধ্যে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার আশঙ্কা বেড়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা প্রবাসীদের পর্যাপ্ত পানি ও স্যালাইন পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শহরে শীতল কেন্দ্র ও পাবলিক পার্ক ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, সপ্তাহের শেষ দিকে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেও রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি অঞ্চলে তাপপ্রবাহের প্রভাব আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্পত্তি মালিকানার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভা বিদেশিদের স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা-সংক্রান্ত আইনের নির্বাহী বিধিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) জেদ্দায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান। একই সঙ্গে বিদেশিরা কোন কোন এলাকায় সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই আইন প্রথমে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর করা হয়। সর্বশেষ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে বিধিমালাটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো লাভ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবে বিভিন্ন ধরনের স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবেন। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা, কৃষিজমি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পত্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সম্পত্তি ক্রয় ও মালিকানা অর্জনের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন সাপেক্ষে বিদেশি নাগরিকরা নির্ধারিত এলাকায় সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন। এ ছাড়া বৈধ লাইসেন্সধারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্যও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। সৌদি আরবে ব্যবসা পরিচালনাকারী এসব প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রমের প্রয়োজন অনুযায়ী অফিস, কারখানা, গুদামঘর কিংবা অন্যান্য স্থাপনার জন্য জমি বা ভবন কিনতে পারবে এবং সেগুলোর পূর্ণ মালিকানা ভোগ করতে পারবে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই বিধিমালা সৌদির রিয়েল এস্টেট খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও সম্পদ গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারী ও সম্পত্তি মালিকদের জন্য ভিসা ও আবাসন সুবিধা আরও সহজ করেছে ওমান। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বিদেশি নাগরিকরা কোনো স্থানীয় স্পনসর বা কফিল ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি ভিসা এবং বসবাসের অনুমতি (রেসিডেন্স পারমিট) পাবেন। সম্প্রতি ওমান পুলিশ আবাসন সংক্রান্ত নির্বাহী বিধিমালায় সংশোধনী এনে এ সুবিধা চালু করেছে। সংশোধিত বিধিমালা ইতোমধ্যে দেশটির সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওমানে জমি বা আবাসিক ইউনিটের মালিক বিদেশি নাগরিকরা সরাসরি রেসিডেন্সি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এমনকি যেসব সম্পত্তির নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত সনদ থাকলে ভিসা ও বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে। এই সুবিধা শুধু মূল সম্পত্তি মালিকের জন্যই নয়, তার প্রথম স্তরের পরিবারের সদস্য—যেমন স্ত্রী ও সন্তানদের জন্যও প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি সম্পত্তির মালিকানাধীন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধিরাও এ সুবিধার আওতায় আসবেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিবন্ধিত কিন্তু অনুমোদিত সম্পত্তির ভিত্তিতে ইস্যুকৃত ভিসাগুলোর মেয়াদ সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা নবায়ন করা যাবে। ভিসাধারীরা প্রতিবার ওমানে প্রবেশের পর সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। এ ছাড়া ‘ওনার ভিসা’ বা সম্পত্তি মালিকানা-ভিত্তিক ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। এখন বিদেশি সম্পত্তি মালিক ও কোম্পানির অনুমোদিত প্রতিনিধিরা কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। তবে নতুন নীতিমালায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা হয়েছে। ভিসা অনুমোদনের পর তিন মাসের মধ্যে আবেদনকারীকে অবশ্যই ওমানে প্রবেশ করতে হবে। ওমান সরকার মনে করছে, এই উদ্যোগ দেশের আবাসন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশটিকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করবে।
কুয়েতে অসুস্থতা ও মানবিক সংকটে থাকা তিন বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাজিরা এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছান। দেশে ফেরা তিন প্রবাসী হলেন তছিরন বিবি, সানজিদা আক্তার এবং মো. ইসমাইল। উন্নত জীবনের আশায় কুয়েতে গেলেও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, অর্থাভাবের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি দূতাবাসের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা, ট্রাভেল পাস ইস্যু, আইনি ছাড়পত্র সংগ্রহসহ দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এছাড়া তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের যেকোনো সংকটে সহায়তা দিতে সরকার ও দূতাবাস সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, দেশে ফেরার পর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। প্রবাসীদের প্রতি দূতাবাসের এই মানবিক উদ্যোগ বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের যৌথ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সেলাঙ্গরের সেরি কেম্বাঙ্গান এলাকার ওয়ান সাউথ প্লাজায় পরিচালিত ‘অপস লিটল মিডল ইস্ট’ নামের বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এতে ইমিগ্রেশন বিভাগের ৫৩ জন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাঁচজন কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিযানের সময় রেস্তোরাঁ, খাবারের কিয়স্ক ও বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রসহ অন্তত ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈধ অনুমোদন ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও তাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে মোট ৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ঘানা ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং পাস বা ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানের সময় তদন্তের স্বার্থে এক মালয়েশীয় নাগরিককে সমন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিককে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফাবিরোধী আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩০০ রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক সব বিদেশিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা কর্মসংস্থান প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশ একমত হয়েছে। মঙ্গলবার মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কম খরচে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, আগামী জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অতীতের মতো কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে না। শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে দুই দেশই একমত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ায় প্রথম সরকারি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ ও ২২ জুন অনুষ্ঠিত ওই সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুই দেশের চলমান আলোচনার ইতিবাচক ফলাফল বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের (কেপিডিএন) যৌথভাবে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সেলাঙ্গরের সেরি কেম্বাঙ্গানের ওয়ান সাউথ প্লাজা এলাকায় পরিচালিত ‘অপস লিটল মিডল ইস্ট’ নামের এ অভিযানে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। জেআইএম এক বিবৃতিতে জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়া অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের স্পেশাল অ্যাকশন ব্রাঞ্চ ও এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের ৫৩ কর্মকর্তা এবং কেপিডিএনের পাঁচজন কর্মকর্তা অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং এক সপ্তাহব্যাপী গোয়েন্দা তৎপরতার ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে ১৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে রেস্তোরাঁ, খাদ্যের কিয়স্ক, বিক্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈধ অনুমতি ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে মোট ৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৩০ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ইয়েমেন, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ঘানা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। জেআইএম জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালার বিভিন্ন ধারায় অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং পাস বা ভিসার অপব্যবহার উল্লেখযোগ্য। একই অভিযানে তদন্তে সহযোগিতার জন্য এক মালয়েশীয় নাগরিককে ফরম-২৯ সমন জারি করা হয়েছে। এছাড়া কেপিডিএন পরিদর্শনের সময় শনাক্ত হওয়া একটি অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিককে মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফাবিরোধী আইনে ৩০০ রিঙ্গিত জরিমানা করেছে। আটক সব বিদেশি নাগরিককে পরবর্তী তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। জেআইএম বলছে, অবৈধভাবে বসবাসকারী, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানকারী কিংবা সরকারের দেওয়া পাস সুবিধার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয়, সুরক্ষা বা কর্মসংস্থান না দেয় সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বিভাগটি আরও জানিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় ছাড়াই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতালিতে কাজ না পেয়ে এবং চরম আর্থিক সংকটের কারণে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশের তথ্যমতে, গত শুক্রবার ইতালির কাতানিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে জিন্নাত খান খোকন (৪০) নামে ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জিন্নাত খান খোকন বাগেরহাট সদর উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে। তিনি পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় গত বছর প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দালালের মাধ্যমে ইউরোপে পাড়ি জমান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে তিনি বুলগেরিয়ায় পৌঁছান এবং পরে অবৈধ পথে ইতালিতে প্রবেশ করেন। তবে সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বৈধ কাজ বা স্থায়ী আয় না থাকায় তিনি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েন। পাশাপাশি দেশে থাকা ঋণদাতাদের চাপও তার মানসিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে তোলে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় তারা জমি বিক্রি ও ঋণ নিয়ে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় স্বামী-সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তারা সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন। এদিকে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহত প্রবাসীর বিএমইটি কার্ড থাকায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ব্যয় বহন করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দূতাবাস আরও জানায়, ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য পেশাগত ফিটনেস ও স্বাস্থ্য মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় কর্মীদের শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততা নিয়মিত যাচাই করা হবে। সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমে নতুন কর্মীদের চাকরিতে যোগদানের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। এরপর বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের এবং পরবর্তী পর্যায়ে স্থায়ী, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিকসহ সব ধরনের কর্মীদের এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মী স্বাস্থ্য বা পেশাগত সক্ষমতার পরীক্ষায় অনুপযুক্ত বিবেচিত হলে তিনি তার বর্তমান দায়িত্বে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে তার জন্য উপযুক্ত অন্য কোনো পেশা বা দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমোদন ছাড়া কাজে যোগদানের সুযোগ থাকবে না। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, পেশাগত অসুস্থতা, কাজের ধরন পরিবর্তন অথবা নির্দিষ্ট সময় পরপর কর্মীদের পুনরায় স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, পেশাগত ঝুঁকি হ্রাস এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সৌদি আরবে কর্মরত বিদেশি কর্মীদেরও নির্ধারিত স্বাস্থ্য ও সক্ষমতার মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের (২২) লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোববার লারনাকা জেলার কোফিনু এলাকার একটি স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার পচনধরা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ১২ জুন নিখোঁজ হওয়ার রাতেই ইমনকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহত শাহরুয়ার আহমেদ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা থানার বাখর নগর এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে। তিনি সাইপ্রাসের লারনাকা জেলার ওরোক্লিনি এলাকায় বসবাস করতেন। ফাইলিনিউজ ও সাইপ্রাস টাইমসসহ স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, গত ১২ জুন কোফিনু এলাকার একটি কারখানায় নিজের প্রথম কর্মদিবসে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন ইমন। নিজের কোনো যানবাহন না থাকায় তিনি বাসে করে রওনা হয়েছিলেন। ওইদিন রাতেই তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক বন্ধুকে নিজের লোকেশন পাঠান এবং গ্রিসে অবস্থানরত তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে একটি বার্তা পাঠান। তারপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ইমন নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা সাইপ্রাস ও গ্রিস কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চান। নিখোঁজের পরদিন থেকেই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ইমনের ফোন ব্যবহার করে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকারী মূলত অপহরণের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল। ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ সিগন্যাল কোফিনু এলাকায় শনাক্ত করার পর স্থানীয় পুলিশ, সিআইডি এবং গোয়েন্দা দল সিসিটিভি ফুটেজ ও বাস রুট ধরে তল্লাশি শুরু করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ২২ বছর বয়সি অভিযুক্ত যুবক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ইমনের ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, কিছুদিন আগে একটি বাসে ভ্রমণের সময় ইমনের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় হয়। অভিযুক্তের দাবি, “ওই সময় ইমন তাকে অপমান করেছিলেন এবং সেই প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড। তবে পুলিশ মনে করছে, হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে অর্থ আদায় করা। ঘটনার দিন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমনকে ওরেক্লিনি এলাকা থেকে কৌশলে গাড়িতে তুলে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাকে হত্যা করে একটি অগভীর গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়। বর্তমানে লাশ উদ্ধারের স্থানটি ঘিরে রেখেছে সাইপ্রাস পুলিশের ফরেনসিক বিভাগ এবং তদন্তের জন্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্র বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত চলছে।
মালদ্বীপের শিক্ষা খাতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ আহমেদ মুত্তাকী। শনিবার (২১ জুন) রাজধানী মালের ইমাজউদ্দিন স্কুল অডিটোরিয়ামে মিয়ানজু কলেজের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষা সম্প্রসারণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের ভূমিকার জন্য তাকে এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, মালদ্বীপের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার প্রসারে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি সাজিদা মোহাম্মদ। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বক্তব্যে ফার্স্ট লেডি বলেন, মিয়ানজু কলেজ স্বল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গঠনে প্রতিষ্ঠানটির অবদান দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করে আহমেদ মুত্তাকী বলেন, “এই স্বীকৃতি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি মালদ্বীপে কর্মরত সমগ্র বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্যও গর্বের বিষয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন বাংলাদেশি হিসেবে এমন সম্মান পেয়ে আমি আনন্দিত ও সম্মানিত।” সংশ্লিষ্টদের মতে, আহমেদ মুত্তাকীর এ অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দক্ষতা, সুনাম ও সক্ষমতার ইতিবাচক প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, কল্যাণ ও সেবাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা ও গণশুনানির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। রোববার (২১ জুন) রাজধানী মালেতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসীদের সমস্যা-সম্ভাবনা, শ্রমিক অধিকার, কর্মসংস্থান এবং কনস্যুলার সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত এবং সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এ ধরনের মতবিনিময় সভা ও গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। দূতাবাসের কনস্যুলার সহকারী মো. ইবাদ উল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মোতাছেম বিল্লাহ এবং তৃতীয় সচিব সৈয়দ হামজাদ আলী। সভায় হাইকমিশনার প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের অভিযোগ, মতামত ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, সাধারণ প্রবাসী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং হাইকমিশনের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন প্রবাসীদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করবে এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানে সহায়ক হবে।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গতকাল শুক্রবার লন্ডনের কেমব্রিজ থানায় এ মামলাটি করা করে দলটির এক কর্মী। হাসনাত হাসনাত আব্দুল্লাহ ছাড়া মামলায় অন্য আসামিরা হলেন এনসিপি নেতা এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমকে। তাদের মধ্যে জাকির চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এ ছাড়া অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আজ শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স। এ তথ্য জানিয়ে সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমাদের নামে মামলা করেছে। এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এ বিষয়টি দেখছে।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ ও পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকরা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তার সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও হয়রানির পর এবার নতুন নাটক শুরু করেছে। তারা হাসনাত আবদুল্লাহ, এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী, শাহীন আলমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের “বেধড়ক পেটানোর” অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে পতিত আওয়ামী লীগ আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এবারও হবে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নে হাসনাত আবদুল্লাহর ঐতিহাসিক বক্তব্য, যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রবাসীদের সঙ্গে তার সফল মতবিনিময় এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে তারা বারবার চেষ্টা করলেও প্রতিবারই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’
কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। যাদের পাঁচজনই বাংলাদেশের সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। অন্যজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে। নিহত পাঁচ বাংলাদেশি হলেন আগতালুক নিবাসী জসিম উদ্দিন, আমরপুর নিবাসী জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক নিবাসী মস্তাক আহমদম, মাঝতালুক নিবাসী জুবায়ের আহমদ এবং গাছবাড়ী নিবাসী কাদের আহমদ। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তানা। এ সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান বলে জানান আহমেদ মালেক। তাদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ছাড়তে না পারা প্রবাসী ও বিদেশিদের জন্য ৩০ দিনের বিশেষ ‘গ্রেস পিরিয়ড’ ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি)-এর বরাতে জানানো হয়েছে, এই সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো ধরনের ওভারস্টে জরিমানা ছাড়াই তাদের ভিসা বা আবাসিক অবস্থার বৈধতা নিয়ম অনুযায়ী ঠিক করতে পারবেন অথবা চাইলে নির্বিঘ্নে দেশ ত্যাগ করতে পারবেন। আইসিপির ঘোষণায় বলা হয়, ২০২৬ সালের ১০ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর থাকবে। মূলত যেসব প্রবাসী বা ভ্রমণকারী অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে ইউএই ছাড়তে পারেননি, তারাই এ সুবিধার আওতায় পড়বেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সুযোগ নিতে আলাদা কোনো আবেদন বা অতিরিক্ত দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। যারা দেশটিতে অবস্থান বৈধ করতে চান, তারা এই সময়ের মধ্যেই ভিসা বা কর্মসংস্থানের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে পারবেন। আর যারা দেশে ফিরতে চান, তারা স্বাভাবিক নিয়মে প্রস্থান করতে পারবেন। আইসিপি আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই আইনগতভাবে অবস্থান ঠিক করতে পারেন বা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন।
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিদায়ী কাউন্সিলর (শ্রম) মো. সোহেল পারভেজ বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)-এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে পদায়িত হয়েছেন। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তিতে মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন। কর্মজীবনে পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বাক্ষর রাখা এই কর্মকর্তা ২০২০ সালে প্রথম সচিব হিসেবে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের দায়িত্বও পালন করেন। মালদ্বীপে দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের শ্রমসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান, বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং সংকটাপন্ন নাগরিকদের সহায়তায় তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের নতুন দায়িত্বে সোহেল পারভেজ দেশের সামুদ্রিক পরিবহন খাতের উন্নয়ন, কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপির জীবন ও কর্ম নিয়ে রচিত গ্রন্থ ‘এ ম্যান অব অ্যাকশন’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি পূর্ব লন্ডনের একটি স্কুলের হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন চ্যানেল এস-এর হেড অব প্রোগ্রাম ফারহান মাসুদ খান এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিসবাহ জামাল। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ইমাম আজিজুর রহমান খান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্যারোনেস পলা মনজিলা উদ্দিন, যিনি অতিথিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। বইটির লেখকের পুত্র তাহমিদ চৌধুরী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গ্রন্থটির পটভূমি তুলে ধরেন। এছাড়া সম্পাদক তৌহিদ শাকিল, লেখক ও গবেষক ফারুক আহমদ এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন গ্রন্থটির বিষয়ে মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন। গ্রন্থটির বিস্তারিত পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন ডা. জাকি রিজওয়ানা আনোয়ার। তিনি বলেন, আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী নন, বরং তিনি কমিউনিটি উন্নয়ন, গণমাধ্যম ও সমাজসেবায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ব্রিটিশ এমপি কিথ বেস্টসহ যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, ‘এ ম্যান অব অ্যাকশন’ গ্রন্থটি আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীর জীবন, কর্ম এবং প্রবাসে সমাজসেবামূলক অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের লারনাকা এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে গত ছয় দিন ধরে নিখোঁজ আছেন এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তার বাবা সাইপ্রাসের পুলিশকে বলেছেন, গত ১২ জুন ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোনে যোগাযোগ করে ‘মুক্তিপণ’ চেয়েছে। বৃহস্পতিবার সাইপ্রাসমেইলের এক খবরে বলা হয়, শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নামের ২২ বছর বয়সি ওই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সন্ধান এখনও মেলেনি। সর্বশেষ তাকে সাইপ্রাসের কোফিনু এলাকায় দেখা গিয়েছিল। নিখোঁজ এই শিক্ষার্থী সাইপ্রাসের তুরস্ক নিয়ন্ত্রিত উত্তর অংশে চলে গেছেন, নাকি দ্বীপরাষ্ট্রটিই ত্যাগ করেছেন, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালাচ্ছে প্রশাসন। তবে সাইপ্রাসের ইলেকট্রনিক সিস্টেমে ইমনের চলে যাওয়ার কোনো রেকর্ড বা নিবন্ধন পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি অবৈধ উপায়ে উত্তর অংশ পার হয়েছেন নাকি সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রের ভেতরেই আছেন, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা। সাইপ্রাসের আরেক সংবাদমাধ্যম ফাইলনিউজ ইংলিশ বলছে, লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকায় বসবাসকারী ইমন গত ১২ জুন একটি স্থানীয় কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। পরে তিনি তার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান লিখে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া গ্রিসে থাকা তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে আরেকটি বার্তা পাঠানোর পরই ইমনের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পুলিশ বলছে, ইমনের মোবাইল ফোনের শেষ সিগন্যালটি কোফিনু পর্যন্ত শনাক্ত করা গেছে। কিন্তু সেখানে তল্লাশি চালিয়েও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইমন বাসে করে ওই এলাকায় গিয়েছিল, কারণ তার নিজের কোনো বাহন নেই। ওই এলাকার বাস রুটগুলো এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশ সিসিটিভি ভিডিও খুঁজছে। এরইমধ্যে ইমনের বাবা ছেলের সন্ধান চেয়ে গ্রিস কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। ইমনের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা থাকলে সিআইডি লারনাকা অথবা ১৪৬০ নম্বরে সিটিজেনস লাইনে যোগাযোগ করার জন্য পুলিশ অনুরোধ করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।