প্রবাসী

ছবি : সংগৃহীত
দেশে ফেরার ট্রাভেল পারমিট নিতে গিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী অরুণের মৃত্যু

দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে নিজ দেশে ফেরার আকুতি ছিল তার মনে। সেই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পারমিট (ভ্রমণ অনুমতি) সংগ্রহ করতে স্ত্রীকে নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন দূতাবাসে। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে দেশে ফেরার সেই অনুমতিপত্র আর হাতে নেওয়া হলো না লক্ষ্মীপুরের প্রবাসী অরুণের। তার আগে হাই কমিশন প্রাঙ্গণেই অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন তিনি।   স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের কনস্যুলার সেবা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রবাসী অরুণ (৫০) লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার চররোহিতা গ্রামের সোলেমান হায়দারের ছেলে।   বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওইদিন সকালে স্ত্রী মোসাম্মাৎ শাহানাজ শরীফসহ ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহের জন্য হাই কমিশনে উপস্থিত হন অরুণ। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় মানবিক বিবেচনায় হাই কমিশন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তার ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করার প্রক্রিয়া শুরু করে।   ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, “তবে দুপুরের দিকে অরুণ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হলেও চিকিৎসাকর্মীরা তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, অরুণ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি একবার মাইল্ড স্ট্রোক করেছিলেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি দেশে ফেরার শেষ চেষ্টাটুকু করতে দূতাবাসে এসেছিলেন।   হাই কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই মালয়েশিয়ান পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠিয়েছে।   বিদেশে অবস্থানরত কোনো নাগরিকের কাছে বৈধ পাসপোর্ট না থাকলে কিংবা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নিজ দেশে ফেরার জন্য দূতাবাস থেকে এই ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করতে হয়। এটি মূলত একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) যাত্রার কাগুজে অনুমতি, যা ব্যবহার করে কেবল নিজ দেশে ফেরা সম্ভব। সাধারণত যারা প্রবাসে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরতে চান, তাদের জন্যই এই বিশেষ পারমিট ইস্যু করা হয়।   আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অরুণের লাশ দেশে স্বজনদের কাছে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ শহরে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। তাকে হত্যার পর সহকর্মী ও মালিকপক্ষের কেউ লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে বলে দাবি করছে নিহতের পরিবার।   মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য জানান। এর আগে গত ১১ এপ্রিল শারজাহ শহরের ১০ নম্বর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   নিহত মো. হেলাল (২৫) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নুর আলমের ছেলে। নিহতের বাবা নুর আলম জানান, গত ১১ এপ্রিল শারজাহ শহরে নিজ কর্মস্থলে তার ছেলেকে হত্যা করে লাশ টয়লেটে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। অন্য সহকর্মীদের মাধ্যমে তিনি ছেলের মৃত্যুর খবর পান।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে হেলাল আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি ‘নুর আল কামাল পেইন্ট কন্ট্রাকটিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পেইন্টার হিসেবে কাজ করতেন। তার ভাই ফয়সাল কিছুদিন আগে একই কোম্পানিতে সমস্যায় পড়ে দেশে ফিরে আসেন। এখন একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলের মৃত্যুর খবরে পরিবারটি গভীর সংকটে পড়েছে।   পরিবারটি এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে আমিরাত সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের সহায়তা কামনা করেছে।   কমলনগর থানার ওসি মো. ফরিদুল আলম জানান, এ ধরনের কোনো খবর এখনো তাদের কাছে আসেনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আজ থেকে মক্কায় ঢুকতে পারবেন না প্রবাসীরা

সৌদি আরব সরকার হজ মৌসুমকে সামনে রেখে মক্কায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে। সোমবার থেকে বৈধ অনুমতিপত্র (পারমিট) ছাড়া কোনো প্রবাসী শ্রমিক বা পর্যটক মক্কায় প্রবেশ করতে পারবেন না।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধুমাত্র মক্কা অঞ্চলের ইকামাধারী প্রবাসী, হজের অনুমতিপত্রধারী ব্যক্তি অথবা পবিত্র স্থানগুলোতে কর্মরত বৈধ অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই প্রবেশের সুযোগ পাবেন। অন্যথায় চেকপোস্ট থেকেই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।   এদিকে, ওমরাহ ভিসায় আগত বিদেশিদের জন্য দেশ ত্যাগের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ এপ্রিল। একই সঙ্গে ১৮ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ‘নুসুক’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওমরাহ পারমিট ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ১ জিলকদ থেকে হজ ভিসা ছাড়া অন্য কোনো ভিসাধারীর জন্য মক্কায় প্রবেশ বা অবস্থান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হজের পারমিট ‘আবশির’ ও ‘মুকিম’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে সংগ্রহ করা যাবে।   নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে ভবন থেকে পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু, মরদেহ আনতে দিশেহারা পরিবার

সৌদি আরবে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে মো. সোবহান খান নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় রিয়াদে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।   নিহত সোবহান খানের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার হরিকুমারিয়া এলাকায়। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ঋণ করে গত বছরের ১৯ নভেম্বর তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান।   পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদেশে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস কোনো কাজ পাননি তিনি। ফলে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাতে পারেননি। পরে প্রায় দুই মাস আগে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ শুরু করেন।   সম্প্রতি কাজ করার সময় হঠাৎ ভবনের ওপর থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন সোবহান। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।   স্বামীর মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী মরিয়ম বেগম। ছয় সন্তান নিয়ে এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। পরিবারটির অভিযোগ, প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে বিদেশে গেলেও সেই ঋণ এখনো পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।   অর্থাভাবে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার সামর্থ্য নেই পরিবারের। এ অবস্থায় সরকারের সহায়তা চেয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদন করা হয়েছে।   এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিবারের একমাত্র চাওয়া—দ্রুত যেন প্রিয়জনের মরদেহ দেশে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা যায়।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া থেকে ১৭৫ অভিবাসী ফেরত, তালিকায় ২৮ বাংলাদেশি

ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক বিভিন্ন দেশের ১৭৫ জন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) জোহর রাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, আটক অভিবাসীদের সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ায় নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।   ইমিগ্রেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিপো থেকে এসব অভিবাসীকে নিজ দেশে পাঠানো হয়। প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩৬ জনই ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। এছাড়া ২৮ জন বাংলাদেশি, ৪ জন ভারতীয়, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার ২ জন করে এবং ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও স্পেনের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।   তাদের ফেরত পাঠাতে ব্যবহার করা হয়েছে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (KLIA-1 ও KLIA-2) এবং স্টুলাং লাউত ও পাসির গুদাং ফেরি টার্মিনাল। যাতায়াতের খরচ অভিবাসীদের নিজস্ব অর্থ, পরিবারের সহায়তা কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বহন করেছে।   মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী, ফেরত পাঠানো এসব অভিবাসীকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের ভিসা নিয়ে পুনরায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় নির্মাণস্থলে মাটি ধসে প্রাণ গেল প্রবাসীর, ১০ দিন পর দেশে ফিরল মরদেহ

জীবিকার তাগিদে প্রবাসে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক বাংলাদেশি শ্রমিক। মালয়েশিয়ার জোহর বারু এলাকায় নির্মাণকাজ করার সময় মাটি চাপায় নিহত হন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রুহুল আমিন (৩৮)। মৃত্যুর ১০ দিন পর তাঁর মরদেহ দেশে ফিরেছে।   রোববার সকালে তাঁর মরদেহ নিজ গ্রাম বামন্দী ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। পরে বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।   পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিন জোহর বারুতে একটি ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করতেন। সম্প্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীরে কাজ করার সময় হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে। অন্য শ্রমিকরা দ্রুত নিরাপদে সরে যেতে পারলেও তিনি ভেতরে আটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।   প্রবাসী সহকর্মীদের সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁর মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।   রুহুল আমিন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। শোকে স্তব্ধ তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে ও একমাত্র ছেলে। বড় মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, আসন্ন কোরবানির ঈদে বাবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল—কিন্তু সেই অপেক্ষা আর পূরণ হলো না।   স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতের পরিবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হজে কড়াকড়ি বাড়াল সৌদি আরব: হজ ভিসা ছাড়া অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ

পবিত্র হজ পালনে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব সরকার। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্ধারিত ‘হজ ভিসা’ ছাড়া অন্য কোনো ভিসা ব্যবহার করে হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিজিট, ট্রানজিট, ওমরাহ কিংবা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশকারী কেউই হজ পালন করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা বিশ্বের সব দেশ থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।   তবে সৌদি আরবে বসবাসরত নাগরিক ও প্রবাসীদের জন্য আলাদা নিয়ম রাখা হয়েছে। তাদের হজে অংশ নিতে হলে সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে এবং আনুষ্ঠানিক হজ পারমিট সংগ্রহ করতে হবে।   হজের নামে প্রতারণা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্ক করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ সংক্রান্ত সব বুকিং অবশ্যই সরকার অনুমোদিত মাধ্যমেই করতে হবে। কোনো ভুয়া বা অননুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে বুকিং করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   এদিকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকার। এবার হজ ফ্লাইটের টিকিটপ্রতি প্রায় ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটের পরিবর্তে নিয়মিত ফ্লাইটের মাধ্যমেই যাত্রী পরিবহন করা হবে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন মুসল্লি হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ২৬০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধিত হয়েছেন ৭২ হাজার ৩৪৪ জন।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কুয়ালালামপুরে আসিয়ানের পরিবহন কার্যদলের ৫০তম বৈঠক অনুষ্ঠিত

মালয়েশিয়া ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আসিয়ান ট্রান্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যানশিপ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের ৬ থেকে ৮ এপ্রিল রাজধানী কুয়ালালামপুরে টিএফ ডাব্লিউ জি-এর ৫০তম বৈঠকের আয়োজন করে।   এ বৈঠকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে, কারণ এতে প্রথমবারের মতো আসিয়ানের সদস্য হিসেবে তিমুর-লেস্তে অংশগ্রহণ করে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতার পরিধিকে আরও শক্তিশালী করেছে।   কুয়ালালামপুর ট্রান্সপোর্ট স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০১৬–২০২৫ সমাপ্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এবারের বৈঠকে নতুন আসিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেক্টোরাল প্ল্যান ২০২৬–২০৩০ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনায় পরিবহন সুবিধা সহজীকরণের ছয়টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে আসিয়ানের চারটি মূল চুক্তি—এফএএফজিআইটি, এফএএফআইএসটি, এএফএএমটি এবং এএসইএএন সিবিটিপি বাস্তবায়ন বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।   এছাড়াও, বৈঠকে নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া–থাইল্যান্ড–লাও পিডিআর করিডোরে রেলপথের মাধ্যমে আশিয়ান কাস্টমস ট্রানজিট সিস্টেম পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এবং সীমান্ত অতিক্রমকারী বিপজ্জনক পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রোটোকল ৯ প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা।   বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে টিএডব্লিউজির ভূমিকা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিবহন ব্যবস্থায় প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং চুক্তিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরবরাহ চেইনের ধারাবাহিকতা ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।   মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতেও কৌশলগত আলোচনায় নেতৃত্ব প্রদান এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে একটি আরও দক্ষ, গতিশীল ও সমন্বিত আসিয়ান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষ কর্মী নিয়োগে নতুন উদ্যোগ জার্মানির

শ্রমবাজারের জন্য নতুন দক্ষকর্মী প্রয়োজন জার্মানির। একই সঙ্গে এমন ব্যবস্থারও প্রয়োজন, যাতে বিদেশি কর্মীরা শুধু আসবেনই না, দীর্ঘমেয়াদে বসবাসও করতে পারেন। এ লক্ষ্যেই জার্মান কোম্পানি ও দক্ষ কর্মীদের সহায়তায় নতুন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   জার্মানির মাঝারি আকারের কোম্পানি ওমেক্সন হখস্পানুংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুইদো সাইফেন জানান, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রস্তুতকারী এই কোম্পানির প্রায় ৫০০ কর্মী রয়েছে। তিনি বলেন, জার্মানিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নির্মাণ কেন্দ্রগুলোর জন্য দক্ষ কর্মী খুঁজে পাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে জার্মান-ভিয়েতনামি উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্পের মাধ্যমে ভিয়েতনাম থেকে নতুন দক্ষ কর্মী নিয়োগের আশা করছেন তিনি।   লাইন টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরিতে ভিয়েতনামের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইভিএন একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইভিএনের ভিয়েতনামি প্রশিক্ষকদের জার্মানিতে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা জার্মান মানদণ্ড অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুত করতে পারেন। এ প্রকল্পে সহায়তা দিচ্ছে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড। ভিয়েতনামে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য জার্মান ভাষা কোর্সও চালু করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ২০০ জনকে জার্মানিতে চাকরির সুযোগ দেওয়া হতে পারে।   এ উদ্যোগকে “উইন-উইন পরিস্থিতি” বলে মন্তব্য করেন সাইফেন। বিদেশি দক্ষ কর্মী আনা, নিজ দেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জ্ঞান বিনিময়ের এমন প্রকল্পগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে জার্মান ফেডারেল সরকারও। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে মিলে দক্ষ কর্মী প্রশিক্ষণে কাজ করছে এবং জার্মান শিল্পখাতকেও এতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   এরই মধ্যে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ন্যায্যভাবে নিয়োগের জন্য একটি জোট গঠন করা হয়েছে, যার নাম “উই ফেয়ার অ্যালায়েন্স”। বার্লিনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উন্নয়নমন্ত্রী রিম আলাবালি রাদোফান বলেন, জার্মানির দক্ষ কর্মীর ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে দেশটির ২০ শতাংশের বেশি কর্মীর বয়স ৫৫ বছরের বেশি এবং তারা আগামী ১০ বছরের মধ্যে অবসরে যাবেন। জনমিতি গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, এই ঘাটতি পূরণে আগামী এক দশকে বছরে প্রায় চার লাখ বিদেশি দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে।   তিনি আরও জানান, এই লক্ষ্য পূরণে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ করার প্রয়োজন হতে পারে। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত জনশক্তিকে জার্মান অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব দেশের অনেক তরুণই বিদেশে কাজের সুযোগ খোঁজেন এবং তাদের সরকারও দক্ষ অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণে আগ্রহী।   তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগে জার্মান কোম্পানিগুলোর প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠান ধারণা করে যে তারা সম্পূর্ণ প্রশিক্ষিত কর্মী পাবে, যিনি সরাসরি কাজে যোগ দিতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন—ভাষা, ইন্টিগ্রেশন এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।   জার্মানিতে অভিবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় অনেক সময় কর্মীদের যোগ দিতে কয়েক বছর লেগে যায়। অভিবাসন দপ্তরের অতিরিক্ত চাপ এবং জটিল প্রশাসনিক কাঠামোও এই বিলম্বের অন্যতম কারণ। এমনকি “এক্সপ্রেস প্রক্রিয়া” থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকরভাবে দ্রুততা আনতে পারে না বলে অভিযোগ রয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের নথি যাচাইয়ে বিশ্বস্ত অংশীদারদের যুক্ত করলে প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ হতে পারে। পাশাপাশি অভিবাসন দপ্তরগুলোর কাজের চাপ কমানোও জরুরি।   আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জার্মানিতে আসার পর বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী থাকা। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, নতুন আসা মানুষের চেয়ে দেশ ছাড়ার সংখ্যা বেড়েছে। অনেক দক্ষ কর্মী প্রত্যাশিত পরিবেশ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বা অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসীদের প্রতি সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হলে দক্ষ কর্মী আকর্ষণের এই উদ্যোগ সফল হবে না। জার্মানিকে কেবল নিয়োগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু, লাশ আনতে টাকার অভাবে অসহায় পরিবার

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নীলফামারীর এক প্রবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আতাউর রহমান (২৭) পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর এখন সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যয়।   পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে সংসারের আর্থিক সংকট দূর করতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান আতাউর। তিনি দেশটির তাবুক শহরে একটি প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করতেন। গত বুধবার কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   নিহতের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নে। পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা, এক বোন ও দুই ভাই রয়েছেন। আতাউরের আয়ে চলত পুরো সংসার।   নিহতের বাবা ছপিয়ার রহমান জানান, নদীভাঙনে তাঁদের বসতভিটা ও জমিজমা হারিয়ে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে জমি বন্ধক রাখা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করা হয়। কিছু ঋণ পরিশোধ হলেও এখনো প্রায় তিন লাখ টাকা বাকি রয়েছে।   এদিকে, মরদেহ দেশে আনতে প্রায় চার লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানা গেছে। এত টাকা জোগাড় করতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারটি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা বলেন, “শেষবারের মতো ছেলের মুখটা দেখতে চাই, কিন্তু টাকার অভাবে সেটাও হয়তো সম্ভব হবে না।”   মা আতোয়ারা বেগম শোকে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। মৃত্যুর দিন সকালেও ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল বলে জানান তিনি।   ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।   বর্তমানে সন্তানের মরদেহ দেশে আনার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন অসহায় পরিবারটি।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটে তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে ব্ল্যাকমেল, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আটক

সিলেট নগরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে এক যুক্তরাজ্যপ্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম শাকির আহমদ (৩৬)। তিনি নগরের সোবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা। শুক্রবার বিকেলে নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।   পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী তরুণীর বড় ভাইয়ের বন্ধু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তের সঙ্গে ওই পরিবারের পরিচয় ছিল। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ের আশ্বাস দেন।   একপর্যায়ে ভিডিও কলে কথা বলার সময় গোপনে তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন তিনি। পরে এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় তাকে ব্ল্যাকমেল করেন এবং হুমকি দেন, বিষয়টি প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।   সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল বিয়ের বিষয়টি নিয়ে কথা বললে অভিযুক্ত ওই তরুণীকে ভয়ভীতি দেখান। পরে ভুক্তভোগী নারী কোতোয়ালি মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।   মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শাকির আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ সাকিবকে আটলান্টায় দাফন

যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ সাকিব আলীকে তার জন্মস্থান জর্জিয়ার আটলান্টায় দাফন করা হয়েছে।   শুক্রবার বাদ জুমা বেথেলহেম ইসলামিক সেন্টার মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মুসলিম গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জর্জিয়া ইসলামিক ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক সিনেটর শেখ রহমান, সিনেটর নাবিলা ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ফজলুর রহমান, রানা খান, টেনেসির কমিউনিটি নেতা সানি ও মাসুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী হোসেন, কমিউনিটি নেতা শেখ জামাল। ৩০ বছর বয়সি সাকিব অ্যামাজন মিউজিকে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, চিকিৎসক মোহাম্মদ আলী মানিকের একমাত্র ছেলে। সাকিব লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত মেরিনা ডেল রে সিটির একটি বাসায় একাকী থাকতেন। গত ৪ এপ্রিল থেকে তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তার বাবা মানিক ও মা শাকিরা আলী ৬ এপ্রিল জর্জিয়ার আটলান্টা থেকে মেরিনা ডেল রে সিটিতে যান। সাকিবের বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে অ্যাপার্টমেন্টের সুপারভাইজারের কাছ থেকে কোড সংগ্রহ করে দরজা খুলে। এসময় শয়নকক্ষের মেঝেতে সাকিবের মরদেহ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাকিব হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে ৭ এপ্রিল তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন লস অ্যাঞ্জেলেসের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইসলামিক সেন্টারে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সাকিবের বাবা ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার একমাত্র পুত্রের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া চেয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তিতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর সাকিব আটলান্টাতেই টেলিকম কোম্পানি এটিঅ্যান্ডটি’তে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে অ্যামাজনে যোগ দেন এবং কোম্পানির হয়ে ফ্লোরিডা হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থানান্তরিত হন। মাত্র ছয় মাস আগে প্রমোশনের মাধ্যমে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে বদলি হয়ে মেরিনা ডেল রে এলাকায় বসবাস শুরু করেন।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কুয়ালালামপুরে ত্রিমুখী সড়ক দুর্ঘটনায় ১ বাংলাদেশিসহ ২ জন নিহত

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি প্রবাসীসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।   শনিবার বিকেলে ডুটা-উলু কেলাং এক্সপ্রেসওয়েতে (ডিউক) তিনটি যানবাহনের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সিটি ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের প্রধান সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ জামজুরি মোহাম্মদ ঈসার বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানায়, ওইদিন কুয়ালালামপুরের আম্পাং অভিমুখী আয়ার পানাস টোল সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি লরি মহাসড়কের মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে। সেটিকে সাহায্য করার জন্য পেছন থেকে আসা আরেকটি লরি ও একটি পিকআপ ভ্যান দাঁড়ালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগামী আরেকটি লরি এসে সেগুলোকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দাঁড়িয়ে থাকা বাহনগুলোর মাঝে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। অন্য নিহত ব্যক্তি স্থানীয় মালয়েশীয় নাগরিক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সময় তারা যানবাহনের বাইরে অবস্থান করছিলেন। এই দুর্ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ জামজুরি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে লরির চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং কোনো অবহেলা ছিল কি না তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের মূলহোতা বোরহান গ্রেফতার

অবৈধ অভিবাসী পাচারচক্রের ‘মূলহোতা’ বোরহানকে গ্রেফতার করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কেলান্তানের কোটা ভারু এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।   ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, বিশেষ ট্যাকটিক্যাল দল, গোয়েন্দা ও বিশেষ অপারেশন বিভাগ এবং কেলান্তান রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।   অভিযানের শুরুতে দুজন স্থানীয় পুরুষকে আটক করা হয়, যারা ‘রিসিভার’ হিসেবে কাজ করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালানো হয়, যা অবৈধ অভিবাসীদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। পরবর্তীতে ওই স্থান থেকেই চক্রটির মূলহোতা হিসেবে সন্দেহভাজন এক স্থানীয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে ‘ট্রান্সপোর্টার’ বা পরিবহণকারী হিসেবে কাজ করা আরও দুজন স্থানীয় ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়।   তিনি বলেন, অভিযানে মোট ২২ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে ভারতের দুজন, বাংলাদেশের তিনজন এবং মিয়ানমারের আটজন পুরুষ ও নয়জন নারী রয়েছেন। মালয়েশিয়ান নাগরিকসহ সব মিলিয়ে ১৩ থেকে ৪২ বছর বয়সী মোট ২৭ জনকে আটক করা হয়।   জাকারিয়া শাবান জানান, চক্রটি কৌশল পরিবর্তন করে উপকূলীয় পথ ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসীদের দেশে প্রবেশ করাচ্ছিল। পরে তাদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হতো, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়। এসব অভিবাসীকে পরে পরিবহণকারীর মাধ্যমে ক্লাং ভ্যালি এলাকায় পাঠানো হতো। প্রতিটি অভিবাসীর জন্য পরিবহণকারী পেত ১০০ রিঙ্গিত, আর রিসিভার পেত ২৫০ রিঙ্গিত করে।   অভিযানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সম্পদ জব্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গ্রেফতার পাঁচজন স্থানীয় পুরুষের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন (অপটিজম) ২০০৭-এর ২৬এ ধারায় তদন্ত চলছে। অন্যদিকে, আটক ২২ জন বিদেশিকে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৬(১)(সি) ধারায় গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে দেয়াল ধসে বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু, চার মাসেই শেষ প্রবাসজীবন

দাম্মাম-এ কর্মস্থলে দেয়াল ধসে মোহাম্মদ ইউসুফ (২৪) নামের এক বাংলাদেশি তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত ইউসুফ সেনবাগ উপজেলার মাহতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত বেচু মিয়ার ছেলে। জীবিকার তাগিদে মাত্র চার মাস আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইউসুফ একটি নবনির্মিত বাড়িতে ইলেকট্রিক্যাল কাজের জন্য দেয়াল ভাঙছিলেন। এ সময় হঠাৎ পুরো দেয়ালটি ধসে তার ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   নিহতের প্রতিবেশীরা জানান, ইউসুফ শৈশবেই বাবা-মাকে হারিয়েছেন। তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী ও মাত্র এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রবাসে গিয়ে এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   বর্তমানে তার মরদেহ দাম্মামের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে ৩ দিনের আবহাওয়া সতর্কতা, ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

সৌদি আরবে আজ থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনের আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। এই সময়ে পবিত্র মক্কাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সৌদি ন্যাশনাল সেন্টার অব মেটিওরোলজি (এনসিএম) জানায়, আসির, জাজান, নাজরান, আল-বাহা, মক্কা, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ, কাসিম এবং উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতে পারে।   আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ করে মক্কা অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা, শিলাবৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার সৃষ্টি হতে পারে। এতে ধূলিঝড় ও দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। রিয়াদসহ অন্যান্য অঞ্চলগুলোতেও একই ধরনের বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যাপ্রবণ এলাকা ও উপত্যকা এড়িয়ে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে পানি জমে থাকা এলাকায় সাঁতার কাটা বা প্রবেশ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে মৃত্যুর ১৮ দিন পর দেশে ফিরল প্রবাসী শামসুলের লাশ

সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুর ১৮ দিন পর দেশে ফিরেছে প্রবাসী শামসুল করিমের মরদেহ। শুক্রবার তার লাশ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।   নিহত শামসুল করিম (৩৮) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত মনু মিয়ার ছেলে।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ২০১৪ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান শামসুল। তিনি সেখানে তায়েফ শহরের একটি খামারে কর্মরত ছিলেন। গত ২২ মার্চ কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সহকর্মীরা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   দূতাবাসের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দীর্ঘ ১৮ দিন পর তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়।   বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের নিথর দেহ ঘরে ফেরায় স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা।   শামসুল করিমের স্ত্রী রিনা আক্তার ও দুই সন্তান রয়েছে—মোহাম্মদ আরিফ (১৪) ও মো. আরাফাত (৬)। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।   স্বজনরা জানান, জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপে ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

মালদ্বীপের রাজধানী মালে একটি ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে হানজালা নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।   শুক্রবার (১১ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেশটিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কল্যাণ সহকারী আল মামুন পাঠান।   জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মালের সবধেলি মাগু এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে পাশের ভবনের টিনের চালে পড়ে গুরুতর আহত হন হানজালা। পরে তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান।   নিহত হানজালা চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং আবদুল সামাদের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ৭ থেকে ৮ মাস আগে তিনি মালদ্বীপে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন।   স্বজনদের দাবি, ঘটনার সময় তিনি ছাদে থাকা গাছগুলোর পরিচর্যা করছিলেন। একপর্যায়ে গাছের সুরক্ষায় দড়ি বাঁধার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে যান।   বর্তমানে তার মরদেহ দেশে পাঠাতে সরকারি সহায়তা চেয়েছে পরিবারটি, কারণ তাদের আর্থিক অবস্থা দুর্বল।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ওমানে দুই ভারতীয়কে বাঁচিয়ে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি তরুণ সাগর

ওমানে বন্যায় আটকে পড়া দুই ভারতীয় নাগরিককে সাহসিকতার সঙ্গে উদ্ধার করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বাংলাদেশি তরুণ মো. সাগর। তার এই মানবিক ও সাহসী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সম্মাননা দিয়েছে মাসকাটে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।   শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়ার অ্যাডমিরাল খন্দকার মিজবাহ উল আজিম সাগরের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। এ সময় দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।   সম্মাননা পেয়ে আবেগাপ্লুত সাগর বলেন, এই স্বীকৃতি তার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। তিনি এ জন্য দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   কয়েক সপ্তাহ আগে ওমানের বারকা শহরে ভারী বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে একটি ওয়াদিতে একটি গাড়ি আটকা পড়ে, যার ভেতরে দুই ভারতীয় নাগরিক বিপদে পড়েন।   তাদের সাহায্যের আর্তনাদ শুনে দেরি না করে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন সাগর। তার সঙ্গে যোগ দেন পাকিস্তানি তরুণ শাহজাদ খান। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান ওই দুই ব্যক্তি।   ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশে সাগরের সাহসিকতা ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সেন্ট পিটার্সবার্গে স্বপ্নময় ভেসে চলা

ফ্লোরিডার সেন্ট পিটার্সবার্গ, সূর্য, সমুদ্র আর নীল আকাশের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। সেই শহরের এক কোণে হঠাৎ চোখে পড়লো এক অদ্ভুত সুন্দর ছাউনি দেওয়া ঘর। খড়ের ছাদের মতো, যেন কোনো দ্বীপের গল্প থেকে উঠে এসেছে। চারপাশে পানি, পাশে নৌকা, আর মাথার ওপর খোলা আকাশ—মুহূর্তেই মনে হলো, এ শুধু একটি ঘর নয়, বরং এক স্বপ্নের দরজা।   আমি দাঁড়িয়ে সেই ঘরের ভেতর তাকিয়ে ভাবছিলাম, যদি এখানে বসে সমুদ্রের বুকে ভেসে যাওয়া যেত! ঠিক তখনই সেই ঘরের মাঝি মৃদু হাসি দিয়ে বললেন, অনলাইনে টিকিট করে ফেলুন, আপনাকে দুই ঘণ্টা সমুদ্র ঘুরিয়ে নিয়ে আসবো। কথাটা শুনেই মনে হলো স্বপ্নটা হয়তো সত্যি হতে চলেছে। আমি আর দেরি করিনি। অনলাইনে টিকিট কেটে নিলাম।   তারপর শুরু হলো এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা, যেখানে শহরের কোলাহল ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল, আর চারপাশে শুধু প্রকৃতি তার নিজস্ব ছন্দে কথা বলতে লাগলো। খড়ের ছাউনি টিকি বোটটি ধীরে ধীরে পানির বুক চিরে এগিয়ে চলছিল। চারপাশে নীল জলরাশি, দূরে সাদা পাল তোলা নৌকা, আর আকাশে ভেসে বেড়ানো তুলোর মতো মেঘ। মাঝে মাঝে হালকা বাতাস এসে গায়ে ছুঁয়ে দিচ্ছিল, যেন প্রকৃতি নিজেই স্নেহের পরশ দিচ্ছে।   দুই ঘণ্টার সেই ভ্রমণে আমি যেন নিজের সাথেই নতুন করে পরিচিত হলাম। জীবনের ব্যস্ততা, দায়িত্ব, সবকিছু যেন কিছু সময়ের জন্য দূরে সরে গেল। শুধু ছিল শান্তি, সৌন্দর্য আর এক গভীর প্রশান্তি।   সেই মুহূর্তে মনে হলো, জীবন আসলে এমন ছোট ছোট আনন্দের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। কখনো একটি ছাউনি দেওয়া ঘর, কখনো একটি অচেনা মাঝির কথা—এইসবই আমাদের নতুন অভিজ্ঞতার দিকে নিয়ে যায়।   সেন্ট পিটার্সবার্গের সেই ছাউনি টিকি ঘরটি আমার কাছে শুধু একটি ভ্রমণের স্মৃতি নয়, এটি এক টুকরো অনুভূতি, যা আমাকে শিখিয়েছে—স্বপ্ন দেখতে জানতে হয়, আর সুযোগ এলে তা ধরে নিতে হয়।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
দিপালী খাতুন
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দিপালী খাতুন (৩৪) নামে এক বাংলাদেশি গৃহকর্মী। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে এ নিয়ে অষ্টম বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর এল। তার মধ্যে লেবাননে এই প্রথম বাংলাদেশি কেউ নিহত হলেন। দিপালীর মৃত্যুতে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের চর হাজিগঞ্জ গ্রামের শালেপুর এলাকায় চলছে শোকের মাতম। বুধবার (৮ এপ্রিল) বৈরুতের হামরা এলাকায় নিয়োগকর্তার পরিবারের সঙ্গে অবস্থানকালে বিমান হামলার শিকার হন দিপালী।  স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে ভবনে তিনি অবস্থান করছিলেন সেখানে সরাসরি বোমা হামলা চালানো হলে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তার নিয়োগকর্তাসহ আরো কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। নিহত দিপালী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের চর হাজিগঞ্জ গ্রামের শালেপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে প্রায় দুই বছর আগে লেবাননে পাড়ি জমান দিপালী। সেখানে একটি পরিবারের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সর্বশেষ গত ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় বিকেলে ছোট বোন লাইজু খাতুনের সঙ্গে তার কথা হয়। এরপর থেকেই তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। লাইজু খাতুন বলেন, আমার আপা যেখানে থাকতেন, সেই বাসার পাশের একটি দোকান থেকে প্রায়ই বাজার করতেন এবং সেখান থেকেই দেশে টাকা পাঠাতেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই দোকান মালিক হোয়াটসঅ্যাপে কল করে আপার মৃত্যুর খবর জানায়। এরপর থেকে আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না থাকায় তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। পরে হামলার পর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে। এদিকে দিপালীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চরভদ্রাসনের প্রত্যন্ত গ্রামে নেমে আসে শোকের মাতম। প্রতিবেশীরা জানান, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ছিলেন দিপালী। সংসারের অভাব ঘোচাতে বিদেশে গিয়ে জীবন দিতে হলো তাকে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফালু বলেন, পরিবারটি খুব অসচ্ছল। মেয়েটি অনেক কষ্ট করে বিদেশে গিয়ে কাজ করছিল। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই দ্রুত মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক। চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ জানান, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা সার্বিকভাবে পরিবারটির পাশে আছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
আবহাওয়া

দেশজুড়ে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ৭ জেলায় সতর্ক সংকেত জারি

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ০৯, ২০২৬ 0