প্রবাসী

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কর্মীদের জন্য নতুন নীতিমালা ঘোষণা

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবাসী কর্মীদের জন্য নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে, যা আগামী ১ জুন থেকে কার্যকর হবে। নতুন এই ব্যবস্থায় ক্যাটাগরিভেদে কর্মসংস্থান পাসের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর আগে এসব পাসের নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদসীমা ছিল না। সংশোধিত নীতিমালার মাধ্যমে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রবাসী কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা এবং নিয়োগকর্তাদের পরিকল্পিতভাবে জনবল ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি করাই মূল লক্ষ্য।   নতুন নীতিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় মালয়েশিয়ান নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। সরকার বলছে, পাসের নির্দিষ্ট মেয়াদ নিয়োগকর্তাদের জন্য একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে, যাতে তারা ধাপে ধাপে প্রবাসী কর্মীদের পরিবর্তে স্থানীয় দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে পারেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ক্যাটাগরির পাসধারীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   এই সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রবাসী কর্মীদের ন্যূনতম বেতন কাঠামোও উল্লেখযোগ্যভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাটাগরি-১ পাসধারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বেতন ১০ হাজার রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার রিঙ্গিত করা হয়েছে এবং এ পাসের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছর। ক্যাটাগরি-২ এর জন্য বেতনসীমা ধরা হয়েছে ১০ হাজার থেকে ১৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত এবং ক্যাটাগরি-৩ এর ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত। সরকার আশা করছে, এই বেতন ও মেয়াদ কাঠামো ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় মানবসম্পদ উন্নয়নে গতি আনবে।   নীতিমালা অনুযায়ী, সব ক্যাটাগরির পাসধারী প্রবাসী কর্মীরা তাদের পরিবার বা নির্ভরশীল সদস্যদের সঙ্গে রাখার অনুমতি পাবেন। পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আগে শিল্প মালিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করা হবে, যাতে পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং স্থানীয় দক্ষ জনশক্তির দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ নিশ্চিত করাই এই নতুন নীতিমালার প্রধান লক্ষ্য।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় দিবসে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দিকে মুক্তি দিল আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪তম জাতীয় দিবস ‘ইদ আল ইতিহাদ’ উপলক্ষে দেশটির শাসকগোষ্ঠী ৪৪০ জন বাংলাদেশি বন্দিকে রাজকীয় ক্ষমা প্রদান করেছে। এই উদ্যোগকে আমিরাতের দীর্ঘদিনের মানবিক ও সহানুভূতিশীল নীতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ইদ আল ইতিহাদ উদযাপনের অংশ হিসেবে এই ক্ষমা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যার আওতায় বিভিন্ন দেশের হাজারো বন্দিকে মুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।   আমিরাতের শাসকরা প্রতিবছর জাতীয় দিবস, ঈদসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় উৎসব উপলক্ষে এ ধরনের রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণা করে থাকেন। এর মূল লক্ষ্য হলো দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রতি ক্ষমাশীলতা প্রদর্শন, তাদের সমাজে পুনরায় একীভূত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং পরিবারগুলোর পুনর্মিলন নিশ্চিত করা।   কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের শেষভাগে বাস্তবায়িত এই ক্ষমা কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক বন্দি মুক্তি পেয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এর ফলে তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।   এই মানবিক উদ্যোগ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকদের সহমর্মিতা, উদারতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে। উল্লেখ্য, ইদ আল ইতিহাদ প্রতিবছর ২ ডিসেম্বর পালিত হয়, যা ১৯৭১ সালে এক পতাকার অধীনে আমিরাতসমূহের ঐতিহাসিক ঐক্যের স্মারক হিসেবে বিবেচিত।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগে ২১৯ প্রবাসী আটক

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের তেলুক পাংলিমা গারাং এলাকার বান্টিংয়ে অবস্থিত একটি ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কারখানায় জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। অন্যের বৈধ পরিচয়পত্র ও ভুয়া নথি ব্যবহারের অভিযোগে মোট ২১৯ জনকে আটক করা হয় বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।     মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা এই সমন্বিত অভিযানে জেপিএনের বিশেষ তদন্ত বিভাগ, মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ এবং শ্রম বিভাগ যৌথভাবে অংশ নেয়। অভিযানের সময় প্রায় ৫০০ জন শ্রমিকের পরিচয়পত্র ও কর্মসংক্রান্ত নথি যাচাই-বাছাই করা হয়।   তদন্তে জাতীয় নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৯০ অনুযায়ী মোট ১৫টি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪টি ক্ষেত্রে ভুয়া মাইকাড (জাতীয় পরিচয়পত্র) ব্যবহার এবং একটি ঘটনায় অন্য ব্যক্তির মাইকাড অপব্যবহারের অভিযোগ শনাক্ত করা হয়। আটক ২১৯ জন বিদেশি শ্রমিককে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার জন্য মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   এ ছাড়া শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে শ্রম বিভাগ পৃথকভাবে পাঁচটি সমন জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে বৈধ নথি ও আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।   এই অভিযানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিয়ন বিন ইসমাইল এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের মহাপরিচালক দাতো’ বদরুল হিশাম বিন আলিয়াস। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা রক্ষায় ভুয়া নথি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিসহ ৯৬ প্রবাসীকে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৯৬ জন নাগরিককে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—কেএলআইএ-১ ও কেএলআইএ-২ ব্যবহার করে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।   প্রত্যাবাসনকৃতদের মধ্যে ৮২ জন পুরুষ, ১৩ জন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। তারা বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ভারত, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড এবং ফিলিপাইনের নাগরিক বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সবাই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত সাজা ভোগ শেষে প্রত্যাবাসনের আওতায় এসেছেন।   ইমিগ্রেশন বিভাগ আরও জানায়, প্রত্যাবাসনের সময় প্রত্যেকের বৈধ ভ্রমণ নথি নিশ্চিত করা হয়েছে। যেসব অভিবাসীর নিজস্ব পাসপোর্ট ছিল না, তাদের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে জরুরি ভ্রমণ নথি (ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট) সংগ্রহ করা হয়, যাতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।   প্রত্যাবাসন শেষে এসব অভিবাসীর নাম মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ব্ল্যাকলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত তারা কোনো উদ্দেশ্যেই পুনরায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।   ডিপো তানাহান ইমিগ্রেসেন বেলান্টিকের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই প্রত্যাবাসন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাজা শেষ করা কোনো অভিবাসী যেন অবৈধভাবে দেশে অবস্থান না করেন—এ লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন রোধে জাবাতান ইমিগ্রেসেন মালয়েশিয়া ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

মালয়েশিয়ায় জাল লেটার অব অ্যাওয়ার্ড (এলওএ) দাখিলের অভিযোগে এক বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) কুয়ালালামপুর সেশন কোর্টের বিচারক সুজানা হুসিন এই রায় ঘোষণা করেন।   দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ জাসিম (৪৩)। তিনি নিসা রিসোর্সেস এসডিএন বিএইচডি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং পাঁচ সন্তানের জনক। আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি লেবার রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম (আরটিকে ২.০)-এর আওতায় আবেদন করার সময় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের পুত্রজায়া এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনে একটি ভুয়া এলওএ দাখিল করেন।   মামলার বিবরণে বলা হয়, দাখিলকৃত নথিতে কুয়ালালামপুরের জালান তুন রাজাক এলাকায় একটি কন্ডোমিনিয়ামের সংস্কার প্রকল্পের উল্লেখ ছিল, যা বাস্তবে অস্তিত্বহীন। এর আগে, ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ইমিগ্রেশন বিভাগ ই-মেইলের মাধ্যমে নিসা রিসোর্সেসকে ১৪ জন নির্মাণশ্রমিকের আরটিকে ২.০ আবেদনের জন্য সাক্ষাতের তারিখ নির্ধারণ করে। নির্ধারিত দিনে আসামির স্ত্রী ও সহ-পরিচালক সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দেন এবং ‘অরিয়ন ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন’-এর নামে এলওএটি প্রকৃত নথি হিসেবে উপস্থাপন করেন।   পরবর্তীতে অরিয়ন কন্ডোমিনিয়াম ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে ওই এলওএ সম্পূর্ণ জাল। তারা জানায়, উল্লিখিত প্রকল্পটি কাল্পনিক, ব্যবহৃত লেটারহেড তাদের প্রতিষ্ঠানের নয় এবং নিসা রিসোর্সেসের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। এর ভিত্তিতে মোহাম্মদ জাসিমের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।   শুনানিকালে আসামিপক্ষ শাস্তি লাঘবের আবেদন জানালেও রাষ্ট্রপক্ষ জাল নথি ব্যবহারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতি আস্থাভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। সব দিক বিবেচনা করে আদালত মোহাম্মদ জাসিমকে ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা এবং অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ওমান থেকে দেশে ফিরলো মা-ছেলেসহ ৩ বাংলাদেশির মরদেহ

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাসিন্দা মা-ছেলেসহ তিন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস–এর একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ পৌঁছায়।   নিহতদের স্বজন জানে আলম জানান, ওমানে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত সাকিবুল হাসান, তার মা বিলকিস আকতার এবং ভগ্নিপতি দিদারুল আলমের মরদেহ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। পরে রাতেই মরদেহগুলো চট্টগ্রামে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।   পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৩টায় ফটিকছড়ির গ্রামের বাড়িতে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তিনজনকে দাফন করা হবে।   উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি ওমানের সালালা ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে তামরিদ এলাকায় একটি গাড়ি উল্টে গেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বিলকিস আকতার, তার একমাত্র ছেলে সাকিবুল হাসান সবুজ এবং মেয়ের জামাতা মুহাম্মদ দিদার।     দুর্ঘটনায় সাকিবুল হাসানের স্ত্রী ও ছোট বোন গুরুতর আহত হন। তারা বর্তমানে ওমানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইকামায় অবৈধ সিম বের করবেন যেভাবে

সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসীদের নিজের ইকামার অধীনে নিবন্ধিত  সিম কার্ডের সংখ্যা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। অনেক সময় প্রবাসীদের অজান্তেই তাদের ইকামায় অতিরিক্ত বা ভুয়া সিম নিবন্ধিত হয়ে থাকে, যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আইনি জটিলতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে সৌদি আরবের ‘কমিউনিকেশনস, স্পেস অ্যান্ড টেকনোলজি কমিশন’ একটি সহজ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার ইকামায় কতটি এবং কোন কোন অপারেটরের সিম সক্রিয় আছে তা দেখে নিতে পারবেন।   নিবন্ধিত সিম যাচাই করার জন্য প্রবাসীদের প্রথমেই সিএসটি-র অফিসিয়াল ‘মুত্তাসিল ইন্ডিভিজুয়াল’ পোর্টালে যেতে হবে। সেখানে ভাষার অপশন থেকে ইংরেজি নির্বাচন করে ইকামার নম্বর এবং জন্ম তারিখ প্রদান করতে হয়। আপনার কাছে যদি বর্তমানে একটি সচল  মোবাইল নম্বর থাকে, তবে ‘Yes’ অপশন সিলেক্ট করে সেই নম্বরটি দিতে হবে। এরপর  মোবাইলে আসা ভেরিফিকেশন কোডটি প্রবেশ করালেই আপনার ইকামায় থাকা সবকটি পূর্ণ মোবাইল নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরদের একটি বিস্তারিত তালিকা দেখতে পাবেন।   যাদের কাছে কোনো সচল মোবাইল নম্বর নেই, তারাও একইভাবে পোর্টালে গিয়ে ইকামার তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে পূর্ণ মোবাইল নম্বর না দেখিয়ে শুধু আপনার ইকামায় মোট কয়টি সিম এবং কোন কোন কোম্পানির সিম রয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হবে। এছাড়াও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সিএসটি-র অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে সেখানে ‘আরগামি’ ফিচারের মাধ্যমে একই তথ্য সহজেই স্মার্টফোনে দেখে নিতে পারেন।   যদি তালিকায় এমন কোনো নম্বর দেখা যায় যা আপনি নিজে কেনেননি বা ব্যবহার করছেন না, তবে দ্রুত সেই সিমটি বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার বা শাখায় যোগাযোগ করে সিমটি বাতিলের অনুরোধ জানানো উচিত। অপারেটর যদি ব্যবস্থা না নেয়, তবে গ্রাহকরা সরাসরি সিএসটি-র পোর্টালে অভিযোগ দাখিল করতে পারেন।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে কঠোর বার্তা দিলো সৌদি আরব

ইরানে বিক্ষোভকারীদের দমনে বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে দেশটিতে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূমি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না তারা। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে রিয়াদের এই অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ ও সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া। সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপের অংশ হবে না এবং এই সিদ্ধান্ত তেহরানকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আকাশসীমা ও ভূখণ্ড কোনো পক্ষের জন্য ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।   সরকার সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, এ সংক্রান্ত বার্তা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে।   এদিকে, ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। এই হুমকির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র কাতারসহ কয়েকটি দেশে থাকা তাদের ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।   কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেন। অতীতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে এই ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল তেহরান। এরই মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার হুমকি এখনো বহাল রয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
গাজা গণহত্যায় অস্ত্র-অর্থ দিয়ে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে আমিরাত

গাজায় চলমান যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে ইসরায়েলকে সরাসরি সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা দিতে লোহিত সাগর এলাকায় নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এমন তথ্য উঠে এসেছে এমিরেটলিকস নামের একটি অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্মের হাতে আসা ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ক্রেডল এই নথির বরাত দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেছে।   ফাঁস হওয়া নথিটি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইউএই সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট অপারেশন্স কমান্ডের উদ্দেশে লেখা হয়। নথিটির লেখক ছিলেন আল-দাফরা অঞ্চলের প্রতিনিধি এবং ইউএই রেড ক্রিসেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান হামদান বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান। এতে উল্লেখ করা হয়, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর দক্ষিণ লোহিত সাগর অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ বাস্তবায়নে দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।   নথি অনুযায়ী, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে আল-মোখা, ইরিত্রিয়ার মাসাওয়া ও আসাব এবং সোমালিয়ায় অবস্থিত ইউএই ঘাঁটিগুলো থেকে সামরিক, লজিস্টিক ও গোয়েন্দা সহায়তার সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়। বিশেষ করে ইয়েমেনে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোকে ইসরায়েলকে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের অবকাঠামো ও সরঞ্জামে সজ্জিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। নথিতে হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে।   ফাঁস হওয়া নথিতে কাতারের বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং কুয়েতকেও সমালোচনার আওতায় আনা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, কাতারের পাশে দাঁড়িয়ে কুয়েত ফিলিস্তিনে যুদ্ধরত গোষ্ঠীগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে তথাকথিত ‘কমিউনিটি ইনিশিয়েটিভ’ জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। নথিতে ইসরায়েলকে এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের গোয়েন্দা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।   নথিতে আরও বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক রয়েছে, যা সংকটকালেও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির পর থেকে এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইউএই আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এবং পরবর্তীতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব অন্যান্য আরব দেশকেও এ চুক্তিতে যুক্ত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ওমানে একদিনে ৩২ প্রবাসী গ্রেপ্তার

ওমানের বিভিন্ন অঞ্চলে গত একদিকে ৩২ প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাস্কাট, মুসান্দাম ও ধোফারের বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার, অনুপ্রবেশ এবং চুরির অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এশীয় এবং ইয়েমেনি নাগরিক রয়েছেন। বর্তমানে তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   বুধবার পুলিশ জানায়, মাস্কাটের সিবে একটি বাণিজ্যিক দোকানে ঢুকে কর্মীকে মারধর ও নগদ অর্থ ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার মুসান্দাম পুলিশ কমান্ড পৃথক অভিযানে তিনটি নৌকা জব্দ করে আটজন এশীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। তারা অবৈধভাবে ওমানের জলসীমায় প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল পাচারের চেষ্টা করছিল।   এছাড়া বারকা ও দিব্বা এলাকা থেকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের দায়ে আরও ১৪ এশীয় নাগরিককে আটক করে পুলিশ। একই প্রদেশের বুখা এলাকা থেকে চারজন এশীয়কে বিপুল পরিমাণ মারিজুয়ানা, হাশিশ, আফিম ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার করা হয়।   অন্যদিকে, ধোফার প্রদেশে সমুদ্রপথে মাছ ধরার নৌকায় করে মাদক পাচারের সময় পাঁচজন ইয়েমেনি নাগরিককে আটক করেছে উপকূলরক্ষা বাহিনী। ওমান পুলিশ জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কাতারে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা

কাতার থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে বলে সতর্ক করেছে দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সবাইকে সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।   বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস জানায়, কাতারে অবস্থানরত কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইউরোপ ও আমেরিকায় উন্নত জীবন ও স্থায়ী বসবাসের আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশি প্রবাসীদের নানা ধরনের প্রতারণায় জড়াচ্ছে। তারা মিথ্যা ও অবাস্তব প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে প্রবাসীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করছে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব প্রলোভনে পড়ে ইতোমধ্যে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী সর্বস্বান্ত হয়েছেন। প্রতারণার শিকার হয়ে একাধিক ভুক্তভোগী কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগও দাখিল করেছেন, যা বিষয়টির গুরুতরতা নির্দেশ করে।   এই পরিস্থিতিতে দূতাবাস ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অভিবাসনের নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য প্রবাসীদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অর্থ প্রদান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   দূতাবাস জানিয়েছে, প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের প্রতারণা বিষয়ে প্রয়োজনীয় সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কোনো প্রস্তাব বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি হাইকমিশন মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ক্যাম্প পরিদর্শন

মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর ও কনস্যুলার সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকমিশনের মিনিস্টার (লেবার) মো. সিদ্দিকুর রহমান ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি বারাংগান ইমিগ্রেশন ক্যাম্প এবং কেমায়ান ডিটেনশন ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি মোট ১১৭ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলে তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা, আইনগত জটিলতা এবং দেশে প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত বিষয়গুলো শোনেন। এ সময় প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হয় এবং যাদের প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন, তাদের জন্য ট্রাভেল পারমিট ও বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া আটক প্রবাসীদের অনুরোধে বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়। পরিদর্শন শেষে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে মিনিস্টার (লেবার) আটক বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অসুবিধা তুলে ধরেন। তিনি ক্যাম্পে মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে মানবিক আচরণ বজায় রাখার অনুরোধ জানান। এর আগে ১২ ও ১৩ জানুয়ারি হাইকমিশনের কাউন্সিলর (লেবার) সৈয়দ শরিফুল ইসলাম মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের পেকেনানাস ডিটেনশন ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। বর্তমানে ওই ক্যাম্পে ৬০ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক রয়েছেন। পরিদর্শনকালে হাইকমিশনের প্রতিনিধি দল প্রত্যেকের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। এ সময় তাদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা এবং ট্রাভেল পারমিট সংক্রান্ত সহায়তাও প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং দ্রুত দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে এ ধরনের পরিদর্শন ও কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্কের পোস্ট অফিসের গুদামে বাংলাদেশি পোস্টাল ব্যালট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের একটি পোস্ট অফিসের গুদামে বাংলাদেশের প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালট পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বিষয়টি প্রথম নজরে আসে স্থানীয় একজন পোস্টাল কর্মীর মাধ্যমে। তিনি বিষয়টি দ্রুত নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের জানালে পরিস্থিতি আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আসে। পোস্টাল বিভাগ ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ব্যালটগুলোর সঠিক বিতরণ নিশ্চিত করেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু ব্যালট ঠিকানা সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেলিভারি হয়নি এবং পোস্টাল স্টোরেজে পড়ে ছিল। এরপর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নজরে আসে। নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল বলেন, “ব্যালটগুলো সময়মতো পৌঁছানো নিশ্চিত করতে আমরা নির্বাচন কমিশন ও মার্কিন পোস্টাল বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার যাতে যথাযথভাবে প্রয়োগ হয়, সে বিষয়ে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় প্রবাসী ভোটিং প্রক্রিয়ার মধ্যে অযথা বিলম্বের সুযোগ থাকলেও প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ব্যালটগুলোর নিরাপদ বিতরণ নিশ্চিত করেছে। নির্বাচন কমিশনও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। এর ফলে আশা করা হচ্ছে, প্রবাসী ভোটাররা নির্ধারিত সময়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসীদের জন্য সুখবর দিলো মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কনসুলার সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর। সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে কনসুলার ফি পরিশোধে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সূচনা করা হয়েছে।   হাইকমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, এখন থেকে ভিসা, নথি সত্যায়ন, ট্রাভেল পারমিটসহ বিভিন্ন কনসুলার সেবার ফি সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার ও ডিজিটাল মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। মেব্যাংক মার্চেন্ট কার্ড সার্ভিসের আওতায় সেবাগ্রহীতারা হাইকমিশনের সার্ভিস কাউন্টারে ডেবিট কার্ড ব্যবহার অথবা কিউআর কোড স্ক্যান করে তাৎক্ষণিকভাবে ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন।   এই সুবিধা কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কার্যালয়ে (৮, লরং ইয়াপ কাওয়ান সেং, ৫০৪৫০) কার্যকর করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পূর্বের মতো মেব্যাংকের নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ফি জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও বহাল থাকবে। ফলে প্রবাসীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী যে কোনো পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন।   বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রধান প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়েছে, এই নতুন ফি পরিশোধ ব্যবস্থা আগামী ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে কনসুলার সেবায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, এই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর ফলে ব্যাংকে আলাদাভাবে গিয়ে ফি জমা দেওয়ার ঝামেলা কমবে এবং সেবা গ্রহণে সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় হবে। হাইকমিশনের এ উদ্যোগকে তারা প্রবাসীবান্ধব ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট জারি

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী ধুলোঝড় ও ঝোড়ো বাতাসের প্রভাবে জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) মঙ্গলবার দিনজুড়ে প্রতিকূল আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করে একাধিক এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ এবং উচ্চমাত্রার ঝুঁকি নির্দেশক ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ ঘোষণা করেছে। ধুলোবালির তীব্রতার কারণে অনেক স্থানে দৃষ্টিসীমা এক কিলোমিটারের নিচে নেমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।   আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল-খাফজি ও হাফর আল-বাতিন এলাকায় মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত রেড অ্যালার্ট কার্যকর ছিল। এসব অঞ্চলে প্রবল ধুলোঝড়ের কারণে অনুভূমিক দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। একই সঙ্গে উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের আল-উওয়াইকিলাহ, আরার ও রাফহা এলাকাতেও তীব্র ধুলো ও বাতাসের কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।   এনসিএম জানায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বালু উড়তে থাকায় জনপদ ধুলোর চাদরে ঢেকে যায়। ফলে সড়ক চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।   এদিকে রাজধানী রিয়াদসহ আশপাশের আল-জুলফি, আল-ঘাট, আল-মাজমাহ ও শাকরা অঞ্চলে অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি রয়েছে। এসব এলাকায় দৃষ্টিসীমা ১ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ। এছাড়া রিয়াদের দক্ষিণাংশ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ, খোলা স্থানে অবস্থান এড়িয়ে চলা এবং সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলারও অনুরোধ করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সৌদির তাপমাত্রা নামতে পারে মাইনাসে, সতর্কতা জারি

সৌদি আরবের ওপর দিয়ে একটি শক্তিশালী শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। বুধবার থেকে শুরু হয়ে শনিবার পর্যন্ত এই শীতল পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময় দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এনসিএম জানায়, শৈত্যপ্রবাহের প্রাথমিক প্রভাব পড়বে তাবুক, আল-জাওফ, উত্তর সীমান্ত অঞ্চল ও হাইল প্রদেশে। এসব এলাকায় বুধবার থেকেই তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ১ থেকে মাইনাস ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মদিনা অঞ্চলের উত্তরাংশেও রাত ও ভোরের দিকে কনকনে শীত এবং বরফ জমার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।   আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছে, সপ্তাহের শেষভাগে শীতল বায়ুপ্রবাহ দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর ফলে কাসিম অঞ্চল, রাজধানী রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের উত্তরাংশে শুক্রবার ও শনিবার থেকে তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পাবে। এসব এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ৪ ডিগ্রি থেকে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   চলতি মৌসুমে সৌদি আরবে এ ধরনের তীব্র শীতল আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে বিরল বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও অস্থির আবহাওয়ার পর এই শৈত্যপ্রবাহ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এ অবস্থায় এনসিএম স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার, উষ্ণ পোশাক ব্যবহারের এবং দীর্ঘ ভ্রমণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় অনেক পরিবার ভ্রমণের পরিকল্পনা করায় আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
দুবাইয়ে বিড়াল খুঁজলেই মিলবে লাখ টাকা!

দুবাইয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ থাকা একটি পোষা বিড়ালের সন্ধানে ৩ হাজার দিরহাম পুরস্কার ঘোষণা করেছেন দুই প্রবাসী শিক্ষক। গত ২৯ নভেম্বর দুবাইয়ের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টের ব্যালকনি থেকে আরব্য মাউ প্রজাতির দেড় বছর বয়সী বিড়ালটি হারিয়ে যায়। বিড়ালটির মালিক পিটার হপকিন্স এবং তার সহকর্মী হেইলি রেনল্ডস দীর্ঘদিন ধরে প্রাণীটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।   হেইলি রেনল্ডস জানান, শীতকালীন ছুটিতে পিটার দেশের বাইরে থাকাকালে তিনি বিড়ালটির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। অসাবধানতাবশত ব্যালকনির দরজা খোলা থাকায় বিড়ালটি নিচে পড়ে যায় অথবা লাফ দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি নিজেকে দায়ী করে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং বলেন, গত ৪৫ দিন ধরে নিয়মিতভাবে আশপাশের এলাকায় খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন।   পিটার হপকিন্স দুবাইয়ে ফেরার পর থেকেই নিখোঁজ বিড়ালটির সন্ধানে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন। তিনি জানান, বিজনেস বে এলাকা থেকে মাত্র আট সপ্তাহ বয়সে উদ্ধার করা লান্দো নামের এই বিড়ালটি দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে তার নিত্যসঙ্গী ছিল। সাদা রঙের গায়ে কমলা-বাদামী ছোপযুক্ত এই বিড়ালটির লেজের শেষ প্রান্তে সামান্য বাঁক রয়েছে, যা স্পর্শ করলে বোঝা যায়।   এছাড়া বিড়ালটির শরীরে একটি মাইক্রোচিপ সংযুক্ত রয়েছে, যার শেষ চারটি সংখ্যা ০০০৪। নিখোঁজের পর থেকে ডিএলআরসি এলাকায় বিভিন্ন ভাষায় পোস্টার টাঙানো হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শুরুতে কম পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৩ হাজার দিরহাম নির্ধারণ করা হয়।   মালিক পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লান্দো অত্যন্ত ভীতু স্বভাবের হওয়ায় কেউ তাকে দেখতে পেলে ধাওয়া না করে শান্তভাবে বিষয়টি জানাতে অনুরোধ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুতই বিড়ালটির সন্ধান পাওয়া যাবে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
এই ওমানি টাকা না চিনলেই বিপদে পড়বেন!

ওমানের মুদ্রা ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। সুলতান হাইথাম বিন তারিক-এর সিংহাসনে আরোহণ দিবস উপলক্ষে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমবারের মতো এক রিয়ালের পলিমার ব্যাংকনোট বাজারে ছাড়ল। ঐতিহাসিক এই উপলক্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং আধুনিক ও টেকসই মুদ্রা ব্যবস্থার প্রতিফলন হিসেবে নতুন নোটটি প্রচলনে আনা হয়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্রচলিত সুতি-মিশ্রিত কাগজের পরিবর্তে পলিমার উপাদানে তৈরি এই নোটটি দীর্ঘস্থায়ী, পরিবেশবান্ধব এবং অধিক নিরাপদ। এর মাধ্যমে ওমান প্রথমবারের মতো পলিমার ব্যাংকনোট ব্যবহারের যুগে প্রবেশ করল, যা আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক মুদ্রা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।   নতুন এক রিয়াল নোটের নকশায় ওমানের ঐতিহ্য ও আধুনিক উন্নয়নের সমন্বয় তুলে ধরা হয়েছে। নোটের সামনের অংশে সুলতান হাইথাম বিন তারিকের প্রতিকৃতি, ওমান বোটানিক গার্ডেনের স্থাপত্য এবং ঐতিহ্যের প্রতীক লোবান গাছের ছবি স্থান পেয়েছে। অপর পাশে রয়েছে সাইয়্যিদ তারিক বিন তাইমুর সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স, দুকম বন্দর ও দুকম রিফাইনারির চিত্র, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রতিফলন।   নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও নোটটি উন্নত। এতে বড় স্বচ্ছ জানালা, বিশেষ রঙ পরিবর্তনশীল কালি ও আধুনিক নিরাপত্তা চিহ্ন সংযোজন করা হয়েছে, যা জাল নোট প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ১৪৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্য ও ৭৬ মিলিমিটার প্রস্থের এই নোটটি বিদ্যমান অন্যান্য ব্যাংকনোটের পাশাপাশি স্বাভাবিক লেনদেনে ব্যবহার করা যাবে।   এদিকে সংগ্রাহকদের কথা বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ খামে মোড়ানো সীমিতসংখ্যক স্মারক নোট ও আনকাট শিট বিক্রির ব্যবস্থাও করেছে। মাস্কাটের রুবি, সালালাহ ও সোহারের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা এবং অপেরা গ্যালারিয়ার ওমান পোস্ট আউটলেট থেকে আগ্রহীরা এসব সংগ্রহযোগ্য নোট সংগ্রহ করতে পারবেন।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ওমানে টানা ৪ দিন ছুটি পাচ্ছেন কর্মীরা

ওমানে আগামী ১৫ ও ১৮ জানুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সুলতান হাইথাম বিন তারিক-এর সিংহাসনে আরোহণের বার্ষিকী (অ্যাকসেসন ডে) এবং পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে এই ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশটির সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এবং ১৮ জানুয়ারি রোববার সাধারণ ছুটি পালন করা হবে।   যেহেতু ওমানে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি, সে কারণে এই দুই সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে কর্মজীবীরা ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা চার দিনের দীর্ঘ ছুটি ভোগ করবেন। ফলে সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এই সময় সীমিত কার্যক্রমে থাকবে বা বন্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এই সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাস্কাটে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৫ ও ১৮ জানুয়ারি কোনো ধরনের নিয়মিত কনস্যুলার বা প্রশাসনিক সেবা প্রদান করা হবে না।   দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারি ছুটি শেষে আগামী ১৯ জানুয়ারি সোমবার থেকে স্বাভাবিক নিয়মে দাপ্তরিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। তবে ছুটির দিনগুলোতে জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তার জন্য দূতাবাসের নির্ধারিত হটলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু থাকবে।   দীর্ঘ এই ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের আগেভাগে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি সেবার নম্বরগুলো সংরক্ষণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ওমানের ১ রিয়ালে মিলছে ৩০ লাখ টাকা!

ওমানি রিয়ালের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার ইতিহাসে নজিরবিহীন দরপতন ঘটেছে। সাম্প্রতিক বিনিময় হার অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ১ ওমানি রিয়াল পাঠালেই ইরানে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০ লাখ ইরানি রিয়াল। চলতি মাসের শুরুতেও যেখানে এই হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল, সেখানে হঠাৎ এমন বড় ব্যবধানে মুদ্রার মান পরিবর্তনে ওমানে বসবাসরত ইরানি প্রবাসীদের মধ্যে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   প্রাপ্ত তথ্যমতে, বর্তমানে ইরানে ১ ওমানি রিয়ালের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ লাখ ৫৮ হাজার ৪১৯ ইরানি রিয়াল। এই অস্বাভাবিক বিনিময় হার প্রবাসীদের জন্য আর্থিকভাবে লাভজনক হলেও, এর পেছনের বাস্তবতা ইরানের অর্থনীতির গভীর সংকটেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   ইরানি রিয়ালের এই চরম অবমূল্যায়ন এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়। অর্থনৈতিক দুরবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা বিক্ষোভকে আরও তীব্র করে তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফলে হতাহতের ঘটনাও বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান সরকার গত ৮ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে একদিকে ওমান থেকে বিপুল অর্থ পাঠানোর সুযোগ তৈরি হলেও, অন্যদিকে দেশের ভেতরের অস্থিরতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে ইরানি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রার এই অবমূল্যায়ন সাময়িকভাবে প্রবাসীদের জন্য সুবিধাজনক হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ইরানের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আমিরাতে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটির যাত্রা শুরু

সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিচিতি সভার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন আঞ্চলিক সংগঠন ‘জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন’ আমিরাত শাখার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি।    সোমবার (১২ জানুয়ারি) আজমানের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।   সিলেট বিভাগের প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে গঠিত এই নতুন কমিটিতে মোহাম্মদ সাহেদ আহমদ রাসেলকে আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ আলী সুহেলকে সদস্য সচিব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।   নবগঠিত এই কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন যথাক্রমে— মাওলানা কারী আবু রুকিয়ান, হুমায়ুন রশিদ, মাওলানা মোহাম্মদ খালেদ, তারেক আহমদ, নাসির উদ্দিন, ইলিয়াস আমির আলী, আব্দুল জালাল বুরহান, ইছমত আলী।    এছাড়া কমিটির সম্মানিত সদস্যরা হলেন— আনোয়ার হোসেন, বাবুল চৌধুরী, রিপন মজুমদার, বশির আহমদ, আছাদ উদ্দিন, আহমেদ রাজু এবং দেলোয়ার হোসেন লোকমান।   ১৯৪৮ সালে রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত সিলেটবাসীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শুরু থেকেই সংগঠনটি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।   পরিচিতি সভায় নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা জানান, এই সংগঠনটি কেবল সিলেটবাসীর মিলনমেলা হিসেবেই নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত সব প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোনো সমস্যায় এবং অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে। সিলেটের শিক্ষা ও কৃষ্টির প্রসারের পাশাপাশি প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও তারা কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ

মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0