কানাডার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান তানভীর শাহনেওয়াজ। সোমবার অনুষ্ঠিত ফেডারেল উপনির্বাচনে টরন্টোর বিচেস–ইস্ট ইয়র্ক আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ইলেকশন কানাডার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, তানভীর শাহনেওয়াজ পেয়েছেন ১৭,২৫১ অর্থাৎ মোট ভোটের ৫৫.৩ শতাংশ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনডিপির প্রার্থী শ্যানন ডিভাইন পেয়েছেন ৮১৫৯ অর্থাৎ ২৬.২ %, কনজারভেটিভ পার্টির জিম সিরবস পেয়েছেন ১৪,৮৫৭ ভোট অর্থাৎ ১৫.৬ শতাংশ, গ্রিন পার্টির ব্রুস লাইভসি ৫৩১ ভোট অর্থাৎ ১.৭%, পিপলস পার্টি অব কানাডার মিশেল লাশাঁস ২৪০ ভোট অর্থাৎ ০.৮ % এবং কানাডিয়ান ফিউচার পার্টির ক্যামেরন থমাস পেয়েছেন ১৫৭ ভোট তথা ০.৫%। তানভীর শাহনেওয়াজের এই জয় শুধু তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়, কানাডার বাংলাদেশি-কানাডিয়ান সম্প্রদায়ের জন্যও এটি একটি গর্বের ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দেশটির ফেডারেল পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন একজন জনপ্রতিনিধির অভিষেক কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ও বহুজাতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ক্রিসেন্ট টাউনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তানভীর শাহনেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে তার নির্বাচনী এলাকার টরন্টো কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো স্কারবরো থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। প্রায় এক দশক তিনি সাবেক এমপি নাথানিয়েল এরস্কিন-স্মিথের সঙ্গে কাজ করেছেন। এ সময় তিনি কনস্টিটুয়েন্সি অফিস ম্যানেজার এবং পরে স্পেশাল অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তানভীর শাহনেওয়াজের নির্বাচন কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি-কানাডিয়ানদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। অভিবাসী ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে—তাঁর নির্বাচন তারই একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন। এর আগে আরেক বাংলাদেশি-কানাডিয়ান ডলি বেগম কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। এদিকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর স্কারবরো সাউথওয়েস্টে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আসনে এমপিপি (MPP) পদে লিবারেল পার্টির প্রার্থী আহসানুল হাকিম এবং কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী ডা. নূরুল্লাহ—দুই বাংলাদেশি-কানাডিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনডিপির প্রার্থী ফাতিমা শাবান।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানবপাচারের জটিলতা নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সাংকংহে ইউনিভার্সিটির ‘প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াসমিন আক্তার অধরা। গত ১৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়টির ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে ২৫৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে গ্র্যাজুয়েট স্কুলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ইয়াসমিনের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এশিয়ান নন-গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশনস প্রোগ্রাম’-এর শিক্ষার্থী। ইয়াসমিনের গবেষণার মূল বিষয় ছিল কক্সবাজারের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা, মানুষের চলাচলের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা এবং মানবিক সহায়তার সঙ্গে মানবপাচারের ঝুঁকির সম্পর্ক। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী কীভাবে মানবপাচারের ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তা গবেষণায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। নিজের এই অর্জন সম্পর্কে ইয়াসমিন বলেন, ‘এই স্বীকৃতি যেমন আনন্দের, তেমনি এক বড় দায়িত্বের। রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু শরণার্থী সমস্যা হিসেবে না দেখে মানবপাচার, জীবিকা ও চলাচলের সীমাবদ্ধতার জটিল দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝাই ছিল আমার উদ্দেশ্য।’ আন্তর্জাতিক গবেষণার ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতিকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট ও মানবপাচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে ইয়াসমিন আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
মালয়েশিয়ার শাহ আলমে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৫ বছর বয়সি এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর গাড়ি ও চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে শাহ আলমের জালান বুকিত কেমুনিংয়ে, তামান শ্রী মুদা থেকে ক্লাংমুখী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শাহ আলম জেলা পুলিশের প্রধান সহকারী কমিশনার সারুদিন সামাহ এক বিবৃতিতে জানান, ওই বাংলাদেশি পথচারী রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় ওই ব্যক্তি মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শাহ আলম হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গাড়িটি এবং এর চালককে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ১৯৮৭-এর ৪১(১) ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা দিয়ে তদন্তে সহায়তার জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তথ্য থাকলে শাহ আলম জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট বিভাগের তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আবদুল নাসের পেপিংয়ের সঙ্গে ০১২-২৮৬ ৩৮৭৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী ইউসুফ হাসান আলিফ (২৭)। মৃত্যুর আগমুহূর্তে সহকর্মীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বাঁচার আকুতি জানিয়ে তিনি লিখেছিলেন, আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে। কিন্তু শেষপর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। নিহত ইউসুফের মামাতো ভাই বার্সেলোনা প্রবাসী শফিকুল ইসলাম রাসেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে মাদ্রিদের আরগানসোয়েলা জেলার মেট্রো পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে ক্যানারিয়াস সড়কের একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিহত আলিফ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে। পেশায় তিনি একজন ফুড ডেলিভারি রাইডার ছিলেন। গত জুন মাসে ভাগ্য ফেরাতে তিনি স্পেনে পাড়ি জমান। দেশটির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মাত্র দুই দিন আগে তিনি কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) পেয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ফুড ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত সাইকেল আনতে ইউসুফ গ্যারেজে যান। সেই সময় হঠাৎ একটি ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরিত হয়ে গ্যারেজে আগুন ধরে যায়। এতে ইউসুফসহ তাঁর দুই সহকর্মী দগ্ধ হন। খবর পেয়ে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে গ্যারেজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস অপসারণ করেন এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক বাইসাইকেলগুলো বাইরে সরিয়ে নেন। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকরা ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। দগ্ধ অপর দুই সহকর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইউসুফের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে কালীগঞ্জের উত্তরগাঁও এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়েছে।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে একটি সাইকেল গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। অবিবাহিত এ তরুণ ফুড ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, মো. ইউসুফ হাসান আলিফ (২৬) নামে এ প্রবাসী ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম আব্দুল মোতালিব এবং মায়ের নাম রহিমা খাতুন। স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে মাদ্রিদের পালোস দে লা ফ্রন্তেরা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন গ্যারেজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর বলা হয়েছে, ওই সাইকেল গ্যারেজে হঠাৎ আগুন লাগে এবং তা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জরুরি পরিষেবা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে গ্যারেজের ভেতর আটকা পড়া ইউসুফকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যারেজে রাখা বৈদ্যুতিক সাইকেলের ব্যাটারি বিস্ফোরণ অথবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সেখানে কোনো নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে নিহতের লাশ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইনে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ১৩ দিন মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলাদেশি এক তরুণ। নিহত জামশেদুল ইসলামের (২৫) বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নে। পিতার নাম মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। শনিবার বিকেলে আল আইনের জিমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের প্রতিবেশী ও দুবাই প্রবাসী আমির উদ্দিন বাদশাহ জানান, গত ১৬ অগাস্ট আবুধাবির শিল্পনগরী মুসাফফাহ থেকে আল আইন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতে যান জামশেদুল। সেখানে কাজ করার সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় আঘাত পান। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ১৩ দিন কোমায় থাকার পর মারা যান তিনি। নিহতের ভাগিনা মোহাম্মদ জোবায়েদ জানান, পরিবারের ভাগ্য বদলের আশায় তিন বছর আগে আরব আমিরাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামশেদুল। ছয় বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বর্তমানে জামশেদুলের লাশ আল আইন জিমি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশটির আইন-কানুন মেনে চলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে গুজব, উসকানিমূলক কনটেন্ট, নিষিদ্ধ সংগঠন ও অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফেসবুক পেজে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে এসব পরামর্শ জানানো হয়। পরামর্শে বলা হয়েছে, প্রবাসীদের কর্মরত দেশের আইন ও বিধিবিধান, কর্মস্থলের নীতিমালা এবং স্থানীয় সাইবার আইন মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে দেশটির ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগের জন্য ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চাকরি, নিয়োগকর্তা কিংবা কর্মস্থল-সংক্রান্ত কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা যাচাই করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া অপরিচিত ব্যক্তি, অজানা লিংক, ফাইল বা বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে এবং অনলাইন প্রতারণা ও ফিশিং থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই এবং সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক অনলাইন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে। যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে: মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ছবি, ভিডিও কিংবা বার্তা শেয়ার, লাইক বা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি গুজব, ভুয়া তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, ইরান-ইসরায়েলসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাত নিয়ে মালয়েশিয়ার স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করতে পারে—এমন উসকানিমূলক বা বিতর্কিত পোস্ট প্রচার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্মরত দেশে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা অনলাইন প্রচারণায় অংশ না নেওয়া এবং যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা অনলাইন তহবিলে অর্থ প্রদান না করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বন্দর, সরকারি স্থাপনা কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ছবি ও ভিডিও ধারণ বা প্রকাশ না করতে বলা হয়েছে। নিজের বা অন্য কারও পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্যসহ ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয়, জাতিগত বা বর্ণগত বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে পারে—এমন পোস্ট, মন্তব্য বা বিতর্কে অংশ না নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ, সহিংসতা কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডকে সমর্থন বা প্রশংসা করে কোনো পোস্ট বা মন্তব্য না করার কথাও বলা হয়েছে। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অবৈধ ভিসা, দ্রুত আয়ের প্রলোভন, সন্দেহজনক বিনিয়োগ কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণা থেকেও দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান; মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড যাতে স্থানীয়দের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি না করে, সে বিষয়েও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গণপরিবহন ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরি, উচ্চস্বরে কথা বলা কিংবা দলবদ্ধ চলাফেরার ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিবেশ ও নিয়মকানুনের প্রতি সম্মান দেখাতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের আইন মেনে চলা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর কুয়েত-ঢাকা রুটে আবারও সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শনিবার (২৯ আগস্ট) থেকে এই রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির ফ্লাইট চালু হওয়ায় কুয়েত থেকে বাংলাদেশগামী যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ায় অন্যান্য এয়ারলাইন্সও টিকিটের দাম কমাতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কুয়েত-ঢাকা রুটে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ ছিল। প্রায় ছয় মাস পর আবারও সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হওয়ায় দেশে ফেরার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কুয়েত কান্ট্রি ম্যানেজার এ কে এম ফরহাদ ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে এতদিন কুয়েত রুটে বিমানের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। শনিবার থেকে জাতীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমান আবারও এই রুটে চলাচল শুরু করেছে। প্রবাসীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বিভিন্ন ফেয়ার চালু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা বিমানের মাধ্যমে দেশে যাতায়াত করলে দেশের রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কুয়েতে বাংলাদেশি জাতীয় গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, কুয়েত আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এদিকে বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অন্য এয়ারলাইন্সগুলোর ভাড়াতেও। প্রবাসীদের ভাষ্য, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারওয়েজসহ অন্যান্য সংস্থার টিকিটের দামও কিছুটা কমেছে। প্রবাসী শহিদ সারোয়ার বলেন, বাংলাদেশ বিমান চালু হওয়ায় অন্যান্য এয়ারলাইন্সও ভাড়া কমিয়েছে। বিমানের ভাড়া তুলনামূলক কম এবং ব্যাগেজ সুবিধাও ভালো। ফ্লাইটগুলো সময়মতো পরিচালিত হলে যাত্রীদের আগ্রহ আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরাসরি ফ্লাইট চালুর পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ায় কুয়েত-বাংলাদেশ রুটে বিমান ভাড়া আরও কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে বিশেষ করে ছুটির মৌসুমে দেশে আসা-যাওয়া করা প্রবাসীরা সুবিধা পাবেন। দীর্ঘদিন সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই অন্য এয়ারলাইন্স ব্যবহার করে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছিলেন। এতে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফেরা কিংবা ছুটির সময় টিকিটের চাহিদা বেড়ে গেলে ভোগান্তি আরও বাড়ত। প্রবাসীদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট নিয়মিত ও সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে পরিচালিত হলে কুয়েত-ঢাকা রুটে যাতায়াত আরও সহজ হবে। পাশাপাশি টিকিটের দামও সাধারণ যাত্রীদের নাগালের মধ্যে থাকবে।
সংসারের আর্থিক সংকট দূর করতে ঋণ করে প্রায় দেড় বছর আগে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আবদুল জলিল। সেখানে গিয়ে কাজের অনিশ্চয়তা ও ঋণের চাপে কঠিন সময় পার করছিলেন ৫৪ বছর বয়সী এই প্রবাসী। শেষ পর্যন্ত ঘুমের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) মালদ্বীপের রাজধানী মালের একটি ভাড়া বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। আবদুল জলিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল গাফুর। দেশে তার স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান রয়েছে। স্বজনদের ভাষ্য, পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে ধারদেনা করে প্রায় দেড় বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমান জলিল। দেশটিতে যাওয়ার পর প্রথম তিন মাস বৈধভাবে কাজ করেন তিনি। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বৈধতা হারান। বৈধতা হারানোর পর নিয়মিত কাজ পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো কাজ পেলেও তা ছিল অনিয়মিত। অন্যদিকে দেশে রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতেন তিনি। জলিলের চাচাতো শ্যালক প্রবাসী মো. জাকির জানান, বৈধতা হারানোর পর জলিলকে অনেক সময় বেকার থাকতে হতো। দেশে বড় অঙ্কের ঋণ থাকায় কাজ না থাকলে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যেতেন। এসব কারণে মানসিকভাবেও তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। ঘটনার রাতে প্রতিদিনের মতো খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান জলিল। মাঝরাতে তার রুমমেট ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জলিলের ভাই আবদুর রহমান বলেন, তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে দেশে রেখে জলিলের এমন মৃত্যুতে পুরো পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। তিনি মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এদিকে আবদুল জলিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন। আবদুল জলিলের মৃত্যু প্রবাসী শ্রমিকদের বৈধ কাগজপত্র, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং বিদেশে গিয়ে ঋণ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত ও কর্মরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের দেশটির আইন-কানুন মেনে চলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দেয়া নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। হাইকমিশনের পরামর্শে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার আইন, বিধি-বিধান, কর্মস্থলের নীতিমালা, স্থানীয় সাইবার আইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে দেশটির ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতিও সম্মান দেখাতে হবে। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। চাকরি, নিয়োগকর্তা বা কর্মস্থল-সংক্রান্ত কোনো তথ্য, ছবি কিংবা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তি, অজানা লিংক, ফাইল বা বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে এবং প্রতারণা ও ফিশিং থেকে সাবধান থাকার কথাও বলা হয়েছে। কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে এবং সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক অনলাইন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে নির্দেশনায় সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠন-সংক্রান্ত পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা বার্তা শেয়ার, লাইক, মন্তব্য কিংবা প্রচার না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুজব, মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, ইরান-ইসরায়েলসহ আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে মালয়েশিয়ার স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করতে পারে—এমন উসকানিমূলক বা বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার বা প্রচার না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কর্মরত দেশে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক বা অনলাইন প্রচারেও অংশ না নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা অনলাইন মাধ্যমে অনুদান না দেয়া এবং কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বন্দর, সরকারি স্থাপনা বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ না করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রবাসীদের নিজেদের বা অন্যের পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক তথ্যসহ ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। ধর্মীয়, জাতিগত বা বর্ণগত বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে—এমন পোস্ট, মন্তব্য বা বিতর্কে অংশ না নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর বাইরে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অবৈধ ভিসা, দ্রুত আয়ের প্রলোভন, সন্দেহজনক বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রচারণা থেকেও দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো অপরাধ, সহিংসতা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডকে সমর্থন বা প্রশংসা করে পোস্ট, মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া না দেয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।
বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ‘জিরো কস্ট’-এ নেয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বিমান ভাড়াসহ সব ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই এসব কর্মীর প্রথম বহর সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মধ্য দিয়ে শ্রমবাজারটি পুনরায় চালু হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে আলোচনা করেন। এসব সরাসরি বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব এককভাবে মালয়েশিয়া সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়। ওই সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকায়, মালয়েশিয়া সরকারের আরোপিত শর্ত পরিবর্তন করা বাংলাদেশের পক্ষে সহজ নয়। তবে বর্তমান সরকার মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা ও নেগোসিয়েশন করেছে-উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার নিজস্ব আইনি শর্ত ও নীতিমালার সঙ্গে সর্বোচ্চ সমন্বয় রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ ও সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম সাফল্য। মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি মালয়েশিয়া সরকারের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি বিগত অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকায় রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ৪২৩টি এজেন্সির মধ্যে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে অবশিষ্ট এজেন্সিগুলোকে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায়। গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশকে এ সুযোগ দিয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়। এর আওতায় মালয়েশিয়া তাদের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচিত করেছে এবং বাংলাদেশের অবস্থানকে সম্মান জানিয়ে আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে কর্মী প্রেরণের সুযোগ দিচ্ছে। এর পাশাপাশি, একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলও এ প্রক্রিয়ায় কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে বিদ্যমান বহুবিধ নিয়মতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একযোগে বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণের সুযোগকে একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এজেন্সি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, অতীতে এ ধরনের স্বচ্ছ ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের কোনো নজির ছিল না। এ বাছাই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হলে নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে বলেও মন্ত্রণালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিকেল সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ায় এ প্রক্রিয়ায় সময় প্রয়োজন হচ্ছে। এ অবস্থায় মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, শ্রমবাজার চালুর সঙ্গে সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিকেল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে। কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে অতীতের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ছাড়া, অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হবে। মন্ত্রণালয় জানায়, শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণকে ঘিরে নানামুখী বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে যে প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, তা দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সব অংশীজনকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দালাল ও প্রতারক চক্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল টেস্ট কিংবা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ দেশে আসার পর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে এক সঙ্গে ৭ জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে পরিচয় সনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে আসে। এদের মধ্যে ৭ জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলাতে। মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে আত্রাই উপজেলাতে আসে। জানাজায় নওগাঁ-৬ (আত্রাই -রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন৷ জানাজা শেষে মরদেহগুলো নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদেরকে ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। প্রসঙ্গত, সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় সনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন- আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৪৩০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করার জন্য উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারান। পরে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আজ মরদেহগুলো দেশে পাঠানো হলো। শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মধ্যে সাত জনেরই বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তারা হলেন— উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের মরদেহও দেশে এসেছে। জানা গেছে, আগুন লাগার দিন রাতে কাজ শেষে শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরেই ঘুমাচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় আগুন লাগার পর কেউ বের হতে পারেননি। এতে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, নিহত বাকি প্রবাসীদের মরদেহ দেশে যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে আনা হবে। মরদেহ গ্রহণের পর প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রেস ব্রিফিং করেন। ব্রিফিংকালে মন্ত্রী জানান, অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত জনের ফিংগার প্রিন্ট পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় সিআইডির তত্ত্বাবধানে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক কার্যক্রম চলমান। তিনি আরও বলেন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহত ৯ জন কর্মীর প্রতি পরিবারের জন্য মরদেহ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং এককালীন আর্থিক অনুদান বাবদ ৩ লাখ টাকা করে সর্বমোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনার বিবেচনায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মরদেহগুলো সরাসরি নিহতদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যারা মারা গেছেন, মরদেহ এখনও আনতে পারিনি দেশে, তাদের মরদেহ দেশে আনতে সৌদি দূতাবাসের সবাই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। যেহেতু আগুন লেগেছে, তাদের ডিএনএ টেস্ট হবে, পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে, দ্রুত দেশে ফেরত আনা হবে।
সংসারের অভাব ঘোচাতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজের আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ঝিনাইদহের রাজন হোসেন (২২)। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পর জানতে পারেন, যে কাজের কথা বলে তাকে পাঠানো হয়েছে, বাস্তবে তা নয়। রুশ বাহিনীর হয়ে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয় তাকে। প্রায় দেড় মাস যুদ্ধের ময়দানে কাটানোর পর ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হন রাজন। ভেঙে যায় কোমরের হাড়, হারিয়ে ফেলেন দুই পায়ের শক্তি। দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ২১ আগস্ট ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। এখন অসুস্থ শরীর নিয়ে পরিবারের কাছে ফিরে চিকিৎসার খরচ জোগাড়ের চিন্তায় দিন কাটছে তার। রাজন হোসেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের আব্দুল কাদের কালু ও মাহফুজ বেগমের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে যাওয়ার জন্য স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়ার ব্যবস্থা করেন রাজন। চলতি বছরের ৭ মে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। একই দিন দেশটির রাজধানী মস্কো বিমানবন্দরে পৌঁছান। রাজনের ভাষ্য, মস্কো থেকে একই দিন তাকে ও আরও ৩০ বাংলাদেশীকে একটি বাসে করে ওরেনবার্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি হোটেলে তিন থেকে চার দিন রাখার পর ব্যাংক কার্ড ও সিম কার্ড দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় রাশিয়ান একটি চক্র। এরপর কাজের কথা বলে রাজনসহ অন্যদের একটি অজ্ঞাত রুশ সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজন বলেন, সেনা ক্যাম্পে নেয়ার পর আমরা পরিস্থিতি বুঝতে পারি। যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাই। ওই সময় রাশিয়ান চক্রের লোকদের পা জড়িয়ে ধরেও রেহাই পাইনি। পরে আমাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর গাড়িতে তুলে একটি বাংকারে নিয়ে রাখা হয়। রাজনের দাবি, বাংকারে প্রায় এক ঘণ্টা রাখার পর ৩০ বাংলাদেশীকে বিভিন্ন দলে ভাগ করে দেয়া হয়। তিনি ছিলেন ছয়জনের একটি দলে। তার ভাষ্য, এরপর তাদের রুশ সেনাবাহিনীর পোশাক ও অস্ত্র দেয়া হয় এবং যুদ্ধের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ২১ দিন প্রশিক্ষণের পর তাদের ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়। রাজন বলেন, প্রথম দিনেই ১৭ জন বাংলাদেশী ড্রোন হামলায় মারা যান। ওই দিনই একটি ড্রোন আমার কোমরে আঘাত করে। এতে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এরপর কোমরের নিচ থেকে আর কোনো শক্তি পাচ্ছিলাম না। আহত অবস্থায়ও জীবন বাঁচাতে পিছু হটতে হয় রাজনকে। তিনি জানান, চার দিনে বুকের ওপর ভর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রুশ নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের একটি হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে রাশিয়ার একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। রাজন বলেন, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ দিন পর একজন চিকিৎসক তাকে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়ে যান। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে গত ২১ আগস্ট ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। রাজনের দাবি, দেশে ফেরার জন্য তার পরিবার রাশিয়ায় ৬২ হাজার রুবল পাঠিয়েছে। বাংলাদেশী একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি। রাজনের বাবা আব্দুল কাদের বলেন, ধারদেনা করে ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম একতারপুর গ্রামের লেন্টু হোসেনের কাছে। তিন বছর ঘুরিয়ে গত মে মাসে শ্রমিকের কাজের কথা বলে আমার ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। পরে জানতে পারি, তাকে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমার ছেলে যুদ্ধে আহত হয়ে দেশে ফিরেছে। এখন তার চিকিৎসা করানোর মতো অর্থ আমার কাছে নেই। আমার ছেলের সঙ্গে যারা এমন করেছে, তাদের শাস্তি চাই। রাজনের মা মাহফুজ বেগম বলেন, আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। সংসারের অভাবের কারণে বড় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আমার সেই সুস্থ ছেলে এখন হাঁটতে পারে না। অন্যের কাছে সাহায্য চেয়ে দিন চলছে। কীভাবে সংসার চালাব, সেই দুশ্চিন্তায় আছি। স্থানীয় কলেজ শিক্ষক মুসা করিম বলেন, দালালের খপ্পরে পড়ে পরিবারটি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। তারা এখন খুবই অসহায় অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দালালদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তবে রাজনকে বিদেশে পাঠানোর স্থানীয় এজেন্ট আবু তাহের লেন্টু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমার ভাগ্নে সোহেলের মাধ্যমে রাজনকে পাঠানো হয়েছিল। আমি কোনো প্রতারণা করিনি। রাজনকে সরকারিভাবে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ যেন দালালের খপ্পরে না পড়েন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। রাশিয়া থেকে আহত অবস্থায় ফিরে আসা রাজনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু করা যায় কিনা, তা দেখা হবে। শ্রমিকের কাজের আশায় বিদেশে গিয়ে যুদ্ধের ময়দানে আহত হয়ে দেশে ফেরা রাজনের সামনে এখন একদিকে দীর্ঘ চিকিৎসার প্রয়োজন, অন্যদিকে পরিবারের আর্থিক অনিশ্চয়তা। প্রতারণার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং তার চিকিৎসায় সহায়তার আশায় তাকিয়ে আছে পরিবারটি।
অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি দিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনা ঠেকাতে দালাল চক্র শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত ও অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা প্রতিরোধে সুনামগঞ্জে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সভায় মন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জের অনেক যুবক দালালদের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ পথে অনেকেই নানা বিপদের মুখে পড়ছেন, এমনকি অকালে প্রাণও হারাচ্ছেন। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালালদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, শুধু বৈধ পথে বিদেশ যাওয়াই যথেষ্ট নয়, বিদেশে ভালো কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট কারিগরি দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান অর্জন করতে হবে। এ জন্য সুনামগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা হলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। অবৈধ অভিবাসন বন্ধে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। তার মতে, অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি এবং বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ ও সুবিধা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। এ লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কাজ সুনামগঞ্জ থেকেই শুরু হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। সভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি ও নতুন সম্ভাবনার বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ সম্পর্কে তথ্যের অভাবে অনেক বাংলাদেশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বৈধ পথে ইতালিতে যাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দক্ষতা অর্জন করে এই সুযোগ কাজে লাগালে বাংলাদেশি কর্মীরা নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে ইউরোপের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসারের লক্ষ্য নিয়ে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ফেনী অ্যাসোসিয়েশন জার্মানি’। গত শনিবার (২২ আগস্ট) ফ্রাঙ্কফুর্টের একটি স্থানীয় মিলনায়তনে অভিষেক ও প্রীতি সম্মেলনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনটি ফেনী জেলার হলেও অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলার প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে নবগঠিত কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘদিন পর এমন মিলনমেলায় একত্রিত হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন উপস্থিত প্রবাসীরা। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংগঠনের নেতারা জানান, ফেনী অ্যাসোসিয়েশন জার্মানি কেবল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা সামাজিক মিলনমেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রয়োজনে সহযোগিতা, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন সংকটে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তারা আরও জানান, জার্মানিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে সব জেলার প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটি গড়ে তুলতে সংগঠনটি কাজ করবে। সংগঠনের সভাপতি আনিসুর রেজা সিজারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আলম রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। আয়োজনে সহসভাপতি বেলাল হোসেন ভূঁইয়া, মোস্তাফিজুর রহমান ফারুক ও জালাল আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে ফেনী অ্যাসোসিয়েশন জার্মানির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আনিসুর রেজা সিজার এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জামশেদ আলম রানার নাম ঘোষণা করা হয়। কমিটির সহসভাপতিরা হলেন বেলাল হোসেন ভূঁইয়া, মোস্তাফিজুর রহমান ফারুক, জালাল আহমেদ, আবদুল মান্নান, কুতুব উল্লাহ, শহিদ উল্লাহ ও শহিদ উদ্দিন। সহসাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মাদ আলমগীর, দপ্তর সম্পাদক আহমেদ শাকিল, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুন এবং প্রচার সম্পাদক কাজী মিজানুর রহমান। এ ছাড়া ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে আশরাফুর রহমান সবুজ, সহক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আহসান মনছুর সাগর, আপ্যায়ন সম্পাদক ফারুক সোহাগ, সহ-আপ্যায়ন সম্পাদক সোহাগ মিয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাস্টার শাহজাহান, সমাজসেবা সম্পাদক রেজাউল করিম আরমান এবং সহসমাজসেবা সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সোহেল দায়িত্ব পেয়েছেন। নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ফারজানা রেজা কনা, খালেদা আলম রুমা, বকুল রহমান, ইয়াসমিন আহমেদ মিতা ও তাসলিমা নাসরিন রুমকি। সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, আহমেদ আলাউদ্দিন, শেখ শাহজাদা, কামাল লুক্স ও আবুল কালাম।
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া ১৬ বাংলাদেশিদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশে পৌঁছাবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করবেন। বুধবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবে। মারা যাওয়া ৯ জনের পরিচয় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন– নওগাঁর মো. ফরিদ, মো. রুবেল প্রামানিক, মো. সোহেল রানা, মো. কলিমউদ্দিন, মো. মোহন আলী, মো. সুমন আলী, আব্দুল জলিল সরদার, নাটোরের রবিউল ইসলাম, রাজশাহীর মো. শ্যামল উদ্দিন মাঝি। মরদেহগুলো তাদের পরিবারের স্বজনদের কাছে বিমানবন্দরের কার্গো গেটে হস্তান্তর করা হবে। গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে ১৬ জন বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ইউএস আর্মিতে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ জুম্মান তপদার। তার এই অর্জনে পরিবার-স্বজনের পাশাপাশি নিজ এলাকা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জেও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এটি হাজীগঞ্জ ও পুরো চাঁদপুরের জন্য গর্বের একটি ঘটনা। জুম্মান তপদার হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাটরা বিলওয়াই এলাকার তপদার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মো. বিল্লাল হোসেন তপদার ও শাহনাজ বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। পাঁচ সদস্যের পরিবারে তার দুই বোন ও এক ভাই রয়েছেন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জীবন ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় ২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান জুম্মান। সেখানে যাওয়ার পর পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে যুক্ত হন তিনি। একই সঙ্গে ইউএস আর্মিতে যোগ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে থাকেন। দীর্ঘ পরিশ্রম ও বিভিন্ন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার পর অবশেষে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তার। বর্তমানে জুম্মানের পরিবারের অন্য সদস্যরাও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। জুম্মানের এই সাফল্যে তার মা-বাবা ও স্বজনেরা অত্যন্ত আনন্দিত। ছেলের নতুন কর্মজীবন ও নিরাপত্তার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা ও কর্মজীবনের পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে জায়গা করে নেওয়া জুম্মানের এই অর্জন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণদের জন্যও এটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থা চালু করেছে মালয়েশিয়া। নতুন এই ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তাদের সরকারি দপ্তরে গিয়ে ম্যানুয়ালি আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। অনলাইনের মাধ্যমেই আবেদন থেকে শুরু করে অনুমোদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। মালয়েশিয়ার নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির শিল্প খাতের বিভিন্ন সংগঠন। মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স ফেডারেশন (এফএমএম) এবং অ্যাসোসিয়েটেড চাইনিজ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসিসিসিআইএম) মনে করছে, অনলাইন ব্যবস্থার ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। নতুন ব্যবস্থায় শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র (এসকেবি) ১৪ দিনের মধ্যে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীরা অনলাইনে নিজেদের আবেদনের অবস্থান বা স্ট্যাটাস জানতে পারবেন। এতে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি সময়ও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা কৃষি ও নির্মাণের মতো খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ আরও সহজ করার জন্য সাক্ষাৎকারের সময়সীমা বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছেন। বাংলাদেশেও অনলাইন ব্যবস্থার উদ্যোগ: মালয়েশিয়ার মতো বাংলাদেশ সরকারও বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধতা যাচাই, বিদেশি কর্মীর চাহিদা এবং নিয়োগের বিভিন্ন ধাপকে অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে। অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়া ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন জেলায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ রয়েছে। বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা যাচাইয়েও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বিদেশি নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সরাসরি দক্ষতা যাচাই করে নিয়োগ দিতে পারবেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬ হাজার চালক পাঠানোর ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে এ পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়োগকর্তার সরাসরি দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং যোগ্য কর্মী বাছাই আরও সহজ হবে। প্রবাসীদের সরকারি সেবা সহজ করার উদ্যোগ: বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের সরকারি সেবা পেতে ভোগান্তি কমাতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরাসরি তাদের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডাক বা কুরিয়ার সেবা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এতে দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় কার্ডটি চালু হলে প্রবাসীরা দেশে ভূমি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বিদেশে কর্মী পাঠানো থেকে শুরু করে প্রবাসীদের দেশে ও বিদেশে সরকারি সেবা পাওয়ার পুরো ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল ও সহজ করার দিকে এগোচ্ছে সরকার।
মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলানের সেরেমবান এলাকায় বাজেট হোটেল ও হোস্টেলকে ঘিরে বিদেশি নারীদের দিয়ে পরিচালিত কথিত যৌন ব্যবসার সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। এ ঘটনায় স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২টায় সেরেমবানের তিনটি স্থানে অভিযান চালায় জেআইএমের পুত্রাজায়া সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগের কর্মকর্তারা। অভিযানে কুয়ালালামপুরে ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাসের (কেবিআরআই) কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করেন। অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ৭ জন স্থানীয় নাগরিক, ৩ জন ইন্দোনেশিয়ার, ১২ জন বাংলাদেশি এবং ৩ জন মিয়ানমারের নাগরিকসহ মোট ৫৭ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৯ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। তদন্তে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে হোস্টেল ও বাজেট হোটেলে বিদেশি নারীদের অবস্থানের ব্যবস্থা করতো। স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্য থেকে কয়েকজন ‘ক্যাপ্টেন’ বা ম্যানেজার হিসেবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। অভিবাসন বিভাগ জানায়, বিদেশি নারীরা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি সেবার জন্য প্রায় ৫০ রিঙ্গিত করে নিতেন। গ্রাহকদের মধ্যে স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিক উভয়েই ছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে এই কার্যক্রম চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ওঠে এসেছে। চক্রটির কার্যক্রম ছিল সুসংগঠিত এবং নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হতো। এই অবৈধ ব্যবসা থেকে বছরে আনুমানিক ৫ লাখ ৪০ হাজার রিঙ্গিত লাভ হতো বলে ধারণা করছে অভিবাসন বিভাগ। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারায় তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সাতজনকে কথিত অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে তদন্ত করা হচ্ছে। অন্য বিদেশিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আটক সবাইকে পরবর্তী তদন্তের জন্য অভিবাসন বিভাগের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, দেশের আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত যেকোনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। মালয়েশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালিত হবে। পবিত্র দিনটি উপলক্ষে সোমবার সূর্যাস্তের পর থেকেই বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় আয়োজন শুরু হবে। এ সময় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মিলাদ ও মাহফিল, নফল নামাজ, জিকির এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতে অংশ নেবেন। অনেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নফল রোজাও রাখবেন। ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ১২ রবিউল আউয়াল। তাঁর জন্ম ও আগমনকে স্মরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা দিনটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে থাকেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও অন্যান্য ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়ে থাকে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মুসলিম বিশ্বে শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।