কৃষি ও জলবায়ু

ছবি : সংগৃহীত
এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে দুর্যোগ, সতর্কবার্তা জাতিসংঘের

পৃথিবী যেন ধীরে ধীরে এমন এক বাস্তবতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, বরং বর্তমানের কঠিন সত্য। বিশ্বের কোথাও ভয়াবহ দাবদাহে প্রাণহানি ঘটছে, কোথাও দীর্ঘ খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে নদী-নালা, আবার কোথাও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে—পৃথিবী শিগগিরই নতুন একটি এল নিনো পর্বে প্রবেশ করতে পারে, যা ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা এবং খাদ্য সংকটের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।   এই সতর্কবার্তা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, নদীনির্ভর জীবনব্যবস্থা এবং উচ্চ জনঘনত্বের কারণে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তনও দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলে।   এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এর প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হয়ে উঠছে। ডব্লিউএমও মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতিতে এল নিনো ‘আগুনের ওপর ঘি ঢালার’ মতো প্রভাব ফেলতে পারে।   ২০২৩-২৪ সালের এল নিনো পৃথিবীকে ইতিহাসের উষ্ণতম বছরের রেকর্ড উপহার দিয়েছিল। এবারও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মডেল সম্ভাব্য শক্তিশালী বা ‘সুপার এল নিনো’র ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এর তীব্রতা নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে, বিজ্ঞানীরা একমত যে বিশ্বের বহু অঞ্চলে এর প্রভাব হবে ব্যাপক।   বাংলাদেশে এল নিনোর প্রভাব সাধারণত তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে দেখা যায়। কখনো স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হয়, আবার কখনো অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। তাপপ্রবাহের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, শ্রমজীবী মানুষ কর্মঘণ্টা কমাতে বাধ্য হয়েছেন এবং হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। নতুন এল নিনো পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় কৃষি খাত। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি এখনো কৃষির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ধান, গম, ভুট্টা, শাকসবজি ও ফল উৎপাদন সরাসরি আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডব্লিউএমও ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া কৃষি উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।   বর্তমানে কৃষকরা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। এর সঙ্গে যদি খরা ও অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে ফসল উৎপাদন কমে যায়, তবে খাদ্য নিরাপত্তা এবং বাজারমূল্যের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খরা-সহনশীল ফসল, আধুনিক সেচব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং কৃষি বীমা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।   পানিসংকটও বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে গেলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়বে। এতে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে শহরাঞ্চলেও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ চাপে পড়তে পারে।   স্বাস্থ্য খাতেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া এবং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রোগবাহী মশার বিস্তার ও প্রজনন মৌসুমের পরিবর্তন ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।   উপকূলীয় অঞ্চলের জন্যও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বিস্তার এবং ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি আগে থেকেই বিদ্যমান। এল নিনোর প্রভাবে এসব ঝুঁকি আরও জটিল হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং উপকূলীয় জনজীবনের ওপর।   তবে আশার বিষয় হলো, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত সাফল্য অর্জন করেছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো মোকাবিলা কেবল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি কৃষি, স্বাস্থ্য, পানি, জ্বালানি, নগর পরিকল্পনা এবং অর্থনীতির সমন্বিত চ্যালেঞ্জ। তাই এখনই প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, কার্যকর নীতি এবং সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।   এল নিনো কতটা শক্তিশালী হবে, তা নিয়ে হয়তো এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি যে বাস্তব এবং ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণই হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ফসলের সুরক্ষায় প্রথম ওপেন-সোর্স এলএলএম

ফসলের উন্নত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চীন প্রথমবারের মতো ওপেন-সোর্স লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ‘গ্রিন শিল্ড’ চালু করলো। মডেলটি মূলত বিজ্ঞানসম্মত কৃষি নির্দেশনা প্রদান এবং কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।   নানচিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি জৈব-নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান জাতীয় গবেষণাগার এবং ৩০টিরও বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে।   চীন প্রতিনিয়ত ফসলের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড়ের আক্রমণ এবং কীটনাশক প্রতিরোধী ক্ষমতার মুখোমুখি হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে কৃষকদের এখন জরুরি ভিত্তিতে পেশাদার নির্দেশনার প্রয়োজন। তবে সাধারণ কাজের জন্য তৈরি এআই মডেলগুলো প্রায়শই উদ্ভিদ সুরক্ষার প্রশ্নে ভুল উত্তর দেয়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, সেগুলো কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানহীন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে থাকে।   এই সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞ দল ২ দশমিক ৫ বিলিয়নেরও বেশি টোকেনের একটি বিশেষায়িত ডেটাবেস তৈরি করেছে। একাডেমিক পেপার, পেটেন্ট, জাতীয় মানদণ্ড এবং মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ডেটাবেসে ধান, গম, সয়াবিন, শাকসবজি এবং ফলমূলসহ প্রধান প্রধান ফসলের বিবরণ রয়েছে। এ ছাড়া এতে পোকা-মাকড় পর্যবেক্ষণ, পরিবেশবান্ধব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কীটনাশক নিবন্ধনের তথ্য যুক্ত করা হয়েছে।   সূত্র: সিনহুয়া।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
স্কুলের মাঠে পর্যাপ্ত গাছপালা আছে কি, যা বলছে ইউরোপীয় গবেষণা

স্কুলের মাঠ ও আশপাশে বেশি গাছপালা লাগালে শহরের তাপমাত্রা কমানো যায়। এতে শিশুদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাও সহজ হয়। সম্প্রতি ইউরোপের একদল গবেষক এসব তথ্য জানিয়েছেন।   তিন বছর ধরে পরিচালিত ‘কুলস্কুলস’ নামে একটি গবেষণা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেয় স্পেনের উনিভার্সিতাত ওবেরতা দে কাতালুনিয়া ও উনিভার্সিতাত পলিতেকনিকা দে কাতালুনিয়া। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী ন্যাচার ক্লাইমেট চেঞ্জে। গবেষকেরা বলেন, অনেক স্কুলের মাঠ পুরোপুরি কংক্রিটে তৈরি। এসব মাঠে গাছ বা ছায়া কম থাকে। ফলে গরমের সময় সেখানে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। এতে শিশুরা বেশি তাপের ঝুঁকিতে পড়ে। তারা অসুস্থও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের শহরাঞ্চলের প্রায় ৪০ শতাংশ স্কুল ‘হিট আইল্যান্ড’ প্রভাবের মধ্যে আছে। অর্থাৎ শহরের কংক্রিট ও পাকা অবকাঠামোর কারণে এসব এলাকায় তাপমাত্রা বেশি থাকে। আবার প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে ৩০০ মিটারের মধ্যে পর্যাপ্ত সবুজ জায়গা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্কুলের মাঠে গাছ লাগানো, ছায়া, বাগান ও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে পরিবেশ ঠান্ডা থাকে। এতে বায়ুদূষণও কমে। শিশুরা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে পারে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো হয়। তারা পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। গবেষকেরা স্কুলকে ‘প্রকৃতিনির্ভর জলবায়ু আশ্রয়স্থল’ হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, স্কুল শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়। এটি একটি সামাজিক কেন্দ্রও। তাই স্কুলে সবুজায়ন বাড়ালে আশপাশের এলাকাও উপকৃত হবে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, তাপপ্রবাহ দিন দিন দীর্ঘ ও তীব্র হচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও বড় ঝুঁকিতে পড়বে। তাই শহর পরিকল্পনায় গাছপালা ও উন্মুক্ত প্রাকৃতিক স্থানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। গবেষকেরা স্কুলের মাঠ ও নগর এলাকায় সবুজায়নের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে আরও বাসযোগ্য, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল শহর গড়ে তোলা সম্ভব।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু রাজনীতি গ্রিন এনার্জির সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠছে চীন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াচ্ছে চীন। ফলে দেশটি এখন বিশ্বে গ্রিন এনার্জি বা সবুজ জ্বালানির সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে চীনের এ অবস্থান বড় প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বে মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশই চীনের। দেশটির বার্ষিক নিঃসরণ প্রায় ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন টন। মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণও বিশ্ব গড়ের চেয়ে বেশি। তবুও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের গতি অত্যন্ত দ্রুত। গত বছর চীনে নির্মাণাধীন সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিমাণ ছিল বিশ্বের বাকি সব দেশের সম্মিলিত প্রকল্পের দ্বিগুণ। দেশটি ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জন করেছে। এ সক্ষমতা সরকারের নির্ধারিত সময়সূচির প্রায় ছয় বছর আগেই অর্জন হয়েছে। চীনের কারখানায় তৈরি সৌর প্যানেল, উইন্ড টারবাইন ও বৈদ্যুতিক গাড়ি এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বের শীর্ষ চারটি উইন্ড টারবাইন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই চীনের। বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনেও চীন এগিয়ে, যেখানে চীনা কোম্পানি বিওয়াইডি এরইমধ্যে বিদেশে কারখানা স্থাপন শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসে যে দেশ জ্বালানি খাত নিয়ন্ত্রণ করেছে, সেই দেশই অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বহু দেশ জলবায়ু নীতি ও বিনিয়োগে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশ নবায়নযোগ্য প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে জলবায়ু গবেষণা কমানো এবং তেল-গ্যাস ও কয়লায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে জলবায়ু নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি যাই হোক, চীন জলবায়ু কার্যক্রম কমাবে না এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, চীন এখনও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে বড় বিনিয়োগ করছে। বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।   এরপরও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত প্রসার এবং সবুজ প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের কারণে আগামী দশকে চীন কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের জলবায়ু রাজনীতি ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তথ্যসূত্র : গার্ডিয়ান

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গণমাধ্যমের মাথা ব্যথা কম, কারণ কী?

২০২৫ সালে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গণমাধ্যমের কাভারেজ ১৪ শতাংশ কমেছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যদিও ২০২৫ সাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে তৃতীয় উষ্ণতম বছর, তবুও সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর কম প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ অবজারভেটরির (মেকো) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে জলবায়ুজনিত একাধিক ভয়াবহ দুর্যোগ ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানলে পুরো এলাকাগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে ২৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী ঝড়ের কারণে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। বিজ্ঞানীরা এসব ঘটনার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য সম্পর্ক তুলে ধরলেও সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে কভারেজ কমে গেছে। মেকো প্রকল্পের নেতৃত্বে থাকা পরিবেশবিদ অধ্যাপক ম্যাক্স বয়কফ বলেন, গত তিন দশকে জলবায়ু পরিবর্তন বিজ্ঞান, নীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তার নেতৃত্বে এই গবেষণা দল যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে জলবায়ু বিষয়ক সংবাদ কাভারেজের ধরণ পর্যবেক্ষণ করছে। মিডিয়া অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ অবজারভেটরি একটি যৌথ প্রকল্প, যা ৫৯টি দেশের ১৪টি ভাষায় প্রকাশিত ১৩১টি সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের জলবায়ুসংক্রান্ত সংবাদ বিশ্লেষণ করে। গবেষক, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত এ ডাটাবেস বিশ্বে এ ধরনের একমাত্র উদ্যোগ বলে দাবি করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ, সংবাদকক্ষের কর্মী সংকোচন এবং সংবাদ প্রকাশের সীমিত জায়গা- এসব কারণে ২০২৫ সালে জলবায়ুসংক্রান্ত সংবাদ কমেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিক অঙ্গনে অন্যান্য ইস্যুর আধিক্যও এ প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। অনেক সাংবাদিক মনে করেন, পাঠকরা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বারবার সংবাদ পড়তে আগ্রহ পান না। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, গণমাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের খবর কমে গেলে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও বোঝাপড়া কমে যেতে পারে। কারণ বেশিরভাগ মানুষ বৈজ্ঞানিক গবেষণা পড়ার বদলে টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এসব বিষয়ে ধারণা পায়। ফলে মিডিয়া কাভারেজ কমে গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিজ্ঞানীরা নতুন ও সৃজনশীল উপায়ে মানুষের কাছে জলবায়ু বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন। ভিডিও, নাটক, নৃত্য, লেখা বা হাস্যরসের মাধ্যমে জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয় সহজভাবে তুলে ধরলে মানুষের আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগ তরুণদের টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে আশাবাদী হতে সাহায্য করতে পারে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জলবায়ু সংকট ভবন নির্মাণ থেকে বছরে মাথাপিছু ১-৩ টন কার্বন নির্গত হচ্ছে

বিশ্বজুড়ে শহরগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন নির্গমন হচ্ছে। সম্প্রতি নতুন এক গবেষণা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে। গবেষণাটি সম্প্রতি ন্যাচার সিটিস জার্নালে প্রকাশ হয়েছে। এতে বিশ্বের এক হাজারের বেশি শহরের নির্মাণ খাত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, শহরগুলোতে ভবন নির্মাণ থেকেই প্রতি বছর মাথাপিছু ১-৩ টন কার্বন নির্গত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণ খাতের নির্গমন অনেক সময় চোখে পড়ে না। কারণ একটি ভবন তৈরির জন্য কাঁচামাল আসে বিভিন্ন দেশ থেকে। খনি, কারখানা ও পরিবহন-সব মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়াতেই প্রচুর কার্বন তৈরি হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১০-২০ সালের মধ্যে শহরগুলোর নির্মাণজনিত নির্গমন প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। কিছু শহরে নির্মাণ খাত একাই এমন পরিমাণ কার্বন তৈরি করছে, যা একজন মানুষের মোট নির্গমনের সীমাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ প্যারিস অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি মানুষের নির্গমন ২.৩ টনের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, শুধু বড় শহর নয়, ছোট শহরগুলোর নির্মাণ কাজও এই সমস্যার বড় অংশ। যত বেশি নির্মাণ বিনিয়োগ, তত বেশি কার্বন নির্গমন হচ্ছে। তবে সমাধানের পথও আছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপ্রয়োজনীয় নির্মাণ কমাতে হবে, পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করতে হবে এবং শহরের পরিকল্পনা বদলাতে হবে। তারা আরও বলেন, বড় বড় একতলা বাড়ির বদলে ঘনবসতিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করলে জমি কম লাগবে এবং কার্বন নির্গমনও কম হবে। তথ্যসূত্র : ফোর্বস

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
২১০০ সালের মধ্যে গরু-ছাগলের ঘাসের জমি অর্ধেক কমতে পারে

জলবায়ু পরিবর্তন   জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের গবাদি পশু পালনের জন্য উপযোগী জমির পরিমাণ ২১০০ সালের মধ্যে অর্ধেক পর্যন্ত কমতে পারে। জার্মানির পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের (পিআইকে) নতুন গবেষণায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ জমি আচ্ছাদন করে আছে গরু, ছাগল ও ভেড়ার জন্য ব্যবহৃত ঘাসভিত্তিক খামার জায়গা। ভবিষ্যতে এসব জমি তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সংকুচিত হবে। এতে প্রায় ১০ কোটিরও বেশি পশুপালনকারী এবং প্রায় ১৬০ কোটি গবাদি পশু সরাসরি প্রভাবিত হবে। গবেষকরা বলছেন, বর্তমানে এ ধরনের খামারে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খামারের জন্য ‘নিরাপদ জলবায়ু স্থান’ কমে যাবে। গবেষণায় বিশেষভাবে আফ্রিকাকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে খামারের জমি ১৬ শতাংশ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এটি ভবিষ্যতের কার্বন নির্গমনের ওপর নির্ভর করছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে আফ্রিকার উচ্চভূমি, ইস্ট আফ্রিকান রিফ ভ্যালি এবং কঙ্গো বেসিনের মতো প্রধান ঘাসভিত্তিক অঞ্চল দক্ষিণ দিকে সরতে পারে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, পরিবেশ দূষণ কমানো ও জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার দ্রুত কমানোই একমাত্র কার্যকর উপায়। এটি গবাদিপশু পালনকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি-জামায়াতের পরিবেশ ও জলবায়ু ভাবনা

  ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। নির্বাচন ঘিরে চাকরি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে তুমুল রাজনৈতিক আলোচনা চলছে। কিন্তু আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে তেমন আলোচনা নেই। সেটি হলো পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন। দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছে।  বিএনপি তাদের ৫১ দফা ইশতেহারে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ২০৩০ সালের মধ্যে ‘থ্রি-জিরো ভিশন’—শূন্য পরিবেশ অবক্ষয়, শূন্য বর্জ্য ও শূন্য বন্যা ঝুঁকি ঘোষণা করেছে। বিএনপির পরিবেশ ও জলবায়ু পরিকল্পনা বনায়ন ও সবুজ কর্মসংস্থান ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা প্রায় সাড়ে তিন লাখ ‘গ্রিন জব’ ও নার্সারি খাতে আরও আড়াই লাখ কর্মসংস্থান তৈরি জিআইএস প্রযুক্তি দিয়ে কোথায় কোন গাছ লাগানো হবে তা নির্ধারণ গাছের অবস্থা পর্যবেক্ষণে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ চালু জ্বালানি ও কার্বন অর্থনীতি ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি কার্বন ক্রেডিট বাজার গড়ে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য দেশীয় কার্বন ট্রেডিংয়ের জন্য এমআরভি (মেজারমেন্ট, রিপোর্টিং, ভ্যারিফিকেশন) সিস্টেম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সার্কুলার ফিউচার মডেলের আওতায় বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর প্রতিটি বিভাগে ই-ওয়েস্ট রিসাইক্লিং সুবিধা ২ লাখ অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য শ্রমিককে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত ৫ বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০% কমানোর লক্ষ্য বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প জলবায়ু অভিযোজন ও কৃষি জাতিসংঘের ১৯৯৭ পানি কনভেনশনে যোগদানের পরিকল্পনা তিস্তা মেগা প্রকল্প ও পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন বন্যাপ্রবণ এলাকায় উঁচু সড়ক, আশ্রয়কেন্দ্র ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩০–৫০ শতাংশ ধানক্ষেতে পানি সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি ব্লু ইকোনমি উন্নয়নে সমুদ্র সম্পদের ব্যবহার ও ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি জামায়াতে ইসলামীর পরিবেশ ও জলবায়ু পরিকল্পনা থ্রি-জিরো ভিশন ২০৩০ শূন্য পরিবেশ অবক্ষয় শূন্য বর্জ্য শূন্য বন্যা ঝুঁকি বন ও সবুজায়ন বন উজাড় বন্ধ করা দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো নগর পরিকল্পনায় সবুজায়ন নিশ্চিতকরণ জ্বালানি বড় সৌরবিদ্যুৎ পার্ক স্থাপন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও নেট মিটারিং সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক মান মেনে পারমাণবিক শক্তি উন্নয়ন জলবায়ু ঝুঁকির কারণে ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায়ে আন্তর্জাতিক লবিং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লাস্টিক বোতলের ডিপোজিট-রিটার্ন ব্যবস্থা শহরে কম্পোস্টিং জোন পলিথিনের বদলে পরিবেশবান্ধব বিকল্প শিল্পকারখানায় বাধ্যতামূলক বর্জ্য শোধনাগার বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও কর্ণফুলী নদী পরিষ্কার বন্যা ও কৃষি ডাচ ডেল্টা মডেল অনুসারে বন্যা ব্যবস্থাপনা ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ডিজিটাল করা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ কৃষিজমি ও মাটির উর্বরতা রক্ষা পরিবেশ ও জলবায়ু এখন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। নির্বাচনের পর এসব অঙ্গীকার বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
শব্দদূষণকারী মানুষের যন্ত্রণায় পাখিদেরও শান্তি নেই

  মানুষের তৈরি শব্দদূষণ বিশ্বজুড়ে পাখিদের আচরণ ও প্রজননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রায় চার দশকের গবেষণা পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, গাড়ি, বিমান, নির্মাণকাজ ও শহরের নানা কোলাহল পাখিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। গবেষণাটি প্রিসেডিংস অব দ্য রয়েল সোসাইটি বি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ১৯৯০ সালের পর থেকে ১৬০ প্রজাতির পাখি নিয়ে করা গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, শব্দদূষণ পাখিদের যোগাযোগ, খাবার খোঁজা, শিকারি থেকে বাঁচা ও বাসা তৈরির আচরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে প্রজননের সাফল্য কমে যাচ্ছে। পাখিরা বেঁচে থাকার জন্য শব্দের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তারা সঙ্গী খুঁজতে গান গায়, বিপদের সংকেত দিতে ডাক দেয় এবং ছানারা ক্ষুধার কথা জানান দিতে ডাক দেয়। কিন্তু আশপাশে বিকট শব্দ থাকলে তারা নিজেদেরই সংকেত ঠিকভাবে শুনতে পারে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মিলন আচরণ ব্যাহত হয়, পুরুষ পাখিরা গান বদলে ফেলে এবং মা-বাবা ও ছানার মধ্যে যোগাযোগে সমস্যা দেখা দেয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাটির কাছাকাছি বাসা বানানো পাখিরা প্রজননে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর শহরের পাখিদের শরীরে মানসিক চাপের হরমোন বেশি পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোর তুলনায় শব্দদূষণের ক্ষতি এখনো ততটা গুরুত্ব পায়নি। শব্দদূষণ কমানোর কিছু উপায়ের কথাও বলা হয়েছে। যেমন—নতুন ধরনের নির্মাণ উপকরণ ও নকশা ব্যবহার করে শব্দ কমানো সম্ভব। গবেষকদের মতে, সচেতনতা ও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া এখন খুব প্রয়োজন।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
স্পঞ্জ সিটির আদলে বদলে যাচ্ছে দুবাই-সাংহাই

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শহরগুলোকে নিরাপদ রাখতে কার্যকর সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা। এই পদ্ধতিতে শহরকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয়, যাতে বৃষ্টির পানি স্পঞ্জের মতো শুষে নিয়ে ধীরে ধীরে নদী, খাল ও জলাধারে ছেড়ে দেওয়া যায়। এতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়।   কী এই স্পঞ্জ সিটি ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণার প্রবর্তক চীনের ল্যান্ডস্কেপ স্থপতি কংজিয়ান ইউ। গ্রামীণ চীনে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, প্রাকৃতিক জলধারা ও গাছপালা কীভাবে বৃষ্টির পানি নিয়ন্ত্রণ করে। শহরে অতিরিক্ত কংক্রিট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রকৃতির সেই স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এর বিকল্প হিসেবেই তিনি স্পঞ্জ সিটির ধারণা দেন। এটি ২০১৪ সালে চীনের নগর উন্নয়ন নীতির অংশ হয়। স্পঞ্জ সিটি কীভাবে কাজ করে স্পঞ্জ সিটিতে শুধু পাইপ আর ড্রেনের ওপর নির্ভর করা হয় না। বরং পার্ক, খোলা মাঠ ও জলাশয় বাড়ানো হয়। পানি বের হতে পারে এমন রাস্তা ও চত্বর তৈরি করা হয়। ছাদবাগান, রেইন গার্ডেন ও জলধারণকারী পার্ক গড়ে তোলা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভূগর্ভস্থ টানেল ও জলাধার নির্মাণ করা হয়। এর ফলে অতিবৃষ্টির সময় পানি জমে না থেকে ধীরে ধীরে মাটিতে শোষিত হয়। কোন শহর এগিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান আরাপের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সবচেয়ে ‘স্পঞ্জি’ শহর হলো নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড। শহরের বড় অংশজুড়ে সবুজ এলাকা ও জলাশয় থাকায় বৃষ্টির পানি সহজেই শোষিত হয়। অন্যদিকে, ডেনমার্কের কোপেনহেগেনকে ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার পর পরিকল্পিতভাবে স্পঞ্জ সিটিতে রূপান্তর করা হয়েছে। পার্কে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা, পানি বের হতে পারে এমন চত্বর এবং বড় ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণ করে শহরটি এখন বন্যা ঝুঁকিতে তুলনামূলক নিরাপদ। কেন এটি জরুরি জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৪০ শতাংশের বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা-সংক্রান্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছ, ঘাস ও জলাশয়ভিত্তিক সমাধান কংক্রিটভিত্তিক অবকাঠামোর তুলনায় খরচ কম, কার্যকারিতাও বেশি। ভবিষ্যতের শহর কেমন হবে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪৪০ কোটি মানুষ শহরে বসবাস করছে। তাই ভবিষ্যতের শহর পরিকল্পনায় পানি ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। চীনের সাংহাই থেকে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফসহ বিভিন্ন শহর ইতিমধ্যে স্পঞ্জ সিটির ধারণা অনুযায়ী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে এবং শহরকে বাসযোগ্য করতে স্পঞ্জ সিটির বিকল্প নেই। স্পঞ্জ সিটির আদলে যাচ্ছে দুবাই এদিকে ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা নিয়ে এগোচ্ছে দুবাই। এ লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিট ২০২৬-এর ফাঁকে চীনের শেনঝেন শহরের আরবান প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি। চুক্তি অনুযায়ী, দুপক্ষই স্মার্ট সিটি, স্বল্প-কার্বন নগর উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডেটাভিত্তিক নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি পরিবহন-কেন্দ্রিক উন্নয়ন, কম্প্যাক্ট নগর নকশা ও স্মার্ট পানি ব্যবস্থাপনাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি জানায়, স্পঞ্জ সিটি মডেলে সবুজ ছাদ, পানি পার হতে পারে এমন রাস্তা, ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। শেনঝেন এই মডেলের সফল উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। শেনঝেন আরবান প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ইউ লু বলেন, শেনঝেন ও দুবাই দুটোই দ্রুত উন্নয়নশীল ও উদ্ভাবনমুখী শহর। এই সহযোগিতা দুই শহরের জন্যই দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে। তথ্যসূত্র : ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, গালফ নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
শীত নিয়ে দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

সারা দেশে কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও আগামী কয়েক দিনে আবারও তাপমাত্রা কমে শীত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা কখনো কমতে পারে, কখনো অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং কখনো সামান্য বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে শীতের তীব্রতা সাময়িকভাবে ওঠানামা করতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময় সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাপমাত্রা সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শুক্র ও শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। পরদিন মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এদিকে আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬
কুয়াশাচ্ছন্ন ঢাকার আকাশ। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার শীত নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে, ফলে আগের তুলনায় দিনে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া শুষ্কই থাকবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দিনের প্রথমার্ধে আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে, যা তাপমাত্রা সামান্য কমাতে ভূমিকা রাখবে। এদিন ভোর ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৮ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। এদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে নেমে আসা হাড়কাঁপানো হাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। রাত গভীর হলেই জেলার সড়ক ও মহাসড়কগুলো ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা এতটাই ঘন থাকে যে, কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না। এতে মহাসড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ, যাদের জীবিকার তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোরেই কাজে বের হতে হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আপাতত কমছে না শীতের প্রকোপ

দেশজুড়ে তীব্র শীতের প্রভাব অব্যাহত আছে। ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস এবং শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের উত্তরের জেলা ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বইছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবারও দিন-রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে এবং রোববার সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। রাতভর শীতের দাপট সকালে কিছুটা স্বস্তি পায় সূর্যের আলো দেখা দেওয়ায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২–৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা হলে তা অতিরিক্ত তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, ৬–৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি এবং ৮–১০ ডিগ্রি হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কুড়িগ্রামে কয়েকদিন ধরে তীব্র শীতের কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে মানুষ কাঁপছে। শুক্রবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা স্থানীয় হাসপাতালে চলছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৯টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। সৈয়দপুরে (নীলফামারী) শুক্রবার সকাল ৮টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত। কৃষকরা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও শীতের কারণে স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত তিন দিন ধরে এই এলাকায় তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি এবং শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। মোটের উপর, দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ গভীর। ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস এবং শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। শিশু, বৃদ্ধ ও দরিদ্র মানুষদের মধ্যে শীতজনিত রোগের প্রভাব বেড়ে গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
কনকনে শীতে কাঁপছে তেঁতুলিয়া, চরম দুর্ভোগে জনজীবন

হিমালয় সংলগ্ন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় টানা দুই দিন ধরে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা হিমশীতল কনকনে বাতাস ও ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। এর ফলে দিনের তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সর্বনিম্ন ১২ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকতে দেখা গেছে তেঁতুলিয়াকে। শীতপ্রবণ জেলা হিসেবে পরিচিত পঞ্চগড়ে কুয়াশার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। প্রতিদিন বিকেলের পর থেকে কুয়াশা নামতে শুরু করে, যা রাতভর বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে। পরদিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে পুরো এলাকা। দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। উপজেলা সদরের মমিনপাড়া এলাকার কৃষক আসাদুল হক জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই বাতাস ও কুয়াশার তীব্রতা বাড়ে। সকালে ক্ষেতে কাজ করতে বেশ অসুবিধা হয়। তবে বেলা ১১টার পর রোদ উঠলে শীত কিছুটা কমে আসে। তার আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনে শীত আরও বাড়তে পারে। এদিকে, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের সংখ্যাও বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত সপ্তাহের তুলনায় রোগীর চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, হাঁপানি এবং সর্দি-কাশির রোগী বেশি আসছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। ধীরে ধীরে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও কমছে। তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ২২, ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
হিম বাতাসে কাঁপছে দেশ, শীত নিয়ে নতুন বার্তা

হিমালয় অঞ্চল থেকে বয়ে আসা হিম বাতাসে দেশে জেঁকে বসেছে শীত। কয়েক দিন ধরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে তাপমাত্রা। ভোরে হালকা কুয়াশা থাকলেও ঘন কুয়াশার দেখা মেলেনি। এরপর সকাল গড়াতেই আকাশে ঝলমলে রোদ দেখা যায়, তবে শীতের দাপট তাতে কমেনি। এ অবস্থায় সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।   বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই কার ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়—অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়—অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়—অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়—অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়—অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, আগামী ৫ দিনে শেষের দিকে তাপমাত্রা কমতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

হিমালয় অঞ্চল থেকে বয়ে আসা হিম বাতাসের প্রভাবে সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। কয়েক দিন ধরেই তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ওঠানামা করছে। ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা থাকলেও এখনো ঘন কুয়াশার তেমন দেখা মেলেনি। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আকাশে ঝলমলে রোদ উঠলেও শীতের দাপট কমছে না।   এ অবস্থায় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানার সই করা ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও একই ধরনের আবহাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এ দিনও ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে এবং রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। এ দিন রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে দেশের আবহাওয়ায় তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
দেশের তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে নামল

মৌসুমের সবচেয়ে কম তাপমাত্রায় কাঁপছে উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। হিমালয়ের নিকটবর্তী এই সীমান্ত জেলা গত কয়েক দিন ধরে যেন বরফচ্ছন্ন আবহের মুখোমুখি। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে নেমে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। ঠান্ডা বাতাসে শীতের দাপটও বেড়ে চলেছে, ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৮ শতাংশ। এর আগে সকাল ৬টায় রেকর্ড হয় ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি। হিমালয়ঘেঁষা অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে বইছে তীব্র হিমেল বাতাস। ভোরের রোদ ঝলমলে হলেও নেই তাপের উষ্ণতা। দিন-রাতের ঠান্ডায় গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। শীতের হঠাৎ বাড়তি দাপটে সবচেয়ে বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনের বেলায় রোদ উঠলেও শীতের কামড় যেন কমছেই না। শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। বহির্বিভাগে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা অসুস্থতায় ভোগা মানুষজন—যাদের বড় অংশই শিশু ও বৃদ্ধ। অবস্থা গুরুতর হলে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। সদরের এক ভ্যানচালক বলেন, এ কনকনে ঠান্ডায় সকালে ভ্যান নিয়ে বের হওয়া যায় না। খেটে খাওয়া মানুষের এভাবে খুব কষ্টে দিন কাটছে। পাথর শ্রমিক মিজানুর রহমান জানান, সকালে ঠান্ডা পানিতে পাথর তুলতে খুব কষ্ট হয়। পরিবারের কথা ভেবেই এই ঠান্ডায় মহানন্দা নদীতে নামতে হয়। কী আর করার আছে? তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৭৮ শতাংশ। সকাল ৬টায় নেমেছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রিতে। জেলায় এখন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সামনের দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও তিনি জানান। উত্তরবঙ্গজুড়ে শীতের তীব্রতায় মানুষ এখন সত্যিকারের শীতের দাপট টের পাচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
টানা সাত দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় টানা সাত দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে। সপ্তাহজুড়ে উত্তরের এ সীমান্তজেলায় তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ওঠানামা করছে।   সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এর আগের দিন রবিবার রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার ছিল ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি, শুক্রবার ১৩ দশমিক ২, বৃহস্পতিবার ১৩ দশমিক ০ এবং বুধবার ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস—প্রতিদিনই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়। টানা ঠান্ডা আবহাওয়া ও উত্তর হিমালয় অঞ্চল থেকে নেমে আসা হিমেল বাতাসে এলাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। যদিও সকালে ঝলমলে রোদ দেখা মিলছে, তবে এতে শীতের দাপট কমেনি। দিনের তুলনায় বিকেল ও রাতের দিকে শীত আরও জেঁকে বসছে। শীতের তীব্রতা বাড়ায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বহির্বিভাগে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীরাই বেশি ভিড় করছেন; যারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তাদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, টানা সাত দিন ধরে এখানেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে। সোমবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা নেমে আসে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, এ সময় আর্দ্রতা ছিল ৮৩ শতাংশ। হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় পঞ্চগড়ে স্বাভাবিকভাবেই তাপমাত্রা কম থাকে। সামনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও জানান তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
পঞ্চগড়ে কনকনে শীত, তেঁতুলিয়া তাপমাত্রা নামল ১২ ডিগ্রিতে

এক সপ্তাহ পর আবারও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। হিমালয় থেকে নেমে আসা শীতল বাতাস ও সকালের হালকা কুয়াশায় জেলাজুড়ে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল।   রবিবার সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ। এর আগের দিন সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত বাড়ায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশা ঘন হয়ে আসছে। বিশেষ করে রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত পঞ্চগড়ের সড়ক ও মহাসড়ক ঢেকে যাচ্ছে ঘন কুয়াশায়, হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। তীব্র শীতে খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট বেড়েছে; অনেকে সকালে কাজে বের হতে পারছেন না। গ্রামীণ এলাকায় মানুষজন আগুন ও গরম কাপড়ের সাহায্যে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। এদিকে শীতজনিত রোগেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি ও অন্যান্য ঠান্ডাজনিত অসুস্থতা বেশি দেখা দিচ্ছে, ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে।   তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলে শীত দ্রুত বাড়ে। আজ তাপমাত্রা আবারও ১২ ডিগ্রি ঘরে নেমে যাওয়ায় কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও তিনি জানান।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৩, ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
শীত বাড়ার আভাস, নতুন তথ্য দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

সারা দেশে তাপমাত্রা কমার প্রবণতা দেখা দিতে পারে আগামীকাল শুক্রবার থেকে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমবে এবং এ প্রবণতা শনিবারও অব্যাহত থাকতে পারে। চলতি মাসের শেষ দিকে দেশে শীতের অনুভূতি আরও কিছুটা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, আগামী দুই দিন তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। এরপর কিছুদিন তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মাসের শেষ দিকে আবার স্বাভাবিকভাবে তাপমাত্রা কমার ফলে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। এদিকে দক্ষিণ–পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় আগামীকালের মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এটি ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশের ওপর এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। শুক্রবার ভোরের দিকে দেশের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।   বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামের আমবাগানে ৩৩.৫ ডিগ্রি। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.৯ এবং সর্বনিম্ন ১৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২১, ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
কৃষিজমি বাণিজ্যিক আবাসন বা অকৃষিকাজে ব্যবহার করলে মিলবে শাস্তি

অপরিকল্পিত নগরায়ন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের কৃষিজমি দ্রুত কমছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষিজমি সংরক্ষণ, ভূমির জোনভিত্তিক পরিকল্পনা এবং পাহাড়-টিলা, বন ও জলাশয়ের ভূমি রক্ষার উদ্দেশ্যে সরকার প্রণয়ন করেছে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’।   অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অনুমোদন ব্যতীত কৃষিভূমি অকৃষিকাজে ব্যবহার বা কৃষিজমিতে বাণিজ্যিক আবাসন, রিসোর্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কারখানা নির্মাণ করা হবে অপরাধ। শাস্তি হিসেবে নির্ধারিত সর্বোচ্চ বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় খসড়া চূড়ান্ত করেছে এবং উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর গেজেট জারির মাধ্যমে এটি কার্যকর হবে। অধ্যাদেশ রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি তিনটি পার্বত্য জেলা ব্যতীত সমগ্র দেশে প্রযোজ্য হবে।  জোনভিত্তিক ভূমি ব্যবহার ও শ্রেণিবিন্যাস  অধ্যাদেশের ধারায় সরকার কৃষিজমি সুরক্ষা ও পরিকল্পিত ব্যবহারের জন্য ‘ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ’ প্রণয়ন করবে। এতে ভূমি ১৮টি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে কৃষি অঞ্চল, বিশেষ কৃষি অঞ্চল, কৃষি-মৎস্য চাষ অঞ্চল, বন, পাহাড়-টিলা, জলাশয়, শহরে আবাসিক এলাকা, শিল্প এলাকা ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চল। কৃষিভূমি হিসেবে গণ্য হবে নাল, বিলান, ধানি, বোরো, বালুচর, চর ভূমি, বীজতলা, বাগান, পান বরজ, হর্টিকালচার, মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন আবাদি জমি। সরকার নির্ধারিত শ্রেণি অনুযায়ী কৃষিজমি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং অনুমোদন ব্যতীত কৃষিভূমি অকৃষিকাজে ব্যবহার, জলাধার বা পাহাড়-টিলা কর্তন ও বনভূমির ক্ষতিসাধন হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।  জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব  জেলা প্রশাসকরা এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে ভূমি সুরক্ষা, কৃষিভূমি ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকার তালিকা প্রস্তুত ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন। এছাড়া, ইটভাটার মাটি চিহ্নিতকরণ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং কৃষিভূমিতে অনুমোদন ছাড়া অবকাঠামো নির্মাণ রোধ করা তাদের দায়িত্ব।  অপরাধ ও শাস্তি  কোনো ব্যক্তি অনুমোদন ছাড়া কৃষিভূমি অকৃষিকাজে ব্যবহার, বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ বা ভূমি পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড, এছাড়াও ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।   ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেছেন, দেশে কৃষিজমি দ্রুত কমছে। বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক দেশ। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিজমি, বন, জলাশয় ও পাহাড়-টিলাসহ প্রাকৃতিক ভূমি রক্ষাই এই অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য। উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদনের পর এটি দ্রুত কার্যকর করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ১৯, ২০২৫
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

বাংলাদেশে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও পরিবেশ সুরক্ষায় নাগরিক সমাজকে শক্তিশালী করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে নতুন উদ্যোগের উদ্বোধন

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২০, ২০২৬