আন্তর্জাতিক

৯ মিশন থেকে সেনা–পুলিশ কমাচ্ছে জাতিসংঘ

Unknown অক্টোবর ০৯, ২০২৫

 

গুরুতর আর্থিক সংকটের কারণে জাতিসংঘ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্বের ৯টি শান্তিরক্ষা মিশন থেকে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি সংস্থার পরিচালনায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা বাজেট ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলোর বকেয়া চাঁদা আদায়ের ধীরগতি সংস্থাটিকে অর্থনৈতিকভাবে সংকুচিত করেছে। এর ফলে শান্তিরক্ষা মিশনের ব্যয় হ্রাস ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ সৈন্য ও পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার করা হতে পারে, যা আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলের মিশনের কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

 

 

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কর্মী হ্রাসের ফলে শান্তি প্রক্রিয়ার তদারকি, সংঘর্ষ প্রতিরোধ, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সীমিত হবে। অনেক মিশনে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব কমে গেলে স্থানীয় জনগণের উপর সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

 

 

জাতিসংঘ জানিয়েছে, কমানো হবে মূলত বাহিনী ও প্রশাসনিক কাজের সংখ্যা, তবে যতটা সম্ভব মানবিক সহায়তা ও জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হবে। সংস্থার কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বাজেট সংকোচনের সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও ফলপ্রসূ করার একটি প্রয়াস।

 

 

জাতিসংঘের মুখপাত্র জানান, বাজেট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মিশনে কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। সংস্থার লক্ষ্য হলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা, যাতে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা মিশনের কার্যক্রম অটুট থাকে।

 

এই সংকট একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে অর্থায়ন এবং সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বিশ্ব শান্তি বজায় রাখা যায়।



সূত্র: বয়টার্স 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা তুরস্কে, নিহত ৪

তুরস্কের অন্যতম বড় শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুর্যোগকে ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া বন্যায় চারজনের প্রাণহানির তথ্যও দিয়েছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলে গত ৪৮ ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু। অতিবৃষ্টির পরই সৃষ্টি হয় ভয়াবহ এই দুর্যোগের।   তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা সিফসি বন্যা নিয়ে বলেছেন, আমরা জনগণকে সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে একইসঙ্গে আমরা ১৯৪২ সালের পর সবচেয়ে বড় বন্যার মোকাবিলা করছি।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ইস্তাম্বুলের সারিয়ার জেলার একটি ব্রিজের নিচে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিসহ চারজনের মৃত্যর খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে একজ বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছেন। সারিয়াতে আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   ইস্তাম্বুল জনসংখ্যার দিক দিয়ে তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর, যেখানে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বসবাস করে। বন্যার পানিতে শহরটির আবাসিক ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৫ দিনেই চাকরি হারালেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কেটি জাকারিয়া

ছবি: সংগৃহীত

এবার বিক্ষোভে নামছে থালাপতি বিজয়ের দল

ছবি: সংগৃহীত

বিজেপি কেন ‘সরকার বদলের পাঁয়তারা’ দেখছে, কেন আলোচনায় বাংলাদেশ?

ছবি: সংগৃহীত
ককরোচ জনতা পার্টির পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা, মোতায়েন হাজারো পুলিশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ঘোষিত পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। কর্মসূচিতে অংশ নিতে কেউ যেন সেন্ট্রাল পার্কে জড়ো হতে না পারেন, সে জন্য কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল অরাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি। তবে কর্মসূচির আগেই পার্কটিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ করে দেয় দিল্লি পুলিশ।   দুই দিনের জন্য সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে শুক্রবার ও শনিবার সেন্ট্রাল পার্ক জনসাধারণের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি পুলিশ। এই দুই দিন পার্কে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সম্ভাব্য জনসমাগম ঠেকাতে আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।   দুই সহপ্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কর্মসূচি এর আগে গত ১২ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস জাতীয় পতাকা নিয়ে দিল্লির যন্তরমন্তরে যান। সে সময় তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষণার পরপরই কর্মসূচি ঠেকাতে নিরাপত্তা তৎপরতা বাড়ায় দিল্লি প্রশাসন।   অভিজিতের বাড়িতে পুলিশের সতর্কবার্তা প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচি ঘোষণার পর দিল্লিতে অভিজিৎ দীপকের বাসায় যান পুলিশ সদস্যরা। তাঁকে জানানো হয়, অনুমতি ছাড়া দিল্লিতে কোনো ধরনের জনসমাগম আয়োজন করা যাবে না। এ সময় অভিজিৎ জানতে চান, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা অপরাধ কি না। জবাবে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জাতীয় পতাকা উত্তোলন বেআইনি নয়। তবে জনসমাগম বা আন্দোলনের আয়োজন করতে হলে প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন। অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন আইনসম্মত নয় বলে তাঁকে জানানো হয়।   যন্তরমন্তরের আগের কর্মসূচিও বাধার মুখে এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তরমন্তরে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন একদল তরুণ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ট্রেন, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন পরিবহনব্যবস্থায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পাশাপাশি দিল্লিতে অঘোষিত লকডাউনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে অংশগ্রহণকারীদের যন্তরমন্তরে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নতুন কর্মসূচি ঘিরেও দিল্লিতে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি এবং সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে রাজনৈতিক ও নাগরিক কর্মসূচি আয়োজনের সুযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   সূত্র: আলজাজিরা ও এনডিটিভি

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৬, ২০২৬
বারাক ওবামা। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে ইসরাইল : বারাক ওবামা

ফাইল ছবি

ইরানে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার ও স্থলসেনা পাঠানো নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য থাইল্যান্ডের বড় ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
সাগরের তলদেশে মিলল ৪৭০০ বছরের প্রাচীন জাহাজের নিদর্শন

ভূমধ্যসাগরের নোনা পানির নিচে সাড়ে চার হাজার বছর ধরে এক অদ্ভুত ইতিহাস লুকিয়ে ছিল। অবশেষে সেই প্রাচীন গল্প আলোর মুখ দেখেছে। তুরস্কের কেকোভা দ্বীপের কাছে সাগরের তলদেশে খোঁজ মিলেছে বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো বাণিজ্যিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষের। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, তরীটি প্রায় ৪,৪০০ থেকে ৪,৭০০ বছর আগের—ঠিক যে সময়ে মিশরে তৈরি হচ্ছিল বিশালাকার পিরামিড।   সাগরের মাত্র ৩০ মিটার গভীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল এই প্রাচীন জাহাজের নানা স্মৃতিচিহ্ন। হাজার বছরের পানির ঝাপটায় জাহাজের কাঠের শরীরটা সম্পূর্ণ মুছে গেছে। কিন্তু সাগরের নীল জলের নিচে অলৌকিকভাবে টিকে আছে মাটির তৈরি অসংখ্য পাত্র, যেগুলোকে বলা হয় অ্যামফোরা।   তুরস্কের আকদেনিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাকান ওনিজের নেতৃত্বে ডুবুরিরা সাগরের তলদেশ থেকে তিনটি বড় পাথরের নোঙ্গর এবং ৩০টিরও বেশি মাটির পাত্র উদ্ধার করেছেন। লম্বা ও বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বাড়তি নোঙ্গর সাথে রাখার নিয়ম যে সেকালেও ছিল, এই পাথরগুলো তার বড় প্রমাণ।   জাহাজের কাঠ না থাকায় সাধারণ পদ্ধতিতে এর বয়স মাপা সম্ভব হয়নি। গবেষকরা তখন মাটির পাত্রগুলোর অদ্ভুত গড়ন ও নকশা পরীক্ষা করেন। পাত্রগুলোর দুই পাশে দুটি হাতল, মাঝে উঁচু খাঁজ এবং তলাটি চ্যাপ্টা। মিশর ও মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ধার হওয়া ৪,৭০০ বছর আগের মাটির পাত্রের সাথে এর হুবহু মিল রয়েছে। তা থেকেই গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে জাহাজটি ব্রোঞ্জ যুগের এক অমূল্য রত্ন।   অস্ট্রেলিয়ার গবেষক ড. কারিন সোওয়াদা উদ্ধার হওয়া পাত্রগুলো পরীক্ষা করতে গিয়ে চমকে যান। এত হাজার বছর পানিতে ডুবে থাকার পরও কিছু পাত্রের ভেতরে আঠালো ও চকচকে একধরনের পদার্থের অবশিষ্টাংশ রয়ে গেছে।   ড. সোওয়াদা বলেন, পাত্রের ভেতরে তাকিয়ে তিনি নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। হাজার বছর পরও ভেতরের রস যে এভাবে জমে থাকবে, তা ছিল ভাবনার বাইরে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এসব পাত্রে জলপাইয়ের তেল, আঙুরের তৈরি মদ বা গাছের সুগন্ধি আঠা পরিবহন করা হতো। এই বিশাল পাত্রগুলো খালি হওয়ার পর ফেলে দেওয়া হতো না, বরং বহু বছর ধরে বারবার ব্যবহার করা হতো।   দশ মিটার লম্বা এই ছোট্ট তরীটি ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল থেকে রওনা দিয়েছিল। হয়তো এটি যাচ্ছিল প্রাচীন ট্রয় নগরীতে, কিংবা ক্রিট দ্বীপের অধিবাসীদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে। কিন্তু কেকোভা দ্বীপের চারপাশের প্রখর বাতাস আর তীব্র স্রোত বরাবরই নাবিকদের জন্য ছিল মারাত্মক এক ফাঁদ। সেই ঝোড়ো হাওয়ায় পরেই হয়তো তরীটি সাগরের তলদেশে তলিয়ে যায়।   ডুবুরিরা মাত্র ৩০ মিনিট করে পানির নিচে থাকার সুযোগ পেতেন। এত পুরোনো ইতিহাস ছুঁয়ে দেখার সময় প্রধান গবেষক অধ্যাপক ওনিজ বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলছিলেন, পাঁচ হাজার বছর পর তারা প্রথম মানুষ হিসেবে এই জিনিসগুলো স্পর্শ করছেন। কাজের ফাঁকে তাঁর বারবার মনে হচ্ছিল সেই সাধারণ নাবিকদের কথা, মাটির পাত্র বানিয়ে যারা জাহাজে তুলে দিয়েছিলেন, আর সেই নারীদের কথা, যারা তীরে বসে স্বামীদের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনতেন, অথচ তাদের প্রিয়জনেরা আর কোনোদিন ঘরে ফেরেনি।   এর আগে গ্রিসের উপকূলে পাওয়া ৪,২০০ বছর আগের একটি জাহাজকে সবচেয়ে পুরোনো মনে করা হতো। কিন্তু কেকোভা দ্বীপের এই আবিষ্কার এখন সেই রেকর্ড ভেঙে তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে।   তুরস্কের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাগরের নিচ থেকে সাবধানে তুলে আনা এসব ঐতিহাসিক নিদর্শনের যত্ন নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই এগুলোকে স্থানীয় নতুন একটি জাদুঘরে সাধারণ মানুষের দেখার জন্য সাজিয়ে রাখা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাপানে ফের গোপন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের ৪ দেশের কোম্পানির সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে সৌদি প্রতিরক্ষা মুখপাত্রের বিস্ফোরক মন্তব্য

0 Comments