দীর্ঘদিনের দাবির পর এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে সরকার। তবে বাড়িভাড়া ভাতার সর্বনিম্ন পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা।
রোববার (১৯ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, এই বাড়তি ভাতা চলতি অক্টোবর মাস থেকেই কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সারা দেশের প্রায় ৫ লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী বাড়তি সুবিধা পাবেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, পূর্বে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর মাসিক বাড়িভাড়া ভাতা ছিল এক হাজার টাকার নিচে। এখন তা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা করা হয়েছে, যাতে ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত হয়।
এ সিদ্ধান্তে শিক্ষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন বারবার স্মারকলিপি ও মানববন্ধনের মাধ্যমে বিষয়টি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও এটি পর্যাপ্ত নয়। তারা দ্রুত বেতন স্কেল পুনর্নির্ধারণ ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয়েরও দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষাখাতে পর্যায়ক্রমে আরও ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জাতীয় সংসদে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মোট ৩১টি বিল পাস হয়েছে। এসব বিলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশসমূহ অনুমোদন, বাতিল ও সংশোধন করা হয়েছে। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ২৭টি বিলে অধ্যাদেশের বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আগের অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধন করে বাকি ৪টি বিল পাস করা হয়েছে। অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য পাস হওয়া চারটি বিলের মধ্যে রয়েছে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (বাতিল ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনর্বহাল করা হয়েছে। এছাড়া ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে বিদ্যমান আইন বাতিল ও সংশোধনের লক্ষ্যে। বাতিল করা অন্য অধ্যাদেশ দুটি হলো- ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা সংসদে বিলগুলো উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন। স্পিকার সেগুলো ভোটে তোলেন। পরে সংসদ সদস্যরা কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি ৯৮টি বিলকে মূল আকারে এবং ১৫টি বিলকে সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করে। এর আগে গত ২ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি সংসদে তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।
জাতীয় সংসদ আজ ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ পাস করেছে। এর মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের জন্য গঠিত একটি নির্দিষ্ট সংস্থা প্রতিষ্ঠাকারী ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিল করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বিলটি উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটিতে অধ্যাদেশের অধীনে ইতোমধ্যে গৃহীত কার্যক্রমগুলোকে আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগের কার্যক্রম দ্রুততর করা এবং উচ্চ আদালতে বিচারকের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে জারি করেছিল। ওই অধ্যাদেশের আওতায় সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন বিলের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পূর্বের অধ্যাদেশের মাধ্যমে ‘জুডিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করে শূন্যপদ পূরণে সহায়তা করা হলেও, এখন একটি স্থায়ী আইনি কাঠামো প্রয়োজন। বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিধানগুলো আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার জন্য সাংবিধানিক সংস্কার কমিটির মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ তৈরিতেই এ অধ্যাদেশ বাতিল করা হচ্ছে। আইনগত জটিলতা এড়ানো এবং বিচারিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিলে ‘সেভিংস অ্যান্ড কাস্টডি’ ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের অধীনে করা সকল নিয়োগ, গৃহীত পদক্ষেপ এবং চলমান কার্যক্রম বৈধ ও কার্যকর হিসেবে গণ্য করা হবে। বিলটির বিরোধিতা করে এনসিপি’র সংসদ সদস্য আখতার হোসেন (রংপুর-৪) এটিকে বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে একটি ‘সুন্দর আইন’ উল্লেখ করে বলেন, এটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছিল এবং আগের ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত। জবাবে আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে তিনি নীতিগতভাবে একমত হলেও, সরকার সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পূর্বে অধ্যাদেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আইনজীবী হিসেবে তিনি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘তখন আমি সরকারের পক্ষে কথা বলেছি। এখন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারের নীতি হচ্ছে বিচারক নিয়োগে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’ তিনি বিচারক নিয়োগের মানদণ্ড নির্ধারণে সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটিতে যোগ দিতে বিরোধী দলকে আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বিচার বিভাগ স্বাধীন ও স্বকীয়তায় পরিপূর্ণ হোক। বাংলাদেশে আর কোনো ‘রাজনৈতিক’ বিচারক তৈরি হোক, তা আমরা চাই না। বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যবস্থার কোথায় সমস্যা আছে, তা খুঁজে বের করতে হবে।’ পরে কণ্ঠভোটে আখতার হোসেনের আপত্তি নাকচ করা হয় এবং বিলটি পাস হয়। এই বিল পাসের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, এক সাবেক বিচারক সম্পর্কে বিরোধী সদস্যের ব্যবহৃত কিছু অবমাননাকর শব্দ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরেই ভারত থেকে রেলের ২০০ ব্রডগেজ কোচ আসার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে এই কোচগুলো আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা ও রুহুল আমিনের পৃথক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান রেলমন্ত্রী। শেখ রবিউল আলম জানান, প্রকল্পের আওতায় জুন ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ২০০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা যায়। ক্যারেজগুলো পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে রুট নির্ধারণে উদ্যোগ নেবে। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৩ হাজার ৪২৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এর মধ্যে মিটারগেজ এক হাজার ৫৯১ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার, ব্রডগেজের পরিমাণ এক হাজার ৬৬ দশমিক ৬০ কিলোমিটার এবং ডুয়েল গেজের পরিমাণ ৭৭০ দশমিক ৬ কিলোমিটার। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে বাস্তবতার নিরিখে ব্রডগেজ এবং ডুয়েল গেজ নতুন রেললাইন স্থাপনের মাধ্যমে রেলওয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলমান আছে। বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নে শেখ রবিউল আলম জানান, বর্তমানে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর সঙ্গে ১৫টি আন্তনগর ট্রেন চালু আছে। ভারত থেকে কোচগুলো আসা শুরু হলে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় আন্তনগর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে।