জুলাই জাতীয় সনদের দ্বিতীয় অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে, জনগণ যেহেতু রাষ্ট্রের মালিক, তাদের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে এই সনদ গ্রহণ করেছে। তাই সনদটি সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা উপযুক্তভাবে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অঙ্গীকারনামার তৃতীয় দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদের বৈধতা বা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। বরং এর প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
চতুর্থ অঙ্গীকারে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের জন্য জনগণের ১৬ বছরের সংগ্রাম—বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
পঞ্চম দফায় বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে নিহতদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও শহীদ পরিবারগুলোকে যথোপযুক্ত সহায়তা, আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
এ দফাটি জুলাই যোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে সংশোধিত হয়েছে, যাতে যুক্ত হয়েছে—“শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই বীর যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন, আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
ষষ্ঠ দফায় সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ কাঠামো ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও প্রবিধি সংশোধন বা নতুনভাবে প্রণয়ন করা হবে।
শেষ দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত যেসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেগুলো দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করবে—কোনো প্রকার বিলম্ব ছাড়াই।
জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর ভিত্তি হলো ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। সেই সময়ে হাজার হাজার নাগরিক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দুঃশাসন, রাষ্ট্রীয় দমন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থা ও সামাজিক বৈষম্যের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন। আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষ নিহত এবং ২০ হাজারেরও বেশি আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মৃত প্রবাসী কর্মীর পরিবারের আর্থিক অনুদান মঞ্জুরির বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের দুই কর্মচারীকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) বোর্ডের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ঋণ দেওয়ার কথা বলে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের একজন পিয়নকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়ারা হলেন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিরাপত্তা প্রহরী মো. শফি উদ্দিন, অফিস সহায়ক পলাশ চন্দ্র রায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পিয়ন শামিম। আর্থিক অনুদান প্রক্রিয়া শেষ করতে সৌদি আরবে মারা যাওয়া প্রবাসী মো. কাইয়ুমের পরিবারের কাছ থেকে ঘুষ নেন বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মচারী। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পিয়ন শামিম ভুক্তভোগীকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে অনৈতিকভাবে অর্থ নেন। এসব বিষয়ে একজন সাংবাদিক এবং ভুক্তভোগী পরিবার সুনির্দিষ্ট ভিডিও প্রমাণসহ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের কাছে অভিযোগ করেন। প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ও অভিযোগকারীদের নিয়ে অভিযুক্তদের দফতরে যান। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে ওই দু’জনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। কর্মচারীদের এমন আচরণ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সুনাম ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং তা শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। তাই ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের নিজ নিজ বিধি অনুযায়ী আজ তাদের চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, “রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী এবং তাদের পরিবারের সেবা দিতে দেশে এবং দূতাবাসে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। প্রবাসীদের সহযোগিতায় কোনও গাফিলতি-অনিয়ম সহ্য করা হবে না।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রস (আইসিআরসি) বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান নিকোলাস ফ্লাউরি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার দফতরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে কারাবন্দিদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিতকরণ, জেল কোড যুগোপযোগীকরণ, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফার্স্ট এইড ও মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইসিআরসি বাংলাদেশ ডেলিগেশনের প্রধানকে স্বাগত জানান। আইসিআরসি’র প্রতিনিধিদলের প্রধান এসময় মন্ত্রীকে এ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। আইসিআরসি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান জানান, বাংলাদেশের বিদ্যমান জেল কোড যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে তারা প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রেরণ করেছেন। এছাড়া কারাগারের অভ্যন্তরে স্বাস্থ্যসুবিধা বৃদ্ধি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ সময় মন্ত্রী বলেন, কারাগারে বন্দিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া কারাগারের অভ্যন্তরীণ মেডিকেল ইউনিটের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পুলিশ ও কারা পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আইসিআরসি’র বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রস্তাবের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আয়োজন পেশাদারিত্ব বাড়াতে সহায়ক হবে। নিকোলাস ফ্লাউরি জানান, তারা পুলিশের জন্য ফার্স্ট এইড ও মানবাধিকার এবং পুলিশ ও কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণ আয়োজনে আগ্রহী। মন্ত্রী এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ প্রশিক্ষক প্রেরণের জন্য আইসিআরসি’কে অনুরোধ জানান। রোহিঙ্গাদের মানবিক ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য আইসিআরসি’কে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটকে সবসময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে রাখতে চায়। এ বিষয়ে তিনি আইসিআরসি’র ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন। মন্ত্রী আইসিআরসি প্রধানকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ সরকার সর্বদা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের (আইএইচএল) প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইসিআরসি’র মানবিক কার্যক্রমে সব ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত সহযোগিতা প্রদানে বদ্ধপরিকর। জেনেভা কনভেনশন প্রতিপালন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বাস্তবায়নে আইসিআরসি’র চলমান কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তার জন্যও তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পখাতে সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। দেশে সবুজ শিল্প কারখানার সংখ্যা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরিবেশ সংরক্ষণে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।