জাতীয়

কর পরিধি বাড়াতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসনের পুনর্গঠন এনবিআরের

খবর৭১ ডেস্ক, অক্টোবর ১৫, ২০২৫

কর পরিধি ও রাজস্ব আহরণ বাড়াতে শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরই অংশ হিসেবে ১২টি নতুন কমিশনারেট, কাস্টমস হাউস ও বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সরকারি আদেশে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) জানায়, এই সংস্কার উদ্যোগে কাঠামোগত পুনর্গঠন ও জনবল উভয়ই করা হবে। 

অন্যদিকে, বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, মোট ৩ হাজার ৫৯৭টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৭৩টি ক্যাডার পদ এবং ৩ হাজার ২২৪টি নন-ক্যাডার। এসব পদ নতুন ও বিদ্যমান কমিশনারেট, কাস্টমস হাউস ও বিশেষ ইউনিটে যোগ হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য রাজস্ব আদায় বাড়ানো, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা জোরদার, সেবার মান উন্নত করা এবং আরও কার্যকর ও গতিশীল পরোক্ষ কর ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা।

এনবিআর প্রস্তাবিত সংস্কার ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনাটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আগেই প্রশাসনিক অনুমোদন পেয়েছে। এরপর চূড়ান্ত আদেশ জারি করেছে আইআরডি।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, তিন ধাপে ৫টি নতুন ভ্যাট কমিশনারেট, ৪টি নতুন কাস্টমস হাউস ও ৩টি বিশেষায়িত কার্যালয় গঠন করা হবে।

এই ১২টি নতুন ইউনিট গঠনের পাশাপাশি, সরকারি আদেশে বিদ্যমান কমিশনারেট, কাস্টমস হাউস এবং বিশেষ শাখাগুলোর পরিধি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। এতে ঢাকার বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি কাস্টমস ও ভ্যাট গোয়েন্দা কার্যক্রমের বিকেন্দ্রীকরণ ও সম্প্রসারণের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এনবিআর আশা করছে, শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসনের এই প্রশাসনিক সংস্কার, পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ পরোক্ষ কর আহরণের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করবে, কর-জিডিপি’র অনুপাত বাড়াবে, বাণিজ্য সহজীকরণের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা আলিয়ার অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষক পরিষদের মানববন্ধন

রাজধানীর সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক পরিষদ।   বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষকরা হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং শিক্ষাঙ্গণে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।   শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মুহাম্মদ মহসীন কবীর বলেন, ১৬তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্য ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে গুরুতর আহত করার ঘটনা শিক্ষা ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি বলেন, একটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।   তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা-ই-আলিয়া সবসময় নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই সহিংসতা ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।   শিক্ষক পরিষদের তিন দফা দাবি ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত জড়িত প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা   এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার সামনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজে একই দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের পর এ ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।   সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আলী হাসান জানান, সংঘর্ষে অধ্যক্ষের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং মাথা ফেটে যায়।   ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আহত অন্তত ১৭ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন, আবার কেউ হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের মধ্যে আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষও রয়েছেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৫, ২০২৬

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোজাফফরের ফেসবুক তথ্য চেয়ে মেটাকে চিঠি

ছবি : সংগৃহীত

গণহত্যার বিচার হলে ভবিষ্যতে কেউ স্বৈরাচার হতে পারবে না: কাদের গণি

বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে, জুলাই সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই: ইশরাক

ছবি: সংগৃহীত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট: শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাপ্রবাহ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে টানা ৩৬ দিনের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন এবং পরে ভারতে পৌঁছান।   ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পরদিন লোকসভায় জানান, শেখ হাসিনা সংক্ষিপ্ত নোটিশে ভারতে প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিলেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আগরতলা হয়ে তাকে দিল্লিতে নেওয়ার ব্যবস্থা করে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বর্ণনা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে শেখ হাসিনা গণভবন থেকে হেলিকপ্টারে বিমানবন্দরে যান। পরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন বিমানে আগরতলা হয়ে দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। তার সঙ্গে ছিলেন বোন শেখ রেহানা।   নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক   ৪ আগস্ট সারা দেশে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে সরকারকে সতর্ক করেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   ৫ আগস্ট সকালে শেখ হাসিনা তিন বাহিনীর প্রধান ও পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠক করেন। কর্মকর্তারা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কঠোর অবস্থান দীর্ঘ সময় ধরে রাখা কঠিন বলে মত দেন।   পদত্যাগের সিদ্ধান্ত:   বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ রেহানা ও বিদেশে অবস্থানরত সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে আলোচনার পর শেখ হাসিনা পদত্যাগে সম্মত হন।   সেদিন সকাল থেকেই কারফিউ উপেক্ষা করে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একই সময়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায় এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর কিছুক্ষণ পর শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে।   ভারতের প্রতিক্রিয়া:   ভারতে পৌঁছানোর পর হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাক্ষাৎ হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।   লোকসভায় এস জয়শঙ্কর বলেন, কারফিউ থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা ঢাকায় ব্যাপক উপস্থিতি তৈরি করেছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং অল্প সময়ের নোটিশে ভারতে প্রবেশের অনুমতি চান।   তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্সের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা দিল্লিতে পৌঁছান।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৫, ২০২৬

জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশকে কোনোভাবেই পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের জনগণের জন্য গণতন্ত্রকে চিরস্থায়ী করে যাব: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত

‘যে ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়’: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি বলেন, উগ্রবাদ দমন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সবসময় তৎপর রয়েছে।   পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। টহল বা দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সদস্য যেন একা বা অসতর্ক অবস্থায় না থাকেন, সে জন্য নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখার কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাঠপর্যায়ে তাদের কোনো প্রভাব নেই। তারা মাঝেমধ্যে বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেও দেশে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালানোর সক্ষমতা তাদের নেই।   সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপির ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও নির্বাচন কমিশনের।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘তারা নাকি ডিসেম্বরে দেশে আসবে, আসেন রাজপথে দেখা হবে’: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত

প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামব, আমিও থাকব: আসিফ নজরুল

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মোচন করবে ফ্যাসিবাদের মুখোশ: প্রধানমন্ত্রী

0 Comments