বিনোদন

এআই প্রযুক্তির ফাঁদে অক্ষয় ও হৃতিক, গেলেন আদালতে

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৫, ২০২৫

নিজেদের ছবি ও কণ্ঠস্বর বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার ও হৃতিক রোশন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের চেহারা ও কণ্ঠস্বর বিকৃত বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তারা।

 

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হৃতিক রোশন দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন নিজের ‘ব্যক্তিত্বের অধিকার’ সুরক্ষার দাবিতে। তার দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পেজ ও ওয়েবসাইটে তার নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে ব্যবসা করা হচ্ছে, যা গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত মর্যাদার লঙ্ঘন। এ বিষয়ে বুধবার মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

 

অন্যদিকে, অক্ষয় কুমারও একই অভিযোগে মুম্বাই হাইকোর্টে মামলা করেছেন। তিনি জানান, এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তার ছবি ও কণ্ঠস্বর বিকৃত করে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

 

শুধু হৃতিক ও অক্ষয় নন, সম্প্রতি বলিউডের আরও কয়েকজন তারকা—অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই, অভিষেক বচ্চন, করণ জোহর ও ঋষভ শেঠিও—নিজেদের ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
বিতর্ক এড়িয়ে চার দিনেই ২৫৪ কোটি আয় ইয়াশের ‘টক্সিক’র

সহিংসতা, প্রেমের দৃশ্য এবং নারী চরিত্রের উপস্থাপনা নিয়ে তুমুল ট্রোল ও নেতিবাচক সমালোচনার মুখে পড়লেও বক্স অফিসে দাপট দেখিয়ে চলেছে কন্নড় সুপারস্টার ইয়াশ অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক: অ্যা ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। মুক্তির চতুর্থ দিনেই বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় ২৫৪ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে।     স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির চার দিনে ভারতের বাজারে ‘টক্সিক’-এর নিট আয় দাঁড়িয়েছে ১৯০.৪৫ কোটি রুপি। দেশটিতে ছবিটির মোট আয় বা গ্রস সংগ্রহ ২২৭.৫০ কোটি রুপি।       চতুর্থ দিন অর্থাৎ শনিবার ভারতে ১৭ হাজার ৬১২টি প্রদর্শনী থেকে সিনেমাটি প্রায় ২৪.৫০ কোটি রুপি নিট আয় করেছে। আগের দিন শুক্রবার ছবিটির আয় ছিল ২৭.২০ কোটি রুপি।     ফলে চতুর্থ দিনে আগের দিনের তুলনায় আয় কমেছে প্রায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ।     অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে শনিবার আরও ৪ কোটি রুপি আয় করেছে ‘টক্সিক’। ফলে বিদেশের বাজারে চার দিনে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৭.২৫ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির গ্রস সংগ্রহ এখন ২৫৪.৭৫ কোটি রুপি।   চার দিনে ‘টক্সিক’-এর আয় প্রথম দিন: নিট ১০১.১০ কোটি রুপি, ভারতে গ্রস ১২০.৭৫ কোটি এবং বিশ্বব্যাপী গ্রস ১৪০.৭৫ কোটি রুপি।   দ্বিতীয় দিন: নিট ৩৭.৬৫ কোটি রুপি, ভারতে গ্রস ৪৫.১০ কোটি এবং বিশ্বব্যাপী গ্রস ৪৯.৩৫ কোটি রুপি।   তৃতীয় দিন: নিট ২৭.২০ কোটি রুপি, ভারতে গ্রস ৩২.২৫ কোটি এবং বিশ্বব্যাপী গ্রস ৩১.২৫ কোটি রুপি।   চতুর্থ দিন: নিট ২৪.৫০ কোটি রুপি, ভারতে গ্রস ২৯.৪০ কোটি এবং বিশ্বব্যাপী গ্রস ৩৩.৪০ কোটি রুপি।   চার দিনে ভারতের বাজারে সিনেমাটির নিট আয় ১৯০.৪৫ কোটি এবং গ্রস আয় ২২৭.৫০ কোটি রুপি।       গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’-এ ইয়াশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। গত ২৬ আগস্ট কন্নড়, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মালায়ালম ও ইংরেজি ভাষায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি।     মুক্তির আগে থেকেই আলোচনায় থাকা সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসার পর নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়ে। কোনও দৃশ্য কর্তন না করেই কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ডের কাছ থেকে কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ‘এ’ সার্টিফিকেট পেয়েছে ছবিটি।     মুক্তির পর থেকেই অন-স্ক্রিন ঘনিষ্ঠ দৃশ্য এবং নারীদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ট্রোল ও সমালোচনার শিকার হচ্ছে ‘টক্সিক’। বিশেষ করে কিয়ারা আদভানি ও ইয়াশের রোমান্টিক গান ‘তাবাহি’-তে তাদের রসায়ন ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে দর্শকদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।     এ ছাড়া সিনেমার একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে ইঙ্গিতের কারণে অভিনেত্রী রুক্মিণী বসন্তও ট্রোলের মুখে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে নেটিজেন ও ভক্তদের মতামতও বিভক্ত হয়ে গেছে। তবে বিতর্ক-সমালোচনার মধ্যেও বক্স অফিসে সিনেমাটির দাপুটে আয় অব্যাহত রয়েছে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ৩০, ২০২৬

৫০ বছর বয়সের পর সুস্থ থাকতে পরিহার করুন ৬ খাবার

অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা

ছবি: সংগৃহীত

সোহেল রানার ইচ্ছা পূরণে ৪০ বছর পর রুবেলের দামি উপহার

অভিনেত্রী তানজিন তিশা।
তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই, তদন্ত প্রতিবেদনে যা আছে

প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলায় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ।   সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম।   মামলার বাদী আয়েশাহ আনুম ফারযাহ সানায়া চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।    আয়েশাহ আনুম ফারযাহ সানায়া বলেন, আমি ২০২৫ সলের ২৭ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে একটি মামলা করি। মামলার পরে বিজ্ঞ আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। নির্দেশের পরে আমি পুলিশকে সাক্ষী, হুমকির অডিও রেকর্ডিংসহ সব প্রমাণাদি হস্তান্তর করি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে পুলিশ কোনো কারণ উল্লেখ না করে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। আমি এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তাই আমি আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করব।    আয়েশাহ আনুম ফারযাহ সানায়া আরও বলেন, এর আগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে শাড়ির ঘটনার আরেকটা মামলা করা হয়। সেটা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। উনি তো অভ্যাসগতভাবে সবার সঙ্গে প্রতারণা করছে। কিন্তু আমি সাধারণ মানুষ হওয়ার কারণে সব প্রমাণ থাকার পরেও পিবিআই মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছে।   এদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।    নথি থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৫ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম।   পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে যা আছে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে বলেন, মামলার তদন্তকালে জানা যায়—মামলার বাদী আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী একজন ফ্যাশন ডিজাইনার ও বিবাদী তানজিন নাহার তিশা একজন মডেল ও অভিনেত্রী। বাদী বিভিন্ন মডেলদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক তৈরি করেন এবং দেশের নামী-দামী তারকারাসহ বিবাদীও তার ফ্যাশন হাউজের কাপড় পরিধান করেন। বাদী এবং বিবাদী দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন ও অ্যাওয়ার্ড পোগ্রামে একসঙ্গে অংশগ্রহণ করায় এবং তারা একসঙ্গে ভ্রমণ করায় তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়।   আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিবাদী একটি প্রোগ্রামের জন্য বাদীর নিকট থেকে বিবাদীর সাবেক ড্রাইভারের মাধ্যমে একটি শাড়ি নেন। পরবর্তীতে বাদী উক্ত শাড়িটি চেয়ে বিবাদীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠায়। কিন্তু বিবাদী ব্যস্ততার কারণে ঠিকমতো ফেসবুক ব্যবহার না করায় সেই মেসেজগুলো দেখেননি (সিন) মর্মে উভয়ের মেসেঞ্জারের স্ক্রিনশট পর্যালোচনায় দেখা যায়। এ ছাড়া বাদী বিবাদীকে ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছাও পাঠান আবার পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৮ মে তার সঙ্গে অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামে দেখা হলেও সেখানে তাদের কুশল বিনিময় হয়। এর কিছুদিন পরে বাদীর ফ্যাশন হাউজের শোর রুমের ট্রায়াল রুম নিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য শোনায় এবং উভয়ের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়।   তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর বাদী বিবাদীকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার জন্য ম্যাসেজ দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়,  ‘প্রায় এক বছর হয়ে গেল সাদা শাড়িটা এখনও ফেরত পাঠালে না। আমি লোক পাঠাই পরশুদিন দিয়ে দাও’ মর্মে মেসেজ দেয়। তখন বিবাদী উক্ত মেসেজের ফিরতি বার্তায় উল্লেখ করেন কোনটা? তখন বাদী বিবাদীকে উক্ত ড্রেসের ছবি পাঠান। পরবর্তীতে বিবাদী বাদীকে মেসেঞ্জারে কল করলে বাদী রিসিভ করতে পারেননি। পরে তিনি ফিরতি মেসেজ করেন। বিবাদী তখন সেটার বিষয় মনে করতে পারছেন না এবং খুঁজে দেখে বাদীকে জানাচ্ছেন মর্মে জানান। তখন বাদী বিবাদীকে জানান তোমার এটা পেশাগতভাবেই দেখাশোনা করা উচিত। তুমি শাড়িটা খুঁজে বের করো আর ব্যস্ত থাকলে আমার লোকজন সেটা তোমার কাছ থেকে সংগ্রহ করে নেবে মর্মে জানান। পরবর্তীতে বিবাদী পুনরায় উল্লেখ করেন ড্রাইভার তোমাকে এখনও সেটা ফেরত দেয়নি সেটা খুবই অদ্ভুত লাগছে, আমি ড্রাইভারকে খুঁজে দেখে জানাচ্ছি। এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনমালিন্য ও কথা-কাটাকাটি হয়।    তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদী সানায়া ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর বিবাদী তানজিন তিশাকে মেসেজ পাঠায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার দিন ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর বিবাদী তানজিন তিশা তাকে পাল্টা মেসেজ পাঠান। এরপর অত্র মামলার বাদী গুলশান থানায় ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে জিডির বিষয়টি জানতে পেরে বাদীকে শাড়িটি গুলশান থানা পুলিশের মাধ্যমে ফিরিয়ে দিতে গেলেও বাদী সেটা গ্রহণ না করে অত্র মামলা দায়ের করেন।    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার ঘটনার বিষয়ে বিবাদী তানজিন তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বাদীর সঙ্গে তার খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সে এই শাড়ির পরেও তার নিকট থেকে আরও শাড়ি নিয়ে পড়েছেন এবং ফেরত দিয়েছেন, যার বিনিময়ে তার নিকট হতে কোনো টাকাও নেননি। মাঝে এ বিষয় নিয়ে বাদী বিবাদীর আর কথা হয়নি। তার পরবর্তীতে দীর্ঘদিন হয়ে যাওয়ায় তিনিও ভুলে গিয়েছিলেন এবং তার আগের ড্রাইভার সেটা ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে বাদীকে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার জন্য ঠিকানা জানতে চেয়েও খুঁজে পায়নি। পরবর্তীতে বিবাদী অত্র মামলার বিষয়টি জানতে পেরে আরজি বর্ণিত ঠিকানায় ডাক যোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান। এ ছাড়া বাদীকে নোটিশ করে, সশরীরে তদন্তকালে ও মোবাইল ফোনে বাদী কর্তৃক আরজির সংক্রান্তে দালিলিক সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে বললেও তিনি কোনো দালিলিক সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পক্ষান্তরে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ বিবাদী তার শারিটি ডাক যোগে ফেরত পাঠানোয় বাদীর সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। এ ছাড়া বাদীকে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর রাত ৮টায় পাঠানো মেসেজের শেষ অংশে বাদীর শাড়ি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চান এবং বাদীর সুন্দর জীবন কামনা করেন বিধায় তাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও প্রমাণিত হয়নি।    সার্বিক তদন্ত ও প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণে বাদী ও বিবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদে বাদী কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার ঘটনার বিষয়ে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।    মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে এজাহার থেকে জানা গেছে, মামলার বাদী একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। গুলশান থানাধীন ১২৭নং রোডে বাদীর নিজস্ব ফ্যাশন হাউজ ও স্টুডিও রয়েছে। দেশের নামী-দামী সব তারকারা বাদীর ফ্যাশন হাউজের কাপড় পরিধান করে থাকেন। আসামি তানজিন তিশা জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী। মামলার আসামি তানজিন নাহার তিশা ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাদীর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি প্রোগ্রামে পরার জন্য নিয়ে যান। শাড়িটি পরা শেষে পরেরদিন ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও আসামি তানজিন তিশা শাড়িটি ফেরত দেয়নি।   এজাহার থেকে আরও জানা গেছে, শাড়ির জন্য ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাদী, আসামিকে তার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে মেসেজ করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিবাদী বাদীকে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর শাড়ি ফেরত চাওয়ার কারণে নানা প্রকার অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজসহ জানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনার পরে বাদী ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ ও ১৮ মার্চ অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামে দেখা হলে বিনয়ের সঙ্গে বাদীর শাড়িটি ফেরত চান। কিন্তু বিবাদী বাদীকে শাড়ি ফেরত দেবেন না বলে জানান। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর আসামি ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে বাদীর শাড়িটি ফেরত দেওয়ার জন্য বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেন। কিন্তু ৬ নভেম্বর বাদীর স্টুডিওতে নিয়োগকৃত ফটোগ্রাফার ঝুটন আসামিকে ফোন করলে আসামি ফোনটি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তিনি হোয়াটস অ্যাপে ফটোগ্রাফারকে ফোন দিলে ঝুটন বিবাদীর কাছে বাদীর রেফারেন্সে শাড়িটি ফেরত চাইলে, ঝুটনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাদীর সম্পর্কে নানা রকম খারাপ মন্তব্য করে ফোন রেখে দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর বাদী আসামি তানজিন নাহার তিশার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ফোন করে মামলার হুমকিসহ বাদীর মান-সম্মানকে নষ্ট করে বাদীকে সমাজে হেয় করে ভাইরাল করার হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় বাদী গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৯, ২০২৬
কিয়ারা আদভানী (বাঁয়ে) ও স্বস্তিকা মুখার্জী। সংগৃহীত ছবি

টক্সিক’-এর ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক, কিয়ারার পাশে স্বস্তিকা

মায়ার বাঁধন’ সিনেমায় প্রসেনজিৎ ও ৮ বছরের শ্রাবন্তী (বাঁয়ে) এবং শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় (ডানে)। সংগৃহীত ছবি

৮ বছর বয়সেই প্রসেনজিতের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শ্রাবন্তী

দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু।

গর্ভাবস্থার প্রতিটি মুহূর্ত হৃদয় দিয়ে উপভোগ করছেন সামান্থা

সাফা কবির । ছবি - সংগৃহীত
মাইকেলের স্মৃতিতে সাফার আবেগ

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল সাফা কবিরের জন্মদিন আজ। ১৯৯৪ সালের এই দিনে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। অভিনয় ও মডেলিংয়ে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করা সাফা কবির বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের আলোচিত অভিনেত্রীদের একজন। জন্মদিনে এই অভিনেত্রীকে ঘিরে তাই ভক্ত ও সহকর্মীদের শুভেচ্ছার পাশাপাশি প্রত্যাশাও—আগামী দিনে আরও বৈচিত্র্যময় কাজে দেখা যাবে তাকে। অভিনেত্রী বর্তমানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে তাকে ‘হলিউড ওয়াক অব ফেম’-এ দেখা গেছে। সেখানে গিয়ে নিজের প্রিয় তারকার স্মৃতিতে আবেগাপ্লুত হলেন অভিনেত্রী। সেখানে অনেক তারকার নাম চোখে পড়লেও তার অপেক্ষা ছিল বিশেষ একজনের জন্য। তিনি পপসংগীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসন। প্রিয় এই শিল্পীর নাম খুঁজতেই যেন পুরো জায়গাটি ঘুরে দেখছিলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দুটি ছবি প্রকাশ করেন সাফা। ছবিতে হলুদ পোশাকে ‘ওয়াক অব ফেম’-এ মাইকেল জ্যাকসনের পাশে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। মুখে ছিল উচ্ছ্বাস আর চোখে-মুখে ধরা পড়েছে বিশেষ মুহূর্তের আনন্দ। আশফাক বিপুলের নির্মিত এয়ারটেলের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শোবিজে পথচলা শুরু করেন সাফা। বিজ্ঞাপন দিয়ে পরিচিতি পেলেও অভিনয়েই ধীরে ধীরে নিজের জায়গা করে নেন তিনি। ‘অল টাইম দৌড়ের উপর’ টেলিফিল্মে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনেত্রী হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর নিয়মিত নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন।   ওয়েব দুনিয়ায়ও রয়েছে তার সরব উপস্থিতি। ভিকি জাহেদের ওয়েব সিরিজ ‘উষ্ণের আত্মহত্যা’ ও ‘বাঘবন্দি’ এবং অনম বিশ্বাসের ‘গণকেইস’-এ অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেল হিসেবেও নিয়মিত কাজ করছেন সাফা কবির। ইমরানের ‘আমার কাছে তুমি অন্যরকম’ এবং প্রীতম হাসানের ‘খোকা’ গানেও মডেল হিসেবে দেখা গেছে তাকে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মা ও বিবাহিত হয়েও ‘মিস ইউএসএ’ জয়, ইতিহাস গড়লেন কেলি

ছবি: সংগৃহীত

দুই বছর পর ওটিটিতে ‘পদাতিক’, মিলেছে ১৮ পুরস্কার

ছবি: সংগৃহীত

নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে অল্পের জন্য রক্ষা, ঢাকায় ফিরলেন অপু বিশ্বাস

0 Comments