লক্ষ্মীপুরে অর্ধশতাধিক কর্মী নিয়ে বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন এক স্থানীয় নেতা। শনিবার দুপুরে জেলা শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ও তাঁর সমর্থকরা জামায়াতের সদস্যপদ গ্রহণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদ্য যোগ দেওয়া ওই নেতা দীর্ঘদিন ধরে জেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় বিভাজন ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ থেকে তিনি জামায়াতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর সঙ্গে আসা সমর্থকরাও আগে বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। তারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতি শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
যোগদানকারী নেতা বলেন, “বিএনপিতে আদর্শিক দিকনির্দেশনার অভাব দেখা দিয়েছে। আমরা এখন এমন একটি দলের সঙ্গে থাকতে চাই, যারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুস্পষ্ট আদর্শ ও কর্মপরিকল্পনা রাখে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের দলে দলে যোগদান আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি সরাসরি বাঁশখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় যান। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সম্পর্কে অবহিত হন এবং পানিবন্দি পরিবারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে শুকনো খাবার ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। তিনি দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের প্রতি নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্তদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী সফর শেষে তিনি সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকাও পরিদর্শন করবেন। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি সেখানেও ত্রাণ বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশসহ একাধিক উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এখনও অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। পরিদর্শনের সময় ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপিসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত; এখন বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ভর করবে সংসদের ওপর। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পাশাপাশি সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। একটি রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওই সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করে হাই কোর্ট। এ বিষয়ে আপিল শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের রায় বহাল রেখেছে। এর ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সংবিধানের ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “হাই কোর্ট রায়ে কিছু বিষয় সংসদের বিবেচনার জন্য ছেড়ে দিয়েছিল। সংবিধানের যেসব ক্ষেত্রে আরও পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।” এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যেহেতু আপিল বিভাগ হাই কোর্টের রায় বহাল রেখেছে, তাই সরকার বা সংসদ চাইলে হাই কোর্টের রায় ধরেই অগ্রসর হতে পারে। “তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হবে এবং সংসদ চাইলে সেই রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারে। এটি সংসদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।” নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আদালতের রায়ে শুধু এ ব্যবস্থা বাতিলের বিধানই বাতিল হয়নি বরং হাই কোর্টের রায়ে এটি পুনর্বহালও করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির পরিবর্তনের আলোকে এ ব্যবস্থার কাঠামো নতুনভাবে নির্ধারণ করার ক্ষমতা সংসদের থাকবে।” তিনি বলেন, পার্লামেন্ট যদি মনে করে আগের কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন, তাহলে সেই ক্ষমতা সংসদের রয়েছে। তবে সংসদের কোনো সিদ্ধান্ত যেন আদালতের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সেটিই ‘প্রত্যাশিত’। ভবিষ্যতে আবার সংবিধান পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “সংবিধান ও আইনের ব্যাখ্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয় এবং ভবিষ্যৎকে স্থায়ীভাবে বেঁধে রাখার মত কোনো আইনি ব্যবস্থা কারো হাতে নেই।” তিনি বলেন, “ক্ষমতায় এসে নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান সংশোধন করলে তা চিরস্থায়ী হয় না—ইতিহাস সেটাই দেখিয়েছে। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু করা হলে শেষ পর্যন্ত তার কুফল ভোগ করতেই হয়।” তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় বিচার বিভাগকে যুক্ত করা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আমি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে কেবল আইনের বিষয়েই কথা বলতে পারি, রাজনৈতিক বা পক্ষপাতদুষ্ট কোনো মন্তব্য করব না। কী ছিল হাই কোর্টের রায়ে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাই কোর্ট বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে রিট মামলার রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করা হয়। এছাড়া সংবিধানে গণভোটের বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা বাতিল ঘোষণা করে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। আদালত রায়ে বলা হয়, পঞ্চদশ সংশোধনী আইনটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, বরং বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে। ২০২৫ সালের ৮ জুলাই প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে হাই কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরে। সংবিধানের ৭ (ক) অনুচ্ছেদ সম্পর্কে আদালত বলে, অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তির যে বিধান যুক্ত করা হয়েছিল, তা অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং ‘ভিন্নমত দমনের’ একটি হাতিয়ার। এটি নাগরিকদের বাকস্বাধীনতার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে। ৭ (খ) অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি চিরতরে সংশোধন অযোগ্য করার বিষয়টিকে আদালত ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলে সিদ্ধান্ত দেয়, কারণ এটি ভবিষ্যৎ সংসদের ক্ষমতা খর্ব করার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতাকেও বাধাগ্রস্ত করে। এছাড়া ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল করার যুক্তিতে আদালত বলে, হাই কোর্টের ক্ষমতা অন্য কোনো আদালতকে দেওয়ার বিধানটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি। ‘বাকি দায়িত্ব সংসদের’ সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহসানুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত সম্পূর্ণভাবে তাদের এখতিয়ারের মধ্যে থেকেই এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এটি অত্যন্ত সুষ্ঠু একটি রায় এবং আমার মতে, এটি একটি সুষম রায়।” রায়ের বিভিন্ন দিককে নীতিগত বা ‘পলিসি ম্যাটার’ হিসেবে বর্ণনা করে আদালত ও সংসদের সাংবিধানিক ভূমিকার পার্থক্যও তুলে ধরেন এ আইনজীবী। তিনি বলেন, “আইন প্রণয়ন, সংশোধন কিংবা বাতিল করার একচ্ছত্র ক্ষমতা সংসদের। সংসদ কী করবে বা করবে না, সেটি তাদের নিজস্ব এখতিয়ারের বিষয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনও সংসদের মাধ্যমেই ঘটবে। অন্যদিকে আদালতের দায়িত্ব হল সংসদ প্রণীত আইন সংবিধানসম্মত ও আইনসঙ্গত কি না, তা পর্যালোচনা করা। এখন যদি এসব বিষয়ে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটি সংসদকেই করতে হবে।” পঞ্চদশ সংশোধনী মামলায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রায়ের আইনি দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, হাই কোর্ট যে চারটি বিষয় অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল, তা আপিল বিভাগেও বহাল থাকল। “যার মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ৭-এর ক ও ৭-এর খ বাতিল, গণভোট পুনঃপ্রবর্তন, নিম্ন আদালতকে রিটের ক্ষমতা দেওয়ার বিধান বাতিল এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা। “এছাড়া যেগুলো রাষ্ট্রের পলিসি, রাষ্ট্রের নীতি, যেমন সংবিধানের প্রস্তাবনা, আর্টিকেল ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২৫ সহ যেগুলো নীতিকথা, এই নীতির বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পরিপূর্ণভাবে সংসদের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, “নতুন জেনারেশন আসবে, আন্ডারস্ট্যান্ডিং হবে, এডুকেশন হবে। এইজন্য সংবিধানকে বলা হয় একটা লিভিং ডকুমেন্ট। এটি সময়, যুগ জিজ্ঞাসার পরিবর্তনের সাথে এখানে পরিবর্তন আনতে হয়।” সুজনের সম্পাদক ও রিটকারী বদিউল আলম মজুমদার দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমরা বহু চড়াই-উতরাই পার করে আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে উপনীত হয়েছি। ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ের অপব্যাখ্যার মাধ্যমেই মূলত দেশে দলীয় সরকারের অধীনে একতরফা নির্বাচন ও রাতে ভোট আয়োজনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল। এই রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসায় রাতের ভোট রাতে হওয়ার সম্ভাবনাটা অতি ক্ষীণ।” তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামোতে বিচার বিভাগকে জড়ানোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “আর কেউ চায় না যে প্রধান বিচারপতি বা সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মত ব্যক্তিরা কোনোভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকুক। অন্তত আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা চাই না। আমি আশা করি যে বর্তমান সংসদ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।” রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর সমালোচনা করে বলেন, “৭ এর খ এর মাধ্যমে সংবিধানকে জনগণের প্রয়োজনে সংশোধন করার অধিকারকে ধ্বংস করে দেওয়া হয় এবং পুরো সংশোধনটাই ছিল জনবিরোধী একটা সংশোধনী।” তবে রায়ে কিছু কারিগরি ও সাংবিধানিক জটিলতা রয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “হাই কোর্টের রায়ে সবগুলো বিধান বাতিল হয়নি। কিছু কিছু বিধান আরো বাতিল করা প্রয়োজন ছিল, যেমন উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টার শপথ নেওয়া সংক্রান্ত বিধান সংবিধানে ফিরে আসেনি।” সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সময়ের অসামঞ্জস্যতা নিয়ে তিনি বলেন, “এই জিনিসটা সুরাহা এখন সংসদের করতে হবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় দেখলে এ ব্যাপারে আরও নিশ্চিতভাবে এবং সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে।” আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার কবির পুরো সংশোধনী বাতিলের বিরোধিতা করার কারণ তুলে ধরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই যে জাতির পিতা, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, এগুলো সব হচ্ছে পলিটিক্যাল ডিসিশন। এই পলিটিক্যাল ডিসিশন যদি কোর্ট বলে দেয় যে এটা ঠিক না ওটা ঠিক না, এটা নিয়ে পরে কোর্টের উপর মানুষের আস্থা কমে যাবে।” তিনি বলেন, “এই সংশোধনী আনা হয়েছিল একটা জাজমেন্ট ঘিরে। এটা এইভাবে বলা যায় যে, বাকশাল কায়েমের একটা অপচেষ্টা করছিলেন এই সংশোধনীর মাধ্যমে। পুরো আইন বাতিল করলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকত না এবং ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার বৈধতা তৈরি হত।” ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে চূড়ান্তভাবে সংবিধানে অনুসমর্থন দিতে হবে। “সে কারণে অষ্টাদশ সংশোধনী এখন অনিবার্য। বর্তমানে সংসদ বিদ্যমান থাকায় সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে আলোচনার মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করে অষ্টাদশ সংশোধনীর সময় প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরিবর্তনও একসঙ্গে আনতে পারবে।" রায়ের সামগ্রিক সাংবিধানিক ও আর্থ-সামাজিক প্রভাব নিয়ে জাহেদ ইকবাল বলেন, "এই রায়ের ফলে দেশের শাসন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হবে। এখন থেকে জাতীয় নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি আবার কার্যকর থাকবে। “পাশাপাশি সংবিধানের ৭ বা ১৪২ অনুচ্ছেদের মত মৌলিক বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যথেষ্ট হবে না। জনগণের মতামত জানতে গণভোটও প্রয়োজন হবে। এই বিধান আবার ফিরে এসেছে। এর মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থা ও সাংবিধানিক অভিযাত্রায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। রিট আবেদনকারী একপক্ষের আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা উৎখাতের কথা তুলে ধরে বলেন, “সংবিধানের ৭এ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে তথাকথিত 'সাংবিধানিক রাষ্ট্রদ্রোহ' অপরাধ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এছাড়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির বিধানকেও আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে নির্বাচিত সরকারগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম হবে।
রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে দালালবিরোধী অভিযানে তিনজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামানের উপস্থিতিতে আনসার বাহিনীর একটি টহল দল অভিযানটি পরিচালনা করে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবজালুল হাসান (৫৬), নিত্য চন্দ্র সেন (৪০) এবং মো. শামীম (৪৬)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা বিআরটিএ কার্যালয়ে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যানবাহনসংক্রান্ত কাগজপত্র দ্রুত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আনসার সদস্যরা তাদের হাতেনাতে আটক করেন। অভিযানে আনসার বাহিনীর পিসি মো. খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে এপিসি মো. আল মিজান এবং সদস্য সম্রাট, মানিক, শাহ ইমরান ও রোকনুজ্জামান অংশ নেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে আটক তিনজনকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য তাদের কাফরুল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি সেবা গ্রহণে দালাল চক্রের তৎপরতা রোধ, সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি কমানো এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।