জাতীয়

উত্তরাঞ্চলে সড়ক উন্নয়নে তিন মহাসড়ক হবে চার লেন

আক্তারুজ্জামান মে ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া ও আশপাশের জেলার যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিক করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিত এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং হিলি স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা সরকারি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি প্রকল্পগুলোর দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান।

 

প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা থেকে দিনাজপুরের হিলি পর্যন্ত সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা। বর্তমানে আঞ্চলিক সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত এই রুটকে মহাসড়কে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

আরেকটি প্রকল্পের আওতায় বগুড়া শহরের বারপুর এলাকা থেকে নামুজা ও ক্ষেতলাল হয়ে জয়পুরহাট পর্যন্ত সড়ক চার লেনে সম্প্রসারণ করা হবে।

 

এ ছাড়া বগুড়া শহরের চারমাথা থেকে নওগাঁ পর্যন্ত মহাসড়কও চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে প্রস্তাবিত বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটির জন্য বিশেষ সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস লেন যুক্ত থাকবে।

 

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উত্তরাঞ্চল দেশের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী অঞ্চল। সড়ক অবকাঠামো উন্নত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে এবং শিল্প ও বাণিজ্যে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে হিলি স্থলবন্দর ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলে একটি বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এই সড়ক নেটওয়ার্ক সেই পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মধ্যে যাতায়াতের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতিকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই দেশকে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।   সোমবার (১৯ অক্টোবর) সিলেট নগরীর বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে শিববাড়ী মন্দিরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছে। পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।   নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র থাকাকালে নগরবাসীর কাছ থেকে তিনি যে স্নেহ, ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছেন, তা তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। সিলেট নগরীর পাশাপাশি সিলেট-৪ আসনের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, সিলেটসহ সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চার মাধ্যমে এই সম্প্রীতিকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।   এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে নিজের, দলের ও সরকারের পক্ষ থেকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।   পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাদেক হোসেন, সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতারা, দর্শনার্থী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পূজা দেখে ফেরার পথে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দুই ভাই-বোনের

ছবি: সংগৃহীত

প্রতি তিন ওয়ার্ডে একটি খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের

ছবি: সংগৃহীত
খুলনা বিভাগে হামের উপসর্গে মৃত্যু ৫২, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৭৬ জন

খুলনা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। গত সাত মাসে বিভাগজুড়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে খুলনা জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।   সোমবার (১৯ অক্টোবর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানান।   বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের দৈনিক তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৬ জন। অন্যদিকে, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৩০ জন।   চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫১১ জনে। তাঁদের মধ্যে ১৪ হাজার ৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৩ হাজার ৫৮৩ জন।   স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা জেলায়। এ ছাড়া কুষ্টিয়ায় ১৬ জন, ঝিনাইদহে পাঁচজন এবং চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে একজন করে মারা গেছেন। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে বিভাগে মোট ৪৫৮ জনের শরীরে হামের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।   বিভাগের ১০টি জেলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া, খুলনা ও মাগুরায় সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা বেশি। ১৫ মার্চ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৪৯ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ জেলায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৩ জন।   খুলনা জেলায় সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৬৭ জন এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬ জন। অন্যদিকে, মাগুরায় সন্দেহজনক রোগী ২ হাজার ১৯৮ জন হলেও নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০১ জন।   এ ছাড়া বাগেরহাটে ৭৪, যশোরে ৫৮, সাতক্ষীরায় ৩৪, নড়াইলে ৮৫, ঝিনাইদহে ১৭, মেহেরপুরে ১০ এবং চুয়াডাঙ্গায় ৭৩২ জন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিভাগজুড়ে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যুর হিসাব এক নয়—তাই মৃত্যুর তথ্য মূল্যায়নে এই পার্থক্যটি বিবেচনায় রাখা জরুরি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাইকোর্ট বিভাগে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিষায়ক প্রশিক্ষণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রাজশাহী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন এমপি কামরুজ্জামান রতন

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। একই সঙ্গে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন তিনি। ওই মন্তব্যে নিহতদের স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা কষ্ট পেয়ে থাকলে তাঁদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এই সংসদ সদস্য।   সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন।   বিজ্ঞপ্তিতে কামরুজ্জামান রতন জানান, সম্প্রতি স্টার নিউজের একটি টকশোতে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ঘটনা নিয়ে আলোচনার সময় আবেগের বশে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না।’   নিজের ওই বক্তব্যকে অনুচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন মন্তব্য করা তাঁর একেবারেই ঠিক হয়নি। এ কারণে তিনি বক্তব্যটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করছেন। তাঁর কথায়, ওই মন্তব্যের মাধ্যমে নিহতদের পরিবার-পরিজন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনে যে কষ্ট ও আঘাত দিয়েছেন, সে জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।   সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরও বলেন, মানুষ ভুল করতে পারে। তবে ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ মহান আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি তিনি সবার কাছে আবারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।   স্টার নিউজের অনলাইন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে ‘কড়া আলাপ’ শীর্ষক টকশোতে ‘সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড ও আমাদের কূটনীতির ব্যর্থতা’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে ওই মন্তব্য করেন কামরুজ্জামান রতন। পরে বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে মন্তব্যটি প্রত্যাহার করেন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১২, ২০২৬
২০২৪ সালে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ফাইল ছবি

বনানী থেকে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

কম্বোডিয়ার আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি, মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন ৩০ বাংলাদেশি

সৌদি আদালতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা

0 Comments