বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। গত ২৭ জানুয়ারি এক আকস্মিক বার্তায় তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর কোনো নতুন সিনেমার গানে কণ্ঠ দেবেন না তিনি। ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায় অরিজিতের এমন সিদ্ধান্তে তাঁর কোটি কোটি অনুরাগী যেমন মুষড়ে পড়েছেন, তেমনি নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও ট্রোল।
অবসরের কারণ স্পষ্ট না করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন অরিজিৎ। শুধুমাত্র প্রকৃত শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, “এই মেসেজটি শুধুমাত্র আমার শ্রোতাদের জন্য। যদি আপনি শ্রোতা না হন, তাহলে দয়া করে এটি পড়বেন না। কারণ আপনার প্রয়োজন নেই।” এই ‘নিষ্ঠুর এবং নির্দয় পৃথিবীতে’ তাঁকে ভালোবাসার জন্য ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
নতুন কোনো অ্যাসাইনমেন্ট না নিলেও অরিজিতের কণ্ঠ এখনই থেমে যাচ্ছে না। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর অনেক গানের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে। শিল্পী বলেন, “আপনারা জানেন যে অনেক গান এখনও রিলিজ বাকি আছে। অনেক অসমাপ্ত গান রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ হলে তবে মুক্তি পাবে। হয়তো সারা বছর ধরে চলবে।”
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে অরিজিৎ লেখেন, “শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে অগাধ ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে আমি আর প্লেব্যাকের নতুন কোনো দায়িত্ব নেব না। আমি এখানেই শেষ করছি। এটি একটি দুর্দান্ত জার্নি ছিল।”
অরিজিতের এই প্রস্থান সংগীত জগতে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ট্রোল বা সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি এখন তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতেই বেশি আগ্রহী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বলিউডের মডেল-অভিনেত্রী ও সাবেক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিজয়ী উর্বশী রাউতেলার বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছেই না। এবার মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬-এর ফাইনালে তার পোশাক ঘিরে শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা আর বিতর্ক। এবারের প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন অভিনেত্রী। এ সময় তাকে ভারতের জাতীয় পতাকার রঙ ও প্রতীকের আদলে তৈরি একটি পোশাকে দেখা যায়। যার পরনে ছিল জাতীয় পতাকার তিনটি রঙ— গেরুয়া, সাদা ও সবুজ। সেই সঙ্গে পোশাকের মাঝখানে ছিল নীল রঙের অশোকচক্র, সঙ্গে সোনালি ঝালরের ব্যবহার। অব-শোল্ডার পোশাকের সঙ্গে উর্বশী রাউতেলা পরেছিলেন বড় হীরার কানের দুল, হাতে রুপালি চুড়ি ও আঙুলে ভারি একটি আংটি। পোশাকের ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নানা বিতর্ক। নেটিজেন একাংশের দাবি— জাতীয় পতাকার আদলে পোশাক তৈরি করে তা পরা দেশের জাতীয় প্রতীকের প্রতি অসম্মান করা। অবশ্য নেটিজেনদের আরেকাংশ উর্বশীর প্রশংসা করে বলেছেন, নিজের পোশাকের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের বিতর্কের মাঝেই এ পোশাক নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন উর্বশী রাউতেলা। তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম— আমিই ভারত। তাই আজ নিজেকে ভারতবর্ষ বলেই মনে হচ্ছে। আমার পোশাকটি ভারতের জাতীয় পতাকা থেকে অনুপ্রাণিত বলেও জানান এ অভিনেত্রী। উর্বশী রাউতেলার জন্য এবারের আয়োজনটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগে ২০১৫ সালে মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ার মুকুট জিতেছিলেন অভিনেত্রী। সেবার তার মাথায় মুকুট পরিয়ে দিয়েছিলেন বর্ষীয়ান বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন। এবারের প্রতিযোগিতায় সেই সুস্মিতা সেনও ছিলেন নির্বাচন কমিটির সদস্য। মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের সেই স্মৃতিও বিশেষভাবে স্মরণ করেন সাবেক এ বিজয়ী। তবে আয়োজনের স্মৃতির চেয়েও এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে উর্বশীর জাতীয় পতাকা-অনুপ্রাণিত পোশাক এবং তা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর ‘আওয়ারাপান’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফিরেই বক্স অফিসে পুরোনো জনপ্রিয়তা ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইমরান হাশমি। মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৯৩ কোটি রুপি আয় করেছে তাঁর নতুন সিনেমা ‘আওয়ারাপান ২’। ফলে ২০০ কোটি রুপির মাইলফলক থেকে আর মাত্র ৭ কোটি ২০ লাখ রুপি দূরে রয়েছে ছবিটি। বক্স অফিসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ‘আওয়ারাপান ২’ এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ১৯২ কোটি ৮০ লাখ রুপি। এর মধ্যে ভারতের বাজারে সিনেমাটির নেট আয় ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ রুপি। দেশটিতে এর মোট গ্রস সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১৬২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। অন্যদিকে, বিদেশের বাজারেও ভালো ব্যবসা করছে সিনেমাটি। দশম দিনে বিদেশ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে ‘আওয়ারাপান ২’। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সিনেমাটির মোট গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ৩০ লাখ রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে আয় কিছুটা কমলেও সপ্তাহান্তে আবার গতি ফিরে পায় সিনেমাটি। শুক্রবার ভারতে ৫ কোটি ৭৫ লাখ রুপি নেট আয় করে ‘আওয়ারাপান ২’। পরদিন শনিবার সেই আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে। রবিবার আরও ভালো ব্যবসা করে একদিনে ৮ কোটি ৭৫ লাখ রুপি সংগ্রহ করেছে ছবিটি। মুক্তির প্রথম সপ্তাহ শেষে ভারতের বাজারে সিনেমাটির নেট আয় ছিল ১১৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহেও ধারাবাহিকভাবে ভালো ব্যবসা করায় এখন ২০০ কোটি রুপির ক্লাবে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে ইমরান হাশমির সিনেমাটি। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আওয়ারাপান’ ছিল ইমরান হাশমির ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত সিনেমা। প্রেম, বিরহ আর মেলোডিয়াস গানের আবহে তৈরি সিনেমাটি দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। প্রায় দুই দশক পর সেই আবেগ ও নস্টালজিয়াকে নতুনভাবে পর্দায় ফিরিয়ে আনার কারণেই ‘আওয়ারাপান ২’ নিয়ে দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ ছিল শুরু থেকেই। ২০২৬ সালের আলোচিত হিন্দি সিনেমাগুলোর তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে ছবিটি। একই সময়ে মুক্তি পাওয়া সানি দেওলের ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এর সঙ্গে বক্স অফিস লড়াইয়েও এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে ইমরান হাশমির সিনেমা। নিতিন কাক্কর পরিচালিত ‘আওয়ারাপান ২’-এ ইমরান হাশমির সঙ্গে অভিনয় করেছেন দিশা পাটানি, শাবানা আজমি, পুরান গাব্বি, সুভিন্দর ভিকি, বিজয়ন্ত কোহলি ও অতুল কুমারসহ অনেকে। বিশেষ চরিত্রে দেখা গেছে শ্রিয়া শরণ ও শাদ রন্ধাওয়াকেও। তবে সিনেমাটি নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। ধীরগতির প্রথমার্ধ, কিছুটা অনুমানযোগ্য গল্পের মোড় এবং দুর্বল খলনায়ক নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। যদিও ইমরান হাশমির অভিনয় পেয়েছে প্রশংসা। অনেকের মতে, পুরোনো ‘আওয়ারাপন’-এর আবেগ, জনপ্রিয় গান এবং ইমরানের উপস্থিতিকে ঘিরে দর্শকের নস্টালজিয়াই নতুন সিনেমাটির বক্স অফিস সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ।
ভারতের দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার অজিত কুমারের মোটরস্পোর্টের প্রতি প্রীতির কথা তার অনুরাগীদের অজানা নয়। পেশাদার মোটর রেসিংয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এই অভিনেতা এবার ইউরোপে একটি এন্ডুরেন্স রেসিং প্রতিযোগিতায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্য একটি গাড়িতে ধাক্কা দিলেও অজিত অক্ষত রয়েছেন। গুরুতর কোনো আঘাত পাননি তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে এন্ডুরেন্স রেসিং চ্যাম্পিয়নশিপের একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এশিয়ান লে মানস সিরিজ ও মিশেলিন লে মানস কাপের মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময়ই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। ফিল্মিবিটের প্রতিবেদনের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার সময় অজিতের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্য একটি গাড়িতে ধাক্কা দেয়। চাকার সমস্যাসহ বিভিন্ন কারিগরি জটিলতার কারণে রেসটি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তবে সংঘর্ষের পরও অজিত নিরাপদ ছিলেন এবং গুরুতর কোনো আঘাত পাননি। রেসিং ট্র্যাকে অজিতের এটাই প্রথম দুর্ঘটনা নয়। ২০২৫ সালে ইতালিতে জিটি৪ ইউরোপিয়ান সিরিজে তার গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। সেবারও কোনো আঘাত ছাড়াই গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। একই বছরের শুরুতে স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় পোর্শে স্প্রিন্ট চ্যালেঞ্জে তার গাড়ি দুবার উল্টে যায়। সেই দুর্ঘটনা থেকেও অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসেন অভিনেতা। এর আগে ২৪এইচ দুবাই এন্ডুরেন্স রেসের অনুশীলনের সময়ও তার পোর্শে গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মোটরস্পোর্টে অংশ নেওয়া অল্প কয়েকজন ভারতীয় অভিনেতার একজন অজিত। ২০০৩ সালে ফর্মুলা এশিয়া বিএমডব্লিউ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেন তিনি। এরপর ক্রেভেন্টিক ২৪এইচ সিরিজ ও জিটি৪ ইউরোপিয়ান সিরিজসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় রেস করেছেন। গত বছর দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুর্ঘটনার পর নিজের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কথা বলেছিলেন অজিত। তিনি জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথমেই তিনি বোঝার চেষ্টা করেন, তিনি নিজে আহত হয়েছেন কি না। এরপর গাড়ির অবস্থা এবং আবার রেস শুরু করা সম্ভব কি না, তা দেখেন। সবকিছু ঠিক আছে নিশ্চিত হওয়ার পর তার একমাত্র চিন্তা থাকে রেস শেষ করা এবং ডিএনএফ, অর্থাৎ রেস শেষ করতে না পারাটা এড়ানো। তার লক্ষ্য থাকে রেসটি শেষ করা। রেসিংয়ের ঝুঁকির কারণে তার পরিবারও উদ্বিগ্ন হয় বলে জানিয়েছিলেন অজিত। তবে তার মতে, অন্য চালকদেরও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি অভিনেতা বলেই তার দুর্ঘটনাগুলো বেশি সংবাদে আসে। অভিনয়ের ক্ষেত্রে অজিত কুমারকে পরবর্তী সময়ে ‘ডেয়ারডেভিল’ সিনেমায় দেখা যাবে। সিনেমাটি পরিচালনা করবেন অধিক রবিচন্দ্রন।