আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের সামনে কঠিন সমীকরণ: অর্থনৈতিক বিপর্যয়, না নৌ অভিযানের ঝুঁকি?

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ১১, ২০২৬ 0

ইরানে যুদ্ধ বাধানোর দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এক জটিল সমীকরণের সামনে পড়েছে, যার একদিকে রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, অন্যদিকে নৌ অভিযানে বিপর্যয়ের ঝুঁকি।

সিএনএন এক প্রতিবেদনে লিখেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ ধমনী সঙ্কুচিত হয়ে এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যাকে বিশ্লেষকরা বলছেন 'নন-লিনিয়ারিটি'। অর্থাৎ, হরমুজ প্রণালি যতদিন বন্ধ থাকবে, অর্থনৈতিক চাপ শুধু দ্বিগুণ হবে না, বহুগুণে বাড়ত থাকবে।

বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক দিক থেকে চেষ্টা চালাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল শুরু করতে জটিল সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাজারে হস্তক্ষেপ করে জ্বালানির দাম কমানোর উপায় খোঁজা হচ্ছে। জনসাধারণকে আশ্বস্ত করতে একটি প্রচারও শুরু হয়েছে; তাদের বোঝানো হচ্ছে, পেট্রোল পাম্পে যে মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তা হয়তো দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

কিন্তু পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের ভেতরে হিসাব-নিকাশ ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সোমবার ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাবনার কথা শোনানোর পর তা ৯০ ডলারে নেমেছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের ওই কথায় ভরসা রাখতে পারছেন না।

বিশ্ব বাজারে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শোধনাগরে আর তেল রাখার জায়গা হচ্ছে না। এ অবস্থা চললে মধ্যপ্রাচ্যের বড় কোম্পানিগুলো তেল উত্তোলন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।

'ডেথ ভ্যালি'

একজন মার্কিন কর্মকর্তা হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছেন 'মৃত্যু উপত্যকা' হিসেবে।

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ যদিও প্রস্তুত রয়েছে, তবু হরমুজের কৌশলগত বাস্তবতা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ইরান এ প্রণালিকে কার্যত দুই ভাগে ভাগ করেছে—একদিকে তাদের নৌবাহিনী, অন্যদিকে আরো আক্রমণাত্মক ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী।

এই বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর হাতে রয়েছে মাইন পাতা নৌযান, বিস্ফোরকভর্তি আত্মঘাতী বোট এবং উপকূল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা।

একজন মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সিএনএন লিখেছে, "আমরা যদি তাদের সক্ষমতা ধ্বংস করে দিতে চাই, তার আগেই তেলের দামের চাপ চরমে পৌঁছে যাবে।"

বর্তমানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সংকীর্ণ পথগুলো এড়িয়ে চলছে। এসব যুদ্ধজাহাজ যদিও ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে, কিন্তু তেলবাহী জাহাজকে সুরক্ষা দিতে এসকর্ট মিশনে গেলে নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে যেতে হবে, যেখানে যুদ্ধের কৌশলগত সুবিধা তেমন নেই।

সাধারণ পরিকল্পনা হল, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো তেলবাহী ট্যাংকারকে ইরানি হুমকি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার মতো অবস্থানে থাকবে এবং লিটোরাল কমব্যাট শিপগুলো (এলসিএস) পাহারা দেবে।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরান এখানে মনস্তাত্ত্বিক কৌশল খাটাতে পারে। উপসাগরে ঢোকার সময় তারা জাহাজে হামলা করবে—তেমন সম্ভাবনা কম; বরং বের হওয়ার সময়, যখন সেগুলো পুরোপুরি তেলবোঝাই থাকবে, তখনই হামলার আশঙ্কা বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান 'শক ভ্যালু' বা সর্বোচ্চ প্রভাব তৈরির চেষ্টা করতে পারে, যা হবে আরো উদ্বেগজনক। ইরান প্রথমে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজে হামলা করতে পারে, যেগুলো বৈরুত বিস্ফোরণের মতো ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। এরপর তারা তেলবাহী ট্যাংকার নিশানা করতে পারে, যাতে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব হবে সর্বোচ্চ।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি সোমবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের অনড় অবস্থান তুলে ধরে ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ এসকর্ট মিশন চালিয়ে হরমুজে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগের কথা বলেছিলেন। এর জবাবে লারিজানি এক্সে লেখেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধের আগুন এই অঞ্চলে জ্বালিয়েছে, তার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে কোনো নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে—তেমনটা মনে হয় না।"

মার্কিন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তি সিএনএনকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্ররা যদি একযোগে হঠাৎ করে প্রণালির আশপাশে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে, তাহলে তা হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইংগিত। তখন বুঝতে হবে, মার্কিন নৌ এসকর্ট অভিযান পরিকল্পনার স্তর পেরিয়ে বাস্তবায়নের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

সিএনএন লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত তাদের উপসাগরীয় অংশীদারদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, যার মধ্যে ইরানি নৌঘাঁটিগুলোও রয়েছে। এসব স্থাপনায় হামলা শুরু হলে তা এসকর্ট অভিযানের স্পষ্ট পূর্বাভাস হিসেবে দেখা যেতে পারে।

অন্য বিকল্পগুলো

মার্কিন সামরিক বাহিনী যখন ইরানের প্রতিরক্ষা অবস্থান আরও দুর্বল করার চেষ্টায় পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন তখন বাজার স্থিতিশীল করতে অন্য বিকল্পগুলোও ওজন করে দেখছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা আপাতত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রচার করছেন। তারা বলতে চাইছেন, জ্বালানি বাজারের বর্তমান অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মাত্রা কমে আসবে এবং শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে 'আরও স্থিতিশীল' অবস্থায় নিয়ে যাবে।

রোববার সিবিএসের 'ফেস দ্য নেশন' অনুষ্ঠানে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, "আমরা সাময়িকভাবে জ্বালানির উচ্চ দামের একটি পর্যায় পার করছি, তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও এটা কয়েক সপ্তাহের বিষয়, মাসের নয়। শেষ পর্যন্ত এটা আমাদের আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবে।"

সিএনএন লিখেছে, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়ে আলোচনাও করেছেন। পাশাপাশি হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলার পথ খুঁজে বের করতে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুদ 'স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ' ব্যবহার করার কোনো পরিকল্পনা হোয়াইট হাউস এখনও করছে না।

সোমবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর জি–৭ দেশগুলো কৌশলগত মজুদ থেকে তেল ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করলেও আপাতত সে সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এদিকে উদ্বিগ্ন জাহাজমালিকরা যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চালানোর সাহস পান, সেজন্য ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্বীমা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্রে ভাসমান জাহাজে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ রুশ তেল বাজারে ছাড়ার একটি সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

এছাড়া ভেনেজুয়েলায় এখন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকার। সেখানেও তেল উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে।

সিএনএন লিখেছে, ট্রাম্পের জন্য এই সংকট শুধু ভূরাজনীতির বিষয় নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে টিকে থাকারও বিষয়।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এমন এক রাজনৈতিক হুমকি তৈরি করতে পারে, যা কূটনৈতিক বক্তব্য দিয়ে ঢেকে রাখা কঠিন।

একটি তেল কোম্পানির কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত হরমুজ প্রণালিকে আবার নিরাপদ করা।

মার্কিন নৌবাহিনী যতক্ষণ না নিশ্চিত করতে পারছে যে তেলবাহী জাহাজগুলো ভাসমান নরককুণ্ডে পরিণত হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত ওই জলপথ পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে কার্যত জিম্মি করে রাখবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
এভিয়েশন খাতে ‘পারফেক্ট স্টর্ম’, স্থবির হয়ে পড়ছে বিশ্ব আকাশপথ

বিশ্বজুড়ে আকাশপথের যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোর ওপর নেমে এসেছে এক অভূতপূর্ব দুর্যোগ। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও বিমান চলাচলের জ্বালানি বা ‘জেট ফুয়েলে’র দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক এভিয়েশন শিল্প এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলো।   একই সঙ্গে আকাশচুম্বী বিমান ভাড়া এবং আনুষঙ্গিক ফি বৃদ্ধির ফলে সাধারণ যাত্রীদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে আকাশপথের ভ্রমণ। বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে এভিয়েশন খাতের জন্য একটি ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ বা চরম সংকটকাল হিসেবে অভিহিত করছেন। জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম ও সরবরাহ সংকট দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে জেট ফুয়েলের দাম ৭৪২ ডলার থেকে বেড়ে ১,৭১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেল ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু পথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও এভিয়েশন অ্যানালিস্ট অ্যালেক্স ম্যাকিরাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সতর্ক করে বলেছেন, প্রধান ইউরোপীয় বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে জেট ফুয়েলের মারাত্মক সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, অনেক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিমান সংস্থাগুলোকে ‘জ্বালানি নেই’ (No Fuel Available) এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে। এই সংকট কেবল ইউরোপে সীমাবদ্ধ নেই; এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোও এখন বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক দীর্ঘ পাল্লার ফ্লাইটকে গন্তব্যে পৌঁছানোর পথে অন্য কোনো দেশে যাত্রাবিরতি বা ‘ফুয়েল স্টপ’ নিতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ— উভয়ই বাড়িয়ে দিচ্ছে।   ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক ও পরিসংখ্যান এভিয়েশন অ্যানালিটিক্স কোম্পানি ‘সিরিয়াম’-এর তথ্যমতে, গত সোমবার নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে প্রতি ২০টির একটি বাতিল করা হয়েছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বাতিলের এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। গত সোমবার বিশ্বজুড়ে নির্ধারিত ১ লাখ ৪ হাজার ৬১৮টি ফ্লাইটের মধ্যে ৭ শতাংশ বা ৭,০৪৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গত বছর একই দিনে বাতিলের হার ছিল ৪.৭ শতাংশ। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে উত্তর আমেরিকায়। সেখানে গত সোমবার ১৪.৬ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা গত বছর ছিল মাত্র ৪.৪ শতাংশ। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রথম বড় মার্কিন সংস্থা হিসেবে তাদের মোট সক্ষমতার ৫ শতাংশ ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে।   বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও একই চিত্র এয়ার নিউজিল্যান্ড মে মাসের শুরু পর্যন্ত ১,১০০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এসএএস (স্ক্যান্ডিনেভিয়ান গ্রুপ) এপ্রিলে অন্তত ১,০০০টি ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স জ্বালানির দাম প্রতি ব্যারেল ১৬০-২০০ ডলারে পৌঁছালে মাসে ১০ থেকে ২০ শতাংশ ফ্লাইট কমানোর কথা জানিয়েছে।   বিমান ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি জ্বালানির বাড়তি খরচ সমন্বয় করতে গিয়ে এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের পকেট কাটতে শুরু করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স-এর প্রধান নির্বাহী স্কট কার্বি ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, লোকসান এড়াতে বিমান ভাড়া অন্তত ২০ শতাংশ বাড়াতে হবে। অনেক রুটে গড় বিমান ভাড়া ইতোমধ্যে ৪৬৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানি খরচ সামলাতে না পেরে গত সোমবার বিশ্বজুড়ে নির্ধারিত ফ্লাইটের ৭ শতাংশ বা প্রায় ৭,০৪৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। উত্তর আমেরিকায় এই বাতিলের হার গত বছরের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে। এয়ার নিউজিল্যান্ড ও এসএএস (SAS)-এর মতো বড় সংস্থাগুলো হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে। অনেক ক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছাতে মাঝপথে বাড়তি ‘ফুয়েল স্টপ’ নিতে হচ্ছে, যা ভ্রমণের সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে জ্বালানি কর বা ‘ফুয়েল সারচার্জ’ এর পাশাপাশি অন্যান্য আনুষঙ্গিক ফি-ও বাড়ানো হচ্ছে। জেটব্লু (JetBlue) তাদের ব্যাগেজ ফি বা মালামাল বহনের খরচ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। একে তারা ‘পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। থ্রিনফটি ট্রাভেলার (Thrifty Traveler)-এর নির্বাহী সম্পাদক কাইল পটার বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো সাধারণত একসাথে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তাই অদূর ভবিষ্যতে অন্যান্য সংস্থাও ব্যাগেজ ফি বা অন্যান্য অতিরিক্ত সেবার চার্জ বাড়িয়ে দেবে। মজার বিষয় হলো, টিকিটের দামের ওপর সরকারি শুল্ক থাকলেও এসব ফি’র ওপর শুল্ক দিতে হয় না, ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য এটি লাভের পথ প্রশস্ত করে।   ‘ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট’ ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ইউরোনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অলিম্পিক এয়ারওয়েজের সাবেক প্রধান রিগাস ডোগানিস মনে করেন, এয়ারলাইন্সগুলো এখন অস্তিত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে চাহিদা ধরে রাখতে ভাড়া কমানোর চাপ, অন্যদিকে উচ্চ জ্বালানি খরচের কারণে ভাড়া বাড়ানোর বাধ্যবাধকতা— সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।   এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী সংস্থা ‘কোরিয়ান এয়ার’ ১ এপ্রিল থেকে ‘জরুরি ব্যবস্থাপনা’ বা ‘এমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট’ কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান উ কি-হং এক অভ্যন্তরীণ নোটিশে জানান, এটি কেবল সাময়িক খরচ কমানোর চেষ্টা নয়, বরং কোম্পানির মূল ভিত্তি মজবুত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার অংশ। ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণাম এখন বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে প্রধান শেয়ার বাজারগুলোর সূচকও প্রায় ১০ শতাংশ পড়ে গেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর তথ্যমতে, যুক্তরাজ্য তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় ব্রিটেনের দিকে আসা কোনো তেলের জাহাজ বর্তমানে সাগরে দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই সংকট পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। নিজ ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে তিনি যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ যারা হরমুজ প্রণালীর কারণে জ্বালানি পাচ্ছে না, তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এক, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তেল কিনুন, আমাদের প্রচুর আছে। দুই, একটু সাহস সঞ্চয় করে প্রণালীতে গিয়ে তা দখল (TAKE IT) করুন।’ তার এই বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   প্রমোদতরীতেও বাড়তি চাপের আঁচ জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব কেবল আকাশে সীমাবদ্ধ নেই, তা সমুদ্রেও ছড়িয়েছে। স্টারড্রিম ক্রুজ জানিয়েছে, ২০ মার্চ থেকে যারা নতুন বুকিং দিচ্ছেন, তাদের প্রতি রাতের জন্য জনপ্রতি ১৫ ডলার বাড়তি সারচার্জ দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, জ্বালানির দাম কমলে এই বাড়তি খরচ কমিয়ে আনা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।   বিত্তবানদের ওপর নির্ভরতা ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে টিকিট বিক্রির হার রেকর্ড উচ্চতায় ছিল। এর কারণ হিসেবে কাইল পটার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিত্তবান ভ্রমণপিপাসুদের সংখ্যা এবং সামর্থ্য আগের চেয়ে অনেক বেশি। এয়ারলাইন্সগুলো এখন তাদের ওপরই ভরসা করছে, কারণ উচ্চ ফি বা বাড়তি ভাড়া তাদের ভ্রমণে খুব একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তবে, সাধারণ ও মধ্যবিত্ত যাত্রীদের জন্য আকাশপথের ভ্রমণ এখন বিলাসবহুল স্বপ্নে পরিণত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৭৫ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। যদি এমনটি হয়, তবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তেলের দাম ১০০ ডলারের উপরেই থাকতে পারে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম এবং লুফথানসা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে তাদের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও পঙ্গু করে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছে, সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাত এখন এক গভীর খাদের কিনারায়। একদিকে জ্বালানির তীব্র সংকট ও আকাশচুম্বী দাম, অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা— সব মিলিয়ে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। যতক্ষণ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামছে না এবং তেলের সরবরাহ পথগুলো পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে না, ততক্ষণ বিমান যাত্রীদের এই চড়া মূল্য দিয়ে এবং ফ্লাইটের অনিশ্চয়তা নিয়েই পথ চলতে হবে। তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, ইউরোনিউজ, এনবিসি নিউজ, সিরিয়াম, রয়টার্স এবং ব্লুমবার্গ।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে ইসরায়েলের ৪ সেনা নিহত

ছবি: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ইরানের মুহুর্মুহু হামলা

বিশেষ এই বাহিনী দিয়ে স্থল অভিযান করতে পারেন ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে নামছে মার্কিন বিশেষ এয়ারবর্ন সেনা

ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা জোরদারে মাইনহান্টার পাঠাতে আগ্রহী বেলজিয়াম

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে মাইনহান্টার মোতায়েনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেলজিয়াম। দেশটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তারা এ উদ্যোগে যুক্ত হতে পারে।   বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়, বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো জানিয়েছেন, প্রণালিটি সুরক্ষিত রাখতে একটি বহুজাতিক জোটে অংশ নিতে আগ্রহী তাদের দেশ। তবে স্থিতিশীল পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত মাইনহান্টার মোতায়েন করা হবে না।   এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩২ দেশের একটি যৌথ জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।   তবে বেলজিয়াম স্পষ্ট করেছে, এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া মানে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমর্থন নয়। তাদের মতে, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে শুরু হয়েছে।   দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেন জানান, নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা তাদের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে চলমান উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন মুখ: মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কে?

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে স্থল অভিযানের ভাবনা ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

আরব লীগের নতুন মহাসচিব হচ্ছেন নাবিল ফাহমি, জুলাই থেকে দায়িত্ব শুরু

ছবি: সংগৃহীত
আমরা ইরান যুদ্ধে জড়াব না : যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য ইরানে কোনো সেনা পাঠাবে না এবং চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেবে না।   তিনি বলেন, এটা আমাদের যুদ্ধ নয়, তাই আমরা এতে জড়াব না।    তবে ব্রিটিশ নাগরিক, স্বার্থ ও মিত্রদের সুরক্ষায় দেশটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।   স্টারমার আরও জানান, হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।   তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে চাইলে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।   সূত্র: আল জাজিরা

আক্তারুজ্জামান মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

আইআরজিসির নৌপ্রধান নিহত হয়েছে : ইরান

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র-খারগ দ্বীপ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কি পৌঁছাতে পারে লন্ডন ও প্যারিসে?

0 Comments