চোট কাটিয়ে স্কোয়াডে ফিরলেও, মাঠে নামলেন না হ্যারি কেইনে। দলের সেরা স্ট্রাইকারের অনুপস্থিতি মুহূর্তের জন্য বুঝতে দিলেন না তার সতীর্থরা। দুই অর্ধেই গোল উৎসব করে আতালান্তাকে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন মিউনিখ।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে মঙ্গলবার রাতে ৬-১ গোলে জিতেছে ভেসোঁ কম্পানির দল। ইতালিয়ান ক্লাবটির মাঠে জোড়া গোল করেছেন মাইকেল ওলিসে। সফরকারী বাকি চার গোল ইয়োসিপ স্তানিসিচ, সের্গে জিনাব্রি, নিকোলাস জ্যাকসন ও জামাল মুসিয়ালার।
বল দখল কিংবা আক্রমণ, কোনো ক্ষেত্রেই জার্মান চ্যাম্পিয়নদের কোনো চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি আতালান্তা। ম্যাচে মাত্র ৩০ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১১ শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। এই শটগুলোর অধিকাংশই অবশ্য শেষ দিকে, ফল নিয়ে যখন সব অনিশ্চয়তা শেষ। আরে বায়ার্নের ২৫ শটের ১৩টি লক্ষ্যে ছিল।
প্রথম মিনিট থেকে আক্রমণ শুরু করে বায়ার্ন। ২৫ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা।
দ্বাদশ মিনিটে ছোট কর্নারের পর, ছয় গজ বক্সে বল বাড়ান সের্গে জিনাব্রি এবং রক্ষণের দুর্বলতায় গোলমুখে ফাঁকায় বল পেয়ে অনায়াসে জালে পাঠান ক্রোয়াট ডিফেন্ডার স্তানিসিচ।
প্রবল চাপ ধরে রেখে ১০ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে বায়ার্ন। সতীর্থের পাস পেয়ে ডি-বক্সের লাইন বরাবর আড়াআড়ি গিয়ে জোরাল শটে গোলটি করেন ওলিসে। পরের গোলেও জড়িয়ে তার নাম। এই ফরাসি উইঙ্গারের বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে জালে পাঠান জার্মান ফরোয়ার্ড জিনাব্রি।
বিরতির আগে ব্যবধান বাড়তে পারতো আরও। তবে এ যাত্রায় ভাগ্য সহায় হয় স্বাগতিকদের, ডি-বক্সের বাইরে থেকে জিনাব্রির জোরাল শট ক্রসবারে লেগে বেরিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার আতালান্তার জালে বল। ডি-বক্সে লুইস দিয়াসের ওয়ান-টাচে ছোট পাস পেয়ে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সেনেগালের স্ট্রাইকার জ্যাকসন।
৬৪তম মিনিটে প্রায় একইভাবে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ওলিসে। আলফুঁস ডেভিসের পাস পেয়ে, বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে একাধিক খেলোয়াড়ের বাধা এড়িয়ে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। এর তিন মিনিট পর, গোলমুখে জ্যাকসনের পাস পেয়ে দারুণ টোকায় ব্যবধান আরও বাড়ান জিনাব্রির বদলি মুসিয়ালা।
৭৬তম মিনিটে স্কোরলাইনে যোগ হতে পারতো উপামেকানোর নাম। তবে তার হেড পোস্টে বাধা পেলে ব্যবধান আর বাড়েনি।
বরং একেবারে শেষ সময়ে খুব কাছ থেকে আতালান্তার সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।
এই লড়াইয়ের ফিরতি লেগ হবে আগামী বুধবার, বায়ার্নের মাঠে।
একই সময়ে শুরু আরেক ম্যাচে ইংল্যান্ডের টটেনহ্যাম হটস্পারকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ইতালি এখন এক অকল্পনীয় ও অন্ধকারতম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে ইউরোপীয় অঞ্চলের প্লে-অফ ম্যাচে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৬৬ নম্বর দল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিয়েছে। এর ফলে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত আজ্জুরিরা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে ব্যর্থ হলো। বসনিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি ইতালির জন্য হতে পারত গত এক দশকের ব্যর্থতার পাপমোচনের সুযোগ, কিন্তু আক্ষেপ যে তাদের আবারও ঘরে বসে অন্যের খেলা দেখতে হবে এবং আরেকটি সুযোগের জন্য চার বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা সইতে হবে। কাগজ-কলমে ১২ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে থাকা ইতালি এবং তাদের চেয়ে ৫৪ ধাপ নিচে থাকা বসনিয়ার লড়াইটি ছিল সব দিক থেকেই অসম। ইতালির জনসংখ্যা যেখানে প্রায় ৬ কোটি, সেখানে বসনিয়ার মাত্র ৩৫ লাখ। এমনকি ইতালি দলের খেলোয়াড়দের সম্মিলিত বার্ষিক বেতন প্রায় ১০০ কোটি ইউরো, যার বিপরীতে বসনিয়ার খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ইতালির সাত ভাগের এক ভাগ মাত্র। অথচ মাঠের লড়াইয়ে সেই অর্থ বা পরিসংখ্যান কোনো কাজে আসেনি। জেনিৎসার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে বসনিয়ার চতুর্থ শটটি যখন জালের ঠিকানা খুঁজে নিল, তখন স্টেডিয়াম জুড়ে নেমে আসে এক স্তব্ধতা। ইতালিয়ান খেলোয়াড়রা তখন সবুজ ঘাসে মাথা নিচু করে অবিশ্বাসের নোনা জলে ভাসছিলেন, আর অন্যদিকে তখন চলছিল বসনিয়ার রূপকথার জয়োল্লাস। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইতালির জন্য বেশ আশাজাগানিয়া ছিল। জেনিৎসার মাঠে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগে মইসে কিন গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে ইতালীয় সমর্থকদের উল্লাস দেখে মনে হচ্ছিল, দীর্ঘ ১২ বছরের আক্ষেপের অবসান বুঝি আজই হতে চলেছে। কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন অন্য চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিলেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আজ্জুরি সেন্টার ব্যাক আলেসান্দ্রো বাস্তোনি সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইতালি মুহূর্তেই রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে এবং সেই সুযোগে দ্বিতীয়ার্ধে ইতালির ওপর স্টিম রোলার চালায় বসনিয়া। গোলরক্ষক জানলুইজি দোনারুম্মা প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে কয়েকবার নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ডেডিচের রক্ষণচেরা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে সমতা ফেরান বদলি খেলোয়াড় হারিস তাবাকোভিচ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়েও ১-১ সমতা বিরাজ করায় ম্যাচ গড়ায় স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকারে। সেখানে ইতালির পিও এসপোসিটো এবং ব্রায়ান ক্রিস্টান্তে গোল করতে ব্যর্থ হলে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট পায় বসনিয়া। বসনিয়ার হয়ে জয়সূচক পেনাল্টিটি জালে জড়ান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এসমির বাজরাকতারেভিচ, যিনি মাত্র কয়েক মাস আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে বসনিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বাছাইপর্বে যথাক্রমে সুইডেন ও উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেওয়া ইতালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে এই হার আরও একটি কলঙ্ক তিলক যুক্ত করল। কোচ জেনারো গাত্তুসো পরাজয় শেষে বিষণ্ণ মনে স্বীকার করেন, জাতীয় দল এবং ক্লাব পর্যায়—উভয় ক্ষেত্রেই ইতালি এখন কঠিন সময় পার করছে। ডিফেন্ডার লিওনার্দো স্পিনাজ্জোলাও সেই একই হাহাকার প্রকাশ করে জানান যে, এই বাদ পড়াটা বিশেষ করে সেই শিশুদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের যারা কখনও ইতালিকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখেনি। ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ এবং ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের এই বিদায়ের অর্থ হলো, ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে কোনো ম্যাচ না খেলে তাদের অন্তত ১৬ বছর পার করতে হবে। ২০০৬ সালের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জেতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর কোনো ম্যাচ খেলা
অধিনায়ক হ্যারি ম্যাগুয়েরের সাথে নতুন চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ক্লাব সূত্র ইএসপিএনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইউনাইটেডের সাথে ম্যাগুয়েরের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ জুনে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই তার এজেন্ট ও ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা অনেকখানি এগিয়ে গেছে এবং উভয় পক্ষ থেকেই এই আলোচনাকে বেশ ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারের সাথে নতুন চুক্তির মেয়াদ হতে পারে এক বছরের। অর্থ্যাৎ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত ম্যাগুয়েরে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে থাকতে পারেন। সাথে আরো এক বছর চুক্তি বাড়ানোর শর্তও রয়েছে। মাইকেল ক্যারিকের অধীনে এবারের প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে ইউনাইটেডের নব জাগরণে ম্যাগুয়েরের অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। যে কারনে ইতোমধ্যেই প্রিমিয়ার লিগের বেশ কিছু ক্লাবে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন ম্যাগুয়েরে। ৩৩ বছর বয়সী ম্যাগুয়েরে শেষ ১০টি ম্যাচেই মূল একাদশে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ক্যাম্পে রয়েছেন। শুক্রবার ওয়েম্বলিতে উরুগুয়ের সাথে ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচটিতে ম্যাগুয়েরে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে আগামী ১৩ এপ্রিল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে লিডস ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ইউনাইটেডের পরবর্তী ম্যাচে অবশ্য নিষেধাজ্ঞার কারনে খেলতে পারবেন না ম্যাগুয়েরে। বোর্নমাউথের সাথে সর্বশেষ ২-২ গোলে ড্রয়ের ম্যাচটিতে ম্যাগুয়েরে লাল কার্ড পেয়েছিলেন। এদিকে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব শেষে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের ফিটনেসের ব্যপারে আশাবাদী ক্যারিক। পিঠের ইনজুরির কারনে এখনও দলে ফিরতে পারেননি মাথিস ডি লিট। এই সুযোগে দুই তরুণ লেনাই ইয়োরো ও এইডেন হেভেন মূল দলে নিজেদের জায়গা ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। একটি সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে কোবি মেইনুর সাথে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তির বিষয়ে ইউনাইটেড আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই মিডফিল্ডারের সাথে ইউনাইটেডের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালে। তবে দলের প্রথম পছন্দের একজন খেলোয়াড় হিসেবে ২০ বছর বয়সী মেইনুর সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করতে আগ্রহী ইউনাইটেড।
খেলাধুলায় আর্থিক নিশ্চয়তা না পাওয়ায় দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন আরচারির বড় দুই তারকা রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকী। এসব কারণে বাংলাদেশের অনেক অ্যাথলেটই খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেননি। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের এই নাজুক পরিস্থিতি বদলে দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রীড়াবিদদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘ক্রীড়া কার্ড’। গতকাল তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ১২৯ ক্রীড়াবিদের হাতে ভাতা বাবদ এক লাখ টাকা করে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মাসিক এক লাখ টাকার বেতন আগামী চার মাস নিয়মিত পাবেন সাবিনা খাতুন-খই খই সাই মারমারা। ১২০ দিন পর নতুন করে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। যারা ব্যর্থ হবেন, তারা বাদ পড়ে যাবেন ক্রীড়া ভাতা থেকে। উঠতি কোনো তারকা তখন যুক্ত হবেন এই ক্রীড়া ভাতায়। বর্তমান সরকারের এমন উদ্যোগে খেলাধুলার প্রতি ক্রীড়াবিদদের আগ্রহ বাড়বে বলে বিশ্বাস ভাতা পাওয়া খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ক্রীড়া-সংশ্লিষ্টদের। ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা: ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের তালিকা করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, সুইমিং, ভারোত্তোলন, উশু, অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সেপাক টাকরো, ফুটসাল, ব্রিজ, টেবিল টেনিস, নারী কাবাডি দল, নারী ভলিবল দল ও ব্যাডমিন্টনের মোট ১২৯ ক্রীড়াবিদ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশকে ১৮০টি পদক এনে দিয়েছেন। এই সাফল্যে প্রথম ধাপে তাদের দেওয়া হয়েছে ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা। ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা সুবিধাগুলো কী: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে পদক এনে দেওয়া ২০টি ইভেন্টের খেলোয়াড়দের সবাইকে ভাতা হিসেবে এক লাখ টাকা দিয়েছে সরকার। গতকাল সবার অ্যাকাউন্টে এই টাকা চলেও গিয়েছে। ভাতার বাইরে পদকজয়ীদের সম্মাননা হিসেবে অর্থ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যারা স্বর্ণপদক জিতেছেন, তাদের নিজ হাতে তিন লাখ টাকার চেক তুলে দেন তারেক রহমান। রুপাজয়ীদের দেড় লাখ ও ব্রোঞ্জজয়ীরা পেয়েছেন সম্মাননা হিসেবে এক লাখ টাকা করে। একই সঙ্গে ছবিসংবলিত নাম, আইডি নম্বরযুক্ত সবাইকে দেওয়া হয়েছে ‘ক্রীড়া কার্ড’, যা মাসিক ভাতা পেতে লাগবে। প্রেরণা দেবে এই স্বীকৃতি: তিন দিন আগে থাইল্যান্ডে কম্পাউন্ড দলগত বিভাগে স্বর্ণ জেতা আরচারি দলের অন্যতম সদস্য হিমু বাছাড় বলেন, ‘ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় কেউ আসতে চায় না। এখন ক্রীড়াবিদরা একটা ভাতার আওতায় আসায় অনেকেই তাঁর পছন্দ অনুযায়ী খেলায় আসবেন। বেশ দারুণ উদ্যোগ।’ আরচার হিমুর সঙ্গে একমত নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও, ‘এখন যে কেউ খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। তাঁকে খেলার পাশাপাশি অন্য কোনো চিন্তা করতে হবে না। পরিবারও তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় থাকবে না।’ টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদও মনে করেন এই ভাতা ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে, ‘আমাদের অনেক দিনের চাওয়া ছিল পেশা হিসেবে খেলাকে নিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটি ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে। ’ আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও: গত বছর জুনিয়র হকি দল খেলেছিল বিশ্বকাপে। বাংলাদেশের হকির ইতিহাসে যেটি বড় অর্জন। সেই হকি দলকে ভাতার আওতায় না দেখে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। আবার সেপাট টাকরোর মতো অপ্রচলিত খেলাকে ‘ক্রীড়া কার্ড’-এর আওতায় আনায় ক্রীড়াঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। যদিও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, ক্রিকেটের বাইরে বাকি সব ফেডারেশনের খেলোয়াড়দের তারা বেতনের আওতায় আনবেন। সে তালিকায় হকিও থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ফুটসাল মাঠ চাইলেন সাবিনা: প্রথমবার অংশ নিয়েই বাংলাদেশ নারী দল সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে ফুটসালের কোনো মাঠ নেই। গতকাল ক্রীড়া ভাতা ও ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটা ফুটসালের মাঠ চেয়েছেন সাবিনা। সাবিনার বক্তব্য শেষ হতে না হতেই চেয়ারে বসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সাবিনা, তোমার যে মাঠের দাবিটা– আমরা এরই মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মোটামুটিভাবে কাজটা শেষের দিকে।’