অ্যামোনিয়ার তীব্র সংকটে এবার রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কারখানাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সার উৎপাদন বন্ধ হয়।
এর ফলে চট্টগ্রামে অ্যামোনিয়া সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া তৃতীয় সার কারখানার তালিকায় যুক্ত হলো ডিএপি। এর আগে গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
ডিএপি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মাঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকেই কারখানায় নতুন করে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আগের মজুত থাকা অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। তবে সেই মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তিনি বলেন, “যখনই অ্যামোনিয়া সরবরাহ পাওয়া যাবে, তখনই পুনরায় উৎপাদন শুরু করা হবে।”
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) পরিচালিত এই ডিএপি কারখানাটি দেশের কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের চাহিদা পূরণে এটি অন্যতম প্রধান উৎস।
সরকার কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে কারখানাটি স্থাপন করে। ২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া এ কারখানার দুটি ইউনিটের প্রতিটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮০০ টন।
ডিএপি কারখানার নিজস্ব অ্যামোনিয়া উৎপাদন ব্যবস্থা না থাকায় পাশের সিইউএফএল ও কাফকো থেকে সরবরাহকৃত অ্যামোনিয়ার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ওই দুই কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপি কারখানাও ধীরে ধীরে সংকটে পড়ে।
প্রায় দেড় মাস মজুত থাকা অ্যামোনিয়া দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কৃষি মৌসুমে সার সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এতে কৃষক পর্যায়ে সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা ও সরকারের ভর্তুকির চাপও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অ্যামোনিয়া সংকটে বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার কার্যক্রম। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত কারখানাটির অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) আলমগীর জলিল। এর আগে জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে যায় রাষ্ট্রয়াত্ব সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং বহুজাতিক কোম্পানির সার কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-এর ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ডিএপি কারখানাটি এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ওই দুটি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই ডিএপিএফসিএলের কাঁচামাল সরবরাহ পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। সংকট মোকাবিলায় মজুদ অ্যামোনিয়া দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ফুরিয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে এটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে মজুদ দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল, এখন তা শেষ। নতুন করে অ্যামোনিয়া সরবরাহ শুরু না হলে উৎপাদন পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়।
পিরোজপুরে পুলিশ অফিসার্স মেসের এক অস্থায়ী কেয়ারটেকারকে চুরির অভিযোগে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া এবং গলিত মোম ঢেলে গুরুতরভাবে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলামসহ তিনজনকে ক্লোজড করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ফকির (৪০) পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পুলিশ অফিসার্স মেসে অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৩ এপ্রিল ঘটনাটি ঘটলেও তা ১৭ এপ্রিল প্রকাশ্যে আসে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, পিরোজপুর পুলিশ লাইনস সংলগ্ন একটি ভবনের মেসে ডিবির ওসি আরিফুল ইসলাম থাকতেন। তার কক্ষের একটি চাবি ইউনুসের কাছে ছিল। সোমবার দুপুরে চাবি ফেরত চাইলে ইউনুস তা দিতে না পারায় তার কক্ষ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ এনে ইউনুসকে দায়ী করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে হাতকড়া পরিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। নির্যাতনের সময় চিৎকার করলে মুখে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে রান্নাঘরে নিয়ে গলিত মোম তার শরীরের সংবেদনশীল স্থানে ঢেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। পরে আবার মেসে এনে নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের সদস্যরা টাকা দিলে তাকে পুলিশ সুপারের কাছে নেওয়া হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী ইউনুসের বক্তব্য শোনার পর মেসের ঝাড়ুদার শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। শাকিল চুরির কথা স্বীকার করে এবং টাকা ফেরত দেয়। এরপর ইউনুসের পরিবারের দেওয়া টাকাও ফেরত দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইউনুসকে চিকিৎসার সময় ঘটনাটি গোপন রাখতে চাপ দেওয়া হয়। প্রথমে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা করানো হয় এবং পরে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাকে ভিন্ন তথ্য দিতে বাধ্য করা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর ইউনুস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে ভয় পাচ্ছেন তারা। তবে পুলিশ সুপার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওসি আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিবির ওসি আরিফুল ইসলামসহ তিনজনকে ক্লোজড করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামে জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১১টি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এতে নগর ও আশপাশের এলাকায় লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন ছিল ১,৩৮০.৫৩ মেগাওয়াট। তবে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তা কিছুটা কমে ১,৩৫৩.৫০ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। একদিনের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৭ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আনলিমা ১১৬ মেগাওয়াট, জুলদা-২ ও ৩, রাউজান ১ ও ২ এবং কাপ্তাইয়ের তিনটি ইউনিটসহ মোট ১১টি কেন্দ্র সারাদিনই বন্ধ ছিল। এছাড়া কক্সবাজার উইন্ড প্ল্যান্ট থেকেও কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। দোহাজারী কেন্দ্রটি সকালে বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যায় ৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনে ফিরে আসে। তবে এনার্জিপ্যাক কেন্দ্রটি সকালে ১১ মেগাওয়াট উৎপাদন করলেও সন্ধ্যার পর সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করছে এসএস পাওয়ার (বাঁশখালী) এবং মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যে বাঁশখালী কেন্দ্রটি সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ ৬১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৪৫ শতাংশ। শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি ধারাবাহিকভাবে ২১৪ থেকে ২১৮ মেগাওয়াট উৎপাদন বজায় রেখেছে। অন্যদিকে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। বেলা ১১টায় গ্রিডে সরবরাহ ছিল ৮৮.৯৩ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যায় বেড়ে ১৪২.৩০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। একই সময়ে চট্টগ্রামের স্থানীয় ব্যবহারের পরিমাণ কমে ১,১৪২.২০ মেগাওয়াটে নেমে আসে। চট্টগ্রাম পিডিবির সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাসের চাপ কম এবং জ্বালানি তেলের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ওঠানামা করছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।