বিশ্ব

তিউনিশিয়া উপকূল থেকে ১২ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল থেকে অন্তত ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকাডুবির পর হতাহতের ওই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এক অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করেছে দেশটির ন্যাশনাল গার্ড।

 

তিউনিশিয়ার ন্যাশনাল গার্ড বলেছে, ১৫ জন অভিবাসী নিয়ে ওই নৌকাটি শুক্রবার রাতে তিউনিশিয়ার উপকূল থেকে যাত্রা করে। যাত্রার পর দেশটির জারজিস উপকূল থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে সমুদ্র সেটি ডুবে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে যায় ন্যাশনাল গার্ড। প্রথমে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধারের পর আরো ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিকে নিখোঁজ দুজনের সন্ধানে অভিযান চলছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

 

অভিবাসীদের ১৪ জন লিবিয়ার বেন গুয়ের্দানে শহরের বাসিন্দা। নৌকাডুবির পর শহরটিতে ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন বাসিন্দারা। এসময় রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

ইউরোপের দেশ ইতালির লাম্পেদুসা থেকে ১৪৫ কিলোমিটার দূরে আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়া থেকে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার অভিবাসী নৌকায় চড়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (আইওএম) তথ্য বলছে, মধ্য-ভূমধ্যাসাগরের এই পথ বিশ্বে অভিবাসীদের জন্য ভয়ঙ্কর যাত্রাপথ।

 

আইওএম বলছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে মধ্য-ভূমধ্যসাগরের এই পথ দিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে গিয়ে নিহত অভিবাসীর সংখ্যা তার আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত এই পথে ৯১৪ অভিবাসী নিহত হয়েছেন।

 

অভিবাসীদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে তিউনিশিয়া। ২০২৩ সালে ২৫৫ মিলিয়ন ইউরোর একটি চুক্তি সাক্ষর করে ইইউ এবং মরক্কো। এই অর্থের প্রায় অর্ধেক অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ব্যবহার করার কথা রয়েছে।

 

সূত্র: এএফপি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ওপর নির্ভর করছে ইরান সংকটের ভবিষ্যৎ সমাধান

সম্ভবত স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তির পর থেকে এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ে। বর্তমানে দুটি বড় ২৯ চলছে-একটি ইউরোপের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে, অন্যটি বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সরবরাহকে। পূর্ব এশিয়ায় চীন ক্রমাগত তাইওয়ানকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার সহায়তায় উত্তর কোরিয়া তাদের সামরিক প্রযুক্তির আধুনিকায়ন করছে। সহজ কথায়, আগ্রাসী শক্তিগুলো এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা নিজেদের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা, ক্ষতিকর অভ্যন্তরীণ এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং যতটা সম্ভব আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে লড়াই করছে।       ইউক্রেন ও ইরান কেন্দ্রিক যুদ্ধ দুটি এখন পর্যন্ত আলাদাভাবেই চলছে। তবু সম্প্রতি এদের মধ্যে কিন্তু সংযোগ বা পারস্পরিক প্রভাব লক্ষ করা গেছে। সেসঙ্গে একটি গভীর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে, এই সংঘাতগুলো হয়তো শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। যদিও সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্ভাবন' এখনো ক্ষীণ, তবু প্রকৃত বিপদ বিদাম'ন; কারণ এই দুটি যুদ্ধে লিপ্ত পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগসত্র রয়েছে। তবে আশার কথাও শোনা যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, রাশিয়াও ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। আবার যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। তবে কেউই তার নিজস্ব শর্তে ছাড় দিচ্ছে না। তাই বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তিতে ভূমিকা রাখতে পারে।       ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের সংযোগ ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন্থণর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনন্সি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বৈঠকের মধ্য দিয়ে সেই সংযোগটি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ইউক্রেনের ড্রোন বিশেষজ্ঞরা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে গিয়ে তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কৌশল বিনিময় করেছেন-যা এই সম্পর্কেরই অরেকটি প্রমাণ। এছাড়া কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকর একটি সমরিক চালান ধ্বংস করার ঘটনাটিও এই সংগ্রহণকে সামনে নিয়ে এসেছে। ইরান হয়তো পালটা আঘাত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে কারণ ইউক্রেনে হামলা চালাতে হলে সম্ভবত তুরস্কের আকাশসীমা অতিক্রম করতে হবে; আর তুরস্ক এর কঠোর জবাব দেবে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের বাইরেও ইরান কেন্দ্রিক সংঘাতের তীব্রতা আরো একটি বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকলে তা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মম্পর ঝুঁকি তৈরি করবে ক্রমবর্ধমান এসব সংকটের মধ্যে একমাত্র ভালো খবর হলো, উল্লান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ দুটি একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়নি এবং আমেরিকর মনোযে অন্যদিকে নিবন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে চীন তাইওয়ানে অক্রমণ চালায়নি। চলমান এসব উত্তপ্ত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অবশ্য এটুকু স্বস্তি খুব একটা বড় কিছু নয়।     যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সবাই সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলছে ইউক্রেন যুদ্ধ। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথা অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ৫ লক্ষ সেনা নিহত এবং মোট হতাহতের সংখ্যা ১৫ লাখের কাছাকাছি। যদিও মস্কো এই তথ্য স্বীকার করছে না। তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি খাত ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার টাংক ও বর্মযুক্ত সামরিক যান ধ্বংসে রাশিয়ার সামরিক আধুনিকায়ন দীর্ঘ পেছনের দিকে চলে গেছে। ইউক্রেনের অন্তত ৫ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৬ লাখ ২৫ হাজার সেনা হতাহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে দেড় লাখের মতো রুশ হামলায় হয়রেনের শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাখ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিক দেশত্যাগী হয়ে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছে, যা দেশটির জনমিতি ও সামগ্রিক সক্ষমতার ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে এনেছে।       যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে চারটি পক্ষ সামরিক, অর্থনৈতিক মানবিকভাবে তীব্র ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা অন্তত ১৭টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সেনাসদস্যরা নিহত ও আহত হয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাংকার হামলা ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার করণে বৈশ্বিক কাণিজ্যে ও স্বর্কিন প্রভাবের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।       যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার এবং পরমাণু ও সামরিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটিতে হাজারো মানুষ নিহত, আহত ও কস্তুচ্যুত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে। ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্তের আঘাতে ইসরাইলের একাধিক সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেবানন, ইরাক, পারস্য উপসাগরীয় দেশ এবং জর্ডান পর্যন্ত এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে প্রাণহানি ও অবকাঠামোখাত ধ্বংস হয়েছে হরমুজ প্রণালি ও তেলবাহী জাজে হামলার কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।       ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রভাব ইরানে! রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। মস্কো হয়তো মনে করেছিল, অল্প দিনের মধ্যেই কিয়োত পরা ক্ষয় স্বীকার করবে। প্রেসিডেন্ট পুতিন এখনো তার দেশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বঙ্গয় রেখেছেন এবং আশঙ্কা করছেন, সমঝোতা বা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলে তিনি হয়তো ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। ইউক্রেন যেহেতু তাদের কোনো ভূখণ্ডই (যা এখনো রাশিয়ার দখলে যায়নি) ছেড়ে দিতে রাজি নয়, তাই সম্ভাব্য সমঝোতা হলে পুতিনের হাতে দেখানোর মতো তেমন কোনো অর্জনই থাকবে না আবার ইউক্রেনের প্রেসিটে জেলেনস্কিও জানেন, রাশিয়াকে ভূখণ্ড ছেড়ে দিয়ে সমঝোতা হলে তার ক্ষমতাও টিকে থাকবে না। কারণ তিনি দিন দিন দেশে অজনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। কেবল ইউক্রেন নয়, রাশিয়ার সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা হলে তা ইউরোপের জন্য পর জয় স্বীকার করা হবে।     এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আটকে গেছে ইরান যুদ্ধে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন হয়তো মনে করেছিল যে, প্রথম হামলাতেই ইরানে সরকার পরিবর্তন হবে। কিন্তু সেটা হয়নি, বরং মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ায় সাধারণ জনগণ এখন সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। আবার তেহরানের হামলায় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বিশ্বের পর শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান দ্রুত যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে এই সুযোগই নিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন তার পরামর্শ, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার মিত্র এবং তার ওপর নির্ভরশীল ইউক্রেনকে বাগে এনে যুদ্ধ থামাতে পারে, তাহলে তিনিও ইরানকে চাপ দিয়ে যুদ্ধ থামাতে জোর প্রচেষ্টা চালাবেন।       ইরানও রাশিয়ার অন্যতম মিত্র এবং সামরিক সহায়তার মুখাপেক্ষী। যুদ্ধ থামাতে প্রথম বার ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র এবার দ্বিতীয় বারের মতো চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিদল রাশিয়া ও ইউক্রেন সফর করেছে এবং দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে এখনো আশার বাণী তারা শেনতে পারেননি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, দ্রুত যুদ্ধ শেষ হবে। আবার ইউক্রেনেও রুশ হামলার মাত্রা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনন্সি এখন প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকেরও প্রস্তাব দিয়েছেন তাই পুতিনের আহ্বান শেষ ট্রাম্প কস্তবায়ন করতে পারবেন কিনা তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বের আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে ন্যায়সংগত বিশ্ব গড়ার আহ্বান পুতিনের

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেন সংঘাতের জেরে সৌদির সীমান্ত শহরে জরুরি সতর্কতা জারি

সৌদির পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে ৪% তেল সরবরাহ কমার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা কমছে, নতুন করে ভাবছে বিশ্ব

অর্থ জমা রাখা, অস্ত্র কেনা কিংবা শিক্ষার্থীদের পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদেশি সরকার ও মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের প্রথম পছন্দ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই অবস্থান এখন ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর নানা উদ্যোগ নিচ্ছে দেশগুলো।   গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ সরিয়ে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। দেশটি জানিয়েছে, চরম পদ্ধতিগত ঝুঁকি মোকাবিলায় এটি একটি সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ। ফ্রান্স ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক থেকে তাদের সব স্বর্ণ সরিয়ে নিয়েছে। একই পথে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে জার্মানিও।   যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল নরওয়ের তহবিলও। ট্রেজারি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।   অর্থনীতির বাহিরেও ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজছে। অস্ত্রের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে আরও বেশি সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে চাইছে ইউরোপ, যেন মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষও নতুন করে হিসাব-নিকাশ কষছেন। সর্বশেষ ভর্তি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন ১০ শতাংশ কমেছে। কঠোর ভিসানীতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।    যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটনও কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়, যা মহামারির পর সর্বোচ্চ পতন। কানাডীয় পর্যটকদের ভ্রমণ কমেছে ২৫ শতাংশ। যা ২০২৬ সালের শুরুর দিকেও সেই পতন অব্যাহত ছিল। ট্রাম্পের মেয়াদ শুরুর পর জার্মানদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণও ২৫ শতাংশ কমেছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপেও পশ্চিমা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১০টি দেশের মধ্যে শুধু হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে এখনো নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে করেন।    তবে এর অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা নয়। বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের আধিপত্য এখনো অটুট, মিত্ররা মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের প্রধান গন্তব্য। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বর্ণের মজুত ফিরিয়ে আনার দাবি জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে নতুন করে জোরালো হচ্ছে।    সূত্র: অ্যাক্সিওস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি সোমবার: পেজেশকিয়ান

সৌদির পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে ৪% তেল সরবরাহ কমার শঙ্কা

পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ

নিরাপত্তা পরিষদ অচল হলেও জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি: গুতেরেস

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অচল হয়ে পড়লেও জাতিসংঘ ভেঙে পড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শনিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতিয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।   গুতেরেস বলেন, বর্তমান বিশ্বে বড় শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে গভীর ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। এসব শক্তিধর দেশ নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এখনও উপলব্ধি করেনি। তাদের বিভাজনের কারণে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলো কোনও নিয়ম না মেনে যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে এক ধরনের দায়মুক্তির সুযোগ পাচ্ছে।   তার ভাষায়, বড় শক্তিধর দেশগুলো বিভাজনের কারণে নিরাপত্তা পরিষদ অচল হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে বিশ্ব অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। তবে জাতিসংঘের কাজের কারণে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   ইয়েমেনের বাব আল-মান্দেব প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে গুতেরেস বলেন, কৃষ্ণসাগর, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেবে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারও জন্য অনুমতি দিয়ে অন্যদের তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়। খাদ্য ও সার পরিবহনে অবরোধ ঠেকাতে জাতিসংঘ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।   গুতেরেস জানান, কৃষ্ণসাগর শস্য পরিবহনের উদ্যোগের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। হরমুজ প্রণালিত দিয়ে সার পরিবহনের বিষয়ে ইরানকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা তা গ্রহণ করেনি। কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার খাদ্য, সার ও জ্বালানি রপ্তানির বিষয়েও আলোচনা করতে আগ্রহী জাতিসংঘ। তবে এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ব্রিকস সম্মেলনে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা উপস্থিত থাকায় তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন কি না-এমন প্রশ্নে গুতেরেস বলেন, তিনি সবার সঙ্গেই কথা বলেছেন। তার মতে, বড় শক্তিধর দেশগুলো বিভাজন কাটিয়ে ওঠা এবং নিজেদের ক্ষমতার সীমা সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ওমানের সঙ্গে সমঝোতা, তবুও খুলছে না হরমুজ প্রণালি

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত হলো ঐতিহাসিক ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকসকে ভূমিকা পালনের আহ্বান চীনের

0 Comments