ওয়াশিংটন যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্যের পরই এই কঠোর সতর্কবার্তা আসে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও তুরস্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে যেন তারা ওয়াশিংটনকে ইরানে সামরিক হামলা থেকে বিরত রাখে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে লক্ষ্য করলে এসব দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানা হবে—এই বার্তা পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, চলমান অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত ইরানে নিহত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য এটিকে অন্যতম বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওই ইরানি কর্মকর্তা আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে চলমান প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আপাতত স্থগিত রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার রাতে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানে সরকার পতন বা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে ব্রিফ করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে জড়িয়েছিল ইসরায়েল।
মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে। একই দিনে তিনি ইরানিদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানান। তবে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
রয়টার্স জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি উল্লেখযোগ্য, যা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে তেহরান আল উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলি লারিজানি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ইউএই ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। এই তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, আরাগচি ইউএইর পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে এবং ইরান যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ইরান থেকে তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ জন সরকারপন্থীর মৃত্যুর তথ্য যাচাই করতে পেরেছে। অন্যদিকে, এক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার।
ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী, মসজিদ ও সরকারি স্থাপনায় হামলাকারী ‘সন্ত্রাসীরাই’ এই সহিংসতার জন্য দায়ী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইউরোপজুড়ে নতুন করে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এতে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে উচ্চ সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিক টাইমস বলছে, পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পর্তুগাল ও দক্ষিণ স্পেনে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এ অবস্থায় সংস্থাটি জানায়, আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর নতুন একটি শক্তিশালী তাপপ্রবাহ তৈরি হচ্ছে, যা শিগগিরই ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। এর আগে গতকাল সোমবার ডব্লিউএইচওর ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক হান্স ক্লুগে ৪১টি দেশের প্রতিনিধি, ইউরোপীয় কমিশন এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহ থেকে শিক্ষা এবং আসন্ন তাপপ্রবাহ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ক্লুগে বলেন, যেসব দেশে ‘হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ রয়েছে, তারা জুনের তাপপ্রবাহে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পেরেছে এবং জনগণকে তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক হিসাব এবং মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ থেকে ২৮ জুনের তাপপ্রবাহ ছিল ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল। হান্স ক্লুগে বলেন, ইউরোপজুড়ে এখনো বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা, গৃহহীন মানুষ এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন বয়স্কদের কাছে পর্যাপ্ত সুরক্ষা পৌঁছানো যাচ্ছে না। এখন আমাদের সামনে দুটি বড় কাজ—সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে যে দুর্বলতাগুলো দেখা গেছে, পরবর্তী তাপপ্রবাহের আগেই সেগুলো দূর করা এবং এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা। যা শুধু চরম গরমে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না, বরং আগে থেকেই প্রস্তুত থাকবে।
মার্কিন ডলারের দর শক্তিশালী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে ধীরগতির ইঙ্গিত পাওয়ায় বড় ধরনের পতন হয়নি। এতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কিছুটা কমেছে। সোমবার স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৩ দশমিক ১২ ডলারে নেমে আসে। এর আগে দিনের শুরুতে ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল মূল্যবান ধাতুটি। অন্যদিকে আগস্টে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৫ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়। আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম ওয়াইকফ বলেন, মার্কিন ডলার সূচক কিছুটা শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ডলারের মূল্য বাড়লে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুনে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি আগের দুই মাসের কর্মসংস্থানের তথ্যও নিচের দিকে সংশোধন করা হয়েছে। এতে ফেডের আসন্ন বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কমেছে। বাজার এখন বুধবার প্রকাশিত হতে যাওয়া ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে নজর রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত মিলতে পারে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাজারে প্রায় ৫৭ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এদিকে জেপি মরগান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরে প্রত্যাশার তুলনায় স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা দুর্বল থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০০ ডলার এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৪ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ৬৩ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। সূত্র: রয়টার্স
ভারতের মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে একটি তিনতলা ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই শিশু। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জনতা নগর এলাকায় ভবনটির দুই থেকে তিনটি বসতঘর হঠাৎ ধসে পড়ে। খবর পেয়ে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল, পুলিশ ও পৌরসভার উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা আহতদের রাজাওয়াড়ি ও শতাব্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। শতাব্দী হাসপাতাল জানায়, সেখানে নেওয়া পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩২ বছর বয়সী এক নারী এবং ২ থেকে ১৪ বছর বয়সী চার শিশু রয়েছে। অন্যদিকে রাজাওয়াড়ি হাসপাতাল জানিয়েছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত বছর বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টানা ভারী বর্ষণের কারণেই ভবনটি ধসে পড়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার অভিযানও রাতভর অব্যাহত ছিল।