জাতীয়

থানার ভেতরে হাতকড়া পরা যুবকের টিকটক, পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুর সদর থানার ভেতরে হাতকড়া পরা অবস্থায় এক যুবকের টিকটক ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে এমন ভিডিও ধারণের ঘটনায় পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তানভীর নুসু নামে এক যুবক হাতকড়া পরা অবস্থায় থানার ভেতরে দাঁড়িয়ে টিকটক ভিডিও করছেন। ভিডিওতে তার আশপাশে ডিউটি অফিসার, একজন কনস্টেবল এবং এসআই ইব্রাহিমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। সে সময় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন এসআই মালমগীর হোসেন।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে মাদারীপুর পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকায় সংঘর্ষের একটি ঘটনায় তানভীর নুসুকে আটক করে থানায় আনা হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এর আগেই তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় এবং হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় তার কাছে কীভাবে মোবাইল ফোন পৌঁছাল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের একাধিক সদস্য অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন, দায়িত্বে থাকা সদস্যদের গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

 

ঘটনাটি তদন্তে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে এসআই ইব্রাহিম শেখ বলেন, “তখন আমার ডিউটি ছিল না। ডিউটি ছিল এসআই মালমগীর স্যারের। আমি সিভিল পোশাকে বসে ছিলাম।”

 

এসআই মালমগীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “থানার ভেতরে টিকটক ভিডিও ধারণের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

 

এ বিষয়ে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, থানার মতো সংরক্ষিত স্থানে পুলিশি হেফাজতে থাকা একজন ব্যক্তির হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছানো এবং প্রকাশ্যে ভিডিও ধারণের সুযোগ পাওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গুরুতর ত্রুটির ইঙ্গিত দেয় কি না।

 

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে বিএনপিতে নতুন আলোচনা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেতে পারেন—এমন জোরালো আলোচনা ঘিরে দলটির ভেতরে সম্ভাব্য সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তিনি রাষ্ট্রপতি হলে মহাসচিব পদ, স্থায়ী কমিটির একটি আসন, মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং তার সংসদীয় আসন শূন্য হতে পারে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।   বিএনপির একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্যের মতে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে আপাতত পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নয়, একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি দলীয় পদ ছাড়বেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, ফলে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতেও একটি নতুন শূন্য পদ তৈরি হবে।   দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদের আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে তার নাম গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।   বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “তুলনামূলক তরুণ ও কর্মীবান্ধব কাউকে মহাসচিব পদে আনার সম্ভাবনাও রয়েছে। শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই এখানে মুখ্য হবে।”   অন্যদিকে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য নিয়েই কাজ করছি। দল আমাকে যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও দলের নীতিনির্ধারকেরা।” তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদ নিয়ে এখনো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।   দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবদীন ফারুক এবং রুহুল কবির রিজভীর নামও আলোচনায় রয়েছে।   বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রুহুল কবির রিজভীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে তার সম্ভাবনা বেশি বলে আলোচনা রয়েছে। তবে দলের চেয়ারম্যান গঠনতান্ত্রিক ক্ষমতাবলে যে কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন।”   এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আসতে পারে। সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রী হিসেবে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।   আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য হওয়া। সে ক্ষেত্রে উপ-নির্বাচনে বিএনপি কাকে প্রার্থী করবে, তা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার পরিবারের কেউ প্রার্থী হবেন, নাকি দলীয়ভাবে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   বিএনপির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সে কারণে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলোতে তাৎক্ষণিক নিয়োগ না দিয়ে কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।   তবে পুরো বিষয়টির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটাই প্রশ্ন—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সত্যিই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কি না। সেই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়ার পরই বিএনপির সাংগঠনিক ও সরকারি পর্যায়ের সম্ভাব্য পরিবর্তনের চিত্র পরিষ্কার হবে বলে দলীয় নেতারা মনে করছেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে এমপির সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

ই-গভর্নেন্স ও ডিজিটাল রূপান্তরে বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায় এস্তোনিয়া

ছবি: সংগৃহীত

উত্তরা থেকে ব্যাংকে নেওয়ার পথে ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনতাই

ছবি: সংগৃহীত
পল্লবী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় এমপি গাজী নজরুলের আগাম জামিন

রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম আট সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন।   সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   আদালতে গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান।   মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, মোস্তাসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান।   এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি সংসদ সদস্যের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ ঘটনায় ওবায়দুর রহমানের ওপর ক্ষুব্ধ হন গাজী নজরুল ইসলাম। অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি সংসদ সদস্যের অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করেছিলেন এবং ভিডিও ফাঁসের পেছনে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে— এমন সন্দেহে তাকে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করা হয়।   ওবায়দুর রহমান সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রীর আপন মামা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।   এর আগে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে জামায়াতে ইসলামী বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় এবং পরবর্তীতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।   হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশের ফলে আপাতত আট সপ্তাহের জন্য গ্রেপ্তার থেকে সুরক্ষা পেলেও নির্ধারিত সময় শেষে তাকে নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৭ বছর পর বই হাতে, ছেলের সঙ্গে এসএসসি দিয়ে জিপিএ-৫ পেলেন মা

ছবি: সংগৃহীত

থানার ভেতরে হাতকড়া পরা যুবকের টিকটক, পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা সোহেলের ছেলে এসএসসিতে পাস, প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

ছবি: সংগৃহীত
এনটিআরসিএ নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি: নথিতে এক কথা, মন্ত্রীর আরেক কথা

বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর সরাসরি সুপারিশ ব্যবস্থা বাতিল করে নিয়োগ ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ থাকলেও, শিক্ষামন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দাবি করা হয়েছে—এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।   সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।   পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, “ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।” একই সঙ্গে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়।   তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একটি সভার কার্যবিবরণীতে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। গত ৩ আগস্ট সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত “এনটিআরসিএ-এর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কিত” সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ২০০৫ সালের মূল আইন অনুসরণ করে এনটিআরসিএকে শুধু শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী চালু হওয়া এনটিআরসিএর সরাসরি নিয়োগ সুপারিশ ব্যবস্থা কার্যকর না রাখার বিষয়ে মতৈক্যের কথাও উল্লেখ রয়েছে।   নথিতে বলা হয়েছে, প্রত্যয়নপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে সভায় অভিমত দেওয়া হয় এবং উপস্থিত সদস্যরা এতে একমত হন।   কার্যবিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সরাসরি সুপারিশ পদ্ধতি চালুর পর বিভিন্ন মামলা, আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে এনটিআরসিএকে সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।   সভায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া এমপিওভুক্ত শূন্যপদের সংখ্যাও তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের তথ্য পাওয়া গেছে, যাচাই শেষে যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৭৬৯টিতে। ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর সরাসরি সুপারিশের সুযোগ না থাকায় অবশিষ্ট ৬৫ হাজার ১২৭টি পদের জন্য দ্রুত ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্তের কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   নথির তথ্য প্রকাশের পর শিক্ষক নিবন্ধনপ্রত্যাশী ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেন্দ্রীয়ভাবে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের পরিবর্তে স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগ ক্ষমতা ফিরে গেলে স্বচ্ছতা ও সমতা ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শিক্ষামন্ত্রী সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, “আজ ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে (এনটিআরসিএর নিয়োগ) কনফারেন্স করা হবে, সেদিন প্রশ্নের উত্তর পাবেন।”   পরে শিক্ষামন্ত্রী ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   ফলে এনটিআরসিএর ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত পদ্ধতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি রয়ে গেছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাবাকে হারানোর শোক বুকে নিয়েও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল ঋতু

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় কার্ড বিতরণ নিয়ে ক্ষোভ, তদন্তের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

হাদি হত্যার আসামিদের ফেরাতে ভারতের প্রতি অনুরোধ

0 Comments