অন্যান্য

থাইরয়েডের যেসব লক্ষণ অবহেলা করবেন না

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫

ব্যস্ত জীবন, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এখন অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। কথায় কথায় রেগে যাওয়া বা সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা নতুন কিছু নয়। কিন্তু আপনি কি এই উপসর্গগুলোকে অবহেলা করছেন? কারণ এর আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কোনো রোগের ইঙ্গিত।

 

ডায়াবেটিসের মতোই থাইরয়েডের সমস্যাও আজকাল বাড়ছে। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন আমাদের শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো কারণে এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে এবং নানা সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমানে হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) একটি খুব সাধারণ সমস্যা।

চিকিৎসকদের মতে, থাইরয়েডের লক্ষণগুলো শুরুতে খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। অনেক সময় রোগীরা বুঝতেই পারেন না যে সমস্যার মূল কারণ থাইরয়েড। কারণ এসব উপসর্গ অন্য কারণেও দেখা দিতে পারে। তাই শরীরে ছোটখাটো পরিবর্তন এলেই সতর্ক হওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

 

যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়

বিশ্রামের পরেও ক্লান্তি
পর্যাপ্ত ঘুম বা বিশ্রামের পরেও যদি ক্লান্তিভাব না কাটে, কিংবা সামান্য পরিশ্রমেই যদি হাঁপিয়ে ওঠেন—তবে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এটি থাইরয়েডের সমস্যার একটি লক্ষণ হতে পারে।

 

হঠাৎ মেজাজ বদল
মানসিক চাপ থাকলে মেজাজ খারাপ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎ করে কথায় কথায় খিটখিটে হয়ে উঠলে, বা সামান্য কারণেও রাগ বেড়ে গেলে এবং এই অবস্থা কয়েকদিন ধরে চলতে থাকলে থাইরয়েড পরীক্ষা করানো জরুরি।

 

ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি
ডায়েট না করেও যদি হঠাৎ ওজন কমে যায় বা বেড়ে যায়, তবে এটি অসুস্থতার ইঙ্গিত হতে পারে। শুধু থাইরয়েড নয়, ডায়াবেটিসের কারণেও এমনটা হতে পারে। তাই এই উপসর্গ দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

অতিরিক্ত চুল পড়া
হঠাৎ করে গোছা গোছা চুল পড়া শুধু অযত্নের কারণে হয় না। চুল পড়া এবং ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া থাইরয়েডের সমস্যার অন্যতম লক্ষণ হতে পারে।

 

অনিয়মিত মাসিক (ঋতুস্রাব)
মহিলাদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিকের কারণ হতে পারে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। ওজন বাড়া বা কমা, চুল পড়া এবং অনিয়মিত মাসিক এই লক্ষণগুলো একসঙ্গে দেখা দিলে দেরি না করে থাইরয়েডের মাত্রা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

 

গলার স্বর এবং তাপমাত্রা সংবেদনশীলতা
বয়ঃসন্ধিকালে গলার স্বর বদলানো স্বাভাবিক হলেও, অন্য সময় হঠাৎ গলা ভেঙে যাওয়া বা স্বরের পরিবর্তন হলে সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ আবহাওয়াতেও যদি অস্বাভাবিকভাবে খুব বেশি গরম বা ঠান্ডা লাগে, সেটিও স্বাভাবিক নয়।

এই লক্ষণগুলোর যেকোনোটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে থাইরয়েডের মাত্রা যাচাই করুন। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ থাকা সম্ভব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের মানুষ কখনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি গ্রহণ করবে না বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কিনা। বাংলাদেশের মানুষ কখনই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।   শুক্রবার(৭ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ইচ্ছেমতো প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা(ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকার্য পরিচালনার মাধ্যমে ট্যুরিজমের বিকাশের জন্য তা পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সব এলাকাজুড়েই এসব কর্মকাণ্ড হতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্যকে ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণের জন্য গুরুত্ব না দিয়ে, পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই পর্যটন সম্প্রসারণের চেষ্টা করুন।   তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।   এর আগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(কউক) আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাউদ্দিন আহমদ। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইবি ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠীদের ব্যক্তিগত ছবি পাঠানোর অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ে পলাতক আ. লীগ নেতাদের ৫৩ সম্পত্তির সন্ধান

ছবি: সংগৃহীত

৫ বৈশিষ্ট্যের মানুষ দীর্ঘদিন বাঁচতে পারেন, বলছে গবেষণা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের শীর্ষ ১১ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ

পাহাড়, সমুদ্র, বন, হ্রদ আর তুষারঢাকা পর্বতের অপূর্ব সমন্বয়ে পৃথিবীর কিছু দেশ যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা একেকটি জীবন্ত চিত্রপট। ভ্রমণপিপাসীদের কাছে এসব দেশ শুধু পর্যটন গন্তব্য নয়, বরং বিস্ময় আর সৌন্দর্যের এক অনন্য অভিজ্ঞতা।   বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে অনেকেই খোঁজেন—কোন দেশটি প্রকৃতির সৌন্দর্যের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত? সেই ভাবনা থেকেই তুলে ধরা হলো বিশ্বের এমন ১১টি দেশ, যেগুলো প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও মনোমুগ্ধকর ল্যান্ডস্কেপের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।   ১. কানাডা — প্রকৃতির বিশাল ক্যানভাস বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কানাডা পাহাড়, হ্রদ ও বনভূমির এক অসাধারণ সমাহার। রকি পর্বতমালা, ব্যানফ ও জ্যাসপার ন্যাশনাল পার্ক, ফিরোজা নীল হ্রদ এবং নর্দার্ন লাইটের মুগ্ধতা দেশটিকে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বপ্নের গন্তব্যে পরিণত করেছে।   ২. নিউজিল্যান্ড — রূপকথার মতো সুন্দর সবুজ পাহাড়, আগ্নেয়গিরি, হিমবাহ, ফিয়র্ড ও সমুদ্রসৈকতের অনন্য সমন্বয় নিউজিল্যান্ডকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। মিলফোর্ড সাউন্ড, রোটোরুয়া ও টোঙ্গারিরো ন্যাশনাল পার্ক পর্যটকদের সবচেয়ে প্রিয় আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম।   ৩. সুইজারল্যান্ড — আল্পসের মোহনীয় দেশ বরফে ঢাকা আল্পস, সবুজ উপত্যকা ও স্বচ্ছ নীল হ্রদের জন্য সুইজারল্যান্ড বিশ্বজুড়ে পরিচিত। শীতকালে স্কিইং আর গ্রীষ্মে পাহাড়ি পথে ট্রেকিং—দুই ঋতুতেই দেশটি ভিন্ন রূপে ধরা দেয়।   ৪. জাপান — প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন বসন্তে চেরি ফুলের গোলাপি আচ্ছাদন, মাউন্ট ফুজির অপরূপ দৃশ্য, আরাশিয়ামার বাঁশের বন এবং ঐতিহ্যবাহী জাপানি বাগান দেশটির সৌন্দর্যকে করেছে অনন্য।   ৫. নরওয়ে — নর্দার্ন লাইটের স্বর্গ গভীর ফিয়র্ড, বরফঢাকা পাহাড়, অসংখ্য জলপ্রপাত এবং আকাশজুড়ে অরোরার রঙিন নৃত্য নরওয়েকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক গন্তব্যে পরিণত করেছে।   ৬. অস্ট্রেলিয়া — বৈচিত্র্যের বিস্ময় গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, ব্লু মাউন্টেইনস, উলুরু এবং বিস্তীর্ণ সমুদ্রসৈকত অস্ট্রেলিয়ার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে করেছে অনন্য ও বিস্ময়কর।   ৭. আইসল্যান্ড — আগুন ও বরফের দেশ আগ্নেয়গিরি, গিজার, হিমবাহ এবং শক্তিশালী জলপ্রপাতের সমন্বয়ে আইসল্যান্ডের প্রকৃতি পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আলাদা অনুভূতি দেয়।   ৮. ইতালি — ইতিহাসের সঙ্গে প্রকৃতির মুগ্ধতা আমালফি উপকূল, ডলোমাইট পর্বতমালা, কোমো হ্রদ এবং টাস্কানির পাহাড়ি অঞ্চল ইতালিকে শুধু ইতিহাসের নয়, প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিক থেকেও অসাধারণ করে তুলেছে।   ৯. দক্ষিণ আফ্রিকা — বন্য প্রকৃতির রোমাঞ্চ পাহাড়, সমুদ্র, বনভূমি ও বন্যপ্রাণীর অসাধারণ সমন্বয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে দিয়েছে এক ভিন্ন চরিত্র। ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের সাফারি কিংবা টেবিল মাউন্টেনের দৃশ্য পর্যটকদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।   ১০. যুক্তরাষ্ট্র — বৈচিত্র্যময় ল্যান্ডস্কেপের দেশ গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, ইয়েলোস্টোন, ইয়োসেমাইট, নায়াগ্রা জলপ্রপাত এবং আলাস্কার হিমবাহ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাহাড়, মরুভূমি, বন, সমুদ্র ও হিমবাহের বিরল বৈচিত্র্য দেখা যায়।   ১১. গ্রীস — নীল সমুদ্রের মায়াবী সৌন্দর্য এজিয়ান সাগরের নীল জলরাশি, সাদা বাড়িঘর আর পাহাড়ি দ্বীপের সৌন্দর্য গ্রীসকে করেছে বিশ্বখ্যাত। সান্তোরিনি ও মিকোনোসের সূর্যাস্ত লাখো পর্যটককে প্রতি বছর আকর্ষণ করে।   কেন এই দেশগুলো বিশেষ? প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রয়েছে। তবে পাহাড়, সমুদ্র, বনভূমি, হ্রদ, হিমবাহ ও বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্য—সবকিছু মিলিয়ে এই ১১টি দেশ ভ্রমণপ্রেমীদের ‘বাকেট লিস্ট’-এ সবসময়ই শীর্ষে থাকে। আপনি যদি ভবিষ্যতে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে এই দেশগুলোর যেকোনো একটি রাখতে পারেন আপনার পছন্দের তালিকায়। হয়তো কোনো একদিন নিজের চোখেই দেখে আসবেন প্রকৃতির সেই অপার বিস্ময়।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৭, ২০২৬
বীথিকা বিনতে হোসাইন ও আসিফ মাহমুদ

বিএনপির এমপিকে আইনি নোটিশ দিলেন আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত

প্রথম শ্রেণিতে লটারি, বাকি সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা

ছবি: সংগৃহীত

বড় সুখবর পেলেন ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক

ছবি: সংগৃহীত
উচ্চ ও নিম্ন আদালতে ঝুলছে দুদকের আট হাজার মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা প্রায় আট হাজার মামলা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে নিম্ন আদালতে রয়েছে ৩ হাজার ৪৩৮টি এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে রয়েছে আরও ৪ হাজার ৮১৬টি মামলা।     ৩০ জুন পর্যন্ত দুদকের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।     দুদকের তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আদালতে বিচারাধীন ৩ হাজার ৪৩৮টি মামলার মধ্যে কমিশনের করা মামলা ৩ হাজার ১১১টি এবং বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর (বিডিবি) মামলা ৩২৭টি। এসব মামলার মধ্যে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এক হাজার ৪৩টি এবং ঢাকার বাইরের জেলা আদালতগুলোতে রয়েছে ২ হাজার ৩৯৫টি মামলা।     অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৭০৮টি।   হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে ৪ হাজার ১০৮টি মামলা। এসবের মধ্যে রিট, ফৌজদারি বিবিধ মামলা, ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন মামলা রয়েছে। উচ্চ আদালতে আসামিদের পক্ষ থেকে মূলত জামিন, মামলা বাতিল কিংবা সাজা স্থগিত বা বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে দুদকও বিভিন্ন মামলায় জামিন বাতিল এবং নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখতে আবেদন করেছে।     দুদকের বিচারাধীন মামলাগুলোর বড় অংশই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, আয়কর ফাঁকি, সম্পদের তথ্য গোপন, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং অর্থ পাচারের অভিযোগসংক্রান্ত। এসব মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা।     এদিকে গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করার পর থেকে কমিশন নেতৃত্বশূন্য রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সংস্থাটি নতুন কোনো অনুসন্ধান শুরু করতে পারেনি। একই সঙ্গে নতুন কোনো মামলা দায়ের বা অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলও করা হয়নি।   আদালতেও এ সময় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষার্থী ভিসায় প্রতারণা: গ্রেপ্তার চক্রের মূল হোতা ৩ দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত

‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের

সংগৃহীত ছবি

দেশে নতুন রাজনৈতিক দলের যাত্রা, নেতৃত্বে যারা

0 Comments