সারাদেশ

তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ড

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
সোহাগী জাহান তনু। ছবি : সংগৃহীত
সোহাগী জাহান তনু। ছবি : সংগৃহীত

অবশেষে দীর্ঘ ১০ বছর পর আলোচিত তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, হাফিজুর রহমানকে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে কুমিল্লা আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

এর আগে চলতি মাসের ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার অনুমতি চান। তারা হলেন- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০টি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত এক দশকে ৪টি সংস্থার অধীনে সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

এদিকে, শুনানির সময় নিহত তনুর বাবা-মা এবং তার ছোট ভাই রুবেল হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়। শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।

প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
সোহাগী জাহান তনু। ছবি : সংগৃহীত
তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ড

অবশেষে দীর্ঘ ১০ বছর পর আলোচিত তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।   বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা সদর আমলি আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, হাফিজুর রহমানকে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে কুমিল্লা আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর আগে চলতি মাসের ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার অনুমতি চান। তারা হলেন- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলম। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০টি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত এক দশকে ৪টি সংস্থার অধীনে সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এদিকে, শুনানির সময় নিহত তনুর বাবা-মা এবং তার ছোট ভাই রুবেল হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়। শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পদ্মা নদীতে টহল পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ ৫ সদস্য গুলিবিদ্ধ

ছবি : সংগৃহীত

আইসিইউ সংকটেই বাড়ছে শিশুমৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

কৃষি কার্ড হাতে পাম্পে পাম্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কৃষকরা

ছবি : সংগৃহীত
তেলের অজুহাতে বেরোবিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, ক্ষোভে শিক্ষার্থীরা

জীবনের চেয়ে কি তেলের দাম বেশি? বুকভরা হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে এভাবেই বলছিলেন ‎বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম। দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের অজুহাতে গত তিনদিন থেকে বন্ধ রয়েছে বেরোবির জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা।   এছাড়াও বেরোবি পরিবহন পুলের চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কেউ অসুস্থ হলে জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়া, নির্ধারিত স্টপেজে বা নির্ধারিত স্থানে বাস না থামা, এমনকি টাকার বিনিময়ে যাত্রী তোলা নামায় শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট করার ঘটনাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করছে শিক্ষার্থীরা।   মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) রাতে ওই শিক্ষার্থী বলেন, বেরোবি প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনা আর অমানবিকতার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। একজন মুমূর্ষু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কল দিলে জানানো হয়, অ্যাম্বুলেন্সে তেল নেই। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সেবার এই যদি হয় অবস্থা, তবে প্রশাসনের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি অন্যায্য। শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে কি তেলের দাম বেশি।  ‎ ‎অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়া মার্কেটিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শাফায়েত শুভ বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতা। অ্যাম্বুলেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ গাড়িতে যদি তেল না থাকে, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। বাসগুলো ঠিকই চলছে, প্রশাসনের অন্যান্য গাড়িও চলছে, তাহলে অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে এই অজুহাত কেন? এটা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন থেকে যাবে। ‎ ‎বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, আমিও এর আগে একদিন জরুরি সেবা অ্যাম্বুলেন্স এর জন্য কল দিয়েছিলাম। কিন্তু ঠিক একই (তেল না থাকা) অজুহাত পেয়েছিলাম।   এ বিষয়ে বেরোবি ‎মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক ডাক্তার এ.এম.এম শাহরিয়ার কবির বলেন, গাড়িকে চলন্ত রাখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পরিবহন পুলের। আমাদের দায়িত্ব পরিচালনা করা। আমার কাছে ফোন আসছে তো আমার কাজ গাড়িটা তাদের দেয়া। অনেক সময় আমরা অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও সার্ভিস দিয়েছি। তেলের জন্য তারা তিনদিন থেকে চেষ্টা করেছে। যে পাম্প থেকে তেল নেওয়া হয়। সেখানেও তিনদিন যাবৎ তেল নেই।   পরিবহন পুলের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানা বলেন, অ্যাম্বুলেন্স কে ব্যবহার করবে, না করবে তা সম্পূর্ণভাবে মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্ব। আমাদের নীতিমালায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা মেডিকেল সেন্টারের অধীনেই রয়েছে। বাইরের যাত্রী তোলার বিষয়ে একটি ভিডিও আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আমি ডিপো ম্যানেজারকে চিঠি দিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট চালককে আজই সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। এছাড়া গাড়িগুলো নির্ধারিত স্থানেই থামে বলে জানান তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
অটোচালক ও কুড়িয়ে পাওয়া টাকা। ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষার্থীর পরিবারকে লাখ টাকা ও দলিল ফেরত দিলেন অকৃতকার্য অটোচালক

ছবি : সংগৃহীত

হাম প্রতিরোধে সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি

টার্মিনালে অলস পড়ে থাকা বাস। ছবি: সংগৃহীত

দু’পক্ষের দ্বন্দ্বে বাস চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

উদ্ধার অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
হাসপাতালের কূপ থেকে কঙ্কাল উদ্ধার

পাবনা জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে একটি কূপ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।   মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ) হাসপাতালের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলাকালে শ্রমিকরা ম্যানহোলের ভেতরে সন্দেহজনক কিছু দেখতে পেয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ম্যানহোল খুলে ভেতর থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।   হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালের নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজের অংশ হিসেবে গণপূর্ত বিভাগের পরিচ্ছন্নকর্মীরা কাজ করছিলো। ঝোপঝাড় কেটে ড্রেনগুলো পরিষ্কার করতে গিয়ে হাসপাতালের উত্তর দিকে রান্নাঘরের পাশে অবস্থিত সেফটি ট্যাংকের পাশের একটি পরিত্যক্ত কূপে নজর পড়তেই সেখানে পঁচা মানবদেহ সহ কঙ্কাল দেখতে পান। পরে সেটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা পুলিশে খবর দেন।   এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই কূপটি পরিত্যক্ত হওয়ায় সাধারণত ওটি খোলা হয় না বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের কাজ হয় না বলেই আমরা জানি। ওটির কাছে সেভাবে কেউ যায়ও না। ফলে এই কঙ্কালের বিষয়ে হাসপাতালের কোনো ধারণা নেই। পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।   পাবনা সদর থানার ওসি (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা জানান, কঙ্কালটি উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। এবিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হচ্ছে।   তিনি বলেন, কঙ্কালটি অনেক আগের বলে মনে হয়েছে। এবিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। এটি চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্র‍্যাকটিসের অব্যবহৃত কঙ্কাল হতে পারে। আবার কেউ কখনো ম্যানহলটিতে পড়ে গিয়েও থাকতে পারে। যেটি হয়তো পরে কঙ্কালে রুপ নিয়েছে।   ওসি বলেন, এটি পুরুষ নাকি নারী, বয়স কত বা কতদিন আগে মৃত্যু হয়েছে এসব কোনোকিছুই এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির কাছে দেয়া হবে। এছাড়া ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এর আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানানো সম্ভব হচ্ছে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

গোবিন্দগঞ্জে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী আটক

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন ঘোষণা

ছবি : সংগৃহীত

কারখানা ভাঙচুরে শ্রমিকদের তাণ্ডব, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

0 Comments