টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের লড়াই শুরু হচ্ছে আজ। প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামছে নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তান। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে শক্তিশালী দুই দলের লড়াই।
ভারতের বিপক্ষে হারের ধাক্কা থেকে এখনও বের হতে পারেনি পাকিস্তান ক্রিকেট দল। দলটির সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে কথার লড়াই এখনও চলমান। এই বিতর্কের সর্বশেষ খবর হলো শাদাব খানকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জেতার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি।
প্রেমাদাসা বলেই কিঞ্চিৎ হলেও এগিয়ে থাকবে পাকিস্তান। এই স্টেডিয়ামের মন্থর উইকেটে পাকিস্তানি স্পিনারদের মোকাবিলা করা খুব একটা সহজ হবে না। এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জন্য আরও একটি চ্যালেঞ্জ হলো ভেন্যু বদল। গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ তারা খেলেছে ভারতের চেন্নাই ও আহমেদাবাদে। এই মাঠেই ছিল স্পোর্টিং উইকেট। পেস ও স্পিনের ভারসাম্যপূর্ণ একটি বোলিং আক্রমণ সাজিয়ে ছিল তারা আগের ম্যাচগুলোতে। কিন্তু প্রেমাদাসায় স্পিন প্রাধান্য দিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজাতে হবে। দলের মূল স্পিনার মিচেল স্যান্টনার মাত্রই চোট থেকে উঠেছেন। আজ হয়তো তিনি মাঠে নামবেন। কিন্তু স্যান্টনার ছাড়া নিউজিল্যান্ড দলে তো তেমন স্পিনারই নাই! রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস এবার নিয়মিত বোলিং করছেন না। তাই কলম্বোতে পাকিস্তানের বোলিং এগিয়ে থাকবে। বিশেষ করে রহস্য স্পিনার উসমান তারিককে মোকাবিলা করতে বেশ সমস্যায় পড়তে পারেন তারা। এই স্টেডিয়ামে স্পিন খেলায় বিশেষজ্ঞ ভারতীয়রাই তারিককে খেলতে সমস্যায় পড়েছিলেন। এ ছাড়া লেগস্পিনার আবরার আহমেদ, বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ, অফস্পিনার সাইম আইয়ুব ছন্দে আছেন। প্রয়োজনে শাদাব খানও হাত ঘোরাতে পারবেন। ভারতের বিপক্ষে এই মাঠে পাকিস্তান মাত্র ২ ওভার পেস বোলিং করিয়েছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজও তেমন কিছু দেখা যেতে পারে।
পাকিস্তানের সমস্যা আসলে ব্যাটিং। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ছাড়া আর কেউ প্রত্যাশা মেটাতে পারছেন না। অন্য ওপেনার সাইম আইয়ুব তো প্রতিভার স্ফুরণ এখনও ঘটাতে পারেননি। ইদানীং অনেকে কৌতুক করে তাকে স্পিনিং অলরাউন্ডারও বলা শুরু করেছেন। শুরুতে সাইম আইয়ুব দ্রুত আউট হয়ে যাচ্ছেন বলে আগেভাগে ব্যাটিংয়ে নামতে হচ্ছে অধিনায়ক সালমান আগাকে। তিন নম্বরে তিনিও প্রত্যাশা মেটাতে পারছেন না। আর চারে ব্যাটিং করতে নামা বাবর আজমকে নিয়ে তো আলোচনা চলছে সবচেয়ে বেশি। অনেকের মতে, তিনি নাকি টেস্টের মতো ব্যাটিং করেন। এই সমালোচনার কারণেই হয়তো শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে চার নম্বরে খাজা নাফেকে পাঠানো হয়। অথচ টি২০ ম্যাচে পাকিস্তানের সবচেয়ে কার্যকর ব্যাটার ফখর জামান বাইরে বসে আছেন। একটি ম্যাচেও তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। ব্যাটারদের ব্যর্থতার কারণে অলরাউন্ডারদের ওপর চাপ পড়ছে প্রায় প্রতি ম্যাচে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিং ক্লিক না করলে সমস্যায় পড়বে পাকিস্তান।
নিউজিল্যান্ডের অবশ্য ব্যাটিং নিয়ে সমস্যা নেই। তাদের দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন দারুণ ছন্দে আছেন। গত ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে এ দুজন ব্যর্থ হলে দাঁড়িয়ে যান রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস। এ ছাড়া মার্ক চ্যাপম্যান, ড্যারেল মিচেলও ফর্মে আছেন। গত চার ম্যাচে মাত্র ১৪ উইকেট পড়েছে তাদের। মিচেল স্যান্টনার ফেরায় কিউইদের ব্যাটিং গভীরতা বেড়েছে। তাই আজকের লড়াইটা হবে মূলত পাকিস্তানের বোলিংয়ের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের। স্পিনবান্ধব উইকেট ও মাঠ আয়তনে কিছুটা বড় হওয়ায় প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বেশি বেশি ছয় মারার চেষ্টা করলে বিপদ বাড়তে পারে।
মুখোমুখি লড়াইয়েও দুই দল প্রায় সমানে সমানে এগিয়ে চলেছে। টি২০ ম্যাচে এখন পর্যন্ত তারা মোট ৪৯ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান ২৪ বার ও নিউজিল্যান্ড ২৩ বার জিতেছে। দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত চার বছরে টি২০তে ২৪ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। যেখানে কিউইদের জয় ১৩টি, আর পাকিস্তান জিতেছে ৯ ম্যাচ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
তিন কিংবদন্তি ক্রিকেটার ব্রায়ান লারা, ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান ও হানিফ মোহাম্মদের রেকর্ডে ভাগ বসালেন ভারতীয় তরুণ চিন্ময় সুতার। ভারতের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মিজোরাম ৯ উইকেটে ৫৮১ রানের পাহাড় গড়ে। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নেমে ৫১৭ বল মোকাবেলা করে ৪৬টি চার আর ৭টি ছক্কার সাহায্যে ৪০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সুতার। রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সুতার ৪০০ রান করলেন এক ইনিংসে। বিশ্বের দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। মুম্বাইয়ের এই অলরাউন্ডার চলতি বছর থেকে মিজোরামের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন। মুম্বাইয়ের হয়ে কয়েকটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেললেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাননি কখনও। রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচে মণিপুরের বিপক্ষে তার অভিষেক হয়। সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারেননি। আউট হয়ে যান ৯৯ রান করে। প্রথম ইনিংসে করেন ৩৫ রান। শতরান হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ দ্বিতীয় ম্যাচেই সুদে-আসলে পূরণ করে দিলেন চিন্ময়। বিশ্বের দশম ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪০০ রানের ইনিংস খেললেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক ব্রায়ান লারা এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডব্লিউএইচ পনসফোর্ড দুইবার করে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। লারা ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে ডারহামের বিরুদ্ধে ১৯৯৪ সালে ৫০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়া ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অপরাজিত ৪০০ রান করেন। পনসফোর্ড ১৯২৭ সালে ভিক্টোরিয়ার হয়ে কুইন্সল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪৩৭ এবং ১৯২৩ সালে তাসমানিয়ার বিরুদ্ধে ৪২৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
লা লিগার ইতিহাসে নিজেদের পক্ষে ৬০০টি পেনাল্টি পাওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ ক্লাবটি প্রথম দল হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ের ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি থেকে করা গোলেই এই রেকর্ড গড়ে মাদ্রিদ। এমবাপের পেনাল্টিতে ঐতিহাসিক অর্জন রোববার (১৮ অক্টোবর) সেভিয়ার বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে জোড়া গোল করেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে। এর মধ্যে দ্বিতীয় গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে পানেনকা শটে। ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে রেফারি মাতেও বুসকেটস ফেরার পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সেভিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস কাস্ত্রিন এমবাপেকে ফাউল করলে স্পটকিক পায় রিয়াল মাদ্রিদ। এই পেনাল্টিই ছিল লা লিগায় রিয়ালের পক্ষে পাওয়া ৬০০তম পেনাল্টি। এর মধ্য দিয়ে স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করে ক্লাবটি। পেনাল্টি থেকে ৪৬৪ গোল রিয়ালের লা লিগায় নিজেদের পক্ষে পাওয়া পেনাল্টি থেকে এখন পর্যন্ত ৪৬৪টি গোল করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। দীর্ঘদিনের এই পরিসংখ্যান ক্লাবটির আক্রমণাত্মক ফুটবলের পাশাপাশি পেনাল্টি আদায় ও কাজে লাগানোর দক্ষতারও পরিচয় দেয়। রিয়ালের হয়ে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি নেওয়ার রেকর্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে। পর্তুগিজ এই তারকা ক্লাবটির হয়ে ৬৯টি পেনাল্টি শট নিয়েছেন। এর মধ্যে ৬০টিতে গোল করেছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন করিম বেনজেমা। ফরাসি এই স্ট্রাইকার রিয়ালের হয়ে ৩২টি পেনাল্টি নিয়েছেন, যার মধ্যে ২৬টি থেকে গোল পেয়েছেন। পেনাল্টি পরিসংখ্যানে এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস বর্তমান রিয়াল তারকা এমবাপেও পেনাল্টি থেকে গোল করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। সেভিয়ার বিপক্ষে গোলটি ছিল লা লিগায় রিয়ালের হয়ে তাঁর নেওয়া ১৮তম পেনাল্টি। এর মধ্যে ১৫টিতে গোল করেছেন তিনি। এ ছাড়া সার্জিও রামোস রিয়ালের হয়ে ১৭টি পেনাল্টি নিয়ে ১৬টিতে গোল করেছেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ৯টি পেনাল্টি শট থেকে গোল করেছেন ৭টি। সেভিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ের পাশাপাশি পেনাল্টির এই ঐতিহাসিক রেকর্ড রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ম্যাচটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
আগামী ৫ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে ২৮ সদস্যের খেলোয়াড় তালিকা জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি। নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন রোববার (১৮ অক্টোবর) এই তালিকা জমা দেওয়া হয়। আসন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে ছয়টি দেশ। প্রাথমিকভাবে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে খেলোয়াড়দের নাম জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও কয়েকটি অংশগ্রহণকারী দেশের অনুরোধে সময়সীমা আরও দুই দিন বাড়িয়েছে সাফ কর্তৃপক্ষ। সাধারণত আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে ৩৫ জনের প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রতিযোগিতা শুরুর এক দিন আগে চূড়ান্ত স্কোয়াড নির্ধারণ করা হয়। তবে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলোয়াড় নিবন্ধনের নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ৫০ জন ফুটবলার নিবন্ধনের সুযোগ পেয়েছে। সেই তালিকা থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৮ জনের নাম চূড়ান্ত করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এমন নিয়মের কারণে কিছুটা জটিলতায় পড়তে হতে পারে বাংলাদেশ দলকে। কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ঘরোয়া ফুটবলের একাধিক ম্যাচ রয়েছে। এসব ম্যাচে কোনো খেলোয়াড় চোট পেলে কিংবা পারফরম্যান্সে পরিবর্তন দেখা দিলে জমা দেওয়া তালিকায় নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ সীমিত থাকতে পারে। খেলোয়াড় তালিকা জমা দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি জানিয়েছেন, সাফের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটা সাফের আইন। আমাদের কিছু করার নেই। আমাকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে নাম দিতে বলেছে, আমি দিয়েছি।’ এদিকে সোমবার ফেডারেশন কাপের ম্যাচ রয়েছে। এরপর আগামী শুক্র ও শনিবার লিগের আরও ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব ম্যাচে জাতীয় দলের সম্ভাব্য ফুটবলারদের অংশগ্রহণের কারণে চোটের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে জমা দেওয়া ২৮ সদস্যের তালিকায় পরবর্তী সময়ে পরিবর্তনের সুযোগ কতটা থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সব মিলিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগেই খেলোয়াড় নির্বাচন ও স্কোয়াড ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফকে।