প্রবাসী

স্পেনে বৈধতা পেলেও ইউরোপের অন্য দেশে কাজের সুযোগ কতটা?

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে বসবাসরত অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের সুসংবাদ নিয়ে আসছে ২০২৬ সালের নিয়মিতকরণ প্রকল্প। এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় যোগ্য অভিবাসীরা দেশটিতে আইনিভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পেতে যাচ্ছেন।

 

তবে স্পেনে বৈধতা পাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি ইউরোপের অন্যান্য দেশে বসবাসের ক্ষেত্রে কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

 

স্পেনের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশটিতে থাকা অনিয়মিত জনশক্তিকে মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করা। এর অধীনে যোগ্য অভিবাসীরা যেসব সুবিধা পাবেন।

 

কাজের অনুমতি: যে কোনো খাতে আইনগতভাবে কাজ করার সুযোগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিবন্ধনের সুবিধা।

 

স্বাস্থ্যসেবা: স্পেনের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা বা ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেমে প্রবেশাধিকার, যা একজন নিয়মিত নাগরিকের মতোই কার্যকর হবে।

 

ভ্রমণ সুবিধা: বৈধতা পাওয়ার পর শেঙেন এলাকার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত পাসপোর্টবিহীন ভ্রমণের সুযোগ।

 

স্পেনের এই বিশেষ অনুমতি অভিবাসীদের কিছু আইনি সীমানার মধ্যেও রাখবে। এটি মূলত একটি ‘ন্যাশনাল পারমিট’, যা নিচের ক্ষেত্রগুলোতে কার্যকর হবে না।

 

১. অন্য দেশে কাজ: স্পেনের এই অনুমতি দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্য কোনো সদস্য রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস বা কাজ করা যাবে না।

২. অন্য দেশে স্বাস্থ্যসেবা: স্পেনের বাইরে অন্য দেশে চিকিৎসা নিলে তার খরচ স্পেন বহন করবে না এবং সেই দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবাও বিনামূল্যে পাওয়া যাবে না।

৩. দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান: অন্য কোনো ইইউ রাষ্ট্রে থাকতে হলে সেই দেশের নিজস্ব অভিবাসন আইন মেনে আলাদা আবেদন করতে হবে।

 

স্পেনের এই ঢালাও নিয়মিতকরণ কর্মসূচি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলো এই নীতির সমালোচনা করেছে।

 

তাদের মতে, এক দেশে বৈধতা পেয়ে অভিবাসীরা ‘গৌণ গতিশীলতা’ অন্য দেশে চলে যেতে পারেন, যা পুরো শেনজেন অঞ্চলের সীমান্ত ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

 

তবে স্পেন সরকার বলছে, দেশটির কৃষি, পর্যটন এবং সেবা খাতের শ্রম ঘাটতি মেটাতে এবং বার্ধক্যজনিত জনতাত্ত্বিক সংকট সামাল দিতে এই কর্মশক্তিকে বৈধতা দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার অভিবাসীরা যারা দীর্ঘদিন ধরে স্পেনে শ্রম দিচ্ছেন, তারাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

 

শুধু স্পেন নয়, জার্মানি এবং ইতালিতেও একই ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শ্রমিক সংকট কাটাতে ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ৫ লাখ অ-ইউরোপীয় নাগরিককে কাজের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে জার্মানিও দক্ষ কর্মী ও কেয়ারগিভার নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা ঠেকাতে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি দিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনা ঠেকাতে দালাল চক্র শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত ও অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা প্রতিরোধে সুনামগঞ্জে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।   সভায় মন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জের অনেক যুবক দালালদের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ পথে অনেকেই নানা বিপদের মুখে পড়ছেন, এমনকি অকালে প্রাণও হারাচ্ছেন। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালালদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।   তিনি বলেন, শুধু বৈধ পথে বিদেশ যাওয়াই যথেষ্ট নয়, বিদেশে ভালো কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট কারিগরি দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান অর্জন করতে হবে। এ জন্য সুনামগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা হলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।   অবৈধ অভিবাসন বন্ধে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। তার মতে, অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি এবং বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ ও সুবিধা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে।   এ লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কাজ সুনামগঞ্জ থেকেই শুরু হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।   সভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি ও নতুন সম্ভাবনার বিষয়ে বক্তব্য দেন।   তিনি বলেন, বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ সম্পর্কে তথ্যের অভাবে অনেক বাংলাদেশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বৈধ পথে ইতালিতে যাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।   দক্ষতা অর্জন করে এই সুযোগ কাজে লাগালে বাংলাদেশি কর্মীরা নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে ইউরোপের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের ঐক্যের বার্তা নিয়ে ফ্রাঙ্কফুর্টে ফেনী অ্যাসোসিয়েশনের যাত্রা

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: ৯ জনের মরদেহ আসবে বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ইউএস আর্মিতে যোগ দিলেন চাঁদপুরের তরুণ জুম্মান

ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়ায় নতুন অনলাইন ব্যবস্থা

বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থা চালু করেছে মালয়েশিয়া। নতুন এই ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তাদের সরকারি দপ্তরে গিয়ে ম্যানুয়ালি আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। অনলাইনের মাধ্যমেই আবেদন থেকে শুরু করে অনুমোদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।   মালয়েশিয়ার নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির শিল্প খাতের বিভিন্ন সংগঠন। মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স ফেডারেশন (এফএমএম) এবং অ্যাসোসিয়েটেড চাইনিজ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসিসিসিআইএম) মনে করছে, অনলাইন ব্যবস্থার ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে।   নতুন ব্যবস্থায় শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র (এসকেবি) ১৪ দিনের মধ্যে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীরা অনলাইনে নিজেদের আবেদনের অবস্থান বা স্ট্যাটাস জানতে পারবেন। এতে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি সময়ও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।   শিল্পসংশ্লিষ্টরা কৃষি ও নির্মাণের মতো খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ আরও সহজ করার জন্য সাক্ষাৎকারের সময়সীমা বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছেন।   বাংলাদেশেও অনলাইন ব্যবস্থার উদ্যোগ: মালয়েশিয়ার মতো বাংলাদেশ সরকারও বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধতা যাচাই, বিদেশি কর্মীর চাহিদা এবং নিয়োগের বিভিন্ন ধাপকে অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে।   অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়া ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন জেলায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ রয়েছে।   বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা যাচাইয়েও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বিদেশি নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সরাসরি দক্ষতা যাচাই করে নিয়োগ দিতে পারবেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬ হাজার চালক পাঠানোর ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে এ পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়েছে।   সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়োগকর্তার সরাসরি দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং যোগ্য কর্মী বাছাই আরও সহজ হবে।   প্রবাসীদের সরকারি সেবা সহজ করার উদ্যোগ: বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের সরকারি সেবা পেতে ভোগান্তি কমাতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরাসরি তাদের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডাক বা কুরিয়ার সেবা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।   এতে দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।   এ ছাড়া প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় কার্ডটি চালু হলে প্রবাসীরা দেশে ভূমি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।   এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বিদেশে কর্মী পাঠানো থেকে শুরু করে প্রবাসীদের দেশে ও বিদেশে সরকারি সেবা পাওয়ার পুরো ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল ও সহজ করার দিকে এগোচ্ছে সরকার।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৫, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আটকরা। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগে বাংলাদেশিসহ ৫৭ আটক

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি-আমিরাতসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে মঙ্গলবার ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ছবি: সংগৃহীত

হাইকমিশনের উদ্যোগে মালয়েশিয়ায় বকেয়া বেতনের প্রথম কিস্তি পেলেন ১২৬ বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত
কুয়ালালামপুর না গিয়েই সেবা, মালয়েশিয়ায় ৬ শতাধিক প্রবাসীর পাশে দূতাবাস

মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্য ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত ৬ শতাধিক বাংলাদেশি কর্মী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে না গিয়েই বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা পেয়েছেন। হাইকমিশনের মোবাইল টিমের আয়োজিত বিশেষ ক্যাম্প থেকে তারা পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট, পাসপোর্ট ডেলিভারি, ট্রাভেল পারমিটসহ নানা সেবা গ্রহণ করেন।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা সহজ করতে সরকারি ছুটির দিনেও দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মোবাইল কনস্যুলার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। কর্মস্থল থেকে ছুটি না পাওয়া কিংবা কয়েকশ কিলোমিটার দূরত্বের কারণে কুয়ালালামপুরে গিয়ে সেবা নেওয়া কঠিন—এমন প্রবাসীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে এসব ক্যাম্প আয়োজন করা হচ্ছে।   এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ ও ২৩ আগস্ট পেনাং ও আশপাশের এলাকায় দুই দিনব্যাপী মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। দুই দিনের পৃথক কার্যক্রমে পাঁচ শতাধিক প্রবাসীর পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করা হয়। এ ছাড়া শতাধিক পাসপোর্ট বিতরণের পাশাপাশি ট্রাভেল পারমিটসহ অন্যান্য কনস্যুলার সেবাও দেওয়া হয়।   সেবা নিতে আসা বরিশালের কামাল হোসেন বলেন, কর্মস্থল থেকে ছুটি না পাওয়ায় কুয়ালালামপুরে গিয়ে পাসপোর্ট নবায়ন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এর মধ্যে ভিসার মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে ছিল। পেনাংয়ে মোবাইল টিমের মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ পাওয়ায় কুয়ালালামপুর যেতে হয়নি এবং অতিরিক্ত খরচও বেঁচেছে।   কুমিল্লার মঞ্জুরুল হোসেন জানান, ভিসা না থাকায় তিনি দেশে ফিরতে চাচ্ছিলেন। তবে ট্রাভেল পারমিট নিতে কুয়ালালামপুর যাওয়ার পথে পুলিশি হয়রানির আশঙ্কা ছিল। পেনাং থেকেই ট্রাভেল পারমিট পাওয়ায় এখন নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন বলে জানান তিনি।   হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসীদের কাছে কনস্যুলার সেবা আরও সহজে পৌঁছে দিতে মোবাইল টিমের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।   একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের অনিয়মিত অভিবাসন এড়িয়ে চলার পাশাপাশি দেশটির স্থানীয় আইন, নিয়ম ও রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সরকারিভাবে ১০০ ট্যাক্সি চালক নিচ্ছে সৌদি আরব, আবেদন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের সাঁড়াশি অভিযান, ৮৭ বাংলাদেশিসহ আটক ১১২

ছবি: সংগৃহীত

১ সেপ্টেম্বর থেকে কুয়েতে বন্ধ হচ্ছে ভিসার স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধি

0 Comments