সারাদেশ

সোনারগাঁয়ের ২৩ গ্রামে আজ পালিত হবে ঈদুল আজহা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩ গ্রামের মানুষ আজ বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, উপজেলার বাংলা বাজার এলাকার গিরদাইন পশ্চিমপাড়া, নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া, কোনাবাড়াসহ ২৩ গ্রামের মুসল্লিরা প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।

 

গিরদাইন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া ও কোনাবাড়া এলাকায় পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

উপজেলার বাংলা বাজার এলাকার গিরদাইন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি খন্দকার রিয়াজউদ্দীন মাস্টার বলেন, “আমরা প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা রাখাসহ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে থাকি। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদ জামাত আয়োজনের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

নয়াপুর গ্রামের জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কামরুজ্জামান বলেন, “আমরা প্রায় ২০ পরিবার প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও আজ ঈদুল আজহা উদযাপন করব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
টাঙ্গাইলে ছয় মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩০, রেলে মৃত্যু ১৮

যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও উত্তরবঙ্গের গাড়িচালকদের মাত্রাতিরিক্ত ওভারটেকিং প্রবণতা, সার্ভিসলেন আটকে রাখায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। গত ছয় মাসে এই মহাসড়কে একের পর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৩০টি তাজা প্রাণ। এই সময়ে ছোট-বড় ১০৮টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৩ জন। একই সময়ে রেল লাইনের টাঙ্গাইল অংশে ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৮ জন। এ সকল দুর্ঘটনায় অনন্তত ১৫০জন আহত হয়েছে। তারা অনেকেই পুঙ্গত্ববরণ করে জীবযাপন করছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।   পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে মহাসড়কে দুর্ঘটনার তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। মে মাসেই সর্বোচ্চ ৩৯ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হন। এর মধ্যে গত ২৫ মে দুপুরে কালিহাতী উপজেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একটি ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়, যেখানে আহত হন ৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের বাড়িই ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারসো ইউনিয়নে। এছাড়া জানুয়ারি মাসে ১২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬ জন, মার্চে ২৩ জন, এপ্রিলে ২৪ জন এবং জুন মাসে ১৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ৯ জন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ৭ জন করে, এপ্রিলে ১৮ জন এবং জুনে ৬ জন রয়েছেন।   অপরদিকে, মহাসড়কের পাশাপাশি অরক্ষিত রেলপথেও বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল ছিল। গত ছয় মাসে টাঙ্গাইলে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মার্চে ৮ জন, এপ্রিলে ২ জন এবং মে মাসে ৫ জনের মৃত্যু হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জুন মাসে কোনো ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল পুলিশ স্টেশনের মুন্সি আবুল বাশার।   এদিকে, দুর্ঘটনা পরবর্তী সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে টাঙ্গাইলের ট্রাস্টি বোর্ড থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে মোট ৫২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বা তাদের পরিবারকে চেকের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে।   মোটরসাইকেল চালক মাওলানা মাসুদুর রহমান, আল আমিন, আরাফাত রহমান, রুমনসহ অনেকেই জানান, যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণ। এটি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা। এই মহাসড়কের যে অংশে সার্ভিস লেন আছে, সেখানে বিভিন্ন যানবাহন রেখে আটকে রাখা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে উঠে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত এখনো কোনো সার্ভিস লেন নেই। মহাসড়কের দুই পাশে বালুর স্তূপ থাকায় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রবল। দুই পাশের বালুর স্তূপ সরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।   টাঙ্গাইলের বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান শফিক জানান, এই মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনের দুর্ঘটনার হার বেশি। দুর্ঘটনার জন্য উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলোর বেপরোয়া গতিকে দায়ী করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, অদক্ষ চালক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলো পরিচালিত হয়।    বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা হচ্ছে। এতে প্রাণহানিও ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ অংশীজনদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তারা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করে থাকেন।   টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রবিউল ইসলাম পরামর্শ দেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য প্রথমত চালককে সচেতন থাকতে হবে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাঁক রয়েছে। বাঁকগুলোতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা ঘটবেই। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।   তিনি জানান, সার্ভিস লেন থেকে মহাসড়কে উঠে অনেক মোটরসাইকেল চালকেরা গাড়ি চালাচ্ছেন। সেটা থেকে তাদেরকে বিরত থাকতে হবে এবং অতিরিক্ত গতি থেকে সরে আসতে হবে। এছাড়া দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ হলো ওভারটেক করা। এ বিষযে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

খাদ্যে অনিয়মের অভিযোগে চাঁদপুরে ৫ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

চাকরির বদলে মাদক ও জুয়ায় দেশ সয়লাব করা হয়েছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বড় উদ্যোগ

ডা. শতদল মণ্ডল। ছবি : সংগৃহীত
পরকীয়ার অভিযোগ তুলে স্বামীর বাড়িতে অনশনে ইন্টার্ন চিকিৎসক

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পুটিয়া এলাকায় স্বামীর বাড়িতে সংসার করার দাবিতে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও অনশনে বসেছেন এমবিবিএস (ইন্টার্ন) ডা. বন্যা মজুমদার। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর থেকে তিনি স্বামী ডা. শতদল মণ্ডলের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। অনশনরত ডা. বন্যা মজুমদার অভিযোগ করেন, তার স্বামী ডা. শতদল মণ্ডলের সঙ্গে তার আপন বৌদির পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি জানার পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে নানা অপবাদ ছড়িয়ে বিয়ের সময় পাওয়া স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল রেখে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সংঘাত চাই না। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করে স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাই। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমি এখানেই অনশন চালিয়ে যাব।’ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ডা. বন্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ প্রচার করা হলেও তাদের জানা মতে সেসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, মেয়ের পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শতদল মণ্ডল বলেন, ‘আমার স্ত্রী অনশনে বসেছেন, বিষয়টি আমি জানি না। তাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আইনজীবীর পরামর্শে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।’ স্থানীয় ইউপি সদস্য কালিপদ বিশ্বাস বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমাধান হয়নি।’ তিনি জানান, প্রয়োজনীয় যাচাইবাছাই শেষে দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কোটি টাকার সেতু, কিন্তু উঠতে ভরসা বাঁশের সাঁকো

সংগৃহীত ছবি

চলন্ত যাত্রাতেই হানিমুন, ভাইরাল নবদম্পতি

ছবি : সংগৃহীত

কর্ণফুলী টানেলে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, বিদ্যুৎ লাইন ও দেয়ালের ক্ষতি

মো. রকিবুল আমিন
‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’ পাচ্ছেন গার্ডেনিং বাংলাদেশের রকিবুল আমিন

শহরের ছাদ, বারান্দা, অফিস কিংবা ঘরের কোণে কোণে বাগান গড়ে তোলাই তাঁর নেশা। ইট-কংক্রিটের নগরে এক চিলতে সবুজ ফিরিয়ে আনতে গত এক দশক ধরে নিরলস কাজ করে চলেছেন তিনি। সেই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’-এ বৃক্ষ গবেষণা, সংরক্ষণ ও উদ্ভাবন শাখায় জাতীয় পরিবেশ পদক পাচ্ছেন ‘গার্ডেনিং বাংলাদেশ’ এর স্বত্বাধিকারী মো. রকিবুল আমিন।   বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   কুষ্টিয়ায় বেড়ে ওঠা রকিবুলের প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার শুরু শৈশবেই। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজের বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছিলেন গোলাপসহ বিভিন্ন ফুলের বাগান। সেই বাগান দেখতে আশপাশের মানুষও আসতেন। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায় ২০০১ সালে ঢাকায় এসে। ঢাকা কলেজে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, শহরে গাছের চেয়ে কংক্রিটের উপস্থিতিই বেশি। সেই উপলব্ধিই তাঁকে ভাবতে শেখায়- নগরে প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে শহরও কিছুটা প্রাণ ফিরে পাবে। এরপর ধীরে ধীরে ফুলের সাজসজ্জা, ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, টেরারিয়াম, পেলুডারিয়াম ও ইনডোর গার্ডেনিংকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের উদ্যোগ নেন তিনি। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘গার্ডেনিং বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকাসহ দেশের ভিবিন্ন এলাকায় সড়ক, রিসোর্ট, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, পোশাক কারখানা, আবাসন প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ইকোপার্ক, লেক এবং ব্যক্তিগত বাড়িতে সবুজায়নের কাজ করছে। এখন পর্যন্ত শতাধিক ছোট-বড় ল্যান্ডস্কেপ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে গার্ডেনিং বাংলাদেশ।    রকিবুল আমিন এখন ‘জিরো সয়েল’ ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতে, কোনো খোলা মাটি অনাবৃত রাখা উচিত নয়। ঘাস, লতা কিংবা অন্য কোনো উদ্ভিদ দিয়ে প্রতিটি ফাঁকা জায়গা ঢেকে দেওয়া সম্ভব। এতে যেমন নগর সবুজ হবে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা যাবে।   রকিবুল এখন ‘গার্ডেন মিশন’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। তাঁর লক্ষ্য, সারা দেশে নগর সবুজায়নকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা। একই সঙ্গে তিনি পলিথিনের আগ্রাসন কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন জনপ্রিয় করতে কাজ করতে চান।   রকিবুল আমিন বলেন, আমি চাই মানুষ প্রতিদিন অন্তত একবার গাছের কাছে যাক। একটি গাছ শুধু অক্সিজেন দেয় না, মানুষের মনও ভালো রাখে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ রেখে যেতে পারলেই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হবে।   দীর্ঘদিনের সেই সবুজ অভিযাত্রার স্বীকৃতি হিসেবেই এবার যুক্ত হলো জাতীয় পরিবেশ পদক। রকিবুলের বলেন, এই পুরস্কার আরও বড় দায়িত্ব নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৮, ২০২৬
মো. শরিফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

২৫ বছর পর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ফাঁস, বেবিচক প্রকৌশলী বদলি

ছবি : সংগৃহীত

বৃষ্টি হলেই কেন ডুবে যায় চট্টগ্রাম?

ছবি : সংগৃহীত

রাঙামাটিতে পাহাড় ধস, প্রস্তুত ২১২ আশ্রয়কেন্দ্র

0 Comments