রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেলের আরোহী দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
আজ (শুক্রবার) ভোর ৫টার দিকে ওই দুই শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা হলেন— আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এআইইউবি) ছাত্র ইরাম রেদওয়ান (২৫) ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ছাত্র অপু আহমেদ (২৫)।
নিহতদের সহপাঠী তাওসিফ জানান, দুই বন্ধু একটি বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন। কোনাপাড়া এলাকায় উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একটি ময়লার গাড়ি তাদের ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন তারা। পরে খবর পেয়ে আমরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমে অপুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার কিছুক্ষণ পরেই ইরাম রেদওয়ানকেও মৃত ঘোষণা করে।
তিনি আরও জানান, তাদের দুজনের বাসা শানারপাড় চিটাগাং রোড এলাকায়। এই ঘটনায় সিটি কর্পোরেশনের ঘাতক গাড়িটি (নম্বর ঢাকা মেট্রো শ-১৪০৫৭৪) পুলিশ জব্দ করেছে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ওই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ডেমরা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’ সম্ভাব্য শিরোনামে জাতীয় বাজেট দিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বাজেট উপস্থাপন করবেন। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার বই আগামী দু-একদিনের মধ্যে বিজি প্রেসে ছাপা শুরু হবে। এ কারণে শেষ মুহূর্তে পাণ্ডুলিপির ঘষামাজার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় বাজেটের শিরোনাম কি হবে তা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। অর্থমন্ত্রীর টেবিলে আরও পাঁচটি শিরোনাম এসেছে। এগুলো হলো-‘অর্থনৈতিক বিনিয়ন্ত্রণকরণ, সবার জন্য উন্নয়ন’, ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ সবার জন্য উন্নয়ন’, ‘মানবিক কল্যাণমূলক ও উৎপাদনমুখী দেশ কর্মসংস্থান সুশাসন ও সমতায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’, ‘বৈষম্যহীন টেকসই ও ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার প্রত্যয়’ এবং ‘অর্থনৈতিক পুনর্গঠন : ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির নতুন বাংলাদেশ’। এর মধ্যে একটি শিরোনাম বাজেট বক্তৃতার বইয়ে স্থান পাবে। এছাড়া বাজেট সংক্রান্ত অন্য বইগুলো ছাপা শেষ হয়েছে। বাজেটের দর্শন হিসাবে ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন’ শব্দটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা সীমিত কয়েকটি গোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত না রেখে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য থেকে এ ধারণাকে সামনে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বিনিয়ন্ত্রণকরণ’ বা ডিরেগুলেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা শুরু, লাইসেন্স গ্রহণ, আমদানি-রপ্তানি এবং শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। প্রশাসনিক জটিলতা কমানো গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেছেন, নতুন সরকারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজেট। তিনি বলেন, অর্থনীতি বর্তমানে পুনরুদ্ধারের পর্যায়ে রয়েছে। তাই বাজেটকে অবশ্যই বাস্তবসম্মত হতে হবে। উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা ভালো, কিন্তু রাজস্ব আহরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাস্তব সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক ঋণ নেওয়া কোনো সমস্যা নয়, যদি সেই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত হয় এবং ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করে। তবে ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সর্বশেষ মে মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা অনেক কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আহরণ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। তিনি আরও বলেন, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, আর বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ব্যবসায়িক আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, আর্থিক খাতে সুশাসন এবং নীতি-স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অবশ্যই ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন। শুধু বাজেটের আকার বড় হলেই হবে না, ব্যয়ের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে- অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ব্যবসা সহজীকরণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি করা। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে মোট বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতির আকার বা জিডিপি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের ধীরগতি। নতুন বাজেটে তাই উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিল্প, কৃষি, রপ্তানি, প্রবাসী আয় এবং অবকাঠামো খাতে নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ঘাটতি অর্থায়নের কাঠামো। মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করা হবে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে নিট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার সঞ্চয়পত্র এবং অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে। পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয় খাতের জন্য ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ইতোমধ্যে ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইনে সারা দেশ থেকে ৩ হাজার ৭২০টি কল এসেছে। এর মধ্যে আইনি পরামর্শ সেবা গ্রহণে ৩৭৬টি কল এবং বিভিন্ন মামলার তথ্য জানতে চেয়ে ৭২৯টি কল আসে। নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য তাৎক্ষণিকই দেওয়া হয়েছে বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট ও জেলা আদালত সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, বিলম্বে সেবাপ্রাপ্তি, অসদাচরণ ইত্যাদি সম্পর্কিত মোট ৬৮টি অভিযোগ আসে। এর মধ্যে বিলম্বে আইনি সেবাপ্রাপ্তি, নথি নিখোঁজ ও দ্রুত নিষ্পত্তি সংক্রান্ত ৫৭টি অভিযোগ আসে, যার মধ্যে নথি নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান এবং অবশিষ্ট বিষয়গুলো সমাধান করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা হয়েছে। শফিকুল ইসলাম বলেন, বাকি ১১টি অভিযোগ বিভিন্ন অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ সম্পর্কিত। এর মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকগণের বিরুদ্ধে ১টি, জেলা আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে ৭টি (৪টি অভিযোগ প্রাথমিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয়) এবং জেলা আদালতের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ৩টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে ইতোমধ্যে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গণসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে গত জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪৩২টি কল আসে। হেল্পলাইন আনা অভিযোগসমূহ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় এ বিষয়ে কী করণীয় সে সম্পর্কে তাদের পরামর্শ প্রদান করা হয়। তা ছাড়া, হেল্পলাইন নম্বর ১০৩-তে সেবা গ্রহণের জন্য কল প্রদানকারী সেবাগ্রহীতার কোনো প্রত্যুত্তর পাওয়া যায়নি এমন কলের সংখ্যা ২ হাজার ১১৫টি। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ‘হেল্পলাইন’ সেবা চালু করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। বিচারপ্রার্থীদের সেবা নিশ্চিত ও সহজ করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নির্দেশে এই সেবা চালু করা হয়। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতি রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ সেবা পাওয়া যায়। বিচারপ্রার্থী ও সেবাগ্রহীতাদের সহায়তার জন্য ০১৩১৬-১৫৪২১৬ এবং ০১৭৯৫-৩৭৩৬৮০ নম্বরে কল ও হোয়াটসঅ্যাপ সেবা এবং ‘১০৩’ নম্বরে অনলাইন সেবা চালু রয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সর্বমাধ্যম (অল মিডিয়া) সম্প্রচারস্বত্ব সরাসরি ফিফা থেকে ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। রবিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে ফিফার কাছ থেকে এই সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ের অনুমোদন চেয়ে কমিটির কাছে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ সম্প্রচারস্বত্ব ক্রয়ে মোট চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রস্তাবের আওতায়, বিটিভি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘অল মিডিয়া রাইটস’ অর্জন করবে। যার ফলে রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচার মাধ্যমটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার ও অনুষ্ঠান প্রচার করতে পারবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিটি প্রস্তাবটির কারিগরি ও আর্থিক দিকসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে এটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা’র সাথে সরাসরি এই ক্রয় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে। সরকারি সম্প্রচার সেবার মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার বড় বড় আসর পৌঁছে দেওয়ার সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলনই এই উদ্যোগ। প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর, দেশব্যাপী ফুটবলপ্রেমীরা বিটিভির মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সরাসরি সম্প্রচার এবং এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।