সিরিয়া ও লেবানন থেকে ধীরে ধীরে সেনা সরিয়ে নিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে দুই নেতার ফোনালাপে এ বিষয়টি উঠে আসে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ওরা সেখানে আপনাদের চায় না। সেনা সরিয়ে নেওয়া উচিত। একই বার্তা তিনি লেবাননের ক্ষেত্রেও দেন।
জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখা প্রয়োজন।
এই ফোনালাপের একদিন আগে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর ইসরায়েল যে এলাকাগুলো দখলে নিয়েছে, সেখান থেকে ধাপে ধাপে সেনা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। তবে ওয়াশিংটনের ধারণা, এ বিষয়ে নেতানিয়াহু ছাড় দিতে রাজি নন।
এদিকে মঙ্গলবার ইতালির রোমে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সেখানে দক্ষিণ লেবাননের দুটি পরীক্ষামূলক এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে এখনো ওই এলাকা থেকে ইসরায়েল সেনা সরায়নি। লেবানন দ্রুত সেনা প্রত্যাহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি চাইলেও ইসরায়েল বলছে, আগে নিশ্চিত হতে হবে যে এলাকাগুলোতে হিজবুল্লাহর কোনো অস্ত্র বা সামরিক অবকাঠামো নেই। অন্যদিকে লেবাননের দাবি, এই মূল্যায়নের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগম (টিভিকে) প্রধান সি. জোসেফ বিজয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার করেছেন তার স্ত্রী সঙ্গীতা সর্নালিঙ্গম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে তিনি মামলা প্রত্যাহারের কারণ জানান। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকা এই পারিবারিক বিরোধের আইনি প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সঙ্গীতা তামিলনাড়ুর চেঙ্গালপাট্টুর একটি আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। আবেদনে তিনি তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান চান। ভারতীয় মিডিয়া এনডিটিভি জানায়, বিজয় ও সঙ্গীতার বৈবাহিক বিরোধসংক্রান্ত মামলাটি চলতি বছরে একাধিকবার মুলতবি হয়েছে। গত ১৫ জুন সঙ্গীতা মামলা প্রত্যাহারের ইচ্ছার কথা জানানোর পর শুনানি মুলতবি করা হয়। সেদিনও তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত হয়ে তার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এরপর মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। গত মাসে পরিবার আদালত মামলার শুনানি মুলতবি করে, কারণ বিজয় কিংবা সঙ্গীতা—কেউই আদালতে উপস্থিত হননি। এর আগেও একাধিকবার তারা ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হননি। তাদের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জানান, ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে অংশ নিতে তারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। শুক্রবার আদালতের আদেশের মাধ্যমে সঙ্গীতা তার আবেদন প্রত্যাহার করায় মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। চেঙ্গালপাট্টুর পরিবার আদালতে দায়ের করা আবেদনে সঙ্গীতা তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন জানান। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, দাম্পত্য জীবনে এমন মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে যা আর মীমাংসা সম্ভব নয়। পাশাপাশি তিনি স্থায়ী ভরণপোষণ দাবি করেন এবং চেন্নাইয়ের নীলাঙ্কারাইয়ে অবস্থিত দম্পতির বৈবাহিক বাড়িতে বসবাস অব্যাহত রাখার অনুমতিও চান। বিজয় ও সঙ্গীতার সম্পর্কের ইতিহাস প্রায় তিন দশকের। ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট চেন্নাইয়ে ঐতিহ্যবাহী হিন্দু রীতিতে তাদের আন্তঃধর্মীয় বিয়ে হয়। তাদের প্রথম সন্তান, এক ছেলে, জন্মগ্রহণ করে ২০০০ সালের ২৬ আগস্ট। এরপর ২০০৫ সালে তাদের এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। ২০২৩ সালে বিজয়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জনসম্মুখের অনুষ্ঠানে সঙ্গীতার অনুপস্থিতির পর তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েনের জল্পনা প্রথম জোরালো হয়। যদিও সে সময় এসব খবর অস্বীকার করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে টিভিকের দ্বিতীয় রাজ্য সম্মেলনসহ দলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সঙ্গীতার অনুপস্থিতির পর সেই প্রশ্ন আবারও সামনে আসে। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যার মাধ্যমে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (ডিএমকে) এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (এআইএডিএমকে)-এর কয়েক দশকের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটে। পরবর্তীকালে কংগ্রেস, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী), বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল)-এর সমর্থনে টিভিকে সরকার গঠন করে। এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে তামিলনাড়ুতে প্রথমবারের মতো একটি জোট সরকার গঠিত হয়। সূত্র: এনডিটিভি
এক দিনের সরকারি সফরে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টায় আঙ্কারা বিমানবন্দর থেকে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিশেষ উড়োজাহাজটি উড্ডয়ন করে। আঙ্কারা বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স (যুবরাজ) মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার টেবিলে কী থাকছে? সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে সঙ্গে নিয়ে তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবারই সৌদি আরবে পৌঁছান শাহবাজ। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের যোগাযোগ পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান জানিয়েছেন, এই সফরে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচ্যসূচি প্রকাশ না করা হলেও মূল মনোযোগ থাকবে ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি’র ওপর। দুরান বলেন, ‘সফরকালে প্রেসিডেন্ট এরদোগান সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’ আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাব এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়গুলোই আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। তবে সুনির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়ের ক্ষেত্রে আঙ্কারা বেশ গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। হতে যাচ্ছে কি প্রতিরক্ষা চুক্তি? একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি জোটে সই করতে পারে। এমন জল্পনার মধ্যেই এরদোগানের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, শুক্রবার জেদ্দায় এই তিন নেতা একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, তুরস্কের একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, চুক্তির মৌলিক শর্তগুলোর বিষয়ে ইতিমধ্যেই তিন পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হলে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ (কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি)-এর সম্প্রসারণ ঘটতে পারে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, এর যেকোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয়ের ওপর হামলা বলে গণ্য হবে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে তুরস্কও এই ত্রিপক্ষীয় কাঠামোর অংশ হতে পারে। তবে তিন দেশের কোনো সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেনি। ফলে এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে, বড় কোনো চুক্তির বদলে এই সফর থেকে হয়তো সাধারণ একটি যৌথ বিবৃতি আসতে পারে। হঠাৎ এমন উদ্যোগ কেন? গত ফেব্রুয়ারিতে এরদোগানের সর্বশেষ রিয়াদ সফরের সময়ও তুরস্ক-সৌদি জোট গঠনের একই ধরনের আলোচনা শোনা গিয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। তবে শুক্রবারের এই সফরের সময়টাও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগর দিয়ে নৌযান চলাচল নিরাপদ করতে সৌদি আরব একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগ ঘোষণার ঠিক এক সপ্তাহ পরই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ ১৪টি দেশ ইতিমধ্যেই এই জোটকে সমর্থন জানিয়েছে। তাছাড়া, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে কয়েক মাস ধরে চলা অস্থিরতার মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সংকটে ইসলামাবাদ নিজেকে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরানও পালটা ব্যবস্থা নিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোসহ গোটা অঞ্চলজুড়ে যেসব সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে, সেখানে ইরান মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া, ওই অঞ্চলের বিভিন্ন হোটেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোও ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গেও সৌদি আরবের চরম উত্তেজনা চলছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, এপি, আলজাজিরা
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের মূল্য সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্সের। হরমুজ প্রণালি আবারও চালু হওয়ার আশা জোরালো হওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবেই স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার জিএমটি সময় সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,২৭১.৩৩ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে দিনের শুরুতে এটি ১৮ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর আগের দিন বুধবার স্বর্ণের দাম ফেব্রুয়ারির পর এক দিনে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। সেদিন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৪,২৬৭.২৪ ডলারে উঠেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৩৩০.২০ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: রয়টার্স