বিনোদন

‘শিকারি’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন মৌ খান

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঢালিউড অভিনেত্রী মৌ খান মডেলিং দিয়ে বিনোদন জগতে পথচলা শুরু হলেও ২০১৯ সালে ‘প্রতিশোধের আগুন’ সিনেমার মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয়। এরপর থেকে নিয়মিত সিনেমায় অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। সিনেমা ‘বান্ধব’, ‘বাহাদুরি’ ও ডিপজলের বিপরীতে ‘যেমন জামাই তেমন বউ’ সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে পরিচিতি করে তোলেন মৌ খান। 

 

বর্তমানে মৌ অভিনীত ‘চাইল্ড অব দ্য স্টেশন’ সিনেমাটিও নির্মাণাধীন। জাফর আল মামুন পরিচালিত এ সিনেমায় তার সঙ্গে জুটি হয়ে কাজ করছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। এর আগে শাহীন সুমনের পরিচালনায় ‘মাফিয়া’ ওয়েব ফিল্মেও অভিনয় করেছেন তিনি। এবার হাজির হচ্ছেন নতুন ওয়েব ফিল্ম নিয়ে। 

 

থ্রিলার ও অ্যাকশন ঘরানার ‘শিকারি’ শিরোনামের ওয়েব ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন মেহেদী হাসান। এর মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়েব ফিল্মে দেখা যাবে এ অভিনেত্রীকে। ‘শিকারি’র গল্প আবর্তিত হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক টানাপড়েন, অপরাধজগত এবং একটি রোমাঞ্চকর মিশন কেন্দ্র করে। ওয়েব ফিল্মটিতে মৌ খানকে দেখা যাবে রহস্যময় ও বুদ্ধিদীপ্ত এক চরিত্রে। চরিত্রের প্রয়োজনে অ্যাকশন ও নাটকীয় বিভিন্ন দৃশ্যেও অভিনয় করেছেন তিনি। 

 

নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে মৌ খান বলেন, ‘শিকারি’ সিনেমার স্ক্রিপ্ট যখন আমার হাতে আসে, তখন এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করেছি। গল্পে যে টুইস্ট আছে, তা দর্শকদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পর্দায় ধরে রাখবে। এখানে আমাকে একেবারে ভিন্ন লুকে এবং অন্যরকম এক আবহে আবিষ্কার করবেন দর্শকরা। চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজটি করেছি। আশা করছি, দর্শকরা নিরাশ হবেন না বলে জানান মৌ খান।

 

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘শিকারি’ সিনেমার দৃশ্যধারণ ও কারিগরি কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ও আধুনিক নির্মাণশৈলীতে তৈরি হয়েছে ওয়েব ফিল্মটি। খুব শিগগির একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।  এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে মৌ খান অভিনীত ‘বাংলার হারকিউলিস’, ‘বাহাদুরী’ ও ‘তবু প্রেম দামি’। এ ছাড়া আগামী ৯ অক্টোবর তার অভিনীত ‘স্নেহের বন্ধন’ মুক্তির কথা রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আমিশার বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকার গয়না চুরি, গ্রেপ্তার পরিচারিকা

বলিউড অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেলের বাড়িতে চুরির অভিযোগ উঠেছে। মুম্বাইয়ের চার্চগেট এলাকার ওই বাড়ি থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের সোনা ও হিরের গয়না চুরি যাওয়ার অভিযোগে এক পরিচারিকাকে গ্রেফতার করেছে মুম্বাই পুলিশ। চুরি যাওয়া গয়না উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চার্চগেটের ওই বাড়িতে আমিশার মা আশা প্যাটেল থাকতেন। সেখানে প্রায় দেড় বছর ধরে কাজ করছিলেন ৪০ বছর বয়সী সীমা ঘাটে। তিনি পালঘরের বাসিন্দা।   অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই বাড়ি থেকে হিরে বসানো একটি সোনার বালা চুরি হয়। বালাটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। ঘটনার পর থেকেই আমিশার মায়ের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন ওই পরিচারিকা।   পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে আশা প্যাটেল সীমাকে গয়নাটি ফেরত দেওয়ার জন্য বলছিলেন। একই সঙ্গে চুরির কথা স্বীকার করার জন্যও তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু গয়নাটি ফেরত না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।   অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে মেরিন ড্রাইভ থানার পুলিশ। তদন্তের পর সীমাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে তোলা হলে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   তবে চুরি যাওয়া গয়নাটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গয়নাটি উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত সীমার বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে বিয়ের খবর দিলেন ইসরাত পায়েল

ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে চালু হচ্ছে ‘উত্তম পুরস্কার’

ছবি: সংগৃহীত

কমলা গাউনে সাফা কবিরের নতুন লুক, প্রশংসায় ভক্তরা

সংগৃহীত ছবি
আমেরিকা ছেড়ে নতুন জীবনের পথে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমানোর গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে ঘিরে। এবার সেই জল্পনাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ‘লারা ক্রফট’খ্যাত এই অভিনেত্রী ছয় সন্তানই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুনভাবে জীবন কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   ফ্যাশন ম্যাগাজিন ল’অফিশিয়েল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোলি জানিয়েছেন, আপাতত কোনো একটি দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা নেই তার। বরং কিছু সময়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়ে ‘যাযাবর’ জীবন উপভোগ করতে চান তিনি। নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হতে চলেছে বলেও উল্লেখ করেন অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী।   বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জোলি জানান, দেশের বাইরে গেলেও এখনই কোথাও স্থায়ীভাবে বসতি গড়তে চান না। তবে নিজের মায়ের স্মৃতি এবং পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সযত্নে সংরক্ষণ করে রাখার ইচ্ছা রয়েছে তার।   যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লেও নিজের সৃজনশীল ফ্যাশন হাউসের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চান জোলি। পাশাপাশি জাতিসংঘ ও তার অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাডক্স ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে মানবিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত থাকবেন তিনি। শুরুতে কয়েক মাস কম্বোডিয়ায় থাকার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এই তারকা।   এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের ২৯ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক বাড়িটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন জোলি। সে সময় তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছিল, লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বহু বছর ধরেই ভাবছিলেন তিনি।   তবে এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পেছনে ব্যক্তিগত ইচ্ছার পাশাপাশি আইনি বিষয়ও ছিল। সাবেক স্বামী ব্র্যাড পিটের সঙ্গে বিচ্ছেদ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সন্তানদের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত জোলির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল।   জোলি ও পিটের ছয় সন্তান হলেন ম্যাডক্স, প্যাক্স, জাহারা, শিলো এবং যমজ ভিভিয়েন ও নক্স। গত জুলাইয়ে যমজ সন্তান দুজনই ১৮ বছর পূর্ণ করায় সেই বাধ্যবাধকতাও শেষ হয়েছে।   এর আগেও লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকা নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন জোলি। গত আগস্টে দ্য হলিউড রিপোর্টার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বিবাহবিচ্ছেদের কারণে বাধ্য হয়েই তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকতে হচ্ছে।   ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

গাজায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে তথ্যচিত্রে ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড করতালি, ভেনিসে রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

মঞ্চে ‘রণডঙ্কা’, উঠে এলো নূরলদীনের কৃষক বিদ্রোহের ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় সন্তানকে ঘিরে নতুন ফ্রেমে রণবীর-দীপিকা, সঙ্গে মেয়ে দুয়া

ছবি: সংগৃহীত
ভেনিসে আলোচনায় ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’, কী বলছেন আন্তর্জাতিক সমালোচকরা

বাংলাদেশি নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের চতুর্থ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়েছে। পাশাপাশি লন্ডন ও টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবেও এটি অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে।   উৎসবগুলোতে প্রদর্শনের পর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রবিষয়ক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রিভিউ প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটি নিয়ে পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে। সৌন্দর্যচর্চার চাপ, নারীর মানসিক টানাপোড়েন, সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং বডি-হররের মতো বিষয়কে একসঙ্গে তুলে ধরার কারণে ছবিটি সমালোচকদের নজরে এসেছে।   ইন্ডিওয়্যার: সম্ভাবনা থাকলেও গল্পে গভীরতার ঘাটতি: আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিওয়্যারে সিনেমাটি নিয়ে লিখেছেন সমালোচক মিরিয়াম বালানেস্কু। তার মতে, বিয়ে ও সৌন্দর্যচর্চাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হলেও ছবিটির মূল আলোচনার জায়গা বাংলাদেশের সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং নারীর অবস্থান। ঢাকার একটি বিউটি পার্লারকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়েছে। সেখানে একদিকে বিলাসী পোশাক, আয়না, ফুল ও সাজসজ্জার জগত, অন্যদিকে শহরের দরিদ্র মানুষের জীবনযাপন—দুটি ভিন্ন বাস্তবতা পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে। এর সঙ্গে মৃত এক সাবেক কনের আত্মা, শরীরে ক্ষত, রক্ত ও নানা অস্বস্তিকর দৃশ্য ছবিতে ভৌতিক আবহ তৈরি করেছে। সমালোচকের মতে, বিষয়বস্তুর কারণে সিনেমাটি সহজেই গতানুগতিক ভূতের গল্পে পরিণত হতে পারত। তবে তা হয়নি। বরং জাইনিন ও নিম্নবিত্ত নারী মিনোতির সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শ্রেণিগত বৈষম্য ও নারীর স্বাধীনতার পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে ইন্ডিওয়্যারের পর্যালোচনায় ছবিটির দুর্বলতাও উঠে এসেছে। সমালোচকের মতে, সৌন্দর্য, নারী ও শ্রেণিবৈষম্য নিয়ে আরও গভীরে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত থেকে গেছে। ইন্ডিওয়্যার সিনেমাটিকে ‘C’ গ্রেড দিয়েছে।   আই ফর ফিল্ম: মনস্তাত্ত্বিক চাপের সঙ্গে বডি-হরর: ‘আই ফর ফিল্ম’-এর সমালোচক অ্যাম্বার উইলকিনসন ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-কে মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা, বডি-হরর ও ভূতের গল্পের সংমিশ্রণ হিসেবে দেখেছেন। তার মতে, বিয়ের আগে নিজেকে সমাজের নির্ধারিত সৌন্দর্যের মানদণ্ডে নিয়ে আসার জন্য জাইনিনের ওপর পরিবার ও সমাজের চাপই গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ওজন কমানো, ত্বকের চিকিৎসা এবং বিভিন্ন প্রসাধনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলোকে সিনেমায় আনন্দের প্রস্তুতির পরিবর্তে এক ধরনের মানসিক চাপ ও হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সিনেমার আবহ, শব্দ পরিকল্পনা ও ক্যামেরার ব্যবহারও প্রশংসা পেয়েছে। সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যের দৃশ্যগুলোকে শব্দ ও ভিজ্যুয়াল নির্মাণের মাধ্যমে অস্বস্তিকর করে তোলা হয়েছে। শরীরের ভেতর অস্বাভাবিক কিছু চলাচলের অনুভূতি, নিজের শরীর আঁচড়ানোর দৃশ্য এবং মৃত কনের উপস্থিতি ভৌতিক আবহকে আরও জোরালো করেছে। জাইনিন চৌধুরী করিমের অভিনয়ও সমালোচকের প্রশংসা পেয়েছে। তবে বডি-হররের মাত্রা কিছু দর্শকের কাছে কম মনে হতে পারে এবং সিনেমায় উত্থাপিত কয়েকটি সামাজিক প্রশ্নের পুরোপুরি সমাধান মেলে না বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।   এশিয়ান মুভি পালস: নারীর স্বাধীনতা ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ: এশিয়ান মুভি পালস-এ সিনেমাটি নিয়ে লিখেছেন সমালোচক তোবিয়াস দুনিন। তার পর্যালোচনায় পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামোর কারণে নারীর মানসিক চাপ ও একাকিত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তার মতে, ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ কেবল একজন নারীর বিয়ের প্রস্তুতির গল্প নয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের মতো বৃহত্তর বাস্তবতাও গল্পে স্থান পেয়েছে। চিত্রগ্রাহক লিওনোর তেলেসের ক্লোজ-আপ শট এবং আয়নার ব্যবহার জাইনিনের বন্দিত্ব ও অন্যের দৃষ্টির মধ্যে থাকার অনুভূতিকে আরও তীব্র করেছে বলে মনে করেন তিনি। সহকারী পরিচালক থেকে প্রধান অভিনেত্রী হওয়া জাইনিন চৌধুরী করিমের অভিনয়েরও প্রশংসা করেছেন এই সমালোচক। নিজের শরীর নিয়ে দ্বিধা, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং মানসিক চাপের মধ্যে থাকা এক নারীর চরিত্রে তার অভিনয়কে শক্তিশালী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিনতির চরিত্রে রিকিতা নন্দিনী শিমুর অভিনয় এবং দুই নারীর মধ্যকার শ্রেণিগত ব্যবধানও সিনেমাটিকে বাড়তি মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচকদের পর্যালোচনায় ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর গল্প, অভিনয়, ভিজ্যুয়াল নির্মাণ এবং সামাজিক বক্তব্যের প্রশংসার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশের নিজস্ব সামাজিক বাস্তবতা থেকে উঠে আসা সৌন্দর্যচর্চা, নারীর ওপর সামাজিক চাপ ও শ্রেণিবৈষম্যের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সিনেমাটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
এআই দিয়ে এসব ছবি বানাতে গিয়ে অনেকেই পড়তে পারেন অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে

এআই অ্যাপে ছবি শেয়ারে সতর্কতা: ট্রেন্ডের আড়ালে ডিপফেকের চরম ঝুঁকি

হৃদরোগ ও ঘুমের ধরন: যে ভঙ্গিতে ঘুমানো এড়িয়ে চলবেন

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি।

জীবনের পরের ঢেউ যেদিকেই ভাসিয়ে নিক, শান্তিতে থাকতে প্রস্তুত: পূজা চেরী

0 Comments