সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমেছে। রাজধানী ঢাকাতেও গত শনিবারের তুলনায় রোববার (১৮ জানুয়ারি) আবহাওয়া কিছুটা বেশি শীতল অনুভূত হচ্ছে। তবে তাপমাত্রা কমলেও বর্তমানে দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়—৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকালও এখানেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাধারণত কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। তবে বর্তমানে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন স্থানে এমন তাপমাত্রা বিরাজ করায় এটিকে পূর্ণাঙ্গ শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার দেশের তিনটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও বর্তমানে কুয়াশার প্রভাব অনেকটাই কমে এসেছে। আগামী দুদিন তাপমাত্রা বর্তমান অবস্থায় প্রায় স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে আগামী শুক্রবার থেকে শীতের দাপট আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীতেও তাপমাত্রার পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। গতকাল ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজ নেমে এসেছে ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে শীতের এই ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে দু–একদিন পর থেকে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শীতের প্রকোপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজধানীর উত্তরায় বিমানবন্দরের পাশে সেন্টার পয়েন্ট শপিং মলের ফুডকোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলায় থাকা একটি রেস্টুরেন্টে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের কর্মকর্তা আনারুল ইসলাম দোলন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুপুরে আগুনের সূত্রপাত ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে সেন্টার পয়েন্ট শপিং মলের রেস্টুরেন্টে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে উত্তরা ও বিমানবন্দর ফায়ার স্টেশনের ছয়টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ৩৫ মিনিটের প্রচেষ্টার পর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি অগ্নিকাণ্ডের পর ফুডকোর্ট এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া আগুন লাগার কারণ এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটিও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তদন্ত ও পরবর্তী পর্যালোচনার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
একসময় ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ইলিশের কেনাবেচায় সরগরম থাকত চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মাছঘাট। মৌসুমে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ মাছ আসত এ ঘাটে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা ছুটে আসতেন রূপালি ইলিশ কিনতে। কিন্তু সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। ইলিশের ভরা মৌসুমেও চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী এই মাছঘাটে দেখা দিয়েছে মাছের তীব্র সংকট। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়েছে দাম। ফলে সাধারণ ক্রেতারা যেমন ইলিশ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন, তেমনি লোকসানের কারণে সংকটে পড়েছেন আড়তদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ঘাটের ওপর নির্ভরশীল অনেক শ্রমিকও। ব্যবসায়ীদের দাবি, একসময় মৌসুমে এ ঘাটে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে মাছঘাটকেন্দ্রিক অন্যান্য ব্যবসাতেও। তাদের মতে, নদীদূষণ, নাব্য সংকট, ডুবোচর এবং অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে। ঘাটে মাছ কিনতে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, এখন ইলিশের মৌসুম। কিন্তু সে তুলনায় ঘাটে মাছ খুবই কম। সরবরাহ কম থাকায় দামও অনেক বেশি। তাই দাম শুনে মাছ না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন তিনি। কেএম সালাউদ্দিন নামের আরেক ক্রেতা জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে তিনি মাছ কিনতে এই ঘাটে এসেছিলেন। তখনও ইলিশের দাম বেশি ছিল। বিক্রেতারা জানিয়েছিলেন, পরে দাম কমতে পারে। কিন্তু দুই সপ্তাহ পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। তার ভাষায়, মাছের দাম এখন মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ইলিশের আড়তদার সম্রাট বেপারী বলেন, ভরা মৌসুম অনুযায়ী ঘাটে মাছের সরবরাহ নেই। মাছ কম থাকায় দামও বেশি। ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। ইলিশ বিক্রেতা মাসুম বেপারীর ভাষ্য, অন্য বছরের তুলনায় এবার ঘাটে ইলিশের সরবরাহ অনেক কম। এর ফলে দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ইলিশ কেনা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ইলিশ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর ইলিশ রক্ষায় নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হলেও সবসময় তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় না। অসাধু জেলেদের কেউ কেউ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা পাওয়ায় ছোট ইলিশ নিধন বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের দাবি জানান তিনি। আরেক ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন বলেন, নদীতে এখন ইলিশের পরিমাণ খুবই কম। সামান্য যে মাছ ঘাটে আসছে, তার দামও বেশি। ইলিশের আবাসস্থল রক্ষায় নদীর ডুবোচর খনন এবং অবৈধ কারেন্ট জালের কারখানা বন্ধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ইলিশ রক্ষার অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করতে হবে। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার বলেন, ইলিশের মূল মৌসুম চললেও ঘাটে মাছের সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে। নদীদূষণ, ডুবোচর ও নাব্য সংকট এর অন্যতম কারণ। এসব বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইলিশ রক্ষার অভিযানের সময় অসাধু জেলেদের মাছ ধরা বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, গত বছর ইলিশ রক্ষায় কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল এবং সেটি সফল হয়েছে। চলতি বছরও নির্ধারিত সময়ে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক বিভিন্ন কারণের পাশাপাশি বন্যা ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবার ইলিশের উপস্থিতি আগের তুলনায় কম। নদীর নাব্য সংকট, ডুবোচর ও দূষণও ইলিশের বিচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি জানান, নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা, দূষণ কমানো এবং ডুবোচর অপসারণের বিষয়ে এরই মধ্যে একটি কারিগরি দল চাঁদপুর পরিদর্শন করেছে। এসব সমস্যার সমাধান হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তারা। মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ অভিযান নিয়ে মৎস্য বিভাগ কিছুটা উদ্বিগ্ন। কারণ ইলিশ সংরক্ষণে ব্যবহৃত একটি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সেটি নতুন করে বাড়ানো হয়নি। তার ভাষ্য, ওই প্রকল্পের আওতায় ইলিশ রক্ষার অভিযানের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট ছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ায় এখন রাজস্ব খাত থেকে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি মৎস্য বিভাগের জনবলও প্রয়োজনের তুলনায় কম। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় স্পিডবোট থাকলেও চালকের সংকট রয়েছে। ফলে আগামী অক্টোবরের মা ইলিশ রক্ষা অভিযান যথাযথভাবে পরিচালনা করা যাবে কি না, তা নিয়ে মৎস্য বিভাগও উদ্বিগ্ন। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাটের পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে হলে ইলিশের আবাসস্থল রক্ষা, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে মা ইলিশ রক্ষার অভিযান কার্যকর করতে পর্যাপ্ত জনবল, অর্থ ও প্রয়োজনীয় নৌযান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
আইন অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্রে ছবি থাকতেই হবে। ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র চেয়ে এক নারীর আবেদন খারিজ করে এই রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ইসলামী শরীয়ত মতে পর্দা করেন জানিয়ে ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করেন রাজধানীর শাহজাহানপুর শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা। সেখানে বলা হয়, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্দানশীল মুসলিম নারী এবং ইসলামের শরীয়তের হুকুম আহকাম নিয়মিতভাবে পালন করে থাকেন। সে কারণে যে কোনো প্রকার ছবি তোলা থেকে বিরত থাকেন। যার ফলে তার পরিচয়পত্র নেই। কিন্তু পরিচয়পত্র না থাকায় নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ছবি ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চান। এ রিটের শুনানির পর ২০২২ সালের ৬ মার্চ আদালত রুল জারি করেন। রুলে ছবি ছাড়া বিকল্প পরিচয় তথা বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজি জানান, ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করার কোনো বিধান গণপ্রতিনিধিত্ব আইনে নেই। বিষয়টি আদালত আমলে নিয়ে রুলটি খারিজ করে দেন।