রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা রোববার সংকটাপন্ন বলে জানা গেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে নানা পোস্ট ছড়াতে শুরু করে। এর মধ্যেই “Zaima Rahman” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর দিয়ে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। একইভাবে “Dr. Zubaida Rahman” নামের আরেকটি পেজ থেকে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়।
যাচাই করে দেখা যায়, ৫ জুন ২০২৫ বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্পষ্টভাবে জানান
“ডা. জুবাইদা রহমান ও ব্যারিস্টার জায়মা রহমানের কোনো ফেসবুক আইডি নেই।”
অর্থাৎ, তাদের নামে পরিচালিত সব একাউন্টই ভুয়া এবং সেগুলো থেকে নিয়মিত অসত্য তথ্য প্রচার করা হয়।
ফ্যাক্ট অর ফলসের অনুসন্ধানে জানা যায়
জায়মা রহমান নামে ফেসবুকে রয়েছে ১২০টি পেজ
ডা. জোবাইদা রহমান নামে রয়েছে ১৫টি পেজ
পেজগুলোর ট্রান্সপারেন্সি চেক করে দেখা যায় সবগুলোই বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত, অথচ জায়মা ও ডা. জুবাইদা রহমান দু’জনই লন্ডনে অবস্থান করছেন।
প্রধান পেজগুলোর অবস্থা
Zaima Rahman ফলোয়ার ২.৯২ লাখ, তৈরি ২৩ এপ্রিল ২০১৮, নিয়মিত বিএনপি–সংশ্লিষ্ট প্রচারণা।
Zaima Rahman ফলোয়ার ১.৫৯ লাখ, তৈরি ১৮ অক্টোবর ২০১৪; ৭ বার নাম পরিবর্তন। শুরুতে ছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তৃণমূল, পরে ২০২১–২০২৩ পর্যন্ত একাধিকবার নাম বদলে বর্তমানে Zaima Rahman।
Zaima Rahman (নতুন) ফলোয়ার ২৭ হাজার, তৈরি ২৩ নভেম্বর ২০২৫; জায়মা রহমানের প্রথম রাজনৈতিক লাইভের পর খোলা।
আরেকটি Zaima Rahman ফলোয়ার ১০ হাজার, তৈরি ২৩ এপ্রিল ২০১৮; নিয়মিত বিএনপি–ঘনিষ্ঠ পোস্ট।
Dr. Zubaida Rahman ফলোয়ার ৮২ হাজার, তৈরি ৩ মার্চ ২০১২; তিনজন অ্যাডমিন, বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত।
ডা. জুবাইদা রহমান ফলোয়ার ৩৬ হাজার, তৈরি ৩ আগস্ট ২০২৩; পরিবার ও বিএনপি–সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট।
Dr. Zubaida Rahman (আরেকটি) ফলোয়ার ২১ হাজার, তৈরি ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩; প্রথম নাম ছিল Prity Actress দুইবার নাম পরিবর্তন।
এই পেজগুলোকে অনেকেই আসল ভেবে অনুসরণ করছেন। তাদের পোস্ট ও মন্তব্যে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে, যা ভুয়া পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে।
বিএনপি–সংশ্লিষ্ট সূত্র ফ্যাক্ট অর ফলসকে জানায়
এখনও কোনো অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নেই, তবে ভবিষ্যতে জায়মা রহমানের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট চালু হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ভোট প্রদান সহজ করতে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য ৪টি পদ্ধতি চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটাররা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নিজেদের ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোটাররা স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। এ জন্য প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হবে। অ্যাপের ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ নির্বাচন করে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করলে ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম ও ঠিকানা দেখা যাবে। এছাড়া ভোটাররা হটলাইন নম্বর ১০৫-এ কল করেও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মতারিখ প্রয়োজন হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এ সেবা চালু থাকবে এবং এতে কোনো খরচ লাগবে না। এসএমএসের মাধ্যমেও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। এ জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC NID লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ecs.gov.bd ব্যবহার করেও ভোটকেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যাবে। ওয়েবসাইটের ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করে নির্বাচনি এলাকা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন করলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে। আবার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করলেও ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। ওয়েবসাইটে গুগল ম্যাপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের অবস্থান ও যাতায়াতের পথ দেখার সুবিধাও রয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি যে বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তা কার্যকর করা কারখানাগুলো চাইলে পরবর্তীতে যেকোনো একদিন শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে ওই ছুটি পুষিয়ে নিতে পারবে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পোস্টে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ছুটি যেসব কারখানা কার্যকর করবে, তারা প্রয়োজনে পরবর্তীতে যেকোনো দিনে শ্রমিকদের দিয়ে একদিন কাজ করিয়ে সেই ছুটি পুষিয়ে নিতে পারবে। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, বিজিএমইএ’র আবেদনের ভিত্তিতেই উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ নীতি ধরেই আগামীতে পথ চলবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখায় তুলে ধরে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে দলটি। এতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির অঙ্গীকার করা হয়, যেখানে সব আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততায় জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইশতেহারে বিএনপি উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের সীমান্তের বাইরে ‘বন্ধু আছে, প্রভু নেই। দলটি জোর দিয়ে বলেছে, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের কল্যাণ—এই বিষয়গুলোই তাদের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে।’ নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি জানিয়েছে, সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল বৈশ্বিক ভূমিকা পালন করবে। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিএনপি বলেছে, আন্তর্জাতিক বিধি ও নিয়ম মেনে সমতা, বাস্তববাদ এবং পারস্পরিক স্বার্থের স্বীকৃতির ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলায় তারা গুরুত্ব দেবে। আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দলটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং নিজের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না। ইশতেহারে অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা, জোট ও উদীয়মান আঞ্চলিক ব্লকের সঙ্গে নতুন বাজারে প্রবেশ এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে বিএনপি উদ্যোগ নেবে। বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্পখাতে মূল্য সংযোজন বাড়াতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির প্রবেশাধিকার বাড়াতে শ্রম ও অভিবাসন কূটনীতি জোরদার করা হবে। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বিএনপি জানিয়েছে, প্রধান বৈশ্বিক শক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে নিরলস প্রচেষ্টা চালানো হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং শুল্ক ও বাণিজ্য সুবিধা সুরক্ষায় কার্যকর কূটনীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। কৃষি ও শিল্পের কাঁচামাল নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্য সম্পর্ক বৈচিত্র্য আনতে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা—জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা, উপকূলীয় নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি—মোকাবিলায় আঞ্চলিক কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করা হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে বিএনপি জানিয়েছে, সমতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার ওপর দাঁড়িয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে তাদের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে বিএনপি অঙ্গীকার করেছে, পদ্মা, তিস্তা এবং বাংলাদেশের সব আন্তঃসীমান্ত নদীর ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের ওপর যেকোনো হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং জাতীয় সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। ইশতেহারে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বিএনপির ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে বিএনপি। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বৃত্ত পুঁজি এবং বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদ একত্র করে অর্থনৈতিক সংহতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব অংশীদারিত্বের আওতায় পারস্পরিক খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামরিক শিল্প ও প্রশিক্ষণে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিএনপি জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে শক্তিশালী করতে জনবল নিয়োগ বৃদ্ধি, বিদেশে মিশন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন স্তরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোর মানবসম্পদ, ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়ন করা হবে।