বন্ড ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও স্বচ্ছ করতে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ‘কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থাপনা সিস্টেম’ (সিবিএমএস) ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সোমবার (১ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়।
পরিপত্রে জানানো হয়, দেশের বন্ড ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে গত ১ জানুয়ারি সিবিএমএস নামে একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। এনবিআরের অধীনস্থ তিনটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট বর্তমানে সফটওয়্যারের ২৪টি মডিউল ব্যবহার করে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনে সেবা প্রদান করছে।
রপ্তানিকারক বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানির জন্য অনুমোদিত সহগ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কমিশনারেট থেকে ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) গ্রহণ করে থাকে। যদিও সিবিএমএস এ ইউপি মডিউল চালু রয়েছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ইউপি নিচ্ছে; খুব কম সংখ্যক প্রতিষ্ঠান অনলাইনে সেবা গ্রহণ করছে। সফটওয়্যার ব্যবহারের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় গত ১১ মাসেও এর ব্যবহার প্রত্যাশিত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি।
ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে সিবিএমএস এ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংশোধন এনে এটিকে আরও ব্যবহারবান্ধব করা হয়েছে। পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ইউপি ইস্যুকরণ সংক্রান্ত সব সেবা সিবিএমএস এর মাধ্যমে গ্রহণ ও প্রদান বাধ্যতামূলক করা হলো। এই তারিখ থেকে আর কোনো প্রতিষ্ঠানকে ইউপি ইস্যু–সংক্রান্ত সেবা সিবিএমএস ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে প্রদান করা হবে না।
সিবিএমএস বাধ্যতামূলক হলে সেবা প্রদানে দ্রুততা আসবে, স্বচ্ছতা বাড়বে, কাগজপত্রের ঝামেলা কমবে এবং কাঁচামালের ইনপুট–আউটপুট হিসাব স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় অনিয়মের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি বন্ড সংক্রান্ত জটিলতা ও বিবাদও কমে আসবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সাইপ্রাস মিশনে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম। বুধবার বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা, পেশাদারত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ও গৌরবের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নতুন দায়িত্ব নিতে আগামী শুক্রবার মিনহাজুল আলম নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে যাচ্ছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, বর্তমানে জাতিসংঘের ১০টি শান্তি রক্ষা মিশনে বিভিন্ন দেশের মোট ১০ জন সামরিক কর্মকর্তা ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন, যার মধ্যে একজন বাংলাদেশি। বর্তমানে পশ্চিম সাহারার ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্বে আছেন মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান। লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলম সাইপ্রাসে যোগ দিলে ফোর্স কমান্ডার পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তার সংখ্যা হবে দুই। বাংলাদেশ থেকে প্রথম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ১৯৯৩ সালে মোজাম্বিকে দায়িত্ব পালন করেন প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসুর রহমান। পরের বছর একই দেশে এ দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সালাম। এ ছাড়া মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর সুদানে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু তায়েব মুহাম্মদ জহিরুল আলম লাইবেরিয়ায়, মেজর জেনারেল আবদুল হাফিজ আইভরি কোস্ট ও পশ্চিম সাহারায় এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সাইপ্রাসে ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা বাহিনী জাতিসংঘের দীর্ঘতম সময় ধরে পরিচালিত শান্তি রক্ষা মিশনগুলোর একটি। ১৯৬৪ সালে গ্রিক সাইপ্রিয়ট ও তুর্কি সাইপ্রিয়ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এ মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান দায়িত্ব হলো জাতিসংঘের বাফার জোন (যা ‘গ্রিন লাইন’ নামে পরিচিত) বজায় রাখা এবং কার্যত বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি রেখাগুলোর তত্ত্বাবধান করা। এ মিশনের জন্য ১ হাজার ৯০ সদস্য অনুমোদিত আছেন। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মিশনের জনবল ছিল ৭২৭ সামরিক সদস্য, ৬০ পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৪৮ বেসামরিক কর্মী। জাতিসংঘের এ মিশনে ১৮টি দেশের সামরিক সদস্যরা রয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশগুলো হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, ইকুয়েডর, ঘানা, হাঙ্গেরি, ভারত, মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, রাশিয়ান ফেডারেশন, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও যুক্তরাজ্য। সংক্ষিপ্ত জীবনী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলমের জন্ম ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন এবং অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’ পুরস্কার পান। চাকরিজীবনে মিনহাজুল আলম ‘অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠন’-এর নেতৃত্ব দেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তাসম্পর্কিত একটি ব্রিগেডের নেতৃত্ব দেন তিনি। কক্সবাজার এলাকার দশম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের চিফ ইনস্ট্রাক্টর ও কমান্ডেন্ট এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন তিনি। চাকরিজীবনে সেন্ট্রাল আফ্রিকায় জাতিসংঘ বাহিনীর সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্বও পালন করেছেন মিনহাজুল আলম। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হজযাত্রীদের লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগে করা একটি পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তদন্ত শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। বুধবার (৩ জুন) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২ জুন জেদ্দা থেকে ৪৯১ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ হজ ফ্লাইট BG-3104 ঢাকায় অবতরণ করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করা হয়, প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে উপহারসামগ্রী ও অন্যান্য মালামাল চুরি করা হয়েছে। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে, ওই ফ্লাইটে মোট ৮৩০টি লাগেজ পরিবহন করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী তাদের লাগেজ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়ার কথা মৌখিকভাবে জানান। সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাগগুলোর ভেতরে জমজমের পানি, খেজুর এবং কিছু প্রসাধনী সামগ্রী ছিল। কোনো যাত্রী মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ করেননি। কেবল একজন যাত্রী একটি সিগারেট হারানোর বিষয়টি উল্লেখ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কর্তব্যরত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীরা সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ডেস্কে গিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (Property Irregularity Report-PIR) দায়েরের পরামর্শ দেন। তবে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের না করেই বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি বা যথাযথভাবে সিল না করা তরল প্রসাধনী বহন করা নিষিদ্ধ। স্ক্যানিংয়ের সময় এসব সামগ্রী শনাক্ত হলে সৌদি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ লাগেজ খুলে বা কেটে তা জব্দ করতে পারে। এদিকে, ঢাকা বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেও কোনো ধরনের লাগেজ চুরি বা মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বলেছে, হজযাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বদা সচেষ্ট। যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম বিদেশ থেকে মুঠোফোনে পুরো ঘটনার খোঁজখবর নেন এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে মশক নিধনের পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়। মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ। মঙ্গলবার (২ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের সম্ভাব্য ফ্লোরিডা সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, “মশক নিধনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে অভিনব ধারণা পাওয়া যেতে পারে—এ ধরনের মন্তব্য দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। আমার কাছে এটি হাস্যকর মনে হয়েছে।” মশা নিধন শিখতে বিদেশ সফর নয়, ডোবার পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীরমশা নিধন শিখতে বিদেশ সফর নয়, ডোবার পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর তিনি বলেন, মশক নিধন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত পদ্ধতি নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন। আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে এমন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা মশার ডিম ও লার্ভাকে লক্ষ্য করে কাজ করে, কিন্তু অন্যান্য প্রাণী ও পরিবেশের ওপর তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, “দেশে প্রচলিত ফগিং পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাই পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে ভাবার সুযোগ আছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশার জীবনচক্রের নির্দিষ্ট পর্যায়কে লক্ষ্য করে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।” আসিফ মাহমুদ বলেন, “মশক নিধন একটি বৈজ্ঞানিক বিষয়। নতুন প্রযুক্তি বা কার্যকর সমাধান গবেষণাগার ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসে। ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে এ ধরনের সমাধান পাওয়া যায় না।” তিনি আরও বলেন, “সুযোগ পেলে পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়—এমন পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তারা বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করছেন।” সীমান্ত হত্যা বন্ধে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত একই লাইভে সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গেও কথা বলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “সীমান্তে নিহত ব্যক্তিদের সবাই চোরাচালান বা মাদকের সঙ্গে জড়িত—এমন ধারণা সঠিক নয়। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের নাগরিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।” তিনি বলেন, “কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করলেও তাকে গুলি করে হত্যা করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করেন। তাই বলে তাদের হত্যা করার বৈধতা তৈরি হয় না।” আসিফ মাহমুদ বলেন, “সীমান্তে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাকে আটক করা যেতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি বিনিময়সহ বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সেসব ব্যবস্থার মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।” তার মতে, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার বিষয়ে কিছু বক্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ভুল বার্তা দিচ্ছে। এতে বাংলাদেশের নাগরিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি তারা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কোনও নাগরিককে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করার অধিকার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নেই। সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।” পুশব্যাক ইস্যু নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে লোকজন ফেরত পাঠানোর বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। একইসঙ্গে বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরারও প্রয়োজন রয়েছে।” ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদের দেশে ফেরানোর দাবি লাইভে ওসমান হাদী হত্যা মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, “মামলার আসামিদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।” তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তা প্রকাশ করা হলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে।” আসিফ মাহমুদ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য থেকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও বিস্তৃত কোনও যোগসূত্র থাকার প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাই শুধু সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের নয়, ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।” তিনি বলেন, “ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, তা দেশের মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। ভারতে অবস্থানরত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের পরিচয় আরও স্পষ্ট হবে।” ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ঘটনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠাও জরুরি বলে উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ।