নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সুসজ্জিত মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। সারিবদ্ধ টেবিল, সাদা কাপড়ে মোড়ানো চেয়ার এবং পর্যাপ্ত মাইক্রোফোন স্থাপন করে আয়োজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন এবং এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে আজ সকাল পৌনে ১১টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।
দুপুর ১২টার দিকে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, এই সংসদই হবে দেশের সব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। তারা বিরোধী দলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জামিন পাইয়ে দেওয়ার নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক সাবেক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ‘কোটি টাকা ঘুষ দাবির’ অভিযোগের তদন্তে একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামকে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানানো হয়। গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— প্রসিকিউটর আব্দুস সোবহান তরফদার, প্রসিকিউটর মার্জিনা রহমান মদিনা, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমওন এবং রিসার্চ অফিসার সিফাতুল্লাহ। এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির অডিও ফাঁসের ঘটনায় পুরো বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে এ ধরনের যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলোও অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার দায়িত্ব পালনকালে কোনো প্রসিকিউটর বা সংশ্লিষ্ট কেউ যদি অনিয়ম কিংবা দুর্নীতিতে জড়িত থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এখানে কাজ করতে হলে নির্লোভ থাকতে হবে। তা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্টদের ট্রাইব্যুনালে থাকার প্রয়োজন নেই। এর আগে, সোমবার (৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ফাঁস হয়। সেখানে জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবার থেকে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির কথোপকথন শোনা যায়। অভিযোগ ওঠে, ওই মামলায় জামিন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করেছিলেন প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। অভিযোগের বিষয়টি জানার পর ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তাকে ওই মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। তবে সে সময় তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে অভিযুক্ত প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার তিন দিন আগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ সোমবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানায়। উল্লেখ্য, সাইমুম রেজা তালুকদার ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সংসদীয় সভা বসতে যাচ্ছে আগামীকাল বুধবার। সেখানে চূড়ান্ত হতে পারে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ উপনেতা পদের মনোনয়ন। পরদিন বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে এটি উত্থাপিত এবং পাস হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সভাকক্ষে সকাল ১১টায় সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।এতে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংসদীয় কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি দলের সভার তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি হবে। সভায় সরকারি দলের সব সংসদ সদস্যকে (এমপি) যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এমপিদের শপথ গ্রহণের দিন বিরোধী দলের সভায় বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ চূড়ান্ত করা হয়। একই দিন সংসদ নেতা নির্বাচিত হলেও উপনেতা এখনো নির্বাচিত হননি। বিএনপিদলীয় একাধিক এমপি জানান, বুধবারের সভায় সংসদ উপনেতা নির্বাচন হতে পারেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কারা প্রার্থী হবেন, সেটাও চূড়ান্ত করা হতে পারে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদ উপনেতা পদে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক, সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন ও সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। সরকারি দলের পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দলের একজনের নাম চাওয়া হলেও সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। সে ক্ষেত্রে করণীয় নিয়েও সভাটিতে আলোচনা হতে পারে। জামায়াত নাম না দিলে সরকারি দল থেকেই সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ওই পদে প্রার্থী দেওয়া হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে বলেন, গণভোটে পাস হওয়া জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল পাওয়ার কথা।এখন বিএনপি যেটা (জামায়াতকে দেওয়া প্রস্তাব) বলছে, সেটা কোনটা? এটা তাদের স্পষ্ট করা লাগবে। তারা তো লিখিত কোনো প্রস্তাব দেয়নি। মৌখিকভাবে বলেছে, বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার দিতে চায়। সরকার দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তীতে ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ করতে পারে জামায়াত। সে ক্ষেত্রে কয়েকজনের নাম নিয়ে আলোচনায়ও আছে দলটির মধ্যে। জামায়াতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে আলোচনায় আছেন পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত নাজিবুর রহমান মোমেন, ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, কুড়িগ্রাম-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী এবং পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত মাসুদ সাঈদী।
মহানগর এলাকায় রাইড শেয়ার ভিত্তিক মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের (অকটেন/পেট্রোল) পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি তেল নেয়া যাবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিস) সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাইড শেয়ার ভিত্তিক মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি তেল গ্রহণের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে। এছাড়া ফিলিং স্টেশন থেকে প্রতিবার জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ বা বিলের মূল কপি জমা দিতে হবে। মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং চালকের তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট রাইড শেয়ারিং অ্যাপসের সাথে যাচাইপূর্বক জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে হবে। বিপিসি জানায়, দেশের জনগণের ভোগান্তি কমাতে ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে জ্বালানি দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের মাধ্যমে সারাদেশে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার এখনও পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় না করা এবং সকল ভোক্তা বা ডিলারদের বিপিসির নির্দেশনা মেনে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ৬ মার্চ সকল মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক ২ লিটার জ্বালানি নির্ধারণ করেছিল সরকার।